ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

৩৮তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব: ৩৬

উদয় একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলো..

উদয়:"এবার কি আপনি সবটা বলবেন নাকি আমি বলবো? আপনি আমার বাবা এটা ভেবেই আমার ঘৃণা হচ্ছে।"

শাহেদ চৌধুরী:"প্লীজ চুপ করো উদয়। তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি যা করেছি সব তোমার আর রুপার জন্য।"

উদয়:"আপনি এতোই ভালো করতে চেয়েছেন যে আমার কলিজাটাকেই কেড়ে নিতে চাইছিলেন।"

উদয় সামান্য তাচ্ছিল্য স্বরুপ হাসলো। ইরা অবাক হয়ে তাঁকিয়ে আছে উদয়ের দিকে। উদয় এর কাছে কি আদৌও কোনো প্রমাণ আছে?নাকি শুধু ভয় দেখানোর জন্য এমন করছে?

ইরার ভাবনার মধ্যেই উদয়ের কন্ঠ শুনে যায়,

উদয়:"ইরাকে কেনো মারতে চাচ্ছিলেন মিস্টার চৌধুরী? সম্পত্তির লোভে? ওইদিন ইরাকে তুমিই কিডন্যাপ করেছিলে। কিডন্যাপিং এর দোষ সিয়ামের উপরে চাপাতে চেয়েছিলে যেনো রুপার সাথে ওর বিয়েটা আমি ভেঙে দেই। কিন্তু সেটাতে তুমি ব্যার্থ হয়ে ইরাকে মারার জন্য যখন তোমার রিভলবার বাড়ি থেকে নিতে আসো তখন আমার অবস্থা দেখে ইরাকে অজ্ঞান অবস্থায় জঙ্গলে একটা মোবাইল দিয়ে ফেলে আসো।"

উদয় চ বর্গীয় কিছু উচ্চারণ করে সোফা থেকে উঠে শাহেদ চৌধুরীর চারপাশে ঘুরতে লাগলো। এক রাউন্ড দিয়ে সামনে এসে দাড়িয়ে বললো,

উদয়:"তুমি এরকম জানোয়ার হয়ে মানুষের মতো এতো কাঁচা কাজ করলে কি করে আমি শুধু সেটায় ভাবছি।"

শাহেদ চৌধুরী কপাল কুচকে তাঁকিয়ে আছে।

উদয়:"ওই ফোনে যেই সিম তুমি দিয়ে এসেছিলে ওটা তোমার নামেই রেজিস্টার করা। এবংকি ওই সিমটা তুমি ওইদিনই কিনেছিলে। কি ঠিক বললাম তো?"

শাহেদ চৌধুরী নিশ্চুপ। রোকেয়া বেগম মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ফুপাচ্ছেন। রুপা ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে। উদয় আবার বলতে শুরু করলো,

উদয়:"কোনো দিক দিয়ে নিজের সুবিধা করতে পারলেনা বলে লাইসুর নিস্পাপ মনটা বিষিয়ে দিলে। এই পাপের খেলায় নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড কেউ টেনে আনলে। আসলে লোভ তো সবারই আছে।এই দুর্বলতাই তুমি কাজে লাগিয়ে লিয়ানার আম্মুকে নিজের দলে টেনে নিয়েছ। লাইসু হয়ত অনেক আগে থেকে আমাকে পছন্দ করতো। কিন্তু এরকম অভদ্রের মতো ব্যবহার ও এই প্রথম করেছে। তবুও তোমার আর ওর মায়ের কথায়। ওর ছোট্ট মনে আমার বিষয়ে আশা জাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চাইছিলে। মেয়েটা আমার করা অপমান সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করতে যাচ্ছিলো। লিয়ানা না থাকলে হয়তো এই ছোট্ট প্রাণটা আজকে আর পৃথিবীতে থাকতো না। তুমি এতো নিষ্ঠুর কবে থেকে হলে??"

লাইসু বোনকে জরিয়ে ধরে কাদছে। লিয়ানা ওর কাছ থেকে সব জানার পর উদয়কে বলে দেয় সবকিছু। শাহেদ চৌধুরী বলেছিলেন আজকে ইরাকে যেনো অজ্ঞান করে বাড়ির পেছনের জঙ্গলে দিয়ে আসে লাইসু। আর বিয়েতে ঘোমটা দিয়ে ইরার জায়গায় নিজে বসে পড়ে। তারপর তারা ইরাকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে কাগজে সই করিয়ে মেরে ফেলবে। তাঁদের এই সকল ষড়যন্ত্র লাইসু ফাঁস করে দিয়েছে উদয়ের কাছে। নির্বিকার চিত্তে দাড়িয়ে থাকা শাহেদ চৌধুরীর দিকে তাঁকিয়ে উদয় আবার বললো,

উদয়:"তুমি মানুষ না, তুমি হলে একটা জানোয়ার, তুমি একটা সাইকো।"

এবার শাহেদ চৌধুরী তেতে উঠে বললেন,

শাহেদ চৌধুরী:"হ্যাঁ আমি জানোয়ার।আমি খুন করেছি ইকবাল শিকদার আর নাছিমা শিকদারকে।কি করবি তুই? তোর কাছে প্রমাণ আছে? আমিই ওইদিন ইরাকে কিডন্যাপ করেছিলাম, আমি ইরাকে মারার প্ল্যান করেছিলাম। তোর কাছে তো কোনো প্রমাণ নেই তাই তোর কিছু করারও নেই।"

বলেই নরপিশাচের মতো হাসতে লাগলো। ইরার কাছে খুব বিশ্রী লাগলো এই হাসি। ইরা অসহায় দৃষ্টিতে লুৎফা বেগম এর দিকে তাকালো। তিনিও ইরার দিকেই তাঁকিয়ে ছিল এতক্ষণ। ইরা তাকাতেই তিনি চোখ সরিয়ে নিলেন। বুঝালেন তার কিছুই করার নেই।

শাহেদ চৌধুরী আবার বলতে শুরু করলেন,

শাহেদ চৌধুরী:"আমি চাইনি ওই পিতৃহীন মায়ের ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হোক, তাই সিয়ামকে ফাঁসাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি।"

লুৎফা বেগম এর চোখ ছলছল করে উঠলো। উনার জন্য আজকে ওনার ছেলেদের অপমাণিত হতে হচ্ছে।

শাহেদ চৌধুরী:"লুৎফা আমার আপন বোন না।ওকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছিলেন আমার বাবা।"

হঠাৎ কথা শেষ করার আগেই লতিফা বেগম কষিয়ে থাপ্পড় বসালেন শাহেদ চৌধুরীর গালে।সবাই হতভম্ব। লতিফা বেগম রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,

লতিফা:"তুই এতোটা কুলাঙ্গার হয়েছিস যে নিজের বাপের শেষ ইচ্ছাটা রাখতে পারলি না, ছিঃ। তোকে আমি পেটে ধরেছিলাম এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।এখন বুঝতে পারছি নিজের পেটের সন্তান এর চাইতে আরেকজনের পেটের সন্তান বেশি ভালো।আমি একটা জানোয়ার জন্ম দিয়েছি।"

লুৎফা বেগম দৌঁড়ে গিয়ে লতিফা বেগমকে জড়িয়ে ধরলেন।

লুৎফা:"আপনি উত্তেজিত হবেন না আম্মা।এই দিনটার সম্মুখীন একদিন না একদিন আমাকে হতেই হতো।"

উদয়:"এতো সম্পত্তি দিয়ে কি করতে তুমি আব্বু?তোমার যা কিছু আছে তা দিয়েই তো সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারতে।এই সম্পত্তির লোভে তুমি মানুষ খুন করলে?"

শাহেদ চৌধুরী কেমন জানি উন্মাদের মতো বলতে লাগলো,

শাহেদ চৌধুরী:"আমার আরও চাই।আমি সবার উপরে থাকতে চাই।সবাই যেনো আমার কাছে মাথা নিচু করে থাকে সেটা চাই আমি।কিন্তু ওই ইকবাল শিকদার আর সামনে আমাকে মাথা নিচু করে থাকতে হতো কারণ তার সম্পদ ছিলো আমার চাইতেও বেশী।সেটা আমার সহ্য হয়নি।তাই ভেবেছিলাম তোকে দিয়ে ওর মেয়েকে বিয়ে করিয়ে ওর সব সম্পত্তির মালিক হবো আমি।কিন্তু মাঝখান থেকে ওই লুৎফা ঝামেলা পাকিয়ে দিলো।"

উদয়:"কথায় আছে, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।"

শাহেদ:"আমাকে মৃত্যু দেওয়ার মতো এখনো কেউ জন্মায়নি।তাই এটা আমার কাছে অর্থ হীন।"(কুৎসিত হেঁসে)

লুৎফা:"আমি দিবো তোমাকে মৃত্যু।আমি তোমাকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাবো।আছে আমার কাছে প্রমাণ।"

সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল লুৎফা বেগম এর দিকে। লুৎফা বেগম মোবাইল থেকে ভিডিও বের করে সবার সামনে ধরলো।সবাই ভিডিও দেখে হতভম্ভ। শাহেদ চৌধুরী ঘামতে লাগলেন।তিনি লুৎফা বেগম এর হাত থেকে মোবাইল নিয়ে বললেন,"দেখি ভিডিও টা এআই দিয়ে বানানো কিনা"

তখনি উদয় তার হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিলো। বললো,

উদয়:"শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেই না মিস্টার চৌধুরী।"

তখনই পুলিশ ঢুকলো বাড়ীতে।উদয় পুলিশের হাতে মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিয়ে, টি টেবিলের ফুলদানিতে লুকিয়ে রাখা ক্যামেরা বের করলো। সেটা শাহেদ চৌধুরীর সামনে ধরে কুটিল হাসলো।উদয় ওটাও পুলিশের হাতে দিলো। পুলিশ যেই এগিয়ে আসতে যাবে শাহেদ চৌধুরী কে ধরতে ওই মুহূর্তে শাহেদ চৌধুরী এক টানে ইরাকে নিজেরা কাছে এনে কোমর থেকে পিস্তল বের করে ইরার মাথায় ঠেকায়।

শাহেদ:"আমার দিকে কেউ এগিয়ে আসলে বা আমাকে আটকানোর চেষ্টা করলে মেরে দিবো একে।সামনে থেকে সরে যাও সবাই।"

সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছে এই কাণ্ড দেখে। শাহেদ চৌধুরী বিশ্রী একটা হাসি দিয়ে সবাইকে কাটিয়ে দরজার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

পুলিশ অফিসার তাকে সাবধান করে বলছেন,

"ছেড়ে দেন উনাকে, ভালো হবে না কিন্তু।"

পুলিশটি হালকা এগিয়ে আসতে যায় ঠিক ওই মুহূর্তেই পিস্তল থেকে গুলি বের হওয়ার শব্দ শুনা যায়।

মুহূর্তেই ইরার সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন