#দূরত্বের_প্রণয়_২
#স্বর্ণালী_ইসলাম
পর্বঃ১৮
সকালের মৃদু আলোতে ঘুম ভাঙে আশার। রাতে এত দেরি করে ঘুমানোর পরেও সকাল সকাল ঘুমটা হালকা হয়ে এসেছে। চোখ মেলে তাকিয়ে পাশে কাউকে পেল না। বাহির থেকে হালকা শব্দ আসছে। আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে সে। চোখগুলো ফুলে বালিশ হয়ে আছে। কান্না করতে করতে রাতটা পার করল সে। আশা বিছানা থেকে নেমে সোজা ওয়াশরুমে যায়। এখানে সব সময় থাকা হয় তাই এতটা তোড়জোড় নেই তার। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দরজার সামনে এসে দাঁড়াতেই একটু অবাক হলো। জেসি হাসির সাথে কুহুর হাতে হাত দিয়ে কাজ করছে। ধীর পায়ে এগিয়ে যেতেই লক্ষ করে টেবিলে অন্তিক বসে আছে। ম্যাট্রেসে উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে অহীন। মাংসের দুর্দান্ত গন্ধে আশার পেট গুরগুর করে শব্দ করে উঠল। আশা কাছে আসতেই অন্তিক হাসি দিয়ে বলল,
“এত তাড়াতাড়ি উঠে পড়লি? নাস্তা কর এসে।”
আশা অন্তিকের পাশে চুপ করে বসতেই, জেসি ওর সামনে একটা প্লেটে করে নাস্তা রাখে। জেসির মুখের দিকে তাকিয়ে আবার অহীনের দিকে তাকায় সে। কী পরিমাণে বেয়াদব হলে একটা মেয়ের সামনে এমন করে শুয়ে থাকা যায় জানা নেই তার। উন্মুক্ত শরীর, শর্টপ্যান্ট হাঁটু অবধি। উপুড় হয়ে ষাঁড়ের মতো ঘুমাচ্ছে। বিড়বিড় করে বলল,
“ষাঁড় একটা।”
বসা থেকে উঠে অহীনের সামনে যায়। ড্রয়িং রুমের ছোট্ট ক্যাবিনেট থেকে একটা পাতলা কাঁথা বের করে মেলে দেয় অহীনের গায়ে। সামান্য উষ্ণতা হয়তো অহীনের ভালো লাগল। কাঁথা টেনে আর একটু আরাম করে ঘুমায় সে। আশার কাজে অন্তিক মুচকি হেসে জেসির দিকে তাকায়, সে-ও মৃদু হাসি দিয়ে আছে। আশা আবার খাবারের টেবিলে এসে বসে অন্তিকের পাশে। কুহু খাবার নিয়ে এসে অন্তিককে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তুমি রুমে গিয়ে ঘুমাও এবার অন্তিক। সারারাত ঘুমাওনি তো।”
অন্তিক কুহুর দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেসে উত্তর করে,
“বালিশ ছাড়া ঘুম আসবে না আমার।”
জেসি গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“কেন আঙ্কেল, বালিশ নেই?”
অন্তিক কুহুর দিকে তাকায়। ঠোঁট কামড়ে ক্ষীণ হেসে বলল,
“শক্ত বালিশ ওগুলো, ঘুম আসে না। আমার তো নরম জিনিস চাই। যেমন...”
বলার আগেই পেছন থেকে অহীনের ভারী ঘুমু স্বর ভেসে আসে,
“বয়স হয়েছে লুচ্চামি কমাও আব্বু। দুটো মেয়ে এখানে, তাদের নষ্ট করে দিচ্ছ। ছেহ্! আজ বউ নেই বলে, নষ্ট কাজ করার বয়সে বাবার নষ্ট কথা শুনতে হয়।”
ওদের দু'জনের কথায় কুহু ও আশার মুখ থেকে অজান্তেই একই সাথে বেরিয়ে আসে,
“কুত্তা।”
অতঃপর অন্তিক কুহু ও আশার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকায়। আশা তো চুপ হয়ে গেল, তবে অহীনের দিকে তাকিয়ে মুখের বারোটা বাজিয়ে রেখেছে। কিন্তু কুহু? অন্তিকের দিকে তাকিয়ে রাগী স্বরে বিড়বিড় করে বলে ওঠে,
“জাওরা।”
অন্তিক গলা খাঁকারি দিয়ে ধীরে করে উঠে পড়ে নিজের জায়গা থেকে। অহীন বড় করে হাই তুলে কাঁথা গায়ের ওপর থেকে সরিয়ে দেয়। উন্মুক্ত শরীর এবার পুরো। জেসি চলে গেল সামনে থেকে কিছু একটা ভেবে। আশার সামনে এসে পাশেই টেবিলে ধপ করে বসে অহীন। আশার সামনে থেকে পানি নিয়ে ঢকঢক করে খেয়ে আবারও দুই হাতে মাথা রেখে টেবিলের ওপর শুয়ে পড়ে। আশা ওর দিকে নিচু হয়ে প্রশ্ন করে একটু বিনয়ী আচরণের সাথে,
“অহীন নিয়ে যাবে আজ?”
অহীন ওর দিকে একটি চোখ মেলে তাকায়। আয়াশের কাছে যাওয়ার কথা বলছে। বলাটা জায়েজ, ওরও জানতে ইচ্ছে হচ্ছে কেন আসল না আয়াশ! কিন্তু এক্সিডেন্টের কথায় যে মেয়েটা কষ্ট পাবে। অহীন একটু সোজা হয়ে বলল,
“এখন না, আব্বু এসেছে, ছোট বাবার সাথে কথা বলুক তারপর।”
“কিন্তু?”
“সব কিছু ঠিক হলে ওকে তুই বোঝাতে পারবি, আর বাকিটা আমি সামলে নেব। যতই হোক ভার্জিন থাকব তবুও তোকে নিয়ে ঘর করব না।”
আশা গাল টিপে একটা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গি করে খাবার টেবিল থেকে উঠে কুহুর দিকে এগোয়। কুহুর দিকে যাওয়ার সময় পেছন থেকে অহীন ওর দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে আছে। সকালটা আজ কেন যেন বড্ড অচেনা ঠেকছে। ছোটবেলায় ও দেখত অন্তিক খাওয়ার পর কুহু যখন শাড়ির আঁচল দুলিয়ে প্লেট নিয়ে রান্নাঘরে যেত, অন্তিকও ঠিক ওর পিছু পিছু যেত।
অহীনের একটু ভাবনা হয়, ওরও কি যাওয়া উচিত? অতঃপর আবার ভাবে কেন যাব? হাজার হলেও ভার্জিন থাকব তবুও ঝগড়াটে পেঁচিটাকে ছোঁব না। মনে মনে মুখভঙ্গি করে আশা যে রুটিটা অর্ধেক ফেলে রেখে গেছে, সেখান থেকেই এক টুকরো ছিঁড়ে মাংসের ঝোলে ডুবিয়ে মুখে পুরে নেয় সে।
ঠিক তখনই কিচেন থেকে আশার তীক্ষ্ণ চিৎকার ভেসে আসে,
“ছিহ্ খাটাশ! আগে ব্রাশ করে আসো, তারপর অন্যের এঁটো খাও।”
অহীন ওর কথায় গুরুত্ব দিল না। আবারও রুটি নিতে গেলে রান্নাঘর থেকে তরতরিয়ে বেরিয়ে আসে আশা। অহীনের সামনে থেকে প্লেট ছোঁ মেরে নিয়ে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলে,
“আমার সাথে যতদিন আছ এসব করবে না। মুখ ধুয়ে খাবে। এগুলো দেখলে বমি আসে।”
অহীন উঠে আশার হাতের প্লেট থেকেই মাংসের ঝোলে রুটি ডুবিয়ে মুখে দেওয়ার আগে দুষ্টু হেসে বলে ওঠে,
“বিয়ে করলাম কাল, আজকেই প্রেগন্যান্ট? আশা করিনি পেঁচি, সমস্যা নেই মেনে নিলাম এই সন্তান।”
মুখে রুটিটা পুরে তড়িঘড়ি করে কুহুর কক্ষের দিকে যায়। আশা প্লেট রেখে চেঁচিয়ে ওঠে,
“কুত্তা! তোর চরিত্র খারাপ, সবার সামনে অর্ধ নেংটু হয়ে থাকিস। আমার চরিত্র অনেক ভালো।”
“হুম জানি জানি, সেদিন ট্যাংকির পেছনে থেকে দেখেছি, পারলে তো তোরা ওখানে টি-টোয়েন্টি শুরু করতি।”
“কুত্তা থাপ্পড় খাবি।”
অহীনের কথা আর আসল না ভেতর থেকে। হয়তো ওয়াশরুমের ভেতরে চলে গিয়েছে। আশা নাক দিয়ে গরম ধোঁয়া বের করে কুহুর কাছে যায় একটু সাহায্য করার উদ্দেশ্যে। হাতের প্লেটগুলো বেসিনে রেখে হাত লাগাতেই যাবে অমনি ওর হাত ধরে নেয় কুহুর নরম হাত। আশা ওর দিকে তাকাতেই কুহু বলল,
“এগুলো করার জন্য কাজের লোক আছে, তোর করতে হবে না।”
আশা মাথা দুলিয়ে হাত ধুয়ে বলল,
“তাহলে বলো আমি কী করে দেব? করে দিচ্ছি।”
“ফর্মাল হতে হবে না আশু, তুই এখনো আমার মেয়েই।”
“ফর্মাল হচ্ছি না ফুম্মি, ভালো লাগছে না তাই হয়তো কাজ করলে মনটা ভুলো হবে।”
কুহু দীর্ঘ এক হতাশার ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। আশাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। মেয়েটা একটি দিনেই কেমন নরম হয়ে আছে। সে শ্বাস নিয়ে বলল,
“তোমার আম্মু আব্বুর সাথে আমরা কথা বলেছি। জানি তোমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল, তবে আমরা পরামর্শ তো দিতেই পারি, তাই না?”
আশা শীতল হেসে কুহুর হাত শক্ত করে ধরে বলল,
“হুম, তোমরা খারাপ তো আর চাইবে না, তাই নয় কি?”
কুহু আশার চুলগুলো দুই দিক দিয়ে ঠিক করতে করতে খুবই নরম স্বরে বোঝানোর জন্য বলল,
“আশু, বিয়ে জিনিসটা সহজ নয়। কবুল বলা সহজ কিন্তু তালাক বলা কঠিন খুব। ভুল হয়ে গেলে মাশুল আজীবন দিতে হবে।”
আশা নিশ্চুপ থেকে শুনছে। শুধু কুহু ফের বলে,
“আমাদের ধর্ম আছে, সমাজ আছে, সব মেনে চলতে হয়। তবে তোমাদের ওপর কোনোটিই চাপাব না কখনো। বিয়ে রেজিস্ট্রেশনে সাইন করার পর তিন মাস সময় প্রয়োজন হয় আবার ডিভোর্সের অ্যাপ্রুভাল পেতে। এখন বলতে পারো ধর্মীয়ভাবে আলাদা হয়ে গেলেই হলো তাই না?”
“হুম, অহীন বললেই হয়।”
“বিচ্ছেদটা এত সহজ করে দিও না একটা পুরুষের জন্য। এবার সহজ করে দিলে তোমার পরে কেউ যখন আসবে তার বেলায়ও সহজ মনে হবে অহীনের কাছে।”
আশা কুহুর হাতগুলো শক্ত করে ধরে। চোখ জোড়া কেমন ব্যাকুল হয়ে আছে। ঠোঁটগুলো ফাঁক করে ওষ্ঠ ভিজিয়ে বলল,
“কিছু করার নেই ফুম্মি! এটা ভুল ছিল আমাদের। এই সম্পর্কটা শুধু বিচ্ছেদের জন্যই!”
কুহু আশা থেকে নিজ হাত ছাড়িয়ে আশার গালে হাত দিয়ে বলল,
“ডিভোর্স অ্যাপ্রুভ হতে তিন মাস সময় প্রয়োজন। তোমাদের ফ্লাইট কয়েক দিন পর। ফ্রান্স গেলে ৬ মাস পর আসতে পারবে আবার। ততদিন একটু নিজেরা চেষ্টা করে দেখ। আমি কথা দিচ্ছি তুমি এসে একবার যদি আমার সামনে দাঁড়িয়ে বিচ্ছেদ চাও বা ফের আয়াশকে চাও, আমি নিজে তোমাকে তোমার চাওয়াগুলো দেব।”
“ঠকানো হবে ফুম্মি মানুষগুলোকে। আয়াশ অহীন দুজনের মাঝে পিষে যাব আমি। আয়াশ নিতে পারবে না অহীনের পাশে আমাকে। সে জেসির মতো না। জেসির অহীন ছাড়াও সব আছে, আয়াশের তো কেউ নেই।”
“এক্সাক্টলি এটাই বলছি। তোমার হাজব্যান্ড আছে এখন। জানি মানো না, কিন্তু কোর্ট আর ধর্ম তো এটা বলে না। তিন মাস অপেক্ষা করতে হবেই তোমার। তুমি অহীনের দিকে তাকাও, আয়াশ এখন তোমার জন্য কেউ নয়। তিন মাসে আয়াশকে নিশ্চয়ই আরও আশাবাদী করে ভেঙে দেওয়ার ইচ্ছে নেই তোমার।”
আশা কুহুর চোখের দিকে তাকায়। কী শান্ত এই মানুষটা! তার কথায় গলাটা কেমন শুকিয়ে চৌচির। আশা বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। আশা নরম কাতর স্বরে বলল,
“মানিয়ে নিতে বলছ কারণ আমি মেয়ে?”
শীতল হাসে কুহু,
“মানিয়ে নিতে বলছি না, ভালোবাসার চেষ্টা করতে বলছি, যেটা দুপক্ষের জন্য প্রয়োজন। ভালোবাসতে না পারলে ৬ মাস পর বিচ্ছেদ করে নিও। আই এম অলওয়েজ উইথ ইউ।”
আশাকে হালকা হাতে জড়িয়ে ধরে ললাটে চুমু এঁকে বুকে টেনে নিয়ে আসে কুহু। আশার চোখ লাল হয়ে আছে হয়তো কেঁদে দেবে এখনই। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কুহু বলল,
“একজনের বউ হয়ে অন্য জনকে আর অপেক্ষা করিও না। আয়াশেরও জীবন আছে, হয়তো তোমার বিয়ের কথায় ভাঙবে আবার মুভ অন করতে পারে। ওর সমস্যা অনুযায়ী একটা পার্টনার খুব প্রয়োজন।”
\__<<<<
নিজে নিজে হালকা চলাফেরা করতে পারে আয়াশ এখন। লিজা তিতাস যদিও সাহায্য করতে চায়, তবে স্বভাবটা যে বড্ড খারাপ। কারো ছোঁয়া নিতে পারে না শরীরে। আশা হলে হয়তো কো-অপারেট করত, কিন্তু আশাতো একটিবার তার জন্য কলও করল না। এতে বিন্দুমাত্র রাগ বা অভিমান হচ্ছে বলে মনে হয় না আয়াশের। বরং আশা অভিমান করে আছে ভেবে দিব্যি ভালো আছে। হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ পাবে এই কিছু সময় পর। লিজা সামনেই বসে আছে। নিজের সমস্ত কিছু নিজেই গোছানোর কাজ করছে আস্তেধীরে। লিজা মুখটা মলিন, ঘাবড়ে আছে। কেননা আয়াশের হসপিটাল থেকে প্রথম গন্তব্য আশা। লিজা কাতর হয়ে বলে,
“আয়াশ, তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আশুর সাথে দেখা করলে হয় না? ডক্টর বলেছে প্রেশার কম নিতে।”
“পুতুলের কাছে গেলে প্রেশার বাড়ে না আম্মু, ওকে দেখলেও শান্তি পাই।”
“আশু কে খুব ভালোবাসতে তাই না?”
“এখনো বাসি।”
“আশুর বিয়ে হয়ে গিয়েছে অহীনের সাথে।”
আয়াশের হাত একটু থামে। অতঃপর ঠোঁটটা একটু কাঁপল বোধহয় তার। লিজার দিকে তাকিয়ে আর এই বিষয় জানতে চাইল না। হয়তো আশা ছাড়া কাউকে ভরসা করা কঠিন। নিজেকে নিজেই একা সামলে নিয়ে বের হয় হাসপাতাল থেকে। তাদের সাথে সে যাবে না। কারো গাড়িতেও ওঠে না সে। চোখে একটু অনুশোচনা তবে আশার সাথে কথা বললে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।
-;;;----
গাড়িটি চলছে শিকদার বাড়ির দিকে। চোখ রাস্তার দিকে তার। লিজার মুখ থেকে শোনা শেষ কথাটা মস্তিষ্ক খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে। আচানক চোখ যায় রাস্তায় একটি লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তিহার দিকে। সাথে একটি মেয়ে। গাড়িটা সাইড করে ভেতর থেকেই শব্দ করে ডাকে সে,
“অন্তু!”
প্রথম ডাকেই কর্ণ কণ্ঠটা ধারণ করে। অন্তু পাশ ফিরে তাকাতেই কিঞ্চিৎ বিব্রত হয়ে তাকায়। একটু সন্তুষ্টির হাসি দিয়ে আয়াশের কাছে আসে। সাথে আছে জেসি। নীল রঙের শাড়ি পরে আছে জেসি, কানে লম্বা লম্বা দুল। আয়াশ তাকিয়েও তাকালো না। অন্তু হাসির রেখা টেনে বলল,
“এখন সুস্থ আছেন?”
“পুতুল আসেনি তোমার সাথে?”
“আসলে সেদিনের পর থেকে আম্মু বের হতে দেয় না তেমন আশাকে। আপনার এক্সিডেন্টের কথা এখনো জানে না।”
“ওকে। সে তোমাদের বাসায়?”
“হুম, ওখানেই তো থাকার কথা।”
আয়াশ মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,
“হুম, আমি তবে তোমাদের বাসায়ই যাচ্ছি! তোমরাও এসো কেমন?”
“হুম!”
আয়াশের গাড়িটা চলে যেতেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচে অন্তিহা। জেসি অবাক চোখে তাকিয়ে আছে, অতঃপর বেশ বিরক্তির সাথে বলল,
“সে বাড়িতে যাচ্ছে, আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য অফার করতে পারত! কী অদ্ভুত ম্যানারলেস।”
“সে খুব ভালো জেসি। তার গাড়িতে বিশেষ কারণ যেমন আশা ছাড়া কাউকে তোলে না। তখনই চাইলে কেউ উঠতে পারে। কারণ সে ওসিডিতে (OCD) আক্রান্ত।”
জেসি চুপচাপ শুনল কথাটা। অন্তিহা দোকানে গিয়ে টাকা দিয়ে তড়িঘড়ি করে বলতে বলতে রিকশায় চড়ে বসে,
“বাসায় চলো জেসি, অনেক সমস্যা হবে। ভাইয়া আর আশা বাসায় একা।”
চলবে...