ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

২০তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব:২০

উদয়:"এখন কোথায় পালাবে জানেমান। আজকে তোমার বায়োলজি ক্লাস নিবো। দেখবো তুমি এই সাবজেক্টে কতটুকু পারদর্শী।"

ইরা:"প্লীজ আমাকে মাফ করে দিন। আর কোনো দিন এরকম করবো না।"

উদয়:"তুমি তো জানো আমার কাছে ভুলের কোনো ক্ষমা নেই । ভুল করলে শাস্তি পেতেই হবে আমার বেটারহাফ । সো, বি রেডী।"

ইরা বিছানায় আঁধ শোয়া অবস্থায় বসে আছে । তার মুখের উপর উদয় ঝোঁকে নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ভয়ে ইরার চোখের কোণে পানি চলে এসেছে। সে তো বুঝতে পারে নি উদয় তাকে এইরকম শাস্তি দিবে। ইরা কাদো কাদো স্বরে বলল ,

ইরা:"আমি কিন্তু এখন চিৎকার করবো। আঙ্কেল কিন্তু বাড়িতে আছে এখন।"

উদয়:"করো চিৎকার, কিন্তু কিছু করার আগেই যদি চিৎকার করো তাহলে তো আমার পুরুষত্বের অপমান হবে জানপাখি। তাই আগে কিছু করতে দাও পরে না হয় গলা ছেড়ে চিৎকার করো।"

উদয়ের এমন লাগাম ছাড়া কথায় ইরা কিছুটা লজ্জা পেলো। কিন্তু পরক্ষণেই উদয়কে শাসানোর স্বরে বললো,

ইরা:"আপনার এসব অসংযত, নিয়ন্ত্রণহীন কথা আপনার কাছেই রাখুন। এখন আমাকে যেতে না দিলে কিন্তু আমি সত্যি সত্যি চিৎকার করবো বলে দিলাম।"

উদয় ইরার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,

উদয়:"করো, তুমি হয়তো ভুলে গেছো তোমার জামাই এর রুম সাউন্ডপ্রুভ।তাই যতই চিৎকার করো আমার সমস্যা নেই বরং বেশি বেশি ফিল পাবো।"

বলেই উদয় দুষ্টু হাসলো।

ইরা যেই মুখ খুলতে নিবে ওমনি উদয় তার অধর নিজের দখলে নিয়ে নিলো। ইরা ছটফট করতে লাগলো। উদয় সে দিকে পাত্তা না দিয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দিলো। ইরা অনবরত উদয়ের পিঠে চর দিতে থাকলো। উদয় সে দিকে ভাবান্তর হলো না। এক সময় ইরাও হাল ছেড়ে দিলো। ইরার নিস্তেজ হওয়া দেখে উদয় মনে মনে কুটিল হাসলো।

উদয়ের হাত আস্তে আস্তে ঘাড় থেকে নেমে ইরার কোমরে বিচরণ করতে থাকলো। উদয়ের এমন অযাচিত স্পর্শে ইরার সারা শরীর কেঁপে উঠলো। ইরা বুঝতে পারলো এখন আর উদয়কে দামানো সম্ভব না। তাই হাল ছেড়ে দিলো। কিন্তু তার দম এখন ফুরিয়ে গেছে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু উদয়ের ছাড়ার কোনো নামই নেই।

হঠাৎ উদয়ের ফোন বেজে উঠলো। উদয় বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে নিলো। সে ইরাকে ছেড়ে হাত বাড়িয়ে কল কেটে দিলো। যেই আবার ইরাকে ধরতে যাবে দেখলো ইরা জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে আর টেবিল থেকে পানির গ্লাস নিতে হাত বাড়িয়েছে। ইরার হাত পা কাপছে। উদয় নিজেই পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো। ইরা ঢকঢক করে পুরা গ্লাসের পানি খেয়ে উদয়ের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো। উদয় ইরাকে যেই কিছু বলতে যাবে ওমনি আবারো তার ফোন বেজে উঠলো। উদয় দেখলো রুপার নাম্বার থেকে কল এসেছে। সে রাগে বললো,

উদয়:"এই বাড়িতে থাকলে আমি মনে হয় না আর এই জীবনে বাসর করতে পারবো। ধুর, একদিকে বউ করে কাপাকাপি আর একদিকে এই বাড়ির মানুষের ডিস্টার্ব।"

উদয় কল রিসিভ করতেই রুপার কান্নারত কন্ঠ শোনা গেলো। রুপা বলছে,

রুপা:"ভাইয়া প্লীজ একটু নিচে এসো। অনেক বড় ঝামেলা হয়ে গেছে। প্লীজ তাড়াতাড়ি এসো।"

বলেই রুপা কল কেটে দিলো। উদয় আর কোনো কথা না বলে বেরিয়ে গেলো।

উদয়ের এভাবে চলে যাওয়াতে ইরা কিছুটা অবাক হলো। কিন্তু পরক্ষণেই সস্থীর নিঃশ্বাস ফেললো। যাক আজকে আল্লাহ্ আল্লাহ্ করে বেঁচে গেছে। ইরা তাড়াতাড়ি গায়ে উড়না জড়িয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। মিনিট পাঁচেক পরে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িংরুমের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো।

--

পুরো ড্রয়িংরুম কাপিয়ে সিয়ামের গালে থাপ্পড় পড়লো। উপস্থিত সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। রুপা এক কোণায় দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলছে। আজকে হয়তো সে সিয়ামের সাথে একটু বেশিই করে ফেলেছে। সে যদি সিয়ামকে বিয়ের কথা এইভাবে না বলতো তাহলে হয়তো আজকে এই ঘটনা ঘটতো না।

সিয়াম এর দৃষ্টি নিচের দিকে, সে গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। শাহেদ চৌধুরী সামনে দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসছে। রাগে উনার শরীর কাপছেন। পাশে হাসান দাড়িয়ে আছে নির্লিপ্ত ভাবে। লুৎফা বেগম বাড়িতে নেই, তার কোন বান্ধবীর সাথে দেখা করতে গেছেন। তিনি থাকলে হয়তো নিজের ছেলের এতো বড়ো অপমান সহ্য করতেন না।

শাহেদ চৌধুরী রাগী কন্ঠে শুধালো,

শাহেদ:"তোর এতো বড়ো সাহস, আমার দয়ায় বেঁচে থেকে তুই আমার মেয়ের হাত চাস। তোর ভাগ্য ভালো যে এখনো তোকে এই বাড়ি থেকে বের করে দেইনি।"

উনার কথা শেষ হওয়ার আগেই পাশ থেকে উদয়ের বজ্র কন্ঠস্বর ভেসে আসলো,

উদয়:"ভুল বললে আব্বু। ও তোমার দয়ায় বেঁচে নেই।ও নিজের ব্যবসা আছে এখন। আর ওর এখন যেই ইনকাম তা দিয়ে সে আমার বোন কে খুব ভালো রাখতে পারবে আশা করি।"

উদয়ের কথায় সবাই অবাক হলো। সবাই ভেবেছিলো উদয় হয়তো অনেক রাগ করবে, কিন্তু সে যে এত সহজে মেনে নিবে তা সবার ধারণার বাইরে। রুপা কান্নার মধ্যে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। তার বিশ্বাস ছিলো তার ভাইয়া তাকে কষ্ট দিবে না। আজ তাই হলো।

শাহেদ:"তোমার মাথা ঠিক আছে তো উদয়।কি সব বলছো? আমার একমাত্র মেয়েকে ওর মতো সামান্য ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দিবো আমি?"

উদয়:"আমার মাকেও কিন্তু আমার নানা তোমার মতো সামান্য ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দিয়েছিলো আব্বু, আর এখন তুমি উনার জন্যই এই পর্যন্ত এসেছো।ভুলে যেও না সেটা। ইরাকেও কিন্তু ওর বাবা আমি যখন বেকার ছিলাম তখন আমার হাতে তুলে দিয়েছিলো। তুমি কিন্তু এখনো ওদের সম্পত্তির অর্ধেকও কামাতে পারোনি। তাহলে তোমার মেয়েকে সিয়ামের হাতে তুলে দিতে সমস্যা কি "

উদয়ের কথায় শাহেদ চৌধুরীর মুখ চুপসে গেলো। সে আর কোনো কথা বলতে পারেনা।

--

চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন