ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

৪১তম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

#তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী (এইশাত রাদিয়া)

#পর্ব: ৩৯ (প্রথমাংশ)

~

নিশি বিভোর ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ একটা হাত এসে ওর মুখ চেপে ধরলো। ভয়ে নিশির ঘুম ছুটে গেলো। অন্ধকার রুমে নিশি লোকটার মুখ দেখতে পেলো না শুধু বুঝতে পারল কোনো রুষ্টপুষ্ট পুরুষ।

নিশি ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছে। হাসান ফিসফিস করে বলল,

হাসান:"চুপ একদম চুপ।আমি হাসান।একদম অসভ্যতামী করার চেষ্টা করবে না অসভ্য মেয়ে।"

হাসান ছেড়ে দিলো নিশিকে।ছাড়া পেয়ে নিশি জোরে জোরে দম নিয়ে বললো,

নিশি:"আমি অসভ্য মেয়ে তো অসভ্য মেয়ের সাথে অসভ্যতামী করতে এসেছেন কেনো? আর ভেতরে ঢুকলেন কীভাবে?"

হাসান:"আমার জন্য দরজা খুলে রেখেছ না ঢুকে পারি বলো।"

নিশি:"আমি দরজা খুলে রেখেছিলাম?"

চিন্তিত কণ্ঠে বললো নিশি। মনে পড়তেই আজহারি করে বললো,

নিশি:"ওই কুত্তাটার জন্য এমন হয়েছে।ওই হনুমনটা দরজা খুলতে বাধ্য করেছিল আর আমি চাপে পরে দরজা লক করতে ভুলে গেছিলাম।"

হাসান:"চুপ,ওই হনুমানটা আমিই ছিলাম।তোমাকে খুব মিস করছিলাম,তাই দেখতে এসেছি।"

নিশি:"আপনি আমাকে মিস করছিলেন কেনো?আমি কি আপনার ঘরের বউ নাকি?"

হাসান:"হতে কতক্ষণ,তোমার যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আমার হবু শাশুড়ির কাছে আজই তোমাকে চাইতে পারি।"

নিশি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।কি বলবে বুঝতে পারছে না।তার মনে হচ্ছে আজকে সে নতুন হাসানকে দেখছে। নাহ্ এটা হয়তো তার স্বপ্ন।তাই নিজের হাতে নিজেই চিমটি কাটলো। ব্যথায় চিৎকার করে ভাবলো এটা তো স্বপ্ন না সত্যি।তার মানে নিশ্চিত এই হনুমানের মাথার তার ছিঁড়ে গেছে।

এসব ভাবতে ভাবতেই হাসান বললো,

হাসান:"কি হলো বলো,বলবো তোমার আম্মুকে আমাদের কথা?"

নিশি:"আপনি ডাক্তারের কাছে না গিয়ে এখানে এসেছেন কেনো ভাইয়া?"

হাসান:"হোয়াট?"

নিশি:"আপনার তো মাথার তার ছিঁড়ে গেছে ,আপনার তো পাবনা যাওয়া উচিত।এটা আমাদের বাড়ি পাবনা হাসপাতাল না।"

হাসান এখন বিরক্ত নিশির এই ব্যবহারে।একটা মেয়ে কতটা গাধা হলে একটা ছেলের ফিলিংস এভাবে প্রকাশ করার পরেও বুঝে না।

হাসান নিশিকে শক্ত কণ্ঠে বললো,

হাসান:"বউ হবে আমার?ভালোবাসি তোমাকে,বিয়ে করতে চাই।থাকবে আমার পাশে সারাজীবন?"

নিশি কি বলবে বুঝতে পারছে না।হাসান যে এমন ভাবে প্রপোজ করে বসবে সেটা সে চিন্তাও করেনি।তাদের মধ্যে তো সাপে নেউলে সম্পর্ক তাহলে এই ভালোবাসা আসলো কোথা থেকে।

নিশী:"এখন আপনি এখান থেকে যান।একজন অবিবাহিত ছেলে এতো রাতে একজন অবিবাহিতা মেয়ের বেড রুমে থাকলে বিষয়টা ভালো দেখায় না।এসব বিষয় নিয়ে আমরা না হয় পরে কোনসময় আলোচনা করবো।"

হাসান:"কাল আমি মা,নানু আর মামীকে নিয়ে আসব বিয়ের কথা বলতে। শাড়ি পরে রেডী হয়ে থেকো।"

নিশি অবাক চোখে তাকিয়ে আছে হাসানের দিকে। হাসান নিশিকে কিছু বলতে না দিয়ে চলে গেলো। ওইদিন সারারাত আর নিশি দু চোখের পাতা এক করতে পারলো না।

~~

উদয় ইরার মুখে না করা সত্ত্বেও ভাই ডাক শুনে ইরাকে নিজের সাথে চেপে ধরে বিছানায় শুয়ে ইরার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। ইরার দম আটকে আসছে। জীবন যায় যায় অবস্থা। উদয় কিছুক্ষণ পরে মুখ উঠিয়ে শক্ত কণ্ঠে বললো,

"এখনো ভাই ডাকার শখ মিটেনি জানেমান?"

ইরা দমের উপর দম নিচ্ছে।

"মিটেছে মিটেছে, আর এই মুখে ভাই উচ্চারণ করবো না।"

"গুড গার্ল"

"আচ্ছা, উদয় ভাই না বললে কি বলে ডাকব আপনাকে?"

"ভাই বাদে যা মন চায় ভালোবেসে তাই ডাকবে।"

"তাহলে আংকেল বলে ডাকি?আসলে আপনি তো আমার থেকে বয়সে অনেক বড়।"

"বাসর রাতে আদর খাওয়ার পরিবর্তে মার খাওয়ার শখ জেগেছে?"

"নাহ্ নাহ্ সরি।মার খেতে চায় না।"

"তাহলে কি খেতে চাও ?"

"কিছুই খেতে চায় না ।আমার ক্ষিদে নেই ।ঘুমাবো আমি আমার খুব ঘুম পেয়েছে।"

ইরা অপরপাশ ফিরে শুতে চাইলে উদয় হ্যাঁচকা টানে তার দিকে ঘুরিয়ে মাতালের মতো ইরার গলায় নিজের নাক ডুবিয়ে দিলো।ইরার সমস্ত শরীর থেকে থেকে কাপছে।

উদয় ধীরে ধীরে ইরার গলা থেকে বুকে নেমে গেলো।

রাত যত গভীর হচ্ছে তাদের ভালোবাসাও তত গভীর হচ্ছে।দুজনে মিলে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখময় মুহূর্ত পার করছে।তাদের দুজনের মনেই এখন একটাই আকুতি ,সময়টা যদি কোনভাবে থামিয়ে দেওয়া যেতো। কিন্তু তা তো সম্ভব না। সময় তার নিজ গতিতেই চলবে।

~~

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন