গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#পর্ব :২৬
উদয়: "তুই সিউর?"
ইরা উদয় এর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,
ইরা:"সিউর না তবে আন্দাজ করেছি কিছুটা। সিউর না দেখেই আপনাকে বলতে চায়নি।"
উদয়:"কীভাবে আন্দাজ করলি?"
ইরা:"আমাকে যিনি কিডন্যাপ করেছিল তিনি আমাকে মামনি বলে সম্বোধন করছিল এবং গলাটাও আমার খুব পরিচিত লাগছিল। আমাকে মামনি শুধু ফুপাই ডাকে।আমি অনেকদিন ধরেই ফুপাকে স্টক করছিলাম। ওনার অনুপস্থিতে ওনার স্ট্যাডি রুমে ঢুকে সব কিছু চেক করেছি। সেখান থেকে কিছু প্রমাণ পেয়েছি "
উদয়:"তুই হঠাৎ আব্বুকে স্টক করতে গেলি কেনো? উনি কি সন্দেহ জনক কিছু করেছিল?"
ইরা:"নাহ্ "
উদয়:"তবে?"
ইরা:"লুৎফা আন্টি বলেছিল ফুপার কথা।"
উদয়:"উনার কথায় তুই সিউর হয়ে গেলি? উনি তো মিথ্যাও বলতে পারেন "
ইরা:"এখন এসব বাদ দেন। আপনাকে একটা কথা বলি?"
উদয়:"বল"
ইরা:"সিয়াম ভাইয়ার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। উনার তো কোনো ভুল ছিলো না, শুধু শুধু এতো মার খেলো বেচারা।"
উদয় ভালেশহীন ভাবে বলল,
উদয়:"সমস্যা নেই, ও এসবে অভ্যস্ত।"
ইরা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
ইরা:"মানে"
উদয়:"মানে ও আমার হাতের মার অনেক খেয়েছে। এসবে ওর কোনো সমস্যা নেই ।"
ইরা:"আপনি কি ওনাকে বিদেশে খাবার না খেতে দিয়ে শুধু মার খাওয়াতেন নাকি।"
উদয়:"ধরতে পারিস তাই "
ইরা ভেংচি কেটে বললো,
ইরা:"কচু "
কিছুক্ষণ নিরব থেকে ইরা বলল,
ইরা:"কয়টা বাজে?"
উদয় ফোন হাতে নিয়ে বলে,
উদয়:"১০ টা ৫৭"
ইরা:"দাদী তো ১১ টার সময় সবাইকে নীচে থাকতে বলেছেন। আপনি যাবেন না নীচে?"
উদয়:"তুই যাহ, আমি আসছি"
ইরা চলে গেলো।
উদয় কাউকে কল দিয়ে বারান্দার দিকে গেলো কথা বলতে।
--
লতিফা বেগম গম্ভীর মুখে বসে আছেন। উনার পাশে সিয়াম আর লুৎফা বেগম। তার বিপরীত সোফায় বসে আছে উদয় আর রোকেয়া বেগম। ইরা, রুপা এবং নিশি এক পাশে দাঁড়িয়ে। শাহেদ চৌধুরী এবং হাসান এখনও অফিসে।
লতিফা বেগম গম্ভীর গলায় বলল,
লতিফা:"উদয়, তুমি সিয়ামকে সরি বলো। অকারণে না জেনে ওর গায়ে এভাবে নির্মম ভাবে হাত তুলেছ। এতো উত্তেজিত হওয়ার আগে সবকিছু ঠিক করে জেনে নেয়ার দরকার ছিলো।"
উদয় থমথমে কণ্ঠে বলল,
উদয়:"আমার ওর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোনো কারণই দেখছি না আমি। আমি যেহেতু কোনো কারণ ছাড়াই আমার বোনকে ওর হাতে নির্দ্ধিধায় তুলে দিচ্ছি সেখানে ওর এই সামান্য মার হজম করা কোনো ব্যাপারই না।"
সিয়ামের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচায় উদয়। তারপর আবার বলে,
উদয়:"আর তোমরা সবাই জানো, ক্ষমা বলে কোনো শব্দ আমার ডিকশনারীতে নেই।"
রোকেয়া বেগম শাসনের ভঙ্গিতে বললেন,
রোকেয়া:"এসব কি ধরনের কথা? এতগুলো গুরুজনের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলছো কেনো তুমি? এতো অভদ্র কবে থেকে হলে তুমি?"
উদয় ভাবলেশহীন ভাবে জবাব দেয়,
উদয়:"আমি আগে থেকেই অভদ্র ছিলাম আম্মু। তোমরা হয়তো এতদিনে জানলে।"
তাদের কথার মধ্যে সিয়াম বলে উঠলো,
সিয়াম:"আচ্ছা এখানে তো আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কথা হচ্ছে, তাই তো? আমি কি বলেছি যে উদয়ের আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে? আর আমি কিছু মনে করিনি, তাই কারো কোনরকম guilty feel করার কারণ নেই। উদয়ের জায়গায় যদি তখন আমি থাকতাম তাহলে হয়তো আমিও এইরকমই করতাম।তাই এই সামান্য বেপার নিয়ে এতো ভাবার কিছু নেই।এখন কথা হচ্ছে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা কে করলো আর ইরাকে কে কিডন্যাপ করেছিল এবং কেনো?"
উদয়:"সে সব নিয়ে তোদের কাউকে ভাবতে হবে না। ওই বিষয়টা আমি দেখছি। তোরা সবাই বিয়েতে মনোযোগ দে "
উদয় উঠে চলে গেলো। যেতে যেতে বলে গেলো,
উদয়:"এইটা কিন্তু আমার ৩ নাম্বার বিয়ে এবং আমার একমাত্র বোনের বিয়ে, তাই এই বিয়েতে যেনো কোনরকম কমতি না থাকে।"
এক এক করে সবাই চলে গেছে। সিয়ামকে রুপা রুমে নিয়ে গেছে। নিশির বাড়ি থেকে কল এসেছে ইরার ফোনে, তাই সে কথা বলতে গেছে। ইরাও রুমের দিকে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই পেছন থেকে লুৎফা বেগম ডেকে বললো,
লুৎফা:"তোমার সাথে আমার একটু কথা আছে ইরা। আমার রুমে এসো একটু।"
ইরা না শোনার মতো চলে যেতে চাইলে পুনরায় পেছন থেকে আবার লুৎফা বেগমের কণ্ঠ ভেসে এলো,
লুৎফা:"কথা টা তোমার বাবা মায়ের খুনীর বিষয়ে।"
ইরার পা থমকে গেলো। ইরা পেছনে তাকাতেই লুৎফা বেগম নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন।
ইরাও পেছন পেছন যেতে চাইলে। নিশি এসে বললো,
নিশি:"ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস"
ইরা:"তুই রুমে যা আমি আসছি"
নিশি আর কথা বাড়ালো না। নিজের মতো রুমে চলে গেলো।
নিশি চলে যাওয়ার পর ইরাও লুৎফা বেগমের রুমের দিকে চলে গেলো।
(গল্প সম্পর্কিত সকল আপডেট পেতে গ্রুপে জয়েন করুন,
https://www.facebook.com/share/g/1AJvD8czY3/)
--
নিশি রুমে এসে দেখে রুপা এখনও সিয়ামের রুম থেকে আসেনি। সে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে গেলো।
প্রায় ১০ মিনিট পরে বের হলো। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একটু খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা চালাচ্ছে। ওইসময় দরজায় কারো শব্দ শোনা গেলো।
রুপা বা ইরা তাদের মধ্যে কেউ এসেছে বলে নিশি গিয়ে দরজা খুলে দেয়।
দরজার সামনে দাঁড়ানো ব্যাক্তিকে দেখে নিশির চোখ কপালে। নিশির বুকে ওড়না নেই। তা দেখে দরজার সামনে গম্ভীর মুখে দাঁড়ানো হাসান নিশির উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।
নিশি বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি ভিতরে ঢুকে বিছানা থেকে উড়না উঠিয়ে গায়ে জড়ালো।
হাসানও নিশিকে সময় দিয়ে কিছুক্ষন পরে রুমে ঢুকলো। নিশি মনে মনে আল্লাহ্কে ডাকছে। সকালে রাগের মাথায় অনেক কিছু করে ফেলেছে সে। এখন যদি এই লোক ফাঁকা রুমে ওইসবের শোধ নেওয়ার জন্য এসে থাকে তাহলে তার কি হবে।
নিশি কাপাকাপা কণ্ঠে বলল,
নিশি:"আ.. আপনি এখানে কেনো?"
হাসান সোজাসোজি উত্তর করলো,
হাসান:"আমার বোনের রুমে আসার জন্য কি তোমার মতো বেয়াদবের অনুমতি নিতে হবে?"
নিশি:"আমি কি সেটা বলেছি নাকি। আর আপনি কথায় কথায় আমাকে বেয়াদব বলেন কেনো?"
হাসান:"বেয়াদব কে বেয়াদব বলব না তো কি গুড গার্ল বলবো?"
নিশি:"আমি বেয়াদব হলে আপনি একটা হনুমান "
হাসান:"তোমার এসব বিরক্তিকর কথা বাদ দিয়ে এটা ধর"
হাসান তার হাতে থাকা একটা প্যাকেট নিশির দিকে এগিয়ে দেয়। নিশি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,
নিশি:"এটা কী? আর এটা আমাকে দিচ্ছেন কেনো? এটা কি আমার?"
হাসান:"তোমাকে যখন দিচ্ছি তাহলে নিশ্চয় তোমার। অন্যের জিনিস তো আর তোমাকে দিতে যাবো না। মুখে মুখে তর্ক না করে নিতে বলেছি নাও।"
হাসানের কথায় নিশি আর কথা বাড়ালো না। সে হাত বাড়িয়ে প্যাকেটটা নিজের হাতে নিলো। হাসান সাথে সাথে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। নিশি যে পেছন থেকে কিছু বলবে তার সময়টুকুও দিলো না।
নিশি প্যাকেট নিয়ে বিছানার উপর বসলো। খুব সযত্নে বক্সটা আনবক্সিং করলো।
বক্সের ভিতর থেকে একটা আইফোন সেভেনটিন বেরিয়ে এলো। এতো দামী মোবাইল দেখে নিশি অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সে উল্টে পাল্টে মোবাইলটা দেখছে। ওইসময় রুপা রুমে আসলো। নিশির হাতে মোবাইল দেখে সে একটু অবাক হলো। জিজ্ঞেস করল,
রুপা:"তোকে এই আইফোন কে দিলো নিশি?"
নিশি:"তোমার ভাসুর "
রুপা অবাক নয়নে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়লো,
রুপা:"আমার ভাসুর মানে , হাসান ভাইয়া?"
নিশি:"হুম"
চলবে..?