গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা : #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#পর্ব :২৮
হাসানের ডাকে পুর ঘর যেনো কেঁপে উঠলো। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
হাসান:"কি বলতে চাচ্ছিলে তুমি?"
লুৎফা বেগম চুপ হয়ে গেছেন তিনি বুঝতে পারছেন কথায় কথায় কতো বড়ো কথা তিনি বলে দিতে গেছিলেন।
তাঁদের মা ছেলের কাণ্ডে ইরা কিছুটা হতবাক। লুৎফা বেগম কি এমন বলতে চাইলেন যে হাসান এতো রাগ করছে। আর লুৎফা বেগম নিজের ভাই এর বিরুদ্ধেই বা তাকে কেনো এতো সাহায্য করছে? ইরার মাথায় সব প্যাঁচ লেগে গেলো।
সে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,
ইরা:"কি বলতে চাইছিলেন আন্টি?"
লুৎফা বেগম বিচলিত কণ্ঠে বলল,
লুৎফা:"কিছু না, তুমি এখন যাও এখান থেকে। এসব নিয়ে পরে কথা বলবো তোমার সাথে।"
ইরা আর কথা বাড়ালো না।সে বুঝে গেছে এখন হাজার চেষ্টা করেও এই মহিলার মুখ থেকে আর একটি কথাও বের করতে পারবে না। তাই বাধ্য মেয়ের ন্যায় চলে গেলো। তার বিবেক তাকে বলছে, এখন মা ছেলের কথার মাঝে না থাকায় ভালো।
--
রুপা:"এতো দামী ফোন তো আমার বাপেও আমাকে কখনো গিফট করেনি। আমি তো সেই আদি কালের আইফোন ফিফটিন চালাই। আর তোর আইফোন 11 ভেঙে সোজা 17 গিফট করলো ভাবা যায়। আমার ভাসুরের মন এতো বড় হলো কবে থেকে। আগে আমি একশো টাকা চাইলে নাক মুখ কুচকে ফেলতো আর এখন..."
রুপা মাথায় হাত দিয়ে, মুখ হাঁ করে বিছানায় ধপাস করে বসে পড়লো। পুনরায় আবার বলতে শুরু করল,
রুপা:"এই সত্যি করে বলতো তোদের মধ্যে কি চলছে? তুই কি কোনো ভাবে আমার জ্বা হচ্ছিস নাকি?"
নিশি আজহারি করে বলল,
নিশি:"নাউজুবিল্লাহ,আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি ওই হনুমানকে কোন দুঃখে বিয়ে করতে যাবো। ওই বেটা আস্ত একটা হনুমান।"
রুপা:"তোর তো সাহস কম না, তুই আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার ভাসুরকে হনুমান বলছিস। এই নামটা একটু বেশি ভালো হয়ে গেছে, আর একটু খারাপ নাম দে।"
বলেই হে হে করে হেসে দিলো, নিশিও রুপার সাথে সমান তালে তাল মিলালো। তাদের হাসির মাঝেই ইরা গম্ভীর মুখে রুমে প্রবেশ করলো।
ইরার থমথমে মুখ দেখে তাদের হাসি গায়েব হয়ে গেলো। রুপা বিছানা ছেড়ে উঠে বিচলিত ভঙ্গিতে বলে,
রুপা:"কি হয়েছে? মুখটাকে ওইরকম বাংলার পাঁচ এর মতো করে রেখেছিস কেনো? ভাইয়া কিছু বলেছে?"
ইরা:"তোমার ভাই বলবে কি করে, সেই যে রুমে ঢুকেছে আমার খুজ কি নিয়েছে এই পর্যন্ত? আমি মরে গেছি নাকি বেঁচে আছি সেই খবর কি তিনি জানেন? উপরে উপরে শুধু ভালোবাসা দেখায়, আসল কথা হলো উনি আমাকে ভালোই বাসে না।"
ইরা মুখটাকে দুঃখী দুঃখী বানিয়ে ফেললো। ফের আবার বলতে শুরু করলো,
ইরা:"এখন তো আমার তাঁর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আমি যদি নিজে থেকে কথা বলতে যায় তাহলে বিষয়টা কেমন দেখায় না? উনার নাম্বার ও তো আমার কাছে নেই "
ইরা কথা শুনে রুপার খুব হাসি পেলো। কিন্তু বেচারীর দুঃখ বুঝতে পেরে কোনরকমে নিজেকে সামলিয়ে ইরার পিঠে হাত রেখে শান্তনা দিতে দিতে আদুরে গলায় বলল,
রুপা:"থাক কষ্ট পাস না বনু।আমি ভাইয়াকে বকে দিবো"
ইরা:"তোমরা কি নিয়ে এতো হাসাহাসি করছিলে?"
রুপা:"তোর বান্ধবী আইফোন 17 প্রো মেক্স গিফট পেয়েছে।"
রুপার কথা শুনে ইরার চোখ কপালে। দৌঁড়ে নিশির কাছে গিয়ে তাকে ঝাকিয়ে প্রশ্ন করলো,
ইরা:"তুই কবে থেকে চুরি করা শিখলি? কার রক্ত জল করে উপার্জনের টাকার আইফোন চুরি করে পালালি। আর কোথা থেকে চুরি করেছিস?"
ইরার কথা শুনে নিশি চোয়াল লটকে তাঁকিয়ে রইলো। শেষে কিনা তার প্রাণ প্রিয় বান্ধবী তাকে চোর বানিয়ে দিলো।
রুপা তাদের মাঝে হঠাৎ বলে উঠলো,
রুপা:"তোর বান্ধবী ফোন চুরি করেনি কিন্তু আমার ভাসুরের মনটা বোধ হয় চুরি করে ফেলেছে অলরেডি।"
ইরা এক প্রকার টেনে টেনে বললো,
ইরা:"হা..সা..ন ভাই..য়া?"
নিশি হাসফাঁস করতে করতে বললো,
নিশি:"তোরা কি শুরু করলি, আমি কখন বলেছি এসব। উনি আমার ফোন ভেঙে ফেলেছিল। সেজন্য আমি ওনার ফোন ভেঙে উনাকে অনেক চটাং চটাং কথা শুনিয়ে ছিলাম তাই হয়তো দিয়েছেন।"
রুপা আর ইরা একে অপরের দিকে তাঁকিয়ে মুচকি হেঁসে সমস্বরে বলে উঠলো,
"বুঝি বুঝি আমরা সবই বুঝি"
নিশি:"কি বুঝিস তোরা? যায় বলিস বেটা কিন্তু হ্যান্ডসাম আছে। শুধু একটু কেকটাস মেজাজী"
রুপা:"এই ক্যাকটাস মেজাজী কিরে আবার?"
নিশি বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে,
নিশি:"ক্যাকটাস মেজাজী মানে, হাসির কাছে গেলেই কাটা ফুটে এমন। লোকটা একটুও হাসতে জানে না।"
নিশির কথায় সবাই হেঁসে দিলো।
তারা তিন জন মিলে আরও কিছুক্ষণ গল্প করল। তারপর নিজ নিজ জায়গায় শুয়ে ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো।
{গল্পসম্পর্কিত সকল ধরনের আপডেট পেতে গ্রুপে জয়েন হয়ে যান
https://www.facebook.com/share/g/1Ccc35minS/ }
--
সকাল ৭:৩৪,
ইরার ফোন বেজে উঠলো। ইরা ঘুম ঘুম অবস্থায় নাম্বার চেক না করেই কল রিসিভ করলো। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল,
ইরা:"হ্যালো কে?"
লোকটি বলল,
"তোকে বলেছিলাম বেশি উরিস না কিন্তু তুই শুনলি না।যা যা জেনেছিস সব ভুলে যা। তোর ভালোর জন্যই বলছি। দ্বিতীয় বার আর তোর ভালো চাইবো না।"
ইরার ঘুম ছুটে গেছে এতক্ষণে। রাতের ঘটনাটা একদম ভুলে বসেছিল।
ইরা:"আপনি যতোই লুকিয়ে থাকুন না কেনো আপনাকে আমি সবার সামনে এক্সপোজ করবো মিস্টার চৌধুরী।"
ওপাশ থেকে শুধু বিশ্রী ভাবে হাসির শব্দ শোনা গেলো। লোকটা কিছু না বলে শুধু হাসছে দেখে ইরার কপাল কুঁচকে এলো।
লোকটা কল কেঁটে দিলো।
ইরা বিছানা ছেড়ে উঠে ওয়াশরুম চলে গেলো। আজকে অনেক কাজ আছে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান, দুপুর থেকেই বাড়িতে অতিথিদের ভির হবে প্রচুর। তাই আর দেরি না করে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলো। যাওয়ার আগে রুপা আর নিশিকে ডাকতে ভুললো না।
--
পরবর্তী পর্বের অংশ,
ইরার গালে শক্ত হাতের থাপ্পড় পড়লো। ইরার চোখে পানি টলমল করেছে। এতো গুলো লোকের সামনে উদয় এভাবে তার গায়ে হাত তুলবে সে ভাবতেও পারেনি। ছাদে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি তাদের দিকে স্থির।
ইরা রাগে গজ গজ করতে করতে বললো,
ইরা:"মারলেন কেনো আমাকে? আপনার আসল রূপ দেখে ফেলেছি বলে মারলেন?আপনারা বাপ ছেলে একই রকম,বিশ্বাসঘাতক।"
কথা শেষ হতেই ইরার ওপর গালে আবার সজোরে থাপ্পড় পড়লো। থাপ্পড়ের বেগ এতো ছিলো যে ইরা ছিটকে ফ্লোরে পড়ে গেলো। ঠোঁট কেঁটে রক্ত পড়ছে।
চলবে..?