গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#পর্ব:৩৪
সকাল ৮:৪০,
ইরা ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে সিঁড়ি বেয়ে নামছে। কাল অনেক রাত করে ঘুমানোর কারণে এখনো ঘুম পুরোপুরি কাটেনি। ঐভাবেই কোনরকমে হেঁটে এসে সোফায় বসলো।
একবার সামনে তাকানোর প্রয়োজন টুকু মনে করলো না। তার সামনে বসা চোঁখ জোড়া যে তার দিকে নিবিষ্ট সে দিকে কি ইরার মন আছে।
সোফায় হেলান দিয়ে আবার তলিয়ে গেলো সুখময় এক অন্য পৃথিবীতে।। এভাবে চললো প্রায় বিশ মিনিট।
বিশ মিনিট এর মাথায় রোকেয়া বেগম রান্না ঘর থেকে বেরোতে বেরোতে বলতে লাগলেন,
রোকেয়া:"কি হয়েছে বাপ, এতো তাড়াতাড়ি ডাকলি যে?"
রোকেয়া বেগম এর কথায় ইরার ঘুম কিছুটা আলগা হয়ে এলো। সামান্য নড়ে উঠলো। তবে পুরোপুরি ঘুম ভাঙ্গলো না।
ইরার সামনের সোফায় বসা উদয় রোকেয়া বেগম এর দিকে তাকিয়ে যথাসম্ভব নিচু স্বরে বললো,
উদয়:"আস্তে কথা বলো আম্মু। ওর ঘুম ভেঙে যাবে। এখন তুমি যাও পরে আবার আমি ডেকে নিবো তোমায়।"
ছেলের কথায় রোকেয়া বেগম মুচকি হাসলেন। তারপর আবার কিচেনের দিকে হাঁটা দেয়।
ইরা নিজের কাজে ব্যাস্ত আর উদয় তার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকতে ব্যাস্ত।
--
নিশি সকালে উঠে ছাদে এসেছিল। বাড়ির জন্য মনটা কেমন যেনো করছে। তাই তার মাকে কল দিয়ে কিছুক্ষন কথা বলে এখন ছাদে থাকা ফুলগুলিকে দেখছিল। হঠাৎ পেছন থেকে গম্ভীর পুরুষালি এক কন্ঠস্বর ভেসে আসে,
হাসান:"এই মেয়ে ফুলগুলিতে একদম হাত দিবে না।"
নিশি অবাক হয়ে পেছনে তাকায়। হাসানকে ভাবলেশহীন ভাবে তাঁকিয়ে থাকতে দেখে কপাল খানিকটা কুঁচকে যায় তার। সে শক্ত কণ্ঠে বললো,
নিশি:"এই সমস্যা কি আপনার? সব সময় শুধু আমার পেছনে পড়ে থাকেন। আপনার কি খেয়ে দেয়ে আর কোনো কাজ নেই?"
হাসান:"সেই কৈফিয়ত আমি তোমাকে বলতে যাবো কেনো?"
নিশি:"আমার তো মনে হয় না যে আপনি কোনো কাজ করেন। আসলে আপনি তো কোনো কাজেরই না।"
হাসান:"আমি কাজ করি না?আমার অফিসের কাজ কি তাহলে তোমার মতো পেত্নী এসে করে দিয়ে যায় ?"
নিশি:"এই যে হনুমান প্রসাদ, আপনি আমাকে পেত্নী বলছেন কেনো?"
হাসান:"তোমার দ্বারাই সম্ভব এসব আজগুবি নাম বের করা, ডিসগাস্টিং।"
নিশি:"আপনি ডিসগাস্টিং , আপনার বউ ডিসগাস্টিং, আপনার ছেলে মেয়ে সবাই ডিসগাস্টিং। কতো বড়ো সাহস আমাকে ডিসগাস্টিং বলে।"
হাসান:"আমিও তো ওটায় বললাম।তোমার নিজেকে নিজে গালি দিতে এতো ভালো লাগে, আগে জানতাম না তো ।"
হাসানের পেঁচানো কথা নিশির মাথার উপর দিয়ে গেলো। নিশি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো কে হাসান কী বললো। নিশির অবস্থা দেখে হাসান মুচকি হেঁসে বলল,
হাসান:"এতো চিন্তা করতে হবে না। তোমাকে কিছুই বলিনি আমি।যা বলার সব আমার ভবিষ্যৎ বউ কে বলেছি। বায় দ্যা ওয়ে,ফুলে যেনো হাত না যায়।"
নিশি চিন্তা বাদ দিয়ে এবার কোমরে হাত ধরে শক্ত কণ্ঠে বললো,
নিশি:"একশোবার হাত দিবো, হাজার বার হাত দিবো। আমি তো আর আপনার হাত দিয়ে ফুল গুলো ধরবো না, আমার নিজের হাত দিয়েই ধরবো। আর গাছ গুলো কি আপনার নাকি আপনার বউ এর?"
হাসান নিশির কথায় কিছু একটা ভেবে বললো,
হাসান:"তুমি ঠিক বলেছো, যা আমার তা তো আমার বউ এরও,সো তুমি ধরতেই পারো , নো প্রবলেম।"
এবারের কথা গুলো যেনো আরও কিছু বুঝতে পারলো না নিশি।সে কিছু বলতে নিবে ওমনি হাসান চলে যেতে যেতে হাত উঁচিয়ে বললো,
হাসান:"কারি অন মায় ফিউচার বউ। গাছ গুলো যেহেতু আমার সে অনুযায়ী তোমারও,তাই ধরতে সমস্যা নেই।"
নিশি কিছু বুঝে উঠার আগেই হাসান মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে চুলে হাত বুলিয়ে ছাদ ত্যাগ করলো।হাসানের কথা বুঝতে নিশির কিছুটা সময় লেগে যায়।
যখন হাসানের কথায় অর্থ বুঝতে পারে ওমনি মাথায় হাত দিয়ে ছাদে বসে পড়ে।
--
প্রায় ত্রিশ মিনিট পর ইরার ঘুম ভাঙ্গে।সে আড়মোড়া ভেঙে সোজা হয়ে বসে আশেপাশে তাকায়, কিছু সেকেন্ড সময় লেগে যায় বুঝতে যে সে এখন ড্রয়িংরুমে আছে।
ইরা সামনে তাকাতেই উদয়কে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকতে দেখে কিছুটা গুটিয়ে যায় সে। তারপর এক এক করে মনে পরে যায় সকালে ঘটা ঘটনা,
সকালে এক সার্ভেন্ট গিয়ে ইরাকে বলে যে উদয় নাকি কি এক জরুরি কথা বলবে তাই নিচে ডাকছে।কিন্তু ইরা নিচে আসতে আসতে সেটা ভুলে বসেছিলো। সোফায় এসে আরামের ঘুম ঘুমাচ্ছিল।উদয়ের এমন চাহনি দেখে ইরা কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো।
উদয় এতক্ষণ ধরে এখানেই বসে ছিলো।এর মধ্যে ওর ফোন অফিস থেকে অনেক কল এসেছিল কিন্তু সে ধরেনি।তার কাছে তার বউকে দেখার চেয়ে আর কোনো কিছু জরুরি না। এতক্ষণ ড্রয়িংরুমে কাউকে একটা শব্দ পর্যন্ত করতে দেয়নি। যদি তার বউ এর ঘুম ভেঙে যায়।তাহলে তো সে এই নিষ্পাপ মুখ খানা এতো গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না।
ইরা ঘুম জড়ানো কাপা কাপা কণ্ঠে বলল,
ইরা:"আ..আপনি ডেকে ছিলেন?আসলে আমি এখানে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।আপনি ক.. কখন এসেছেন?"
উদয়:"যখন থেকে আমার বউ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল তখনই এসেছি।"
ইরা এবার কিছুটা লজ্জা পেলো।
ইরা:"কি বলবেন বলেছিলেন,বলেন।"
উদয় রোকেয়া বেগমকে ডেকে পাঠাল।কিছুক্ষণের মধ্যেই শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে রোকেয়া বেগম কিচেন থেকে বেরিয়ে এলেন। একটু পর বিয়ে শুরু হবে, দুপুর দুইটায় ভেন্যুতে পৌঁছাতে হবে সবাইকে। তাই ওনার কাজের শেষ নেই।
রোকেয়া বেগম এসে বসলেন ইরার পাশে।উদয় একবার ইরার দিকে তাকিয়ে মায়ের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। উদয় গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
উদয়:"আম্মু নিজেকে শক্ত করো।আমি এখন যে কথাটা বলবো সেটা হয়তো তুমি সহ্য করতে পারবে না। মনে সাহস সঞ্চয় করো।"
উদয়ের কথা শুনে রোকেয়া বেগম এর বুক এক প্রকার কেঁপে উঠলো। ইরা তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে উদয়ের দিকে। বুঝার চেষ্টায় আছে সে, উদয় ঠিক কি এমন বলবে...
চলবে....