পর্ব ০৬
ভোরের আলোয় শহর আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠলো।আমির স্থির চোখে গেটের লেখাটা দেখছিলো।কয়েক সেকেন্ড পর অক্ষরগুলো মিলিয়ে গেলো ধীরে।সে বুঝতে পারছিল না সত্যি নাকি বিভ্রম।হাত বাড়িয়ে সিটের দাগ স্পর্শ করলো সতর্কভাবে।দাগটি বাস্তব, ঠাণ্ডা, অদ্ভুতভাবে গভীর রয়ে গেছে।তার বুকের ভেতর অস্থিরতা জমে উঠলো আবার।একা আর এগোনো সম্ভব নয় সিদ্ধান্ত নিলো।অফিসে পৌঁছে সরাসরি অভ্রর কেবিনে ঢুকলো।অভ্র মাথা তুলে অবাক চোখে তাকালো।
“তোর চেহারা এমন ফ্যাকাসে কেন আজ?”
আমির দরজা বন্ধ করে চুপচাপ বসলো।কিছুক্ষণ নীরবতার পর ধীরে বললো সব।অভ্র মনোযোগ দিয়ে শুনলো একবারও না থামিয়ে।তার চোখে ভয় নয়, কৌতূহল জ্বলছিল স্পষ্ট।
“হ্যালুসিনেশন হতে পারে,” শান্তভাবে বললো অভ্র।
আমির মাথা নাড়িয়ে দৃঢ় স্বরে প্রতিবাদ করলো।সে মোবাইলের ছবিটা সামনে ধরলো তখন।
অভ্রর ভ্রু কুঁচকে উঠলো ছবিটি দেখে।সময় লেখা স্পষ্ট আজ রাত বারোটা।
“চল আজ রাতেই যাচ্ছি,” হঠাৎ বললো অভ্র।আমির বিস্ময়ে তাকালো তার মুখের দিকে।
“প্রমাণ ছাড়া কিছুই বিশ্বাস করবো না,” অভ্র দৃঢ়।
দুজনের মাঝে অদ্ভুত নীরব চুক্তি হয়ে গেলো।রাত নামার অপেক্ষা দীর্ঘ হয়ে উঠলো আবার।
আকাশে মেঘ জমলো অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে।শহরের আলো একে একে জ্বলে উঠলো।দুজন একই গাড়িতে রওনা দিলো নিঃশব্দে।অভ্র স্টিয়ারিং ধরলো স্থির আত্মবিশ্বাসে।আমির জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলো চুপচাপ।শাহবাগ পেরোতেই বাতাস হঠাৎ ঠাণ্ডা হলো।অভ্র লক্ষ্য করলো তাপমাত্রা দ্রুত কমছে।
“এটা কাকতাল নয়,” ফিসফিস করলো আমির।
পুরোনো সেই লেনে ঢুকতেই নেটওয়ার্ক হারালো।মোবাইলের সিগন্যাল হঠাৎ শূন্য হয়ে গেলো।দূরে আবার দেখা গেলো সাদা বাড়িটি।অভ্র থামলো না, সরাসরি গেটের সামনে।আজ গেট বন্ধ, কিন্তু তালা নেই কোথাও।দুজন একে অপরের দিকে তাকালো নিঃশব্দে।হঠাৎ ভেতর থেকে ক্ষীণ আলো জ্বলে উঠলো।
অভ্র ঠাণ্ডা হাসি দিয়ে বললো, “চল।”
গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকলো তারা ধীরে।মাটির নিচে কাঁপন অনুভূত হলো স্পষ্ট।অভ্র চারদিকে টর্চের আলো ফেললো সতর্কভাবে।দেয়ালে আগের পোড়া দাগগুলো নেই।বাড়িটি যেন নতুন রঙে ঝকঝক করছে।আমিরের শ্বাস আবার ভারী হয়ে উঠলো।হঠাৎ দরজা নিজে থেকেই খুলে গেলো। অভ্র থমকে দাঁড়ালো কয়েক সেকেন্ড স্থির।
“কে আছে ভেতরে?” উচ্চস্বরে ডাকলো সে।
উত্তরে কেবল প্রতিধ্বনি ফিরে এলো।দুজন ভেতরে পা রাখলো সতর্কভাবে ধীরে।ঘরের ভেতর অস্বাভাবিক নীরবতা জমাট।হঠাৎ উপরের ঘরে পদচারণার শব্দ হলো।অভ্র চোখ তুলে সিঁড়ির দিকে তাকালো।
আমির ফিসফিস করে বললো, “সে এসেছে।”
সিঁড়ির মাথায় ধীরে ছায়া গাঢ় হলো।এইবার ছায়াটি একা নয় স্পষ্ট।তার পেছনে আরও কয়েকটি অস্পষ্ট অবয়ব।অভ্রর টর্চ হঠাৎ নিভে গেলো সম্পূর্ণ।অন্ধকারে কারও শ্বাসের শব্দ ভেসে এলো।
একটি নারীকণ্ঠ ধীরে উচ্চারিত হলো।
“তুমি একা আসোনি আজ আমির।”
অভ্র স্থির কণ্ঠে বললো, “আমরা সত্য জানতে চাই।”
হাসির প্রতিধ্বনি চারদিকে ঘুরে উঠলো।দেয়ালের রং আবার কালচে হতে লাগলো।মেঝেতে হাতের ছাপ ফুটে উঠলো ধীরে।অভ্র এবার প্রথমবারের মতো দ্বিধাগ্রস্ত হলো।হঠাৎ তার কাঁধে ঠাণ্ডা স্পর্শ অনুভূত।সে ঘুরে তাকাতেই কাউকে দেখলো না।আমির সামনে তাকিয়ে স্থির হয়ে আছে।সিঁড়ি বেয়ে নামছে সাদা পোশাক পরা অবয়ব।অভ্র এবার স্পষ্ট দেখলো মেয়েটির মুখ।ছবির সেই মুখ নিঃসন্দেহে একই।তার চোখে অদ্ভুত স্থির জ্বলন্ত চাহনি।
“আগুন থামেনি এখনো,” সে ফিসফিস করলো।
হঠাৎ চারদিকে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো।দেয়ালের ভেতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে লাগলো।অভ্র পেছাতে চাইলেও পা আটকে গেলো।মেঝে যেন নরম ছাইয়ে ঢেকে গেছে।মায়ার কণ্ঠ আবার শোনা গেলো ধীরে।
“সত্য জানতে মূল্য দিতে হবে।”
ঘরের মাঝখানে ফাটল ধরলো শব্দহীনভাবে।ফাঁক দিয়ে লাল আভা জ্বলে উঠলো।অভ্র আমিরের হাত শক্ত করে ধরলো।দুজনের চোখে একই আতঙ্ক স্পষ্ট।হঠাৎ সব আলো নিভে অন্ধকার নেমে এলো।চিৎকার কানে বাজলো অসংখ্য কণ্ঠে।তারপর সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে এলো।কয়েক সেকেন্ড পর আলো ফিরলো ধীরে।ঘর আবার স্বাভাবিক আগের মতোই।অভ্র হাঁপাতে হাঁপাতে চারদিকে তাকালো।আমির সামনে স্থির দাঁড়িয়ে আছে এখনো।কিন্তু তার পাশে কেউ নেই আর।অভ্র একা দাঁড়িয়ে আছে ফাঁকা ঘরে।গেট খোলা, বাইরে কুয়াশা ঘন।মোবাইলের স্ক্রিনে নতুন বার্তা জ্বলছে।
“একজন থাকবে, একজন ফিরবে,” লেখা স্পষ্ট।
অভ্রর বুকের ভেতর ঠাণ্ডা শূন্যতা জমলো।দূরে সিঁড়ির মাথায় আবার ছায়া নড়লো।এই খেলা এখনো শেষ হয়নি নিশ্চিত।অভ্র গলা শক্ত করে সামনে এগিয়ে দাঁড়ালো।তার চোখে ভয় চাপা, কৌতূহল স্পষ্ট জ্বলছে।আমির তার পাশে নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে।চারপাশের বাতাস অস্বাভাবিক ভারী হয়ে উঠেছে।দেয়ালের ছায়াগুলো ধীরে লম্বা হয়ে উঠলো।উপরে সিঁড়ির অন্ধকার আরও ঘন হয়ে।অভ্র দৃঢ় স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো সামনে।
“কি মূল্য দিতে হবে বলো স্পষ্ট করে।”
তার কণ্ঠ দেয়ালে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরলো।আমিরও কাঁপা গলায় বললো ধীরে।
“আমরা জানতে চাই সত্য পুরোটা আজ।”
ঘরের ভেতর হালকা শীতল হাওয়া বইলো।কোথাও কোনো অবয়ব দেখা গেলো না।তবুও উপস্থিতির চাপ স্পষ্ট অনুভূত হলো।হঠাৎ সেই পরিচিত হাসি ভেসে এলো।নিচু, দীর্ঘ, অস্বাভাবিক টানা হাসি।দেয়ালের ভেতর থেকে যেন উঠছে ধীরে।অভ্র দাঁত চেপে চারদিকে তাকালো সতর্কভাবে।
“লুকোচুরি কেন করছো আমাদের সাথে?”
তার কণ্ঠ এবার আরো কঠিন শোনালো।
“সামনে এসে দাঁড়াও, সব শুনবো আমরা।”
আমিরও হাত মুঠো করে এগিয়ে গেলো।
“মায়া, বেরিয়ে আসো সামনে এবার।”
তার চোখে ভয় আর কৌতূহল মিশ্র।হাসির শব্দ হঠাৎ তীব্র হয়ে উঠলো।উপরে জানালার কাঁচ কেঁপে উঠলো হালকা।বাতাসে পোড়া গন্ধ আরও ঘন হলো।অভ্রর কপালে ঘাম জমে উঠলো।মেঝের নিচে কাঁপন অনুভূত হলো ক্ষীণ।সিঁড়ির মাথায় ধীরে অবয়ব ফুটে উঠলো।সাদা পোশাক বাতাসে স্থির ঝুলছে যেন।চুল মুখ ঢেকে রেখেছে আংশিকভাবে।চোখ দুটি অস্বাভাবিক উজ্জ্বল জ্বলছে।মায়া সিঁড়ির রেলিং ছুঁয়ে থামলো।তার ঠোঁটে বিকৃত হাসি ফুটে উঠলো।
“মূল্য জানতে এত আগ্রহ কেন?”
কণ্ঠস্বর চারদিক থেকে ঘিরে ধরলো।অভ্র বুক সোজা করে তাকিয়ে রইলো।
“সত্য জানলে ভয় পাই না আমরা।”
মায়া ধীরে মাথা কাত করলো।তার চোখে অদ্ভুত দুঃখের ছায়া ভাসলো।
“ভয় পাবে, যখন বুঝবে দেরি হয়েছে।”
ঘরের দেয়ালে হঠাৎ দাগ ফুটে উঠলো।কালো রেখাগুলো জালের মতো ছড়িয়ে পড়লো।আমির অনুভব করলো শ্বাস নিতে কষ্ট।
“আমরা প্রস্তুত,” দৃঢ় স্বরে বললো সে।
মায়া নিচে নামতে শুরু করলো ধীরে।প্রতিটি ধাপে শব্দহীন চাপ তৈরি হচ্ছিল।অভ্র অনুভব করলো সময় থমকে গেছে।ঘড়ির টিকটিক হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলো।বাতাস সম্পূর্ণ স্থির হয়ে রইলো।মায়া কয়েক হাত দূরে এসে থামলো।তার মুখ এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।চোখে গভীর অন্ধকার, তবুও আবেদন আছে।
“মূল্য মানে স্মৃতি, অপরাধ, স্বীকারোক্তি।”
তার কণ্ঠ এবার ফিসফিস নয় দৃঢ়।অভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকালো গভীরভাবে।
“আমাদের অপরাধ কি বলো স্পষ্ট।”
মায়া হালকা হেসে মাথা নাড়লো।
“অপরাধ সবসময় জানা থাকে না।”
দেয়ালের ভেতর থেকে অস্পষ্ট কান্না ভেসে এলো।আমিরের বুকের ভেতর চাপ বাড়লো দ্রুত।
“তুমি কি চাও আমাদের কাছ থেকে?”
তার কণ্ঠে এবার অনুনয়ের সুর।মায়া চোখ বন্ধ করলো কয়েক মুহূর্ত।ঘরের তাপমাত্রা আরও কমে গেলো হঠাৎ।
“একজন থাকবে, একজন হারাবে পথ।”
কথাগুলো ধীরে ভেসে এলো বাতাসে।অভ্র আমিরের দিকে তাকালো বিস্ময়ে।
“এর মানে কি?” ফিসফিস করলো সে।
মায়া এবার অদ্ভুত তীক্ষ্ণ হাসি হাসলো।ছাদের কোণে কালো ছায়া ঘনীভূত হলো।মেঝের ফাটল আরও প্রশস্ত হয়ে উঠলো।
“মূল্য জানতে চাইলে রক্তের স্মৃতি দেখো।”
দেয়ালে হঠাৎ আগুনের আভা ফুটে উঠলো।কিন্তু আগুনের তাপ অনুভূত হলো না।আমিরের চোখে ভেসে উঠলো অচেনা দৃশ্য।অভ্রও স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো সামনে।হাসির শব্দ ধীরে ক্ষীণ হয়ে মিলালো।মায়ার অবয়ব কুয়াশার মতো ঝাপসা হলো।শেষবার তার চোখ জ্বলে উঠলো উজ্জ্বল।
“সত্যের দরজা খুলেছে, বন্ধ নয় এখন।”
কথাগুলো ঘরের ভেতর প্রতিধ্বনি তুললো।হঠাৎ সব আলো নিভে অন্ধকার নেমে এলো।দুজনেই নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
মায়ার হাসি ধীরে নেমে এলো নরম স্বরে।অন্ধকার সরে গিয়ে আলো পড়লো তার মুখে।সে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে সামনে এগিয়ে এলো।পায়ের শব্দ এবার স্পষ্ট শোনা গেলো।সাদা পোশাক হালকা বাতাসে দুলছে স্বাভাবিকভাবে।তার চুল কাঁধ ছুঁয়ে নেমেছে পরিপাটি রেখায়।মুখে ক্লান্ত অথচ অদ্ভুত প্রশান্তির ছাপ।চোখ দুটি গভীর, কিন্তু উষ্ণতায় ভরা।ঠোঁটে লাজুক একটুখানি হাসি ফুটো।ত্বক ফ্যাকাসে নয়, স্বাভাবিক আভায় দীপ্ত।মনে হচ্ছিল সে রক্তমাংসের মানুষই।কোনো ছায়া নয়, কোনো বিভ্রম নয়।সে একদম সামনে এসে থামলো।অভ্র বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো স্থির হয়ে।আমিরের বুকের ভেতর ধক করে উঠলো।মায়া ধীরে তাদের দিকে হাত বাড়ালো।তার আঙুলগুলো উষ্ণ, কাঁপছে সামান্য।
“এত ভয় পাচ্ছ কেন তোমরা?”
তার কণ্ঠে আর ফিসফিস সুর নেই।স্বাভাবিক, মৃদু, প্রায় মানবিক আবেদন।সে অভ্রর চোখের দিকে তাকালো স্থিরভাবে।
“আমি লুকোচ্ছি না কোথাও।”
তার কণ্ঠে সামান্য অভিমান মিশে আছে।
“তোমরাই ভয় বানিয়ে রেখেছো আমাকে।”
আমির থমকে গিয়ে তাকিয়ে রইলো।এতোক্ষণকার আতঙ্ক যেন মিলিয়ে যাচ্ছে।ঘরের ঠাণ্ডা ভাবও কমে এসেছে ধীরে।বাতাসে এখন পোড়া গন্ধ নেই একদম।বরং হালকা ফুলের সুবাস ভাসছে।মায়া চুল সরিয়ে কানের পাশে রাখলো।সেই ভঙ্গি অস্বাভাবিক নয়, একেবারে মানবিক।তার চোখে জল চিকচিক করছে ক্ষীণভাবে।
“সত্য জানতে এসেছো, তাই না?”
সে একধাপ এগিয়ে আরও কাছে এলো।অভ্র অজান্তেই পিছু হটলো সামান্য।মায়া মৃদু হাসলো নিঃশব্দে ধীরে।
“মূল্য মানে ভয় নয় সবসময়।”
তার কণ্ঠে এবার কোমল ব্যাখ্যার সুর।
“মূল্য মানে সাহস, মুখোমুখি হওয়া।”
আমির অনুভব করলো বুকের চাপ কমছে।সে যেন বিশ্বাস করতে চাইছে এখন।মায়া তার দিকে সরাসরি তাকালো।
চোখে গভীর দুঃখের রেখা স্পষ্ট।
“আমাকে মানুষ হিসেবে দেখো।”
কথাগুলো ভাঙা অথচ আন্তরিক শোনালো।
অভ্র সাবধানে প্রশ্ন করলো ধীরে।
“তাহলে এইসব ঘটছে কেন বলো?”
মায়া দীর্ঘশ্বাস ফেললো খুব স্বাভাবিকভাবে।তার কাঁধ হালকা নড়লো শ্বাসে।
“সবকিছু যেমন দেখছো তেমন নয়।”
ঘরের দেয়াল এখন একদম স্থির।কোনো ছায়া নড়ছে না আশেপাশে।মায়া হাত বাড়িয়ে সিঁড়ির রেলিং ছুঁলো।লোহার শব্দ স্বাভাবিক টুকটুক করে উঠলো।অভ্র বিস্ময়ে আমিরের দিকে তাকালো।সবকিছু এতটাই স্বাভাবিক লাগছে এখন।মায়া ধীরে নিচের মেঝেতে বসলো।তার পোশাক মেঝেতে ছড়িয়ে পড়লো নরমভাবে।
“আমি পালাইনি, আমি অপেক্ষা করেছি।”
তার চোখে এবার অদ্ভুত শান্তি।আমির এক পা এগিয়ে দাঁড়ালো।সে অনুভব করলো ভয় প্রায় নেই।
মায়া মৃদু হেসে তাকালো আবার।তার হাসি একদম মানবিক উষ্ণতায় ভরা।
“আজ আর লুকোচুরি নয়।”
সে স্পষ্ট, দৃঢ় স্বরে বললো।অভ্র এবার সত্যিই বিভ্রান্ত হয়ে পড়লো।এতো স্বাভাবিক মানুষ কি বিভ্রম হতে পারে?ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা শান্ত হয়ে বসেছে।মায়া ধীরে উঠে দাঁড়ালো আবার।
“চলো, সব দেখাবো তোমাদের।”
তার কণ্ঠে আমন্ত্রণের সুর স্পষ্ট।আমির তার দিকে হাত বাড়ালো দ্বিধায়।মায়া হাত রাখলো তার হাতে নরমভাবে।স্পর্শ উষ্ণ, একদম জীবন্ত অনুভূতি।অভ্রর বুকের ভেতর কাঁপন রয়ে গেলো।তবুও সে আর প্রতিবাদ করলো না।মায়া সামনে হাঁটতে শুরু করলো ধীরে।তার পায়ের শব্দ মেঝেতে প্রতিধ্বনি তুললো।সবকিছু এতটাই বাস্তব লাগছে এখন।যেন এই বাড়িতে কোনো রহস্যই নেই।যেন সে কখনো আগুনে পুড়েনি।যেন সবকিছু ভুল বোঝাবুঝি মাত্র।
চলবে,,,,,,