ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

১৮তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব :১৮

সকাল সকাল চৌধুরী বাড়ি নতুন রঙে সেজেছে। বাড়িতে অনেক পদের রান্না হচ্ছে। সবাই খুব ব্যস্ত এবং খুশিও। কারণ আজ এই বাড়ির কর্তা বাড়িতে ফিরছেন প্রায় বিশ দিন পরে। তবে আজ মনে হয় ইরা সবচেয়ে বেশি খুশি। তার একমাত্র ভরসা যোগ্য লোক বাসায় ফিরছে। এখন একমাত্র বললে ভুল হবে, কারণ এখন তার স্বামী হচ্ছে তার কাছে প্রথম প্রায়োরিটি। তার নানাকে সে যেমন ভালবাসে উদয় কেউ সে মনে মনে ঠিকই ভালোবাসে, কিন্তু সেটা মুখে শিকার করে না। ইরা গা দুলিয়ে দুলিয়ে কিচেনে ঢুকলো। রোকেয়া বেগম রান্না করছেন আর রুপা কিচেন টেবিলের উপর পা ঝুলিয়ে বসে বসে আঙ্গুর চিবোচ্ছে। ইরা এসে রুপার সাথে যোগ দিল। রুপা ইরার দিকে কপাল কুচকে তাকালো।

রুপা:"তোকে আজকে এতো খুশি খুশি লাগছে কেনো। আর এতো গ্লো কেনো করছিস তুই।"

মুখ ইরার কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

রুপা:"ভাইয়ার সাথে বেড শেয়ার করা কমপ্লিট নাকি।"

ইরা:"ধুর তুমি যে কি বলো না। তোমার ওই খাটাস ভাই এর সাথে বেড শেয়ার 5করতে আমার বয়েই গেছে। আস্তা অসভ্য লোক।"

ইরার গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। তাদের কথার মাঝে ফুরোন কেটে রোকেয়া বেগম বললেন,

রোকেয়া:"খুশি হবে না, আজকে তো খুশির দিনই ওর জন্য। কতো দিন পড়ে চাচা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরছেন। খুশি না হয়ে তোর মতো মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবে নাকি।"

রুপা:"আমি আবার কখন মুখ ফুলিয়ে বসে রইলাম আম্মু।"

রোকেয়া:"হয়েছিস তো ভাই এর মতো। শুধু মুখে মুখে তর্ক। এখানে বসে বসে তামাশা না দেখে যা একটু পড়তে বস। কদিন পর তো ফাইনাল পরীক্ষা সেই কথা তো গিলে বসে আছিস।"

রোকেয়া বেগমের কথা শুনে রুপা চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। হা করে রোকেয়া বেগমের দিকে তাকিয়ে আছে। রুপার মুখের এই অবস্থা দেখে ইরা না চাইতেও হেসে দিলো। ইরার হাসি দেখে রুপা মিথ্যা মিথ্যা রাগ দেখিয়ে কিচেন থেকে কেটে পড়লো। তার এখন আসল উদ্দেশ্য হলো সিয়ামকে জ্বালানো। তাই নাচতে নাচতে সিঁড়ি বেয়ে সিয়ামের রুমের দিকে অগ্রসর হলো।

--

উদয় এয়ারপোর্টে যাবে কামরুল হকদের রিসিভ করতে তাই তাড়াহুড়া করে রেডি হচ্ছিলো। সে ব্ল্যাক কালার প্যান্ট এবং ব্ল্যাক কালার শার্ট পড়ে নিলো, হাত দিয়ে চুল গুলো ব্রাশ করে গায়ে bleu de chanel পারফিউম স্প্রে করে, ব্ল্যাক কালার একটা ব্লেজার নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। সিঁড়ি বেয়ে নামছিল আর মোবাইল স্ক্রল করছিল। এতক্ষণে ইরা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সোফায় বসে টিভি দেখছে। হঠাৎ কারো পায়ের শব্দে সিঁড়ির দিকে চোখ পড়ে। উদয় কে দেখে ইরার মুখ হা হয়ে যায়। আপনাআপনি মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে,

ইরা:"মাশাআল্লাহ, এতো সুন্দর ছেলে আমার জামাই, আমি তো ভাবতেই পারিনা। পুরাই হট চকলেট।"

উদয় নিচে নেমে ইরাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুচকি হাসলো। কাছে এগিয়ে গিয়ে ইরার মুখের কাছে হালকা ঝুকে শান্ত কন্ঠে বলল,

উদয়:"আমার বউ এভাবে হা করে তাকিয়ে আছে কেনো? বউ এর কি বাসর বাসর পাচ্ছে নাকি।"

উদয়ের এইরকম লাগাম ছাড়া কথা শুনে ইরার ধ্যান ভাঙল। শঙ্কিত গলায় আওড়ালো,

ইরা:"কি বলছেন এসব। যে কেউ শুনলে কি ভাববে। এমনিতেই ওইদিন সিয়াম ভাইয়ার সামনে কি লজ্জাটায় না দিলেন। যান তো এখান থেকে।"

উদয়:"এটা কি তোর মনের কথা?আচ্ছা চলে যাচ্ছি, বাইরে কতো মেয়ে আমাকে একটা নজর দেখার জন্য বসে আছে, তাদের কাছেই যায়, তুই যেহেতু পাত্তা দিচ্ছিস না।"

উদয় শিস বাজাতে বাজাতে সামনে পা বাড়াতেই ইরার শক্ত কন্ঠ কানে আসে।

ইরা:"আপনি এভাবে সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছেন শুনি?"

উদয় ভাবলেশহীন ভাবে জবাব দিলো,

উদয়:"গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে।"

ইরার চোখ মুহূর্তের মধ্যেই লাল হয়ে গেলো,

ইরা:"আপনি পরকীয়া করেন? ছিঃ, আমি সবাইকে বলে দিবো।"

উদয়:"পরকীয়া না করে উপায় আছে, বউ থাকতেও সিঙ্গেলের মতো রাত কাটাতে হয়। তাহলে পরকীয়া করবো না তো কি সারাজীবন ভার্জিন হয়েই বসে থাকবো।"

ইরার চোখের কোণে পানি এসে জমা হয়,

ইরা:"তাই বলে আপনি এভাবে পরকীয়ায় লিপ্ত হবেন। আমি কি বলেছি আপনাকে সারাজীবন বসিয়ে রাখবো? আমি তো কিছুদিন সময় চেয়েছি মাত্র। আর আপনি এরকম করতে পারলেন আমার সাথে "

কথা বলতে বলতে ইরার কান্নার বেগ বেড়ে যায়। হেঁচকি তুলে কান্না করতে থাকে। তার কান্না দেখে উদয় বিচলিত হয়ে যেই কিছু বলতে যাবে ওমনি রোকেয়া বেগম কিচেন থেকে তারাহুরো করে বেরিয়ে আসে। কান্নারত ইরার পাশে উদয়কে সটাং দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি উদয়ের দিকে রাগে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। উদয় রোকেয়া বেগমের এই অগ্নিমূর্তির ন্যায় দৃষ্টি দেখে শুধু ফেলফেল করে তাঁকিয়ে থাকে। সে বুঝতে পারে না রোকেয়া বেগমের এরকম দৃষ্টির কারণ। রোকেয়া বেগম বিচলিত হয়ে ইরাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

রোকেয়া:"কি হয়েছে মা, এভাবে কাদছিস কেনো? উদয় কিছু বলেছে?"

ইরা কাদতে কাদতে বলে,

ইরা:"ফুপ্পি... তোমার ছেলে আমাকে ঘরে রেখে বাইরে পরকীয়া করে।"

ইরার কথা শুনে রোকেয়া বেগমের চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। ইরা আবার বলতে শুরু করে,

ইরা:"তোমার ছেলে এখন এতো সেজেগুজে তার ওই পরকীয়ায় লিপ্ত থাকা গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে যাচ্ছে।"

রোকেয়া বেগম একবার ইরার দিকে তাকান তো আবার উদয়ের দিকে তাকান। রোকেয়া বেগমের এরকম তাকানোর মাঝেই উদয় ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ইরার কান্নার বেগ দ্বিগুণ হয়। রোকেয়া বেগম বুঝানোর সুরে বললেন,

রোকেয়া:"কে বলেছে তোকে ও পরকীয়া করে আর এখন ওই মেয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে?"

ইরা হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে,

ইরা:"উনি নিজেই বলেছেন ফুপ্পি।"

রোকেয়া:"তোকে জ্বালানোর জন্য বলেছে মা, ও তো তোর ফুপা আর নানুভাইকে আনতে যাচ্ছে।"

ইরা মুহূর্তের মধ্যেই কান্না থামিয়ে হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে,

ইরা:"কি? তাহলে আমাকে এগুলি বলল কেনো?"

রোকেয়া বেগম হেসে কিচেনের দিকে যেতে যেতে বললেন,

রোকেয়া:"আসলে তুই নিজেই জিজ্ঞেস করে নিস।"

ইরা নিজে নিজেই নাক টানতে টানতে বিড়বিড় করে,

ইরা:"আমাকে মিথ্যা বলা, আমাকে কাদানো। আমার চোখের পানি শুধু শুধু ক্ষয় করানো।এখন আপনিও বুঝবেন মিস্টার..জেলাসি কাকে বলে, কতো প্রকার এবং কি কি?"

বলেই কুটিল হেসে আবার সোফায় বসে টিভি দেখায় মনোযোগী হয়। এই খাটাইশ বেটার জন্য তার ড্রামার রোমান্টিক সিন একটা মিস হয়ে গেলো। টিভি দেখতে দেখতে মনে মনে কিছু গালি ছুড়লো উদয়ের উদ্দেশ্যে।

--

সিয়াম ওয়াশরুমেশাওয়ার নিচ্ছে আর গান গাইছে। রুপা খুব কষ্ট করে কানে হাত দিয়ে তার রুমে ঢুকলো। রুপার মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে সিয়ামের গান সহ্য করার মতো না। সিয়াম গান গাইছে,

«এই চাইয়া থাকস কেন

কি কবি,ক

তুই কইলেই তো আমি কমু হ..»

সিয়ামের গান শুনে রুপার অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা। তবুও সে সহ্য করে বসে অপেক্ষা করছে ভালোবাসার মানুষ এর জন্য। প্রায় পাঁচ মিনিট পর সিয়াম টাওয়াল পড়ে বাইরে বের হলো। রুপাকে দেখে অবাক কন্ঠে বললো,

সিয়াম:"ময়নাপাখি তুমি এখানে আমার ইজ্জত হরণ করতে আসছো?"

রুপা:"আজেবাজে কথা না বলে যাও কাপড় চোপড় পড়ে আসো।"

সিয়াম কিছু একটা ভেবে উৎফুল্ল গলায় বলল,

সিয়াম:"ওয়েট ময়না পাখি তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।"

সিয়াম আর কোনো শব্দ ব্যয় না করে প্যান্ট আর গেঞ্জি নিয়ে নাচতে নাচতে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।

পাঁচ মিনিট পর মাথায় একটা বোতল নিয়ে “বালা বালা” গানে অদ্ভুত ভাবে নাচতে নাচতে বের হলো। সিয়ামের এরকম অবস্থা দেখে রুপার হাসতে হাসতে বিছানায় গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।

--

রোকেয়া:"ইরা..তুই এখনো বসে বসে টিভি গিলছিস। ওই রুপাটার সাথে থাকতে থাকতে তুই ও ওর মতো ঘাড়তেরা হয়ে গেছিস। যাহ গিয়ে রেডী হ। ওরা এক্ষুনি চলে আসবে।"

রোকেয়ার ধমক শুনে ইরা তাড়াতাড়ি করে টিভি বন্ধ করে দিলো। ভয়ে ভয়ে সিঁড়ির উপরে তাকালো। নাহ্ রুপা আপু নেই। যদি শুনত ইরার জন্য তাকে কথা শুনতে হচ্ছে তাহলে আজকে আর আস্ত রাখতো না। এই ভেবে ইরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর রুমের দিকে দৌড়ালো।

রুমে এসে কাভার্ড খুলে ব্ল্যাক কালার একটা গাউন বের করল, মনে মনে মিটিমিটি হাসলো আর ভাবল,

ইরা:"আজকে আমার জামাই ও ব্ল্যাক আমিও ব্ল্যাক। দুজনেই আজকে শোক দিবস পালন করব।"

ইরা হাসতে হাসতে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো।

--

লুৎফা:"আমি কিন্তু এবার সবাইকে বলে দিবো ওই শিকদার পরিবারকে কে খুন করেছে। আমি আর আমার ছেলেদের চোখে দোষী হয়ে থাকতে চাই না। তাদের চোখের ঘৃণা আমি আর সহ্য করতে পারছি না। সিয়াম তো আমার দিকে তাকাচ্ছেও না, কথা তো বলবে দূরের কথা।"

ফোনের ওপাশের লোক কি বলল শোনা গেলো না। কিছুক্ষণ পর লুৎফা বেগম আবার বললো,

লুৎফা:"ঠিক আছে, এবারের মতো আমি চুপ করে গেলাম। টাকাটা আমার একাউন্টে পাঠিয়ে দিও।"

বলেই ফোন কেটে দিলেন।"

কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ফোন টাকা ঢুকার নোটিফিকেশন আসলো।

--

চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন