ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

২৩তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব :২৩

ঘুটঘুটে অন্ধকার পরিবেশ। চারপাশ কেমন থমথমে। আশেপাশে কারো কোনো সাড়াশব্দ নেই। এই ছমছমে পরিবেশে একা থাকলে যে কারো গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। চেয়ারের সাথে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ইরা অর্ধজ্ঞান অবস্থায় ঝিমুচ্ছে।

কারো পায়ের শব্দে ইরা সোজা হয়ে বসার চেষ্টা করে, কিন্তু যতো বার ঘাড় সোজা করছে ততোবার পড়ে যাচ্ছে। লোকটা ইরার সামনে এসে দাঁড়ায়। গম্ভীর কণ্ঠে লোকটা বললো,

"কি মামনি? বিয়ে তো হয়েই যাচ্ছে, তাহলে মজা করা বাদে গোয়েন্দার মতো আমার পেছনে লেগে আছো কেনো?"

ইরা কাপাকাপা কন্ঠে বলল,

ইরা:"কে... কে আপনি? আমাকে এভাবে ধরে নিয়ে এসেছেন কেনো?"

লোকটির মুখে মুখোশ পরা। মুখোশের আড়ালে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে লোকটা বললো,

"আমাকে চিনতে পারছো না? আমি তো সেই যে কিনা তোমার বাবা আর মাকে শান্তির দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। দেখছ আমার মন কতো বড়ো।"

ইরা অবাক চোখে তাঁকিয়ে আছে। এতোদিন যাকে সে পাগলের মতো খুঁজেছে আজকে সে তার সামনে দাঁড়ানো । যাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সে চুপচাপ বিয়েতে রাজি হয়েছে সে তাঁর সাথে কথা বলছে কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। ইরা কিছু বলবে কিন্তু ড্রাগসের ওভার ডোজে কথা বলতে পারছে না তার উপর আবার মাথায় অতিরিক্ত চাপ। লোকটা ইরার অবস্থা দেখে লোকটা হেই হেই করে হেসে উঠলো। লোকটা কিছু বলতে নিবে ওমনি দেখলো ইরা চোখ মুখ উল্টে ঢলে পড়ছে। লোকটা ইরার অবস্থা দেখে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে যেইভাবে এসেছিল ঐভাবেই আবার চলে গেলো। পেছনে রেখে গেলো এক মেয়ের হাজরো প্রশ্ন, রাগ, ঘৃণা।

--

সিসি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে,

ইরা আপন মনে খাচ্ছে ওইসময় পেছন থেকে দুটো ছেলে এসে একজন রোমাল দিয়ে ইরার মুখ চেপে ধরেছে আর একজন ইরার গলায় কিসের যেনো একটা ইনজেকশন পুশ করছে। ইরা হাত পা ছুড়তে থাকে ওই সময়ই বিরিয়ানির প্লেট উল্টে যায় আর ইরার বেগ নিচে পড়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড পর ইরা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তারপর লোক দুটো ইরাকে টানতে টানতে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যায়।

সিসি ক্যামেরার দৃশ্য দেখে উদয়ের চোখ মুহূর্তের মধ্যে লাল হয়ে যায়। বুকে মোচড় দিয়ে উঠে। তবে সে নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করে। উদয় ম্যানেজার এর দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল,

উদয়:"ওই শুয়োরের বাচ্চারা আমার প্রাইভেট ফ্লোরে ঢুকলো কেমন করে। আপনারা কি বসে বসে আঙুল চুষছিলেন? আপনাদের সামনে দিয়ে আমার বউ কে তিন তলা থেকে নিয়ে উধাও হলো কীভাবে? আনসার মি।"

শেষের কথাটা উদয় চিৎকার দিয়ে বললো। উদয়ের চিৎকারে মনে হলো পুরো রেস্টুরেন্ট কেঁপে উঠলো। ম্যানেজার আর স্টাফ গুলো উদয়ের কথায় ভয়ে কাঁপতে থাকে। তারা উদয়কে চেনে। এই ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট এর ফিফটি পার্সেন্ট শেয়ার উদয়ের। এই থার্ড ফ্লোরটা উদয়ের প্রাইভেট জায়গা। এখানে শুধু সে আসতে পারে, অন্যকাউকে এলাও করা হয় না। দরজার সামনে অল বুকড লেখা থাকে সবসময়। তাই সচারচর কেউ ঢুকে না। তাই কেউ এতো খেয়াল রাখেনি। কিন্তু আজকে যে এতো বড়ো কাহিনী হয়ে যাবে কে জানতো। ম্যানেজার কাঁপতে কাঁপতে কোনো রকমে বললো,

ম্যানেজার;"স্যা... স্যার আমরা তো নিচে ছিলাম। আপনি যেহেতু আছেন তাই এতো খে..খেয়াল করিনি।"

উদয় ধমকে বললেন,

উদয়:"থাকে কোথায় আপনাদের খেয়াল? আপনাদের কি টাকা দেওয়া হয় শুধু শুধু বসে থাকার জন্যে? শেষে বারের মতো বলছি, আমার বউ এর যদি কিছু হয় তাহলে আপনাদের সব কয়টা কে আমি নিজ হাতে খুন করব। মাইন্ড ইট "

উদয় ধব ধব পা ফেলে চলে যায়। এখন সময় নষ্ট করলে চলবে না। আগে তার বউ কে সুস্থ ভাবে ফেরত আনুক পরে এদের ব্যবস্থা করা যাবে।

উদয় নামতে নামতে রিফাতের নাম্বারে কল দিলো। ওপাশে কল রিসিভ হতেই উদয় কাঠ কাঠ কন্ঠে সব ঘটনা খুলে বললো। তারপর কিছু একটা ভেবে বললো,

উদয়:"আমার রেস্টুরেন্টের বাইরের সিসি ক্যামেরা আর আশেপাশে যতো ক্যামেরা আছে সব গুলো চেক কর আর দেখ ওই কুত্তার বাচ্চারা কোন গাড়ি দিয়ে গেছে। সেই গাড়ির ডিটেইলস বের করে আমাকে পাঠা। হারিয়াপ।"

উদয় কল কেটে ফুল স্পিডে বাইক চালিয়ে পুলিশ স্টেশন এর দিকে চলে গেলো। উদয়ের একটা খুব ভালো গুণ আছে, সে যতো রকমের খারাপ পরিস্থিতিতেই নিজেকে শান্ত রাখতে পারে। কিন্তু এখন বিষয় তার বউ কে নিয়ে, তাই নিজেকে কন্ট্রোল করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবুও সে যথাসম্ভব চেষ্টা করছে। কারণ এখন মাথা গরম করে কাজ করলে চলবে না। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ইরাকে খুঁজে বের করতে হবে।

--

দুপুর এক টা বিশ মিনিট,

রুপা আর সিয়াম পার্কে বসে ছিলো, হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো,স্ক্রিনে উদয়ের নাম্বার। ফোন রিসিভ করতেই উদয় বললো,

উদয়:"বাস্টার্ড, তোকে বিশ্বাস করে আমার বোনকে তোর হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু তুই এত বড়ো বিশ্বাসঘতকতা করলি। কোথায় তুই শুয়োরের বাচ্চা। আমার বোন কে নিয়ে এক্ষুণি তুই বাড়িতে আয়, নয়তো তোর জান আজকে আমি বের করে নিবো। তুই যে আমার ভাই সেই কথা ভুলে যাবো।"

সিয়ামকে কথা বলতে না দিয়েই উদয় কল কেটে দিলো। উদয় যা বলল সব তার মাথার উপর দিয়ে গেলো। কিন্তু একটা কথা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে তাকে এক্ষুনি বাড়িতে যেতে হবে নয়তো একটা অনর্থ হয়ে যাবে।

তাই দেরি না করে রুপার হাত ধরে উঠে গাড়ি নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলো।

--

বাড়ির সবাই উদয়ের দিকে প্রশ্নোত্তক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ড্রয়িংরুমের প্রায় বেশি অর্ধেক জিনিস ভেঙে মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। রাগে উদয়ের শরীর কাপছে। চোখ রক্তের মতো লাল বর্ণ ধারণ করেছে। যে কেউ দেখে ভয় পেয়ে যাবে। উদয়ের এই রুপ কেউ আগে কখনো দেখেনি। শিয়ামের সাথে এভাবে কথা বলার কারণও কেউ খুজে পাচ্ছে না। সাহস করে কেউ কিছু জিজ্ঞেসও করছে না। সবাই অপেক্ষা করে আছে সিয়ামের। উদয় হাত দিয়ে সজোরে বাড়ি দিয়ে ডাইনিং টেবিল ভেঙে ফেললো। তার হাত দিয়ে রক্ত পড়ছে। রোকেয়া বেগম এগিয়ে যেতে নিলে উদয় গর্জে উঠে বললো,

উদয়:"ওই কুলাঙ্গারের বাচ্চাকে আমি নিজ হাতে খুন করবো।ওই বাস্টার্ড আমার কলিজায় হাত দিয়েছে।"

চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন