পর্ব ০২
"উঠুন",সংক্ষিপ্ত স্বরে বললো সে।
তরুনীটি ধীরে দরজা খুলে ভেতরে বসলো। আশ্চর্য -- দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা খুব মৃদু হলো, যেন শব্দটাও ভয় পেয়ে গেছে।গাড়ির ভিতর হালকা একটা শীতলতা ছড়িয়ে পড়লো।এসি বন্ধ, জানালার কাচ গুলো তোলা --তবুও যেন তাপমাত্রা হঠাৎ কয়েক ডিগ্রি নেমে গেলো।
গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো।
কিছুক্ষণ নীরবতা। শুধু ইঞ্জিনের মৃদু গর্জন আর চাকার ঘর্ষণের শব্দ। আমির পাশের সিটে বসা মেয়েটির দিকে আড়চোখে তাকালো।সে জানালার বাহিরে তাকিয়ে আছে,অস্বাভাবিক স্থির। চোখের পলক পড়ছে কিনা বুঝা যায় না।
গলা খাকাড়ি দিয়ে আমি জিজ্ঞেস করলো,
" সামনে কোথায় যাবেন?"
তরুনীটি মুখ না ঘুরিয়েই বললো,
শাহাবাগ মোর পেরিয়ে ডানদিকে যে পুরনো লেনটা....সোজা গেলে একটা সাদার উপর কালচে রং এর বাড়ি পাবেন ওখানে নামিয়ে দিলেই হবে।"
তার কন্ঠে যেন কোনো দ্বিধা নেই,বরং অদ্ভুত এক নিশ্চয়তা।
গাড়ি নির্দেশমতো এগোতে লাগলো।শহরের আলো আরো কমে এলো।রাস্তার দু'পাশে বাড়িগুলো একটার পর একটা পোরিয়ে যাচ্ছে, সবই সাধারণ, পরিচিত, নীরব।
কিছু দূর যেতেই সামনে দেখা গেলো বাড়িটা।
সাদা কালচে রঙের দোতলা। গেটটা নতুন রঙ করা,দেয়ালে ঝকঝকে নামফলক।বারান্দায় হালকা হলুদ আলো জ্বলছে। জানালাগুলো পরিষ্কার, কাচেঁ কোনো দাগ নেই।বাগানে ছাঁটা ঘাস,দু'পাশে সাজানো গাছ।দেখতে একেবারেই স্বাভাবিক। অন্য দশটা আধুনিক বাড়ির মতই।
গেটের পাশে বড় হরফে লেখা---
"মায়া ভিলা"
বাড়িটার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ে না। বরং এতটাই স্বাভাবিক যে সন্দেহ করার সুযোগও নেই।
গাড়ি ধীরে গেটের সামনে থামলো।
আমির এবার সরাসরি তাকালো মেয়েটির দিকে।
"আপনার নামটা তো জানা হলো না।"
তরুণীটি ধীরে তার দিকে মুখ ফেরালো। ঠোঁটে হালকা একটা হাসি ফুটলো।যেটা পুরোপুরি উষ্ণও নই,আবার শীতলও নই।
"আমার নাম... মায়া।"
এক মুহূর্তের জন্য বাতাস যেন থমকে গেলো।
গেটের উপর ঝুলে থাকা লাইটটা হঠাৎ একবার টিমটিম করে উঠলো।
মায়া নেমে গেলো।নেমে ধন্যবাদ জানালো। এরপর বললো,
"রাত তো অনেক,চাইলে এখানে বাকি রাতটুকু থাকতে পারেন।"
আমির মৃদু হেসে বলল,"বলেছেন তাতেই হ্যাপি।ভালো থাকবেন এখন আমি আসি। "
এটা বলেই গাড়ি স্টার্ট দিলো। মায়া সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো।
চলবে,,,,,