ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

১৭তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব:১৭

ইরা ফসকে বেরিয়ে যেতেই উদয় তাঁকে ধরতে গেলো কিন্তু একটুর জন্য পারলো না। উদয় দরজা পর্যন্ত আসতেই দেখলো ইরা গায়েব। ইরার এই কান্ডে উদয় মুচকি হাসলো। নিজে নিজে বিড়বিড় করতে করতে বিছানায় এসে শরীরের ভার ছেড়ে দিলো।

উদয়:"একটুর জন্য বেচে গেলি বেটারহাফ। তুই কেনো ধরা দিতে চাসনা? আর কতো ধৈর্যের পরীক্ষা নিবি আমার, সেই সাত বছর ধরে ধৈর্য ধরে আছি। আর কতো।"

বলেই উদয় একটা দীর্ঘশ্বাস নিলো। তারপর আবার ওয়াশরুমে চলে গেলো।

--

ইরা নিশিকে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে একটু অবাক হলো। নিশিকে ধরে তুলে জিজ্ঞেস করলো,

ইরা:"এইভাবে নীচে শুয়ে ছিলি কেনো?"

এমনিতেই রাগে নিশির চোখ লাল হয়ে আছে তার মাঝে ইরার ঐরকম কথা যেনো আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করলো। নিশি ক্ষিপ্ত স্বরে বলল,

নিশি:"আমাকে দেখে তোর মনে হচ্ছিলো আমি মনের সুখে ফ্লোরে পড়ে গড়াগড়ি করছিলাম। শোন, তোর ঐরকম একটা চকলেট বয় আছে, আমার তো ওই রাস্তার পাশে ভিক্ষা করে কানু পাগলা সেও নেই। তাহলে আমার মনে এতো সুখ আসবে কোথা থেকে। যাও একটা ক্রাশ খেছিলাম, কিন্তু এখন সেটা বাশ হয়ে গেছে। তোদের এই আজাইরা বাড়িতে আমি আর আসবো না।"

নিশি রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেলো। ইরা আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে তার চলে যাওয়া দেখলো। তার সাথে কি হচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না। এক দিকে ওই উদয় আর একদিকে এই নিশি। তার জীবনটা মনে হয় এখন এখন গাছে ঝুলে থাকা নোবেল পুরস্কার হয়ে গেছে। নিশি গাছ থেকে ফেলে দিতে চাইছে আর উদয় হা করে বসে আছে তাকে ধরার জন্য।

এসব উল্টাপাল্টা কথা ভাবতে ভাবতে সে রুপার রুমে ঢুকলো। বলা তো যায় না আবার কখন ওই উদয় এসে ধরে নিয়ে চলে যায়। এখন তার একমাত্র নিরাপদ স্থান হচ্ছে রুপা। কিন্তু এ কি, রুপা তো রুমে নেই। যাই হোক এখন একটু দরজা বন্ধ করে মনের অজানা অনুভূতিদের বের করা যাক। যেই ভাবা সেই কাজ। ইরা দরজা বন্ধ করে এসে ইরা বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লো। মনের কোণে জমে থাকা সুপ্ত অনুভুতি গুলো এসে হানা দিল। ইরা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।নিজেই মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো আর কিছুক্ষন আগের ঘটনা মনে করতে লাগলো। নিজের মুখ লজ্জায় ঢেকে ফেললো হাত দিয়ে।

--

উদয় ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে কাভার্ড এর সামনে দাঁড়ালো। কাভার্ড খুলতেই ওইদিনের ইরার পড়া টিশার্ট আর ট্রাউজার মুখের উপর এসে পড়লো। ইরা এগুলি ওইদিন তাড়াহুড়ো করে ভাঁজ না করেই দলা পাকিয়ে ভেতরে রেখে গিয়েছিলো। উদয় আর সেগুলো আয়রন করলো না, এভাবেই পড়ে নিলো। খাবার এতক্ষণে ঠান্ডা হয়ে গেছে। সে খাবারের ট্রে নিয়ে নিচে গিয়ে ওভেনে গরম করে খেতে বসলো।

ওইসময় রোকেয়া বেগম এসে তার পাশের চেয়ার টেনে বসলো। থমথমে গলায় বলল,

রোকেয়া:"তুই কি সত্যিই ইরাকে মন থেকে মেনে নিয়েছিস বাবা?"

উদয় খাবারের প্লেটে চোখ রেখেই গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর করলো,

উদয়:"হঠাৎ এই প্রশ্ন?"

রোকেয়া:"মেয়েটা ছোটো বেলায় মা বাবাকে হারিয়েছে। যেই সময় ওর পাশে সবচেয়ে যাদের প্রয়োজন ছিলো তাদের সে পায়নি। মেয়েটার সাত বছর আগের কিছুই মনে নেই। তবুও তোকে কতো সহজেই মেনে নিলো। এমন সহজ সরল মেয়েটাকে তুই কষ্ট দিস না বাবা।"

উদয়:"আজকে ওর কথার ধাজ দেখেও তোমার ওকে এখনও সহজ সরল মেয়ে মনে হচ্ছে আম্মু?"

রোকেয়া:"মানে?"

উদয়:"মানে আজকে তো ওকে একদম আমার বউ এর মতো লাগছিল। কি সাহস দেখালো। আমার মুখে মুখে কথা বলল। এই কাজ তো একমাত্র আমার বউ ই করতে পারে।"

রোকেয়া:"ধুর, কার সাথে কি বলতে এসেছি। যায় হোক, তুই মন থেকে মেনে নিলেই হলো। আর একটা কথা, কোনো দিন ওর মনে কষ্ট দিস না।"

উদয়:"আমি কষ্ট দিবো। তোমার ওই সহজসরল মেয়েই তো আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। একটু কাছে গেলেই ফুস করে পালিয়ে যাচ্ছে। ধরতে পর্যন্ত দিচ্ছে না।"

রোকেয়া:"তুই এত লাগাম ছাড়া কেনো রে। লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছে ছেলেটা। মায়ের সামনে কি বলতে হয় কিছুই জানে না।"

বলেই রোকেয়া বেগম চলে গেলেন। রোকেয়া বেগমের কথা শুনে উদয় হেসে দিলো। তারপর খাওয়াতে মনোযোগ দিলো।

--

এখন সময় রাত নয় টার ঘরে, সবাই খাবার টেবিলে উপস্থিত শুধু লুৎফা বেগম আর উদয় বাদে। লতিফা চৌধুরী রোকেয়া বেগম এর দিকে তাকিয়ে বললেন,

লতিফা:"যাও লুৎফা কে ডেকে নিয়ে আসো। একবার ডাকবে যদি না আসে তাহলে তুমি চলে আসবে।"

রোকেয়া বেগম চলে গেলেন। লতিফা বেগম ইরাকে বললেন,

লতিফা:"যাও দাদুভাই উদয় কে ডেকে নিয়ে আসো তো।"

ইরা আমতা আমতা করে বলল,

ইরা:"আ..আমি?"

লতিফা:"হুম, যাও।"

ইরা আর কোনো কথা না বলে আস্তে আস্তে হেঁটে চলে গেলো উদয়ের রুমের দিকে। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। বাইরে থেকে এখন ডেকে অজ্ঞান হয়ে গেলেও শুনবেন না। তাই ইরা পাসওয়ার্ড চেপে নিজেই ভেতরে ঢুকে পড়লো।

উদয় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। তার পিঠ উন্মুক্ত। ইরা একটি শুকনো ঢুক গিললো। তার ভেতর এক অজানা অনুভূতি কাজ করছে। মনের ভেতর জমে থাকা আবেগ ফুরফুর করে বেরিয়ে আসতে চাইছে। ইরা আনমনে এগিয়ে গেলো বিছানার দিকে। যেই উদয়ের পিঠে স্পর্শ করতে যাবে ওমনি উদয় একটু নড়ে উঠলো। এতে ইরার ধ্যান ভাঙলো। সে কি করতে যাচ্ছিলো ভাবতেই দাঁত দিয়ে জিভ কেটে মাথায় একটা গাট্টা মারলো। তারপর ধীরে ধীরে উদয় কে কোমল সুরে বলল,

ইরা:"উদয় ভাই উঠুন, খাবেন না? এই সময়ে কেউ ঘুমায়?"

উদয়ের কোনো হুস নেই। ইরা মনে করলো উদয় হয়তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তাই সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করলো। নিজের মনের মধ্যে পুষে রাখা আবেগ অনুভুতিদের উগরে দিলো। সে উদয়ের শ্যাম বর্ণের কপালে চুমু এঁকে দিলো। যেই সে সোজা হতে নিবে ওমনি হ্যাঁচকা টানে উদয়ের বুকের উপর পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার চোখ খিচে বন্ধ করে ফেলে। চোখ খুলে উদয়কে মুচকি মুচকি হাসতে দেখে ইরার গলা শুকিয়ে আসে। উদয় থমথমে কণ্ঠে বলে,

উদয়:"এতো জ্বালাস কেনো আমায়? আবার আমি কিছু করতে গেলেই তোর যতো ভয়। এখন যে তুই আমার ইজ্জত হরণ করলি, আমার ভার্জিনিটি নষ্ট করলি, তার বেলায়। এখন আমি সবার কাছে বিচার দেই?"

উদয় ভ্রু নাচায়। উদয়ের কথা শুনে ইরার মুখ হা হয়ে গেলো। একটা চুমু খেলে কারো ইজ্জত হরণ হয়, ভার্জিনিটি নষ্ট হয় এটা সে আজকে জানলো। ইরা কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,

ইরা:"সামান্য চুমুতে আপনার ভার্জিনিটি নষ্ট হয়ে গেলো? আর আপনি তো ঘুমোচ্ছিলেন , তাহলে বুঝলেন কিভাবে আমি আপনার সাথে ওইসব করেছি?"

উদয়:"তাহলে কি করলে ভার্জিনিটি নষ্ট হয় ম্যাডাম? আমার তো এখন ওইসব করতে ইচ্ছে করছে।"

উদয়ের কথা শুনে ইরার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। ঠোঁট কাঁপতে লাগলো। উদয় এবার নেশালো কণ্ঠে বলল,

উদয়:"এতো কাপিস না বেটারহাফ। তোর এইভাবে কাপাকাপি দেখলে যে আমার ওইসব করতে মন চায়। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। আই সোয়ার, এখন কিন্তু আমি অন্য কিছু করে ফেলবো। আমার কেমন যেনো বাসর বাসর পাচ্ছে।"

উদয়ের কথা শুনে ইরার ইচ্ছে করছে মাটি খুঁড়ে তার ভেতর ঢুকে যেতে। লজ্জায় তার চিবুক গলায় গিয়ে ঠেকেছে। ইরার এইরকম লজ্জা পাওয়া দেখে উদয়ের কপালে ভাঁজ পরে। সে তীক্ষ্ম কণ্ঠে বলল,

উদয়:"ধুর, বালের বউ আমার। কিছু বলতে না বলতেই লাল নীল হয়ে যায়। এর সাথে আমি নাকি বাসর করবো।"

ইরা কিছু বলে না। তার গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। কেমন যেনো অস্থির লাগছে। সে ঢোক গিলে, বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস নিয়ে কোনরকমে বলল,

ইরা:"ছাড়ুন, দাদু আপনাকে নিচে ডাকছে।"

উদয়:"দাদু কি জানে, তুই ডাকার নাম করে এসে আমার এই ২৬ বছরের ভার্জিনিটি নষ্ট করে দিয়েছিস। দাদুকে গিয়ে বলব তোর এই কাজের কথা?"

ইরা:"প্লীজ ছাড়ুন উদয় ভাই?"

উদয় ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো,

উদয়:"তুই কি ইনডাইরেক্টলি ডিভোর্স চাইছিস আমার কাছে। না মানে, ডিভোর্স দিয়ে আমাকে জামাই এর খাতা থেকে বের করে ভাই এর খাতায় ঢুকাতে চাচ্ছিস?"

ইরা:"আপনি কি বলছেন এসব?"

উদয়:"তাহলে বার বার এই উদয় ভাই উদয় ভাই বলে কানের মাথা খাচ্ছিস কেনো। আদর করেও তো কিছু ডাকতে পারিস"

ইরা:"কি ডাকবো তাহলে "

উদয় কিছু বলতে যাবে তখনি দরজায় সিয়াম দাঁড়িয়ে কেশে উঠে,বলল,

সিয়াম:"তোদের রোম্যান্স শেষ হলে খেতে আয় প্লীজ। তোদের জন্য নানু আমার খাওয়াটাও বন্ধ করে রেখেছে।"

সিয়ামের কন্ঠ শুনে ইরা ধড়ফড়িয়ে উঠলো উদয়ের উপর থেকে। উদয় ও ছেড়ে দিলো।

--

চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন