#এক_অবেলায়_তুমি_এলে
#পর্ব_৫
#কলমে_তাসনিম_তালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
তিতলি কিছুক্ষণ নীরব দাঁড়িয়ে থেকে ইতস্তত ভঙ্গিতে বলল,
— “এরপর থেকে... সাবধানে চলব।”
কথাগুলো বলার সময় তার কণ্ঠে ছিল লজ্জা, সংকোচ আর খানিকটা অনুতাপের মিশেল।
আহিয়ান সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,
— “হুম... চলো।”
এর বেশি আর কিছু বলল না। ধীর পায়ে গিয়ে বাইকে উঠে বসল। তারপর হেলমেটটি হাতে নিয়ে তিতলির দিকে এগিয়ে এল। অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার মাথায় হেলমেট পরিয়ে দিয়ে স্ট্র্যাপটা ঠিক করে দিল। এ দৃশ্যটা যেন অদ্ভুতভাবে ভালো লাগে তিতলির।মানুষটা মুখে যতই কঠোর হোক না কেন, ছোট ছোট যত্ন নিতে সে কখনোই ভোলে না। সেই যত্নের প্রকাশও বড় বেশি নিঃশব্দ। নিজের হেলমেট পরে ইঞ্জিন চালু করতে করতেই আহিয়ান গম্ভীর স্বরে বলল,
— “বাইকে ওঠো।”
তিতলি আর কোনো আপত্তি করল না। নিঃশব্দে বাইকে উঠে বসল। পরের মুহূর্তেই বাইক টি শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে ছুটে চলল। কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ। শুধু বাতাসের শব্দ আর ইঞ্জিনের মৃদু গর্জন। হঠাৎ নীরবতা ভেঙে তিতলি বলল,
— “আচ্ছা... আপনার তো নিজের গাড়িও আছে। তাহলে সব সময় বাইকেই চলাফেরা করেন কেন?”
প্রশ্নটা শুনে আহিয়ান মৃদু হেসে ফেলল। সামনের রাস্তায় দৃষ্টি রেখেই শান্ত কণ্ঠে বলল,
— “সব সময় না। তবে তোমার সঙ্গে দেখা করতে এলে ইচ্ছে করেই বাইক নিয়ে আসি। শুনেছি, বাইকে ঘুরতে তোমার খুব ভালো লাগে।”
কথাটা শুনে তিতলি যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।সে ভাবতেই পারেনি, এত ছোট্ট একটা বিষয়ও আহিয়ানের মনে আছে।তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক উষ্ণ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।
অজান্তেই মনে মনে বলল,
“আপনি যতই গম্ভীর আর রাগী হোন না কেন... নিজের প্রিয় মানুষটার ছোট ছোট পছন্দও যে এত যত্ন করে মনে রাখেন, সেটা হয়তো আপনি নিজেও বুঝতে পারেন না।”
কথাগুলো অবশ্য ঠোঁট পর্যন্ত আর এল না।
সন্ধ্যা নেমে আসছে ধীরে ধীরে। পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্য লালচে-কমলা আভায় রঙিন করে তুলেছে দিগন্ত। বাতাসে এক প্রশান্ত শীতলতা।
কিছুক্ষণ পর আহিয়ান বাইকটি শহরের কোলাহল ছেড়ে একটি শান্ত ঝিলের ধারে এসে থামাল।ইঞ্জিন বন্ধ করে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— “নামো, তিতলি।”
তিতলি ধীরে ধীরে নেমে হেলমেট খুলল। চারপাশে একবার তাকিয়ে বিস্মিত স্বরে জিজ্ঞেস করল,
— “এখানে নিয়ে এলেন কেন?”
আহিয়ান বাইকের হেলমেটটি রেখে তার দিকে তাকাল। তারপর আগের মতোই সংযত স্বরে বলল,
— “তুমি নৌকায় ঘুরতে পছন্দ করো আমি শুনেছিলাম। তাই ভাবলাম, আজ তোমাকে এখানে নিয়ে আসি।”
একটু থেমে তার চোখের দিকে তাকিয়ে আবার বলল,
— “আর... আজ কলেজে তোমাকে শাস্তি দিয়েছিলাম। তারপর থেকে তোমার ফুলে থাকা মুখটা দেখেই বুঝেছি, তুমি খুব অভিমান করে আছ।”
তিতলি মাথা নিচু করে ফেলল। কিছুক্ষণ নীরব থেকে খুব আস্তে বলল,
— “তাহলে... শাস্তি দিলেন কেন?”
প্রশ্নটার ভেতরে অভিযোগের চেয়ে অভিমানই ছিল বেশি। আহিয়ান ঝিলের শান্ত পানির দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল। তারপর ধীর, স্থির কণ্ঠে বলল,
— “কারণ তখন আমি শুধু তোমার হবু স্বামী ছিলাম না, আমি তোমার শিক্ষকও ছিলাম। আর একজন শিক্ষক হিসেবে কোনো ছাত্র বা ছাত্রী ভুল করলে তাকে শাসন করা আমার দায়িত্ব।”
সে একবার তিতলির দিকে তাকাল। কণ্ঠে দৃঢ়তা থাকলেও চোখের গভীরে যেন কোমলতার ক্ষীণ রেখা ফুটে উঠেছিল,
— “ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে যদি আমি আমার দায়িত্ব ভুলে যাই, তাহলে আমি ভালো শিক্ষক হতে পারব না। আর আমি চাই না, কেউ কোনোদিন বলুক আহিয়ান খান আর্য নিজের পরিচিত মানুষকে আলাদা সুবিধা দেয়।”
তিতলি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে অত্যন্ত ক্ষীণ স্বরে বলল,
— “সরি... সেদিন ক্লাসের সবার সামনে আপনাকে ওইভাবে প্রপোজ করা আমার ঠিক হয়নি। আবেগের বশেই করে ফেলেছিলাম।”
তার কণ্ঠে অনুতাপের ছাপ স্পষ্ট। আহিয়ান কয়েক মুহূর্ত তিতলির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সংক্ষিপ্ত স্বরে বলল,
— “আচ্ছা, বিষয়টা এখানেই শেষ। এবার চলো, নৌকায় উঠব।”
কথাটা শুনতেই তিতলির চোখ দুটো আনন্দে ঝলমল করে উঠল। ছোটবেলা থেকেই নৌকায় ভেসে বেড়ানো তার ভীষণ প্রিয়। কিন্তু পরের মুহূর্তেই সেই উচ্ছ্বাসে ভাঁটা পড়ল। সে নিচের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল, শাড়ি পরে নৌকায় ওঠাটা তার জন্য মোটেই সহজ হবে না। অপ্রস্তুত হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল। তিতলিকে নড়াচড়া না করতে দেখে আহিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “কী হলো? দাঁড়িয়ে আছ কেন? চলো।”
তিতলি ইতস্তত করে মাথা নিচু করল। খুব আস্তে বলল,
— “আসলে... শাড়ি পরে ঠিকমতো উঠতে পারছি না।”
কথাটা শুনে আহিয়ান নিঃশব্দে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই এক হাত তিতলির পিঠে, অন্য হাত হাঁটুর নিচে রেখে সাবধানে তাকে কোলে তুলে নিল, যাতে সে সহজে নৌকায় উঠতে পারে। ঘটনাটা এতটাই আকস্মিক ছিল যে তিতলি বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল। ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আহিয়ানের কাঁধ শক্ত করে ধরে ফেলল। কাঁপা কণ্ঠে বলল,
— “এ... কী করছেন?”
আহিয়ান শান্ত অথচ গম্ভীর স্বরে উত্তর দিল,
— “চুপচাপ থাকো। তুমি অসুবিধায় পড়েছ, তাই সাহায্য করছি।”
তিতলি আবার কিছু বলতে উদ্যত হতেই আহিয়ান মৃদু কঠোর কণ্ঠে বলল,
— “এখন আর কথা নয়। আগে নিরাপদে ওঠি।”
এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাকে নৌকার ভেতরে বসিয়ে দিল। তিতলি বসে পড়তেই আহিয়ান নিজেও তার পাশের আসনে বসল।ঝিলের জলে তখন অস্তগামী সূর্যের রঙিন আভা নেচে বেড়াচ্ছে। চারপাশে এক অপার্থিব শান্তি।কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর আহিয়ান বলল,
— “এবার বলো, কী বলতে চাও? আমি শুনছি।”
তিতলি বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকাল,
— “কী বলব?”
আহিয়ানের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল,
— “যা ইচ্ছে।"
তিতলি চারদিকে একবার তাকাল। ঝিলের স্বচ্ছ জল, সন্ধ্যার স্নিগ্ধ বাতাস আর আকাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লালচে আভা সব মিলিয়ে দৃশ্যটা যেন ছবির মতো সুন্দর। মুগ্ধ কণ্ঠে বলল,
— “এত সুন্দর একটা জায়গায় নিয়ে আসার জন্য... আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”
আহিয়ান কয়েক সেকেন্ড তার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে শান্ত স্বরে বলল,
— “শুধু ধন্যবাদ?”
তিতলি অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকাল,
— “তাহলে... আর কী বলব?”
আহিয়ান রহস্যময় ভঙ্গিতে বলল,
— “সত্যিই বুঝতে পারছ না?”
তিতলি প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না। সে গভীর মনোযোগ দিয়ে আহিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ধীরে ধীরে যেন কথার অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত তার মনে স্পষ্ট হয়ে উঠল। পরের মুহূর্তেই তার গাল দুটো লাল আভায় রাঙিয়ে উঠল। লজ্জায় সে তড়িঘড়ি করে মাথা নিচু করে ফেলল। ঝিলের শান্ত জলের মতোই চারপাশে আবার নেমে এলো এক মধুর নীরবতা যেখানে কোনো শব্দের প্রয়োজন ছিল না দুজনের নিঃশব্দ উপস্থিতিই যেন সেই মুহূর্তকে সম্পূর্ণ করে তুলেছিল।
~~
সন্ধ্যা সাতটা...!”
দিনের শেষ আলোটুকুও ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে। চারপাশে সন্ধ্যার নরম অন্ধকার নেমে এসেছে। রাস্তার দু'পাশের লাইটগুলো একে একে জ্বলে উঠেছে, আর হালকা বাতাসে ভেসে আসছে শহরের চেনা কোলাহল। ঝিলপাড় থেকে বেরিয়ে বেশ কিছুটা পথ হাঁটার পর আচমকাই তিতলি দাঁড়িয়ে পড়ল। মুখে শিশুসুলভ একগুঁয়েমি ফুটিয়ে বলল,
— “আমি ফুচকা খাব।”
আহিয়ান একবার তার দিকে তাকাল, তারপর ঘড়ির দিকে। মনে মনে ভাবল, এই সময় রাস্তার ফুচকা? স্বাস্থ্যসম্মত হবে তো? সে প্রথমে আপত্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরমুহূর্তেই দুপুরের ফুলে থাকা মুখটা মনে পড়ে গেল। মেয়েটাকে অনেক কষ্টে একটু হাসিয়েছে। এখন আবার না করে দিলে যদি নতুন করে অভিমান করে বসে! তার ওপর মেয়েদের অভিমান কীভাবে সামলাতে হয়, সে বিষয়ে আহিয়ানের অভিজ্ঞতা প্রায় শূন্য। একটি ক্ষীণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— “আচ্ছা... চলো।”
তিতলির মুখ মুহূর্তেই আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
কয়েক মিনিট পর তারা রাস্তার পাশের একটি ফুচকার দোকানের সামনে এসে দাঁড়াল। আহিয়ান দোকানদারের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “মামা, এক প্লেট ফুচকা দিন তো।”
ফুচকাওয়ালা দক্ষ হাতে ফুচকা বানাতে শুরু করল।
আহিয়ান ভ্রু কুঁচকে তার কাজ লক্ষ্য করছিল।
তারপর নিচু স্বরে তিতলিকে বলল,
— “দেখো, লোকটার হাতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিন্তু আমার খুব একটা ভরসা জাগাচ্ছে না।”
তিতলি সঙ্গে সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে প্রতিবাদ করল,
— “ধুর! ফুচকা তো খুবই মজার হয়।”
আহিয়ান গম্ভীর মুখেই বলল,
— "মজার লাগার কারণটা জানো? এরা ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ঠিকমতো হাত না ধুয়েই ফুচকা বানায়। তাই এতো মজা লাগে।”
কথাটা শেষ হতেই তিতলি ভুরু কুঁচকে তর্জনী তুলে সতর্ক করার ভঙ্গিতে বলল,
— “একদম ফুচকা নিয়ে বাজে কথা বলবেন না। ফুচকার বদনাম করা নিষেধ!”
তার অভিমানী অথচ শিশুসুলভ ভঙ্গি দেখে আহিয়ানের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একচিলতে হাসি ফুটে উঠল। ঠিক তখনই ফুচকাওয়ালা প্লেটটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
— “আফা মণি, এই নেন, আপনার ফুচকা।”
তিতলি যেন আর অপেক্ষাই করতে পারছিল না।
হাসিমুখে প্লেটটা হাতে নিয়ে একের পর এক ফুচকা খেতে শুরু করল। প্রতিটি কামড়ের পর তার মুখের তৃপ্তি দেখে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সেরা খাবার বুঝি এটাই। ঠিক সেই সময় আহিয়ানের মোবাইল ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে সে কলটি রিসিভ করল। ফোনে কথা বলতে বলতেই খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে অন্য হাতটি আলতো করে তিতলির মাথার ওপর রাখল, যেন আশপাশের ভিড়ে সে হারিয়ে না যায় কিংবা অসাবধানতাবশত কোথাও সরে না যায়।
তিতলি একের পর এক ফুচকা খেয়ে চলেছে।
তার মুখভরা তৃপ্তির হাসি দেখে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার যেন এই এক প্লেট ফুচকাই। এদিকে আহিয়ান এখনও ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। তিতলি আড়চোখে একবার তার দিকে তাকাল। পরক্ষণেই দুষ্টুমিভরা এক শয়তানি বুদ্ধি মাথায় এসে ভর করল। তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক চিলতে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। তারপর মনে মনে আওড়ালো,
—“দেখি তো, খারুশ লোকটার গম্ভীর মুখটা একটু বদলানো যায় কি না!”
মনে মনে কথাটা বলেই প্লেট থেকে একটি ফুচকা তুলে নিল। আহিয়ান তখনও ফোনের ওপাশের ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে নিমগ্ন। সুযোগ বুঝে তিতলি আচমকাই ফুচকাটা তার মুখের সামনে ধরে আলতো করে ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। ঘটনাটা এতটাই আকস্মিক ছিল যে আহিয়ান একেবারে প্রস্তুতই ছিল না। মুহূর্তের মধ্যেই সে বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তিতলির দিকে তাকাল। তারপর দ্রুত মুখ থেকে ফুচকাটা বের করে পাশে থাকা ডাস্টবিনে ফেলে দিল। ফোনের কথাও সঙ্গে সঙ্গে শেষ করে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— “আরে! কী করছ তুমি, তিতলি?”
কণ্ঠস্বরে বিরক্তির আভাস স্পষ্ট ছিল। তিতলি হতভম্ব হয়ে গেল। সে তো ভেবেছিল, আহিয়ান হয়তো বিরক্ত হওয়ার ভান করবে, তারপর অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফুচকাটা খেয়ে ফেলবে। কিন্তু এমন প্রতিক্রিয়ার জন্য সে একদমই প্রস্তুত ছিল না।
তার হাসিমাখা মুখটা মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল।
অভিমান মেশানো কণ্ঠে বলল,
— “আজব মানুষ তো আপনি! ফুচকাই তো খাওয়ালাম, বিষ তো দিইনি। এভাবে ফেলে দিলেন কেন?”
আহিয়ান নিজের স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্য বজায় রেখেই বলল,
— “আমি তো আগেই বলেছি, আমার ফুচকা ভালো লাগে না। আর বিশেষ করে রাস্তার পাশের এসব খাবার আমি একদমই খাই না।”
কথাগুলো সে কঠিন স্বরে বললেও উদ্দেশ্য ছিল কেবল নিজের অভ্যাসের কথা জানানো, তিতলি কে কষ্ট দেওয়া নয়। কিন্তু তিতলির কানে সেসব যুক্তি পৌঁছাল না। সে ঠোঁট ফুলিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল। মৃদু অভিমান নিয়ে বলল,
— “আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনাকে খেতে হবে না। আমি একাই খেয়ে নিই।”
এরপর আর কোনো কথা না বলে আবার প্লেটের দিকে মন দিল। তবে আগের মতো উচ্ছ্বাস নিয়ে নয়। প্রতিটি ফুচকার সঙ্গে যেন একটু একটু করে তার অভিমানও গিলে ফেলছিল। আর আহিয়ান নীরবে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার অভিমানী মুখ দেখে তার মনে হলো কখনো কখনো সত্য কথাটাও এমনভাবে বলা উচিত, যাতে প্রিয় মানুষটির মন অকারণে ভেঙে না যায়।
চলবে.....??