#দূরত্বের_প্রণয়_২
#স্বর্ণালী_ইসলাম
পর্বঃ২৩
রাত গভীর। তাশাকে নিয়ে বাইকটা এসে থামে ঠিক বাড়ির সামনে। রোমানা বেগম বাড়িতে নেই অন্তিহা আর তাইয়ান একাই হয়তো আছে। কলিং বেলটা বাজাতেই সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে যায়। অন্তিহা হাসিমুখে তাদের ভেতরে নিয়ে আসে। ড্রয়িং রুমে তাইয়ান বসে খাবার খাচ্ছে আপন মনে। সিঁড়ি দিয়ে ধীর পায়ে নেমে আসছে জেসি, গায়ে ঢোলা একটা পাতলা জামা। আকাশ ও তাশাকে দেখে নতমস্তকেই নেমে আসছে সে। তাশা ওকে দেখে একটুও বিচলিত হলো না বরং একগাল হেসে স্বভাবসুলভ নরম স্বরে বলল,
“জেসিকা, কখন এলে?”
জেসি মাথা দুলিয়ে অন্তিহার আড়ালে গিয়ে হালকা হেসে বলল,
“একটু আগে আন্টি, তাইয়ের সাথে।”
তাশা তাইয়ানের দিকে তাকায়। সে খাবারের লোকমা তুলে মুখে। বলল,
“অহীন বলল কিছু চেনে না, নিয়ে যা। এত রাতে কই যাবে, তাই এনেছি।”
আকাশ তাইয়ানের দিকে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে ধমক দেয়,
“এমন করে বলতে হয় না। জেসি, খাবার খেয়েছ?”
অন্তিহা তাকে নিয়ে টেবিলে বসিয়ে দেয়। খাবার প্লেটে দিয়ে নরম স্বরে বলল,
“এই মেয়ে কান্না করে ফুরায় না, খাবে কখন। তোমরা গিয়ে শুয়ে পড়ো, আমি ওদের খাইয়ে গিয়ে শুয়ে পড়ব।”
“জেসির কী প্রয়োজন হয় খেয়াল রাখবে, বুঝলে? ওকে নিয়ে আজ নাহয় আশুর রুমে থাকো, এসি আছে।”
তাইয়ান মাঝ দিয়ে বলে ওঠে ফোঁস করে,
“এটা ঠিক, ওর মেজাজ সব সময় ৮০° তে টগবগ করে। এসিতে থাকলে যদি নিয়ন্ত্রণ হয়।”
জেসি দাঁত পিষে বলে নিচু স্বরে হিসহিস করে,
“শাট ইউর মাউথ ড্যাম এড, আমি আপনার বড়। ওর কেমন কথা? বাঙালিরা তো সম্মান করে, তবে আপনার এই রূপ কেন?”
তাইয়ান জেসির দিকে তাকিয়ে হিসহিস করে বলল,
“তুমি একটা লিলি পুটের মতো দেখতে, তোমাকে কি আমি আপু বলব? আশু, অহীন, অন্তু সবাই আমার বড়, তাদের 'তুই' বলি। সেই সুবাদে তোমাকে কতটা সম্মান দিয়েছি ভাবো একবার?”
আকাশ ধমকে ওঠে,
“আহ তাইয়ান, সে মেহমান। আর সবাই সব রকম ব্যবহার নিতে পারে না। যে যেমন পছন্দ করে তার সাথে তেমন থাকতে হয়।”
তাইয়ান আর উত্তর করল না। চুপচাপ খাবারে মন দেয়। এই লিলিপুট মেয়ে বয়সে বড়, তাতে কী? দেখতে তো অন্তুর ছোট মনে হয়, সাথে তাইয়ানের নিজেরও ছোট লাগে মেয়েটাকে। আকাশ চলে যেতেই অন্তিহা এবার রাশভারী গলায় বলল,
“জেসি, কষ্ট পেয়ো না, ও পাগল একটা।”
জেসি ক্ষীণ স্বরে মেকি হেসে বলল,
“রাইট, তোমাদের ফ্যামিলির সব ছেলেরাই বোধহয় পাগল, যারা মেয়েদের ইমোশন হার্ট করা ছাড়া কিছু বোঝে না।”
জেসি খাবার সম্পূর্ণ না খেয়েই উঠে যায় টেবিল থেকে। তাইয়ানের দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে রুক্ষ স্বরে অন্তিহা কিছু বলতে উদ্যত হতেই তার ফোনটা সজোরে বেজে ওঠে। গভীর রাত হওয়াতে ফোনের রিংটোনের শব্দটা প্রতিটি দেওয়ালে মুহূর্তেই গর্জনের মতো শোনায়। তড়িঘড়ি করে ফোনটা রিসিভ করে কানে তুলে নেয় সে। ওপাশ থেকে পরিচিত ক্লান্ত স্বর ভেসে আসে,,
“পুতুল কোথায় অন্তু?”
আয়াশের অসুস্থ ভাঙা স্বরটা এত রাতে পেয়ে স্বল্প ভড়কায় অন্তিহা। লোকটা এখনো ঘুমায়নি? মুঠোফোনটা সামনে এনে দেখে রাত ২টারও বেশি সময় কেটেছে। ফোঁস করে শ্বাস নিয়ে কানে ফোনটা তুলে বলল,
“এত রাতে? আপনি ঘুমাননি আয়াশ?”
“পুতুলকে কল দিচ্ছি সেই কখন থেকে, রিসিভ করছে না। আমার সাথে কথা বলিয়ে দাও প্লিজ।”
“আশু হয়তো ঘুমিয়ে আছে, আর আমি তো ওর সাথে নেই।”
আয়াশ করুণ মুখে শুষ্ক একটা ঢোক গিলে। লিজা পাশেই বসে আছে, হালকা আলোটা জ্বলছে কেবিনের। চারপাশ কেমন পিনপতন নিস্তব্ধতায় ছেয়ে আছে। সে ফের বলল,
“তুমি একটু ওর কাছে গিয়ে ফোনটা দাও। ঘুম আসছে না আমার।”
অন্তিহা ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস নেয়। তাইয়ানের দিকে তাকায়, জিব দিয়ে দাঁতের সামনের দিকে হালকা ঠেলে বলল,
“আসলে আমি ছোট বাবার বাড়িতে আছি। আমাদের বাসায় তো জানেন থাকার সমস্যা! আশা আমাদের বাড়িতে আছে, ওর কাছে তো এত রাতে যাওয়া পসিবল না।”
“তাহলে বাড়িতে কাউকে কল দিয়ে বলো কথা বলার জন্য?”
আয়াশের দিকটা বুঝতে বড্ড কঠিন লাগছে না অন্তিহার। এতগুলো বছর নিজের মেনে আসা নারীটা হঠাৎ চোখ মেলে দেখে সে তার আর নেই। সত্যি ভয়ানক অনুভব বাস্তবতা। কেন যেন চোখের কার্নিশ ভিজে আসছে। তাইয়ানের সামনে থেকে দূরে একটি কোণায় গিয়ে দাঁড়ায় সে। অতঃপর বলল,
“দেখুন আয়াশ, কাকে কল দেব এত রাতে? হয়তো আশা ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমিয়েছে। পুরো দিন কান্না করেছে আপনার জন্য। আর...”
কথাটা পূর্ণ করার আগেই আয়াশ বলে ব্যাকুল স্বরে—
“তাই তো একটু কল দিতে চাই। যাওয়ার সময় বলেছিলাম তাকে রুক্ষ কথা, হয়তো সহ্য করতে পারবে না, কান্না করছে। অভিমানটা ভাঙাতে চাই, প্লিজ।”
“আয়াশ...”
“আগে তো এমন করতে না তুমি। কোনো সমস্যা হলেই সলভ করে দিতে। রাত ৩-৪টায় কল দিলেও তুমি কানেক্ট করে দিতে আমাদের। কেন এমন করছ আজ?”
আয়াশের এতটা কাতর আবেদন এবার আর ফেরাল না অন্তিহা। সে অকপটভাবেই বলল,
“আমি ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করছি, হোল্ড করুন।”
“কানেক্টেড কল দাও তবে, আর আলাদা করে তোমার আমাকে বলতে হবে না।”
অন্তিহা তার কথামতো তাই তো করল। অহীনের নাম্বারে কল দেয়। রিং হচ্ছে, তবে ওপাশ থেকে উত্তর আসছে না কোনো।
____
ড্রিম লাইটের স্বল্প আলোতে পুরোটা কক্ষ এক অদ্ভুত মাধুর্য ছড়াচ্ছে। বিছানার একটি কোণায় সম্পূর্ণ জড়োসড়ো হয়ে ঘুমাচ্ছে আশা। পেছনে অহীনের বালিশটা ফাঁকা। পাশেই তার ফোনটা জ্বলজ্বল করছে, স্ক্রিনে ভেসে আছে 'অন্তিহা' নামটা। রিসিভ করার কেউ নেই। বিছানার পাশ থেকে স্বল্প গোঙানি শব্দ ভাসছে পুরো কক্ষে। ক্রন্দনের এই গভীর স্বর, জায়নামাজ বিছিয়ে মোনাজাত নিয়ে আছে অহীন। চোখগুলো ভেজা, গুঙিয়ে কান্না করছে সে। মোনাজাতের শেষ দোয়ার সাথে মেশানো শুকরিয়া করছে সে খোদার,
"মাবুদ, দুনিয়ার সব সমীকরণ তাকে অন্য কারও করার পর, আমার এক চিলতে জায়নামাজে মোনাজাত তাকে আমার আঙিনায় এনে থামালে তুমি। শুকরিয়া ইয়া রব, আমার সারাজীবনের দীর্ঘশ্বাসটাকে আজ আমার ঘরের বরকত বানিয়ে দেওয়ার জন্য। তোমার আমানতের খেয়ানত ইহকালে আমি করব না।”
মোনাজাত শেষ করে ধীরে উঠে আসে সে। জায়নামাজ সুন্দর করে ভাঁজ করে নাক টেনে কাবাডের ভেতর রাখে। আশার নিষ্পাপ শিশুর মতো ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে এক চিলতে হেসে এগোতে নিলেই পেছনে জ্বলজ্বল করতে থাকা ফোনটা চোখে পড়ে। পরনের টি-শার্টটা উপরের দিকে টেনে খুলতে খুলতে সেই দিকটায় এগিয়ে যায়। অন্তিহার নাম্বার দেখে বিচলিত হলো একটু। অন্তিহা তাকে সচরাচর কল দেয় না। আজ কল দিল, তাও এত রাতে? একটি হাতে চোখের কার্নিশ মুছে কলটা রিসিভ করে সে। এবার লক্ষ করে আয়াশের নাম্বারটা,,
“এত রাতে কল দেওয়ার মানে কী অন্তু?”
অন্তিহা একটু লজ্জা ও ইতস্তত বোধের সাথে জিজ্ঞেস করে,
“আশা কোথায়? ওকে একটু ডেকে ফোনটা দিন।”
“ও ঘুমাচ্ছে। কমনসেন্স নেই তোদের? আমরা নিউলি ম্যারিড কাপল, কত ধকল যায় শরীরের ওপর দিয়ে। রাখ ফোন বেয়াদব।”
তারপরেও কি লজ্জা রেখে কিছু বলার মতো থাকে অন্তিহার? তবুও আয়াশের জন্য একটু কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ও আপনার সাথে?”
আরও একটু বিরক্ত হয় অহীন, কপালে কয়েকটা ভাঁজ পড়ে। ক্রুর আচ্ছন্ন গলায় বলল,
“কার সাথে আশা করছিস তুই? আমার সাথেই তো হবে, এটা স্বাভাবিক নয় কি? বউ আমার।”
“আচ্ছা রাখি তবে।”
“হুম।”
কলটা কেটে দেয় অহীন। ছুড়ে ফেলে একটি কোণায় সোফার ওপর। আশার এলোমেলো চুলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে কিছু সময়। অতঃপর কথা না বলেই ওয়াশরুমের ভেতর প্রবেশ করে।
__
আয়াশের ওপাশ থেকে কোনো রকম প্রত্যুত্তর না পেয়ে অন্তিহা নিজেই বলল,
“আমার ফ্যামিলি অন্য রকম। আমার ভাইয়াকে তো চেনেন সবার আদরের। ছোট বাবা খুব বিশ্বাস করে তাকে। বিয়ে হয়েছে, তিনি মনে করেন অহীন আশুর জন্য পারফেক্ট।”
ওপাশ থেকে তাচ্ছিল্য করে আয়াশ,
“আমি পুতুলের জন্য ঠিক না? এতদিন তো আমি পারফেক্ট ছিলাম। ওনাদের রাইট নেই যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আশুকে অহীনের রুমে পাঠিয়ে দেবে!”
অন্তিহা একটু নরম ও রুক্ষতা মিশ্রিত করে বলল,
“কোনো জোর করা হয়নি, ওর ওপর চাপ দেওয়ার সাহস কারো নেই যতক্ষণ আমার আম্মু আছে। নিশ্চয়ই ওর কোথাও না কোথাও মত আছে, তাই আশা ভাইয়ার সাথে আছে।”
নীরবতা ছেয়ে আছে পুরো কেবিনে। লিজা চেয়ারে বসে ঘুমাচ্ছে। আয়াশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে ব্যথাতুর গলায় বলল,
“পুরো দিন কান্নাকাটি করেছে হয়তো, তাই ঘুমাচ্ছে। সকালে কথা বলব। আমাকে কল দিতে বলে দিও, কেমন?”
অন্তিহা মৃদুস্বরে মেকি হেসে বলে ওঠে,
“আশুর বিয়ে হয়ে গেছে, আপনি কেন নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন? হতে পারে আপনার আশপাশের কেউ খুব কষ্ট পাচ্ছে আপনার জন্য। ছেড়ে দিন আশুকে। আপনাকেও কেউ না কেউ ঠিকই সামলে নেবে।”
কিছুটা সময় দুজনেই নীরব থাকে। ফোনের এপার-ওপারের শীতল বাতাস ছুঁয়ে যাচ্ছে কানকে। একে অপরের ভারী নিঃশ্বাস উপলব্ধি করার মতো প্রতিটি জিনিস চুপসে গিয়েছে। আয়াশ অত্যন্ত গভীর ব্যাকুল স্বরে বলল,
“আশু আমার খুব শখের একটি পুতুল। এই একটি শখ ছাড়া আমার আর কোনো চাওয়া নেই। তাকে ভুলে যাওয়া বা ছেড়ে দেওয়া মানে তো নিজের নফসের ওপর জুলুম করা। পারব না এত বড় জুলুম আমি করতে।”
“আপনার নফসের ধোঁকা এটা, নফস আপনাকে নিষিদ্ধ চাহিদার দিকে প্রলুব্ধ করছে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। নয়তো যতটুকু নিজের মধ্যে আছেন সেটাও ধ্বংস হবে।”
“তাহলে হয়ে যাব ধ্বংস, তবুও আমার নিজের একটা মাত্র শখ নিজের কাছে আনতে চাই। ততদিন, যতদিন না আশা নিজে আমাকে বলছে সে অহীনকে চায়। আর আমি জানি সে বলবে না এটা কখনো।”
অন্তিহা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কারণ সে জানে সত্যি আশা বলবে না কখনো। কেমন করে বলবে? বুঝতে শেখার পর থেকে আয়াশকে ভালোবাসে সে। প্রতিটি প্রহর গুনেছে আয়াশের জন্য। পরিবার ও অহীনের কথা ভেবে হয়তো আশা মানিয়ে নেবে, কিন্তু মন? মন কি মানবে কখনো? অন্তিহার আজ নিজেকে বড্ড দোষী মনে হচ্ছে। সেই তো আশাকে বিয়ের জন্য থামিয়ে রেখেছিল এতগুলো দিন। নয়তো আরও ৩-৪ বছর আগেই বিয়ে হয়ে যেত আয়াশ ও আশার।
___
ওয়াশরুম থেকে ভেজা পায়ে বের হয়ে আসে অহীন। হাতে তোয়ালেটা দিয়ে হাত মুছতে মুছতে চোখ যায় আশার দিকে। বরাবরের মতোই গোছালো আশা। আয়াশের মনের মতো হওয়ার জন্য অনেক করে গোছালো জীবন বেছে নিয়েছে। পরনের জামাটাও একটু নড়ল না, শুধু ভেজা চুলগুলো ছড়ানো। অহীন ধীর পায়ে এগিয়ে যায় আশার দিকে। পেছনে গিয়ে আস্তে করে বালিশে মাথা ঠেকিয়ে শোয়। বুকটা কেমন ক্রমাগত বিশ্বাসঘাতকের মতো লাফাচ্ছে। ইচ্ছে করছে এই কলিজাটাকে শাস্তি দিতে; মেয়ে দেখলেই কেন এত দ্রুত চলতে হবে তার? নাকি আজ শুধু আশাকে দেখে এমন করছে? বুকে হাত দিয়ে আশার ওপর ঝুঁকে যায় আস্তে করে। ঘুমন্ত মুখটায় দুটো চুল পড়ে আছে। আস্তে করে সেগুলো সরিয়ে দিতে দিতে অধিকার স্থাপন করে ওষ্ঠ দ্বারা আশার ললাটে। একটু নুইয়ে গলার কাছে এসে হিসহিস করে বলল,
"যখন তোর ওপর আমার কোনো অধিকার ছিল না, তখন আমি কাউকে তোকে ছুঁতে দিইনি। আর আজ তো তোর ওপর আমার ষোলোআনা অধিকার! যতদিন এই অধিকার থাকবে, ততদিন তুই শুধুই আমার। অহীন শিকদারের 'পেঁচি'।"
কথাটা বলে আবারও চুম্বন আঁকে কানের নরম লতিতে। ভয় হচ্ছে না আশার জেগে ওঠার। আশার ঘুমন্ত শ্বাসের সাথে বুকটা ওঠানামা করছে। একটু নড়ে উঠতেই অহীন ধপ করে তার ওপর থেকে সরে বসে বিছানায়। একটু তাকিয়ে দেখে এলোমেলো চুলগুলো সযত্নে এবার নিজের মাথার নিচে টেনে নিয়েছে। এতটা গোছালো আশা আগে আন্দাজও করতে পারেনি অহীন। ঘুমের মাঝেও এলোমেলো হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু অহীনের নিষিদ্ধ মন যে চায় আশা এলোমেলো হোক। চুলগুলো আছড়ে পড়ুক তার মুখের ওপর বারবার। লম্বা চুলের ঘ্রাণে ঘুম নষ্ট হয়ে যাক, ওই চুল থেকে আশা বেলিফুলের সুবাস গুলো নিজের মধ্যে সংগ্রহ করতে। আশার মুখের ওপর এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে দিতে চায়, ঠিক যেমনটা ফ্রান্সের সৃজন জেইনকে যত্ন করে, কাজের সময় গিয়ে এলোমেলো হলেই গুছিয়ে দেয়। অহীন একটা পাতলা কাঁথা টেনে নিজেদের গায়ে জড়িয়ে নেয়। আশার মুখের একদম নিকটে যায় দুজন এবার নিজেদের নিঃশ্বাস স্পর্শ করছে। অহীন একটি হাতে আশার গাল ছুঁয়ে দেয়, হিসহিস করে গাইল,
Yuhin Baras Baras Kaali Ghata Barse…
Hum Yaar Bheeg Jaayen…
Is Chaahat Ki Baarish Mein…
Teri Khuli Khuli Lato Ko Suljaayun…
Main Apni Ungliyon Se…
Main To Hoon Isi Khwaayish Mein…
Sardi Ki Raaton Mein…
Hum Soye Rahe Ek Chaadar Mein…
Hum Dono Tanha Ho…
Na Koi Bhi Rahe Is Ghar Mein…
গান শেষ করতেই আশা একটি হাত অহীনের বাহুর ওপর দিয়ে পৃষ্ঠদেশ ছুঁয়ে দেয়। ঘুমু কন্ঠে বলে ওঠে,
“কত ভালো সুর আপনার।”
অহীন অবাক হলো, তবে হাসল একটু। আশা নিজ থেকে ছুঁয়েছে। উৎসুক হয়ে আশার কোমরে ধরে নিজের দিকে টেনে আনে আরও। সম্পূর্ণ মিশিয়ে শরীরের সাথে মায়াবী কন্ঠে বলল,
“আরও শুনবি? পুরো রাত গাইব?”
আশা এগিয়ে যায় অহীনের বুকের দিকে। উন্মুক্ত বুকে আলতো করে মুখ লুকিয়ে নেয়। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অস্ফুটস্বরে বলে,,
“আয়াশ সরি, লাভ ইউ।”
অহীনের শক্ত হাত দুটো শীতল হয়ে নরম হয়ে আসে কথাটা কর্ণপাত হতেই। বুকের ভেতরের তোলপাড় থেমে গিয়েছে। বুকের ছোট পশমগুলোতে ভেজা অনুভব করে বুঝল ঘুমের মধ্যে কান্না করছে আশা। বুঝতে সময় লাগল না, স্বপ্নেও আয়াশের জন্য কাঁদে মেয়েটা। হাতটা সরিয়ে আনল তার শরীর থেকে। তাকে নিজের থেকে সরাতে গিয়েও কেন যেন থামল একটু। অতঃপর আবার জড়িয়ে ধরল নিজের সাথে। এবার শক্ত করে সম্পূর্ণ অধিকারের সাথে। কঠিন গলায় বিড়বিড় করে বলল,
"ডেস্টিনি তোকে আমার কাছে এনেছে, আর আমি তোকে আমার করে রাখব। সারাজীবন আমার সাথে লড়েই বা কী লাভ হলো? আজ ভাগ্যও তোর বিপক্ষে গিয়ে আমার পক্ষ নিল। দেব না তোকে, তুই আমার। হাজার কাঁদলেও ছাড়ব না। আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ছাড়তে হয় নাকি?”
-----
সকাল হওয়া মানেই যেন ঘুমের নষ্টের আজাব নামে মাথায়। ড্রয়িং রুম থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি, হৈ-হুল্লোড়ের শব্দ। বিরক্ত হয়ে পিটপিট করে তাকায় আশা, নড়েচড়ে উঠে বসে। বাইরের মিষ্টি আলো বলে দিচ্ছে বেলা অনেক গড়িয়েছে। পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখে অহীন চুপচাপ ঘুমাচ্ছে অন্যদিকে ফিরে। মাঝ দিয়ে বালিশের সীমানাটা অক্ষত একই ভাবে। অহীনের এই আচরণটা ভালো লাগল। মুচকি হেসে বিছানা থেকে নেমে যায়, তবে ঘরের এলোমেলো অবস্থা সুন্দর ও শান্ত মস্তিষ্কটাকে সতেজ থাকতে দিল কই? রাতে অহীনের ভেজা পায়ের পানিগুলো পর্যন্ত ফ্লোরে এখনো লেগে আছে। ভেজা তোয়ালেটা পড়ে আছে একটি কোণায়। গায়ের পাঞ্জাবি হতে গেঞ্জিটাও পড়ে আছে এদিক-সেদিক। নিজের রাগটা যথারীতি নিয়ন্ত্রণ করে সে বাথরুমে প্রবেশ করে। ওখানে আরও এক দফা থমকায়। নিজেই নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়। মেসওয়াকটা বেসিনের একটি কোণায় পড়ে আছে। টিস্যু শুকিয়ে আছে ফ্লোরে। নাহ, আর নেওয়া যাচ্ছে না। বাথরুম থেকে উল্টো বের হয়ে অহীনের ঠিক সামনে গিয়ে ঝুঁকে চেঁচিয়ে ওঠে,
“অহীইইন, ওঠো। এই মুহূর্তে ওঠো।”
আশার গলা ফাটা চিৎকারও গেল না অহীনের কানে। সে তো একটু নড়ে আবার ঘুমে তলিয়েছে। পাশে থাকা ড্রেসিং টেবিলে ছোট চিরুনি দেখে ওটা নিয়ে এলোপাতাড়ি বাড়ি দিল অহীনের উন্মুক্ত পিঠে। এবার আর না উঠে যায় কই বেচারা! হকচকিয়ে উঠে নিজের পিঠ ঘষে দূরে সরে চেঁচিয়ে ওঠে পাল্টা,
“সর শাওয়া, থাপ্পড়ে গাল লাল করে দেব পেঁচি।”
আশার হাত থামে। অহীনের মুখে এমন অশালীন গালি শুনে থতমত খেয়ে যায় কিছুক্ষণের জন্য। পর মুহূর্তে বিছানায় চড়ে আবারও উন্মুক্ত বাহুগুলোতে এলোমেলো ভাবে আঘাত করতে করতে শাসায় সে অহীনকে,
“কুত্তা, তোর শিক্ষা বুঝি এমন তলানিতে গিয়েছে? এসব গালি দিস আমাকে? নোংরা পুরুষ। ঘরের সাথে তোর ভেতরটাও নোংরা, জাওরা পোলাপান একটা।”
দুই হাতে আশার থেকে বাঁচার পায়তারা করেও পারছে না। মেয়েটা এমন অগোছালো একদম সহ্য করতে পারে না। অহীন বারবার বলছে,
“ব্যথা পাচ্ছি আমি খারাপ মহিলা। স্বামী ময়লা করলে পরিষ্কার করলে তোর সওয়াব হবে। জাহান্নামে যাবি পেঁচি আমাকে মেরে তুই।”
“তোর মতো একটা খচ্চরকে মেরে গেলেও ক্ষতি নেই।”
অসহ্য হয়ে অহীন এবার কোনো মতে আশার হাতের চিরুনিটা খপ করে ধরে। হাত পেঁচিয়ে ধরেই আচানক পেছন থেকে পাঁজাকোলা করে ধরে বিছানায় ধপ করে ফেলে দেয়। আশার পিঠের ওপর চড়াও হয়ে আসে। আশা চেঁচিয়ে ওঠে আবার,
“কুত্তা ছাড় আমাকে! দানবের মতো তোর শরীর, আমি চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছি হাতি একটা।”
পেছন থেকে আশার চুল মুঠোয় নিয়ে শক্ত করে টান দেয় অহীন। একটি হাত দিয়ে ঝুঁকে তার দুটো হাত বন্দি করে রেখেছে। কটাক্ষ করে বলল,
“বিশ্বাস কর পেঁচি, শুধু তোর প্রতি ফিলিংস নেই বলে। নইলে সত্যি এই মুহূর্তে তোকে আমি দেখাতাম দানব কাকে বলে ও কয় প্রকার।”
হাতে শক্ত করে চাপ ও চুলে টান পড়তেই গুঙিয়ে ওঠে আশা। তবুও অহীনের হাত নরম হলো না একটুও, বরং আরও চেপে ধরে। ঘাড়ে কয়েকটা তিল দেখা যাচ্ছে। সে ঝুঁকে যায় আশার ঠিক কানের কাছে। নেশালো স্বরে বলল,
“শুধু চ্যাপ্টা না, পিষে ফেলতাম তোকে আমি। খবরদার আর সকাল সকাল আমার ঘুম নষ্ট করার সাহস করবি না।”
বলেই ঝাড়া দিয়ে ছেড়ে পাশে চিত হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে। ঠোঁট কামড়ে ধরে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। শরীরটা কেমন কাঁপছে, হয়তো রাতে দেরি করে ঘুমানোর ফল এটা। আশা ছাড়া পেয়ে দুষ্টু হেসে অহীনের চুল ধরে পেটের ওপর চড়ে বসে,
“আহ পেঁচি, বেয়াদব পিদ্দি মেয়ে। তোর হেডাম কমে না?”
“না কমে না। তুমি এখন উঠে বাথরুম ক্লিন করে দিবে। তবেই আমি ছাড়ব তোমাকে।”
আশার বাঁকানো কোমরে হাত দিয়ে অহীন নিজের দিকে টানে। চোখ দিয়ে নেশা ছড়িয়ে আশার কথার উত্তরে পরক্ষণেই বিচলিত ও ব্যাকুল হয়ে বলে,
“কখনো ছাড়িস না।”
আশা থমকে তাকায় অহীনের চোখের দিকে। কালকে থেকে অহীনের ওয়াইল্ড মুড তাকে বিব্রত করছে ভালোই। ছেলেটা এত ফাজিল, তাকে জ্বালানোর একটা সুযোগ হাত ছাড়া করে না। অহীনের দৃষ্টি তার ঠোঁটের দিকে স্থির হয়ে আছে। রাগে কিছু বলতেই যাবে অমনি দরজায় ঠকঠক শব্দ হয়। আশা ছিটকে দূরে সরে আসে তার থেকে। দৌড়ে দরজা খুলতে চলে যায়। তার পেছন থেকে অস্ফুটস্বরে ভেসে আসে অহীনের একটা কথা,,
“এত ভয় কিসের? ভার্জিন থাকব তবুও তোর সাথে লজ্জাজনক কাজ করব না।”
একটু থেমে বড় বড় চোখে ক্রুর আচ্ছন্ন হয়ে কোমরে হাত দিয়ে তাকায় আশা তার দিকে। অহীন ঠোঁট কামড়ে মুচকি হাসছে। শরীর ঝাড়া দিয়ে দরজা খুলতেই দেখে কুহু সাথে নীল। আশার এলোমেলো চুল দেখে বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করে কুহু,
“সকাল সকাল শুরু করেছিস? বাসা ভর্তি মেহমান, নির্লজ্জ গুলা।”
আশা গাল ফুলিয়ে ভড়কানো গলায় বলল,
“তোমার ছেলে নাকি পাঠা একটা? এত অপরিষ্কার মানুষ কেমন করে হতে পারে? ওর সাথে থাকলে আমি দমবন্ধ হয়ে মরে যাব। ছিঃ।”
দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কুহু কক্ষে প্রবেশ করে। তার কাছে অতটা অগোছালো লাগছে না। হয়তো রাতে ক্লান্তির জন্য সব এলোমেলো করেই ঘুমিয়েছে। কিন্তু আশা আর অন্তিহা একদম ভিন্ন ধাঁচের। এগোতে এগোতে কাপড়গুলো হাতে নিয়ে বলল,
“তুই যা ফ্রেশ হয়ে আয়। নাজু, নুসু এসেছে।”
আশা নীলকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। সেই যে বিয়ের দিন রাগ করে বাড়ি থেকে গিয়েছে আর তো এল না। কিছু সময় কথা বলে নেয়। পাশ কাটিয়ে রুম থেকে বের হতে নিলে নীল প্রশ্ন করে,
“আগে ফ্রেশ হয়ে যা আশু।”
আশা যেতে যেতেই বলতে থাকে,
“ওই বাথরুমে কোনো সুস্থ মানুষ যেতে পারবে না। আমি ফুম্মির রুমে যাচ্ছি।”
অহীনের হুশ নেই, পড়ে আছে উপুড় হয়ে। মাথাটা ঢেকে রেখেছে বালিশের নিচে। কুহু ডাকল না তাকে। নিজেই পড়ে থাকা কাপড়গুলো গোছাতে থাকে। নীলের সাথে কথা বলছে টুকটাক। বিছানার পাশে ছোট টেবিলটা থেকে ভেজা তোয়ালেটা তুলতেই ফ্লোরে কিছু পড়ে কচ শব্দ হয়। চোখটা ওই দিকে যায়। ওষুধের ছোট পাতা দেখে ঝুঁকে হাতে নেয়। উল্টেপাল্টে পর্যবেক্ষণ করে ঘুমের ওষুধ। সে চোয়াল শক্ত করে অহীনকে জিজ্ঞেস করে,
“অহীন, স্নোজ কে নেয়? তুমি?”
মাথা থেকে বালিশটা সরিয়ে দ্রুত কুহুর হাত থেকে ওষুধের ছোট পাতাটা নিয়ে বালিশের নিচে মুখ লুকায় সে। চোখ বুজে ঠোঁট টিপে আমতা আমতা করে বলল,
“মাঝে মধ্যে নিতে হয়।”
“এসব ড্রাগস অহীন, শরীরের ক্ষতি হয় জানো না?”
“না নিয়ে উপায়? কত চিন্তায় দিন কাটে আজকাল আমার।”
অহীনের ভড়কানো স্বরে কুহু উত্তর করল না পাল্টা। নীলের সামনে কীই বা বলবে? নিজের মতো হালকা কাজ করে দিয়েই বের হয়ে আসে রুম থেকে। বাইরে আশা কুহুর একটা শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে। আশার চোখের নিচ কেমন ক্লান্ত, ঘুম কাটেনি বোঝা সহজ। নুজাইফা বারবার তার কুঁচিগুলো ঠিক করে দিচ্ছে। অন্তিক যেন অফিসে না গিয়ে বাসায় থাকতে পারলেই বাঁচে। সায়র ও নুসাইবা আসবে, সুযোগটাও হাতছাড়া করল না। হাতে ফোন নিয়ে আশাকে ইশারা করছে ছবি তোলার জন্য। আশা বিরক্তি নিয়ে বলছে,
“বড় বাবা, তুমি ফুম্মির ছবি তোলো গিয়ে। ভালো লাগে না এসব শাড়ি আমার।”
অন্তিক ভ্রু কুঁচকে তাকায় ওর দিকে। ধমকে বলে,
“তুমি জানো, তোমাকে কুহুর থেকে বেশি সুন্দর লাগছে? এই প্রথম তোমার ফুম্মি ছাড়া কারো প্রশংসা আমি করছি। আমার ফোনে দুটো ছবি থাকলে ক্ষতি কী?”
“আমি সুন্দর তুমি না বললেও আমি জানি। তোমার বউয়ের ছবি তোলো গিয়ে তো।”
কথাটা বলে সরে যায় আশা রুমের দিকে। সবাই আশা ও অন্তিকের কাণ্ডে না হেসে পারল না। নিজ কক্ষে গিয়ে ভেজা চুলগুলো হেয়ার ড্রায়ার চালিয়ে শুকাচ্ছে। ড্রায়ারের শব্দে বালিশের নিচ দিয়ে একটু তাকায় অহীন বিরক্ত লাগছে শব্দটা। কিছু বলতেই যাবে, আশার ফোনটা সশব্দে বেজে ওঠে। চোখ তুলে তাকায় আশা। ড্রায়ারটা রেখে ফোনটা তুলে আয়াশের নাম্বারটা দেখে অজান্তেই চিন্তিত হয়ে তাকায় অহীনের দিকে তার দিকেই তাকিয়ে ছিল সে। চোখাচোখি হতেই সে একটু দূরে জানালার ধারে গিয়ে দাঁড়ায়। কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ব্যাকুল কণ্ঠ ভেসে আসে,,
“পুতুল, যাওয়ার পর একটিবার কি কল দেওয়া যেত না?”
আশা নিচুস্বরে বলল,
“আয়াশ, আপনার শরীর এখন কেমন?”
উত্তর দিল না আয়াশ, পাল্টা প্রশ্ন করে,,
“সবাই বিয়েটা নিয়ে অনেক চাপ দিচ্ছে তোমায়?”
“ডিসচার্জ কবে হবে আপনার?”
“কথা কাটাও কেন? অস্থির লাগছে আমার, দেখা করে যাও। বিকেলে ডিসচার্জ দেবে। তুমি না আসলে আমি গাড়ি নিয়ে চলে আসব।”
“আয়াশ, বাসায় মেহমান।”
“আই ডোন্ট কেয়ার। তুমি আসবে নয়তো ভালো হবে না।”
শীতল স্বরে হুমকির মতোই বলল কথাটা আয়াশ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আশা বলল,
“আচ্ছা আসব। এবার বলুন, খেয়েছেন কিছু?”
আয়াশ নরম গলায় বলল,
“তোমার হাতে খাব।”
কথাটা বলার পরপর পেছন থেকে ভেসে আসে অহীনের গলা,,
“ও প্রিয় চাচাতো বউ, পুরো রাত ঘুমাতে দিলে না আমাকে। এবার একটু কাপড়গুলো দাও। সকাল সকাল গোসল করতে হয় বাসরের পর, জানো না?”
তার গলা ফাটা চিৎকার শুনে আশা পেছন ফিরে তাকায়। আচানক অহীন ওর একদম কাছে চলে এসেছে। প্রশস্ত বুকে কপালে বাড়ি খেয়ে থেমে যায় আশা। ফোনে হাত রেখে হিসহিস করে বলল,
“কান পেতে আমার কথা শুনছ?”
অহীন ঘাড় ঝাঁকিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
“কাপড়গুলো বিছানায় যেন এসে পাই বউ।”
অহীন যেতেই আশা হাত সরিয়ে আয়াশকে উদ্দেশ্য করে বোঝানোর স্বরে বলল,
“ও আপনাকে রাগাচ্ছে।”
আয়াশ মৃদু হেসে বলল,
"আই নো, আই হ্যাভ অলওয়েজ ট্রাস্টেড ইউ। ইউ উড নেভার বিট্রে মি।”
আশা মৃদুস্বরে মেকি হাসে, অহীনের দিকে তাকায়। অতঃপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে আয়াশকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ঠিক, আই ওন্ট।”
চলবে......