গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#পর্ব:৩১(শেষের অংশ)
ইরা:"আমি আপনার সাথে শাওয়ার নিবো না। আপনি আগে ফ্রেশ হোন পরে আমি।"
উদয়:"দেখ রাতে এমনিতেই তোকে আনবক্সিং করতে করতে আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছিলো, এখন অন্তত আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিস না। চুপচাপ শাওয়ারটা সেরে নে আমার সাথে জানবাচ্চা।"
ইরা কাদো কাদো কণ্ঠে বলল,
ইরা:"আমাকে কি আপনার মতো মনে হয়?আমার কি আপনার মতো লজ্জা শরম নেই?"
উদয় ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
উদয়:"তুই কি ইন ডাইরেক্টলি আমাকে নির্লজ্জ্ব বলছিস?"
ইরা:"ইনডাইরেক্টলি বলতে যাব কেন ডাইরেক্টলি বলছি।"
উদয়:"তোর সাহস দেখে তো আমি অবাক। মরার শখ জেগেছে নাকি? একদিন বেড শেয়ার করে এতো সাহস, ইন্টারেস্টিং "
ইরা:"আপনার সাত জনমের ভাগ্য যে আমি আপনার সাথে বেড শেয়ার করেছি। আমার সারা শরীর এখন ব্যথা করছে। প্লাস সারা শরীরে কেমন যেন ছোপ ছোপ দাগ বানিয়ে দিয়েছেন।"
উদয় ইরার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
উদয়:"আমি যেখানে ধরি ক্ষত করে ছাড়ি সোনা।"
ইরা খ্যাক খ্যাক করে উঠলো,
ইরা:"এই যান তো দূর যান আপনি। আপনি আসলেই একটা রাক্ষস।"
উদয়:"রাক্ষসের দেখলি কি তুই। আজকে প্রথম দিন দেখে তো ভালো করে ধরলামই না। যদি ধরতাম আজকে আর তোকে খুঁজে পাওয়া যেতো না। হাসপাতালের বেডে থাকতি তুই। শুকরিয়া আদায় কর এখনো সুস্থ আছিস তুই।"
ইরা ভেঙচি কেঁটে শাওয়ার এর নিচে দাঁড়িয়ে হাতে সাবান মাখলো। এই সুযোগে উদয় শাওয়ার অন করে দিলো। হঠাৎ এভাবে গায়ে পানি পড়ায় ইরা ভয়ে উদয়কে জড়িয়ে ধরে। উদয় মুচকি হেঁসে বলে,
উদয়:"এতো অল্পতে ভয় পেলে চলবে না যে মিসেস চৌধুরী"
চৌধুরী শব্দটা শুনে ইরার কিছু একটা মনে পড়লো। উদয়কে ছেড়ে শাওয়ার অফ করে কোমরে হাত বেঁধে দাঁড়ালো। সন্দিহান গলায় প্রশ্ন ছুড়লো,
ইরা:"আপনার নাম ওয়াসিফ চৌধুরী উদয়?"
উদয় একটু থতমত খেয়ে গেল। যথাসম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বলল,
উদয়:"কে বলল তোকে? আর হঠাৎ এই প্রশ্ন করছিস কেনো?"
ইরা:"দরকার আছে। আপনি আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দিন। তারপর আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিবো।"
উদয় ছোট্ট করে বলল,
উদয়:"হুম"
ইরা:"আপনিই তাহলে সেই বেয়াদব ছেলেটা? যে আমাকে ফোন দিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বলেছিল।"
উদয় ইরাকে এড়িয়ে যেতে চাই। উদয় তাড়া দিয়ে বলে,
উদয়:"এতো রাতে কি শুরু করেছিস? তখন থেকে বকবক করেই যাচ্ছিস। বেশি কথা বললে কিন্তু আবার বেডে নিয়ে যাবো। আমার মন কিন্তু এখনো ভরেনি। ছাব্বিশ বছরের খিদে বলে কথা।"
ইরার যা বুঝার সে বুঝে গেছে। উদয়ের কথায় পাত্তা না দিয়ে রাগ দেখিয়ে গোসল শেষ করে দুজনে। গোসলের মধ্যে উদয় ইরাকে অনেক ভাবে বিরক্ত করার চেষ্টা করেছে। ইরা সব কিছু সহ্য করেছে। উদয়ের সাথে একটি শব্দও ব্যয় করেনি।উদয় বুঝেছে ইরার রাগের কারণ।
প্রায় ত্রিশ মিনিট পর দুজন শাওয়ার সেরে বের হয়। উদয় কোমরে তোয়ালে পেঁচিয়ে রেখেছে আর ইরাও তোয়ালে পেঁচিয়ে রেখেছে বুক হতে হাঁটু পর্যন্ত। ইরার ফর্সা পায়ের দিকে তাকিয়ে উদয় একটা শুকনা ঢোক গিললো। মনে মনে নিজেকে কিছু গালি দিয়ে বলল,
উদয়:"তুই এতো কন্ট্রোললেস হলি কবে থেকে উদয়? কন্ট্রোল উদয় কন্ট্রোল। মেয়েটা সামলাতে পারবে না।"
বলেই একটা লম্বা শ্বাস নিলো। এতক্ষণে ইরা কাভার্ডের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। উদয় তাড়াতাড়ি ইরার সামনে দাঁড়িয়ে কাভার্ড লক করে চাবি নিজের কাছে নিয়ে নিলো। ইরা উদয়ের কাণ্ড দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেললো। উদয় মনে মনে আওড়ালো,
উদয়:"এবার তো তোকে কথা বলতেই হবে জানবাচ্ছা।"
কিছুক্ষণ সময় লাগলো ইরার উদয়ের মনোভাব বুঝতে। কিন্তু ইরা মনে মনে পণ করে ফেলেছে, যাই হয়ে যাক আজকে সে উদয়ের সাথে কথা বলবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত উদয় নিজে থেকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য সরি বলে। এই লোকের সরি বলাতে এক ধরনের ব্যমো আছে। আজকে যে ভাবেই হোক সে এই বজ্জাত লোককে দিয়ে সরি বলাবে। কতো বড়ো সাহস নিজের বউকে নিজেই পরকীয়ার প্রস্তাব দেয়।
ইরা কিছু না বলে তোয়ালে পেঁচিয়েয় শুয়ে পড়লো। এতে করে তোয়ালে আরও কিছুটা হাঁটুর উপর উঠে গেলো। উদয় কেমন যেনো নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে দিকে। মনে মনে নিজেকে অনেক কিছু বলে বুঝ দিচ্ছে। এবার মনে হচ্ছে আর কোনো কিছুতে কাজ হবে না। উদয় কাভার্ডের চাবি ড্রেসিং টেবিলের সামনে ছুঁড়ে ফেলে বিছানায় ইরার উপর এক প্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইরা হকচকিয়ে যায়। উদয় করুণ কণ্ঠে বলল,
উদয়:"প্লীজ আমাকে বাঁধা দিস না জানপাখি। আমি আর কন্ট্রোল করতে পারছি না। নিজের পাপ নিজে লিখতে দিস না। আজকের মতো আর একটু সহ্য করেনে বেটারহাঁফ।"
উদয়ের কথায় ইরার কলিজা শুকিয়ে যায়। ইরা কিছু বলার আগেই উদয় ইরার ঠোঁট চেপে ধরে নিজের ঠোঁট দ্বারা। ইরা কিছু বলতে চেয়েও পারে না। বেচারীর মনে হচ্ছে বাঁচার আর কোনো উপায় নেই। এখন নিজের উপর নিজেরই খুব রাগ হচ্ছে। কেনো যে তখন রাগ দেখিয়ে কথা বলল না। তখন কথা বললে নিশ্চই উদয় চাবি দিয়ে দিতো।
উদয় ইরার ঠোঁটে চুমুর পাশাপাশি কামড় বসাচ্ছে। ইরার চোঁখ দিয়ে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো। উদয় ইরার ঠোঁট ছেড়ে গলায় চলে গেলো। আস্তে আস্তে নিচে নামতে লাগলো উদয়ের স্পর্শ।ইরার এখন আর কিছুই করার নেই। যা হওয়ার এতক্ষণে হয়ে গেছে।
প্রায় ভোর ৫:৩০ মিনিটে উদয় নিজের শখ মিটিয়ে ইরাকে ছেড়ে দিলো। পাশে শুয়ে চোখ বন্ধ রেখেই বলল,
উদয়:"আর রাগ করে থাকিস না পাখি। তোর রাগ যে আমার সহ্য হয় না।"
পাশ থেকে ইরার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উদয় তাড়াতাড়ি চোখ খুললো। দেখলো, ইরা সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছে। উদয়ের এতক্ষণে টনক নড়লো। আগের বারেও ইরা পেইন কিলার খায়নি, তার আগেই সে..
ভেবেই উদয় তাড়াতাড়ি উঠে বসে মাথা চেপে ধরলো।
(চলবে)