গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#পর্ব :২৭
লুৎফা:"ভাইজানের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পেলে?"
ইরা:"পেলেই আপনাকে কেনো জানাবো? আর আমি তো বিশ্বাসই করি না যে ফুপা এতো জঘন্য কাজ করতে পারে। নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো বন্ধ করুন।"
লুৎফা:"আমি আমার দোষ কারো ঘাড়ে চাপাচ্ছি না। যা সত্যি তাই বলছি। আমার সকল দোষ আমি। মাথা পেতে নিয়েছি। আমার কাছে কিন্তু প্রমাণ আছে ভাইজানের বিরুদ্ধে।"
ইরা চমকে উঠলো। তার মানে তার ভাবনা ঠিক। লুৎফা বেগম যা বলেছে সব সত্যি। ইরা যথাসম্ভব নিজেকে শান্ত রেখে বলল,
ইরা:"কি প্রমাণ আছে আপনার কাছে।আমি যতক্ষণ না পর্যন্ত সব কিছুর ঠিক ঠাক প্রমাণ পাচ্ছি ততক্ষণ আপনার কথা আমি বিশ্বাস করবো না, আপনাকেই দোষী মনে করবো।"
লুৎফা:"তোমাকে পপ্রমাণ দিলে আমার লাভ?"
ইরা:"আপনার ছেলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের ভালোবাসাকে পাবে।"
লুৎফা:"সেটা তুমি না বললেও পাবে। স্বয়ং ওয়াসিফ চৌধুরী উদয় রাজি হয়ে গেছে সেখানে তোমার বলা না বলায় কিচ্ছু যায় আসে না।"
উদয়ের পুরো নাম শুনতেই ইরার মুখ কেমন যেনো হয়ে গেলো। পরমুহুর্তেই ইরা একটু তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,
ইরা:"আমি কে সেটা কিন্তু আপনি ভুলে যাচ্ছেন মিসেস লুৎফা খান।"
লুৎফা:"মানে?"
ইরা:"মানে টা কি এখনও আমাকে ভেঙে বলে দিতে হবে?"
লুৎফা বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। ইরা আবার বললো,
ইরা:" আপনি হয়তো এত দিনে বুঝে গেছেন আমি হচ্ছি আপনার ভাতিজার আত্মা। যে ব্যক্তি আমাকে খুঁজে না পেয়েই আপনার ছেলেকে এভাবে নির্দয়ের মতো মারতে পারে, সে ব্যাক্তিকে যদি আমি নিজের মুখে কিছু বলি তাহলে কি হবে বুঝতে পারছেন আপনি?"
লুৎফা বেগম এবার বুঝি একটু ভয় পেলো।
লুৎফা:"কি.. কি হবে?"
ইরা:"সেটা আপনিই চিন্তা করুন। এখন আমাকে প্রমাণ দেখাবেন নাকি দেখাবেন না?"
লুৎফা বেগম কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন। ইরা মুখ দিয়ে চ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করে বিরক্তি স্বরে বলল,
ইরা:"কি হলো দেখাবেন নাকি আমি আমার জামাই এর কাছে চলে যাবো।"
লুৎফা:"তিন দিন পর বিয়ে এখন যদি তুমি এরকম করো তাহলে কি করে হবে বলো। আমার ছেলেটা মরেই যাবে। এমনিতেই ওর চোখে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মা , দয়া করে আর খারাপ বানিও না তুমি।"
ইরা:"তাহলে ভালোই ভালোই কাজটা করে ফেলেন ফুফু শাশুড়ি আম্মা।"
লুৎফা বেগম নিজের ফোন হাতে নিয়ে কিছু একটা খোঁজার চেষ্টা করছেন। কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি পেয়ে একটু মুচকি হাসলেন। মোবাইলে একটি ভিডিও প্লে করে ইরার মুখের সামনে ধরলেন।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে,
' শাহেদ চৌধুরী ড্রাইভারের ড্রেস পড়া একটি লোকের সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। শাহেদ চৌধুরীকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি খুব রেগে আছে। লোকটিকে ক্ষিপ্ত মেজাজে বলছেন,
শাহেদ:"যতো টাকা চাও সব আমি দেবো। তুমি শুধু আমার এই একটা কাজ করে দাও। আমি কথা দিচ্ছি,কেউ জানবে না তোমার কথা। "
লোকটি বলছেন,
ড্রাইভার:"আমি যার নুন খেয়েছি তার সাথে বেইমানী করতে পারবো না। চলে যান আপনি।"
শাহেদ:"তুমি যতো টাকা চাও ততো টাকায় পাবে। একদম ক্যাশ। তোমার পরিবার নিয়ে সারা জীবন বসে খেতে পারবে এত টাকা দিব তোমাকে।"
লোকটি কিছুক্ষণ ভেবে বলল," ঠিক আছে।"
লোকটি ইরার একটি গাড়ীর দিকে এগিয়ে গেলো। তারপর গাড়িতে কিছু একটা করে আবার ফিরে এলো। শাহেদ চৌধুরী বললেন,
শাহেদ:"কাজ হয়েছে?"
ড্রাইভার:"হুম , আচ্ছা একটা প্রশ্নের উত্তর দিবেন?"
শাহেদ:"কি প্রশ্ন বলো,"
ড্রাইভার:"আপনি স্যারদের মারতে চাইছেন কেনো?"
শাহেদ চৌধুরী খুব রাগ নিয়ে বলল,
শাহেদ:"ওই ইকবাল শিকদার আমার এতো দিনের সাঁজানো প্ল্যান একদিনে নষ্ট করে দিলো। আমি তো এটা হতে দিতে পারি না।তাই পথের কাটা পায়ে ফোটার আগেই সরিয়ে দেওয়া ভালো।"
ড্রাইভার:"কিসের প্ল্যান স্যার?"
শাহেদ:"তোমাকে এতো কিছু জানতে হবে না। তোমার পারিশ্রমিক তুমি আজ রাতেই পেয়ে যাবে। আপাদত এগুলি রাখো।"
টাকার একটি ব্যান্ডেল ধরিয়ে দিয়ে শাহেদ চৌধুরী চলে গেলো।
--
ভিডিও শেষ হতেই লুৎফা বেগম ছোঁ মেরে মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ইরার হাত থেকে। ইরা কাপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
ইরা:"এই ড্রাইভার টা কে?"
লুৎফা:"তোমার বাবার গাড়ীর ড্রাইভার ছিলো।"
ইরার খুব কান্না পাচ্ছে। এতো দিন যাকে বিশ্বাস করে তাদের সকল সম্পত্তির দায়িত্ব দিয়েছিল সে তার এতো বড় ক্ষতি করেছে বিশ্বাস হচ্ছে না।
ইরা:"ভিডিওটা আপনি কোথায় পেলেন?"
লুৎফা:"তোমার জন্মদিনের দিন যখন ভাইজান আমাদের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে পাঠানোর জন্য গাড়িতে তুলে আর উনি কাজ আছে বলে চলে যায় তখন ভাইজান চলে যাওয়ার পর আমিও তার পিছু নেয়। তারপর প্রমাণ স্বরূপ ভিডিও করি।"
ইরা:"আপনি এসব কেনো করছেন?"
লুৎফা কিছুটা চিন্তিত হয়ে যায়। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করে,
লুৎফা:"আমি আমার বাবার অ...."
বাকি কথা বলার আগেই পেছন থেকে পুরুষালি চিৎকার ভেসে এলো।
"আম্মু..."
#চলবে..