#দূরত্বের_প্রণয়_২
#স্বর্ণালী_ইসলাম
পর্বঃ১৪
দেখতে দেখতে শিকদার বাড়ির সামনে এসে থামে প্রদীপের গাড়িটি। একই সঙ্গে আরও একটি গাড়ি তাদের সামনে থামে। অন্তিহা তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে নামে, কুহু আর অন্তিকের মুখে গাম্ভীর্য অন্তিহাকে দেখা মাত্র জিজ্ঞেস করে,
“আয়াশের খোঁজ পেয়েছ অন্তু?”
“মানে? আমি সারাদিন কলেজ ছিলাম প্রদী…”
ওর কথায় অন্তিক কুহু অবাক হলো একটু, সৃজনকে দেখে অন্তিহা নিজের গাম্ভীর্য ধরে রেখেই জিজ্ঞেস করে,
“কেমন আছেন আপনারা?”
সৃজন এগিয়ে আসতে নিলে অন্তিহা একটু পিছিয়ে যায়, সে সব সময় এমন হাতে গোনা গুটি কয়েক জনকেই আপন করে। বাকিদের কষ্টের পরোয়া করে না। সৃজন একটু হাসে। অন্তিহা তাদের পেছনে ফেলে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে যায়। বড় কাঠের দরজা পার হতে প্রথমেই যেটা কর্ণপাত হলো কথাটা অহীন কণ্ঠে ছিল,
“কবুল।”
চোখটা ওর দিকে যেতেই স্তব্ধ অন্তিহা, আয়াশকে দেখল না অহীন আশার পাশে বসে আছে। তার পা শীতল বরফের মতো জমে গিয়েছে এক জায়গায়। তাকে পাশ কাটিয়ে আরও একটি কণ্ঠে জোর ওঠে অন্তিকের,
“কী হচ্ছে?”
অন্তিকের কণ্ঠ শুনে যেন প্রাণ পেল আশা। অহীনের পাশ থেকে উঠে ছুটে গিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে অন্তিককে,
“দেখো না বড় বাবা বুবু কী করছে, আমরা কি খারাপ? সবার সামনে যা নয় তাই বলছে। অহীনকে বিয়ে করতে বলছে। তুমি না আসলে আমার আবার কবুল বলে দিতে হতো।”
আশার কথায় বিগড়ে যায় অন্তিকের মস্তিষ্ক, অপর দিকে পেছনে জেসি তাকিয়ে আছে গায়ে জড়ানো কুর্তিটা, নিজেকে পরিবেশের সাথে মানাতেই হয়তো এত সুন্দর লাল টুকটুকে জামাটা পরে মাথায় ঘোমটা দিয়ে আছে। অন্তিক আশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করে ললাটে চুমু খায়,
“কিচ্ছু না, এই তো বাবা আছি ফুম্মি আছে। কেউ অহীনকে বিয়ে করতে বলবে না তোমাকে আর।”
আশা সাহস করে ওই দিকে ফিরে তাকায়, কুহু রাগে নিজের পরনের শাড়িতে খামচে ধরে আছে। হয়তো নিজেকে সংকোচ করে রেখেছে কষ্টে। অন্তিক লোকজন দেখেই নরম স্বরে বলে,
“বিয়ে হবে না আজ, আপনারা যান ছেলের একটু সমস্যার জন্য আসা হয়নি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের দ্বিতীয়বার নিমন্ত্রণ করা হবে।”
সবার চোখ অন্তিকের ওপর স্থির, আশা চুপ করে আছে অন্তিকের বুকের এক পাশে মাথা এলিয়ে, যেন এই কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে এখন সাহস পেল অসহায় মেয়েটা। একজন এগিয়ে বললেন,
“কার বিয়ে? মেয়ে কবুল বলে দিয়েছে আগেই আর ছেলেরটা তো শুনলেন বিয়ে হয়ে গিয়েছে।”
অহীন সোফায় বসে আছে নিজ কপালে হাত রেখে, না একটা শব্দ করছে না এখন সে। যেন কণ্ঠে তার কেউ শব্দ চুরি করে নিয়েছে। আশা প্রত্যুত্তরে অবুঝের ন্যায় বলল,
“কেন বলেন এমন? কিসের বিয়ে? আমি সবে একবার বলেছি। তিনবার বলিনি, আর অহীন ও একবার বলেছে কেন মতে তো বিয়ে কিসের?”
আশা অবুঝ নয়, তবে আজ অবুঝ হওয়ার ইচ্ছে তাকে ঘিরে আছে চারপাশ দিয়ে। কুহু ধীর পায়ে অহীনের পাশে গিয়ে বসে, অহীনের কাঁধে হাত রাখে, অহীন কুহুর দিকে একটু তাকায়, সোজা দরজার দিকে তাকিয়ে সৃজনকে দেখে ছলছল চোখে। সৃজন এগিয়ে আসতেই নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারল না উঠে সৃজনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল,
“পাপি, ফ্রান্স যাব আমার কষ্ট হচ্ছে এখানে থাকতে। ওই মহিলা তোমাকে আর আম্মুকে জড়িয়ে নোংরা কথা বলে। অহেতুক আমার আশাকে সবার সামনে নোংরা অপবাদ দেয়।”
সৃজন এতদিন পর অহীনকে দেখে মোটেও আশা করেনি এমন কান্নাগুলো, অহীনকে জড়িয়ে ধরে নিজ বুকে,
“থামো অহীন, চলে যাব আমরা। এখানে আশুর বিয়েটা হোক। আমরা চলে যাব।”
পাশ থেকে কাজি বলেন,
“মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে হালাল ভাবে।”
সৃজন একটু থামে, ঘাড় ঘুরিয়ে জেসির দিকে তাকায়, মেয়েটার চোখ ভরাট, রাগ ও কষ্টে ফুঁসছে। অহীনকে বুক থেকে তুলে সে জিজ্ঞেস করে,
“বিয়ে করেছ?”
অহীন কথা বলল না, মাথা নেড়ে উত্তর দিয়ে দেয় সবার প্রশ্নের। ব্যাস আর কী? আশা চেঁচিয়ে ওঠে,
“একবার কবুল বললেই কিসের বিয়ে? প্রমাণ আছে? তিন বার কবুল আমি বলিনি!”
কাজি নরম স্বরে বললেন,
“প্রমাণ? ঘর ভর্তি লোক মা, আর তিনবার বলা উত্তর কিন্তু একবারেই হালাল হয়ে যায়। কাগজ তো সামান্য দলিল কিন্তু তোমাদের বিয়ে ইসলামিক দিক দিয়ে বৈধ।”
ঝড়ের বেগে জেসি এসে অহীনের গালে সপাটে এক থাপ্পড়, অহীন চোখ বুজে থাপ্পড়টা নিয়ে নিল নিজের ওপর। প্রতিবাদ করল না একটুও আর না কাউকে করতে দিল। জেসি ফুঁসে ওঠে অহীনের পাঞ্জাবি খামচি দিয়ে ধরে চেঁচিয়ে ওঠে,
“কোনার, স্বার্থপর, চিটার। এতদূর আশা দিয়ে কী করে পারলে এটা করতে? একটিবার মনে পড়েনি? এক আমি ছটফট করি তোমার জন্য। একটিবার মনে পড়েনি জেসি আসছে তোমার জন্য। একটিবার না?”
জেসি দুই হাতে অহীনের বুকে আঘাত করছে, থাপ্পড় দিচ্ছে, কান্না করছে। জেইন এসব দেখে ফোঁস করে শ্বাস নেয়। এগিয়ে এসে জেসিকে টেনে অহীনের কাছ থেকে সরিয়ে আনে। অন্তিকের করা কথায় অতিথিরা বের হয় বাসা থেকে, নীলও বের হতে নিলে অন্তিক হাত ধরে,
“তুই কোথায় যাচ্ছিস?”
অহীন তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
“আব্বু তোমার মা মরার আগে একটি মাত্র মানুষও হারিয়ে যাবেন, যে কাঁদবে ওনার শোকে।”
নীল হাত ছাড়িয়ে বের হয়ে গেল উত্তর দিল না আর, কুহু সোফায় বসে নিজের দুই হাত ভাঁজ করে কপালে ঠেকিয়ে রেখেছে। অন্তিক আশাকে নিয়ে বসিয়ে দিল কুহুর পাশে, সিঁড়ির একটি কোনায় তাশা দাঁড়িয়ে আছে। দুই গাল ফুলে আছে তাশার রোমানা বেগমের থাপ্পড়ে। একটি চোখ তুলে তাশাকে দেখে সোজা হয়ে বসে কুহু, অহীনকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“অবুঝ তুই? কয়েকটা ঘণ্টা পরিস্থিতি থামানোর জ্ঞান তোকে খোদা দেয় নাই? ছেলেটা নিখোঁজ। কোথায় আছে কী করছে আদৌ বেঁচে আছে নাকি? জানা নেই। হঠাৎ এসে সামনে দাঁড়িয়ে বলবে চাচি মা পুতুলকে দিন। কী বলব?”
“পরিস্থিতি আম্মু ওরা আশা আর ছোট আম!”
“আশা? তোমার কেন বিয়ে করার সময় জেসি নামটা মাথায় এলো না? স্বপ্ন দেখিয়েছ তুমি আমাকে। অহীন আমার জীবন তোমাকে ছাড়া অপূর্ণ নয় কিন্তু তুমি চিট করেছ ভাবতেই আমার গা গুলিয়ে আসছে। এ কাকে আমি বিশ্বাস করলাম কাকে নিয়ে কল্পনায় সংসার পাতলাম?”
অহীনের কথা মুখ থেকে ছিনিয়ে এনে বলল জেসি এতগুলো কথা, রোমানা বেগম মুখ খুলে জেসিকে বলতে নেয়,
“এই মেয়ে চুপ থাকো মেহমান তুমি আমাদের,”
বলতে পারল না অন্তিহা ধমকে ওঠে,
“আপনি চুপ থাকুন, নির্লজ্জ মহিলা। এই আপনার জন্য আজ পর্যন্ত আমার আম্মু আব্বুর মধ্যে কিঞ্চিৎ ভেতরে রুক্ষতা রয়ে আছে। আপনার জন্য আমাদের ফুপ্পি নেই। আপনি মনে করেন ভালো করেছেন? নিজের গায়ে নিজে কাদা ছুড়ে সুবাস নেয়ার চেষ্টা করছেন? ওটা কাদা অন্যের গায়ে পড়লে যেমন দুর্গন্ধ ছড়ায় নিজের গায়েও তাই।”
তাশা ইশারায় চুপ করাতে গেলে অন্তিহা আবার বলে চেঁচিয়ে,
“তুমি যেমন চুপ থেকেছ বিয়ের সময়টা এই মুহূর্তেও আশা করি চুপ থাকবে ছোট আম্মু। আশা বা ভাইয়া একে অপরকে চায় না। ওদের সংসারের গ্যারান্টি দিতে পারবে? নিজের জন্য আজীবন চুপ থেকেছ ছোট বাবা বলে এসেছে। অন্তত নিজের মেয়ের সময়টা মুখের আঁটি খুলে বলতে কিছু।”
কুহু উঠে এসে অন্তিহাকে থামিয়ে আশার কাছে বসিয়ে দেয়। বিড়বিড় করে কিছু বুঝিয়ে দেয়। অতঃপর শান্ত মস্তিষ্কে সৃজনকে বোঝাতে গেলে সৃজন নিজ থেকেই বলে,
“অবুঝ নই আমি কুহেলিকা, তোমাদের পরিবার কেমন আমি আর জোনাকি জানি। জেসিকে বুঝিয়ে দেব চিন্তা করো না। ওদের দিকটা ক্লিয়ার করো বাচ্চা মানুষ পরিস্থিতি বুঝতে পারেনি। হয়তো বেশি চাপ পড়েছিল।”
জেসি ছলছল চোখে বলে,
“ড্যাড আজও তাদের পক্ষ হয়ে বলবে?”
সৃজন একটু হাসে জেসির কাছে গিয়ে মাথায় হাত রেখে বলে,
“শোনো তোমাকে বলা হয়েছে অহীনের সাথে বিয়ে হবে। কিন্তু তোমার থেকে তোমার ফ্রিডম আমরা নিইনি। তুমি দুনিয়া দেখেছ পরিবেশ বোঝো তো? অহীনকেও চেনো। এই মুহূর্তে পরিস্থিতিটাও বুঝতে পারছ? অহীনের দিকে দেখেছ কতটা অসহায় তুমি গায়ে হাত তোলার পরেও কিছু বলল না সে তোমাকে। এখন কি তাকে আরও ভেঙে দিতে চাও নিজেকে দুর্বল দেখিয়ে? তুমি নিজেকে স্ট্রং করে দেখাও তুমি তাকে ছাড়াও থাকতে পারবে।”
কুহু অন্তিক কুহু কাজির সাথে বসে, বিয়ের বিষয় টা আর একটু স্পষ্ট করার জন্য। আশা অন্তিহাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে,
“অন্তু তুই বললি তাড়াতাড়ি আসবি কেন আসলি না? দেখ না ওরা আয়াশের জন্য অপেক্ষা করতে দিল না আমাকে। আয়াশকে কী বলব আমি? যদি এসে বলে পুতুল পালকিতে ওঠো আমি,”
মনে পড়তেই আশা অন্তিহাকে ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, হনহন করে বেরিয়ে গেল বাসা থেকে আয়াশের পাঠানো পালকিতে চলে বসল কাঁদতে কাঁদতে। অহীন ওর পিছু নেয় সাথে বাকিরা। আশার দিকে ঝুঁকে আসে তাইয়ান,
“আশু বের হ আপু।”
“না শখ করে আবদার করেছিলাম পালকিতে যাব। আয়াশ এসে নিয়ে যাক আমি ওনার বাসায় গিয়েই নামব। করব না অহীনকে বিয়ে। পৃথিবীর কাউকে বিয়ে করব না। ওনাকে চাই আমি।”
বাকরুদ্ধ অহীন একটু দূর থেকে শুনছে, পালকির রঙিন পর্দার ফাঁকে এলোমেলো লেহেঙ্গা জড়ানো লেপ্টে থাকা সাজে বসে আছে আশা, অন্য রকম লাগছে আজ? এমন পাগলাটে ভাব তো প্রথম আশার। এত ভালোবাসে আশা আয়াশকে? হঠাৎ মাথাটা ঘুরে ওঠে, নিজেকে সামলে নেয় অতি কষ্টে। আশাকে সবাই ডাকছে হাতে ধরে টানছে, আশার মুখ দিয়ে একটাই কথা,
“বিয়ে তো দিয়েছ এবার যেতে দাও এই বাড়ি আমার অনেক অসহ্য লাগছে, তোমাদের সহ্য হচ্ছে না। আয়াশের কাছে গেলে আমি মানসিক শান্তি পাব। পালকি তুলতে বলো আমি যাব।”
দরজার কাছ থেকে রোমানা বেগমের স্বর ভেসে আসে,
“বিনা কারণে মাগি বলি না আমি ওই খা*** রে। বিয়ে হয়েছে এখন পর পুরুষের কাছে মানসিক শান্তি খুঁজতে যায়।”
আশার পালকির ভেতর থেকে মুখটা বের করে হুংকার ছেড়ে বলে অন্তিহা, চোখ দিয়ে রাগে আগুনের লেলিহান ছড়াচ্ছে,
“খোদার কসম আমি ওই মুহূর্তে থাকলে এই বিয়ে তোমার মুখ ভেঙে দিতাম। কুহেলিকা শিকদারের একমাত্র মেয়ে আমি। তোমার মৃত্যু কখনো দোয়ার সমষ্টিতে যুক্ত না হোক, আমার দোয়া নোংরা হবে। চারটি জীবন ধ্বংস করে দিয়েছ।”
অন্তিহার কথা যেন গায়ে মাখালো না কিছু একটা বিড়বিড় করে চলে গেলেন ভেতরে, অন্তিক পালকির ভেতরে ঝুঁকে যায়, আশাকে জোর করে পাঁজাকোলে তুলে নেয়। কয়েক পা বাড়ির দিকে আগাতেই আশার ছটফটানিতে অন্তিকের হাত ছুটে পড়ে যেতে নিলে সামনেই ছিল অহীন। ধরে আশা কান্না করেই চলেছে অনবরত অন্তিক ও অহীন দু'জনের হাতের ভাঁজে আটকে আছে। অহীন অন্তিকের থেকে টেনে নিয়ে বলে,
“আশু থাম, আমিও করব না তোর সাথে সংসার, দিয়ে দেব তালাক, বিয়ে করার ইচ্ছে আমারও ছিল না।আমি তো কুমার থাকবো তবুও তোকে না ইয়াক।”
তালাক শব্দটা যত সহজে অহীন বলল ঠিক তার চেয়ে বেশি কঠিন হলো বাকিদের মুখশ্রীর ভাব। অহীনের এতটুকু কথায় হয়তো আশা একটু শান্ত হলো। তাচ্ছিল্য মেকি হেসে মেয়েটি বলে,
“আমি নারী প্রতিবাদের সময় অনেক অসহায় হয়ে পড়ি, আমাদের বাধ্য করা অনেক সহজ অহীন। তুমি তো পুরুষ কেন বিয়ে করলে?”
অহীনের বুকে অনবরত কিল ঘুষি দিচ্ছে আশা, অহীন উঁহ শব্দটি করল না, ভেতরের দিকে যেতে থাকে। এলোমেলো বউ সাজে মেয়েটি এলোমেলো পুরুষটির কোলে চড়ে বুকে নিজের ইচ্ছে মতো আঘাত করছে। মেয়েটির মস্তিষ্কে কি এতটুকু কথা যাচ্ছে না যে অহীন তাকে সহ্য করছে। যেই ছেলে একটা চিমটির বদলে তাকে থাপ্পড় দিত সে তাকে সহ্য করছে। সিঁড়ি দিয়ে উঠে আশাকে কক্ষে নিয়ে নামিয়ে দেয় বিছানায়, অনবরত কান্নার ফলে আশা এই মুহূর্তে নিস্তেজ হয়ে আছে অহীনের দিকে তাকিয়ে আছে কপালে ঘামে লেপ্টে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে অহীন গভীর স্বরে বলে,
“রেস্ট কর এখন, আয়াশের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে চিন্তা করিস না। ওর দাদু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল যার কারণে আসতে পারেনি। সিরিয়াস মোমেন্ট এর জন্য ফোন নেয়নি। সব ঠিক হয়ে যাবে। তোর জন্য এবার ঘোড়ার গাড়ি আনতে বলে দেব স্যানিটাইজারকে।”
আশা অহীনের কলার ধরে নিজের কাছে আনে, অতি করুণ স্বরে জিজ্ঞেস করে অহীনকে ফিসফিসিয়ে,
“অহীন, আয়াশ যখন জিজ্ঞেস করবে পুতুল তুমি অপেক্ষা কেন করলে না, আমি কী বলব?”
“কিছু জিজ্ঞেস করবে না, আমি আগেই বুঝিয়ে দেব আয়াশকে।”
আশা জানে সব মিথ্যা তবুও এই মিথ্যাটুকু মানতে ইচ্ছে করছে খুব করে, ইস কারো মিথ্যা এত সুন্দর গোছালো হয়? মন শান্ত করে দেয়ার মতো যে। অহীনের দিকে অন্তিহা তাকায়, অহীন ফোঁস করে শ্বাস নিয়ে বের হয়ে যায় বাসা থেকে। অন্তিহা গিয়ে আশার পাশে বসে আশার মাথায় হাত রাখে, নরম স্বরে বলে,
“একেবারে বাচ্চার মতো পাগলামি করছিস তুই! বিয়ে করাটা তো মাত্র এক মুহূর্তের ব্যাপার, ‘কবুল’ বললেই কাজ শেষ। কিন্তু এই সম্পর্কটা চুকিয়ে দেওয়া বা তালাক দেওয়া যে কত কঠিন, সেটা বুঝতে হবে। আয়াশ কেন আসছে না তার উত্তর আমার কাছে নেই, কিন্তু আজ যা হলো তোকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিয়েটা এতটা সস্তা না আশু। এই সম্পর্কের দায়বদ্ধতা আর ভার অনেক বেশি।”
অন্তিহা কথাটা বলে আশার দিকে তাকায় মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়েছে, বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। অন্তিহা ওর ললাটে চুমু দেয় আলতো করে শরীরের কাপড় ঠিক করে দিয়ে বের হয়ে আসে আস্তে করে।
চলবে,,,