ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

৩৫তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব :৩৩ (পুরো অংশ)

লাইসু চলে যাওয়ার পর লিয়ানাও চলে গেলো বোনের পেছন পেছন। লাইসু গাড়ির কাছে গিয়ে কাদতেঁ লাগলো।

লিয়ানা পেছন থেকে বোন কে কাদতেঁ দেখে জরিয়ে ধরলেন। লাইসু বোনের স্নেহের ছোঁয়া পেতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।

তারপর লিয়ানাকে সব খুলে বললো। লিয়ানা অনেক শান্তনা দিয়ে লাইসুকে শান্ত করলো। গাড়ি নিয়ে হারিয়ে গেলো দুই বোন কোনো অজানা উদ্দেশ্যে।

--

৩:৪০, চৌধুরী বাড়ি,

ইরা হেলেদুলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলো। ড্রয়িং রুমে এখন তেমন একটা কেউ নেই। দুপুরের খাবার খেয়ে সবাই হালকা ন্যাপ নিতে গেছে। সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠান শুরু হবে।

এই সময় একটা পাকিস্তানি সিরিয়াল হয়। ঐটা ইরার খুব প্রিয় একটা সিরিয়াল। সেটা দেখার জন্যই সে টিভি দেখতে এসেছে।

ইরা নিচে এসে সোফায় বসতেই পেছন থেকে পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে আসে।

শাহেদ চৌধুরী তাচ্ছিল্য স্বরে বলছেন,

শাহেদ:"মামণি, এতো লাফালাফি করে শেষ পর্যন্ত কি করতে পারলে? শুধু শুধু সময় নষ্ট।"

ইরা পেছনে ফিরে তাকায়। শাহেদ চৌধুরীকে দেখে লুৎফা বেগম এর ফোনের ভিডিওর কথা মনে পড়ে যায়। উনার প্রতি ইরার সবটুকু ঘৃণা উগ্রে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কিন্তু এখন তা করলে চলবে না।আগে শক্ত প্রমাণ জোগাড় করতে হবে। যেভাবেই হোক লুৎফা বেগম এর কাছ থেকে ভিডিওটা হাতাতে হবে।

ইরা:"আরে মিস্টার চৌধুরী যে। তা কেমন চলছে আপনার কুটনামি না মানে অন্যের টা মেরে খাওয়ার ব্যবসা?"

শাহেদ চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,

শাহেদ:"কি বলতে চাইছো তুমি?"

ইরা:"আপনি একটা খুনী, বিশ্বাসঘাতক, প্রতারক।"

শাহেদ:"প্রমাণ আছে কেনো তোমার কাছে মামণি?"

ইরা:"এখন হয়তো নেই, বাট আই সোয়ার আমি প্রমাণ করেই ছাড়বো । বায় দ্য ওয়ে, আমি অফিস জয়েন করবো ফুপা, সো এই সাত বছরের সকল হিসাব নিকাশ এর ফাইল আমি যেনো আমার টেবিলে পাই।"

শাহেদ চৌধুরী এবার কিছুটা ঘামতে শুরু করলো।

আমতা আমতা করে বলল,

শাহেদ:"তু..তুমি এই বয়সে অফিস জয়েন করে কি করবে? ব্যবসার কিছু বুঝো তুমি। পুচকি একটা মেয়ে"

ইরা:"এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন। আপনার মতো ব্যবসা আমি বুঝি না আর কখনো বুঝতেও চাই না।আমি কিছু বুঝি আর না বুঝি আপনার ছেলে নিশ্চয় ব্যবসাটা ভালোই বুঝে। যদি না বুঝতো তাহলে নিশ্চয় এই বয়সে এতো দূর আসতে পারতো না।"

শাহেদ:"কি বলতে চাইছো?"

ইরা:"বলছি যে আমার সাথে আপনার ছেলেকেও অফিসে নিয়ে যাবো ভাবছি।তারও তো একটা দায়িত্ব আছে শশুরের ব্যবসা বুঝে নেওয়ার।"

--

সন্ধ্যা ৬:৩০,

কিছুক্ষণের মধ্যে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে। একে একে সবাই ছাদে এসে জড়ো হচ্ছে। প্রায় দশ মিনিট পরে ইরা আর রুপা এসে বসলো স্টেজে। তার কিছুক্ষণ পরে উদয়, সিয়ামও চলে আসে। এর পর শুরু হয় একে একে হলুদ ছুয়ানো।

হলুদ ছুয়ার পর্ব শেষ করতে করতে প্রায় রাত আটটা বেজে যায়। তাই সবাই খেতে চলে যায়। খাওয়া দাওয়ার পর শুরু হবে ছেলে মেয়েদের নাচগান। উদয়, ইরা, রুপা, সিয়াম আর নিশি এক টেবিলে খেতে বসেছে। নিশির পাশের একটা চেয়ার এখনো খালি।

হাসান খাবারের প্লেট নিয়ে ওদের টেবিলের পাশ দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিল। পেছন থেকে হঠাৎ সিয়াম ডেকে বলে,

সিয়াম:"এখানেই বসো ভাইয়া, চেয়ার তো একটা খালিই আছে।"

হাসান দ্বিমত পোষণ না করে বসতে গেলে নিশি বলে উঠে,

নিশি:"উনি হচ্ছেন সিঙ্গেল মানুষ। কাপল দের মাঝে বসে কি করবেন। এখানে বসলে খেতে লজ্জা পাবেন উনি।"

নিশির কথায় উদয় বাদে সবাই ওর দিকে একবার তাকিয়ে আর একবার হাসানের দিকে তাকাচ্ছে। হাসান নিশির কথায় পাত্তা না দিয়ে বসতে বসতে বলল,

হাসান:"এখানে তো আমি ওদের দুজন কাপল ছাড়া অন্য কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। আপনার পার্টনার কোথায় মিসেস?"

নিশি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,

নিশি:"আপনি আমাকে মিসেস বলছেন কেনো?আমি কি মেরিড নাকি? আর আমার পার্টনার কোথা থেকে আসেব?"

হাসান:"সেটা তো আপনিই ভালো জানেন। নাহলে নিজেকে কাপল বলে দাবি করছেন কেনো যদি আপনার পার্টনার না থাকে।"

এবার নিশি বুঝতে পারে হাসানের কথা। নিজেরই যেহেতু ভুল তাই আর কথা না বলে খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। হাসান কিছুক্ষণ থেমে আবার বলতে শুরু করে,

হাসান:"আপনারও পার্টনার নেই আমারও নেই তাই দুজনে মিলে পার্টনার হয়ে গেলে কেমন হয় মিস বেয়াদব।"

হাসানের কথা শুনে নিশি ভীষম খেলো। সবাই বড়ো বড়ো চোখে তাঁকিয়ে আছে হাসানের দিকে। এই লোকের মুখে এসব কথা কেউ আগে কোনোদিন শুনেনি।

এতক্ষণে উদয়ের খাওয়া শেষ। উদয় ইরার দিকে তাকিয়ে কর্কশ গলায় বলল,

উদয়:"খাবার না খেয়ে এভাবে ওর দিকে আহাম্মকের মতো তাঁকিয়ে আছিস কেনো।তোর জামাই এইদিকে।যদি এতই তাঁকিয়ে থাকার ইচ্ছে থাকে তাহলে আমার দিকে তাকা।"

উদয়ের কথা শুনে সবাই আরেক চোট অবাক হলো। তারপর আবার স্বাভাবিক ভাবে খেতে শুরু করলো। উদয় উঠে যেতে যেতে সবার উদ্দেশ্যে বলল,

উদয়:"সবাই ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে খাওয়া শেষ করে স্টেজে আয়। নয়তো অনুষ্ঠান এখানেই বন্ধ করে দিবো।"

উদয়ের কথা শুনে সবাই তাড়াতাড়ি খেতে শুরু করলো। বলা তো যায় না আবার কখন অনুষ্ঠান সত্যি সত্যি বন্ধ করে দেয়। এই ছেলে যা বলে তাই করে, সবাই এটা জানে। সবাই খাওয়ায় মনোযোগ দিলেও হাসান খুব ধীরে ধীরে খাচ্ছে। উদয়ের দিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

উদয় যেমন হাসানকে পাত্তা দেয় না হাসানও তেমন উদয়কে পাত্তা দেই না।তারও অবশ্য একটা কারণ আছে।

সবার খাওয়া শেষ করতে করতে প্রায় ৯:২০ এর মত বেজে গেছে। সবাই স্টেজের এখানে এসে ভিড় জমিয়েছে।

রুপার এক ফ্রেন্ড এখন নাচ করবে। তারপর হবে গ্রুপ ড্যান্স। ইরা আর রুপা দুজনে মিলে একটা পারফর্ম করতে চেয়েছিল কিন্তু উদয় না করে দিয়েছে। বিয়ের আগের দিন এভাবে নেচে হাত পা ভাঙলে হবে না। উদয়ের কথার উপর কেউ আর কিছু বলতে পারেনি।

রাত ১০ টা,

এখনো নাচ চলছে। উদয় এসব দেখে খুব বোর হচ্ছে।কিন্তু কি আর করার বউ যেখানে সে তো সেখানেই থাকবে । অনেকক্ষন ধরে ইরাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু তার বেয়াদব বউটা তাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। এবার উদয় বিরক্তির স্বরে বলল,

উদয়:"চল না জান রুমে যাই।আমার আর এইসব টেরিং বেরিং নাচ ভালো লাগছে না"

ইরা:"আপনি এতো ফালতু কথা বলেন কীভাবে? কালও আমি আপনার জন্যে ইনজয় করতে পারিনি। আজকে আর তা হবে না।"

উদয়:"বালের ইনজয় করবি তুই। এর চেয়ে বেশি মজা তুই বেডে পাবি। চল প্লীজ বেটারহাঁফ। আমাকে কঠোর হতে বাধ্য করিস না।"

ইরা:"আপনার যেমন এটাকে বালের এনজয় মনে হচ্ছে আমার কাছেও তেমন ওইটাকে বালের এনজয় মনে হয়।"

উদয়:"তোর তো সাহস কম না। আমার মুখে মুখে কথা বলছিস।"

ইরা:"আমি আবার কখন আপনার মুখে কথা বললাম।আমি তো আমার মুখেই কথা বলছি, আজব।"

উদয় এবার নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে ইরাকে কোলে নিতে যায়।তবে ইরা উদয়ের মনোভাব বুঝতে পেরে জায়গা থেকে সরে এক ধাক্কায় তার পাশে দাঁড়ানো সিয়ামকে দাড় করিয়ে দেয়। উদয়ও এক টানে সিয়ামকে কোলে তুলে নেয়। ঘটনা এতো দ্রুত ঘটেছে যে উদয় বা সিয়াম কেউ কিছুই বুঝতে পারেনি। কিছু সেকেন্ড পর যখন উদয় বুঝতে পারলো সে কি করে ফেলেছে তখনি ঠাস করে সিয়ামকে ছেড়ে দেয়। সিয়ামেও ধপাস করে ফ্লোরে পরে যায়।

সিয়াম কোমড় ধরে চিৎকার করতে করতে বলতে থাকে,

সিয়াম:"গেলো রে গেলো আমার কোমড় গেলো। বিয়ের আগেই আমাকে পঙ্গু বানিয়ে দিলো আমার সমন্ধি।আমার না হওয়া বাচ্চা গুলো এখন আমাকে অভিশাপ দিবে, কেনো আমি তাঁদের দুনিয়াতে আনতে পারছি না। তারা তো আর বুঝবে না তাঁদের গুনোধর মামা তাঁদের পৃথিবীতে আসা সহ্য করতে পারবে না বলে তার বাবার কোমড়টাই ভেঙে দিয়েছে।"

সিয়ামের এমন আবোল তাবোল কথা শুনে রুপা তাড়াতাড়ি এসে ওর মুখ চেপে ধরলো।জোরে সাউন্ড সিস্টেম থাকায় বেশি কেউ শুনতে পায়নি সিয়ামের কথা। তবে যারা কাছাকাছি ছিলো তারা শুনে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা। সিয়ামের দিকে উদয় বিরক্তির দৃষ্টি ফেলল। আশেপাশে ইরাকে খুঁজলো। এই মেয়েকে একটা উচিত শিক্ষা দিবে। দিন দিন সাহস শুধু বেড়েই চলছে এই মেয়ের। আজকে হাতের কাছে পেলে একদম পিষে ফেলবে।

উদয় চারপাশে চোখ ঘুরাতে লাগল। হঠাৎ দেখলো ইরা রোকেয়া বেগমের পেছন থেকে উঁকি দিচ্ছে আর মিটিমিটি হাসছে।

--

পরবর্তী পর্বের অংশ,

ইরা:"করবো না আমি এই বিয়ে। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমার বাবা মায়ের খুনীর যথাযথ শাস্তি হচ্ছে।"

উদয়:"তুই এখন কি চাস তাহলে?"

ইরা:"এটাও এখন আমাকে বলে দিতে হবে?ও নিজের বাবার দোষ চোখে পড়েও পড়ছে না তাইতো? নিজের বাবার দোষ এখন এড়িয়ে যেতে চাইছেন?"

ঠাস করে একটা শব্দ হলো পুরো ড্রয়িং রুম কাপিয়ে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন