গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#বোনাস_পর্ব
এখন বিকাল ৪ টার ঘরে।
পুরো চৌধুরী বাড়ি আর্টিফিসিয়াল ফুল এবং ফেইরি লাইটস্ দ্বারা সাঁজানো হয়েছে। চারপাশে অনেক মানুষের সমাগম। সবাই যার যার কাজ নিয়ে ব্যাস্ত।
বাড়ির বড়োরা বিয়ের কাজ, ডেকোরেশন এর কাজ রান্নার কাজ, অথিতি আপ্যায়নের কাজ নিয়ে; কিশোর কিশোরীরা তাদের সাজগোজ, পোশাক নিয়ে; আর ছোটরা তাদের মতো খেলা এবং মজা করা নিয়ে ব্যাস্ত।
উদয়ের অফিসের অনেকেই আসবে সন্ধ্যায়। শাহেদ চৌধুরীর বিজনেস পার্টনাররাও এই অনুষ্ঠানে ইন্ভাইটেড।
ইরা মাত্রই শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে।একটু পরে পার্লার থেকে লোক আসবে সাজাতে।
ইরা নীচে আসছিল রোকেয়া বেগম এর সাথে কথা বলতে।ওই মুহূর্তেই উদয় বাড়িতে প্রবেশ করে সাথে একটা মেয়েকে নিয়ে। মেয়েটাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছ বিদেশী। মেয়েটার চলাফেরা, চেহারাতেও বিদেশী ছাপ। মেয়েটি উদয়ের হাত ঝাপটে ধরে আছে। মেয়েটির উদয়ের সাথে এতো ঢলাঢলি ইরার বোধ হয় সহ্য হচ্ছে না। উদয় ও মেয়েটির সাথে হেসে হেসে কথা বলা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করছে।
ইরা নিজের এক হাত দ্বারা অন্য হাত খামচে ধরে নিজেকে শান্ত করতে চাইছে।
উদয় মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
উদয়:"তুমি এখানে ওয়েট করো লিয়ানা। আমি চেঞ্জ করে আসছি।"
ইরা ফট করে বলে ফেললো,
ইরা:"উনি কে? আর আপনি ড্রেস চেঞ্জ করে উনার সাথে কোথায় যাবেন?"
ইরা কথায় উদয়, লিয়ানা দুজনের দৃষ্টি ওর উপর পড়ে। ইরা অসস্থী বোধ করে আবার আমতা আমতা করে বলল,
ইরা:"আ.. আসল বলতে চাচ্ছিলাম যে, সন্ধ্যায় তো অনুষ্ঠান শুরু হবে, তাহলে এখন আবার কোথায় যাবেন? আপনাকেও তো রেডি হতে হবে, তাই আর কি। আচ্ছা উনি কে? উনাকে তো আগে দেখিনি।"
ইরার কথায় লিয়ানা মুচকি হেঁসে এগিয়ে এসে ওর কাঁধে হাত রেখে মিষ্টি করে বলে,
লিয়ানা:"আমি হচ্ছি তোমার হ্যান্ডসাম হাজবেন্ড এর একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড। আমাকে নিয়ে এতো জেলাস হওয়ার কিছু নেই,আমি অলরেডি এঞ্জেইজড।"
ইরা মাথা নিচু করে ফেলে লজ্জায়। সে কিনা কি ভেবেছিল।
ইরা:"আসলে আমি সেটা বলতে চাইনি আপু। আচ্ছা, আপনাকে দেখে তো বিদেশী মনে হচ্ছে, তাহলে এতো শুদ্ধ বাংলা বলছেন কীভাবে?"
লিয়ানা:"আমার মা বাংলাদেশী ছিলো। তাই মায়ের কাছ থেকে বাংলা শিখা। আর আমি তো প্রায় বাংলাদেশে আসি নানুর বাসায়।"
ইরা:"আচ্ছা"
ইরা চলে যেতে নেয়, পেছন থেকে উদয়ের কন্ঠস্বর ভেসে আসে,
উদয়:"আমরা লিয়ানার ছোট বোনকে আনতে যাচ্ছি। আপনি গিয়ে রেডি হয়ে নিন মিসেস। আমি ফিরে এসে যেনো দেখি আপনি ফুল রেডি। আর একটা কথা, আমি চাই আমার বউকে যেনো সবচেয়ে সুন্দর লাগে।"
ইরা আর এক মুহূর্তও দাড়ালো না। দু হাতে মুখ ঢেকে তাড়াতাড়ি পালালো।
--
শাহেদ চৌধুরী বারান্দায় দাঁড়িয়ে কারো সাথে ফোনে কথা বলছেন।
শাহেদ:"তুমি আসছো না কেনো?"
ফোনের ওপাশ থেকে বলছেন,
"আমার কাজ আছে শাহেদ। আমি বিয়েতে এটেন্ড করবো। লিয়ানা তো চলে গেছে, লাইসু ও এতক্ষণে মনে হয় ল্যান্ড করেছে।"
শাহেদ:"হুম, আচ্ছা শোনা, তোমাকে একটা জরুরী কথা বলতে চাই।"
"হুম বল "
--
সন্ধ্যা ৭ টা,
নিশি রেডি হয়ে ছাদে যাচ্ছে। এতক্ষণে প্রায় সব গেস্ট চলে এসেছে। নিশির পরণে অলিভ গ্রীন কালার এর লম্বা গাউন। চুল গুলো লুস কার্ল করা। মুখে হালকা এবং খুব সফ্ট মেকআপ করা।
নিশি গাউন ঠিক করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিলো। সামনে খেয়াল না করে নিজের মতো এগিয়ে যাচ্ছে সে।
হাসান ছাদের ডেকোরেশন এর সব ঠিক আছে কিনা দেখতে এসেছিল। এখন রেডি হতে যাবে। যেই সে নামতে যাবে ওমনি তাঁর চোখে আটকে যায়। সামনে নিশি অন্যমনস্ক হয়ে উপরে উঠছিলো। গাউনটা মনে হয় ঠিক করতে পারছে না, বার বার পায়ের সাথে জরিয়ে যাচ্ছে।
হাসান মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নিশি হাসানের থেকে ৩ থেকে ৪ সিঁড়ি দিয়ে নিচে। ঠিক তখনি পায়ের সাথে গাউন বেঁধে পড়ে নিতে নেয়, হাসান তাড়াতাড়ি এসে ধরে নেয়।
ভয়ে নিশি চোখ বন্ধ করে ফেলে। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পরও নিশিকে চোখ খুলতে না দেখে হাসান থমথমে কণ্ঠে বলল,
হাসান:"চোখ খুলছো না কেনো?"
নিশি এক চোখ বন্ধ করা অবস্থায় এক চোখ খোলে বলে,
নিশি:"আমি সিঁড়ি থেকে পড়ে এখনও মারা যায়নি?"
হাসান নিশিকে সোজা করে দাড় করিয়ে চলে যেতে যেতে বলে,
হাসান:"আর কতো রকমের পাগল যে আমাকে দেখতে হবে!"
হাসানের কথা শুনে নিশির রাগ হয়। কিন্তু পরমুহূর্তেই কিছু একটা ভেবে দুষ্টু হেসে উপরে উঠে যায়।
--
ইরা রেডি হয়ে গেছে। এমেরাল্ড গ্রীন কালার এর লেহেঙ্গা পড়েছে। রুপার ও সেম লেহেঙ্গা। পার্লার এর লোক ইরাকে সাজিয়ে এখন রুপাকে সাজাতে বসেছে। ওরা দুজন একসাথে এন্ট্রি নিবে দেখে ইরা একা ছাদে যায়নি। ইরার বসে থাকতে বোরিং লাগছিল। তাই সে উঠে যায় উদয়ের উদ্দেশ্যে। দেখতে যায় উদয় ফিরেছে কিনা, আর রেডি হয়েছে কিনা।
ইরা উদয়ের রুমের সামনে এসে দেখে দরজা খোলা, কিন্তু হালকা চাপানো। ইরা কিছু না ভেবেই রুমে প্রবেশ করে।
রুম উদয়কে সে যেই অবস্থায় দেখলো সেটা সে কল্পনাও করেনি। উদয়ের সাথে একটা মে....
চলবে..?