ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক অবেলায় তুমি এলে

৪র্থ পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম তালুকদার বুশরা

#এক_অবেলায়_তুমি_এলে

#পর্ব_৪

#কলমে_তাসনিম_তালুকদার_বুশরা

হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

তিতলিকে নিরাপদে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে আহিয়ান আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। মেয়েটি ভেতরে ঢুকে যাওয়া পর্যন্ত নীরবে তাকিয়ে রইল। তারপর বাইকের ইঞ্জিন আবার গর্জে উঠল। কিছু ক্ষণ পর সে নিজের বাড়ির সামনে এসে থামল।

হেলমেট খুলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীর পায়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই ড্রয়িংরুমে দেখা হয়ে গেল তার বড় ভাই পলাশের সঙ্গে। দুই ভাই একই ছাদের নিচে বাস করলেও তাদের স্বভাব-চরিত্র যেন সম্পূর্ণ বিপরীত দুই মেরুর। আহিয়ান শৃঙ্খলাপরায়ণ, আত্মসংযমী এবং নিয়মনিষ্ঠ।

আর পলাশ...অবাধ জীবনযাপনই যেন তার একমাত্র পরিচয়। বন্ধুদের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা, পার্টি, নেশায় আসক্তি এসবই তার নিত্যদিনের অভ্যাস। একসময় সুস্থ-সবল শরীরটাও সেই অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। তবুও নিজের জীবনধারা বদলানোর কোনো আগ্রহ তার নেই।

এসব কারণেই বড় ভাই হলেও পলাশকে বিশেষ পছন্দ করে না আহিয়ান। পলাশ সোফায় আধশোয়া অবস্থায় ঠোঁটের কোণে ব্যঙ্গাত্মক হাসি টেনে বলল,

— “কী রে? তোর পাখিটাকে নিয়ে ঘুরে এলি নাকি?”

কথাটা শুনেই আহিয়ানের মুখ মুহূর্তে কঠিন হয়ে উঠল।সে ধীরে ধীরে পলাশের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,

— “ভাইয়া, এটা তোমাকে আমার প্রথম এবং শেষ সতর্কবার্তা। তিতলির নাম আর কখনো তোমার মুখে আনবে না। ও খুব সরল একটা নিষ্পাপ মেয়ে। তোমার নোংরা মুখে ওর নাম শুনতে আমার একদম ভালো লাগে না।”

কথাগুলো বলার সময় আহিয়ানের চোখে ছিল কঠোর সতর্কবার্তা।

কিন্তু পলাশ যেন বিষয়টাকে গুরুত্বই দিল না।

বরং আরও জোরে হেসে উঠল। তার কাছে পুরো ব্যাপারটাই যেন নিছক মজা। সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তারপর আহিয়ানের খুব কাছে এসে নিচু স্বরে, কানের পাশে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

— “তুই নিজে খুব পবিত্র মানুষ আহিয়ান?!”

বাক্যটি বলেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি রেখে বাড়ির বাইরে চলে গেল।

পলাশের কথাগুলো আহিয়ানের বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্বস্তির জন্ম দিল। সে অন্যমনস্ক হয়ে একবার শুকনো ঢোক গিলল। কয়েক মুহূর্ত স্থির দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল। তারপর চোখ খোলে নিঃশব্দে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল আহিয়ান। তার মুখের গাম্ভীর্য তখন আগের চেয়েও গভীর, আর চোখের ভেতর যেন অদৃশ্য কোনো অস্থিরতার ছায়া নীরবে দোলা দিয়ে গেল।

~~

বিকেল পাঁচটা....!

সন্ধ্যা নামার আগমুহূর্ত। জানালার কাঁচ ভেদ করে আসা শেষ বিকেলের সোনালি আলো ড্রয়িংরুমের মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ড্রয়িংরুমের এক কোণে টিভি চলছে, আর তার সামনেই সোফায় আরাম করে বসে মনোযোগ দিয়ে কাটুন দেখছে তিতলি।

বাড়িটা খুব বড় নয়, তবে পরিপাটি আর শান্ত। মধ্যবিত্ত পরিবারের স্নিগ্ধ উষ্ণতায় ভরপুর তিতলির বড় ভাই তিহান অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ছোটখাটো চাকরিও করে, যাতে বাবার কাঁধের দায়িত্ব কিছুটা হলেও ভাগ করে নিতে পারে। তাদের বাবা, মামুন শেখ, একজন সরকারি কর্মচারী। আয় সীমিত হলেও সততা আর পরিশ্রমে সংসারটাকে সুন্দরভাবেই আগলে রেখেছেন। আর মা, আশা শেখ, এই সংসারের প্রাণকেন্দ্র। এই মুহূর্তে তিনি কিচেনে রাতের খাবার তৈরিতে ব্যস্ত। ঠিক তখনই হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে ঘরের নীরবতা ভেঙে গেল।

কিচেন থেকেই আশা শেখ উচ্চস্বরে বললেন,

— “তিতলি মা, দরজাটা তো খুলে দেখ, কে এসেছে।”

— “আচ্ছা, আম্মু।”

টিভির রিমোটটা টেবিলের ওপর রেখে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল তিতলি। দরজার ছিটকিনি খুলে সামনের মানুষটিকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তার পা যেন মেঝেতেই আটকে গেল। চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল। দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে আছে আহিয়ান। কালো পরিপাটি পোশাক, স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্য, আর হাতে মোড়ানো একটি বড় উপহারের বাক্স। তিতলির বুকের ভেতর হঠাৎ করেই ধুকপুকানি বেড়ে গেল। সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল,

— “আ... আপনি? এই সময়?”

আহিয়ান কোনো ভূমিকা না করেই হাতে থাকা উপহারের বাক্সটি তার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।শান্ত, স্থির কণ্ঠে বললেন,

— “এর মধ্যে একটা শাড়ি আর কিছু জুয়েলারি আছে। এগুলো পরে প্রস্তুত হয়ে নাও। আমরা একটু বাইরে যাব।”

তিতলি বিস্ময়ে চোখ পিটপিট করতে লাগলো তারপর কাঁপা কণ্ঠে বললো,

—“এ... এখন?”

— “হ্যাঁ, এখনই।”

কথাটা এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললেন, যেন এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। তিতলি কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর উপহারের বাক্সটি হাতে নিয়ে একটু সরে দাঁড়িয়ে আস্তে বলল,

— “আপনি... ভেতরে এসে বসুন।”

ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন আশা শেখ। দরজার সামনে আহিয়ানকে দেখে মুখে আন্তরিক হাসি ফুটে উঠল। তারপর বললো,

— “আরে আহিয়ান! এসো বাবা, এসো। তুমি যে আসবে, আগে তো কিছুই জানাওনি।”

আহিয়ান ভদ্রভাবে সালাম জানিয়ে বললো

— “আসলে আন্টি, তিতলিকে নিয়ে একটু বাইরে যেতে চাচ্ছিলাম। তাই আগে আপনার অনুমতি নেওয়াটাই ঠিক মনে হলো।”

ভদ্রতা আর সংযত ব্যবহারে আশা শেখের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। তিনি স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন,

— “অবশ্যই নিয়ে যাবে। তবে আগে ভেতরে এসে বসো বাবা।”

আহিয়ান হালকা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।

অন্যদিকে তিতলি চুপচাপ দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল। তারপর মনে মনে বিড়বিড় করলো,

—“খারুশ লোক একটা! কলেজে সবার সামনে কান ধরে দাঁড় করিয়ে দিল, আর এখন আবার ভদ্র ছেলের মতো মায়ের কাছে অনুমতি নিচ্ছে! কী অভিনয়টাই না পারে!”

মনে মনে বিড়বিড় করলেও মুখে তার কিছুই প্রকাশ পেল না। উপহারের বাক্সটা বুকে জড়িয়ে ধরে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে উঠে গেল।

আর ড্রয়িংরুমে বসে থাকা আহিয়ান নিঃশব্দে তার চলে যাওয়ার দিকেই কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।

নিজের রুমে ঢুকেই তিতলি দরজাটা আলতো করে ভেজিয়ে দিল। তারপর বেডের ওপর বসে কৌতূহল নিয়ে উপহারের বাক্সটির মোড়ক খুলতে শুরু করল। ঢাকনাটা সরাতেই তার চোখ দুটো বিস্ময়ে চিকচিক করে উঠল। ভেতরে অত্যন্ত যত্ন করে ভাঁজ করে রাখা রয়েছে গাঢ় সবুজ রঙের একটি অপূর্ব শাড়ি। শাড়িটির পাড়জুড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ, যা প্রথম দেখাতেই যে কারও নজর কাড়বে। তার পাশে রাখা একজোড়া সবুজ পাথর বসানো বড় দুল আর একই রঙের কাঁচের চুড়ির একটি সেট। সবকিছু একসঙ্গে দেখে তিতলির ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক টুকরো হাসি ফুটে উঠল।মুহূর্তেই দুপুরের সব অভিমান যেন খানিকটা হালকা হয়ে গেল।সে ধীরে ধীরে শাড়িটা হাতে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরল। তারপর বিড়বিড় করলো,

—“লোকটা... পছন্দটা কিন্তু খারাপ না।”

মনে মনে কথাটা বলেই আবার নিজেকে ধমকাল,

—“ধুর! আমি আবার ওর প্রশংসা করছি কেন? খারুশ লোক একটা...!”

মৃদু হেসে সে তৈরি হতে গেল। কিন্তু পরের মুহূর্তেই মুখটা মলিন হয়ে গেল। ও তো শাড়িই পরতে জানে না! মাকে ডাকবে বলে দরজার দিকে এগিয়েও থেমে গেল। নিচে আহিয়ান বসে আছে। এই অবস্থায় যদি জোরে ডাকাডাকি করে, তাহলে কী ভাববে! ঠিক তখনই যেন তার মনের কথাই বুঝতে পেরে আশা শেখ রুমে প্রবেশ করলেন। মাকে দেখেই তিতলির মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। হাসিমুখে শাড়িটা এগিয়ে দিয়ে বলল,

— “আম্মু, আমাকে শাড়িটা পরিয়ে দাও না।”

আশা শেখ শাড়িটার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,

— “আহিয়ান দিয়েছে, তাই তো?”

প্রশ্নটা শুনেই তিতলির গাল দুটো হালকা লাল হয়ে উঠল। সে লাজুক ভঙ্গিতে শুধু মাথা নাড়ল। মেয়ের লজ্জা দেখে আশা শেখ মুচকি হেসে বললেন,

— “আচ্ছা আচ্ছা, এত লজ্জা পেতে হবে না। আয়, পরিয়ে দিচ্ছি।”

অভিজ্ঞ হাতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি নিখুঁতভাবে শাড়িটি পরিয়ে দিলেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে তিতলির নিজেরই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না। সবুজ শাড়ির সঙ্গে খোলা চুল আর মুখভরা লাজুক আভা নিজেকেই আজ তার নতুন লাগছে। সে আলতো করে দুল দুটোও পরে নিল।

সবশেষে কাঁচের চুড়িগুলো হাতে পরতে গিয়ে হঠাৎ

হাত ফসকে একটি চুড়ি মেঝেতে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে কয়েক টুকরো হয়ে গেল। তিতলির বুক ধক করে উঠল। কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,

— “আম্মু... এখন কী হবে?”

আশা শেখ শান্ত স্বরে বললেন,

— “তোর যদি সবুজ রঙের অন্য কোনো চুড়ি থাকে, আপাতত সেটাই পরে যা। আহিয়ান খুব ভালো ছেলে, এসব নিয়ে কিছু বলবে না।”

তিতলি ঠোঁট ফুলিয়ে খুব আস্তে বিড়বিড় করল,

— “ভালো না, ছাই....!”

কথাটা অবশ্য এত নিচু স্বরে বলল যে, আশা শেখ শুনতেই পেলেন না। তারপর মুখ কুঁচকে বলল,

— “আমার তো সবুজ চুড়ি নেই, আম্মু।”

আশা শেখ মেয়ের মাথায় স্নেহভরে হাত রেখে বললেন,

— “তাহলে আর চিন্তা করিস না। যেমন আছিস, তেমনই যা। বিশ্বাস কর, ও কিছুই বলবে না।”

তবুও তিতলির ভেতরের অস্বস্তি কিছুতেই কাটল না। যদি আহিয়ান খেয়াল করে? যদি রাগ করে?

নানান দুশ্চিন্তা নিয়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল সে। কিন্তু ড্রয়িংরুমে এসে চারপাশে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে গেল। আহিয়ান সেখানে নেই।

তিতলি চারদিকে একবার তাকিয়ে খুব আস্তে নিজেকেই বলল,

— “নিশ্চয়ই বাইরে দাঁড়িয়ে আছে....!”

বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অজানা অনুভূতি নিয়ে সে দরজার দিকে পা বাড়াল। পরের মুহূর্তেই বাড়ির প্রধান ফটক পেরিয়ে বাইরে চলে গেলো।

সন্ধ্যার আলো তখন ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে। হালকা বাতাসে তার শাড়ির আঁচল বারবার উড়ে গিয়ে কাঁধ ছুঁয়ে ফিরে আসছে। গেটের সামনেই কালো বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে আছে আহিয়ান।

এক হাতে হেলমেট, অন্য হাতে মোবাইল ফোন। কারও সঙ্গে সংক্ষিপ্ত অথচ গম্ভীর ভঙ্গিতে কথা বলছে সে। কথাবার্তার মাঝেও তার মুখে সেই চিরচেনা স্থিরতা।এদিকে তিতলির সমস্ত মনোযোগ ছিল আহিয়ানের দিকেই। সে এতটাই অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটছিল যে, খেয়ালই করল না শাড়ির নিচের অংশটা তার হাই হিলের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

পরের মুহূর্তেই—“আহ!”ভারসাম্য হারিয়ে সামনের দিকে হোঁচট খেল তিতলি। মেয়েটির কণ্ঠ শুনেই আহিয়ান আচমকা ঘুরে দাঁড়াল। চোখের সামনে তিতলিকে পড়ে যেতে দেখে আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। প্রায় দৌড়ে এসে এক হাতে তিতলির কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের দিকে টেনে নিল। মুহূর্তের মধ্যেই তিতলির পড়ে যাওয়া থেমে গেল। ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিল সে। নিজেকে সামলাতে না পেরে অজান্তেই দুহাতে শক্ত করে চেপে ধরল আহিয়ানের শার্ট।কয়েক সেকেন্ড সময় যেন স্থির হয়ে রইল।

তিতলি অনুভব করতে পারছিল আহিয়ানের দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, আর আহিয়ান অনুভব করছিল তার ভীত কাঁপুনি। নীরবতা ভাঙল আহিয়ানই। গম্ভীর, সংযত কণ্ঠে বলল,

— “দেখে হাঁটতে পারো না?”

পরিচিত কণ্ঠস্বর কানে আসতেই ধীরে ধীরে চোখ খুলল তিতলি। চোখ খুলেই বুঝতে পারল সে এখনও আহিয়ানের খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছে।

এতটা কাছাকাছি থাকার কথা সে কল্পনাও করেনি। মুহূর্তের মধ্যে লজ্জায় তার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল। আহিয়ানও বিষয়টি বুঝতে পেরে ধীরে ধীরে তাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিল এবং নিজেও এক পা পিছিয়ে গেল। এবারই যেন ভালো করে তিতলির দিকে তাকানোর সুযোগ পেল সে।

গাঢ় সবুজ শাড়িতে মেয়েটিকে অসম্ভব স্নিগ্ধ লাগছে। মুখে কোনো বাড়তি সাজ নেই, তবুও তার সরল সৌন্দর্য সন্ধ্যার আলোতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কয়েক মুহূর্তের জন্য আহিয়ানের দৃষ্টি স্থির হয়ে রইল। কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার চোখ গিয়ে থামল তিতলির কবজিতে। ভ্রু কুঁচকে গেল। হাতে কোনো কাঁচের চুড়ি নেই। তার চোয়াল ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে উঠল। সে এক পা এগিয়ে এসে শক্ত ও দৃঢ়ভাবে তিতলির বাহু ধরে নিচু স্বরে বলল,

— “তুমি কি সত্যিই ঠিক করে নিয়েছ, আমার কোনো কথাই শুনবে না? অবাধ্য মেয়ে!”

হঠাৎ বাহুতে চাপ অনুভব করে তিতলি কেঁপে উঠল। ব্যথায় মুখ কুঁচকে আস্তে বলল,

— “আহ... কী করছেন?”

তার কণ্ঠে ব্যথার আভাস শুনেই আহিয়ান চাপ কিছুটা শিথিল করল। তিতলি তাড়াতাড়ি মিনমিন করে বলল,

— “চুড়িগুলো... ভেঙে গেছে। আমি সত্যিই পরতে চেয়েছিলাম। বিশ্বাস করুন....!”

কথাগুলো বলার সময় তার চোখেমুখে কোনো অজুহাত ছিল না ছিল কেবল অস্বস্তি আর সংকোচ। আহিয়ান কয়েক মুহূর্ত তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে তিতলির বাহু ছেড়ে দিয়ে সংযত স্বরে বলল,

— “একটু সাবধানে কাজ করতে পারো না?”

কণ্ঠস্বর এখনও গম্ভীর, কিন্তু আগের মতো কঠোর নয়।

তিতলি নীরবে নিজের বাহুতে হাত বুলিয়ে নিল। সে বুঝতে পারল, মানুষটা রাগ প্রকাশ করতে জানে ঠিকই, কিন্তু সেই রাগের আড়ালে উদ্বেগও লুকিয়ে থাকে যদিও সেটাকে প্রকাশ করার ভাষা তার খুব একটা জানা নেই।

চলবে....??

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন