#পরিণীতা
#পর্ব :০৩
#তানজিনা ইসলাম
প্রাণেশা নিচে নেমে এসে সবার সাথে টেবিলে বসলো।পলক ভূইয়া নিজের পাশে বসালেন ওঁকে। নিজের হাতে প্লেটে ভাত বেড়ে দিলেন ওর। প্রাণেশা ডানে বাঁয়ে না তাকিয়ে চুপচাপ খেলো। কোনোমতে কয়েক লোকমা ভাত পানি দিয়ে গিলে আবার উপরে চলে গেলো।
মানারা বেগম সন্দিহান চোখে দেখলেন মেয়ের প্রস্হান।মেয়েটার কাহিনী সুবিধার মনে হচ্ছে না ওনার!
প্রাণেশা কক্ষে ঢুকে হাত পা ছড়িয়ে আবার বসলো মেঝেতে। কীসের উপর ও খাবার খেয়ে এসেছে সেটা শুধু ও-ই জানে।রওশা কে দেখলেই মনের কষ্টগুলো আরো বেশি বেড়ে যাচ্ছে।
বিছানার উপর মাথা ঠেকিয়ে বসলো প্রাণেশা।এই মুহূর্তে জগতের সবকিছুই বিষাক্ত লাগছে ওর কাছে।জীবনটা এমন না হলেও পারতো।মানুষটাকে নিজের করে পেলে কী খুব বেশিই ক্ষতি হয়ে যেতো!কেন ভাগ্যে প্রিয় জিনিসগুলো থাকে না।ভাবতে ভাবতেই চোখের কার্ণিশ বেয়ে পানি গড়ায় প্রাণেশার।মনে পড়ে প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো।প্রাণেশা কলেজে উঠা পর্যন্ত কোনোদিন একটা ছেলের সাথে বন্ধুত্ব পর্যন্ত করতে পারে নি।প্রত্যুষ দেয়নি বন্ধুত্ব করতে।সবসময় চোখে চোখে রাখতো ওঁকে। যাও, কলেজে উঠে কয়েকজন ছেলের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিলো ওর।কিন্তু একদিন প্রত্যুষ দেখে নিয়েছিলো, বন্ধুদের সাথে ফুচকা খেতে। এর পর থেকে কড়া শাসন চলতো ওর উপর যাতে কোনো ছেলের সাথে না মিশে।ছোটবেলা থেকেই শুধু দুইটা ছেলে বন্ধু ছিলো ওর।ওঁদের সাথে গলায় গলায় সম্পর্ক ছিলো প্রাণেশার, তাই শুধু ঐ দু'জনের ক্ষেত্রেই একটু ছাড় ছিলো।
বাপ-জেঠা কোনোদিন কোনোকিছুর জন্য একটু শাসন পর্যন্ত করেনি ওঁকে, অথচ সব শাসন প্রত্যুষ একাই করতো।কত কত বকা খেয়েছে ও ওর বাঁদরামোর জন্য। কিন্তু কোনোদিন তো কষ্ট হয়নি ওর প্রত্যুষ ভাইয়ের বকা খেতে,তাহলে আজ কেনো বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
প্রাণেশা চোখের পানি মুছে। কিছু একটা ভেবে ঠোঁট কামড়ে উঠে দাড়ালো। কক্ষের বাইরে বেরোতে যাবে তখনই দেখলো রিধিতা রওশাকে নিয়ে প্রত্যুষের কক্ষের সামনে দাঁড়িয়েছে। প্রাণেশা বেরোলোনা আর।পা থমকে গেছে ওর,চেষ্টা করেও আগাতে পারে না।কান্না পাচ্ছে আবার। আজ ওর প্রিয় মানুষটার বাসর রাত ভাবতেই বুকের মধ্যে অসীম যন্ত্রণার ঢেউ আচড়ে পড়ে।
প্রাণেশা আবার দৌড়ে কক্ষে ঢুকলো।মেঝেতে বসে বিছানায় মুখ গুঁজে হু হু করে কাঁদতে শুরু করলো প্রাণেশা।ভাঙা হৃদয়টা নিমিষেই তিক্ত অনুভূতিতে ভরে উঠে।জ্বলে উঠে কিশোরীর হৃদয়।প্রত্যুষ ভাই এমন কেন করলো?বিয়ে যদি অন্যজনকেই করবে তাহলে তাকে কেন এতো এতো স্বপ্ন দেখালো?এতো এতো ওয়াদা দিলো? ওর প্রিয় মানুষটাকে আজ অন্য কেও ছোঁবে সেটা যেন বুকের ভিতর খান খান করে দিচ্ছে।
দরজা খোলা থাকায় প্রত্যুষের ঘরে সহজেই ঢুকতে পারলো রওশা।রিধিতা রওশাকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে কানে কানে বললো 'বেস্ট অফ লাক'।রওশা কিছুটা লজ্জা -ভয় মিশ্রিত দৃষ্টি নিয়ে তাকালো রিধিতার পানে।রিধিতা মৃদু হেঁসে বললো 'ভয় পেয়ো না রওশা।আমার দেবর একটু রাগী টাইপের হলেও কিন্তু খুব ভালো।একবার মনে জায়গা করতে পারলে, খুব ভালোবাসবে তোমাকে।' বলেই চোখ টিপলো।রওশা লাজুক হাসে।রিধিতা ওঁকে কক্ষে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা আঁজলে বেধে দিলো।রওশা ভয়ে ভয়ে চোখ বোলালো কক্ষের চারপাশে। কক্ষের দেওয়ালগুলো সাদা রঙে আবৃত করে রাখা।চোখে ফুটছে ভীষণ। ঘরের ফার্নিচারেও সুন্দর কারুকার্য,সেগুলোতেও সাদা রঙের মাধুর্যতা।ঘরের এক কোণে দেয়ালের পাশেই বড় করে একজন শ্যামপুরুষের ছবি টানানো।ঘরের এক কোণে আর্টের বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টস।রং,তুলি,ক্যানভাসে ভরপুর।প্রতিটি ক্যানভাসে চিত্রকর্মের নিদারুণ সৌন্দর্যতা। দেখেই বোঝা যাবে এ কক্ষে যে থাকে সে নিঃসন্দেহে ভীষণ শৌখিন। রওশা মুগ্ধ নজরে তাকালো কক্ষের চারিদিকে।
-"এই মেয়ে, কে আপনি? আমার রুমে ঢুকেছেন কেন?"
রাশভারী কন্ঠের চিৎকার শুনে কেঁপে উঠলো রওশা।ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে দেখলো প্রত্যুষ রাগে ফুঁসছে।রওশার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে।প্রত্যুষের চোখমুখ অসম্ভব লাল হয় আছে।চোখগুলো ফুলে আছে।কেঁদেছে নাকি সে! চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালের উপর পরে আছে।বুকের কাছে শার্টের বোতাম কয়েকটা খোলা।প্রচন্ড এলোমেলো লাগছে ওঁকে।
রওশার উত্তর না পেয়ে প্রত্যুষের মেজাজ বিগড়ালো আবার।ধমকে বললো
-"কানে শোনেন না আপনি?কিছু জিজ্ঞেস করেছি তো!উত্তর দিচ্ছেন না কেন?"
রওশা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলো।কিন্তু ভয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না ওর মুখ দিয়ে।কোনোমতে তোতলে বললো
-"আআমি আপনার বউউ।আআজ বিয়ে হয়েছে আমাদের।"
প্রত্যুষ ভ্রু কুঁচকালো।দ্বিধান্বিত স্বরে বললো
-"কোন সাহসে আমার রুমে ঢুকেছেন আপনি?জোরজবরদস্তি করে কবুল বললেই বিয়ে হয়ে যায় না। আমি এই বিয়ে মানি না।বেরোন আপনি আমার রুম থেকে।আমার রুমে আপনার জায়গা হবে না।"
রওশা ছলছল চোখে তাকালো ওর দিকে।ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
-"কোথায় যাবো?যাওয়ার জায়গা নেই আর কোথাও।যদি নাই মানেন তাহলে বিয়ে করেছেন কেন?"
-"নিজের ইচ্ছেতে বিয়ে করিনি।বাবা একপ্রকার জোর-জবরদস্তি করে বিয়ে করতে বাধ্য করেছে আমাকে।"
-"বাচ্চা না আপনি।যে সে আপনাকে বাধ্য করলো আর আপনি রাজি হয়ে গেলেন।আর বিয়েও করে ফেললেন।"
-"ঠিক বলেছেন আপনি,আমি বাচ্চা না।কিন্তু আমি কাপুরুষ। নিজের জীবনের ডিসিশন আমি নিজে নিতে পারিনি।"
প্রত্যুষ কাঠকাঠ কন্ঠে বললো।
রওশা অক্লিষ্টে ঢোক গিলে বললো
-"আমাকে পছন্দ না করার কারণ?শুধুই বাবার জোর-জবরদস্তিতে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন বলে?নাকি আমি সুন্দর না?"
-"আপনার সৌন্দর্যের ডেফিনেশন নেই আমার কাছে।আমি ভালোবাসি কাউকে, সেই আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর। আপনার সাথে সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব না।"
অন্য কাওকে ভালোবাসার কথা শুনতেই কান্নাগুলো গলার কাছে আটকে আসে রওশার।ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বললো
-"আমার কি হবে প্রত্যুষ?আমার যে কেও নেই! কোথাও যে যাওয়ার জায়গা নেই আমার!আপনি আমাকে মেনে না নিলে আমি কোথায় যাবো?"
প্রত্যুষ উত্তর দিতে পারলো না।রওশার সামনে থেকে এলোমেলো পায়ে হেঁটে বেলকনিতে চলে এলো।
রওশা কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পরে।কারও ভালোবাসার মানুষকে কেড়ে নিয়েছে সেটা যেন কোনোমতেই মানতে পারছে না ও!রওশা হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদে। জীবনটা এমন কেন ওর?ওর কী কারো ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার নেই?ওই যে বলে না অভাগী যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়, সেরকম একটা অবস্থা হয়েছে ওর। সদ্য প্রেমে পরা মনটা নিমিষেই বিষিয়ে গেলো রওশার। ভেঙে গেলো সকল নাম জানা অনুভূতি।বুকের ভেতর যেন তোলপাড় লেগে গেলো।সামনের দিনগুলোর পরিণতির কথা ভাবতেই জোরে কেঁদে উঠলো মেয়েটা।
বেলকনির রেলিংয়ের সাথে হাত ঠেকিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে প্রত্যুষ।মনে করে একে একে ঘটে যাওয়া সবকিছু।প্রতিদিনের মতোই হসপিটাল থেকে এসেছিলো ও।কিন্তু আসা মাত্র ওর বাবা বললো বন্ধুর বাড়ি যাবেন উনি।গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে একটা সেখানে।প্রত্যুষ কেও যেতে হবে সাথে।যদিও প্রত্যুষ যেতে চায়নি কিন্তু বাবার ইমোশনাল কথার ফাঁদে পড়ে গেলো।এবং গিয়ে জানতে পারলো তার বাবার বন্ধুর মেয়ের সাথে আজ ওর বিয়ে।যদিও অনেক ঝগড়া হয়েছে ওর বাবার সাথে।কিন্তু তার বাবা তাকে রাজি করানোর জন্য তার কাছে হাত জোর করে মিনতি করেছে,কেঁদেছে, এমনকি পায়ে পর্যন্ত ধরতে গিয়েছিলো এসব ভাবতেই যন্ত্রণা গুলো আরো বেশি বেড়ে যায়।প্রত্যুষের কান্না পায়।এতোটা অসহায় নিজেকে আর কখনো মনে হয়নি তার।ওর প্রাণটা ভালো আছে তো?নিশ্চয়ই কাঁদছে অনেক।মেয়েটা তো ওর সাথে অন্য কোনো মেয়ের ছায়াও সহ্য করতে পারে না।এসব কী করে সহ্য করছে!শুধুমাত্র ওর কাপুরুষতার জন্য ওর প্রাণটা এতোটা কষ্ট পাচ্ছে। কীভাবে বকেছে ওকে!ও তো চায়নি এভাবে বকতে।কিন্তু ও যখন রেগে ছিলো তখনই প্রাণেশা এসে ঢুকলো।আর ওর সব রাগ গিয়ে পরলো প্রাণেশার উপর।প্রত্যুষ রেলিং এর সাথে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পরে।মনে মনে বলে
-"প্রাণ আমার,ক্ষমা করে দিস তোর প্রত্যুষ ভাইকে।তোর প্রত্যুষ ভাই তোর ভালোবাসার যোগ্য না।"
নিস্তব্ধ রজনী কেটে যায় তিনটি জীবনের যন্ত্রণা আর হাহাকারে।রাতের নিস্তব্ধতার সাথে মিশে যায় ওদের কান্নাগুলো।একদিনেই কীভাবে তিনটি জীবন এলোমেলো হয়ে গেলো!কেওই জানে না অন্যজনের মনের খবর।কেওই আসলে ভালো নেই।কেও না পেয়ে কাতরাচ্ছে আর কেও পেয়েও আফসোস করছে!তিনটি জীবনের ভবিষ্যতের দিনগুলো কেমন হবে সেটা আসলে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেওই জানার ক্ষমতা রাখে না!
প্রাণেশা বিছানায় মুখ গুঁজে কাঁদছিলো।মাথায় কারো হাতের ছোয়া পেতেই মুখ তুলে তাকায় ও।পিয়াস ভূইয়া স্নেহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাত বুলিয়ে দেয় ওর মাথায়।প্রাণেশা চটজলদি নিজের চোখের পানি মুছে।ভেজা গলায় বলে
-"বাবা তুমি!
-"এতো কীসের কষ্ট আমার মেয়েটার?কেন এভাবে কাঁদছো?"
পিয়াস ভূইয়া মুখ কালো করে বললো।
প্রাণেশা মাথা নিচু করে খাটের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে বসলো।ভাঙা গলায় বললো
-"জানি না। কীসের এতো কষ্ট জানি না।শুধু জানি কান্না পাচ্ছে!"
-"কী হয়েছে বলো আমাকে।বাবাকে না বললে, কাকে বলবে?দেখবে বাবাকে বললে মনটা একটু হালকা হবে।"
-"কিছু হয়নি বাবা।"
পিয়াস ভূইয়া মেয়ের পাশে বসলেন।একহাতে জড়িয়ে ধরলেন মেয়েকে।স্নেহভরা কন্ঠে বললো
-"বলো আমাকে।নয়তো বাবা রাগ করবে তোমার সাথে।"
প্রাণেশা জড়িয়ে ধরলো তাঁকে।এই মানুষটাই তার প্রশান্তি।হাজারো কষ্টের ভীড়ে একটু শান্তির ছায়া।যাকে সে অবাধে তার সকল যন্ত্রণার কথা বলতে পারে।যে মুখ ফুটে না বলতেই সব বুঝে যায়।যাকে সে সবকিছু নির্বিকারে শেয়ার করতে পারে।যে তার বেস্টফ্রেন্ড। প্রাণেশা বাবার বুকে মাথা রাখলো।বললো
-"কাউকে ভালোবাসা কী অপরাধ বাবা?"
পিয়াস ভূইয়া বিচলিত হলেন। এতোক্ষণে বুঝতে পালেন তার মেয়ের এতো কষ্টের কারণ।যদিও এমন কিছু আগেই ধারণা করেছিলেন তিনি! কিন্তু তার ধারণা যে এভাবে সত্যি হয়ে যাবে সেটা তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। মেয়ে তাহলে তার প্রেমের বিষে জর্জরিত হচ্ছে। কিন্তু সেই ছেলেটা কে যার জন্য তার মেয়েটা এতোটা কষ্ট পাচ্ছে। পিয়াস ভূইয়া হাত বুলিয়ে দিলেন ওর মাথায়।নম্র কন্ঠে বললেন
-"ছেলেটা কে?"
-"বলে লাভ কী বাবা?সে কখনই আমার হবে না।সে অন্যের হয়ে গেছে।"
-"আমাকে বলো আম্মা। না বললে কী করে বুঝবো!"
-"তাহলে তুমি কথা দাও, তাকে তুমি এনে দিবে আমার কাছে।"
প্রাণেশা মাথা তুলে আশাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো।পিয়াস ভূইয়া মেয়ের গালে আলতো হাত রেখে বললেন
-"চেষ্টা করবো।"
প্রাণেশা ঢোক গিললো। বললো
-"প্রত্যুষ ভাই।"
পিয়াস ভূইয়া হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন মেয়ের পানে। চোখের পলক ফেলতেও ভুলে গেলেন যেন!প্রাণেশা চোখের পাতা ঝাপটালো।ঠোঁট উল্টে বললো
-"কিছু বলো বাবা।"
-"এসব কী বলছো তুমি আম্মা। প্রত্যুষ তোমার ভাই হয়। "
পিয়াস ভূইয়া হতভম্ব হয়ে বললেন।
-"আমি তো জানি!কিন্তু সে তো আমার নিজের ভাই না।তাহলে কেন আমি তাকে ভালোবাসতে পারবো না।"
-"এটা সম্ভব নয় আম্মা।"
-"কেন সম্ভব না বাবা?আমার কী কাউকে ভালোবাসার অধিকার নেই?"
-"আছে,আম্মা।কেন থাকবে না।কিন্তু তার যে বিয়ে হয়ে গেছে আরেকজনের সাথে। "
প্রাণেশার চোখ ভরাট হয়ে আসে।চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে
-"কেন বিয়ে করতে দিয়েছো তাকে!আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে বাবা।কেন তাকে আটকালে না তোমরা?কেন আমার থেকে কেড়ে নিলে তাকে?"
পিয়াস ভূইয়া চুপ হয়ে গেলেন।কী করে বলবেন তিনি মেয়েকে,যে তিনি সহ দাঁড়িয়ে থেকে তার মেয়ের ভালোবাসাকে অন্যের সাথে বেধে দিয়েছে!ইশ!কেন তিনি জানতে পারলেন না তার মেয়ের মনের কথা? এখন মেয়েটাকে তিনি কীভাবে সামলাবেন?
বাবাকে চুপ থাকতে দেখে প্রাণেশা আবার বললো
-"জানো বাবা, সে আমাকে বলেছিলো আমাকে তার বউ বানাবে।কিন্তু সে তার কথা রাখেনি।সে অন্য কাউকে বিয়ে করে নিয়েছে।"
-"প্রত্যুষ তোমাকে এসব কথা বলেছে?"
পিয়াস ভূইয়া অবাক হয়ে বললেন।
-"হ্যাঁ।বলেছে সে এসব।কিন্তু এসব নাকি সে মজা করে বলেছে আমার থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। আমি যে তার যোগ্য না।আমার যে তার বউ হওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই।"
পিয়াস ভূইয়া জড়িয়ে ধরলেন মেয়েকে।উৎকন্ঠা নিয়ে বললেন
-"কে বলেছে আমার মেয়েটা যোগ্য নয়! এসব ভাবে না আম্মা। কেন নিজের মধ্যে নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতা সৃষ্টি করছো?"
-"নইলে দেখো না,সে আমাকে কথা দিয়েও আরেকজনকে বিয়ে করে নিলো।আমি যে সইতে পারছি না এ কষ্ট। আমাকে মেরে ফেলো বাবা।এই কষ্ট থেকে মুক্তি পায় আমি।"
পিয়াস ভূইয়া শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মেয়েকে। প্রাণেশা লেপ্টে থাকে বাবার বুকের সাথে।পিয়াস ভূইয়া ভেজা কন্ঠে বললেন
-"প্রত্যুষ তোমার সবকিছু হয়ে গেলো আম্মা, আমরা তোমার কেও না।আমি কী করে বাঁচবো তোমাকে ছাড়া।আর তার মা?আমাদের কথা একবার না ভেবেই তুমি এসব কথা নির্বিকারে বলে ফেললে।আমি জানি আম্মা সব দোষ আমার।আমি তার ভালোবাসার কথা আগে জানতে পারিনি। আই এম সরি আম্মা।মাফ করে দিও তোমার বাবাকে।তোমার বাবা তোমার ভালোবাসাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারেনি।"
এতোক্ষণের সব কথা কক্ষের বাইরে থেকে শোনেন মানারা বেগম।তার মেয়েটা এতোটা ভালোবাসে প্রত্যুষকে।কই কোনোদিন তো জানতে পারেননি তিনি?যদি মেয়ের না বলা কথা বুঝতেই না পারেন তাহলে তিনি কেমন মা!মানারা বেগম কান্না আঁটকে রাখেন কোনোমতে।প্রাণেশা তার কাছে এখনো একটা বাচ্চার মতো!মায়েদের কাছে তাদের সন্তানেরা কখনো বড় হয় না।কিন্তু মানারা বেগমের ক্ষেত্রে এই অনুভূতি টা একটু বেশিই। কেও দেখার আগে দ্রুত পায়ে হেঁটে নিজের কক্ষে গেলেন তিনি।কষ্ট হচ্ছে প্রাণেশার জন্য। অসম্ভব কষ্ট হচ্ছে তার।তার মেয়ের অনুভূতি কে যে টুকরো টুকরো করে ভেঙে দিলো,যে তার মেয়ের ভালোবাসা কে কেড়ে নিলো, তাকে তিনি সাধরে গ্রহণ করেছেন! মানারা বেগম শান্তি পান না একটুও।কেন তিনি আগে বুঝতে পারলেন না এসব।মেয়েটা যে তার খুব বেশিই আবেগী!তিনি কী করে সামলাবেন ওঁকে!
.
ধরণীর বুকে সূর্যরশ্মির উদয় হয়।রাতের অন্ধকার কেটে গিয়ে সুন্দর সূর্যের আলোয় সেজে যায় ধরিত্রী। পিয়াস ভূইয়া খাটের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে বসে থাকে। প্রাণেশা ঘুমিয়ে আছে তার কোলে।পুরোটা রাত ঘুমাননি তিনি,জেগে থেকে মেয়ের মনের দুঃখগুলো শুনেছেন।পুরোটা রাত মেয়েটা বাবাকে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ফেলেছে।অভিযোগ করেছে কেন সে তার ভালোবাসা কে পেলো না!কেন সে নিজের ভালোবাসাটুকু পাওয়ার থেকে বঞ্চিত হলো।পিয়াস ভূইয়া কোনো উত্তর দিতে পারেনি। শুধু সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মেয়েকে।যদিও সদ্য মন ভাঙা প্রাণেশার এই সান্ত্বনায় কোনো প্রভাব ফেলেনি।তার পরও বাবাকে কষ্টের কথাগুলো বলে নিজের মনকে হালকা করেছে। প্রাণেশা নিজেও ঘুমিয়েছে সকালে সূর্যের আলো ফোঁটার একটু আগেই।কিন্তু পিয়াস ভূইয়ার চোখে সে ঘুমটুকুও ধরা দেয়নি।
মানারা বেগমের ঘুম ভাঙতে কিছুটা বেলা হয়ে যায়। সময় অনুমান করতেই তিনি তড়িঘড়ি করে নিচে নামে। পুরো রাত প্রাণেশার চিন্তায় ঘুমাতে না পরলেও,সকালের দিকে চোখ লেগে এসেছিলো তার।ফলস্বরূপ ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে গেলো।
কিচেনে মালিহা বেগম নাস্তা বানাচ্ছিলেন।কয়েকজন সার্ভেন্ট তাকে হাতে হাতে সাহায্য করে দিচ্ছিলো।মানারা বেগম কে হন্তদন্ত হয়ে আসতে দেখে মালিহা বেগম মৃদু হাসলেন।চুলায় পরোটা সেঁকতে সেঁকতে বললেন
-"এতোক্ষণে ঘুম ভাঙলো তোর?"
-"সরি, সরি।লেইট হয়ে গেছে অনেক তাই না!রাতে একটুও ঘুম হয়নি।তাই সকালে ঘুম ভাঙছিলো না।"
বলেই তিনি নিজেও কাজে হাত লাগালেন।তবে মালিহা বেগম বেশিরভাগ রান্না প্রায় করেই ফেলেছেন।হরেকরকমের নাস্তার আয়োজন করেছেন তিনি।এতো নাস্তার বাহার দেখে মানারা বেগম ভ্রু কুঁচকে বলেন
-"আজকে হঠাৎ এতো আয়োজন?"
-"রওশার জন্য।"
মালিহা বেগম মৃদু হেসে বললেন।
-"ও আচ্ছা ছেলের বউয়ের জন্য?"
-"হ্যাঁ।মেয়েটার জন্য তো তেমন কিছুই করতে পারিনি।বিয়েটাও কী তাড়াহুড়োর মধ্যে হয়েছে।তাই ভাবলাম কয়েক রকমের নাস্তা বানায় ওর জন্য। আরো কিছু বানানোর ইচ্ছে ছিলো।তুই যদি তাড়াতাড়ি উঠতি তাহলে বানাতাম।এখনতো আর সময় নেই, সবাই উঠে পরবে।"
-"তোমার ছেলের বউয়ের জন্য আমি কেনো এতো নাস্তা বানাতে যাবো?"
মানারা বেগম তাচ্ছিল্য হেঁসে বললেন।
মালিহা বেগমের হাত থেমে গেলো।জায়ের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললেন
-"কী বলছিস এসব?আমার ছেলে তোর ছেলে নয়?"
-"অবশ্যই। প্রত্যুষ অবশ্যই আমার ছেলে।কিন্তু যাকে তুমি সদ্য নিজের মেয়ে বানিয়েছো সে আমার কেও নয়।"
মালিহা বেগম অবাক চোখে তাকালেন।হতভম্ব হয়ে বললেন
-"কী বলছিস এসব?কী হলো তোর আবার?"
মানারা বেগম উত্তর দিলেন না।ওনার তাকানো উপেক্ষা করেই তিনি নিজের কাজ মনোযোগ দিয়ে করতে লাগলেন।
মালিহা বেগম ভাবনায় এলো হয়তো তার জা মজা করছেন তার সাথে।যেভাবে সবসময় তার সাথে মজা করেন হয়তো তেমনি।মাঝে মাঝে তো হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মতো মজা করে ফেলেন তার জা তার সাথে,হয়তো আজকেও তেমন কিছুই বলার চেষ্টা করছে। তাই সে তার কথা অতটা পাত্তা না দিয়ে বললো
-"মজা করছিস তাই না?বুঝেছি আমি।"
মানারা বেগম উত্তর দিলেন না।ওনার মনের মধ্যে কী চলছে তা শুধু তিনিই জানেন!ওনার মেয়েটা ভালো নেই।আর যার জন্য ভালো নেই তার জন্যই এতো আয়োজন করতে হচ্ছে তার।
জানালা গলিয়ে সূর্যের আলোর ছটা চোখেমুখে পরতেই প্রাণেশার ঘুম ভাঙে।বাবার কোল থেকে উঠে বসে সে।চোখ কচলে পিয়াস ভূইয়াকে বলে
-"বাবা,ঘুমাওনি তুমি?"
-"ঘুম আসছিলো না,আম্মা। তোমার ঘুম হয়েছে?"
-"হ্যাঁ।কিন্তু তুমি ঘুমোওনি কেন?তোমার কোলে ঘুমিয়েছিলাম বলে ঘুমাতে পারোনি তাইতো?"
-"না,আম্মা। আমার এমনিতেই ঘুম পায়নি।"
প্রাণেশা হামি তুললো।পিয়াস ভূইয়া নম্র কন্ঠে বললেন
-"আম্মা আসো কিছু খাবে।"
-"খিদে নেই বাবা।"
-"খিদে না থাকলেও খেতে হবে।কাল রাতেও তেমন কিছু খাওনি তুমি।এভাবে না খেয়ে নিজেকে কষ্ট দিবে তুমি,সেটা আমি সহ্য করবো না।"
পিয়াস ভূইয়া গম্ভীর স্বরে বললেন।প্রাণেশা ঠোঁট উল্টে তাকালো বাবার দিকে।
পিয়াস ভূইয়া নিচে নামলেন ওকে নিয়ে।মানারা বেগম আর মালিহা বেগম টেবিলে নাস্তা পরিবেশন করছিলেন। পলক ভূইয়া চেয়ারে বসে খবরের কাগজ পরছিলেন।দুজনকে নামতে দেখে খবরের কাগজ টেবিলে রেখে দিলেন তিনি।পিয়াস ভূইয়া প্রাণেশা কে চেয়ার টেনে দিলেন।প্রাণেশা বসলো চেয়ারে।তিনি নিজেও মেয়ের পাশে বসলেন।প্লেটে পরোটা আর ভাজি বেড়ে নিলেন।এক লোকমা খাইয়ে দিলেন প্রাণেশাকে।প্রাণেশা বাবার হাতে খাচ্ছিলো,তখনই নিচে নামে রিধিতা আর রওশা।প্রাণেশা খাওয়ার মাঝেই চোখ তুলে তাকালো ওদের দিকে।রওশা সামনে বরাবর বসলো প্রাণেশার।প্রাণেশা তাকালো ওর দিকে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলো ওঁকে।না,সুন্দর মেয়েটা।গোলগাল মায়াবী একটা মুখ।চেহারায় কোনো খাদ নেই। প্রাণেশা মাথা নিচু করে ফেলে।আচ্ছা, কালকে রাতটা কেমন কাটলো ওঁদের? আসলেই তার প্রত্যুষ ভাইয়ার সাথে অনেক সুন্দর মানাবে।এতো সুন্দর একটা মেয়ে রেখে নিশ্চয়ই ওকে বিয়ে করতে যেতো না প্রত্যুষ।প্রাণেশার চোখ ভরে আসে।কিন্তু এতোগুলা মানুষের সামনে কাঁদার ইচ্ছা পোষণ করে না।তাই সব শক্তি দিয়ে আটকে রাখে নিজের কান্না।
পলক ভূইয়া খাওয়ার সাঝে পিয়াস ভূইয়া কে ডাকলেন।পিয়াস ভূইয়া তার দিকে তাকিয়ে বললো
-"জ্বি ভাইজান। "
-"ভাবছি বিয়ের অনুষ্ঠান টা বড় করে করবো।যেভাবে হুট করে বিয়েটা হয়ে গেলো, কাউকে তো দাওয়াতই দিতে পারিনি।তাই অনুষ্ঠান টা তাড়াতাড়ি করলে ভালো হয়।কী বলিস তুই?"
-"তুমি যা ভালো বোঝো।"
প্রাণেশার গলায় খাবার আঁটকে যায়। কাশতে কাশতে খাবার তালুতে উঠে যায়।পলক ভুঁইয়া হন্তদন্ত হয়ে পানি এগিয়ে দেন ওর দিকে।প্রাণেশা কাল ক্ষেপণ না করে পুরো গ্লাস এক ঢোকে শেষ করে।পলক ভূইয়া কপালে ভাজ ফেলে বললেন
-"আস্তে খাবে তো।এভাবে কেও পানি খায়।"
ক্ষণকাল পর প্রাণেশা শান্ত হলো।বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললো
-"আর খাবো না বাবা।"
-"আরেকটু খেয়ে নাও!"
-"আর খেতে পারবো না।পেট ভরে গেছে।"
পলক ভূইয়া স্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে বললেন
-"প্রত্যুষ কই?রওশা একা এসেছে কেন?ওর সাথে খেতে আসা উচিৎ ছিলো ওর!"
-"থাকলে না খেতে আসবে।বাড়িতে আছে নাকি ও!সাতসকালে উঠে,না খেয়েই হসপিটালে চলে গেছে।"
-"কী বলো,বিয়ের পরদিনই হসপিটালে যাওয়ার কী দরকার ছিলো?"
-"আমি কী করে জানবো?কোনো কথা শোনে নাকি আমার?"
পলক ভূইয়া আর কিছু বললেন না।প্রাণেশা উঠে চলে যাবে,তার আগেই রিধিতা বললো
-"কই যাস তুই?কালকে তো প্রত্যুষের বকা খেয়ে দরজা আঁটকে বসেছিলি!পরিচিত হতে পারিসনি নতুন ভাবীপুর সাথে।আজকে অন্তত পরিচিত হ।আমাদের সাথে গল্প কর।তোর ছোট ভাবীপু বার বার তোর কথা জিজ্ঞেস করছিলো। তার অনেক ইচ্ছে তোর সাথে বন্ধুত্ব করার।"
প্রাণেশা থমকে দাঁড়ালো। এমনিতেই কষ্টের শেষ নেই ওর। তার উপর তার পরিবারের মানুষগুলোই এক একটা কথা বলে তার কষ্ট আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রাণেশা মুখে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে তাকালো রিধিতার দিকে। আমতা আমতা করে বললো
-"আমার কলেজে যেতে হবে ভাবীপু।কয়েকদিন পরেই এক্সাম।লাস্টের দিকের ক্লাসগুলো মিস দেওয়া ঠিক হবে না।"
-"কী বলিস?আজকেই যেতে হবে তোর কলেজে? আজকে অনেক মেহমান আসবে!প্লিজ আজকে যাস না।"
রিধিতা মুখ কালো করে বললো।
-"সেটাই তো।আজকে অনেক অতিথি আসবে আম্মা। আজকে যেও না।একদিন ক্লাস মিস দিলে কিছু হবে না।"
পলক ভূইয়া প্রাণেশা কে উদ্দেশ্য করে বললেন।
প্রাণেশা কিছু বলতে যাবে তার আগেই মানারা বেগম বলেন
-"সামনে ওর এইচএসসি ভাইয়া।এখন ক্লাসে ইম্পর্ট্যান্ট নোটস দিবে।ক্লাস মিস দেওয়া ঠিক হবে না।কতক্ষনই বা হবে ক্লাস!"
-"তারপরও!প্রাণেশা যদি অনুষ্ঠান শুরুর প্রথম থেকে না থাকে তবে ওঁকে ছাড়া বাড়ির কোনো অনুষ্ঠান জমবে নাকি!আজকে যেও না আম্মা।"
-"সমস্যা নেই বড় বাবা।আমি চলে আসবো তাড়াতাড়ি। "
বলেই উঠে দাড়ালো প্রাণেশা।আর কারো কোনো কথা না শুনেই উপরে পা বাড়ালো।
পলক ভূইয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো ওর যাওয়ার দিকে।এতো অতিথি আসবে শুনেও মেয়েটা কলেজে চলে যাচ্ছে,এ যেন কোনোমতেই বিশ্বাস করতে পারলেন না তিনি! তার মেয়েটা তো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে বাইরেই পা রাখে না।এমনকি একবার বাড়ির অনুষ্ঠানের জন্য এক্সাম পর্যন্ত মিস দিয়েছিলো।যদিও প্রাণেশার এক্সাম থাকা কালীন বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হয় না।তারপরও সেবারে কী একটা কারণে ওর এক্সামের সময়ই অনুষ্ঠান রাখতে হয়েছিলো। ক্লাস নাইনের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিলো তখন ওর।মানারা বেগম এক্সাম দিতে যেতে বলতে বলতে গলা শুকিয়ে ফেললেও সেদিন বাড়ি থেকে বের করতে পারেনি প্রাণেশাকে।যদিও পলক ভূইয়া পক্ষে ছিলো ওর।তিনিই প্রাণেশাকে সঙ্গ দিয়ে বলেছিলেন, প্রাণেশা যদি এক্সাম না দিতে চায় তাহলে দিবে না।তিনি সুপারিশ করে বলেছিলেন একটা এক্সাম না দিলে কিছু হবেনা।তার মেয়েটা বাড়িতে না থাকলে কোনোকিছুই ভালোভাবে সম্পন্ন হবে না। তারপরে প্রিন্সিপালের কাছে গিয়ে তিনিই প্রাণেশার পরের ক্লাসে উঠার জন্য বন্দোবস্ত করে এসেছিলেন।তাহলে আজ কী হলো?কেন প্রাণেশা এমন করছে?কেন বাড়িতে থাকতে চাইছে না?কী হলো আবার ওর?
#চলবে
(দুঃখিত এতোদিন গল্প না দেওয়ার জন্য। তারউপর আবার এলোমেলো আর খাপছাড়া হয়েছে।আমি মানসিকভাবে একটুও শান্তিতে নেই।লেখার কোনো মন-মানসিকতায় খুঁজে পাচ্ছি না।দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আপনারা জানেন। তবে আমি অবাক হলাম এটা দেখে যে,দেশের এই পরিস্থিতিতেও অনেকে গল্প খুঁজলেন।অনেকে আবার পরিস্থিতি সম্পর্কে নুন্যতম ধারণাও রাখে না।মানে যারা আমাদের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে,জীবন বাজি রেখে লড়াই করছে, শুধুমাত্র আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা তাদেরই কোনো খোঁজ খবর রাখছি না। পর্বটা লেখার চেষ্টা করছিলাম প্রায় পাঁচদিন ধরে,কিন্তু যতবারই লিখতে যায় ততবারই ফেসবুকে নিউজফিড স্ক্রল করতে থাকি।এবং প্রতিটা রিফ্রেশ গল্প লেখার মনোভাব ধূলিসাৎ করে দেয়। নেটওয়ার্ক বন্ধ না থাকলে হয়তো পর্বটাও লেখা হয়ে উঠতো না।আপনারা যারা আমার মতো বাইরে বেরোতে পারছেন না তারা ঘরে বসে দোয়া করুন বিদ্রোহী,বীর এবং শহিদদের জন্য। একমাত্র দোয়ায় আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।)