গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#পর্ব:২৯
উদয়ের রুমের দরজা খুলে ইরা ভেতরে প্রবেশ করতেই ইরার সব খুশি যেনো মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায়। সে কি ভেবে এসেছিল আর কি দেখছে । খুশি খুশি মনটা মুহূর্তেই দুঃখে ছেয়ে গেলো।
উদয়কে একটা মেয়ে জড়িয়ে ধরে ছিলো। ইরা রুমে প্রবেশ করতেই দুজনে দূরে সরে যায়। কিন্তু ইরার বুঝতে বাকি থাকে না এখানে কি হচ্ছিলো।
উদয় এগিয়ে এসে কিছু বলতে নিবে ওমনি ইরা রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
উদয় আক্ষেপ নিয়ে উচ্চারণ করে,
উদয়:"শিট"
সামনে দাঁড়ানো মেয়েটার দিকে তাঁকিয়ে কিছু বলতে নিবে ওমনি মেয়েটা ইনোসেন্ট ভঙ্গিতে বলল,
"মেয়েটা কে বেবি?"
উদয়ের চোখ এতক্ষণে রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে। সে দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর করলো,
উদয়:"তোর ভাবী হয়। আর নেক্সট টাইম আমার সাথে এমন ঘষাঘষি করতে আসবি না বলে দিলাম। যদি আসিস তাহলে ওই মুহূর্তেই ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এই বাড়ি থেকে বের করে দিবো। তুই ভাবিস না তোর বোন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড এবং তোর মা আমার বাবার বিজনেস পার্টনার দেখে তোকে দয়া করবো। আর একটা কথা কান খুলে শুনে রাখ আমার বউ যদি একটুও কান্না করে তোর এই অসভ্যতামির জন্যে তাহলে তোর চুল একটাও মাথায় থাকবে না , সব কেঁটে আমি টয়লেটের কমোডে ফেলে দিবো।"
উদয় বড় বড় পা ফেলে রুমে থেকে বেরিয়ে গেলো। এখন ইরার সাথে কথা বলা জরুরি। মেয়েটা খুব অভিমানী। না জানি কি কি ভেবে বসে আছে।
উদয় চলে যেতেই মেয়েটা কুটিল হেঁসে কাকে যেনো কল দেয়।
"মম, তোমার কাজ অর্ধেক ডান। আশা করি সব কিছু আমাদের প্ল্যান অনুযায়ীই হবে। তবে লিয়ানা আপি থাকলে কাজটা আরও সহজে হয়ে যেতো।"
ওপাশ থেকে সতর্কবার্তা এলো,
"একদম না, লিয়ানা এসব জানলে তোমাকে ওই বাড়িতে আর থাকতেই দিবে না।ও উদয়কে নিজের ভাই এর মতো দেখে। তুমি তো উদয়কে পছন্দ করো, যদি কাজ টা ঠিক ভাবে হয় তাহলে তুমিও উদয়কে পাবে আবার আমাদের কাজও সহজ হয়ে যাবে লাইসু।"
লাইসু:"ওকে মম, আমি বুঝতে পেরেছি, বায় "
"ওকে বায় "
মেয়েটার নাম লাইসু, লিয়ানার ছোট বোন। অনেক আগে থেকেই সে উদয়কে পছন্দ করে কিন্তু উদয় পাত্তা দেই না।
একটু আগেও উদয়ের রুমে এসে উদয়কে সিডিউছ করতে এসেছিল। ইরা এসে ওদের এই অবস্থায় দেখে ফেলেছে।
--
ইরার চোখ ছল ছল করছে। কান্নার এসে দলা পাকিয়েছে। ইরা এখন রোকেয়া বেগম এর রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে,রুপার রুমে যায়নি কারণ ঐখানে অনেকে আছে । রোকেয়া বেগম এখন রান্নাঘরে কাজ করছে।
উদয় সারা বাড়ি খুজে যখন রোকেয়া বেগম এর রুমে আসলো, দেখলো,
বারান্দায় কেঁউ দাঁড়িয়ে আছে। উদয়ের বুঝতে বাকি রইলো না যে তার বউ এখানে এসে লুকিয়ে আছে।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় বারান্দার দিকে। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে,
উদয়:"গিন্নি কি আমার খুব রাগ করেছে?"
ইরা কিছুটা কেঁপে উঠে। উদয়ের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে ,কিন্তু ব্যর্থ হয়। ইরা তেজি কণ্ঠে বলল,
ইরা:"ছাড়ুন আমাকে,ধরবেন না।ওই মেয়েকে গিয়ে ধরুন।আমি তো আর ওই মেয়ের মতো এতো হট না। আবার ওর মতো এত ছোটো ছোটো পোশাকও পড়তে পারি না। তাই এখন আর আমাকে ভালো লাগে না।"
উদয়:"তুমি যা দেখেছ পুরোটাই ভুল। ও আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল। আর ও আগে থেকেই একটু গায়ে পরা।"
ইরা:"আপনি পারমিশন না দিলে ও আপানার রুমে ঢুকলো কীভাবে?"
উদয়:"দরজা খোলা ছিলো বউ "
ইরা কিছুটা বিড়বিড় করে বলল,
ইরা:"আমিই এখনো পর্যন্ত আমার জামাইকে জড়িয়ে ধরতে পারলাম না আর ওই রাক্ষসীটা কিনা আমার জামাইকে অপবিত্র করে দিলো।"
ইরা যদিও কথা গুলি বিড়বিড় করে বলছিল কিন্তু উদয়ের থুতনি ইরার ঘাড়ে থাকায় উদয় সহজেই সব শুনতে পায়। ইরার জেলাস হওয়া দেখে উদয় মুচকি হাসে।
উদয়:"যেহেতু আমি অপবিত্র হয়ে গেছি তাহলে এখন আমার উচিত আবার শাওয়ার নিয়ে পবিত্র হওয়া, কি বলো বউ?"
ইরা উদয়ের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
ইরা:"আপনি কি করে শুনলেন আমার মনের কথা?"
উদয়:"তোমার মন আর আমার মন কি আলাদা নাকি?"
ইরা:"থাক, এখন আর শাওয়ার নিতে হবে না। সবাই আমাদের জন্য ওয়েট করছে,চলুন।"
উদয়:"চলো "
ইরা পা বাড়াতে নিয়েও থেমে যায়। তারপর কাদো কাদো গলায় বলে,
ইরা:"আগে আমাকে কথা দিন, ওই মেয়ের সাথে আর কথা বলবেন না?"
উদয়:"আমার মিসেস আমার কাছ থেকে কিছু চাইছে আর আমি সেটা না দিয়ে কি থাকতে পারি।
আচ্ছা যাও কথা দিলাম,আমি কোনো দরকার ছাড়া লুইসার সাথে কথা বলবো না। এবার চলো।"
ইরা খুশি খুশি মনে উদয়ের হাত ধরে চলে যেতে যেতে বলে,
ইরা:"কি অদ্ভুত নাম। মেয়েটা যেমন রাক্ষসী নাম টাও রাক্ষসীদের মতো।"
ইরার বকবকানি শুনে উদয় না হেঁসে পারে না। কিন্তু ইরা পেছনে থাকায় তা দেখতে পায় না।
--
রুপা রেডি হয়ে রুমে বসে আছে। মেহেদী আর্টিস্টও এসে গেছে। এখন তারা ছাদে গেলেই সব শুরু করবে। নিশি আগে থেকেই ছাদে আছে। বাকি মেয়েদের নিয়ে ড্যান্স প্র্যাকটিস করছে।
ইরা আর রুপা ছাদের উদ্দেশ্যে রুম থেকে বেরোলো। সিয়াম আর উদয় সামনে থাকবে আর পেছনে ওরা। ক্যামেরাম্যানই ওদের এভাবে করতে বলেছে ভিডিও শুট করার জন্য।
তারা ভিডিও করা শেষ করে স্টেজে এসে বসলো। মেহেদী আর্টিস্ট মেহেদী দিতে শুরু করেছে,মোট চার জন এসেছে তার। দুজন ইরার হাতে লাগাচ্ছে আর বাকি দুজন রুপার হাতে।
পাশে নিশি সবাইকে মেহেদী লাগিয়ে দিচ্ছে। ওর মেহেদীর হাত খুব ভালো। ইরাদের দেওয়া শেষ হলে ও দিবে। তারপর নাচ গান শুরু হবে। এখনো অবশ্য গান বাচ্ছে বক্সে,
Mehendi laga ke rakhna..
Doli saja ke rakhna..
Mehendi laga ke rakhna
Doli saja ke rakhna..
Lene tujhe o gori
Aayenge tere sajna..
Mehendi laga ke rakhna
Doli saja ke rakhna
Ho ho...ho ho
এতক্ষণে ইরার মেহেদী পরা শেষ। এখানে সবাই উপস্থিত। সিয়াম বন্ধুদের সাথে আছে। ইরার চোখ এখন শুধু একজনকেই খুঁজছে।
হঠাৎ ইরার মাথায় এলো লিয়ানা এখানে আছে কিন্তু লাইসু নেই। ইরার মনে কিছুটা খটকা লাগলো। বাড়ির ভেতরে এখন কারো থাকার কথা না। তাহলে উদয় আর লাইসু কোথায় গেছে।
ইরা উঠে নিচে নামতে গেলো। পেছন থেকে রোকেয়া বেগম জিজ্ঞেস করলো,
রোকেয়া:"এখন কোথায় যাচ্ছিস ইরা?"
ইরা:"আসলে ফুপ্পি, আমার একটু ওয়াশরুম পেয়েছে"
রোকেয়া:"তাহলে একা যাচ্ছিস কেনো? কেউকে সাথে নিয়ে যা। তোর হাতে তো মেহেন্দি।"
ইরা:"সমস্যা নেই,আমি পারবো।"
বলেই ইরা চলে গেলো। রোকেয়া বেগমও সেদিকে আর বেশি পাত্তা দিলেন না।
--
পরবর্তী পর্বের অংশ,
ইরার গালে শক্ত হাতের থাপ্পড় পড়লো। ইরার চোখে পানি টলমল করেছে। এতো গুলো লোকের সামনে উদয় এভাবে তার গায়ে হাত তুলবে সে ভাবতেও পারেনি। ছাদে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি তাদের দিকে স্থির।
ইরা রাগে গজ গজ করতে করতে বললো,
ইরা:"মারলেন কেনো আমাকে? আপনার আসল রূপ দেখে ফেলেছি বলে মারলেন?আপনারা বাপ ছেলে একই রকম,বিশ্বাসঘাতক।"
কথা শেষ হতেই ইরার ওপর গালে আবার সজোরে থাপ্পড় পড়লো। থাপ্পড়ের বেগ এতো ছিলো যে ইরা ছিটকে ফ্লোরে পড়ে গেলো। ঠোঁট কেঁটে রক্ত পড়ছে।
চলবে..?