ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

১৯তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব :১৯

বাইরে গাড়ির শব্দ শোনা যাচ্ছে। ইরা তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে নিচে নামলো। এক এক করে ড্রয়িং রুমে সবাই এসে জড়ো হল। তখনি বাড়িতে সবাই প্রবেশ করল হাসি হাসি মুখ নিয়ে । ইরা দৌড়ে গিয়ে কামরুল হককে জড়িয়ে ধরলো। কামরুল হক নাতনীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আদুরী স্বরে বললেন,

কামরুল:"কেমন আছিস নানুভাই?"

ইরা:"আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো নানুভাই।"

কামরুল:"আমিও ভালো আছি।"

সবাই কুশল বিনিময় শেষ করে যার যার কাজে চলে গেলেন। রোকেয়া বেগম টেবিলে খাবার সাজাচ্ছেন। শাহেদ চৌধুরী আর কামরুল হক গেছেন ফ্রেশ হতে। ইরা রোকেয়া বেগমকে সাহায্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু রোকেয়া বেগম তাকে এসব কাজে হাত না দিতে দিয়ে। ছাদ থেকে কাপড় আনতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ছাদে এসে ইরার চোখ রসগোল্লার মতো বড় বড় হয়ে গেলো। সে লজ্জায় তাড়াতাড়ি নিজের হাত দ্বারা চোখ মুখ ঢেকে নিলো।

ছাদের এক কোণে রুপা আর সিয়াম খুব ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্য কথা বলছে। ইরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে তাদের কথাবার্তা স্পষ্ট শুনা যাচ্ছে। সিয়াম রুপার গলা পেঁচিয়ে ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলছে,

সিয়াম:"আর কতো দিন এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে থাকবো বলোতো। আমার আর সহ্য হচ্ছে না।আমি আর তোমার থেকে দূরে থাকতে পারছি না ময়নাপাখি।"

রুপাও আকাশের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে বললো,

রুপা:"এখন আমি কি করবো বলো। আব্বু আম্মুকে এসব বললে আমাকে ঝাটাপেটা করবে। আর এই আমাকে টাকা পয়সা ছাড়া বাসা থেকে বের করে দিবে। তুমি কি চাও আমাকে ফকিন্নির মতো বাসা থেকে বের করে দিক?"

শেষের কথা গুলো রুপা একটু কাদো কাদো স্বরে বলল। রুপার কথার বিপরীতে সিয়ামকে কথা বলতে না দিয়ে পেছন থেকে ইরা থমথমে গলায় শুধালো,

ইরা:"এখানে কি হচ্ছে?"

ইরার কন্ঠ শুনে রুপা আর সিয়াম দুইদিকে সরে গেলো। রুপা আমতা আমতা করে বললো,

রুপা:"তুই এখানে কি করছিস বোনু? আর আমরা তো শুধু কথা বলছিলাম।"

ইরা:"আমাকে আমার শ্বাশুড়ি পাঠালো আমার ননদের কাণ্ড দেখতে, না মানে কাপড় নিতে।"

সিয়াম দুঃখী দুঃখী কন্ঠে বললো,

সিয়াম:"ভাবী আপনি আমাদের সাথে এরকম করতে পারবেন? আপনি আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখতে পারবেন? আপনার একটুও কষ্ট হবে না আমাদের জন্য? আপনি তো পারেন আমাদের একটু সাহায্য করতে।"

ইরা তো সিয়ামের কথা শুনে হতবাক । সে কি এমন বললো যে সিয়াম এমন রিয়েকশন দিচ্ছে।

ইরা:"আমি তো কিছু বলিনি ভাইয়া, আর আমি কীভাবে আপনাদের সাহায্য করতে পারি?"

সিয়াম:"তুমি তো অন্তত তোমার জামাই এর কাছে আমার আর আমার ময়নাপাখির বিয়ের কথাটা বলতে পারো এবং রাজি করাতে পারো ।"

ইরা:"ভাইয়া আপনি কি আমাকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

ইরার কথা বুঝতে না পেরে তারা দুজনেই কপাল কুচকে তাকালো।

ইরা ওদের দৃষ্টি দেখে বুঝতে পারলো তাদের অবস্থা,

ইরা:"আসলে আমি বলতে চাচ্ছি যে, উনি তো সবসময় এটম বোম এর মতো ফুলে থাকে আর কিরকম রাক্ষসের মতো তাঁকিয়ে থাকে। এখন আমার মতো একটা বাচ্চা যদি উনাকে এইসব বিষয়ে রাজি করাতে যায় তাহলে উনি তখনি আমাকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবেন।"

ইরার কথা শুনে ওরা দুজনেই হেঁসে দিলো। কিন্তু কারো একজনের হয়তো এই হাসি পছন্দ হলো না। ইরার পেছনে কারো উপস্থিতি লক্ষ্য করে রুপা আর সিয়াম এর মুখ চুপসে গেল। ইরা এখনো পেছনের ব্যক্তির উপস্থিতি বুঝতে পারেনি। হঠাৎ রুপা আর সিয়াম এর মুখের পরিবর্তন দেখে এবং এভাবে তাকানো দেখে ইরা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো,

ইরা:"তোমরা এভাবে তাকিয়ে আছো যেন ওই খবিশ, রাক্ষস বেটা এখন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।"

বলেই ইরা হেঁসে দিলো। ইরার হাসি দেখে রুপা কয়েকবার ঢোক গিললো। রুপা ইরাকে পেছনে তাকাতে ইশারা দিলো। কিন্তু বোকা ইরা কিছুই বুঝল না। সে না বুঝে রুপার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,

ইরা:"কী?"

রুপা দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

রুপা:"দাঁত গুলো বন্ধ করে পেছনে দেখ বোন আমার। তোর যম দাঁড়িয়ে আছে।"

রুপার কথা শুনে ইরা পেছনে তাকাতেই দেখতে পেলো এক জোড়া রক্ত লাল চোখের মালিক তার দিকে ক্ষিপ্ত মেজাজে তাঁকিয়ে আছে।

উদয়ের এমন চাহনি দেখে ইরা বার কয়েক ঢোক গিললো। সে কল্পনাও করেনি এই সময় উদয় ছাদে আসবে। কারণ কামরুল হকদের সাথে উদয় বাসায় ফিরেনি তখন। এখন এখানে কিভাবে আসলো ইরা ভেবে পেলো না। ইরা মনে মনে বিড়বিড় করলো,

ইরা:"যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়।"

এইদিকে সিয়াম আর রুপা তাদের পাশ কাটিয়ে যেই চলে যেতে নিবে ওমনি ইরা রুপার হাত জাপটে ধরে। চোখের ইশারায় বুঝায়,' তাকে যেনো এই রাক্ষসের হাত থেকে বাঁচায় '।

তখনি উদয়ের গম্ভীর এবং ভারী কন্ঠস্বর ভেসে আসে,

উদয়:"আমি রাক্ষস, আমি খবিশ? আমি তোকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবো?"

ইরা ভয়ে অবুঝের ন্যায় তাঁকিয়ে আছে। তার দৃষ্টি ছাদের মেঝেতে স্থির। সে ভয়ে উদয়ের চোখে চোখ রাখতে পারছে না। একটু ভাব নিতে এসেছিল রুপা আর সিয়াম এর সামনে। কিন্তু এখানে যে তার নিজেরই মান সম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে এটা ভাবতে পারেনি। ইরা মনে মনে ভাবলো, এখন যদি তার জামাই রাগে এদের সামনে তার গালে ঠাস ঠুস চর লাগিয়ে দেয়, তাহলে তো তার প্রেসস্টিজ পামচার হয়ে যাবে। এইটা ভাবার সাথে সাথে ইরার হাত আপনাআপনিই তার নিজের গালে চলে গেলো। যেনো উদয় চর থাপ্পড় কিছুই দিতে না পারে। কিন্তু উদয় তাকে একদম ভুল প্রণাম করে কোলে তুলে নেয়। সাথে সাথে ইরার চোখ বন্ধ হয়ে যায়। তার চোখ বন্ধ থাকায় সে বুঝতে পারে না যে উদয় তাকে কোলে নিয়েছে। তার কাছে মনে হয় সে শূন্যে ভাসছে। যখনই চোখ খোলে তখন সে নিজেকে উদয়ের কোলে আবিষ্কার করে। কোল থেকে নামার জন্য মোচড়ামুচড়ি করতে থাকে। উদয় ধমক দিয়ে বলে উঠে,

উদয়:"চুপ বেয়াদব। একদম নড়াচড়া করবি না। যদি করিস তাহলে এক্ষুনি কোল থেকে ফ্লোরে আছার মারবো।"

উদয়ের ধমক শুনে ইরার মুখ চুপসে যায়। সে নড়াচড়া বন্ধ করে ঘাপটি মেরে থাকে। নয়তো এই ছেলের বিশ্বাস নেই, যখন তখন ফ্লোরে ফেলে দিতে পারে। যদি ফেলে দেই তাহলে এই বাচ্চা বয়সেই ইরাকে বুড়োদের মতো ভাঙ্গা কোমড় নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। তাই যা বলছে চুপচাপ তা মেনে নেয়ায় ভালো।

উদয় বড় বড় পা ফেলে ইরাকে কোলে নিয়ে নামতে থাকে আর বলতে থাকে,

উদয়:"তুই নাকি বাচ্চা। আজ তোকে এই রাক্ষস বুঝাবে বাচ্চাকে কীভাবে বাচ্চার মা বানানো যায়।"

উদয়ের কথা শোনে ইরার ভয় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এতক্ষণ তো মার খাওয়ার ভয় ছিলো কিন্তু এখন তো দেখা যাচ্ছে ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিচ্ছে। উদয়ের ইঙ্গিত বুঝে ইরা যেই কোল থেকে নামার জন্য মোচড়ামুচড়ি করতে যাবে ওমনি উদয় নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলে,

উদয়:"উহু, একদম নড়বি না, নাহলে কিন্তু সত্যি সত্যি ফেলে দিবো।"

উদয় ইরাকে নিয়ে ছাদ থেকে নেমে যেতেই রুপা আর সিয়াম একটু সস্থীর নিশ্বাস ফেললো। সিয়াম বলল,

সিয়াম:"যাক বাবা, এবারের মতো সমন্ধির হাত থেকে বেঁচে গেছি তার বউ এর জন্য। এখন তারা জামাই বউ বুঝে নিবে সবকিছু। আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে, ইরা কোনোদিনও আমাদের ফাসাবে না। তাই এখন একটু নিশ্চিন্ত।"

রুপা:"আমাদের বিষয় নিয়ে নিশ্চিন্ত বুঝতে পারলাম। কিন্তু ওই ছোট্ট মেয়েটার কি হবে ভাবতে পারছো?"

সিয়াম:"কি আর হবে, এখন হয়তো একটু ইউনিক শাস্তি পাবে। যাই বলো, তোমার ভাই কিন্তু হেব্বি রোমান্টিক আছে।"

রুপা:"রোমান্টিক ঠিক আছে, কিন্তু তোমার মতো নির্লজ্জ নাহ্। বিয়ে ছাড়া হবু বউ এর সাথে ঘষাঘষি করে না।"

রুপার সূক্ষ্ম খোঁচায় সিয়ামের হাসি হাসি মুখটা মলিন হয়ে গেলো। রুপা ছাদ থেকে নেমে গেলো।সিয়াম নিজের কাছে নিজেই পণ করলো,' এবার যেভাবেই হোক, বিয়েটা সে করবেই।'

যেই ভাবা সেই কাজ, সে ছুটলো তার মামার (শাহেদ চৌধুরী) উদ্দেশ্যে। আজকে সে উনার মেয়ের হাত যেভাবেই হোক চাইবে।

--

চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন