ফন্ট সাইজ:
থিম:
দূরত্বের প্রণয় ২

৪র্থ পর্ব

লেখক: স্বর্ণালী ইসলাম

#দূরত্বের_প্রণয়_২

#স্বর্ণালী_ইসলাম

#পর্বঃ৪

[কপি করা নিষিদ্ধ]

"অন্তু সোফার কভারটা সুন্দর করে দে, ভাই আসবে আর তোর হেয়ালি ভালো লাগে না।"

​"তোমার ছেলে আমাকে বোনের মতো মায়া করে? আমি কেন কাজ করব?"

​ছেলে আসার খুশিতে, সকাল থেকে রান্নাঘর যেন কুহুর নিজ ঠিকানা হয়ে গিয়েছে। অহীনের পছন্দের সকল পদের রান্নাগুলো নিজ হাতে রান্না করছে, দেশের সবজি মাংসের স্বাদ ভিন্ন হয়। আশা বরাবরই ভদ্র মেয়ের মতো কুহুর রান্নায় সাহায্য করছে। আয়াশ আসবে সে জানে না, জানলে হয়তো রুমে গিয়ে বসে থাকত লুকিয়ে। আশা কুহুর সামনে গিয়ে কিচেন কাউন্টারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত বুকে গুঁজে ভাবান্তর প্রশ্ন ছুঁড়ে,

"ফুম্মি অহীনকে কেন রেখে দিচ্ছ না নিজের কাছে এবার সারাজীবনের জন্য? এত মায়া ওর জন্য?"

​কুহু চুলায় খুন্তি চালিয়ে বলে,

"আসবে, তোর বিয়েটা হলেই অহীনের বিয়ে করিয়ে জেসি সহ রেখে দেব।"

​"হুম রেখে দাও, কতক্ষণ লাগবে তাদের আসতে?"

​"চলে আসবে এখনই, একটু ওর ঘরটা গুছিয়ে দে আশু।"

​জিভ দিয়ে গাল ঠেলে দুষ্টু হেসে আশা, একটা গ্লাস ও লেবু নিয়ে বিড়বিড় করে বলে,

"ফুম্মি আমি ওর জন্য শরবত বানাই এক গ্লাস?"

​ওর হাত থেকে গ্লাস আর লেবুগুলো নিয়ে পাশে রেখে কোমরে হাত রেখে, তীক্ষ্ণ স্বরে বলে কুহু,

"যান এখান থেকে। আপনার মতো দিন আমিও পার করে এসেছি। আপনার হাতের শরবত খাইয়ে আমার ছেলেকে প্রথম দিনই হাসপাতালে পাঠানোর ইচ্ছে নেই।"

​"ছিঃ ফুম্মি ছিঃ, সমাজ সত্যি পিছিয়ে, নারীর কদর করে না। তুমিও সেই ওল্ড জেনারেশনে আটকে আছো।"

​"এবার গিয়ে অন্তুকে নিয়ে ঘরগুলো দেখুন ঠিক আছে কি না? ধন্য হব।"

​আশা গাল এক পাশে বাঁকিয়ে চলে যায়, ড্রয়িং রুমে সোফায় পায়ের ওপর পা তুলে আয়েশ করে টিভি দেখছে, আশা ওর হাত থেকে রিমোট ছো মেরে নিয়ে রুষ্ট কণ্ঠে বলে,

"নড়েচড়ে থাক অন্তু মোটা হয়ে যাচ্ছিস। তোর ভাই আসবে।"

​অন্তিহা বিরক্তির ভাব প্রকাশ করে বলে,

"কেন? একটু পর ভাইয়া আসলে আমার চলে যেতে হবে। কাজ করব কেন আমি? ওনারা কি বড় বাসা নিতে পারে না? আর ভাইয়া কখনো আমার জন্য কিছু আনে না, কথাও বলে না তেমন।"

​আশা কুহুর দিকে তাকায়, কুহু দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সত্যি বাসাটা ছোট হয় তাদের জন্য। দুটো রুমে অহীন আসলে অন্তিহা থাকতে পারে না। আশা অন্তুকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,

"তুই তো মাসে ৪-৫ দিন থাকিস, অহীন আসে বছরে একবার, বড় বাবা, ফুম্মি বড় বাড়ি নিয়ে কী করবে বল। একা থাকাটা বড় বাড়িতে খুব কষ্ট। বড় বাড়ি নিলে তোর কিন্তু ফুম্মির সাথে থাকতে হবে।"

​"থাকব সমস্যা নেই। আর বড় বাড়ি কেন নিতে হবে? আমাদের শিকদার বাড়ি নেই? এই বাসাটা ভাইয়া আর জেসি আপুকে দিয়ে দিলেই হয়।"

​কুহু রান্নাঘর থেকে ধমক দিয়ে বলে ওঠে,

"ঠিক আছে অন্তিক আসলে ভেবে দেখব, আশা ওরা চলে আসবে যা তো কাজ কর।"

​অন্তিহাকে রেখে, আশা ভেতরে চলে যায়, অহীনের কক্ষে প্রবেশ করে। একটা সুন্দর সাদা বেডশিট পাতা বিছানায়, আশার ঠোঁটগুলো প্রসারিত হয় একটু, কপালে পড়ে থাকা দুটো চুল হাতে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে সব দেখছে হেঁটে হেঁটে। কিছু একটা ভেবে কক্ষ থেকে বের হয়ে, কুহু অন্তিকের রুমে যায়। রোমানা বেগম ঘুমিয়ে আছেন। নিজের হ্যান্ডব্যাগ থেকে পাউডার ব্লাশের ছোট গোলাপি কৌটাটা নিয়ে নেয়। আবার অহীনের কক্ষে গিয়ে এদিক সেদিক না তাকিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।

_________

​আকাশের সূর্যটা এখন ঠিক মাথার ওপর, আকাশ গাড়িটা পার্কিং লটে রেখে সবাই একই সাথে ভেতরে প্রবেশ করে। লিফটে উঠে নিজের লাগেজটা টেনে নিয়ে যায় অহীন। আকাশ লাগেজ নিতে চাইলে অহীন দিল না। লিফট থেকে বের হয়ে দরজায় কলিং বেল বাজায়, কয়েক মিনিট সময় নিয়ে দরজা খুলে দেয় অল্প বয়সী মেয়েটা। অহীন এর হাসিমুখ মিইয়ে গেল, মাকে আশা করেছিল কিন্তু অন্তিহা দাঁড়িয়ে আছে। অন্তিহা প্রাণ খুলে হাসতে পারল না, তবুও মৃদু হেসে বলে,

"কেমন আছেন?"

​"ভালো।"

​অহীনের গম্ভীর উত্তরে মেয়েটার মন ছোট হয়, তবুও যেন প্রকাশ করল না। পেছন থেকে কুহুর উপস্থিতি দেখে অহীন এবার হাসে, হাতের লাগেজটা রেখেই ধীরপায়ে এগিয়ে যায় অহীন। কুহুর একদম নিকটে এসে একটু ঝুঁকে কুহুর মুখের দিকে তাকায়, টলটলে চোখগুলোর পানি বাঁধ ভেঙে এখনই না বের হয়ে আসে, তার আগেই অহীন মাকে টেনে নিল বুকে। অহীনের বুকে অজস্র হাতের কিল দিয়ে দিয়ে ফুঁপিয়ে ওঠে,

"সর ধরবি না আমায়, মাম্মামকে পেয়ে মাকে দেখতেও আসিস না, আমি কি তোর আপন মা? আমি তোর সৎ মা।"

​শক্ত করে কুহুর কিল দেওয়া হাত ধরে থামিয়ে দেয় অহীন, কুহুর মাথায় আলতো করে আদর করে বলতে থাকে,

"হুম সৎ মা-ই তো তুমি। নয়তো কি আসতেই এমন করে মারতে আমাকে?"

কুহু ওকে ছেড়ে দাঁড়ায়, কুহুর চোখের পানি দুই হাতে মুছে দিয়ে, অহীন কুহুর ললাটে আলতো চুমু এঁকে দেয়। সাথে কুহুও অহীনকে নিচু করে চুমু খায়, ওদের এমন মমতায় ভরা দৃশ্য দেখে অন্তিক বলে ওঠে,

"হয়েছে এবার সর তোরা, আমার আদরের ভাগ সব নিয়ে নিলি।"

​কুহু ফোঁস করে উত্তর করে,

"তোমার আদরের ভাগের প্রতি আমার লোভ কোনো কালেই নেই, বুঝলে? আমার ছেলে আমারই।"

​"আমি তো তোর আদরের কথা বলেছিলাম।"

​ফিক করে হেসে দেয় সবাই, কুহু মুখ চোখ কুঁচকে লজ্জায় কটমট করে ওঠে, অন্তিক ঠোঁটে তর্জনী রেখে চুপ করে। অহীন নিজের কক্ষের দিকে আগায়, চোখ দরজায় রাখতেই চোখাচোখি হয় অপ্রিয় কিন্তু প্রিয় এক নারীর সাথে। সেই তীক্ষ্ণ চাহনি, দুষ্টু হাসি ঠোঁটে লেগে আছে। আশা অহীনকে দেখছে অহীনের কক্ষের সাথের দেয়ালে কাঁধ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে। ওপর থেকে পরখ করে অহীন আশাকে, বেশ সাজগোজ মনে হলো, আয়াশের জন্য সেজেগুজে আছে। কিন্তু আশা তো জানেই না আয়াশের কথা। গলা ঝেড়ে হাঁক ছেড়ে প্রশ্ন করে অহীন,

"আম্মু, এমনি বাসায় জায়গা নেই, নতুন কাজের লোক রেখেছ? কোথায় থাকে এই কাজের মেয়ে? কিচেনে?"

​"হাহ! দুই দিনের মেহমান মেজবানকে বলে কাজের লোক? ননসেন্স।"

​অত্যন্ত দেমাগের সাথেই আশা উত্তর করে ওঠে। অহীনের চোখ মুখের প্রতিক্রিয়া পাল্টে গেল রাগে, কপালে ক্রুরতার ছাপ রেখে এগিয়ে যায় আশার নিকট। অহীন কাছে আসতেই আশার ঘাড় তুলে তাকাতে হলো তার পানে।

"বাড়িও আমার, মেজবানও আমি।"

​"মেজবান সে, যে থাকে, তুই না।"

​অহীন তাচ্ছিল্য হাসে, আশাকে দেখে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন হয়। আশা ও ওকে সাইড দিতে নিলে, অহীনের পায়ের দিয়ে আশার পায়ে হেঁচকা টান দিতেই ধরফড়িয়ে সামনের দিকে হেলে পড়ে আশা।

"আহহহ"

​বলতে বলতে একটা শক্ত হাত আশাকে ঝাপটা দিয়ে ধরেই অহীনকে ধমকে ওঠে,

"অহীন সামনে টি-টেবিল এখনই দুর্ঘটনা ঘটত।"

​অন্তিকের কথায় ভ্রুক্ষেপহীন ভাবে প্রতিক্রিয়া করে অহীন নিজ কক্ষে চলে যায়। আশাকে সোজা করে দিয়ে অন্তিক শাসনের স্বরে বলে,

"তোমাদের কি সারাদিন ঝগড়াই কাজ? অঘটন ঘটাতে বসেই থাকো।"

​কুহু অন্তিককে পাল্টা শাসিয়ে বলে,

"থামো তো, তুমিও কম না।"

​আশা গিয়ে কুহুর পাশে দাঁড়ায়, যেন বাঁচার জন্য ভালো সঙ্গ এটাই। ভয়ার্ত মুখ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে আশা। অন্তিহা সেই কখন ই চলে গিয়েছে সামনে থেকে, মেয়েটার সাথে ভালো করে কথাও বলে না অহীন। কুহু নিজের কাজে মগ্ন হয়ে যেতেই আশা গিয়ে বাবা ও চাচার মাঝে বসে। অহীনের সম্পর্কে এটা সেটা বলে বদনাম করার কোনো ত্রুটির ছিটেও রাখছে না আশা। তবে চলন্ত মুখ থেমে যায় একটি খুব পরিচিত কণ্ঠে,

"আসসালামু আলাইকুম চাচ্চু।"

​দুই চোখ বড় বড় করে ঢোক গিলে নেয় আশা, কানে আঙুল দিয়ে পরিষ্কার করে আবার ও শুনতে চায় আকাশ অন্তিককে বসা থেকে উঠতে দেখে। নিজের কানকে বিশ্বাস করে নেয় এবার আশা। ধীরে ধীরে চোখ ঘুরিয়ে আয়াশের দিকে ফিরে। অন্তিক আকাশের সাথে কুশল বিনিময় করছে। শ্যামবর্ণের মুখটা উজ্জ্বল হয়ে আছে, স্যুট-টাই পরে পরিপাটি হয়েই এসেছে দেখা যায়। হাতে কয়েকটা প্যাকেট, হয়তো মিষ্টি, ফল আর গিফট সবার জন্য। আশা বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। আয়াশকে নিয়ে সোফার সামনে আসতেই, হাতের দুই আঙুলে তুড়ি মেরে সে আশার খেয়াল ফেরায়। থতমত খেল মেয়েটা লজ্জা পেয়ে। আয়াশের টোল পড়া গালগুলোতে হাসি এনে জিজ্ঞেস করে,

"কেমন আছো পুতুল?"

​মিনমিন করে আশা উত্তর করে,

"ভালো আছি, আপনি আসবেন বললেন না যে? কালকেও কথা হলো।"

​"বলে দিলে তোমার এমন থ হয়ে যাওয়া মুখটা মিস করতাম খুব। আর ইউ শকড অর সারপ্রাইজড?"

​"বসুন।"

​আয়াশের কথায় কিছুই উত্তর করল না আশা, চুপচাপ তো চলে যায় কুহুর কাছে। লজ্জায় গালগুলো টসটসে লাল হয়ে আছে। কুহুকে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে বলে,

"এই জন্য আমাকে ডাকা হয়েছে তাই না? শাশুড়ির মতো বদমাশ হয়েছ ফুম্মি।"

​"কেন রে আমি কী করলাম?"

পেছন থেকে রোমানা বেগমের কন্ঠে হকচকিয়ে যায়।ওনাকে দেখে মেকি হেসে আশা এগিয়ে গিয়ে জরিয়ে ধরে বলে,

"তুমি কি কিছু করতে পারো? আমার ভালো বুবু।"

___________

নিজ কক্ষে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে অহীন, কয়েক মাস বছর পর আসলেও ফ্রান্সের মতোই আপন মনে হয়। অন্তিহা আর কুহু খুব যত্নে রাখে তার প্রতিটি জিনিস। বাহিরের লোকের শব্দে আন্দাজ করল হয়তো আয়াশ এসেছে। অহীন উঠে লাগেজ থেকে নিজের টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। হ্যাঙ্গারে টাওয়াল ঝুলিয়ে, শার্টের একটা একটা বোতাম খুলতে থাকে, আয়নায় তার পেটানো সুঠাম সুন্দর দেহটা দৃশ্যমান হচ্ছে। বুকের ভারী খাঁজ, মেদহীন পেট। নিজেই নিজেকে পরখ করে, কোমরে টাওয়াল পেঁচিয়ে শাওয়ার অন করে দেয়। মাথা গড়িয়ে দু ফোঁটা পানি চোখে পড়তেই, চেঁচিয়ে ওঠে অহীন,

"হোয়াট দ্য হেল?"

​নিজের মুখ ও চুলে হাত দিয়ে লাল রং দেখেই ভড়কায় অহীন, আয়নার সামনে গিয়ে দেখে বুক বেয়ে লাল রঙ গড়িয়ে পড়ছে, খানিকটা ফোঁসফাস শ্বাস দিতেই মনে পড়ল আশা দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল, ক্রুর স্বরে জোর গলায় চিৎকার দিয়ে ওঠে সে,

"পেঁচির বাচ্চাআআআআ।"

​অহীন এমন বড় গলা শুনে আশা ভয়ে কুহুর কাঁধ জাপটে ধরে হাসতে হাসতে ভেঙে পড়ছে, অস্পষ্ট স্বর গলা দিয়ে কথা আসছে না হাসির জন্য অস্ফুটস্বরে বলে,

"ওই তো ষাঁড় ক্ষেপেছে, ফুম্মি।"

​কোমরে ভেজা টাওয়াল সহই কক্ষ থেকে বের হয়ে আসে অহীন, উন্মুক্ত শরীরে ওকে দেখে সবাই স্থির হয়ে আছে। অহীন প্রচণ্ড ক্ষোভের সাথে আওড়ায়,

"ওই পেঁচিকে পেলে, ওর একদিন, কি আমার একদিন। অসহ্য বেয়াদব মেয়ে।"

​উপস্থিত সবাই অবাক চোখে চেয়ে আছে, আয়াশ বিস্ময়কর হাসি দিয়ে আছে, লজ্জার বিষয় ছেলেটা এমন করে চলে এল? এটা ফ্রান্স না, ভুলে গিয়েছে নাকি? হন্তদন্ত হয়ে আশার দিকে ছুটে যায় অহীন। কুহুর পেছনে লুকিয়ে বাঁচা সম্ভব না ভেবেই কিচেন থেকে ছুটে বেরিয়ে যায়। ওকে দেখে রাগ যেন আরও বেড়েছে অহীনের। আশার পিছু ছুটতে শুরু করে। বড়দের বাধা কেউই মানছে না। আশা যেন হুঁশে নেই হাসির জন্য, আয়াশ আছে ভুলে বসেছে মেয়েটা। একবার অন্তিকের পেছনে লুকায়,

"অহীন থামো, বাসায় গেস্ট এসেছে।"

​"ওকে তো ছাড়বই না, পেঁচি একটা।"

​"ধরতে পারলে তো ছাড়বি, দেখে মনে হচ্ছে পিঙ্কিস কুত্তা। তোকে মিউজিয়ামে পাঠানো দরকার।"

​"পেঁচি তুই কুত্তি তোর হবু জামাই কুত্তা।"

​আয়াশ থ, এদের মাঝে তাকে টানা হচ্ছে অহেতুক! তবে ভাই বোনের খুনসুটি ভালোই লাগছে। আশা ছুটে ডাইনিং টেবিলের সামনে দিয়ে গেলে, অহীন ওর পিছু যায়। হাতের কাছে কিছু না পেয়ে কিছু সময় আগে কুহুর রান্না করা মাংস তরকারির বাটি তুলে নেয়। আশা দৌড়ে আয়াশকে ক্রস করতেই অমনি এক বাটি মাংস তরকারি ছুঁড়ে মারে আশার ওপর অহীন। একটুর জন্য আশা বেঁচে গিয়ে হো হো করে সোফায় বসে হাসতে শুরু করে,

"কুত্তা পারলি না কিছু অহেতুক.. "

​আশার মুখ থেমে যায় আয়াশের দিকে চোখ যেতেই। মুখে হাত দিয়ে উঠে দাঁড়ায়, আয়াশের স্যুট বুক থেকে পা পর্যন্ত মাংসের মসলাদার ঝোল টপটপ করে পড়ছে। সবাই হন্তদন্ত হয়ে আয়াশের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু আয়াশ আর অহীন একে অপরের দিকে এমন তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে আছে যেন গিলে খাবে। আয়াশ ক্রমাগত কাঁপছে, অসহ্য লাগছে নিজেকেই নিজের কাছে। অন্তিক আকাশ আয়াশকে ধরেই বলে ওঠে,

"ঠিক আছো তুমি?"

​আকাশ রাগী চোখে আশার দিকে তাকায়,

"আশা তোমার কোনো কাণ্ডজ্ঞান আছে? নাকি নেই?"

​আয়াশ আকাশকে থামিয়ে বলে,

"ইট’স ওকে চাচ্চু, ওয়াশরুম কোথায়?"

​অহীন কটাক্ষ করে হেসে দিয়ে কাঁচের বাটিটা ডাইনিং টেবিলে রেখে বলে,

"বিয়ে করবে আর এতটুকু সহ্য করতে পারবে না? পেঁচি এমনই সে কি জানে না, নাকি?"

​"বিয়েটা আমি পুতুলকে করছি তোকে না। কাপড় নষ্ট তুই আমার করেছিস, পুতুল না। তাই তোকে সহ্য করার প্রশ্নই ওঠে না।"

​আয়াশের রাগী স্বরে বলা কথাটা অহীনের গায়ে কাটার মতোই বিঁধল বোধহয়। তাচ্ছিল্য হেসে উত্তর করে অহীন,

"আই অ্যাম নট গে যে তোকে বিয়ে করব, আই অ্যাম স্ট্রেইট।"

​"ওহ রিয়েলি? গট এনি প্রুফ? আহহহা টাওয়াল খুললে প্রমাণিত হতে পারে।"

​"আহহ, থাকবে তোমরা? আশা আয়াশকে নিয়ে যা ওয়াশরুমে।"

​আকাশের শক্ত ধমকে সবাই থেমে যায়। আশা আয়াশের কাছে গিয়ে লজ্জা ও অনুতাপের ভঙ্গিতে বলে,

"সরি, আসুন আমার সাথে।"

​"ইট’স ওকে। চলো।"

​আশা আয়াশের স্যুট পরিষ্কার করতে করতে হাঁটছে, ফ্লোরে পড়ে থাকা ঝোলগুলো খেয়াল না করেই পা পিছলে চেঁচিয়ে সামনের দিকে ধাপাস করে অহীনের ওপর পড়ে। অহীনের পায়ের নিচেও ঝোল থাকায় টাল সামলাতে ব্যর্থ হলো, আশাকে বুকের ওপর দিয়েই পড়ল ফ্লোরে,

"আহহ।"

​দুজনের ব্যথায় হালকা কুঁকিয়ে ওঠা শব্দে দৌড়ে সবাই আসে। আশা, অহীন একে অপরের দিকে তাকিয়ে ক্ষিপ্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছে। অহীনের কণ্ঠে তখন রাগে হুংকার দেওয়ার মতো,

"পেঁচিইই সর।"

​"ছিঃ পেঁচাআআ।"

​এগিয়ে আসে আয়াশ, অন্তিক, কুহু, আকাশ, ওদের দুজনকে তুলে। একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে, আশা অহীনের ওপরে থাকায় কাপড় তেমন নষ্ট হলো না। কিন্তু অহীনের পিঠ লাল হয়ে গিয়েছে। অন্তিক ধমক দিয়ে বলে,

"বাসায় গেস্ট এসেছে, তোমাদের কমনসেন্সে কি বাজ পড়ল নাকি?"

​মাথা নিচু করে ফুঁসতে ফুঁসতে আয়াশকে নিয়ে আশা কুহুর কক্ষের দিকে চলে যায়। অন্তিহা জানালার ধারে বসে বাহিরে রাস্তা দেখছিল। আশা হাতে একটা টিস্যু নিয়ে আয়াশের স্যুট পরিষ্কার করতে করতে প্রবেশ করছে, অনবরত সরি জপছে। দরজার দিকে তাকিয়ে অন্তিহা তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ায়, কাপড় ঠিক করে ওদিকে আয়াশের এমন অবস্থা দেখেও অবুঝের মতো প্রশ্ন করে বসে,

"ভালো আছেন?"

​আয়াশ সোজা হয়ে নিজেকে প্রদর্শন করে অন্তিহার সামনে, মেকি হেসে উত্তর করে,

"এমনই আছি শালিকা।"

​আশা ওদের কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আয়াশকে ওয়াশরুম দেখিয়ে, অন্তিহাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

"ওনাকে অহীন বা বড় বাবার একটা কিছু দে।"

​অন্তিহা বাক্য ব্যয় করল না একটাও, কাবোর্ড থেকে অহীনের একটা পাঞ্জাবি এগিয়ে দেয় আয়াশকে। পাঞ্জাবিটা সম্পূর্ণ নতুন তবুও অসন্তোষ আয়াশের মুখভঙ্গিমা। আয়াশ দরজা লক করে দিতেই হাফ ছেড়ে বাঁচে আশা। অন্তিহাকে সব ঘটনাই বলে হাসতে হাসতে। অন্তিহা ওর দিকে বালিশ ছুঁড়ে ধমক দিয়ে বলে ওঠে,

"তুই আমার ভাইটাকে দেখলেই হেনস্তা করিস কেন শয়তান মেয়ে। আর আয়াশের তো ওসিডি (OCD) আছে।"

​"তোর ভাই বুঝি ভালো? সেই আমাকে আগে কাজের মেয়ে বলেছিল। আর ওনার ওপরে ঝোল ও তোর গুণধর ভাই-ই ফেলেছে।"

​ওয়াশরুমের দরজায় খট করে শব্দ হতে দরজা খুলতেই দুজন কেমন চুপসে যায়। আয়াশ বেরিয়ে আসে, অহীনের পাঞ্জাবিটা তার গায়ে পারফেক্ট হয়েছে। আশা চলে যায় ওয়াশরুমে স্যুটটা পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য। আয়াশ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক করছে, মুখে অতিষ্ঠতা, আশার জন্য হয়তো প্রকাশ করছে না। চুল ঠিক করতে করতে অন্তিহাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

"লেখাপড়ার কি হাল অন্তু? ফ্রান্স কবে যাচ্ছ?"

​অন্তিহা ফোঁস করে শ্বাস নিয়ে বসে বিছানার এক কোনায়,

"আপনাদের বিয়েটা হয়ে গেলে, আপনাদের সাথেই যাব। আশাকে ছাড়া এত দূর থাকা মুশকিল, আফটার অল উই আর বেস্টফ্রেন্ড।"

​"সেটাই, সেটাই, আমিও কত দিন ধরে বলছি তাড়াতাড়ি বিয়ের কথা কিন্তু মেয়েটা তোমার জন্য রয়ে আছে।"

​হাতের আঙুলগুলো কচলিয়ে অন্তিহা উঠে দাঁড়ায়,

"আমি দেখি আম্মু কী করছে। বসুন আপনি।"

​অন্তিহা চলে যায়, আয়াশ বিছানায় বসে আশার প্রতীক্ষায়। অনেক সময় পর হাতে স্যুটগুলো নিয়ে বের হয়ে আসে আশা। আয়াশকে দেখে অল্প মেকি হেসে বারান্দায় চলে যায়। ওর পিছু নেয় আয়াশ, কাপড়গুলো মেলে দিচ্ছে, আয়াশ দেখছে তাকে। এই বুঝি প্রিয় নারীকে এত কাছ থেকে দেখার আনন্দ? এত বিরক্তিকর পরিস্থিতিতেও ভালো লাগছে। সে এখনো জানে না আদৌ কি আশাকে খুব করে ভালোবাসে নাকি না। কিন্তু একটা কথা স্পষ্ট আশা তার বউ হবে। কাপড় মেলে আয়াশের দিকে তাকাতেই চোখ নামিয়ে নেয়। আয়াশ আশার একদম নিকটে যায়। অন্তিহা তাদের সময় দিয়ে গিয়েছে বুঝতে সময় নিল না আশা। আর আয়াশ? সে সময়ের সদ্ব্যবহার করতেও পিছু হটল না। আশার দিকে ঝুঁকে আসে আয়াশ। শান্ত চোখে পরখ করে লজ্জারাঙা মুখটিকে অতঃপর অস্ফুটস্বরে বলে,

"পুতুল স্নিগ্ধ সাজে আজ তুমি বড় বেশি অনন্যা। কপালে ঘামে লেপ্টে থাকা চুল আর ওই কাজলমাখা চোখে তোমাকে একদম আমার ঘরণি লাগছে। কবে আমার ঘরে আসবে পুতুল?"

​আয়াশের কথায় মিইয়ে যায় আশার স্নিগ্ধ মন। আয়াশকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলে পথ আটকে দেয় আয়াশ,

"এই সামান্য মুহূর্তটুকু আমাকে দিলে কি তোমার সময়ের হিসেবে খুব বড় কোনো লোকসান হয়ে যাবে?"

​"যেখানে আপনি আমার সমগ্র জীবনটাকেই নিজের করে নিতে এসেছেন, সেখানে এই মুহূর্তটুকু কি একান্তই তুচ্ছাতিতুচ্ছ নয়?"

​"তুমি সামনে থাকলে সেই মুহূর্ত কখনোই তুচ্ছাতিতুচ্ছ হতে পারে না, পুতুল।"

​মলিন হাসে আশা, পাশ ফিরে বাহিরের দিকে তাকায়। চোখটা নীরব স্থির। বাহিরের স্নিগ্ধ বাতাসে চুলগুলো দুলছে। দুজনের কণ্ঠ যেন থেমে গিয়েছে এক অজানা শিহরণে। আয়াশ কেমন নির্লজ্জের মতো চেয়ে আছে কিন্তু কথা উচ্চারণ করছে না। কানে অন্তিহার ডাক আসতেই আশা আয়াশকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে আসে। ছেলেটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বাহিরে তাকায়। পকেটে হাত দিয়ে ফ্লোরে নিজের পায়ের আঙুলে খুঁটিয়ে মুচকি হাসে, গালে অস্ফুটে টোলটা একটু দেখা যাচ্ছে। চোখের নেশা যে কতটা ভয়ংকর, আশা তার জীবনে না থাকলে বুঝতেই পারত না কখনো।

​কক্ষ থেকে বের হয়ে আশা দেখতে পায়, অন্তিহা ডাইনিং টেবিলে খাবারের বাটি পরিবেশন করছে। আশা কাজে হাত দিতে নিলে কুহু ডেকে বলে,

"আয়াশ কোথায়?"

​অহীন এসে আশার সামনে একটা চেয়ার টেনে বসে,

"খাবার দাও আম্মু, খেয়ে ঘুমাব।"

​"আসছেন।"

​আশার অল্প উত্তরেই কাজ হলো। তার পেছনেই আয়াশ আসে। একটি চেয়ার অন্তিক টেনে দেয় তাকে বসতে। শ্রদ্ধার সাথে হেসে বসে আয়াশ। তার ঠিক সামনেই বসেছেন রোমানা বেগম। বরাবরই আয়াশ তার অপছন্দের পাত্র কিন্তু পরিবারের জন্য কিছু বলতে পারেন না। খাবার বাড়ছে কুহু ও আশা। সবার প্লেটে দেওয়া হতেই অন্তিক টেনে নিজের পাশে বসিয়ে দেয় কুহুকে। কথায় কথায় দুটো লোকমাও দিচ্ছে ওর মুখে। সবার হাসির রেশ কাটিয়ে মাঝখান দিয়ে রোমানা বেগম জিজ্ঞেস করেন আয়াশকে,

"তোমার মা-বাবা এখন কোন দেশে আছে?"

​নরম শীতল স্বরে উত্তর করে আয়াশ,

"অস্ট্রেলিয়া।"

​"তিতাশ আর লিজা খুব ভালো ছিল, এক সময় কত আসত আমাদের বাড়ি। কিন্তু সময়ের সাথে পাল্টে যায় মানুষ, ছেলেটাকে একাই ছেড়ে দিয়েছে। একা একা কি আর সঠিক শিক্ষাটা পায়?"

​আয়াশের হাত থামে। সবার চোখ অবাকের চরম পর্যায়ে। আয়াশ একটু রাগী কিন্তু ভালো ও ভদ্র ছেলে। কুহু কিছু বলার আগেই সবার কথার পাশ কেটে আশা উত্তর করে,

"যদি বাবা-মা থাকা মানেই সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া হয়, তাহলে তো অহীনকেও অশিক্ষিতই বলা যায়।"

​ফোঁসফাস রাগের সাথে আশার দিকে তাকান রোমানা বেগম,

"অহীন সৃজনের সাথে থেকেছে।"

​"সেই সৃজনকেও এক সময় তুমি বলতে ভালো না। যখন নিজের বেলায় এসেছে, এখন সৃজনের দোহাই দিচ্ছ? সব বিষয়ে এগুলো করার স্বভাব তোমার গেল না।"

​আকাশ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলে মায়ের উদ্দেশ্যে,

"আম্মু খাবারের সময় এসব বাদ দিলে হয় না? ওদেরকে ওদের মতো ছেড়ে দেওয়াই ভালো।"

​সবাই চুপ করে যায়। কুহু আশার মাথায় হাত দিয়ে চোখের ইশারায় শান্ত করে। আয়াশের দিকে এগিয়ে গিয়ে আশা প্লেটে তরকারি বেড়ে দিচ্ছে। আয়াশের রাগ কমিয়ে দেওয়ার জন্য এতটুকুই কি যথেষ্ট ছিল না? আশার দিকে তাকিয়ে শীতল হেসে খাবারে মন দেয়। অহীনের চোখ আশার হাতের দিকে, আর একটু এগোলেই হয়তো ছুঁয়ে যাবে আয়াশের বাহু আর আশার হাত। কুহুর মাংসের বাটি ওর দিকে এগিয়ে দিতেই হুঁশ ফিরে। হতভম্বের মতো হাত বাড়িয়ে দেয়। কাশি ওঠে যায় পরক্ষণেই। মাথায় হালকা হাতে থাপ্পড় দিয়ে কুহু বলে,

"আস্তে খা, বাবার মতো হয়েছিস বেখেয়ালি।"

​রোমানা বেগমের যেন অহীনের এহেন অবস্থায় কলিজায় লাগল। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে পানি এগিয়ে দিলেন। অহীন গিলতেই রোমানা বেগম বলে ওঠেন,

"লোকের কথায় এমন হয়। মনে মনে বদদোয়া করে লোকে অহীনকে।"

​কথাটা আয়াশের দিকে তাকিয়ে বললেন উনি। বিরক্ত হয়ে বসা থেকে ওঠে অহীন ও আয়াশ। অহীন হাত ধুয়ে নিজের কক্ষে চলে যায়। আর আয়াশ হাত ধুয়ে বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশার কাছে গিয়ে মিষ্টি করে বলে,

"আমার যেতে হবে। বাসায় গিয়ে লং শাওয়ার না নিলে দম বন্ধ হয়ে মরে যাব।"

​আশা মাথা নুইয়ে ওড়নায় আঙুল পেঁচিয়ে বলে,

"সরি আয়াশ, আমাদের দুষ্টুমিতে আপনার প্রবলেম হয়ে গেল। কিন্তু এটা একদম নতুন পাঞ্জাবি ছিল। সমস্যা হচ্ছে?"

​"হয়তো কখনো অহীন গায়ে জড়িয়েছিল, ইটস ওকে শাওয়ার নিলে ঠিক হয়ে যাবে।"

​সবার থেকেই একে একে বিদায় নিয়ে আয়াশ বের হয়ে যায়। আয়াশ বের হতেই দরজা লক করে আশা রোমানা বেগমের দিকে তাকিয়ে ক্রুর স্বরে বলে,

"একটা মানুষ অপরিচিত কারো সাথেও এমন করে কথা বলে না দাদু। জানি না আদৌ কি আমাদের ভাগ্য এক হবে কি না। কিন্তু তুমি এমন করে কী করে বলতে পারো? শিক্ষা নিয়ে কথা? ফ্রান্সে তিনি ইন্টারন্যাশনাল কলেজে লেকচারার। এমনি এমনি হয়নি, শিক্ষা দিয়ে অর্জন করেছে। ওনার জন্য অনেক সুন্দর মেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, অহীনকে জিজ্ঞেস করতে পারো। আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে, কবে হ্যাঁ বলব!"

​"বিয়ে না হতেই এত পক্ষবাদী, বিয়ে হলে তো আকাশে উড়বি। ভুল কী বলেছি? অহীন সৃজনের সাথে থেকেছে।বলতে পারব কোনো মেয়ে বাজি করেনি। ওর কী গ্যারান্টি আছে?"

​"চাচি সব কথায় অহীনকে টেনো না। অহীনের চেয়ে যোগ্যতা ও দক্ষতায় আয়াশ এগিয়ে এটা ভুল প্রমাণ করা যাবে না। আমার ছেলে বলে ওকে বড় করে গুণীর গান গাইব না সে হয় না। আয়াশকে এমন করে কেন বললে? ওর সামনে আমি কিছু বললে কেমন হতো? আমি তাশা না, তাশার সামনে এগুলো করবে। আমি আগের কুহুই আছি। সম্পর্ক হলে ভালো ব্যবহার করব না হলে করব না এ কেমন শিক্ষা তোমাদের?"

​কুহুর জোর গলায় বলা কথায় সবাই চুপ হয়। অন্তিক কুহুর বাহু ধরে নিয়ে যায়। রোমানা বেগম বললে কুহু বলবে, তর্কেই তো তর্ক বাড়ে। তবুও ছাড়েন কই মহিলা? বলে ওঠেন,

"কুহু, আশা তোর মেয়ে হলে কখনই এমন করে বলতি না। ঘরে রাখার কথাই ভাবতি।"

​কুহুর পা থেমে যায়। রোমানা বেগমের দিকে তাকায়। অন্তিক বিরক্ত খুব বিরক্ত। এই জন্যই ওই বাড়িতে যেতে চায় না সে। অন্তিকের দিকে তাকিয়ে ফোঁস করে শ্বাস নিয়ে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে আশাকে ডেকে কক্ষে চলে যায়। রোমানা বেগমের পাশ কাটিয়ে আশাও চলে যায়। অন্তিহা রোমানা বেগমের কাছে গিয়ে কাঁধে হাত রেখে সোফায় বসিয়ে দেয়।

"বুবু, যে যাকে নিয়ে ভালো থাকতে চায়, তার সাথে থাকতে দিতে হয়। নয়তো সব এলোমেলো হয়ে যায়। ছোট থেকে আয়াশ-আশার বিয়ে নিয়ে সবার শখ। অহীন ভাইয়া জেসিকে বিয়ে করবে। জেসি কিন্তু খুব সুন্দর, সামনে থেকে দেখলে তুমি ভাববে আশার থেকে ভালো জেসিকে ভাইয়ার সাথে মানাবে। অহেতুক কেন ঝামেলা করে কথা শুনতে যাও সবার? যাও আমি তোমার পছন্দে বিয়ে করে নেব একদিন। তবুও আর এগুলো নিয়ে ঝামেলা করো না।"

​"ঝামেলা কই করলাম? অহীনটা সারা বছর বিদেশ থাকে, ওই দেশের মেয়ে বিয়ে করে ওখানেই থাকবে। আশারও বিয়ে হলে ওই ছেলের সাথে চলে যাবে। ওরা বড়, ওদের ছাড়া সংসার হয়?"

​মলিন হাসে অন্তিহা। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলে,

"হয় খুব হয়, আমরা আছি তো। আমি মাম্মামের সাথে থাকি তো কী হয়েছে? আমার আম্মু-আব্বুকে অনেক ভালোবাসি। লেখাপড়া করে দেশে এসে তাদের সাথে জীবন কাটিয়ে দেব। বিয়েটা কি সবার জন্য প্রযোজ্য?আমি না হয় এক জীবন নীল মাম্মার আর কুহু আম্মুর সাথেই কাটালাম।"

​অন্তিহার বাচ্চামো কথায় হাসেন রোমানা বেগম। মেয়েটা অবুঝ না, তবুও অবুঝের মতো কথা বলে মন ভোলায়। চোখে কত কিছু আড়াল করে নিজেই জানে। কুহুর বিপরীত ধাঁচের। কুহু যতটা শক্ত, অন্তিহা ঠিক তেমনই নরম মনের।

চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন