#দূরত্বের_প্রণয়_২
#স্বর্ণালী_ইসলাম
#পর্বঃ৫
আকাশে অসংখ্য চাঁদ, মেঘেদের দেখা মিলছে না দূর-দূরান্ত পর্যন্ত। হাতে মোটা উলের গ্লাভস পরনে। ছাদের রেলিঙের কার্নিশে হাত রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে আয়াশ, মস্তিষ্ক আশাকে নিয়ে গভীর ভাবনায় মগ্ন। ভাবনার মাঝেই পকেটে থাকা ফোনটা বেজে ওঠে, চটজলদি কলটা রিসিভ করে কানে তুলে, তবে শব্দ করল না একটুও, ওপাশ থেকেই আগে ভেসে আসলো,
"আয়াশ দিন কেমন কাটলো তোমার? অন্তিক চাচ্চুর বাসায়?"
আয়াশ মাথা নিচু করে তিতাশের কথার উত্তর না দিয়ে, নিজের কথাটা উপস্থাপন করে বসে,
"ডেড, আকাশ চাচ্চুর সাথে কথা বলো, সামনের মাসে আমি ব্যাক করতে চাই।"
তিতাশ ভাবান্তর চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করে,
"আবার আশার দাদু কিছু বলেছে?"
"তাদের কথায় আমার কিছু যায় আসে না। আই ডোন্ট কেয়ার কে কী বলল। আমি জানি তোমরা আমায় কতটা ভালোবাসো। কিন্তু।"
"কিন্তু কী?"
একটা মুহূর্তের জন্য, অহীন-আশার দুষ্টুমি ও সেই সময় অহীনের গায়ের ওপর পড়ে থাকার দৃশ্যটা হানা দেয় আয়াশের চোখের সামনে। ফোঁস করে শ্বাস নিয়ে তিতাশকে বলে,
"ডেড, ভয় করে, ওর দাদু কেমন যেন।"
"তুমি স্ট্রং আয়াশ! যেখানে সবাই রাজি তুমি ওনার কথা ধরে বসে আছো?"
"ওনার কথা ধরছি না, তুমি মমকে ভালোবাসো তো, তুমিও নিশ্চয়ই বুঝেছো, মমকে কারো সাথে দেখলে তোমারও বুকে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ডেড ও ভদ্র ছেলে পছন্দ করে তাই নিজেকে পরিবর্তন করেই আছি আমি। আমি এমন না। ওকে পেয়ে গেলে ফ্রান্স চলে যাবো। একা থাকবো। কেউ কিছু বলবে না। ও আমার মধ্যের আমিটাকেও দেখবে না। তোমাদের মতো আমরাও সুন্দর করে সংসার করবো। একটা পৃথিবী আমার আর পুতুলের।"
দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিতাশ নিচে, আয়াশকে বুঝানোর স্বরে বলে,
"তোমার দাদুকে নিয়ে দুই দিন পর গিয়ে ডেট দিয়ে এসো। আমি কথা বলে রাখবো। এখন মন খারাপ করে থেকো না। আর হ্যাঁ বিয়ে করে বেবি হলে আমাদের ভাগের ভালোবাসা কিন্তু বেবিকে দেওয়া যাবে না।"
"বিয়েই করলাম না, বেবি। তোমরাও আছো কেমন মম ডেড? ছেলে ৩০ পেরোলো নিজে বিয়ের কথা বলতে হয়। শেইম অন ইউ বোথ।"
হো হো করে তিতাশের হাসির শব্দ পায়, হেসে দিয়ে বলে,
"তুমি তো তোমার পুতুলের অপেক্ষায় বুড়ো হয়ে আছো। তোমার মতো থাকতে, আমার সার্কেলে আমি সবার আগে বিয়ে করেছিলাম।"
"আর বলতে হবে না ডেড। এবার তো সব ঠিকঠাকই আছে। বিয়ের কথা বলো।"
তিতাশের সাথে কথা শেষ করে পকেটে ফোনটা রেখেও রাখলো না আয়াশ, আশার নাম্বারে কল দেয়। ড্রয়িং রুমের একটি কোণায় ম্যাট্রেস পাতা, আশা, অন্তিহা গল্প করছে। আজ আর যেতে দিলো না কুহু তাকে বাসায়। রোমানা বেগমকে নিয়ে আকাশ চলে গিয়েছে। পাশে পড়ে থাকা ফোনটা বাজতেই সময় ব্যয় না করে রিসিভ করে নিলো আশা। ওপাশ থেকে শীতল করা প্রশ্ন করে ওঠে আয়াশ,
"কী করছো পুতুল?"
"অন্তুর সাথে বসে গল্প করছি।"
"অন্তুকে আমার সতিন মনে হয়। মেয়েটার জন্য তুমি আমাকে কত অপেক্ষা করালে।"
অন্তিহার থেকে একটু দূরে যায় আশা, জানালার বাইরে খোলা আকাশের ঝলমলে তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে বলে,
"অন্তু ছোট মানুষ। ফুম্মি ৪ বছর কোমায় ছিল। ওই সময়টা আমাদের কাছেই থেকেছে। কখন ওর জন্য মায়াগুলো এত গাঢ় হয়ে উঠলো জানি না।"
আয়াশ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আকাশের দিকে তাকায়, আশা ফের নিজ থেকেই মলিন স্বরে বলে,
"আয়াশ সরি, দুপুরের জন্য। আসলে এমনটা হবে বুঝতে পারিনি। আপনার সুটটা এসে অন্তু বা ফুম্মির থেকে নিয়ে যাবেন কাল।"
মৃদুস্বরে হাসে আয়াশ,
"তুমি নিজের সাথে করে বাসায় নিয়ে যাও, খুব তাড়াতাড়ি আসবো তোমাদের বাসায়। তখন নিজের হাতেই না হয় দিও।"
"ঠিক আছে। এখন রাখি অন্তু অপেক্ষা করছে আমার জন্য।"
"হুম শালী থেকে সতিন হওয়ার ফিলিংসটা কেমন ওকে জিজ্ঞেস করো একটু।"
*****
নিজ কক্ষে বসে সবে মাত্রই ফ্রান্সে কথা বলে ফোনটা পাশে রাখলো অহীন। পুরো দুপুর ও বিকেল জুড়ে ঘুমানোর পর। এই মুহূর্তে ঘুম আসছে না। বসে অনেকটা সময় ফোন দেখার পর। হাঁক ছেড়ে কুহুকে ডাকে,
"আম্মু চা দাও আমাকে এক কাপ।"
অহীনের ভারী কণ্ঠে চেঁচিয়ে বলা কথাটা হয়তো কুহুর কান অব্দি পৌঁছাতে সক্ষম হলো না। পরপর আবার ডাকে অহীন,
"আম্মু, ঘুমিয়ে গেলে এত তাড়াতাড়ি?"
নাহ পেল না সাড়া, বিরক্তির 'চ' বলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে অহীন, দরজায় দাঁড়াতেই দেখতে পায়, আশা ও অন্তু কোলের মাঝে বালিশ গুঁজে হাসাহাসি করছে। কুহুর দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে বন্ধ, হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। সারাদিন খাটাখাটুনির পর কুহুকে ডাকাটা ঠিক মনে হলো না তার। রুমে যেতে নিলে অন্তু জিজ্ঞেস করে,
"কিছু লাগবে আপনার?"
পা থামিয়ে গম্ভীর মুখে অন্তিহার দিকে তাকায় আয়াশ,
"এতগুলো ডাক দেওয়ার পর তোরা শুনিস নি? কিছু লাগবে কি না?"
অন্তিহা অহীনের দিকে কিছু সময় নির্লিপ্ত চোখে চেয়ে রইল। অহীন চলে যেতেই, আশাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
"আশু আমি বানিয়ে দেই তুই দিয়ে আয় ওনার রুমে। আমার সাথে রাগারাগি করবে।"
লাফিয়ে ওঠে আশা, চোখে মুখে বিরক্তিকর ক্রূর ছাপ,
"ওকে দেবো আমি চা? বিষ মিশিয়ে দেবো। আয়াশের সাথে যা করল ওই পেঁচা। তোর এত দরদ কেন? তোকে তো সহ্যই করতে পারে না।"
বসা থেকে উঠে কিচেনে চলে যায় অন্তিহা, না আশার কথার উত্তর তার নেই। সেও জানে না কেন অহীন এমনটা করে তার সাথে? সে কি এতটাই দোষী? খানিকটা সময় পর হাতে এক কাপ চা নিয়ে আসে। আশার দিকে এগিয়ে দিয়ে মিনমিনে আবদারের স্বরে বলে,
"দরজার সামনে টেবিলে রেখে এসে পড়িস।"
অন্তিহার এই বাচ্চামো আবদার ফেলার ক্ষমতা কি আশা রাখে? ফোঁস করে শ্বাস নিয়ে উঠে দাঁড়ায়, চায়ের কাপটা নিয়ে অহীনের দরজার সামনে যায়। লক করে রাখেনি, হালকা ভেজানো নক করতেই ভেতর থেকে শব্দ আসে,
"আয়।"
যেন সে জানত আশা বা অন্তিহা আসবে। নিজের মনকে বুঝিয়ে বড় বড় নিঃশ্বাসগুলো নিয়ে দরজা ঠেলে প্রবেশ করে দেখে অহীন বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে। উরুর ওপর ল্যাপটপ রাখা। চায়ের কাপটা দরজার কাছেই রেখে দিতে নিলে অহীন গম্ভীর স্বরে বলে,
“ওখানে রাখলে কী করে পাবো? কাছে আয়।”
মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট আশার। হেলেদুলে অহীনের সামনে বেড সাইড টেবিলে গিয়ে রাখে কাপটা। ফিরে আসতে নিলে অহীন পিছু ডাকে আবার,
“পেঁচি এদিক শোন।”
“আবার কী? অহীন আমি তোমার কাজ করতে আসিনি এখানে। আর আমাকে পেঁচি ডাকবে না।”
সোজা হয়ে বসে অহীন, ভ্রু কুঁচকে বলে,
“তুই পেঁচি তোকে কি পেতনি ডাকবো? কাছে আয় পেঁচি।”
“বলো শুনছি আমি।”
অহীন বিছানার সাথেই নিজের লাগেজটা টান দিয়ে নিয়ে আসে কাছে, বিছানায় তুলে দু'টো মোটা মোটা বক্স বের করে। আশার দিকে এগিয়ে দেয়,
“নে যার যেটা ভালো লাগে নিয়ে নিস। পাপি কিনে দিয়েছে আমি না।”
“কী এগুলো?”
“জানি না, পাপি কিনে প্যাকিং করে দিয়েছে আমাকে।”
পাপির কথা শুনে আশা আর কথা বাড়ালো না। অহীনের হাত থেকে নিয়ে আশা চলে যেতে নিলে অহীন আবারও পিছু ডাকে,
“আশু।”
“উফ আবার কী?”
আশার বিরক্তি ভরা মুখটা দেখে নিজেই কিঞ্চিৎ বিরক্তি প্রকাশ করে অহীন, আর রাশভারী কণ্ঠের আদেশের স্বরে বলে ওঠে,
“বিয়ে হয়নি এখনো তোর। আয়াশকে এত বেড়ে খাওয়ানোর কী আছে? মেয়েলোকের মতো থাকবি। মেয়েরা হবে লাজুক, ধিঙ্গিপনা করিস কেন? অন্তুকে দেখিস না? চুপচাপ থাকে, প্রয়োজনের চেয়ে কথা কম অপচয় করে।”
অহীনের শান্ত স্বরে মিষ্টি বুঝটা হয়তো আশাকে বুঝাতে সক্ষম হলো না। হয়তো হয়েছে কিন্তু অহীনের কথা মানতে নারাজ সে, তাই তো ক্রূরতার সাথে বলে,
“মেহমান আসলে আমি খাবার বেড়ে খাওয়াই এটা বড় করে দেখার কিছু নেই। আর লাজুকই আমি, কিন্তু লোক বুঝে, ধিঙ্গিপনা দেখেই যদি আয়াশ আমাকে চায় তোমার তাতে কী? অন্তু সভ্য তাই সেটা অন্তু, আমি ধিঙ্গি তাই আমি আশা।”
গাল বাঁকিয়ে চলে যায় আশা বের হয়ে। মাথা দুলিয়ে হতাশ হয়ে আবারও মন দেয় ল্যাপটপে। অন্তিহার মতো হলো না আশা। অন্তিহা আবার এর সঙ্গ পেয়ে বিগড়ে না যায় এই চিন্তায় মস্তিষ্ক ঘোরে। বয়স তো কম হলো না, তবুও কেন যে আশাকে বিয়ে দিচ্ছে না কে জানে? বিয়ে দিয়ে বিদায় করলেই তো অন্তিহার একটা গতি হয়।
**
কক্ষ থেকে বের হয়ে অন্তিহাকে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে ওর হাতে বাক্সটা দিয়ে বলে,
“পাপি দিয়েছে আমাদের।”
গালে এক চিলতে হাসির রেখা রেখেই বাক্সটা নিয়ে পাশে রেখে দেয় অন্তিহা। র্যাপিং খোলার প্রয়োজন মনে করল না সে। আশা ওর পাশেই বসে গভীরভাবে প্রশ্ন করে,
“অন্তু তুই অহীনের আনা কিছু খুলে দেখিস না কেন?”
“সে কি আমাকে নিজে দিতে পারে না? মূল্যবান কিছু হলে নিজ হাতেই দিত। তাই সামান্য ভেবে ফেলে রাখি অযত্নে।”
“ওটা পাপি দিয়েছে।”
আশার দিকে কঠোর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে অন্তু, ক্রূর স্বরে বলে,
“ওটা আমাদের পাপি না, ভাইয়ার পাপি, আর আমাদের মামা। বারবার পাপি বলা থামা আশা।”
“আমরা আর অহীন কি আলাদা? একই তো, পাপি বললে সমস্যা কী?”
“ভাইয়াকে সে মানুষ করেছে, আমাদের না। আমার আব্বু আছে অন্য কাউকে পাপি বলার কোনো মানেই হয় না। মামা ঠিক আছে কিন্তু পাপি না।”
আশা প্রত্যুত্তরে কিছু বলল না আর। নিজেই কথা পাল্টে নিল,
“ইসস অন্তু ফ্রান্স গিয়ে তুই একটা ছেলে পটিয়ে নিস, তারপর আমরা সেটল হয়ে যাবো। জামাই নিয়ে।”
অন্তিহা হেসে দেয় ফিক করে,
“বিয়ে করলি না আর জামাই, দাদু ঠিক বলে। তুই আয়াশের অন্ধ ভক্ত হবি। আমাকে ভুলে যাস না আবার।”
“হাহ জামাই পেলে সব ভুলে যাবো প্রিয়, তাই তো তোকে নিজের সাথে রাখতে চাই। একটা যদি দেবর থাকতো ইস তোকেও নিতাম।”
হাতে থাকা বালিশ দিয়ে আশার গায়ে বাড়ি দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে অন্তিহা,
“শালি গাদ্দার। আমাকেও ভুলে যাবি কুত্তি।”
আশাও নিজের বালিশ তুলে অন্তিহার মুখে মারে,
“ও হ্যালো, ৬ বছর আপনার জন্য বিয়ে করিনি আমি। গাদ্দার হবেন আপনি, যদি আমার সাথে না যান।”
অন্তিহা আবার বাড়ি দেয় আশার বাহুতে,
“মারলি কেন?”
আশাও পাল্টা দিয়ে বলে,
“তুই মারলি তাই। তুই মারলি কেন?”
অন্তিহা আবার দেয়, আশাও কি কম যায়? পাল্টা বাড়ি দেয় মুখে, এবার ব্যথা পেল অন্তিহা। এমন করতেই একপর্যায়ে দু'জন একে অপরের সাথে বালিশ দিয়ে দুষ্টুমি করে হাসছে। জোরে জোরে হাসির জন্য খালি বাসায় গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। আশার সাথেই হয়তো অন্তিহা মন খুলে এমন খিলখিলিয়ে হাসে। বয়সে ছোট হলেও কথার ধরনগুলো অন্তিহার সুন্দর। তাদের এত চেঁচামেচির শব্দে কুহুর কক্ষ থেকে ধমকের স্বর আসে,
“পেঁচির বাচ্চাগুলো ঘুমা, বড় পেঁচি ঘুমিয়েছে। ক্লান্ত।”
অন্তিকের ধমক খেয়ে হুঁশ মেলে তাদের তবে থামলো না, দু'জন ফিসফিস করে তর্ক করছে। অন্তিকের কানে ফিসফিস করে কথাগুলো না গেলেও অহীনের কানে ঠিকই গেল। তাই তো দরজার সামনে এসে রাগী চোখে তাকায় তাদের দিকে। মুখের কাঠিন্যতা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কান চুলকে গম্ভীর স্বরে বলে,
“আব্বুর ধমক রুমে আমি শুনেছি। তোদের কানে যায়নি? পেঁচি নিজেদের বাড়ি গিয়ে এসব করবি, এখানে না।”
নিজেদের বাড়ির কথাটা যেন আশাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বলল অহীন, রাগে চোয়াল শক্ত হয় আশার, একটা বালিশ অহীনের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে ক্রূর স্বরে অহংকার করে বলে,
“এ বাড়িও আমার, ওই বাড়িও আমার, তুই কে আমাকে বের করার?”
“তোর থেকে গুনে গুনে তিন বছরের বড় আমি, বেয়াদব বড়দের তুই করে বলতে লজ্জা হয় না? এই শিক্ষা পেয়েছিস?”
“তোর থেকেও আমি ছোট, ছোটদের শ্রদ্ধা করে কথা বলতে হয় জানিস না?”
“আয়াশকে ভালো লাগে না, কিন্তু মায়া হয়, তোর মতো বেয়াদব মেয়েটার সাথে সারাটা জীবন কাটাবে কেমন করে?”
“তোমার দেখতে হবে না। নিজের চরকায় তেল দাও।”
পায়ের নিচে পড়ে থাকা বালিশটা হাতে তুলে ছুঁড়ে মারে ড্রয়িং রুমের একটি কোণায়,
“বিয়ে হয়ে গেলে না এই বাড়ি, আর না ওই বাড়ি কোনোটিই থাকবে না। সব আমার আর তাইয়ানেরই।”
আশা উঠে অহীনের একদম নিকটে এসে দাঁড়ায়, অহীন তার থেকে লম্বা হওয়াতে মাথা উঁচু করে তাকায় আশা। একে অপরের দিকে তাকিয়ে আশা বলে ওঠে,
“এই বাড়ি ওই বাড়িতে আমার অধিকার সব সময়ের জন্য, বিয়ে আমার সম্পর্কের মোড় পাল্টাতে কখনোই পারবে না। ফুম্মি আর বড় বাবাও আমার।”
রাগে চোয়াল শক্ত করে আশার খোঁপা করা চুলের মুঠি ধরে শক্ত করে অহীন, চোয়ালে অপর হাত দিয়ে খামচে ধরে দেয়ালে চেপে ধরে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে,
“তোর এখন জেগে স্বপ্ন দেখার বয়স না আশু, বিয়ে দিলে তিন বাচ্চার মা হয়ে সংসার করতি এত দিনে। বাপ ভাইয়ের সংসারে কিসের এত দাপট?”
দুই হাত বাড়িয়ে অহীনের কলার খামচে ধরে, হাতে বড় বড় নখগুলো গেঁথে যায় অহীনের বুকে। কিঞ্চিৎ জ্বলে ওঠে বুক। আশা কটমট করে ক্রূর স্বরে বলে,
“তুই যেমন বড় ছেলে আমিও বড় মেয়ে। তোর ঠিক যতটুকু এই পুরো পরিবারে বলার আর থাকার অধিকার আমারও ঠিক তাই। নিজের থার্ডক্লাস মেন্টালিটি বাদ দে। পাপি তো এমন নয়। তুই কি লুকিয়ে গু খেয়ে বড় হলি নাকি? ওনার মতো কোনো গুণ তো দেখি না।”
দু'জনই রাগে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে, রাগে মাথা ফেটে যাবে এখনই। ওদের পরিস্থিতি বিগড়ে যাওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে অন্তিহা দু'জনের মাঝে এসে ওদেরকে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেয়,
“থামুন আপনারা, বাড়িঘর নিয়ে কে ঝামেলা করে? সবাই সমান আমরা। ভাই রুমে যান। আশু আয় তো ঘুমাবো।”
অহীন হনহন করে ফুঁসতে ফুঁসতে চলে যায় কক্ষে। আর আশাকে নিয়ে ম্যাট্রেসের ওপর বসে অন্তিহা। এদেরকে বিয়ে করতে বলে রোমানা বেগম? এদের পেঁচা-পেঁচির ঝগড়া সমাধান হওয়া সম্ভব নয়। তার ওপর পছন্দ আছে দুজনের আলাদা।
চলবে.....