ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

৩৪তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব:৩২

উদয় তাড়াতাড়ি উঠে নিজে গায়ে কাপড় পড়ে নেয় । তারপর কাভার্ড থেকে টিশার্ট আর ট্রাউজার বের করে ইরাকে পরিয়ে দিয়ে কোলে নিয়ে বেরিয়ে যায়।

এই কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে কেউ উঠেনি। রাতে অনুষ্ঠান শেষ করে সবার শুতে অনেক দেরি হয়ে গেছিলো তাই সবাই এখনো বিভোর ঘুমে। উদয় কাউকে না ডেকে নিজেই বেরিয়ে পড়লো ইরাকে নিয়ে। ইরাকে গাড়িতে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। দারোয়ান এতো চেয়ারে বসে ঘুমোচ্ছিল। এতো সকালে গাড়ির হর্ন শুনে ধড়ফড়িয়ে উঠলেন। উদয়ের গাড়ি দেখে নির্বিঘ্নে গেট খুলে দিয়ে আবার চেয়ারে বসে আরামের দেশে পাড়ি জমালেন।

উদয় যথাসম্ভব স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে। নিজের উপর নিজেই ধিক্কার দিচ্ছে এতোটা কেয়ারলেস হওয়ার জন্য।

প্রায় সাত মিনিট পর গাড়ি এসে থামলো একটা প্রাইভেট হাসপাতালের সামনে। উদয় ইরাকে কোলে নিয়ে গাড়ি থেকে বেরোতেই হাসপাতালের এক লোক সিরিয়াস কিছু ভেবে স্ট্রেচার নিয়ে আসে। কিন্তু উদয় সেটাকে উপেক্ষা করে নিজেই কোলে করে ভেতরে নিয়ে যায়। লোকটা শুধু তাঁকিয়ে আছে উদয়ের কাজে।

উদয় একটা কেবিনে ইরাকে শুইয়ে দিয়ে কাকে যেনো কল দেই।

তার ঠিক দুই মিনিট পরে একজন মহিলা ডাক্তার কেবিনে ঢোকে। মহিলা ডাক্তার ইরাকে কিছুক্ষণ পরখ করে উদয়ের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। স্বাভাবিক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

ডাক্তার:"কি হয়েছে উনার?"

উদয়:"অজ্ঞান হয়ে গেছে।"

ডাক্তার:"সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি নতুন করে বলার কিছু নেই।আমি জিজ্ঞেস করেছি কীভাবে হলো?"

উদয়:"ইন্টিমেট হওয়ার পর।"

ডাক্তারের চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। তিনি মনে মনে ভাবলেন,"কি আজব লোক রে বাবা। কোনো লজ্জা শরম নেই। বুক ফুলিয়ে বলছে ইন্টিমেট হতে গিয়ে বউ কে অজ্ঞান করে ফেলেছি।"

নিজের মনের কথা মনে রেখে মুখে বলল,

ডাক্তার:"আপনি বাইরে যান আমি দেখছি।"

উদয়:"আমার বউকে আপনি দেখবেন কেনো ?"

ডাক্তার:"সেটা আপনার এতো হটনেস দেখানোর আগে ভাবা উচিত ছিলো মিস্টার চৌধুরী।"

উদয়:"আমি বাইরে যাবো না,যা করার আমার সামনেই করুন।"

ডাক্তার আর কোনো কথা বলল না। উদয় ফোন দিয়েছিল তার এক বন্ধুকে যে এই হাসপাতালের ডাক্তার। কিন্তু সে বাসায় থাকায় এই মহিলাকে পাঠিয়েছে।

ডাক্তার ইরাকে চেক করে কাগজে একটা ঔষুধের নাম লিখলেন।ওই কাগজটা উদয়ের দিকে এগিয়ে দিলে উদয় বলল,

উদয়:"কি হয়েছে। বললাম তো আমি বাইরে যাবো না।"

ডাক্তার জোরালো কণ্ঠে বলল,

ডাক্তার:"ঔষুধ কি তাহলে আমি গিয়ে নিয়ে আসবো? আপনার মতো এতো বউ পাগল আমি কোথাও দেখিনি।"

উদয় দায়সারা ভাবে উত্তর দিলো,

উদয়:"দেখবেন কি করে।আমি উদয় এক পিসই"

উদয় চলে গেলো।

প্রায় বিশ মিনিট পর ফিরে এসে ঔষুধটা ডাক্তারকে দিলে ডাক্তার ইরাকে পুশ করে দিলো।

ডাক্তার:"ওনাকে এখন বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। ঘুম ভাঙলে একটা পেইন কিলার খাইয়ে দিয়েন। আর একটা কথা.."

উদয়:"কি?"

ডাক্তার:"এতো কন্ট্রোললেস হবেন না।এর পর থেকে বউ এর কাছে যাওয়ার আগে বউ এর শরীরের দিকে তাকাবেন। এইরকম মশার মতো শরীর কি হাতিকে সহ্য করতে পারে?"

ডাক্তার চলে গেলো। কিছু সময় লাগলো উদয়ের ডাক্তারের কথা বুঝতে। যখন বুঝতে পারলো ততক্ষণে ডাক্তার চলে গেছে। উদয়ও ইরাকে কোলে নিয়ে গাড়ির দিকে হাঁটা দিলো।

--

এখন সময় সকাল সাতটার ঘরে। এতক্ষণে বাড়ির সবাই জেগে গেছে।

ইরা মিটমিট করে চোখ খুলে তাকালো। নিজেকে কিছুর বন্ধনে আবিষ্কার করতেই ফট করে চোঁখ খুললো। দেখলো উদয়ের বাহুডোরে আটকে আছে সে। শেষ রাতের ঘটনা মনে আসতেই ভয়ে গলা শুকিয়ে যায় তার। ইরা উদয়কে সরিয়ে উঠতে নিলে উদয়ের ঘুম কিছুটা আলগা হয়ে যায়। সে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল,

উদয়:"আর একটু ঘুমাতে দে বউ।হাসপাতাল থেকে একটু আগেই এসে শুয়েছি। প্লীজ নরিশ না।"

ইরা কিছু বুঝতে পারলো না।উদয় কিসের হাসপতালের কথা বলছে। ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই ইরার টনক নড়লো। কাল রাতে ছাদে সবার সামনে যা হয়েছে তা ভেবেই তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠলো। উদয়ও উঠে বসলো।

ইরা দরজার কাছে গিয়ে আবার ফিরে এলো। উদয়কে দরজার পাসওয়ার্ড বলতে বলল। উদয় ভাবলেশহীন ভাবে ওয়াশরুমের দিকে হাঁটা ধরলো। ইরা উদয়ের সামনে দাড়িয়ে দু হাত মেলে বলল,

ইরা:"প্লীজ বলুন পাসওয়ার্ড। ফুপ্পি , রুপা আপু সবাই চিন্তা করছে।"

উদয় ইরাকে সরিয়ে দিয়ে ওয়াশরুমে যেতে যেতে বলল,

"ইওর বার্থডে "

--

ইরা উদয়ের রুম থেকে বেরিয়ে আগে রুপার রুমে গেলো। দরজা খোলায় আছে। রুপা নিশি কেউ এখনো উঠেনি। রুপা ভেবেছিল যদি রাতে ইরা আসে তাই দরজা খুলা রেখেছিল। ইরা রুমে ঢুকেই নিজের কাপড় নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলো।

চেঞ্জ করে বেরিয়ে আবার রুপার পাশে শুয়ে পড়লো যেনো কেঁউ কিছু বুঝতে না পারে। কিছুক্ষন চোখ বন্ধ রাখার কারণে সেও ঘুমিয়ে পড়লো।

--

উদয় ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে বাড়ির লেন লাইনে কল করলো। একজন সার্ভেন্ট কল উঠাতেই উদয় বললো,

উদয়:"আমার জন্য একটা ব্ল্যাক কফি নিয়ে আমার রুমে আয়।"

উদয় কল কেঁটে দিতেই সার্ভেন্ট কফি নিয়ে রূমের দিকে হাঁটা ধরলো। রুমে ডুকে কফি রেখে চলে আসার সময় উদয় পেছন থেকে ডাক দিয়ে ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইরার কাপড় আর তার কাপড় গুলো নিয়ে ধুয়ে দিতে বললো।

সার্ভেন্ট মিটি মিটি হাসছে আর কাপড় গুলো নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। ঐসময় সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলো লাইসু। সার্ভেন্ট কে এভাবে হাসতে দেখে আর তার হাতে উদয় এবং ইরার কাপড় দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,

লাইসু:"এভাবে হাসছিস কেনো? আর এই কাপড় নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস?"

"ধুইতে যাইতাছি গো ম্যাডাম "

লাইসু:"শুধু ওদের কাপড় নিয়ে যাচ্ছিস কেনো? রুপা আর সিয়াম ভাইয়ার কাপড় কোথায়??"

"আরে ম্যাডাম, আপনে কি কিছুই বুঝেন না? এই কাপড় গুলোতো উদয় স্যারের ঘরে মেঝেতে ছড়ায়া আছিন, আমারে কইলো ধুইয়া দিতে। আর স্যারের চুলও কিন্তু ভিজা আছিলো।"

বলেই সার্ভেন্টটা মুচকি হেসে চলে গেলো। লাইসুর বুঝতে বাকী রইলো না উদয়দের মধ্যে কি হয়েছে। রাগে নিজের হাত নিজেই খামচে ধরলো।

সে উদয়ের রুমে যাওয়ার জন্যই এত সকাল সকাল এসেছিল। নিজে থেকে এসেছে বললে ভুল হবে, তার মা আর শাহেদ চৌধুরী খুব জোর করে বুঝিয়ে শুনিয়ে পাঠিয়েছিলো।

যেভাবে এসেছিল সে 5ভাবেই আবার ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো লাইসু। দরজা পর্যন্ত যেতেই পেছন থেকে ডাক আসলো লিয়ানার। ধমকের সুরে বলল,

লিয়ানা:"কাল রাতে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলি কেনো? আর গিয়েছিস ভালো কথা আমাকে জানিয়ে যাসনি কেনো? এখন আবার কোথায় যাচ্ছিস"

লাইসু:"বাড়িতে চলে যাচ্ছি আপি"

লিয়ানা:"বাড়িতে যাচ্ছিস মানে?"

লাইসু:"আমার একটা ইমপোর্টেন কাজ আছে। এক ফ্রেন্ড ওয়েট করছে আমাকে যেতে হবে, বায় আপি"

লাইসু বেরিয়ে গেলো। লিয়ানা ঠিকই বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে মেয়েটার। নয়তো এতো চুপচাপ থাকার মতো মেয়ে লাইসু নয়।

--

পরবর্তী পর্বের অংশ,

৩:৪০, চৌধুরী বাড়ি,

ইরা:"আপনি একটা খুনী, বিশ্বাসঘাতক, প্রতারক।"

শাহেদ:"প্রমাণ আছে কেনো তোমার কাছে মামণি?"

ইরা:"এখন হয়তো নেই, বাট আই সোয়ার আমি প্রমাণ করেই ছাড়বো । বায় দ্য ওয়ে, আমি অফিস জয়েন করবো ফুপা, সো এই সাত বছরের সকল হিসাব নিকাশ এর ফাইল আমি যেনো আমার টেবিলে পাই।"

শাহেদ চৌধুরী এবার কিছুটা ঘামতে শুরু করলো।

(চলবে...)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন