ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

১১তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া )

#পর্ব:১১

আজকে ইরাদের কলেজে নবীণ বরণ অনুষ্ঠান। সবাই শাড়ী পড়ে আসবে, তাই রোকেয়া বেগম জোর করে ওকে শাড়ী পড়িয়ে দিয়েছে।

ইরা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলো আর নিশিকে বলছিলো,

ইরা: "কিরে নিশি, ঐখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি ভাবছিস। ভেতরে আয়।"

ইরার ডাক শুনে নিশি যেই পেছনে ঘুরে তাকালো, ওমনি তার চোখ কপালে উঠে গেল। কি দেখছে সে এটা, নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না। তার সামেন এটা কে দাড়িয়ে আছে। এটা কি সত্যিই তার বান্ধবী ইরা নাকি কোন পরী?

ইরার পরনে ছিলো হালকা গোলাপি রঙের সিল্কের শাড়ি, যার কিনারজুড়ে রূপালি ঝিকিমিকি কাজ।চুলগুলো আজ সে খোলা রাখেনি, বরং সেগুলো সুন্দর করে খোঁপা করে নিয়েছে। খোঁপার পাশে গুঁজে দিয়েছে কয়েকটা টাটকা গোলাপ ফুল। চোখে পাতলা কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। সাজটা একেবারে সাদামাটা আর মার্জিত।হাতে চিকন সোনালী চুড়ি, আর পায়ে সাদা হিল স্যান্ডেল। গলায় মায়ের দেয়া একটা ছোট্ট লকেট—যেটা ইরার খুব প্রিয়।

আজকে ওকে দেখে মনে হচ্ছে যেনো হঠাৎ ফুটে ওঠা কোনো গোলাপি রঙের কুঁড়ি।

নিশিকে এভাবে তাঁকিয়ে থাকতে দেখে বলল,

ইরা: "ওই, এইভাবে হাবার মতো তাঁকিয়ে কি দেখছিস।"

নিশি:"পরী"

ইরা এবার একটু লজ্জা পেলো। রুপা নীচে এসে ওদের বলল,

রুপা: "বলতো নিশি আজকে আমার মিষ্টি ভাবী টাকে কেমন লাগছে? আমার ভাই দেখলে তো চোখই ফেরাতে পারবে না।"

নিশি:"ভাবী মানে, ইরা তোমার ভাবী হলো কীভাবে আপু আর তোমার ভাইটাই বা কে?"

রুপা:" ভাবী মানে আমার ভাই এর বউ আর আমার ভাইয়া হলো তোমার দুলাভাই। এখন বুঝছ"

নিশি:"নাহ্ "

রুপা এবার ভাবলেশহীন ভাবে বলল,

রুপা:" বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা"

তাদের কথার মাঝেই পেছন থেকে একটা গম্ভীর পুরুষালি কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

উদয়: "কি হচ্ছে এখানে। আর তোরা এভাবে সঙ্গ সেজে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?"

রুপা:" আসলে ভাইয়া, আজকে ইরাদের কলেজে নবীণ বরণ। তাই..."

কথা শেষ করার আগেই,

উদয়:"তাই এভাবে সঙ্গ সাজতে হবে। আর ইরা তোকে আমি কি বলেছিলাম মনে নেই তোর, নাকি একটা থাপ্পড় দিয়ে মনে করিয়ে দিবো "

শেষের কথাটা উদয় ধমকের সুরে বলল। ইরা ভয়ে ভয়ে বলল,

ইরা: "ফুপ্পি সাজিয়ে দিয়েছে"

উদয়:"সে যেই তোকে সাজিয়ে দিক না কেনো তোর কি মুখ ছিলো না। শাড়ী পড়লি কেনো তুই? কার অনুমতি নিয়ে শাড়ী পড়েছিস তুই?"

উদয়ের চিৎকারে উপস্থিত সবার রুহু যেনো কেঁপে উঠলো। রোকেয়া চৌধুরী রান্না ঘর থেকে দৌঁড়ে এলেন ,

রোকেয়া:" কি হয়েছে? এভাবে চিৎকার করছিস কেনো উদয়?"

উদয়:"ওকে শাড়ী পরিয়েছো কেনো আম্মু? কার অনুমতি নিয়ে পড়িয়েছো"

রোকেয়া:"শাড়ী পড়তে কারো অনুমতি লাগে নাকি"

উদয়:" শাড়ী পড়ে বাইরে যাওয়ার হলে বিবাহিত মেয়েদের অনুমতি লাগে, এইটা নিশ্চয় তুমি জানো "

রোকেয়া:"যাকে তুই ঘৃণা করিস তার প্রতি এতো অধিকার কিসের তোর "

উদয়:"because she is my better half "

উদয় ইরাকে কোলে তুলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। তার দিকে যে তিন জোড়া চোখ নিষ্পলক তাকিয়ে আছে সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

ইরা কোলে উঠার পর থেকে নামার জন্য ছটফট করতে লাগলো। উদয় ফিসফিস করে কেমন যেন নেশাক্ত কণ্ঠে বলল,

উদয়:" বেশি নরিস না ফুল, বেশি নড়লে তো তোকে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে ।"

এবার যেনো ইরা বরফের ন্যায় জমে গেলো। এইরকম নেশা জড়ানো কন্ঠ শুনে যে কোনো মেয়ে পাগল হতে বাধ্য। উদয় ইরাকে নিয়ে ওর রুমে ঢুকলো। ইরাকে বিছানার উপর বসিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো। ইরার আরও ভয় হতে লাগলো। মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলো,

ইরা: "আল্লাহ্ একটু দয়া করো। এই লোকের হাত থেকে আজকের মতো বাঁচিয়ে দাও। আমি দুই রাকাআত নফল নামায পড়ব। আল্লাহ্ একটু দয়া করো।"

উদয় ততক্ষণে ইরার পাশে এসে বসেছে। সে ইরার দিকে তাঁকিয়ে কাকে যেনো কল করলো,

উদয়: "তোকে রাতে যেটা করতে বলেছিলাম সেটা কর। নিয়ে আয় এক্ষুণি"(ফোনে বলল)

উদয় কল কাটতেই দেখলো, ইরা গুটিসুটি মেরে বসে আছে।

উদয়:"আমাকে এতো জ্বালাস কেনো তুই। আমাকে জ্বালাতে কি তোর খুব মজা লাগে জান "

ইরা কাপা কণ্ঠে বলল,

ইরা:"আপনি কি বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না উদয় ভাই "

উদয়:"ওইটা বুঝবি কি করে, শুধু বুঝবি আমাকে কি করে জ্বালাতে হয়, কি করে আমাকে পাগল করতে হয়। তোকে শাড়ী পড়তে বলেছে কে? আমার তো নিজেকে সামলাতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কেনো বুঝতে পারছিস না তুই "

ইরা:"আমি কি অনুষ্ঠানে যাবো না উদয় ভাই? নিশি তো আমার জন্যে ওয়েট করেছে?"

উদয় রাগে গজ গজ করতে করতে বলল,

উদয়:"নিজের রূপ অন্যদের দেখাতে খুব মন চাইছে না। স্বামীকে দেখিয়ে মন ভরছে না। যাহ যেখানে খুশি যা।"

উদয় উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো। উদয় চলে যেতেই ইরা আস্তে আস্তে পা ফেলে দরজার সামনে গেলো, কিন্তু দরজা তো পাসওয়ার্ড সিস্টেম। ইরা কিছুক্ষন চিন্তা করে পাসওয়ার্ডের জায়গায় ' বেটারহাফ ' লিখে টাইপ করলো, দরজাটা খুলে গেলো। ইরা খুশি মনে যেই বেড়োতে যাবে ওমনি পেছন থেকে হ্যাঁচকা টানে বিছানার উপর গিয়ে পড়লো। উদয় পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে দিয়ে আবার ওয়াশরুমে চলে গেলো।

ইরা আবার দরজার সামনে এসে পাসওয়ার্ড টাইপ করলো কিন্তু দুঃখের বিষয় পাসওয়ার্ড এবার ইনকরেক্ট দেখলো। তার মানে খবিশ লোকটা পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করার জন্য এসেছিলো। ইরার এবার কিছুই করার নেই। সে বুঝে গেছে তার আর অনুষ্ঠানে যাওয়া হবে না, এই বজ্জাত লোকটা সেটা আর হতে দিবে না। তাই সে অনুষ্ঠানের চিন্তা বাদ দিয়ে রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো আর মনে মনে চিন্তা করলো,

ইরা:"যাই হোক লোকটা তো আমারই স্বামী। আমার জামাই এর রুচি আছে বলতে হবে, রুম টা অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছে।"

--

নিশি আর রুপা ড্রয়িং রুমে বসে আছে আর একটু পর পর উদয়ের রুমের দরজার দিকে তাকাচ্ছে। ইরা কলেজে যাবে না তাহলে নিশি কিভাবে ইরাকে এই অবস্থায় ফেলে যাবে। তাই নিশিও যায়নি। সে এতক্ষণ রুপার কাছে সব ঘটনা শুনেছে। রোকেয়া বেগম সেই কখন থেকে উদয়ের দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে আর ডাকছে। কিন্তু কারো কোনো খবর নেই আর খবর থাকবেই বা কীভাবে, উদয়ের রুম তো সাউন্ড প্রুফ।

রিফাত আর সিয়াম বাড়িতে আসলো সাথে হুজুর মতো একটা লোক। কেউ কিছুই বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে বাড়িতে। তার কাউকে কিছু না বলে উপরে উঠতে লাগলো। রুপা তাদের পেছন থেকে ডাকছে কিন্তু তাদের কোনো পাত্তা নেই। সিয়াম শুধু একবার রূপাকে চোখ টিপ দিলো। তারপর তাদের মতো উপরে চলে গেলো।

--

উদয় এতক্ষণে ওয়াসরুম থেকে বেড়িয়ে পড়েছে। উদয়ের ফোনে একটা কল আসলো। ওপাশ থেকে কি যেন বললো উদয় ফোন রেখে দিয়ে দরজা খুলে দিলো। রোকেয়া বেগম তাড়াতাড়ি করে রুমে ঢুকলেন। ইরাকে স্বাভাবিক দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। ইরাতো দরজায় এতো লোক দেখে অবাক। আজকে তার সাথে কী হতে চলেছে?

--

চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন