ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

৩১তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব :৩০

ইরা উদয়ের রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দেখলো ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। ইরার মন কিছুটা শান্ত হয়ে গেলো। উদয় কখনো ওই মেয়েকে রুমে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করবে না।

ইরা খুশি মনে পাসওয়ার্ড চেপে দরজা খুললো। দরজা খুলে বিছানার দিকে নরজ যেতেই ইরার খুশি মুহূর্তেই মোমবাতির মতো নিভে গেলো। কান্নারা বাঁধ ভাঙ্গলো। মনে হচ্ছে গলায় কিছু একটা আটকে আসছে। কিছু বলতেও পারছে না, কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।

বিছানায় উদয় আর লাইসু লিপ কিস করছে। উদয় লাইসু কে দু হাতে ধরে আছে। ইরার মনে হচ্ছে সাত বছর আগে ওর বাবা মায়ের সাথে নিজেরও মরে যাওয়া উচিত ছিল। অন্তত এই জঘন্য দৃশ্য দেখতে হতো না।

উদয় তাড়াতাড়ি নিজের উপর থেকে লাইসু কে এক ধাক্কা দিয়ে ফেলে বিছানা থেকে উঠে ইরার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলো। ইরা বোধ হয় সেটা বুঝতে পারছে। তাই কোনো কথা না বলে উদয় তার কাছে আসার আগেই রুমে থেকে বেরিয়ে যায়।

উদয় ইরার চলে যাওয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। উদয় বুঝতে পারছে এখন কতো বড় ঝড় উঠতে চলেছে। একে তো ওর বাবার সব কীর্তি কলাপ জেনেও ওকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিল ইরা। কিন্তু এখন আবার তাকেও ভুল বুঝলো।

উদয় রক্ত লাল চোখে লাইসুর দিকে তাকায়। ভয়ে লাইসুর মুখও চুপসে গেছে। উদয় এখন তার কি অবস্থা করবে সেটা আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না।

উদয় বিছানার কাছে গিয়ে লাইসুকে হ্যাঁচকা টানে বিছানা থেকে নিচে ফেলে দেয়। উদয় লাইসুর চুলের মুঠি ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

উদয়:"তদের মতো কতগুলি বে*শ্যাদের জন্য অনেকের সংসার ভাঙ্গে। তোদের তো যোগ্যতা নেই এতো হাই সোসাইটিতে থাকার। তোর শরীরে যখন এতই জ্বালা তখন পতিতালয়ে যা। জ্বালা মিটিয়ে দিবে। তোদের মতো বে*শ্যাদের ঠায় ওই পতিতালয়, বুঝেছিস?তুই আমার ফ্রেন্ড এর বোন দেখে আজকের মতো ছেড়ে দিচ্ছি, তোর জায়গায় যদি অন্য কেউ হতো তাহলে এখান থেকে জান নিয়ে বেঁচে ফিরতে পারতো না ।"

ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চুলের মুঠি ছেড়ে দিলো উদয়। তারপর বড় বড় পা ফেলে বেরিয়ে গেলো। লাইসু ফ্লোরে বসে ফুপাতে লাগলো।

কিছু মুহূর্ত পর রুমে থেকে বেরিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে নিচে চলে গেলো।

--

ইরা কাদতেঁ কাদতেঁ ছাদে গিয়ে দৌঁড়ে রোকেয়া বেগমকে জড়িয়ে ধরলো। হঠাৎ জড়িয়ে ধরাতে রোকেয়া বেগম খেয় হারিয়ে দু পা পিছিয়ে গেলো। ইরাকে ফুপাতে দেখে বিচলিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,

রোকেয়া:"কি হয়েছে ইরা? এভাবে কাদছিস কেনো? তুই তো ওয়াশরুমে গিয়েছিলি, নিচে কেউ কি কিছু বলেছে?"

ইরা কিছু না বলে শুধু কেঁদেই চলেছে। ইরাকে কিছু না বলতে দেখে রুপা, নিশি এগিয়ে আসলো। এতক্ষণে ইরাকে ঘিরে ভালোই ভিড় জমে গেছে। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ইরা কাপা কাপা কণ্ঠে বলল,

ইরা:"আ.. আমি ডি.. ডিভোর্স চাই ফুপ্পি।"

সাথে সাথে ইরার গালে শক্ত হাতের থাপ্পড় পড়লো। ইরার চোখে পানি টলমল করেছে। এতো গুলো লোকের সামনে উদয় এভাবে তার গায়ে হাত তুলবে সে ভাবতেও পারেনি। ছাদে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি তাদের দিকে স্থির।

ইরা রাগে গজ গজ করতে করতে বললো,

ইরা:"মারলেন কেনো আমাকে? আপনার আসল রূপ দেখে ফেলেছি বলে মারলেন?আপনারা বাপ ছেলে একই রকম,বিশ্বাসঘাতক।"

কথা শেষ হতেই ইরার ওপর গালে আবার সজোরে থাপ্পড় পড়লো। থাপ্পড়ের বেগ এতো ছিলো যে ইরা ছিটকে ফ্লোরে পড়ে গেলো। ঠোঁট কেঁটে রক্ত পড়ছে।

উদয় কেবলি ছাদে এসে দাঁড়িয়ে ছিলো। ইরার মুখে ডিভোর্সের কথা শুনতেই উদয়ের মেজাজ গরম হয়ে গেলো।

উদয়ের থাপ্পড়ে ইরা দমে না গিয়ে আগের মতোই তেজ নিয়ে বললো,

ইরা:"থাকবো না আমি আপনার সাথে। আমি মুক্তি পেতে চাই আপনার হাত থেকে।ডিভোর্স চাই আমার।"

উদয় শক্ত গলায় ইরার চুলের মুঠি ধরে বলল,

উদয়:"এই চিন্তা তোর মাথা থেকে বের করে ফেল। তুই মরে গেলেও আমি তোর পিছু ছাড়বো না পাখি। আর বেঁচে থাকতে যদি কোনোদিন মুখ দিয়ে এই ডিভোর্স শব্দটা উচ্চারণ করিস তাহলে তোর ঐ জিভ আমি টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।"

ইরা:"আমি মরে যাবো তবুও আপনার সাথে আমি থাকতে চাই না"

উদয় দাঁতে দাঁত চেপে ইরাকে কোলে তুলে নিলো। ইরা নামার জন্য মোচড়ামুচড়ি করতেই, উদয় ইরার ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে নিলো। কয়েক সেকেন্ড পরে ছেড়ে দিয়ে ইরার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

উদয়:"নড়লে কিন্তু সবার সামনে কিস করবো। এখন কেউ কিছু দেখেনি কিন্তু পরের বারের কিস সবাই দেখবে।"

ইরা চুপ হয়ে গেলো। কিন্তু কান্না থামলো না । সবাই উদয়ের পিছনে থাকায় এবং উদয় উল্টো দিকে ঘুরে থাকায় কেউ কিছু দেখেনি। কিন্তু সবাই প্রশ্নত্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। উদয় ইরাকে নিয়ে যেতে যেতে বলল,

উদয়:"আমার আর আমার বউ এর অনুষ্ঠান এই পর্যন্তই শেষ। বাকিরা ইনজয় করো। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইরাকে কোলে নিয়ে উদয় চলে গেলো।

রোকেয়া বেগম পেছন থেকে অনেক ডাকলেন কিন্তু উদয়ের সেদিকে কোনো পাত্তা নেই।

--

রুমে এসে ইরাকে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দরজার কাছে গিয়ে পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে উদয় ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। ঠিক দশ মিনিট পরে কোমরে সাদাতোয়ালে পেঁচিয়ে বেরিয়ে এলো। ইরা এখনো হেঁচকি তুলছে।

উদয় ঐভাবেই ল্যাপটপ নিয়ে ইরার পাশে বসলো। ইরা অন্যদিকে ঘুরে গেলো। কয়েক মিনিট পরে উদয় একটা ভিডিও প্লে করে ইরার সামনে ধরলো। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে,

উদয় রুমে এসে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেছে। তার ঠিক কিছু মুহূর্ত পরে লাইসু রুম এসে দরজা লক করে আলমারির সাইডে লুকিয়ে পড়লো।

উদয় যেই ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বিছানার পাশে দাঁড়ালো ওমনি লাইসু পেছন থেকে এসে উদয়কে ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে দিয়ে নিজে উপরে উঠে কিস করার চেষ্টা করতে থাকে। উদয় সমস্ত ঘটনা বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লেগে যায়। যখন বুঝতে পারে তার সাথে কি হচ্ছে তখন হাত দিয়ে ধরে সরাতে যায় ঠিক ওই মুহূর্তেই ইরা রুমে প্রবেশ করে। ইরার ওখান থেকে বুঝা যাচ্ছে ওরা একে অপরকে কিস করছে কিন্তু লাইসু উদয়ের ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়ানোর আগেই উদয় আটকে নেয় তাকে। ইরা দরজার ওখান থেকে ভুল বুঝে চলে যায়।

ল্যাপটপে পুরো ঘঠনা দেখে ইরার সব ক্লিয়ার হয়ে যায়। উদয়কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। উদয় ইরার মনের ভাব বুঝতে পেরে মুচকি হেঁসে নেশালো কণ্ঠে বলে উঠে,

উদয়:"আমাকে ছেড়ে যাওয়ার এতোই শখ হয়েছে আপনার মিসেস? আর কখনো যেনো ছেড়ে যেতে না চান সেই ব্যবস্থা করি এখন?"

ইরা উদয়ের মনোভাব বুঝতে না পেরে বলে,

ইরা:"কীভাবে?"

উদয়:"আগে কথা দাও ব্যবস্থা করতে দিবে,আর এক্ষুনি।"

ইরা না বুঝে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,

ইরা:"ঠিক আছে।"

উদয় কুটিল হেসে বলল,

উদয়:"আচ্ছা আমি কি তোমাকে জোর করছি? পড়ে কিন্তু বলতে পারবে না আমি তোমাকে জোর করেছি।"

ইরা এখনো কিছু বুঝতে পারেনি।সে অবুঝের ন্যায় বলল,

ইরা:"নাহ্, আপনি আমাকে জোর করেননি।"

--

পরবর্তী পর্বের অংশ,

ইরা:"আপনার বাবা একজন খুনী। উনি আমার বাবা মা কে নিজের হাতে খুন করেছেন।"

শাহেদ:"কোনো প্রমাণ আছে তোমার কাছে?"

ইরা:"নাহ্ "

সাথে সাথে রোকেয়া বেগম সজোড়ে থাপ্পড় বসালেন ইরার গালে।

--

চলবে..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন