ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

২৫তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব :২৫

"বিয়ে করো, স্বামী সংসার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকো। আমাকে ঘাটাতে গেলে হেতে বিপরীত হবে। আশা করি আজকের পর থেকে আমাদের আর দেখা করতে হবে না।"

লোকটা ঘন জঙ্গলের ভেতর ভাবলেশহীন ভাবে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল। পেছন থেকে ইরা লোকটাকে ডেকেই যাচ্ছে। কিন্তু লোকটা নিজের মতো করে হাটতে হাটতে ইরার চোখের আড়াল হয়ে গেল।

উদয় এর গাড়ি এসে জঙ্গলের মুখে থামলো। গাড়ি নিয়ে সামনে যাওয়ার রাস্তা নেই।বাকিটুকু হেঁটে যেতে হবে।

উদয় পৌঁছাতে পৌঁছাতে লোকটা চলে গেছে। উদয়কে দেখে ইরার এতক্ষণ এতো কষ্ট করে আটকিয়ে রাখা কান্নারা বাঁধ ভাঙলো। দৌঁড়ে গিয়ে উদয়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। উদয় ইরাকে সযত্নে নিজের বাহুডোরে জড়িয়ে নিলো।

--

রাত ১০:৪০, চৌধুরী বাড়ি

উদয় বাদে সবাই রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে এখন যে যার রুমে রেস্ট নিচ্ছে। লতিফা বেগম ১১ টার সময় সবাইকে ড্রয়িংরুমে থাকতে বলেছেন।

উদয় কিছুক্ষণ আগে বাসায় এসেছে। ইরাকে সন্ধ্যার সময় বাড়িতে নিয়ে এসে, কিছুক্ষণ থেকে আবার বেরিয়ে গিয়েছিল।

উদয় রুমে এসে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে। এখন নিচে খেতে যাবে। উদয় রেডি হয়ে নিচে নামলো। এমন ভাবে রেডি হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে বাইরে কোথাও যাবে। ইরা নিচে এসেছিল জগে পানি নিতে। রুপা সিয়ামের রুমে আছে। সিয়ামের জ্বর চলে এসেছে।

উদয় নিচে এসে কিচেনে ঢুকতেই ইরার পিঠের সাথে হালকা ধাক্কা খেলো। ইরা ভয়ে চিৎকার করতে নিবে ওমনি উদয় মূখ চেপে ধরে কানে কানে ফিস ফিস করে বলে,

উদয়:"আমি বেটারহাফ, ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। খুব খিদে পেয়েছে, খাবার গরম করে নিয়ে রুমে আয়।"

ইরা:"আ.. আমি ?"

উদয়:"নাহ্, তোকে কেনো বলবো, তুই কি আমার বউ লাগিস? যাই আমার গার্লফ্রেন্ডকে ডেকে নিয়ে আসি, খাবার গরম করে দেওয়ার জন্য "

ইরা মৃদু চিৎকার এর স্বরে বলল,

ইরা:"কিহ? দিচ্ছি আমি, আপনি রুমে যান আমি নিয়ে আসছি।"

উদয়:"গুড গার্ল"

উদয় চলে গেলো। ইরা খাবার গরম করে ধীরে সস্থে নিয়ে গেলো। পাসওয়ার্ড প্রেস করে রুমে ঢুকলো। উদয় খাবার নিয়ে কাউচে বসে খাচ্ছে। ইরা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই উদয় শুধাল,

উদয়:"বস, কথা আছে।"

ইরা নিরুত্তরে বিছানার এক কোণে গিয়ে বসলো। ইরার এমন চুপচাপ বসে পরারও যথেষ্ট কারণ আছে। সে বাড়িতে এসে রুপার কাছে সব শুনেছে। সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে, খুনি সিয়ামকে ফাঁসানোর জন্যই এমন করেছে। খুনিকি তাহলে সিয়ামের কোনো শত্রু। সিয়ামের শত্রু তার বাবা মা কে কেনো মারতে যাবে, সবকিছু ইরার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। ইরা এসবকিছু মাথা থেকে বের করে চিন্তা করছে কি করে উদয়কে সিয়ামের কাছে ক্ষমা চাওয়ানো যায়।

--

রুপা:"বেশি ব্যাথা করছে?"

সিয়াম:"তোমার ভাই এর হাতের মার তো কখনো খাওনি তাই জিজ্ঞেস করছ। নয়তো এই কথা জিজ্ঞেস করতে না.. উফফ"

সিয়াম মৃদু চিৎকার করে উঠে। ব্যথায় ককিয়ে ককিয়ে কথা গুলো বলল। রুপা সিয়ামের নাকে, কপালে, গালে বেন্ডেইজ লাগাচ্ছিল।

রুপা বললো,

রুপা:"ভাইয়া ইরাকে খুব ভালোবাসে, তাই চিন্তায় তোমার গায়ে ওভাবে হাত তুলেছে। তুমি কিছু মনে করো না প্লীজ। তুমি তো জানো ভাইয়া তোমাকে কতোটা স্নেহ করে তুমি তো জানো।"

সিয়াম:"হুমম, কিন্তু আমি সেসব নিয়ে ভাবছি না এখন।"

রুপা:"তাহলে কি নিয়ে ভাবছো?"

সিয়াম:"আমি ভাবছি আমাকে এভাবে কে ফাঁসানোর চেষ্টা করলো।"

রুপা:"আমিও এটায় ভাবছি "

সিয়াম:"আমি জানি কে করেছে "

রুপা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,

রুপা:"তাহলে তখন বললে না কেনো? আর কে করেছে?"

সিয়াম:"বলবো না, বললে তুমি আমাকে তোমার গুণ্ডা ভাই এর মতো আবার মারবে।"

রুপা:"মারবো না। বলো "

সিয়াম:"সত্যি তো?"

রুপা:"হুম সত্যি "

সিয়াম:"আমার মনে হয় আমার হিটলার শ্বশুর তোমাকে আমার কাছে বিয়ে না দেওয়ার জন্য আমাকে এভাবে মার খাওয়ালো। যেনো আমি এই বয়সেই পঙ্গু হয়ে যায়"

রুপা রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

রুপা:"তুই জীবনে ভালো হবি না "

সিয়াম বোকা বোকা হেঁসে বলল,

সিয়াম:"রাগ করেনা ময়নাপাখি।আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম।"

রুপা:"তোর মজা আমি বের করছি দাড়া "

বলেই রুপা সিয়ামের আঘাতে জোরে চাপ দিয়ে ধরে। সিয়াম ব্যথায় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে,

সিয়াম:"বাবা গো, ও মা গো, মেরে ফেললো গো আমায়। কে আছো বাঁচাও"

(গ্রুপের সকল আপডেট পেতে গ্রুপে জয়েন হয়ে যান

https://www.facebook.com/share/g/1BsFFPbMm3/)

উদয় খাওয়া শেষ করে ইরার পাশে গিয়ে বসলো। ইরাকে তার দিকে ফিরিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,

উদয়:"চিনতে পেরেছিলি"

ইরা:"নাহ্, তবে কিছুটা আন্দাজ করার চেষ্টা করেছিলাম"

উদয়:"কাকে আন্দাজ করেছিলি তুই"

ইরা:"থাক ওইসব এখন বাদ দেন। আগে সিউর হয় তারপর আপনাকে বলবো"

উদয় কাট কাট গলায় বলল,

উদয়:"আমি এক প্রশ্ন দ্বিতীয় বার করি না ইরা "

ইরা:"আমি বললেই কি আপনি বিশ্বাস করবেন? তার চেয়ে ভালো নয় কি,আমি প্রমাণ সহ বলি"

উদয়:"আমি তোকে এতটাই বিশ্বাস করি বেটারহাফ, তুই যদি আগুনকেও পানি বলিস, আমি তাতেই হাত ডুবিয়ে দিবো। তুই যদি বিষকেও মধু বলিস, আমি বিনা প্রশ্নে সেটা খেয়ে নেবো, যদি এসবের কারণ জিজ্ঞেস করিস তাহলে বলবো, ভালোবাসি, ভালোবাসি নিজের থেকেও বেশী। তুই হচ্ছিস আমার অক্সিজেন।"

ইরার চোখ ছল ছল করে উঠে। সে কি সত্যিই এতো ভালোবাসার যোগ্য? ইরা উদয়কে জড়িয়ে ধরে। উদয়ও ইরাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। ইরা কাঁদতে কাদতে ফিস ফিস করে বলে,

ইরা:"এখানে প্রশ্ন আগুন বা পানি কে নিয়ে নয়, এখানে প্রশ্ন বিষ বা মধু কে নিয়ে নয় এখানে প্রশ্ন হচ্ছে আপনার পিতা, জন্মদাতাকে নিয়ে। এবার বিশ্বাস করবেন আমায়?"

উদয় এর হাত কিছুটা ঢিলে হয়ে যায়। কথা গলায় আটকে গেছে।

--

চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন