গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)
#পর্ব :৩৭
পিটপিট করে চোঁখ খুলে তাঁকালো ইরা । নিজেকে উদয়ের বেডে আবিষ্কার করলো। আস্তে আস্তে আগের ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা মনে করতে চাইলো। মনে পড়তেই বিছানা থেকে উঠে নিচে যাওয়ার জন্যে পা বাড়ালো।
নীচে নামতেই সবকিছু কেমন স্বাভাবিক ঠেকলো ইরার কাছে। রোকেয়া বেগম ইরাকে দেখে তাড়া দিয়ে বললেন,
রোকেয়া:"উঠে গেছিস মা,যা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। আর দাঁড়িয়ে থাকিস না,যা যা তাড়াতাড়ি যাহ।"
রোকেয়া বেগম নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঠিকই গুমরে মরছে। ইরা উনার অবস্থা বুঝতে পেরে মুচকি হেঁসে জরিয়ে ধরলো। রোকেয়া বেগমও জরিয়ে ধরে আবার তাড়া দিলেন। ইরাও রেডি হতে চলে গেলো।
সকালে ইরা গুলির শব্দ শুনে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। গুলিটা করেছিল উদয়। শাহেদ চৌধুরীর হাতে লাগে গুলিটা। গুলি লাগার পর শাহেদ চৌধুরীর হাত থেকে পিস্তল পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ তাকে আটক করে নেয়। তারপর থানায় চলে যায়।
--
সময় বিকাল দুইটা বেজে ত্রিশ মিনিট,
এতক্ষণে ভ্যানুতে সবাই পৌঁছে গেছে ।কিছুক্ষণের মধ্যেই খাওয়া দাওয়া শুরু হবে,তারপর বিয়ে।
সবার খাওয়া শেষ হতে প্রায় বিকেল চারটায় বেজে গেলো। উদয় আর ইরার যেহেতু আগেই বিয়ে হয়েছে তাই তাদের আর বিয়ে পড়ানো হলো না,শুধু রুপা আর সিয়াম এর বিয়েটা হলো।
অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে প্রায় রাত আটটা বেজে গেছে।সবাই সবার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে দিয়েছে। নিশিও ওখান থেকে বাড়িতে চলে গেছে। ইরা আর রুপা অনেক জোরাজুরি করেছিল কিন্তু বাড়ির জন্য মন খারাপ লাগছে শুনে আর বেশি কিছু বলেনি।
মূলত নিশি বাড়ির জন্য চলে যায়নি। মূল কারণ হলো হাসান। আজকে সকালে ছাদে বলা কথা গুলো নিশির মনে হলেই শরীর কেমন যেনো ঝাকুনি দিয়ে উঠে।আজকে বিয়ের পুরো সময়টা হাসান কেমন করে যেনো নিশির দিকে তাকিয়ে ছিলো।নিশি সেটা খেয়াল করে আরও অস্বস্তি বোধ করছিল। তাই আর ও বাড়ীতে না গিয়ে সোজা নিজের বাসায় চলে যায়।
--
সবাই বাড়িতে পৌঁছে যে যার রুমে চলে যায়।উদয় ওইদিক দিয়েই থানায় গেছে।কিছু ফরমালিটিস সেরে চলে আসবে।এই সুযোগে ইরা সিয়ামের রুমে রুপা কে নিয়ে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয় ভেতর থেকে।
কিছুক্ষণ পরে সিয়াম রুমে এসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে ভাবলো হয়তো রুপা ড্রেস চেঞ্জ করেছে দরজা আটকে।নয়তো এমন কাজ করার মতো এই বাড়িতে আর কেউ নেই।সিয়াম রসালো কণ্ঠে বাইরে থেকে রুপাকে ডেকে বললো,
সিয়াম:"দরজা খুলো জানেমান।তুমি কেনো এতো কষ্ট করে নিজেকে আমার জন্য রেডি করে রাখছো?আমি নিজেই আমার নিজের খাবার রেডি করতে বেশি পছন্দ করি। দরজা খুলো ময়না।"
ভেতর থেকে ইরা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।ইরা ভেতর থেকে বললো,
ইরা:"আজেক আর আপনার বউকে পাবেন না ভাইয়া।"
সিয়াম:"ইরা,তুমি আমার জায়গায় আমার বউ এর সাথে কি করছো? তোমার জায়গা তো উদয়ের রুমে। দরজা খুলো আমি আমার বউ এর কাছে যাবো।"
ইরা:"দরজা খুলতে পারি,তবে একটা শর্ত আছে।"
সিয়াম:"কি শর্ত বোন আমার?"
ইরা:"দশ হাজার টাকা দিলে বউ পাবেন নয়তো আপনি আর আপনার ভাই একসাথে শোক পালন করুন গিয়ে।"
ওই মুহূর্তে উদয় নিজের রুমে যাচ্ছিলো সিয়ামের রুমের সামনে দিয়ে।রুমের ভেতরে ইরার গলার আওয়াজ শুনে দাঁড়িয়ে গেছে।সিয়াম কিছু বলার আগেই উদয় গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
উদয়:"তুই ওখানে কি করছিস বেটারহাঁফ?তোর তো আমার সঙ্গে থাকার কথা। আমাকে রেখে অন্যের বউ নিয়ে টানাটানি করছেন কেনো?"
ইরা:"আমি অতকিছু বুঝি না।টাকা দাও যে যার বউ নিয়ে যাও।"
উদয়:"কতো লাগবে?"
ইরা:"দশ হাজার। পাঁচ আমার আর পাঁচ রুপা আপুর।"
উদয়:"তুই আমার বউ হয়ে এতো ছোটলোকি কথা বলিস কিভাবে?আমার বউ কিনা মাত্র দশ হাজার টাকা চাইছে,তবুও দুজনে ভাগ করে নেওয়ার জন্য। ছিঃ, যত্তসব ছোটলোকি কারবার।"
ইরা আস্তে করে রুপাকে জিজ্ঞেস করলো,
ইরা:"বেশি বলে ফেললাম নাকি যে তোমার ভাই এতো টাকা দেওয়ার শোকে উল্টা পাল্টা বলছে।"
আবার উদয় ইরাকে বললো,
ইরা:"নিজের ফোন চেক কর ছোটলোক।দেখে বিশ হাজার পাঠিয়ে দিয়েছি।"
ইরা ফোন চেক করে দেখে আসলেই উদয় বিশ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। ইরা আর কথা না বাড়িয়ে দরজা খুলে দিল। সিয়াম উদয়কে ধন্যবাদ দিয়ে বললো,
উদয়:"থ্যাঙ্কস ব্রো,আজকে তুই না থাকলে আমার আর বউ পাওয়া হতো না।আমার কাছে দশ হাজার তো দূরের কথা এখন দশ টাকা পর্যন্ত নেই। ফোনও ঘরের ভেতরে। থ্যাঙ্কস ব্রো, থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ।"
বলেই উদয়কে জরিয়ে ধরতে যায়।উদয় দু পা পিছিয়ে নাক ছিটকে বলে,
উদয়:"তোর আর মেয়েলি স্বভাব গুলো গেলো না। কতবার বলেছি আমি আমার বউ এর স্পর্শ ছাড়া আর কারো স্পর্শ সহ্য করতে পারি না।আমি আমার বউ এর প্রতি লয়াল। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো তোর এই গায়ে পড়া ভাব আমার একদম সহ্য হয় না।"
সিয়াম হা হয়ে তাকিয়ে আছে।উদয় ইরাকে কোলে তুলে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
উদয়:"আমি গেলাম আমার বউ নিয়ে। নিজের মেয়েলি স্বভাবটা পরিবর্তন কর।নয়তো আমার বোন ফিরিয়ে নিতে দু বার ভাববো না।"
--
দুবার রিং হতেই নিশি কল রিসিভ করলো।একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এসেছে।
নিশি :"হ্যালো কে?"
ওপাশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠে হাসান বললো,
হাসান:"একবার বারান্দায় আসো। মিস করছি খুব।"
হাসানের কণ্ঠ নিশি চিনতে পারে না।কারণ এর আগে কখনো ফোন কথা হয়নি হাসানের সাথে।নিশি কাঠ কাঠ গলায় জবাব দিলো,
নিশি:"আপনি কোন ক্ষেতের মুলা যে আপনার কথা শুনে আমাকে বারান্দায় যেতে হবে? আর আপনি আমাকে মিস করার কে ?আমি কি আপনার বিয়ে করা বউ নাকি?যত্তসব আজাইরা লোক।"
হাসান:"বউ হতে কতক্ষণ? তুমি বারান্দায় না আসলে আমি কিন্তু বাসায় চলে আসবো?"
নিশি:"ওই শালা কে রে তুই?এই নিশিকে ভয় দেখানো এতো সহজ নয়।তোর মত অনেক হনুমানকে আমি লেংটা করে ছেড়ে দিয়েছি। বাসায় আসবি আয়, তোকে আমার মা তার প্রিয় ঝাটা দিয়ে জামাই আদোর করে দিবে।"
হাসান:"ওকে।"
বলেই কল কেঁটে দিলো। কয়েক সেকেন্ড পর নিশি কলিং বেল শুনতে পায়। নিচে নামতে নামতে একা একাই বলে,
নিশি:"এই বাল কি সত্যি সত্যি চলে এলো নাকি? কোন শালার এত বড় সাহস দেখতে হবে তো।"
চলবে.....