#দূরত্বের_প্রণয়_২
#স্বর্ণালী_ইসলাম
পর্বঃ৩৪
রাত কেটে প্রায় ভোরের আলো ফুটছে ধরিত্রীর বুকে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায় কুহু, রাতটা আশার সঙ্গেই কেটেছে আজ। অন্তিক বলেছিল মেসেজে ঘুমিয়ে পড়তে অপেক্ষা না করার জন্য। ভোর হয়েছে দেখে একটু চিন্তায় পড়ে তার মস্তিষ্ক। উঠে মুখে হালকা পানি ছিটিয়ে দরজার কাছে যায় সে। দরজা খুলতেই ফাঁকা করিডোরের শীতল হাওয়া এসে ধাক্কা খায় কুহুর দেহে। হালকা কিন্তু প্রাণ জুড়ানো একটা সুবাস এটা যেন শুধু ভোরের হাওয়ায় মিশে থাকে। যদি গ্রাম হতো তাহলে কাঁচা মাটির ভেজা গন্ধ এর চেয়ে বেশি দারুণ হতো।
দরজা আবার বন্ধ করতেই যাবে অমনি লিফটের টুং করে একটি শব্দ হয়ে দরজাটি খুলে যায়। ঘুমে লাল হয়ে থাকা মারাত্মক ভয়ংকর চোখ জোড়া অন্তিকের কুহুর সাথে মেলে। পুরোটা রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছে ছেলের সঙ্গে, সে এক বাবা ছেলের ব্যক্তিগত আড্ডা। বাসায় প্রবেশ করার সময় কুহু কিছু কথা তাকে বললেও কথাগুলো কেমন ভাবেই অদেখা করে নিজ রুমে চলে যায় অন্তিক। নিজের শার্টের বোতাম খুলছে পেছন থেকে কুহু এসে তাকে গভীর গলায় জিজ্ঞেস করে,
“পুরো রাত কোথায় ছিলে?”
উত্তর নেই অন্তিকের সে বিছানায় গিয়ে বসে, কুহু এগিয়ে গিয়ে আবার জিজ্ঞেস করে,
“কী হলো? কিছু তৈরি করে দেব?”
পরপর ওর নরম গালে হঠাৎ ঠাস করে অন্তিকের পুরুষালী শক্ত হাতের থাপ্পড় পড়ে, এতটাই শক্ত ছিল যে কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে নুইয়ে যায় এদিকে রমণী। সোজা হয়ে প্রশ্ন করার আগেই অন্তিক রাগে গজগজ করে বলে ওঠে,
“আমার ছেলের গায়ে হাত তোলার সাহস কে দিয়েছে তোকে?”
থাপ্পড়টা জোরে হলেও গায়ে লেগেছে কুহুর প্রশ্নটা, সঙ্গে সঙ্গে দাঁতগুলো কিরমির করে ওঠে তার এবং উত্তর দেয় গালে হাত দিয়ে,
“তুমি জানো না ও কী করেছে।”
গর্জে ওঠে অন্তিক,,
“ও যাই করুক, ও আমার ছেলে বড় হয়েছে ওকে মারার সাহস তোর নেই বেয়াদব।”
কথাটা বলেই বড় বড় পা ফেলে বাথরুমে চলে যায় সে, এদিকে রাগে ফুঁসছে কুহু, এদিক সেদিক তাকিয়ে হঠাৎ একটি ছোট ব্যাগ নামায়। আলমারি খুলে কাপড় নেওয়া শুরু করে। অনেকটা সময় পর বাথরুম থেকে বের হয়ে মাথা মুছতে থাকে অন্তিক হয়ত রাগ করে গিয়েছে মুখে পানি দেওয়ার ফলে, চোখ মুছতে মুছতে বলে,
“নাস্তা দে।”
কুহু সবে ব্যাগের চেইন লাগিয়েছে, চোখে রাগ খেলা করছে, অন্তিককে ওই আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে পারলে মন্দ হতো না। অন্তিকের চোখ ব্যাগ দেখতেই ভ্রু কুঁচকে নেয় তৎক্ষণাৎ এবং প্রশ্ন ছুড়ে,
“রাগ করে চলে যাচ্ছিস?”
কুহু ফুঁসছে তার মুখে উত্তর না পেয়ে অন্তিক আবার বলে,
“আমার ছেলেকে বের করে দেওয়ার পর তোকে এমনিতেও রাখতাম না চলে যা।”
কুহু এগিয়ে ওর সামনে আসে, ওর রাগী চোখগুলো দেখে যেন এতক্ষণের রুদ্র রূপটা অন্তিকের গায়েব হয়ে গেল। অজান্তেই ঢোক গিলে বলতে চায় কিছু তবে কথাটা দলা পাকিয়ে যাচ্ছে একটু কম্পিত গলায় বলে,
“এখন কি ত..তোকে দরজা পর্যন্ত দি দিয়ে আসতে হবে?”
কুহুর উত্তর নেই, অন্তিক নিজেও জানে না কেন, দরজার দিকে হাঁটছে কুহুর হাতের ব্যাগটা নিয়ে। ঠিক বাসার মেইন দরজার সামনে আসতেই পেছন থেকে সজোরে একটা ধাক্কা দিল কুহু তাকে, সঙ্গে সঙ্গে করিডোরে অপর পাশের দেওয়ালে ধাক্কা খায় বেচারা, পরনের টাওয়ালটা খুলতে খুলতেও বাতাসের থেকে ইজ্জত বাঁচিয়ে নিল তার বাঁ হাত, কুহু এবার তাচ্ছিল্য করে শয়তানি হাসে তার ওপর,
“এই বাসা আমার, আমি কেন যাব তুমি যাও।”
“মানে?”
“মানে তোকে আর তোর ছেলেকে এক সাথে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়ে দেব আমরা।”
“অহংকার করছিস বাড়ি নিয়ে? এটা আমি তোকে দিয়েছিলাম।”
হতবুদ্ধির মতো সাদা টাওয়ালটা ধরে দাঁড়িয়ে আছে অন্তিক, উত্তরটা দিতে পেরে নিজেকে রাজার চেয়ে কম মনে হচ্ছে না, ব্যাগটা ইতিমধ্যে হাত থেকে ছুটে গিয়েছে। খুকখুক করে কেশে কিছু বলার আগেই কুহু আবার বলে,
“অন্তিক শিকদার আর রাস্তায় নেড়ি কুত্তার লেজ একই রকম সোজা কখনো হবে না।”
দরজাটা মুখের ওপর বন্ধ করে দিল, ঠিক রাতে অহীনের মুখের ওপর যেমন বন্ধ করেছিল। অন্তিক নিজের টাওয়ালের দিকে তাকায়, এটাও পাল্টানোর সুযোগ দিল না তাকে। বিড়বিড় করে বলে সে,
“ নিজেও বেয়াদব ছেলের বউটাকেও তাই বানাতে মাঠে নেমেছে। আমিও কম না খেলা হবে।”
বলেই লিফটের কাছে যায়, লিফটের দরজা খুলতেই সামনে মধ্যবয়স্ক মহিলা বের হয়ে আসেন, সম্ভবত সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তার দিকে অবাক চোখে, উনি নামতেই সে হালকা হেসে লজ্জায় মাথা নুইয়ে প্রবেশ করে। তবে আরো লজ্জার বিষয় হলো সেখানে একটি ছেলেও আছে তাকে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে। লিফটের দরজা বন্ধ হতেই ব্যাগ থেকে কাপড় বের করে নেয় সে। উপায় নেই এভাবে বের হওয়া সম্ভব না।
একটা টিশার্ট ও একটা ট্রাউজার পরে অন্তিক এবার নিজের বাড়ি এসেছে। ইচ্ছে করছে মাটি খুঁড়ে ঢুকে যেতে আশ্চর্যের বিষয় হলো কলিং বেল চাপার আগেই দরজা খুলে যায়, অহীন তারই দিকে তাকিয়ে আছে যেন অপেক্ষা করছিল কখন আসবে। অন্তিক ওর দিকে ব্যাগ ছুড়ে দিয়ে ভরকানো গলায় বলে,
“কী এমন করেছিলে চান্দু? সাত ভরি দুঃখের গল্প শুনলাম এবার নিজের জাওরামির গল্প বলো।”
অহীনের চোখগুলো ফোলা, তাকে উত্তর না দিয়ে বরং আস্তে করে পাল্টা প্রশ্ন করে,
“বাড়িতে না গিয়ে এখানে কী করছ?”
অন্তিক সিঁড়িতে থামে, একটু গলা তুলে কটমট করে ওঠে,,
“তোমার মায়ের একটা শিক্ষা দিতে হবে, বেয়াদব মহিলা আমাকেও বের করে দিয়েছে বাসা থেকে।”
রাতের দুঃখগুলো ছাড়িয়ে একটু মলিন মুখটায় হাসি ফোটে অহীনের, বলল
“বাসাটা ওনার উনি বের করতেই পারেন, তা কী করেছিলে তুমি?
“তোমার মাকে কিছু বলতে হয়? এক নম্বর বেয়াদব পেঁচি, স্বামীকে সম্মান দিতে জানে না।”
“সম্মানের জায়গায় ঠিক দেয়, নিশ্চিত কিছু করেছ, নয়ত তোমাকে বের করত না। কী করেছ?”
নাহ অন্তিক আর উত্তর দিল না, সোজা সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেল ওপরে, অহীনও ছোট করে ফোন বের করে মেসেজ করে দিল কুহুকে তার বাবা এসেছে এখানে। দুটো মানুষের মাঝে এত ঝামেলা দ্বন্দ্বগুলোকে কেমন পেছনে ফেলে এত বছর একসাথে থাকছে ভাবতেই ভালো লাগে। কিন্তু তার জীবনটা এত অল্প সময়ে এলোমেলো হয়ে গেল তাও নিজের ছোট একটা ভুলের জন্য।
______
সময় কাটছে ধীরে ধীরে, রোজ সকালে উঠে ভার্সিটি যাওয়া হোস্টেল থেকে। সাফওয়ান ও আয়াশের অযৌক্তিক বিরক্তি ও তর্ক, মাঝে জেসির আয়াশের পেছনে ঘুরে খোঁচানো। হ্যাঁ এই তো স্বাভাবিকের মাঝে অস্বাভাবিক দিন কাটছে অন্তিহার। সামনেই সেমিস্টার তার, এর জন্য খুব মন দিয়ে পড়তে হচ্ছে তাকে, ক্যাম্পাসে এসেও যেন কোনো এক কোনায় বসে চোখ বইয়ের পাতায় স্থির করে নেয় সে। কিন্তু একটা জ্বালা আমদানি হয়েছে তার জীবনে সাফওয়ান নামের অভদ্র লোক, যে সত্যি তার জুনিয়র নাকি সিনিয়র জানার প্রয়োজন টুকুনিও মনে করে না মেয়েটা। এই তো এখন মনোযোগ দিয়ে লাইব্রেরিতে চুপচাপ পড়ছে, আশেপাশে কতটা শান্ত পরিবেশ হালকা মানুষগুলোর শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ আর হিসহিস করে কথা আসলেও বই থেকে খেয়াল সরাতে তারা সক্ষম নয়।
পড়ার মাঝেই নাকে একটা কড়া পারফিউমের গন্ধ এসে লাগে, এটা খুব পরিচিত বেশ অনেক দিন ধরেই সে অনুভব করে। বই থেকে মনোযোগটা সরিয়ে নিল গন্ধটা, চোখ তুলে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকিয়ে বিরক্তিতে ‘চ’ করে ওঠে সে। ঠিক সামনে চেয়ার উল্টো করে দুই দিকে পা ছড়িয়ে থুতনিটা হাতের ওপর রেখে বসে সাফওয়ান, চোখ জুড়ে রহস্য তার, অন্তিহা তাকে অদেখা করতেই গভীর ব্যাকুল গলায় বলে,
“মিস গম্ভীর এত কি শিখে লাভ কি আমার মনটাই যদি পড়তে না পারেন?”
না অন্তিহা উত্তর দিল না তাকে, চোখ তখনো বইয়ের দিকে, এ একটা সাইকো উত্তর দিলেই কথাকে ঘাটিয়ে বড় করবে। তার উত্তর না পেয়ে ছেলেটা অস্থির হয়ে বইটা টান দেয়, বন্ধ করে বইয়ের নামটা দেখতেই হাসি মুখটা বন্ধ হয়ে গেল, খুকখুক করে কেশে ওঠে, অন্তিহা এবার রাগে ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে, ঠোঁট কামড়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“সমস্যা কী আপনার?”
সাফওয়ান তখন বইটার নামের থেকে নিজেকে অন্য খেয়ালে ফেরাতে পারছে না, সে অন্তিহার দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলে বলে,
“আপনি সারাক্ষণ শুধু ভার্সিটির পড়াই পড়েন না? এই এসব পড়েন?”
সাফওয়ানের কথায় হুট করেই বসা থেকে উঠে যায় সে, চোখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে হিসহিস করে বলে,
“আর ইউ ফাকিং ক্রেজি? মাথায় ঢোকে না আমি বিরক্ত হই এসবে?”
সাফওয়ান ওর সাথে উঠে দাঁড়ায়, ভার ভার গলায় বলে,
“ আমি তো মাথায় ঢোকাতে চাই না এসব, সামান্য পড়ায় সাহায্য করবেন এত অহংকার?”
অন্তিহা বিরক্তিতে চোয়াল শক্ত করে, সাফওয়ানের হাতের বইটা নিতে চাইলে সাফওয়ান হাত সরিয়ে নেয় ওপরের দিকে, একে তো এত দূর তার ওপর এত লম্বা দুটো হাতের নাগাল পাওয়া আদৌ কি সম্ভব? লাইব্রেরির নিস্তব্ধতা হঠাৎ ভেঙে অন্তিহা গরজায়,
“দিন ওটা।”
সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই ওদের দিকে তাকায়, এতে চুপ হতে বাধ্য হয় অন্তিহা, সাফওয়ান মুচকি হেসে হিসহিস করে বলে,
“এটা আমার কাছে থাক, শিখে রাখব, ইন ফিউচার কাজে দেবে আমাদের।”
অন্তিহা আবার রাগে ফুঁসছে, তার জীবনে এতটা বিরক্তিকর মানুষ দ্বিতীয়টি দেখেছে বলে মনে পড়ছে না। প্রদীপ যে ভিন্ন ধর্মীয় হলেও তাকে বুঝত, হাসত, বাচ্চামি করত, এতেই যেন মায়া ছড়িয়ে পড়ত প্রতিটি লোমকূপে। আয়াশ যে গম্ভীর কথা কম বলে, যার চোখ দেখলেই সব বলতে পারবে অন্তিহা, তার মধ্যেও সমস্যা নেই কিন্তু এই ছেলে? মাথায় সমস্যা আছে নিশ্চিত নয়ত এতটা অবজ্ঞার পরেও পেছনে পড়ে থাকত? সে উঠে বের হতে নিলে ছেলেটা উঠে ছুট লাগায় বাইরের দিকে, সমস্ত রুলস ভেঙে লাইব্রেরির নিস্তব্ধতা ভেঙে চেঁচিয়ে ওঠে,
“এটা নিয়ে নাও, নয়ত আমি সত্যি রাত জেগে পড়ব, পরে আমাকে সামলাবেন তো মিসসসস গম্ভীর?”
“এক থাপ্পড় দেব বাম চোয়ালের দাঁত ডানে চলে যাবে অসভ্য।”
অন্তিহা ব্যাগটা নিয়ে তার পিছু নেয়, না বইটা বেশি প্রয়োজনীয় না সে পড়লেও কিছু যায় আসে না। কিন্তু কিছু জায়গায় মার্ক করা, আর ছোট ছোট নোট অ্যাড করেছে সে নিজে। এসব দেখলে মুখ দেখাতে পারবে না মেয়েটা। স্টুডেন্ট ভর্তি করিডোরে সাফওয়ান দৌড়াচ্ছে, না চাইতেও তার পেছনে অন্তিহা, মেয়েটাকে দেখে হয়ত অনেক অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকা মেয়েটা এমন ভাবে ছুটছে এটা চোখকে ধাঁধিয়ে দেওয়ার জন্য কম কিছু নয়। গায়ের স্কার্ফটা এক পাশে পড়ে আছে তার, রাগে গিজগিজ করে গালি দেয় তাকে,
“আপনি একটা নেমাটোড।”
আচানক সাফওয়ান থামে, বড় বড় করে শ্বাস নিয়ে তার দিকে ফিরে দাঁড়ায়, অন্তিহাও দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছে বুকে হাত দিয়ে, ঘামগুলো কপাল বেয়ে পড়ছে টপটপ করে, এতে যেন ছেলেটা আরো বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে তার প্রতি, সে হেসে দিয়ে বলে,
“সিরিয়াসলি? নেমাটোড?”
“আমার বই দিন।”
“ওকে ক্যাচ।”
বলেই আচমকা ছুড়ে দেয় বইটা সে অন্তিহার দিকে, হাত বাড়িয়ে ধরার জন্য একটু পিছিয়ে যায়, পাশেই সিঁড়িতে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে ডান দিকে পড়ে সে, ভাগ্যবশত চেঁচিয়ে কারো গায়ের ওপর পড়ে, শক্ত একটি হাত শর্ট টপসের ওপর দিয়ে কোমর ছুঁয়েছে, হাতের বইটাও নেই অনুভব করে, বন্ধ চোখ জোড়া আস্তে আস্তে খুলে তাকায় সে, নাকগুলো ফুলিয়ে চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে আছে তার দিকে আয়াশ, ছেড়ে দিলেই কোমর বা পা ভাঙবে নিশ্চিত ভয়ে খামচে ধরে সে তার কলার আর একটু ঘনিষ্ঠ হয়। বুকের ওপর পড়ে আছে বইটা, আয়াশের চোখ বইটাতে পড়তেই বিড়বিড় করে পড়ে,
'Does It Hurt?'
মুহূর্তে জমে যায় তার দৃষ্টি সেখানে ঢোক গিলে এই মেয়ে এসব কী পড়ে? আচানক হতবুদ্ধির মত ছেড়ে দিতে নিলে অন্তিহা আবার চেঁচিয়ে তাকে জাপটে ধরে,
“ প্লিজ আস্তে নয়ত কোমর ভেঙে যাবে।”
আয়াশ তাকে ধীরে ধীরে ছাড়ে সোজা করে, তবে বইটা নিজের হাতেই রাখল, তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে হালকা কাঁপছে সে, কারণ ওসিডি নাকি ওর হাতের সেই ডার্ক রোমান্সের বইটা অজানা। সে ভারি গলায় বলে,
“লিসেন এটা তোমাদের বাড়ি না, আর না রাস্তা, তাই এসব থার্ডক্লাস ফাজলামো করবে না। আর অন্তু, তোমার থেকে এসব দৌড়ঝাঁপ আশা করা যায় না। বি ম্যাচিওর প্লিজ?”
অন্তিহা ওর কথার উত্তরে মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়, আর মুখে বলে,
“বইটা আমার দিন।”
আয়াশ উত্তর দিল না কোনো, সাফওয়ানের দিকে তাকিয়ে রুষ্ট গলায় বলে,
“এবার লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি, ওর থেকে দূরে থাক পরের বার সরি বলার সুযোগ দেব না।”
“আমি সরি বলছি না।”
বলেই অন্তিহার হাতের কব্জি ধরে হেঁচকা টান দেয়। ফলে তার গায়ের ওপর পড়ে অন্তিহা, আয়াশকে উদ্দেশ্য করে বলে সাফওয়ান,
“ইউ আর অ্যাডাল্ট আমরা যা ইচ্ছে করতে পারি, এটা বাংলাদেশ নয়, যে কারো ইচ্ছের গুরুত্ব নেই। আপনি আমাদের পার্সোনাল লাইফ থেকে দূরে থাকুন।”
অন্তিহাকে এক প্রকার টেনেই নিয়ে গেল সে ওখান থেকে, আয়াশ ফোঁস করে শ্বাস ফেলে, অন্তিহা ওর সঙ্গে গেলে তার কী? বইয়ের দিকে তাকিয়ে বমির মতো করে ইঙ্গিত করে মুখ মুছে চলে যায় সেখান থেকে। মেয়ে মানুষ এসব কেন পড়বে?
করিডোরের শীতল হাওয়াভেদ করে একটি কোণায় এনে দাঁড় করায় সাফওয়ান অন্তিহাকে, ঠোঁটে দুষ্টুমি ভরা হাসি, অন্তিহা ওর থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। সাফওয়ান একটু এগিয়ে যায় ফলে অন্তিহা ভরকে পিছিয়ে যায়, সাফওয়ান গভীর গলায় বলে,
“মিস আপনাকে যখন প্রথম দেখেছিলাম, এই খানেই বসে কিছু লিখছিলেন। যেখানে সবাই সেদিন আমাকে বার্থডে উইশ করছিল আপনি তাকাননি। সরি বাট আপনাকে আমি খেয়াল করতাম অনেক দিন যাবত।”
“দেখুন মিস্টার..।”
“দেখতেই তো চাই আপনাকে খুব কাছ থেকে, সবার থেকে আলাদা ভাবে।”
অন্তিহা ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে, সাফওয়ানের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
“অনুভূতি এমন একটা জিনিস যেটা কখন কার প্রতি প্রভাবিত হয় আমরা বুঝতে পারি না। সেটাতে নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হয়। আপনার অনুভূতি ভুল মানুষের প্রতি কাজ করছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন।”
অন্তিহা তাকে পিঠ দেখিয়ে চলে যেতে নিলে সে চেঁচিয়ে ওঠে,
“অনুভূতি কখনো ভুল হতে পারে না, আপনি আমার জীবনে আসা প্রথম অনুভূতি।”
থামে অন্তিহা মৃদুস্বরে মেকি হেসে পেছন ফিরে তাকায়, অস্ফুটস্বরে গুঙিয়ে হাসে সে, পিছিয়ে সাফওয়ানের মুখোমুখি হয়ে বলে,
“আমারও আছে প্রথম অনুভূতি, সে জানে না সে চায় না তবুও তার জন্য বেঁচে আছি আমি। আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি। আপনাদের জীবনে হয়ত দ্বিতীয়বার ভালোবাসার সুযোগ আছে আমার জীবনে নেই।”
অন্তিহার কথায় থমকে গেল মানুষটার পুরোটা পৃথিবী, এই তো সেদিন দেখল এখনই অন্য জনের হয়ে গেল? সুযোগই পেল না অনুভব করানোর। সাফওয়ান খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করে,
“কে?”
“যাকে কেউ জানে না তার পরিচয় অজানাই থাক।”
“আমাকে না জানালে আমি ছাড়ব না আপনার পিছু ভেবে নেব আমার থেকে পিছু ছাড়াতে এসব বলছেন।”
“আপনি জানেন না? অন্তিহা মিথ্যা বলে না।”
সাফওয়ান তাচ্ছিল্য হাসে, একটি মুহূর্তের জন্য তো মনে হয় না অন্তু কাউকে পছন্দ করে, তাহলে হঠাৎ এমন কেমন করে বলল? আশেপাশে যেই মানুষগুলো ছিল কেমন অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে মাথা ঘুরছে, অন্তিহা এবার স্পষ্ট গলায় জানায় তাকে,
“আই লাভ সামওয়ান এলস, সো প্লিজ স্টে অ্যাওয়ে ফ্রম মি।”
শান্ত গলায় বলে সাফওয়ান,
“সে আপনাকে ভালো না বাসলে আপনার উচিত যে আপনাকে ভালোবাসে তাকে সুযোগ দেওয়া।”
“এটা আপনাকে সাজেস্ট করি আমি, আপনি অন্য কাউকে সুযোগ দিন। কারণ আমিও আপনাকে ভালোবাসি না।”
অন্তিহা এবার চলে গেল সত্যিই, এমনিতেই মাথায় আয়াশের চিন্তা ঢুকে আছে। নভেলটা তার কাছে যদিও আয়াশ পড়ে না এসব জানে, কিন্তু যদি কৌতূহল নিয়ে পড়ে দেখতে যায়? করিডোর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সে। একটু অস্থিরতা কাজ করছে, ছেলেটাকে হয়ত কষ্ট দিয়েছে ভেবে।
হঠাৎ করেই ভার্সিটির প্রতিটি কোণা থেকে সাফওয়ানের গলায় শোনা যায় তাকেই উদ্দেশ্য করে
“মিসস গম্ভীইইইর।”
থমকে যায় তার পা, মাথা ঘুরিয়ে স্পিকারের দিকে তাকায় বাকিরাও তাকিয়ে আছে, বুকটা ধুকপুক করছে, অমনি ভেসে আসে,
“নেশা নেশা, ভালোবাসায়,
ধরা কি আজ, দেবে না?
মন মানে না, মানে না,
মন মানে না, মানে না,
মন মানে নাআআআ।”
উড়ন্ত এলোমেলো চুলগুলোকে পেছনে ঢেলে স্পিকার থেকে চোখ সরিয়ে আনে সে, একটু তো মায়া হচ্ছিল মুখের ওপর অন্য কাউকে ভালোবাসি বলে কষ্ট দিয়ে। কিন্তু এই ছেলের মধ্যে একটুও ব্যথা নেই, বিড়বিড় করে বলে অন্তিহা,
“অসভ্য।”
-----
দুপুরের কড়া রোদ, সবে গোসল করে বের হয়েছে আশা, হাতে কাপড়ের বালতি, কিছু দিন হলো কুহু আর সে একাই থাকে বাড়িতে, কুহু রান্নাবান্না করলে সব কাজে সাহায্য করে। শরীরের ক্ষতগুলো একদম মিশে গেলেও তার ছোঁয়াটা যেতে আর দুটো দিন হয়ত লাগবে। বারান্দায় এত কাপড় দেওয়ার মতো জায়গা নেই। আর বাসা থেকে বের হওয়ার ইচ্ছে নেই। সেই বের হলেই দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে অহীন। জানা নেই আদৌ বাড়ি যায় কি না। রোজ করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকে একটু কথা বলার সুযোগের আশায়। বের হতে নিলে কুহু পিছু ডাকে তাকে,
“ছাদে যাচ্ছ?”
“হুম।”
“বারান্দায় আমার শাড়িটা আছে নিয়ে যাও।”
আশা মৃদু হেসে বারান্দা থেকে কুহুর শাড়িটা নিয়ে আসে, দরজা খুলে করিডোরে প্রবেশ করতেই যা ভেবেছিল তাই চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল অহীন, যেন জানত আশা আসবে। চোখগুলো জ্বলজ্বল করে ওঠে আশার মুখটা দেখে, তাকে সম্পূর্ণ অদেখা করে সিঁড়ির দিকে আগায়, যেহেতু ছাদে যাবে তাই লিফটের প্রয়োজন হলো না। সিঁড়িতে প্রথম পা ফেলতেই তার হাতের বালতিটা টান দেয় অহীন,
“আমি নিয়ে দিচ্ছি।”
“প্রয়োজন হবে না।”
পরক্ষণ থেকে বালতিটা আবার নিয়ে আশা হাঁটছে, পেছনে পেছনে অহীন হাঁটছে রোজকার মতো একই কথা বারবার বলছে,
“একটু কথা বল না আশু, অল্প সময় নেব।”
আর আশা উত্তর না করেই হাঁটছে, হ্যাঁ যেই ছেলেটা তার কথাকে গ্রাহ্য না করে সব সময় তর্ক ও অধিকারে লেগে থাকত আজ ওর পেছনে আবদার করছে। রোজ নিচে দাঁড়িয়ে থাকে জানালা খুলে দিলে যদি একটু দেখতে পারে এই আশায়। সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই অহীন বলেই চলেছে,
“কথা না বললে নিজেকে কীভাবে প্রমাণ করব, আমি সত্যি অনুশোচনা বোধের মধ্যে আছি। তোর সঙ্গে এত দিন কথা না বলে আমি অভ্যস্ত নই। এমন ভাবে শাস্তি কেন দিচ্ছিস পাখি?”
আশা থামে তাচ্ছিল্য করে,
“তুমি ভাবছ শুধু আমার শরীরে আঘাত করেছ? তুমি আমার অন্তরে আঘাত করেছ, আমার ওই বিশ্বাস নষ্ট করেছ যেটা আমি করতাম, আমি মানতাম অহীন আর যাই করুক আমাকে অন্যায় ভাবে ছোঁবে না।”
“সেই বিশ্বাস টুকুতে একটু এটাও রাখতি, অহীন তুই ব্যতীত আর কাউকে ছোঁবে না।”
“আমি করি না তোমায় সেই বিশ্বাস।”
“আশু।”
ডাকটা অদ্ভুত রকম করুণ তার, এবার হয়ত অনুভব হচ্ছে সে মন থেকে মাফ চাইছে বারবার, একটু কাঁপছে অহীনের শরীর, মুখটা শুকনো। আশা বালতিটা তুলে যাওয়ার সময় হঠাৎ পেছনে পড়ে যাওয়ার শব্দে তাকায়, হ্যাঁ আশা যা ভেবেছিল তাই, অহীন পড়ে গিয়েছে। সকালে না খেয়ে মেডিসিন না নিয়ে এসেছে এই লোকটা। অহীন আর ওর দিকে তাকালো না, বসা অবস্থায় নিজের পকেটে হাত দেয়, নিজে সুস্থ না থাকলে বউটাকে কীভাবে পাবে? আশার খুব মায়া হলো ইচ্ছে হচ্ছে এগিয়ে গিয়ে ধরে সাহায্য করতে, কিন্তু নির্দয়ের মত চোখ ফিরিয়ে সিঁড়ির দিকে যায়, যে তার প্রতি মায়া করল না কেন তার জন্য মায়া দেখাবে? রোদে গা জ্বলে যাচ্ছে আশা নেমে গিয়েছে সেই কখন। পকেটগুলো হাতড়েও চকলেট বা কোনো সুগার পিল পেল না অহীন, খসখসে ছাদের পলেস্তরায় ঘুষি দিয়ে অস্ফুটস্বরে গুঙিয়ে ওঠে,
“শিট।”
পকেট থেকে ফোনটা বের করে সে, চোখগুলো ঘোলা হয়ে আসছে, ফোনের স্ক্রিনে প্রথমেই আয়াশের নাম্বারটা সে কল চাপ দেওয়ার আগেই শরীরটা কেমন নিচে এলিয়ে পড়ে, কয়েক সেকেন্ডের জন্য আশার সেদিনের কান্না মাখা অসহায় মুখটা ভেসে ওঠে, ছটফট করে গোঙাচ্ছিল, তার হয়ত এমনই মনে হয়েছে কেউ আসুক এমন মৃত্যু যন্ত্রণা থেকে বাঁচাক। আর তখন অসহায়ের সাহায্যের জন্য ছিল অহীন, এখনো পরিস্থিতি একই রকম আশা ফিরে না আসলে হয়ত তার জীবনের সুতো কেটে যাবে। কী রোগ রে বাবা কষ্টও উপভোগ করা যায় না। একটা দিন না খেলেই মৃত্যুর যন্ত্রণা মনে হয়।
পিঠটি ছাদে ঠেকার আগেই দুটো হাত তাকে আগলে নেয়, তখন কলা পাতা রঙের জামাটা ঘোলা ঘোলা দেখতেই বুঝল এটা তার পেঁচি। মুখে একটু মিষ্টি পানি দেয়, অহীন মাথা নাড়ে অস্ফুটস্বরে গুঙিয়ে ওঠে,
“আগে বল মাফ করেছিস।”
“এখন যদি বলি মাফ করেছি এটাও তোমার জোর হবে। মন থেকে না তাই খেয়ে নাও।”
আশার কথায় অহীনের চোখের কার্নিশ দিয়ে দু ফোঁটা পানি পড়ে, এবং মিষ্টি পানিটা মুখে নেয়। শরীরটা সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে এবার। কে জানে কত দিন হলো মেডিসিন নেয় না। যতটুকু শক্তি ছিল তা দিয়েই আশাকে টেনে আনে নিজের কাছে। ছাদের পলেস্তরায় মাথা রেখে সূর্যের দিকে মুখ করে চোখ বুজে আছে সে, আশাকে টেনে নিজের বুকে রাখে, আশা একটু ছটফট করছে, তবে অতটাও না, অহীন কাতর ভাঙা ভাঙা গলায় বলে,
“এই মুহূর্তে যতটুকু কষ্ট হচ্ছে তার চেয়ে বেশি কষ্ট তখন হয় যখন খুব ইচ্ছে করে আমার পেঁচিকে ডাকতে কিন্তু পেঁচি সাড়া দেয় না।”
_________
থমথমে পরিবেশ, সবাই গম্ভীর হয়ে আছে, প্রিন্সিপালের কক্ষে মাথা নত করে অন্তিহা আর সাফওয়ান দাঁড়িয়ে আছে, সামনেই গম্ভীর রুদ্ধ নয়নে আয়াশ তাঁদের দেখছে। লজ্জায় ইচ্ছে করছে মেয়েটার ছুটে কোনো এক পাহাড়ের চূড়ায় গাছের পেছনে লুকাতে। যাকে সব প্রফেসর ও লেকচারার রা মিষ্টি করে কথা বলত, আজ এই অসভ্য টার জন্য মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আয়াশ প্রিন্সিপালকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“করিডোর জুড়ে অহেতুক ছোটাছুটি, এবং পার্সোনাল কথা অ্যানাউন্সমেন্ট স্পিকারে বলার জন্য স্যার আশা করি ওঁদেরকে প্রাপ্য শাস্তি দেওয়া হবে।”
হতবুদ্ধি হয়ে অন্তিহা তাকায় তার দিকে, তখনের শার্টটি নেই গায়ে, নিশ্চিত খুলে ফেলে দিয়েছে, দরজার বাহির থেকে উঁকি দিচ্ছে বারবার। প্রিন্সিপাল অন্তিহার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তুমি এসেছ পর থেকে কোনো রিপোর্ট আসেনি, আজকের বিষয়ে কিছু বলবে?”
অন্তিহা দীর্ঘশ্বাস নেয়, এবং এক নিঃশ্বাসে বলে,
“ইয়েস স্যার, মিস্টার সাফওয়ান আমার নভেল বুক নিয়েছিলেন যাতে আমার পার্সোনাল কিছু ছিল আর ওটা নেওয়ার জন্য আমার ছুটতে হয়েছে। আর ঠিক তখন মিস্টার আয়াশ আমার সামনে চলে আসেন। এতে আমার কোনো দোষ নেই।”
কথাটা এভাবে বললেও চোখ আয়াশের দিকে তার, সে জেনেও তার সম্পর্কে এখানে বলছে। প্রিন্সিপাল অন্তিহাকে হয়ত একটু পছন্দ করেন, ভালো স্টুডেন্ট বলে কথা, তিনি তাকে চলে যেতে আদেশ করতেই সাফওয়ান একটু হেসে তাকে হাতের ইশারায় বাই বলে, দরজার কাছে গিয়ে একটু বাঁকা হয়ে হাতের মধ্যমা দেখিয়ে ইশারায় নিচে থুতু ফেলে বলে,
“ফাক অফ।”
সঙ্গে সঙ্গে সাফওয়ান তাকে উত্তর দেয়, অন্তিহা চোখ ফেরানোর আগেই, আঙুলগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বোঝায়,
“তোমার পড়া নভেলের মত?”
নাকমুখ কুঁচকে নেয় অন্তিহা ঘৃণা প্রকাশ করে সেখান থেকে স্থান ত্যাগ করে। সাফওয়ান এবার প্রিন্সিপালের দিকে তাকায় মাথা নিচু করে, আয়াশ হাত দুটো বুকের সাথে আড়াআড়ি করে ধরে গম্ভীর চোখে তাকিয়েই আছে। কেউ কথা বলল না প্রিন্সিপাল একটি কাগজ তার হাতে দিয়ে বললেন,
"ইউ আর সাসপেন্ডেড ফর টু উইকস।"
অবাক সাফওয়ান আয়াশের দিকে তাকায়, যার ঠোঁটের কোণে অবজ্ঞার হাসি লেগে আছে, সাথে জিতে যাওয়ার আনন্দ, সাফওয়ান নিজের সাফাই দিয়ে বলে,
“বাট স্যার, সেমিস্টার?”
“বাসায় থেকেও পড়া যায়, এখানে তো অন্তুর পিছু নেওয়া ছাড়া কিছু করতে দেখা যায় না তোমাকে।”
সাফওয়ানের মুখটা দেখার মতো, যেন কেউ তাকে কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড় করিয়ে ধাক্কা দিল। এতগুলো দিন অন্তুকে দেখবে না নাকি? সে কটমট করে আয়াশের দিকে তাকায়, এবং কঠিন গলায় বলে,
“ আমি তবুও ওর পেছনে থাকি, তুমি তো তার দূর দূরান্ত পর্যন্ত নেই।”
“আপনি! আমি তোমার টিচার সো সম্মান দাও।”
সাফওয়ান তাচ্ছিল্যের সাথে রহস্যময় হাসি হাসে। কাগজটা নিয়ে নিজেকে বাতাস করতে করতে, বিড়বিড় করে বলতে বলতে চলে যায়,
“তুই একটা হারামি।”
অশালীন কটূক্তি পূর্ণ গালিটা ছেঁত করে আগুন লাগিয়ে দিল তার গায়ে। চোখ বন্ধ করে ফোঁস করে শ্বাস নেয় সে, তার নিঃশ্বাস এই ঘর্ষণ দেওয়ালগুলোকেও হিংস্র করে তুলছে।
চলবে.......