গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#পর্ব :২১
উদয়:"আব্বু আজকে যখন রুপার বিয়ের কথা উঠেছেই তাহলে আমি একটা ঘোষণা দিতে চাই।"
শাহেদ:"তুমি আবার কি ঘোষণা দিবে। একটা মারাত্মক ঘোষণা তো দিয়েই দিলে"
উদয়:"আমি চাই আগামী সপ্তাহেই সিয়াম আর রুপার বিয়েটা দিতে এবং সাথে আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটা সেরে ফেলতে। তোমার কি মত আব্বু?"
শাহেদ:"আমি আবার কি বলবো, তোমার যা ভালো মনে হচ্ছে তাই তো করছো। আমার মতামত নেয়ার প্রয়োজন বোধ তো আর করছো না তুমি। তবে তোমার আর ইরা মামনির বিয়েতে আমার কোনো আপত্তি নেই।"
উদয়:"তাহলে ডিসিশন ফাইনাল।"
শাহেদ:"যা ইচ্ছে করো।"
বলেই তিনি রুমের উদ্দেশ্যে হাটা ধরলেন। ইরা এতক্ষণ সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়েছিল। রুপা এখনো কাদঁছে। শাহেদ চৌধুরী চলে যেতেই সিয়াম এসে উদয়কে জড়িয়ে ধরলো।
কিছুক্ষণ পর সিয়ামকে ছাড়িয়ে উদয় সিয়াম শোনার মতো করে বললো,
উদয়:"এই তুই শুধু মেয়েদের মতো আমাকে এসে জড়িয়ে ধরিস কেনো? তোর কি কোনো সমস্যা আছে নাকি ?"
উদয় এর কথায় সিয়াম অসহায় এর দৃষ্টিতে তাকালো। উদয় মুচকি হেঁসে রুপার কাছে গিয়ে থমথমে গলায় বলল,
উদয়:"তুই খুশি তো রুপা?"
রুপা উদয়কে জড়িয়ে ধরলো। কান্না জড়ানো কন্ঠে বলল,
রুপা:"থ্যাংক ইউ ভাইয়া, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না যে তুমি এভাবে রাজি হয়ে যাবে।"
উদয়:"আর কান্না করতে হবে না। বিয়ের আগে বেশি কান্না করলে বিয়ের দিন দেখতে একদম পেত্নীর মতো লাগবে। অবশ্য তুই তো এমনিতেই পেত্নীর থেকে কম কিছু না।"
উদয় এর কথায় পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে হাসির রোল পড়লো। রুপা উদয়ের দিকে তাকিয়ে রাগী কন্ঠে বলল,
রুপা:"ভাইয়ায়ায়া..."
উদয় আবার রুপাকে হাসতে হাসতে জড়িয়ে ধরলো।রোকেয়া বেগমও এসে ছেলে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। উদয় ইরার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিয়ে কুটিল হাসলো। তাদের সকলের এই আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলো চৌধুরী বাড়ির প্রতিটি দেয়াল, কোনা।
--
আজকে মঙ্গলবার, আগামী শুক্রবারেই উদয় - ইরা আর সিয়াম - রুপার বিয়ে, কাল ছোট করে মেহেন্দী অনুষ্ঠান আর তার পরেরদিন হলুদ।আজকে সবাই মিলে বিয়ের শপিং করতে যাবে। সিয়াম, রুপা, ইরা যাবে নিজেদের বিয়ের লেহেঙ্গা আর শেরওয়ানী কিনার জন্য এসেছে। উদয় অফিস থেকে সরাসরি মলে চলে যাবে। আর বিয়ের বাকি সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগেই রোকেয়া বেগম কিনে নিয়ে গেছেন।
তারা মলে এসে একটা লেহেঙ্গার দোকানে ঢুকলো। তারা দোকানে ঢোকার প্রায় আধা ঘন্টা পরে উদয় আসলো। উদয়কে দেখে ইরা একটু দূরে দূরে থাকছে। উদয় সেটা বুঝতে পেরে ইরা কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,
উদয়:"যতো দূরেই যাও না পাখি,
আমি তোমাকে নজরেই রাখি"
লজ্জায় ইরার থুতনি গলায় গিয়ে ঠেকলো। উদয় আবার বললো,
উদয়:"আর কতো দূরে দূরে থাকবি জানপাখি। আর তো মাত্র দুটো দিন মাঝখানে, পরে তো আর পালাতে পারবি না আমার কাছ থেকে। আগামী শুক্রবার রাতটা হবে আমার ।"
ইরার লজ্জা এবার আর দেখে কে? সে মনে মনে ভাবলো,
"এই লোকটার কি জীবনেও লজ্জা হবে না। পাবলিক প্লেসে কি সব অসংযত কথা বলছে।"
উদয় ইরাকেও আর না ঘাটিয়ে ড্রেস পছন্দ করায় মনোযোগ দিলো।
তারা বেছে বেছে তিন কালারের ছয়টা লেহেঙ্গা নিলো। মেহেন্দির লেহেঙ্গার কালার সবুজ আর হলুদের টা হলুদ এবং বিয়ের লেহেঙ্গা অফ হোয়াইট এর মধ্যে নিলো। ইরা আর রুপা দুজনই একই রকম এর লেহেঙ্গা পরবে। তাই দুজনের লেহেঙ্গার ডিজাইন ও কালার সেম।
উদয় আর সিয়ামও সেম ডিজাইন ও কালার এর সুট আর শেরওয়ানী এবং পাঞ্জাবী নিলো।
তারা প্রায় তিন ঘন্টা যাবৎ শপিং করে ফাইনালি সব কিছু গাড়িতে করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলো। তারপর উদয় সিয়ামকে বলল,
উদয়:"তুই রুপাকে নিয়ে আমার গাড়িতে করে যা আর আমি ইরাকে নিয়ে আসছি ।"
ইরা তাড়াতাড়ি জবাব দিলো,
ইরা:"আমিও আপুদের সাথে যাবো। আপনার সাথে আমি যাবো না। আপনি শুধু আমার সাথে কেমন করেন।"
ইরার কথা শুনে উদয় কপাল কুঁচকে তাকালো। তারপর ইরার কানেকানে বলল,
উদয়:"তুই কি এখন ওদের পার্সোনাল টাইমে কাবাবের হাড্ডি হতে চাস? যদি না চাস আমার সাথে চল। আর আমি কিছু করবো না, অন্তত আগামী শুক্রবার এর আগে তো না। তাই নো টেনশন "
ইরা আর কিছু বলল না। সিয়াম ড্রাইভিং সিটে বসে রুপাকে নিয়ে রওনা দিলো একটা সুখময় মুহূর্ত কাটাতে। এইদিকে উদয় এতক্ষণে তার বাইকে আনিয়ে নিয়েছে গার্ড দিয়ে। সে বাইকে বসে ইরাকে বসতে বলল। ইরা কিছুক্ষণ স্থির দাড়িয়ে থেকে তারপর উঠলো। কিন্তু কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে। ইরার এরূপ আচরণে উদয় বিরক্তিতে মুখ দিয়ে চ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করলো। বাইকে টান দিয়ে আবার ব্রেক কষলো। এতে ইরা তাল সামলাতে না পেরে উদয়ের পিঠের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো, ভয়ে উদয়কে জাপটে ধরলো। উদয় রাশভারী কন্ঠে শুধাল,
উদয়:"আর একবার যদি আমাকে ছারিস তাহলে কিন্তু বাইক এমন জোরে চালাবো যে তুই উড়ে যাবি। আর বেশি মোচড়ামুচড়ি করলে বাইক থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে চলে যাবো। ইরা আর কথা না বাড়িয়ে ঐভাবেই উদয়কে জাপটে ধরলো। ইরার অবশ্য এভাবে থাকতে ভালোই লাগছিলো। তাই সে আর একটু কাছাকাছি এসে চেপে বসে উদয়ের পিঠে মাথা রাখে। উদয় ইরার কান্ডে মুচকি হাসে।
--
নিশি চৌধুরী বাড়িতে এসেছে প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গেছে। রোকেয়া বেগম নাস্তা দিয়েছিলো, সেটায় এতক্ষণ টিভি দেখতে দেখতে খেলো। এখন সবকিছু বোরিং লাগছে। তাই ছাদের দিকে হাটা ধরলো। ইরা তাঁকে আসতে বলেছে একেবারে বিয়ে পর্যন্ত থাকার জন্য। প্রথমে রাজি হয়নি কিন্তু পরে সবার জোরাজোরিতে এসেছে। এখন ইরা, রুপা কেউই বাড়িতে নেই, শপিং করতে গেছে। তাই ছাদে যাচ্ছিল একটু সময় কাটাতে। সে ফোন স্ক্রল করছিলো আর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিল। ওইসময় কারো সাথে ধাক্কা লাগায় সাথে সাথে তার হাত থেকে ফোন নিচে পরে যায় আর সে পড়ে যেতে যেতে দেয়ালে ধরে দাঁড়িয়ে যায়। নিশি চোখ মুখ খিচে সামনের দিকে তাকায়। এই বাড়িতে আসলেই তাকে শুধু কেউ না কেউ ফেলে দেই। তাই সে আসতেই চাইছিল না। এখন আবার আসার সাথে সাথে আবারও কেউ তাকে ধাক্কা দিলো। নিশি রাগে যেই সামনের ব্যক্তিটিকে মন খুলে গালি দিতে যাবে ওমনি সামনে তাকিয়ে তার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। মুখের টানে তার অজান্তেই একটা গালি বেরিয়ে আসে,
"বালের বাড়ি"। ওমনি হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে।
--
চলবে..?