ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক অবেলায় তুমি এলে

৩য় পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম তালুকদার বুশরা

#এক_অবেলায়_তুমি_এলে

#পর্ব_৩

#কলমে_তাসনিম_তালুকদার_বুশরা

হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

ক্লাসে ফিরে এসেও তিতলির মুখটা ভার হয়ে ছিল। আহিয়ানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বারবার মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিল। তার ওপর সাথীর কাণ্ডকারখানার কথা মনে পড়তেই রাগটা যেন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। হঠাৎই পাশ ফিরে সাথীর দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলল,

— “শালী, তোর সঙ্গে আমার কোনো কথা নেই। আমি তোকে বলেছিলাম আমাকে নিয়ে গিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খাওয়াবি। নিজে থেকে খাওয়ালিও! কিন্তু ওই খারুশ বেটাকে দেখেই ভয়ে আমাকে একা ফেলে পাদতে পাদতে দৌড় দিলি কেন, বল?”

তিতলির রাগী মুখটা দেখে সাথী একগাল বোকাসোকা হাসি হেসে মাথা চুলকাতে লাগল,

— “আসলে, বেবি... তখন তো স্যার আমাকে ক্লাসে আসতে বলেছিলো। বল তো, আমি আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম কীভাবে? স্যারের কথা না শুনলে তো পাপ হতো! তাই না?”

সাথীর কথা শুনে তিতলি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

—“তর পাপের মাইরে বাপ শালী। আজ থেকে তুই আমার বান্ধবী না। যা, সর আমার সামনে থেকে!”

সাথী নাটকীয় ভঙ্গিতে বুকের ওপর হাত রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর নাটকী ভঙ্গিতে বলতে লাগলো,

— “হায় রে নিষ্ঠুর দুনিয়া! তুই ছাড়া আমার আছেটা কে, বল জান? তুই যদি আমার সঙ্গে কথা না বলিস, তাহলে তো আমি ঠিকমতো হাগুও করতে পারবো না। আমার অর্ধেক হাগু হবে! তারপর যদি আমি হাগু আটকার কষ্টে আমি মরেই যাই, তখন আমার মতো এত সুইট, সেক্সি আর কেয়ারিং একটা বান্ধবী কোথায় পাবি?”

সাথীর কথা শেষ হতেই ঠাস করে তিতলির পিঠে একটা কিল পড়লো। তারপর তিতলি ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত গলায় বলল,

— “নাটকী নাটক করিস, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু মুখে কী সব আজেবাজে কথা বলিস! একটুও ঘৃন্না করে না এসব বলতে?!”

সাথী পিঠে হাত বুলিয়ে আবারও সেই নিরীহ হাসিটাই হাসল। তারপর ইনোসেন্ট কণ্ঠে বললো,

— “আরে ডার্লিং, আমি তো সত্যি কথাই বললাম!”

তার কথা শুনে তিতলি আরেক দফা চোখ রাঙাতে যাবে, ঠিক তখনই ক্লাসরুমের দরজার সামনে গম্ভীর পদচারণার শব্দ ভেসে এল। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্লাসরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। স্যার হাতে বই নিয়ে ধীর পায়ে ক্লাসে প্রবেশ করলো। তিতলি আর সাথী দুজনেই সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের আসনে সোজা হয়ে বসল। কয়েক সেকেন্ড আগেও যারা ফিসফিস করে ঝগড়া করছিল, তারা যেন আচমকাই ভদ্র ও নিরীহ স্টুডেন্টে পরিণত হলো।

~~

কলেজের শেষ ঘণ্টা বাজতেই ধীরে ধীরে ক্যাম্পাস ফাঁকা হতে শুরু করল। সারাদিনের কোলাহল যেন মুহূর্তেই স্তিমিত হয়ে এলো। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কেউ আবার অভিভাবকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।

কলেজের মূল ফটকের সামনেই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে তিতলি আর সাথী। সাথী অবশ্য নিজের জন্য নয়, তিতলির সঙ্গ দিতেই দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিনের মতো আজও তিতলিকে নিতে আসবে তার বড় ভাই, তিহান। তাই বান্ধুবীকে একা রেখে চলে যাওয়ার ইচ্ছা তার নেই। ঠিক তখনই আহিয়ান একটা কালো রঙের বাইক নিয়ে এসে তাদের ঠিক সামনে থামালো। দুজনেই চমকে তাকাল। তাঁর মুখের সেই চিরচেনা গাম্ভীর্য এখনো বিন্দুমাত্র বদলায়নি। সে একবারও কারো দিকে না তাকিয়ে শান্ত অথচ কর্তৃত্বপূর্ণ কণ্ঠে বললেন,

— “সাথী, তুমি বাড়ি ফিরে যাও।”

কথাটা এতটাই দৃঢ় ছিল যে, সাথী প্রথমে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। তারপর সে ইতস্তত করে আস্তে বলল,

— “কিন্তু স্যার... তিতলি......!”

কথা শেষ করার আগেই আহিয়ান আগের চেয়েও কঠোর স্বরে বললেন,

— “তোমাকে ওকে নিয়ে ভাবতে হবে না। তুমি বাড়ি যাও।”

সাথী অসহায় চোখে একবার তিতলির দিকে তাকাল। তিতলি তখন চোখ বড় বড় করে বারবার ইশারায় তাকে যেতে নিষেধ করছে। কিন্তু সেই ইশারা উপেক্ষা করেই সাথী মনে মনে বলল, “নিজে বাঁচলে বাপের নাম....!” পরের মুহূর্তেই সে প্রায় দৌড়ে সেখান থেকে উধাও হয়ে গেল। সাথীর চলে যাওয়া দেখে তিতলি দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলল,

— “শালী... কাল তোকে আমি দেখে নেব!”

তার বিড়বিড়ানি শেষ হতেই আহিয়ানের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,

— “বিড়বিড় করা শেষ হলে বাইকে ওঠো।”

তিতলি মুখ ফুলিয়ে দুই হাত বুকের সামনে ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর অত্যন্ত নিচু স্বরে, প্রায় মিনমিন করে বলল,

— “আমাকে নিতে ভাইয়া আসবে। আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আপনি চলে যান।”

আহিয়ান নির্বিকার। শান্ত স্বরেই উত্তর দিলেন,

— “তোমার ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি তাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি, আজ তোমাকে আমি বাড়ি পৌঁছে দেব। আর আজকে না এখন থেকে প্রতিদিনি আমি তোমাকে পৌঁছে দিবো। চলো।”

কথাগুলো শুনে তিতলির রাগ যেন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। খারুশ লোক একটা!

কিছুক্ষণ আগেই পুরো ক্লাসের সামনে কান ধরে দাঁড় করিয়ে অপমান করলো, আর এখন আবার যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে এসেছে!”

মনে মনে অসংখ্য অভিযোগ জমতে লাগল তার।

হঠাৎ যেন তার মাথায় এক দুষ্টু বুদ্ধি এল। ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ ব্যঙ্গের হাসি ফুটিয়ে আহিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

— “স্যার... আপনি কি সত্যিই একজন স্টুডেন্টকে নিজের বাইকে তুলে নিয়ে যাবেন? তাহলে মানুষ কি বলবে বলুন তো! কলেজের সবাই যদি দেখে, তাহলে কী ভাববে? আপনার তো প্রফেশনাল লাইফ আর পার্সোনাল লাইফ এক করতে একদমই ভালো লাগে না... তাই না স্যার?”

কথাগুলো বলেই তিতলি ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে ফেলল। তার কণ্ঠে যতই ব্যঙ্গের সুর থাকুক না কেন, বুকের ভেতরটা তখনও ধুকপুক করে কাঁপছে। একটু আগেই আহিয়ান তাকে যে কথাগুলো বলেছিল, সেগুলোই সে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তার দিকেই ছুড়ে দিয়েছে। কথাগুলো মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরই যেন বুঝতে পারলো হয়তো একটু বেশিই বলে ফেলেছে।

আহিয়ান স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তিতলির দিকে তাকিয়ে রইল। তার বুঝতে বাকি রইল না, মেয়েটি ইচ্ছে করেই তার বলা কথাগুলো ফিরিয়ে দিয়েছে।

এক মুহূর্তের জন্য তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। কপালের শিরাগুলোও যেন টানটান হয়ে উঠেছে। বিরক্তি স্পষ্ট হলেও তিনি নিজেকে সংযত রাখলেন। গভীর শ্বাস নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,

— “এই অবাধ্য মেয়ে! তুমি কি ঠিক করেই নিয়েছ, আমার কোনো কথাই শুনবে না?”

তিতলি নীরব।

আহিয়ান আবার বললেন,

— “দেখো, তিতলি... আমার রাগ খুব বেশি। রাগের মাথায় আমি এমন কিছু বলে ফেলতে পারি, পরে যেটার জন্য নিজেকেই অনুতপ্ত হতে হয়। তাই অকারণে আমাকে রাগিয়ে দিও না। যা বলছি তাই করো। বাইকে উঠে বসো।”

কথাগুলো আগের মতো কঠোর শোনালেও শেষের দিকে যেন কণ্ঠে একফোঁটা ক্লান্তি মিশে গেল।

তিতলি বিস্মিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

কী উত্তর দেবে, কিছুই বুঝে উঠতে পারল না।

তার সমস্ত অভিমান যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।তিতলিকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আহিয়ান আবার গম্ভীর স্বরে বললেন,

— “এসো, বাইকে ওঠো।”

এবার আর অবাধ্য হওয়ার সাহস পেল না তিতলি।

মনে মনে যতই অভিমান থাকুক, পরিস্থিতি আর জটিল করতে চাইল না। ধীরে ধীরে বাইকের দিকে এগিয়ে গেল। ঠিক যখন সে উঠতে যাবে, তখনই আহিয়ান বললেন,

— “একটু দাঁড়াও।”

তিতলি থেমে গেল। আহিয়ান বাইকের হ্যান্ডেলে ঝোলানো অতিরিক্ত হেলমেটটি হাতে নিয়ে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার দিকে হাত এগিয়ে দিলো।

তারপর এক মুহূর্ত সময় নিয়ে সাবধানে তিতলির মাথায় হেলমেটটি পরিয়ে দিলেন। তারপর স্ট্র্যাপ ঠিক করে দিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললেন,

— “এবার ওঠো।”

ঘটনাটা এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে তিতলি কয়েক সেকেন্ড নির্বাক হয়ে রইল। মনের ভেতর জমে থাকা অভিমানের ফাঁক গলে অদ্ভুত এক অনুভূতি উঁকি দিল। লোকটা যতই গম্ভীর হোক, যতই রাগী হোক... যত্ন নিতে কিন্তু জানে।অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি ফুটে উঠল, যদিও সেটি মুহূর্তেই লুকিয়ে ফেলল সে। তারপর আস্তে করে বাইকে উঠে বসলো।

আহিয়ান এবার নিজেও হেলমেট পরে বাইকে বসলেন। ইঞ্জিন চালু করার আগে একবার পিছনে ফিরে সংযত কণ্ঠে বললেন,

— “ভালো করে বসো। আমাকে ধরে বসো আমি তোমার ফিউচার হাসব্যান্ড পরপুরুষ নয় পরে বাইক থেকে পরে গেলে তোমার ফ্যামিলি আমাকে ধরবে তাদের আদরের মেয়ে কে আমি ইচ্ছা করে ফেলে দিছি। তারপর আমাকে জেলের ভাত খাওয়াবে। রাস্তায় কখনো কখনো হঠাৎ ঝাঁকুনি দেয়।”

তিতলি প্রথমে ইতস্তত করল। তারপর খুব আস্তে সামনে ঝুঁকে আহিয়ানের শার্টের কাঁধের অংশটা আলতো করে মুঠোয় ধরল, যেন শুধু ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই। স্পর্শটা অনুভব করে আহিয়ানের মুখে অতি ক্ষীণ এক হাসির রেখা ফুটে উঠল। পরের মুহূর্তেই কালো বাইক ধীরে ধীরে কলেজের প্রধান ফটক পেরিয়ে ব্যস্ত সড়কের দিকে এগিয়ে গেল।

কালো বাইকটি নিয়ন্ত্রিত গতিতে সামনে এগিয়ে চলেছে। চারপাশে যানবাহনের শব্দ, বাতাসের মৃদু শোঁ-শোঁ আওয়াজ সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত নীরব পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আহিয়ান মাঝেমধ্যে বাইকের রিয়ার-ভিউ মিররে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিল। প্রতিবারই একই দৃশ্য। তিতলি একদম চুপচাপ বসে আছে। মুখে কোনো কথা নেই, চোখ দুটোও যেন কোথাও স্থির নয়। দৃশ্যটা আহিয়ানের কাছে অস্বাভাবিকই লাগল। সে মৃদু স্বরে বললো,

—“আমি তো জানি, তুমি বেশ বাচাল। তাহলে আজ এত চুপচাপ কেন?”

অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে তিতলি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। মুখে লজ্জার হালকা আভা ফুটে উঠলেও মুহূর্তের মধ্যেই সেটি আড়াল করে সামান্য তেজের সুরে বলল,

— “কে বলেছে আমি বাচাল? আমি মোটেও বেশি কথা বলি না। আমি সবসময়ই চুপচাপ থাকি।”

আহিয়ানের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির রেখা ফুটে উঠল। তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলেন,

— “আচ্ছা... তাই নাকি?”

কয়েক মুহূর্ত আবার নীরবতা। শুধু বাইকের ইঞ্জিনের শব্দ আর বাতাসের ঝাপটা। এরপর আহিয়ান আবার শান্ত কণ্ঠে বললো,

— “আজ ক্লাসে তোমাকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম... সেই জন্য কি খুব অভিমান হয়েছে আমার উপরে...?”

প্রশ্নটা শুনে তিতলির বুকের ভেতর আবার জমে থাকা কষ্টগুলো নড়েচড়ে উঠল। তবুও নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে নির্বিকার থাকার চেষ্টা করল। শুষ্ক কণ্ঠে উত্তর দিল,

— “না। আমার কেন অভিমান হবে? আপনি টিচার আর আমি স্টুডেন্ট। আমাকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার আপনার আছে।”

বাক্যগুলো যতটা নির্লিপ্ত শোনাচ্ছিল, তার অন্তর ততটাই অভিমানে ভারী হয়ে ছিল।আহিয়ান বুঝতে পারলেন, কথাগুলো কেবল মুখের কথা। অভিমান এখনও অটুট। তবুও তিতলি কে জ্বালাতে পুনরায় বললো,

— “তাহলে বলো তো জীবনে প্রথমবার ক্লাসে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার ফিলিংস কেমন? মিসেস তিতলি!”

কথাটা শুনে তিতলির ভ্রু সঙ্গে সঙ্গে কুঁচকে গেল।

মনের ভেতর যেন রাগের আগুন আবার দপ করে জ্বলে উঠল। ইচ্ছে করছিল বাইক থামিয়ে মানুষটার গলা চেপে ধরে জিজ্ঞেস করতে এত খোঁচা দিতে এত ভালো লাগে কেন?

কিন্তু বাস্তবে সে নিজেকে সংযত রাখল। কিছুক্ষণ নীরব থেকে খুব ছোট্ট করে বলল,

— “জানি না।”

শব্দ দুটি উচ্চারণের মধ্যেই স্পষ্ট ছিল চাপা অভিমান, বিরক্তি আর অনিচ্ছা।

আহিয়ান আর কিছু বললেন না। সে বুঝে গেছে, তিতলির মন এখনও শান্ত হয়নি। এই মুহূর্তে আর কোনো কথাই হয়তো পরিস্থিতিকে সহজ করবে না। তাই তিনি নীরবে বাইক চালাতে লাগলো।

চলবে ইনশাআল্লাহ ~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন