ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

৪০তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত রাদিয়া)

#পর্ব:৩৮

নিশি দরজা খুলে হা করে তাকিয়ে আছে। দরজার বাইরে কেউ নেই। শুধু একটা গিফট বক্স রাখা। নিশির বুঝতে দেরি হলো না এটা যে ফোনের হনুমানটার কাজ।কিন্তু সে ভাবছে এই নতুন পাগল আবার কোথা থেকে আমদানি হলো।

হঠাৎ পেছন থেকে নিশির মা বলে উঠে,

"কে এসেছেরে নিশি?"

নিশির বুক ধুক করে উঠে। সে কথা গুলিয়ে ফেলেছে। কোনোরকমে আমতা আমতা করে বলল,

নিশি:"কেউ না তো আম্মু। কেউ না।হয়তো কোনো বাচ্চা দুষ্টামি করেছে।"

নিশির আম্মু চিন্তিত গলায় বললেন,

"এতো রাতে আবার বাচ্চা আসবে কোথা থেকে।"

নিশি ঢোক গিলে বলে,

"হবে হয়তো আশে পাশের বাসার।"

বলেই দরজা লাগাতে গেলে নিশির মা এক প্রকার চিৎকার করে তাকে থামতে বলে।

নিশি:"কি হলো আবার আম্মু?"

"দরজার বাইরে ওটা কিসের বক্স রে?"

নিশির ভয়ে গলা শুকিয়ে গেলো।এবার আর রক্ষা নেই। তার মা যেই মানুষ, আজকে তাকে একদম মেরেই ফেলবে। তার মা ছেলে ঘটিত বিষয় একদম পছন্দ করে না।নিশি ভয়ে গালি দিয়ে ফোনের ছেলেটার চৌদ্দো গুষ্ঠি উদ্ধার করতে ব্যস্ত।

ততক্ষণে নিশির মা বক্সটা হাতে নিয়ে ভেতরে এসে গেছে। নিশিও দৌঁড়ে মায়ের পিছু পিছু ছুটতে লাগলো।সে ভয়ে মালুম ভুলে গেলো দরজা আটকাতে।

নিশির মা সোফায় আরাম করে বসে সন্দিহান চোখে নিশির দিকে তাকিয়ে বক্সটা খুলতে লাগলেন।

কিন্তু বক্স খুলে তিনি কিছুই পেলেন না। বক্স পুরা ফাঁকা।

নিশি সস্থীর নিঃশ্বাস ফেললো।মনে মনে ভাবলো,"যাক ছেলেটা অতটাও গাধা না, ঘটে কিছু হলেও আছে।"

নিশির মা রুমের দিকে যেতে যেতে বললেন,

"রুমে গিয়ে শুয়ে পড়। আর যখন তখন দরজা খুলবি না। হয়তো কেউ দুষ্টামি করেছে।আমি ঘুমের ঔষুধ খেয়ে ঘুমাচ্ছি।আমাকে আর জ্বালাবি না।"

নিশি খুশি খুশি মনে বললো,

"ঠিক আছে আম্মু।"

--

ইরা:"আমাকে কোলে তুলেছেন কেনো অসভ্য লোক।"

উদয়:"অসভ্যতামি তো এখনো শুরুই করলাম না বেটারহাঁফ।"

ইরা:"ছাড়ুন বলছি আমাকে। যাবো না আমি আপনার সাথে। আপনি আমার সাথে বাজে কাজ করবেন। ছাড়ুন বলছি।"

উদয়:"এখনোও তো ধরলামই না ঠিক করে, তাহলে ছেড়ে দিবো কি করে? আর আজকে যে তোকে এই বাজে আমি টাকেই সহ্য করতে হবে।"

উদয় রুমে এসে ইরাকে বিছানায় বসিয়ে দরজা আটকে ওয়াশরুমে চলে গেলো। উদয় যেতেই ইরা চিৎ হয়ে হাত পা ছড়িয়ে বিছানার মাঝখানে শুয়ে পড়লো। বাস্তবতা চিন্তা করে দীর্ঘ একটা শ্বাস নিলো। এই ভেবে ওর খুব শান্তি হচ্ছে যে, এতো ঝামেলার মধ্যেও সে তার প্রিয় মানুষটাকে নিজের করে পেয়েছে।

প্রায় পনেরো মিনিট পর উদয় ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে দেখলো ইরা চিৎ হয়ে ঘুমিয়ে আছে।ইরা নিজের ভাবনার মাঝেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে সে নিজেও জানে না।

চিৎ হয়ে শোয়ার জন্য ইরার পেটের ডান পাশ উন্মুক্ত হয়ে আছে। উদয় তা দেখে শুকনা একটা ঢোক গিললো। তারপর রুমের লাইট অফ করে ডিম লাইট অন করলো।

ডিম লাইটের আলোয় ইরার ফর্সা পেট কেমন যেনো চিকচিক করছে। উদয় বিছানার কাছে এগিয়ে গিয়ে। ইরার পায়ের কাছে বসলো ।

কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে ইরার উন্মুক্ত পেটের দিকে তাঁকিয়ে থেকে ইরার পেটে চুমু খেতে গেলো। অমনি ইরা ঘুমের মধ্যে নড়ে এক পাশে ফিরে গেলো।

উদয় বিরক্তির চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলো। রাগে এক টানে ইরাকে ঘুমের মধ্যেই বসিয়ে দিলো।ইরার মনে হলো তার উপর দিয়ে এই মাত্র ভূমিকম্প প্রবাহিত হলো । নিজের অবস্থান বুঝতে তার কিছুটা সময় লাগলো। ইরা চোখ বড় বড় করে উদয়ের দিকে তাঁকিয়ে শক্ত কণ্ঠে বলল,

ইরা:"আপনি কি পাগল?একটা মানুষকে ঘুমের মধ্যে কেউ এভাবে ডিস্টার্ব করে?আপনি আসলেই একটা রাক্ষস ।"

উদয়:"তোমার যা ভাবার তুমি তা ভাবতে পারো কলিজা।"

ইরা:"রাখেন আপনি আপনার কলিজা। আপনার কলিজা ঘুমিয়ে থাকলে তো আপনি ভুনা করে খেতে এক মুহূর্তও ভাববেন না।"

উদয়:"চুপ করো।"

ইরা:"আমি কেনো চুপ করবো.. আপ.....

ইরা কথা শেষ করার আগেই তার মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। উদয় নিজের ওষ্ঠ দ্বারা ইরার ওষ্ঠদ্বয় দখল করে নিলো। ছাড়া পাওয়ার জন্য ইরা হাসফাঁস করছে কিন্তু উদয়ের সে দিকে কোনো হেলদোল নেই।

প্রায় তিন মিনিট পর উদয় নিজের খেয়েশ মিটিয়ে ইরাকে ছেড়ে দিলো। ইরা জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে ঠিক করার প্রয়াস চালাচ্ছে।

ইরা:"রা.. রাক্ষস একটা।"

উদয় ইরাকে টেনে নিজের উরুর উপর বসিয়ে দিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিস ফিস করে ঠাণ্ডা কণ্ঠে বললো,

উদয়:"হুমম.. তোমার জন্য আমি সবকিছু হতে রাজি আছি।"

উদয়ের এমন কণ্ঠে ইরার মধ্যে কেমন এক প্রশান্তি ছেয়ে গেলো। উদয় ইরার ঘাড়ে নাক ডুবিয়ে দিলো। যেনো সে এখন ইরাতে মত্ত হতে চাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর ইরা কাপা কণ্ঠে বললো,

ইরা:"আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছে উদয় ভাই।"

উদয়ের রাগ এবার দেখে কে। ইরাকে এক ধাক্কা মেরে কোল থেকে ফেলে দিলো উদয়। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

উদয়:"আর একবার শুধু মুখ দিয়ে ভাই ডাক বের করেছিস তো ওই মুখ আমি ভেঙে দিবো।ওই মুখের মানচিত্র পাল্টিয়ে দিতে দু বার ভাববো না।এতো বছর ধরে বিয়ে করেও বউ এর মুখ থেকে ভাইয়া ডাক শুনতে হচ্ছে, ছেহ্ শালার জিন্দেগী।"

ইরা এবার বাচ্চাদের মতো করে কেঁদে দিলো। উদয় আহাম্মকের মতো চেয়ে আছে কান্নারত ইরার মুখপানে। সে কি এমন বলল যে তার বউ এভাবে বাচ্চা দের মতো ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাদছে। উদয় কিছু বলতে যাবে ওই মুহূর্তে ইরা কাদো কাঁদো গলায় বলল,

ইরা:"আমি বুঝে গেছি আপনি আর আগের মতো আমাকে ভালোবাসেন না।আপনি শুধু আমাকে বকেন, মারেন।আপনি পাল্টে গেছেন উদয় ভাই।"

ভাই বলেই ইরা জিহ্ব্বাতে কামড় দিলো। যতো দোষ তার এই অভ্যাসের সে কি করবে।এতো বছরের অভ্যাস কি আর বদলানো যায় নাকি।

উদয় ফোস করে একটা শ্বাস ছাড়লো। এই মেয়ে আর পাল্টাবে না।

--

নিশি:"ওই শালা, কেরে তুই? কোন এলাকার ফকির তুই?"

হাসান:"মানে?"

নিশি:"মানে কি বুঝোস না তুই? একটা গিফট বক্স পাঠায়ছোস ভালো কথা কিন্তু হওয়া ভরে পাঠায়ছোস।"

হাসান:"ওই ছেমড়ি, ভদ্র ভাবে কথা বল। তুই একায় অসভ্যতমী করতে পারছ না শুধু,আমিও পারি।"

নিশি:"আসছে আমার উগান্ডার প্রেসিডেন্ট। তার সাথে আবার ভদ্রতা দেখাতে হবে। যাহ শালা ভাগ।"

বলেই কল কেটে দিলো নিশি।

#চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন