#দূরত্বের_প্রণয়_২
#স্বর্ণালী_ইসলাম
পর্বঃ১৩
সিঁড়ির রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে আশা, সেও একটু চিন্তায় আছে। অহীন তাকাতেই হাতের ইশারায় পরিস্থিতি জিজ্ঞেস করে। আশার হাসিমুখটাতে চিন্তা অন্তত আজকে মানায় না ভেবেই অহীন চোখে শান্ত করে দেয়। তাশাকে বলে দেয় আশাকে কিছু না বলার জন্য। আকাশ বের হওয়ার পর প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে, কত সময় আশার কানে কথা না গিয়ে? লেহেঙ্গা উপরে তুলে সিঁড়ি দিয়ে দৃঢ় পায়ে নেমে আসে সে। ওকে দেখে অহীন, তাশা এগিয়ে যায়।
অহীন মেকি ক্ষীণ হেসে জিজ্ঞেস করে,
“তুই নামলি কেন? রুমে যা। আয়াশ আসলে ডাকা হবে। এমন করে লোকে লজ্জাহীন বউ বলবে তো।”
“সন্ধ্যা ঘনিয়ে অহীন আয়াশ ঠিক আছে তো? খোঁজ করেছ?”
এমন পরিস্থিতিতে আশার ঠোঁট জুড়ে আয়াশের চিন্তা তাশাকে বিচলিত করল খুব। তারা বুঝল আশার অজানা কিছুই নেই। আশার কথাটা একটু আস্তে হলেও রোমানা বেগমের কান এড়ালো না। তিনি ধড়ফড়িয়ে এসে বলেন,
“না না আসেনি, আর আসবেই বা কেন? কালকের পর কোনো ছেলের বুঝতে বাকি রয় তোদের সম্পর্ক?”
ওনার হঠাৎ আগমনে কটাক্ষপূর্ণ কথাটা উপস্থিত মেহমানের সামনে লজ্জা ও বিভ্রান্তিতে ফেলল তাশাকে। কোথা থেকে নীল এসে ওনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে নিতে চায়,
“আম্মু চলো, রুমে গিয়ে কথা বলি আমরা কথা বলি।”
রোমানা বেগমের থিতু মস্তিষ্ক কি নিলয়ীর কথায় থামে? তিনি হাত ছাড়িয়ে এবার জোর দিয়েই বলেন,
“এই জন্যই লোকে বলে গুরুজনের কথা অমৃতের লতা। বলেছিলাম কালকেও শুনলি না আমার কথা, এবার বাড়িভর্তি মেহমান রেখে বিয়ে ভেঙে মান খোয়া আমাদের। ওই ছেলে আসবে না কালকে যা দেখলাম ছিঃ।”
অহীন ধমকে ওঠে,
“বুবু রুমে যাও এসব ভালো লাগছে না পরিস্থিতি না বুঝে কথা বলো কেন? নাজ।”
তাশা যেন পাল্টায়নি এত বছরেও, অল্প কথা বলে, প্রতিবাদ কখনোই করতে পারে না সরল মেয়েটা। তবুও বলল,
“খালামণি এসব কী বলছ? বাড়িভর্তি লোক আশু অহীনের গায়ে কাদা ছুঁড়লে আমাদেরই লাগবে।”
তেতে ওঠেন তিনি,
“কাদা কি কম ছুড়বে সমাজ? আজ আয়াশ না আসলে তোর মেয়ের কী হবে? কালকে তোর মেয়ের এমন কাজে কোন ছেলেই বা পরবর্তী বিয়ে করতে আসবে? আর এমনিতেও এমন ছেলের না আসাই ভালো।”
আশা মুখ খুলল গরম স্বরে,
“বুবু বেশি বেশি হচ্ছে এবার কিন্তু। তুমি আমাদের আপন তো না কি শত্রু? অহীন বা আমার মধ্যে এমন অমানবিক কিছু কখনোই নেই। নিজের মুখে লাগাম টানো। আমি রুমে গেলাম আয়াশ আসলেই বের হব।”
আশা চলে যেতে নিলে পেছন থেকে হাত ধরলেন রোমানা বেগম। তাশা এগিয়ে হাত ছাড়াতে নিলে তিনি লেহাজ করলেন না যে তাশা এখন দুই সন্তানের মা। ঠাস করে গালে একটা থাপ্পড় দিলেন। রাগে মাথায় অহীন এগিয়ে তাশাকে সরিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে,
“ওয়াট দ্য ফাক? স্টে কাম! এসব কী কাজ?”
অহীনের ধমকে থামল সবাই। বাড়িভর্তি লোক মেহমান কম হলেও এলাকার লোকগুলো তো এসেছে। চেয়ে আছে সোফায় বসা কাজি, এবার নিজের ধৈর্য ছেড়ে বলে ওঠেন,
“আপনাদের বর কি আসবে বাবা?”
আশার কাছে প্রশ্নটা কেমন অদ্ভুত লাগল। আয়াশ কেন আসবে না? নিজেকে পরিস্থিতিতে শূন্য লাগছে। ছলছল চোখে চেয়ে আছে অহীনের দিকে। অহীন ওর কাঁধে হাত দিয়ে সিঁড়ি দেখিয়ে উপরে যেতে বলে, নিজের ফোনটা পকেট থেকে খুঁজে পেল না অহীন। আশা দাঁড়িয়ে আছে। আশার হাতের ফোনটা বাজে। আকাশের কলে উৎফুল্ল হয়ে রিসিভ করে তবে বাবার কাছ থেকে আশা করা বাক্যটা শুনল না। আকাশ কল রিসিভ করতেই বলল,
“অহীনকে দাও আশু।”
আশা অহীনের কাছে ফোনটা ধরিয়ে দেয়। ওপাশ থেকে কাতর কণ্ঠ আসে,
“আয়াশ নাকি বের হয়েছে। কিন্তু তারপর থেকে খোঁজ নেই। ওর দাদুও কথা বলছে না আমার সাথে তেমন। আমার আসতে সময় লাগবে তুমি ওই দিকটা দেখে নিও।”
ফোনের স্পিকার অফ হলেও পাশে থাকা আশা আর বাকিদের কানে গেল। জলধারা বাঁধ ভাঙে আশার। রোমানা বেগম এবার বিলাপ করে ওঠেন,
“মান-সম্মান শেষ হলো আমাদের। মেয়ে যা এবার রুমে গিয়ে বসে থাক। এসব দেখার পর বিয়ে করতে আসে এগুলো সিনেমায় দেখা যায়। বাস্তবে কোন ছেলেই এমন মেয়ে বিয়ে করে না।”
ওদিক থেকে কারো অপরিচিত স্বর আসে,
“দুপুরেও দেখলাম ওই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে ছিল একা রুমে ছিঃ। ভালোই হলো ছেলেটা আসেনি নয়তো ঠকত।”
অহীন কিছু বলার আগেই চেঁচিয়ে ওঠে আশা,
“নিজেদের মুখে লাগাম দিন, আয়াশ আপনাদের মতো নিম্নমানের ব্যক্তিত্বের লোক না। সে আসবে কখনো সে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজের পুতুলকে এমন পরিস্থিতিতে ছাড়বে না।”
অহীনও ধমকে ওঠে,
“আশু আমার কাজিন, আমার বন্ধু এতটা নিচ আমাদের ভাবনা নয়।”
আশা কান্না করছে অনবরত, একটু আগে সাজানো মুখটা নষ্ট হয়ে আছে। চোখের গাঢ় কাজলগুলো লেপ্টে আছে। রোমানা বেগম নিজের লেহাজ ভুলে মুখে গালি আনলেন,
“নষ্টা মাগী কান্না করে।”
অহীন আশার ফোনটা জোরে আছাড় মারে নিচে, ফলে চূর্ণ হয়ে কয়েক খণ্ড হয় ফোনটি।
“সমস্যা কী আপনার? মুখের ভাষা এমন করছেন কেন? চেনেন কতটুকু আয়াশকে? এত বছর ওর সাথে থেকে আমি অন্তত এটা জানি সে আশাকে কতটা চায়। আর এমন সময় একা রেখে যাবে না। চান কী আপনি? নিজের লোকের লাঞ্ছনা?”
“চেনার প্রয়োজন হয় না। এমনি এমনি চুল পাকেনি আমার। তোদের কালকে এমন অবস্থায় দেখার পর আসবে না সে। মান খুইয়ে দিশেহারা হবে আমার আকাশ। তোর কী? তুই তো ফ্রান্স গিয়ে সেই অর্ধনগ্ন মেয়েকে বিয়ে করে ভালোই থাকবি। জীবন নষ্ট হবে তো আশার।”
আশা আবার কেঁদে ওঠে আর চেঁচিয়ে বলে,
“খোদার কসম বুবু আয়াশকে এমন অপবাদ দিও না ভালো হবে না। সে কখনো আমার সাথে এমন করবে না। কাল রাতেও সে আমাকে বুঝিয়েছে। আমার শখ বুঝে পালকি পাঠিয়েছে। আমার জন্য নিজের জীবনের এতগুলো বছর সে অপেক্ষা করেছে। কেমন করে বলতে পারো সে আসবে না?”
তাশা কান্না করছে। নীল এবার এগিয়ে গিয়ে রোমানা বেগমকে জড়িয়ে ধরে একটু ধমকের স্বরেই বলল,
“আম্মু ওরা বাচ্চা এগুলো বলো না প্লিজ। আয়াশ আসবে এটা সবাই জানি কতটা ভালোবাসে আয়াশ আশাকে।”
রোমানা বেগম ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বললেন অনেক রাগ ও ক্ষোভ নিয়ে,
“দূর হ সামনে থেকে, আপন হলে নিশ্চয়ই ভাইয়ের কথা ভাবতি নাকি এমন করে বলতি। ভাগ্যিস গর্ভে ধরিনি তোকে। আমার মায়ার এই উত্তর? আপন হলে সম্মান বাঁচাতি নাকি ওদের। নিজের গর্ভ শূন্য এই জন্যই কারণ কারো সুখ তোর সয় না।”
স্তব্ধ হয়ে গেল নীল, পায়ের নিচের মাটি সরে গেল। সে দু-পা পিছিয়ে আসে। চুপ করে যায় নিমিষেই। পাশ থেকে কারো কথা আসে,
“আপা যেহেতু ওদের নিয়ে সমস্যা, কাজি তো আছেই বিয়ে পড়িয়ে দিন। সমস্যা শেষ মেহমানদেরও অপমান হলো না।”
আশার মাথা যেন পাগলের মতো লাগছে। মেয়েটা নিজের বোধগম্য হারিয়ে ফেলেছে।
“পাগল হয়েছেন আপনারা? যে লোকটা আমার জন্য এত বছর অপেক্ষা করল তার জন্য আমাকে দুটো দিন অপেক্ষা করতে দেবেন না? অহীন দেখ না কী বলে ওরা।”
অহীন আশার চোখ মুছে দেয়, আর বলে,
“বললেই হলো? লোকের কাজ বলা।”
বাকিদের দিকে তাকিয়ে বলে,
“বিয়ে খাওয়া শেষ বের হোন সবাই। বাকিটা পারিবারিক বিষয় আমাদের।”
“নোংরামি ধরলেই পারিবারিক বিষয় হয়ে যায়।”
অহীনের মেজাজ খারাপ হলো খুব। কিছু বলার জন্য উদ্যোগ নিতেই রোমানা বেগম আবারও কান্না জুড়ে দেন। তবে আশার গায়ে হাত তুললে, তাশা বাধা নিয়ে পারছে না। অহীন এবার ওনাকে ধাক্কা দিয়ে বলে,
“সমস্যা কী আপনার কী চান?”
অহীনের ধাক্কা আস্তে হলেও তিনি ধপ করে পড়ে যান নিচে। বাড়িভর্তি লোক রোমানা বেগমকে ধরলেন। অহীন আর আশাকে নোংরা কথা বলা থেকে বাদ থাকল না কেউ। আশার মস্তিষ্ক তখন সজাগ নেই। আয়াশের জন্য চিন্তা হচ্ছে খুব করে। সে বাইরের দিকে গিয়ে দেখে নেয় পালকিটা দরজার সামনেই বসে আছে। তবে আয়াশ নেই। নিজের বাড়িতেই এমন লাঞ্ছনা? তাশা রোমানা বেগমকে পানি দিতেই উনি ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিলেন পানি।
“তোর মেয়েকে সরা সামনে থেকে। ওর জন্য আজ অহীন আমার গায়ে হাত দিয়েছে নষ্টা।”
তাশা হতভম্ব হয়ে আছে। আশা ছুটে আসে অহীনের কাছে, ওর কলার চেপে ধরে বলে,
“অহীন তুই কুত্তা, আমি কান্না করছি দেখিস না? খোঁজ নে আয়াশ আসে না কেন? অহীন আমি আয়াশ ছাড়া কারো সাথে সুখী হব না। কখনো না। যাকে পাশে নিয়ে কল্পনায় জীবন সাজিয়েছি তার জায়গায় দেওয়া যায় কাউকে?”
আশার দিকে কোমল চোখে চেয়ে আছে অহীন, হয়ত এই প্রথম এত মায়া হচ্ছে। রোমানা বেগম জেদ করে তাশাকে বিভিন্ন কথা শোনাতে থাকেন। সাথে কয়েকজন যোগ দিল। মাথা কাজ করছে না অহীনেরও। আশা কান্না করছে তো করছেই। অবশেষে হার মানে তাশা, আশার কাছে এসে মাথায় হাত রেখে বলে,
“করে নে আশু বিয়ে, আয়াশ হয়ত সত্যি আসবে না। দুনিয়া এত সহজ নয়।”
“কী বলছ এসব ছোট আম্মু? লোকের কথায় কান দিও না।”
“অহীন কালকের বিষয়টা অদেখা করা যায় না। তোমাদের দেখে যে কেউ বলত তোমরা। আমরা বিশ্বাস করি তোমাদের। কিন্তু সমাজ না।”
আশা কথা না বলে মা-ভাইয়ের মুখের দিকে চেয়ে রইল। আজও এই মহিলা এমন? তাইয়ান না হয় ছোট প্রোটেক্ট বুঝে না কিন্তু মা? মেয়ের পক্ষে দুটো কথা বলার সাহস কি রাখে না? তার বাবা যে তার মাকে এত গুরুত্ব দিয়েছে এই সংসারে তবুও বলার সাহস করে না? আশা ছুটে নীলের কাছে যায়,,
“ফুপি বলো না কিছু?”
“কী বলব আশা? আজ বুঝলাম আমি তোদের কেউ না, কথার মূল্য আছে?”
“আজকে অভিমান করো না, কেউ নেই তুমি ছাড়া। আমি আয়াশকে বিশ্বাস করি সে আমাকে বিয়ে করবে।”
বসা থেকে আবার উঠলেন রোমানা বেগম, এগিয়ে এসে আশার গালে নিজের শক্ত হাতের থাপ্পড় দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠেন,
“নষ্টামি করার সময় মনে ছিল না? আর অহীন তুই এতটা নিচ একটা মেয়ের সাথে থেকে বিয়ে করতে এত দ্বিধা? নটিবাজ হয়ে গিয়েছিস সৃজন নামের ছেলের সাথে থেকে? সৃজন যেমন তোর মা বিবাহিত হওয়ার পরেও জিব লেলিয়েছে তুইও তাই করবি?”
অহীন স্তব্ধ হলো। সৃজনকে নিয়ে এমন কথা? হজম হলো না তার, গলায় কাঁটা বাঁধল হয়ত খুব করে। অন্তিক তো কখনো এসব বলে না। আর না সৃজনের চরিত্র ওমন। আজ মনে হচ্ছে সৃজনের সন্তান হলে ভালো হতো অন্তত রোমানা বেগমের মতো কারো মুখোমুখি হতে হতো না তার, যে তার মা পাপিকে নিয়ে নোংরা ইঙ্গিত করবে। পাশ থেকে একজন বলে ওঠে,
“ছিঃ এজন্যই সন্তান নিজে মানুষ করতে হয়, বিদেশ থেকে এসব শিক্ষা নিয়ে এসেছে। বাসায় চাচার মেয়ের সাথে শুয়ে এখন বিয়ের নামে মুখ ফেরায়।”
আশা তাশার কাছে এসে ধাক্কা দিয়ে বলে,
“তুমি এমন কেন? কই ফুম্মি তো এমন নয়। সামান্য সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে কেন জন্ম দিলে তুমি আমায়? সবাই তো সুস্থ কারো সাথে সংসার করে আমি না হয় আয়াশকে যত্ন করে সুস্থ করে তুলব।”
নাহ নীল এর উত্তর পেল না আর না তাশার। কয়েকজন আশাকে বুঝাতে থাকে এই পরিস্থিতিতে বিয়ে করাটাই ঠিক হবে। আশার কানে কিছু ঢুকছে না। অহীনের কানে একই কথা বারবার বলা হচ্ছে। কালকে তোমার জন্যই আয়াশ ভুল বুঝেছে। তাই তো আসল না। অধৈর্য অহীন সম্মতি দিয়ে দিল, একটা কবুলই তো? পর মুহূর্তে তালাক! ঘড়ির কাঁটায় ৬:২২।
----
সন্ধ্যাবেলা কালো একটি গাড়ির সামনের সিটে বসে খুব তাড়া দিচ্ছে অন্তিহা, রাগ হচ্ছে মেয়েটার খুব। রাগ নিয়ে বলে প্রদীপকে,
“দায়িত্ব নিলেন তাড়াতাড়ি ফেরত নেওয়ার। কিন্তু আপনার জন্য দুই ঘণ্টা বেশি লেট হলো আমার।”
“ওখানে সবার মন রাখতে গিয়ে তো নিজের ভেঙে যেতে তুমি অন্তু।”
প্রদীপের শান্ত কথাটা শুনে অন্তিহা ওর মুখের পানে তাকায়। আবারও রাস্তার দিকে তাকিয়ে নীরবতা টানে নিজের মাঝে। ওর এমন নীরবতা দেখে প্রদীপ বলে ফোঁস করে,
“অন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি খুব।”
অন্তিহা বাইরে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের মেকি হাসি দেয়,
“সবাই জানে আমার কলেজ বাড়ি আপনার অফিসের কলিগ। নতুন করে বলার কী আছে?”
“বলতে ভালো লাগে, যে ভালোবাসা কখনো পূর্ণতা পাবে না। সেটা প্রকাশ করা ভালো। কেন না ভালোবাসার মানুষটাকে তো পাব না যে কর্মে বোঝাব, আমি না হয় বলেই বোঝাতে থাকি।”
“আমার সামনে পাঁচ মিনিট দাঁড়ালে একটা পাগলও আপনার মন পড়ে নেবে।”
“তুমি পড়ো?”
“আমার মনটাই পড়ার কেউ নেই প্রদীপ, আপনি তো প্রকাশ করে কত খুশি কিন্তু আমি?”
“করে দাও প্রকাশ অন্তত আমার কাছে?”
অন্তিহা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে গাড়ির সিটে হেলান দেয়, আনমনেই বলে,
“কিছু শব্দ আড়ালে থাকুক কিন্তু খুব নীরবে বেঁচে থাকুক। না বলা কিছু অনুভূতি সারাজীবন বেঁচে থাকুক, ওনায় অন্য রকম সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।”
প্রদীপ চুপ হয়ে যায় অল্পতেই, সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। ইচ্ছে করেই অন্তিহাকে নিয়ে ঘুরছিল সে। অন্তিহার বলার পরেও বাড়ি নিয়ে যায়নি। অন্তিহা এবার মুখের মলিন ভাবটা লুকিয়ে গম্ভীর হয়ে বলে,
“আর একবার ইউটার্ন নিলে আপনার গালিসহ আপনাকে উড়িয়ে দেব। বাড়ি চলুন। আমাকে মোমের পুতুল মনে করবেন না অল্পতে গলি না। আশাটা আমার জন্য অপেক্ষা করছে হয়ত। আমি জানি কান্না করছে আমার পাখিটা।”
প্রদীপ ফিক করে হেসে দিল। বলল,
“আশা বড় তুমি না। এমন ভাবে খেয়াল রাখো যেন তুমি না গোছালে সে এলোমেলো হয়ে যাবে।”
চলবে,,,