ফন্ট সাইজ:
থিম:
দূরত্বের প্রণয় ২

৩৬তম পর্ব

লেখক: স্বর্ণালী ইসলাম

#দূরত্বের_প্রণয়_২

#স্বর্ণালী_ইসলাম

পর্বঃ৩৬

​বাহিরের জাকজমক রেখে একটি বিশাল কক্ষে বসে আছে অন্তিহা, জেসি নেই আছে শুধু একটি মেয়ে যার জন্মদিন আজকে। কক্ষটি দেখছে সে, একজন মানুষের জন্য রুমটা, এতে টাকা অপচয় ও আলগা শো অফ ছাড়া কিছুই পেল না সে। চারপাশের সাদা পর্দাগুলো, রুমের ঠিক মাঝখানটায় বেড—ওখানেই বসে আছে সে। ফ্লোরেও মার্বেল পাথরের কাজ। অন্তিহার কেমন যেন অস্থির লাগছে, তার বাবার কম আছে তা নয়, কিন্তু এসব অতিরিক্ত লাগছে, তবে পুরোটাই রুমে হালকা আলো নীরব মনটাকে প্রশান্ত করে তুলছে। চোখগুলো বারবার চলে যাচ্ছে দরজার দিকে, সে কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“ইশারা, এটা কি তোমার রুম?”

​গায়ের কাঁচা হলুদের মতো রং, ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক পড়ে আছে, ওয়েস্টার্নটা হাঁটুর ওপরে, বাচ্চাদের মতো ফ্রকে ভালোই লাগছে মেয়েটাকে, বার্থডে গার্ল বোঝা সহজ করছে। উত্তর করে,

“না, এটা আমার ভাইয়ার রুম।”

​“তোমার ভাই আছে?”

​ইশারা উত্তর দেওয়ার আগেই রুমটিতে একটা ট্রে নিয়ে প্রবেশ করে সাফওয়ান। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে, তখন রুমে দিয়ে চলে গিয়েছিল। এখন হাতে খাবার তার। রুমে এসে ইশারাকে চোখের ইশারায় চলে যেতে বলতেই ইশারা মাথা নাড়িয়ে বের হয়ে যায়। হালকা প্রাণঢালা হাসির সমেত গিয়ে একটা ছোট বসার টেবিল টেনে বসে, ঝুঁকে গভীর গলায় বলে,

“হুম, একটা ভাই আছে ওর।”

​“আর ভাইটা একটা অসভ্য, তাই তো?”

​সাফওয়ান ওর দিকে একটা সফট ড্রিংক এগিয়ে দিয়ে বলে,

“যেমনই হোক, মানুষটা তো আপনারই।”

​“কী ভাইয়া?”

​সাফওয়ান কৃত্রিম রাগী চেহারায় তাকায়, ট্রেতে থাকা ফল কাটার ছুরি তুলে তৎক্ষণাৎ অন্তিহার কণ্ঠনালীর ওপর রেখে, ঝাঁজালো শাসানি দিয়ে বলে,

“খুন করে ফেলব আমাকে ভাইয়া ডাকলে।”

​ঘাড় উঁচু করে নেয় অন্তিহা, ঢোক গেলার ফুরসত তার নেই। একটু এদিক সেদিক আর প্রাণটা ছুরিটির ধারালো কার্নিশ নিয়ে যাবে। ঠিক যেমন সাফওয়ান তাকে দিচ্ছে, এই নিঃশ্বাস আমার, আমি না বললে শ্বাস নেওয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বুক ক্রমাগত লাফালাফি করছে। ওমনি ছুরিটা সরিয়ে ফিক করে হেসে দেয়, ছুরিটা সরিয়ে আবার ড্রিংক এগিয়ে দেয়। হাফ ছেড়ে বাঁচল অন্তিহা, এই বিশাল দেয়ালগুলোর ভেতরে তাকে মেরে বাড়িটির কোনো এক কোণায় গাছের নিচে পুঁতে ফেললে হয়ত কেউ খুঁজে পাবে না। সাফওয়ান ওর ভয় বুঝতে পেরে নেশালো গলায় বলে,

“এতেই এত ভয়? এটা তো শুরু! আপনার এই পরিপাটি সাজানো জীবনটা আমি এমনভাবে এলোমেলো করে দেব যে আমাকে ভোলা কঠিন হয়ে যাবে। যতক্ষণ না আপনি হাড়-মাংস আর অস্তিত্ব দিয়ে অনুভব করছেন যে আপনি আমার। আমি আপনার অস্তিত্ব ছিনিয়ে নেব।”

​হকচকিয়ে ঢোক গেলে অন্তিহা, সফট ড্রিংকের গ্লাসটা নিয়ে ঠোঁটে স্পষ্ট করিয়ে খায়। উঁচু হিল পরার ফলে পায়ে মোচ এসেছে, হয়ত কিছুদিন ভার্সিটি বন্ধ করতে হবে। অন্তিহার চোখগুলো গোল, পাতলা ঠোঁট। সাফওয়ানের দিকে আর না তাকিয়ে পুরোটা শেষ করে নেয়। সাফওয়ান কিছু বলতে চাইলে, বলার আগেই অন্তিহা হাতের তর্জনী ওর মুখে রেখে ক্রুর গলায় বলে,

“মুখে টেপ মেরে দেব, আর বাক্য বের করলে।”

​সাফওয়ান আবেশে চোখ বুজে নেয়, অন্তিহার শরীরের ছোট্ট একটি অংশ আঙুল তার ঠোঁট ছুঁয়েছে। তড়িৎ বিদ্যুৎ সারা শরীরটা হিম করে দিচ্ছে। এতেই যদি এমন হয়, তবে যখন সম্পূর্ণ নিজের করার সুযোগ আসবে, কেমন হবে? গলা কেমন শুকিয়ে আসছে তার। তৎক্ষণাৎ প্রস্তাব করে,

“I want a little kiss.”

​এবারও হতবুদ্ধির মতো থম হয়ে গেল অন্তিহা, ঝড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে পুরোটা পৃথিবী। এই মানুষটার ব্যাখ্যা সে জানে না। এতটা স্পষ্টবাদী কেন সে বোঝে না। হাতটা সরিয়ে আনতে নিলে সাফওয়ান চেপে ধরে আঙুলটা নিজের ঠোঁটে। নয়ন বুজেই ওভাবেই বলে মন খুলে,

“অন্তু, আই লাভ ইউ। আমি যতটা ভালো দেখছেন, তার চেয়ে হাজার গুণ খারাপ। ভুলকেও ভুল করতে দেবেন না। আপনি আমার, মনে রাখবেন।”

​অন্তিহার হাতগুলো কাঁপছে, যতই হোক সে একটি মেয়ে আর আছে একজন পুরুষের বেডরুমে, তর্ক এখানে না করাই ভালো ও বুদ্ধিমানের কাজ মনে হলো তার। চোখ ঘুরিয়ে হাতটা টান দিয়ে সরিয়ে আনতেই সাফওয়ান আবার হেসে দেয়। এবার সব সরিয়ে অন্তিহা বিছানা থেকে নামতে চায়, তবে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা পাওয়াতে এগোতে পারল না। সাফওয়ান তৎক্ষণাৎ তাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নেয়, দুই হাতে হতবুদ্ধির মতো গলা পেঁচিয়ে ধরে তার অন্তিহা। প্রতিবাদ আজ দলা বেঁধে আটকে গিয়েছে গলায়। সাফওয়ানের ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি। রুম থেকে বের হয়ে আর একটু অবাক হয় অন্তিহা, বাড়িতে কোনো গেস্ট নেই, ফাঁকা বাসাটা, করিডোরগুলোই এক একটি রুম সমান বিশাল। মার্বেল পাথরের দেয়াল। নিঃসন্দেহে বিশাল বড়লোক এই ছেলে। সে না চাইতেও কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে,

“এত কিছু করলেও আমাকে পাবেন না, আমি জানি আমি আপনার কখনো হবো না।”

​তার কথায় ছেলেটার ঠোঁটের কোণে শীতল একটা হাসি ফোটে, অনুভূতিশূন্য। বাড়ির বিশাল ফটক পার হয়ে ঘাসের ওপর পা রেখে স্বল্প সময়ের জন্য স্থির হয়ে বলে,

“পেছনে বাড়িটা দেখছেন? আমার এক বন্ধুর কাজিনের ছিল। এই বাড়ির পুল এরিয়াটা আর আমার বেডরুমটা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। এখন এসব আমার। ড্যাড আগে আমাকে সব দিত, আর এখন আমি সব আদায় করে নিই। কারন আমার পছন্দ শুধু পছন্দই নয় আসক্তি।”

​শুকনো ঢোক গিলে বলে অন্তিহা,

“আমাকে সামান্য বাড়ির সঙ্গে তুলনা করছেন? আমাকে ভালোবাসার মূল্য হতে পারে আমার জন্য পুড়িয়ে দেবেন এই শখের বাড়িটা?”

​“আমার বাড়ির সঙ্গে আপনার তুলনা? Not at all! You’re just an average girl. আপনার জন্য একটা গাছও পুড়াব না আমি, আর আপনি বাড়ির কথা বলছেন?”

​আত্মসম্মানে আঘাত লাগল বোধহয় মেয়েটার, এতগুলো বছর নিজের মাঝের গাম্ভীর্য ও অহংকারটা কেমন আয়ত্ত করে নিল সাফওয়ান, তাই খেয়াল করছে সে।

"Average?"

রাগে রিরি করে ওঠে তার গলা, ঝাড়া দিয়ে নামতে চাইলে নামাল না সাফওয়ান নিজের প্রেয়সীকে। উল্টো শক্ত করে ধরল বুক মাঝে। হৃদয়ের দহনগুলো কেমন উত্তপ্ত করছে তাকে। কাছে আরও কাছে পাওয়ার ইচ্ছেগুলো কেন নিষিদ্ধ—এটা ভেবেই দ্বন্দ্ব আজ মনের সঙ্গে।

​বিশাল লোহার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আয়াশ, চোখে আগুন জ্বলছে। অন্তিহাকে দেখছে সেখান থেকেই, ঝলসে দেবে এমন মুখাবয়ব। তার ঠিক কাছে আসতেই সাফওয়ানের হাসিটা চওড়া মসৃণ হয়। সাফওয়ান অন্তিহার দিকে তাকিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে,

“Is it too painful there, baby?”

​আয়াশের চোয়াল শক্ত হয়, চোখ বুজে রাগ বর্জন করে অন্তিহার দিকে তাকায় সে। মেয়েটা চোখ ফেরাল তার থেকে। আয়াশ কটমট করে বলে,

“Get off, Antu.”

​অন্তিহা নড়তেই কোমরে চাপ বাড়ে তার। সাফওয়ানের মিষ্টতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঈর্ষা ও জেদ মস্তিষ্কে আয়ত্ত ইতিমধ্যে অন্তিহা করে নিয়েছে। অন্তিহা নামছে না দেখে দুটো পা এগিয়ে আসে আয়াশ, ওমনি পৃথিবীর সবচাইতে বিরক্তিকর মেয়েটি এসে ঢলে পড়ে তার গায়ের ওপর।

“স্যাএএএএএর।”

​গুঙিয়ে গুঙিয়ে হাসছে জেসি। আয়াশের কলার চেপে ধরে কাছে যায়, গন্ধ শুঁকছে তার গায়ের, নাক নিয়ে হুসহুস করে শব্দ আসছে। কী ঘৃণ্য এই কাজগুলো! আয়াশ তাকে সরাতে চাইলেও সরছে না। এই সুযোগে সাফওয়ানকে পেছন থেকে হাত দিয়ে স্থান ছাড়ার তাগাদা দেয় অন্তিহা; ফলে মন খুলে দাঁত বের করে হেসে দিয়ে চলতে থাকে সাফওয়ান। গাড়ির ফ্রন্ট সিটে নিয়ে বসিয়ে দিল সে অন্তিহাকে।

“বাড়িটা পছন্দ হয়নি আপনার, তাই না?”

​তাকে উত্তর দিল না অন্তিহা, সে জেসির জন্য চিন্তিত হতেই সাফওয়ান তাকে আশ্বাস দেয়,

“আয়াশ ছেড়ে না দিলে ইশারা ছেড়ে দেবে জেসিকে, আপনি রিল্যাক্স হয়ে বসুন।”

​জেসি আয়াশের গায়ের ওপর আবার এসে পড়ে, কলারটা নিজের দিকে টেনে শুঁকে নেয় স্ট্রং ম্যানলি গন্ধটা, আর ঘোরে দুলে দুলে হিসহিস করে বিরক্তি নিয়ে বলে,

“নো নো নো, দিস পারফিউম। না এটা ভালো না। ওটা ভালো ছিল, কী দুর্দান্ত ছিল সেই কড়া পারফিউমের গন্ধ। আয়ুউউউউশ।”

​তার গলার স্বরটা কর্ণভেদ করে পর্দায় লাগতেই রাগের সাথে ঠাস করে একটা থাপ্পড় পড়ল গালে। ছিটকে ঘাসের ওপরে পড়ে। রাগে ফণা তুলছে আয়াশ। হাতে গ্লাভস থাকায় মনে হয় গাল দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়া থেকে বেঁচে গেল এইবার মেয়েটা। ছলছল চোখে উঠে দাঁড়াতেই আয়াশ ক্রুর গলায় কটাক্ষ ও অপমান করে বলতে থাকে,

“তুমি জানো তুমি বেহায়া একটা মেয়ে? গায়ে পড়া স্বভাব তোমার, আর আমি এসব মেয়েদের একদম সহ্য করতে পারি না। অন্তত নিজের মধ্যে আত্মসম্মানটুকু রাখো।”

​জেসি গালে হাত দিয়ে গুঙিয়ে গুঙিয়ে কান্না করছে, ড্রিংক করেছে এতটাই যে মেয়েটার দুনিয়ার প্রতি খেয়াল নেই। আয়াশ হাঁসফাঁস করছে রাগে। জেসি কান্না করে বলতে নেয়,

“আপনিও ভালো….”

​‘ওয়াক’ করে পেটের সমস্ত খাবার ও যা ছিল বমি করে দিল আয়াশের নতুন সুটের ওপর। আঁশটে গন্ধ তৎক্ষণাৎ ছড়িয়ে পড়ল তার গায়ে। শরীর এবার থরথর করে কাঁপছে আয়াশের; পাগুলো একই স্থানে জমে গিয়েছে। নিজের কাপড়ের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটগুলো কাঁপছে তার। জেসি নিজের ছোট পার্স থেকে একটি টিস্যু বের করে এগিয়ে যায় আয়াশের কাছে, শরীরে হাত দিয়ে পরিষ্কার করতে ব্যস্ত হলো পিচ্ছিল দুর্গন্ধযুক্ত ময়লাগুলো। তখনো আয়াশ নিজের বাকশক্তি হারিয়ে কাঁপছে। গায়ে পড়া পর্যন্ত কোনোভাবে মানা গেলেও এটা তার শরীর অবশ করে দিয়েছে। হঠাৎ মাথায় কিছু আসতেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল সে জেসিকে। কম্পিত হাতে কিছু মানুষের সম্মুখেই গায়ের সুট খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে; গাড়ির দিকে এগোচ্ছে ব্যস্ত পায়ে। জানা নেই গাড়ি ঠিকভাবে চালাতে পারবে কি না, কিন্তু বাড়িতে গিয়ে কিছু করতে হবে। চোখগুলো ঝাপসা হয়ে আসছে বারবার।

​পেছনে সেখানেই খোলা আকাশের নিচে ঘাসের ওপরে শুয়ে চেঁচিয়ে বলে চাঁদকে উদ্দেশ্য করে,

“এই ইডিয়ট আই লাভ ইউ, কেন আসলে আমার জীবনে? যদি দূরেই থাকবে?”

____

​অন্তিহাকে নিয়ে গাড়িতে এগোচ্ছে সাফওয়ান। ছেলেটি গাড়িতে কথা খুব কমই বলে বুঝল অন্তিহা, তবে শ্বাস নেয় বড় বড়, যেন দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গাড়িটি এগোচ্ছে নিজ গন্তব্যের দিকে। বাহিরে একের পর এক গাছ ও বাড়িগুলো ফেলে চলেছে। ফ্রান্সের সকাল ঠিক যতটা সুন্দর, রাতও সুন্দর। রিফ্রেশার চালু করছে না, তাই গাড়িটির ভেতরে একটা ম্যানলি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সাফওয়ান অনেকটা সময় পর দৃঢ় গলায় জিজ্ঞেস করে,

“পাপ্পির কাছে যাবেন নাকি হোস্টেল?”

​“আপনি পাপি কাকে বলছেন? আর চেনেন কেমন করে এত কিছু?”

​অন্তিহার গম্ভীর মুখে গভীর প্রশ্নতে হাহাহা করে হেসে দেয় সাফওয়ান। বাহিরে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে বলে,

“কাম অন অন্তু, আমি আপনার সম্পর্কে এতটুকু জানব না?”

​“স্টপ।”

​সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি ব্রেক কষে সাফওয়ান। অন্তিহার দিকে তাকায়। অহীনের বাড়ির সামনে এসেছে সে। উইকেন্ডে আর কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে নেই। গাড়ি থেকে নামতে নিলে সাফওয়ান তার হাতের কব্জি ধরে বসিয়ে দেয়; ওর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ছেড়ে দেয় আবার। অন্তিহা নিজের হাত অপর হাত দিয়ে ঘষে নেমে যায় গাড়ি থেকে। গাড়ির উইন্ডোর কাছে ঝুঁকে বলে,

“মনের ভাব পাল্টে দেওয়া যায় না। আপনি ভাবেন যাকে চান, ছিনিয়ে নেবেন। আর আমি ভাবি আমি যাকে চাই, সে তাকেই পাক যাকে সে ভালোবাসে। আমার জন্য একটা কাজ করতে পারবেন? দোয়া করবেন যাতে তাকে পাই।”

​“দোয়া?”

​সাফওয়ান শীতল গলায় পাল্টা প্রশ্ন করে। সে এগিয়ে আসে অন্তিহার নিকট, একটি টিস্যু দিয়ে তার কপালের ঘাম মুছে দিতে দিতে বলে,

“আমি দোয়া করি যাতে আপনার ভালোবাসার মানুষটা খুব তাড়াতাড়ি মালাকুল মউতের মুখোমুখি হয়।”

​মুহূর্তে একটা থাপ্পড় তার গালে পড়ে। অন্তিহার আঁখিজোড়া রক্তাভ হয়েছে। ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু কে চায়? যার সুখের জন্য সে এত দূর এসেছে, তার মৃত্যু কামনা করা মানুষটা অসহ্য হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। সে হুমকি দেয়,

“নেক্সট টাইম আমার পিছু নেবেন না, আমি আপনার নামে কেস করে দেব।”

​শরীরের সাথে শক্ত হয়ে লেগে থাকা ড্রেসটা নেটে একটু ওপরে তুলে অন্তিহা সিঁড়ির দিকে যায়। কয়েকটা সিঁড়ি উপরে উঠতেই সাফওয়ানের সেই আগের মতো ডাক আসে,

“মিস গম্ভীররররর! আপনি চান বাড়িটা পুড়িয়ে দিই? লস হয়ে যাবে, বরং বিক্রি করে আপনাকে আমি ডায়মন্ডের জুতো বানিয়ে দেব।”

​উত্তরে অন্তিহা কেবল ঝুঁকে হাতের মধ্যমা আঙুল দেখিয়ে বলে, ‘ফাক’। বাড়িতে প্রবেশ করে অন্তিহা, কিন্তু এতেও থামেনি সাফওয়ান। নির্লজ্জের মতো গর্জে ওঠে,

“Yes, baby... fuck you harder!”

​—---

​সকালের আমেজ চারপাশে উজ্জ্বল হয়ে আছে, পাখিদের কিচিরমিচির ডাক শোনা যাচ্ছে। বেশ অনেকগুলো দিন পর আশার সঙ্গে মন খুলে কথা বলার কারণে অহীনের ঘুমটাও বেশ দারুণ হয়েছে। শরীরটা আড়মোড়া ভেঙে শোয়া থেকে উঠে বসে। বাড়িটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে আজ। কিচেনের দিকে উঁকি দিয়ে তাকায় একবার। শাড়ির আঁচল ঝুলছে, নিশ্চিত কুহু। ভেবেই জোরে জোরে ডাকে,

“আম্মু কী নাস্তা বানালে?”

​রান্না ঘর থেকে কোনো সাড়া পেল না সে। উঠে ওদিকটায় গিয়ে বড় একটা হাই তুলতেই মুখটা হাঁ হয়েই রইল তার। উঁচু করে হেয়ারব্যান্ড দিয়ে চুল বাঁধা, ঘাড়ে ছোট ছোট চুলগুলোর ডান পাশে বড় একটা কালো তিল। সেজেগুঁজে কোথাও যাওয়ার জন্য হয়ত আগেভাগেই তৈরি হয়ে নিয়েছে। অহীনের পুরুষ সত্তাটা কেমন টনক নড়ে ওঠে। এগিয়ে গিয়ে আলতো করে উন্মুক্ত পেটে হাত রাখতেই হকচকিয়ে দূরে সরে যেতে চায় আশা, তবে সরতে দিল না অহীন। টেনে ধরল শক্ত করে, নিজের লম্বা শক্ত আঙুলগুলো গেঁথে দিল নরম চামড়ার মাঝে। হতবাক আশা বলে ওঠে,

“অহীন ছাড়ো।”

​শুনল না তার বেয়াদব পেঁচাটা তার বাধা। সকালের ঘুমন্ত ঘোর আর উত্তেজনা, সঙ্গে মিশেছে নারী দেহের নেশা। ঘাড়ে নাক ডুবিয়ে শুঁকে নিচ্ছে সব সুবাস। ঘোর কাটানোর কোনো ইচ্ছে নেই, সে হিসহিস করে অস্ফুট স্বরে বলে,

“বউ।”

​আবার বলে,

“আমার।”

​নাকের সঙ্গে এবার ঠোঁটও ছুঁয়ে যাচ্ছে তার কাঁধ। ছোট ছোট চুমু, অজানা নিষিদ্ধ বাসনা। আশা নড়ে ওঠে, হাতের কাজ রেখে ঝটকায় দূরে যেতে চায়, বিরক্ত হচ্ছে সে। তবুও অহীন ছাড়ছে কই তাকে? অহীনের কোনো তাড়া নেই, সে নিবিড়ভাবে কাছে টানছে একটু একটু করে—ঠিক যেমন কোনো স্পেশাল ডিশ খাওয়ার সময় খুব ধীরে খাওয়া হয়। টান দিয়ে ঘুরিয়ে নিতেই আশার চোখের দিকে চোখ মেলে তাকায়, চোখের ঘন পাপড়িগুলো ভিজে একাকার হয়ে আছে আর ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে আছে। অহীন এক হাতে ঠোঁটে স্লাইড করে দিয়ে সামনে থেকে গলায় চুম্বন করা অবস্থায় বলে,

“আম্মু আব্বু কোথায়?”

​ভেজা হাতে অহীনের উন্মুক্ত অ্যাবস-এর কাছে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাচ্ছে, এতে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে অহীন। আশার বুক ক্রমাগত ওঠানামা করছে, সে বলছে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে,

“দাদু অসুস্থ ও বাড়ি যাব আমরা, ফুম্মি কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে গিয়েছে চলে আসবে।”

​অহীনের হাত উদর ছেড়ে নিতম্বে নিয়ে উঁচু করে কিচেন কাউন্টারে বসায় তাকে। আশা এই মুহূর্তে ব্যাকুলতা দেখিয়ে বলে,

“তুমি বলেছিলে ধীরে ধীরে সব হবে, প্লিজ তাড়াহুড়ো করো না।”

​কথাটা থামিয়ে দিল অহীনকে, তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। মুহূর্তকাল ব্যবধানে সে আবারও চেপে ধরে আশাকে। এবার চিবুকের নিচে হাত দিয়ে উঁচু করে বড় বড় শ্বাস নিয়ে বলে,

“সেদিন তোকে আয়াশ কেন ছুঁয়েছিল আশু? আমার এখনো কষ্ট হয়। বিয়ের আগে থেকে এসব দেখছি আর কত?”

​এত সময়ের উত্তেজনা ও ভালোবাসার থমকে যাওয়া প্রহরটুকু বিষাদময় হয়ে উঠল। আশা নিশ্চুপ হয়ে ওর দিকে তাকায়। এতে অহীন চিবুকের নিচে থাকা আঙুলটা কানের নিচে নিয়ে যায় স্লাইড করে, আর বলে,

“তুই আমাকে বলার সুযোগ দিসনি সেদিন, কিন্তু আজ আমি তোকে দিচ্ছি বল কেন ছুঁয়েছে? আমার বুকেও নিজ থেকে কখনো মাথা রাখিসনি তুই, ওর বুকে কেন রাখলি?”

​আশা ফোঁস করে শ্বাস নেয়। স্বল্প অনুশোচনা প্রকাশ করে বলে,

“সরি, আমি বুঝতে পারিনি তুমি দেখেছ।”

​“না দেখলে ভালো হত?”

​“তা কখন বললাম?”

​“বলিসনি? তাহলে এখন বল কেন ছোঁবে আমার জিনিস দ্বিতীয় কোনো পুরুষ? বিয়ের আগের কোনো হিসেব আমি চাই না, বিয়ের পর যতবার তোকে ছুঁয়েছে আমাকে হিসেব দে। যেই শরীরে স্পর্শ করার অপরাধে এখনো আমি শাস্তি পাচ্ছি অন্যকেউ কেন ছুবে সেই শরীর?”

​কথাটা বলার সময় তার কণ্ঠে কাঠিন্যতা থাকলেও, চোখ উল্টো পথে ঘুরছে। শাড়ির এলোমেলো স্থানগুলোতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে, শাড়ি দিয়ে আবৃত করা স্থানগুলোও টেনে টেনে নিজের কাছে উন্মুক্ত করছে সে। চোখটা তার বড্ড বেহায়াপনা করছে, শাড়িটা খুকতে না পারার আফসোস গুলোও জমে যাচ্ছে ভেতরে, এতে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা কাজ করছে আশার। সে বলল,

“অহীন দূরে যাও…”

​“যা জিজ্ঞেস করেছি উত্তর দে।”

​আশার শরীরের উন্মুক্ত স্থানগুলোতে আঙুল দিয়ে আঁকিবুঁকি কাটছে অহীন। এতে ছোট নারী দেহটা বারবার কম্পিত হচ্ছে। প্রশ্ন উত্তর দেওয়ার জন্য তো বলতে হবে, তার জন্য শব্দ প্রয়োজন, কিন্তু শব্দগুলো দলা পাকিয়ে যাচ্ছে গলায়। পেটের ভেতর প্রজাপতিদের খেলা অনুভব করে অস্ফুটস্বরে কম্পিতভাবে বলে,

“আমি তো বিরক্ত হয়ে স্পষ্ট ভাবে বলতে গিয়েছিলাম যাতে বিরক্ত না করে, আয়াশই হঠাৎ টান দিয়েছিল।”

​“কিছু বলিসনি কেন?”

​“থা থাপ্পড় দিয়েছিলাম তো।”

​অহীনের উত্তাল সমুদ্রের ঝড়ের মতো খিটখিটে মেজাজটা এতটুকু কথায় একদম তলদেশের মতো শান্ত হওয়ার জন্যই কি যথেষ্ট নয়? সে থেমে যায়। আশার কাঁধের থেকে সামান্য নিচে শক্ত চুম্বন দিয়ে বলে,

“দ্যাটস মাই গার্ল।”

​“এই রাগে ও জেলাসিতে তুমি সেদিন ক্লেরার সাথে এসব করেছ…”

​“হিসসসস আমার রুচি এতটাও নিম্নমানের না যে যেখানে-সেখানে বীজ রোপণ করব, তাও আবার ওসব ফাকিং জেলাসি থেকে! আমার চাষের বীজ আমি নিজের একান্ত খাঁটি জমিতে রোপণ করব তবেই তো ভালো ফসল হবে।”

​মুচকি করে ফোঁস করে লজ্জা মিশ্রিত হাসি হাসে আশা। অহীনের দিকে তাকিয়ে এবার কড়া গলায় শাসিয়ে বলে,

“দুরে সরো এবার, নয়ত ফুম্মিকে বলব।”

​অহীন ওর সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়ায়। দূরত্ব যেন এখন সব মুছে ফেলতে চায় সে, তবে বাধা হয়ে আছে আশা। মেয়েটা তাকে ভয় পায়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে কিছু করে দিলেই আবার সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। অহীনের এই মুহূর্তে আবদার কম, সেটা একটু সান্নিধ্যতা পাওয়া, যেটা পাচ্ছে অল্পস্বল্প। এগিয়ে বক্ষঃস্থলে মুখ নিয়ে যায়। মাথা রেখে টেনে আনে আরও কাছে। আস্তে করে আবেগী গলায় শুধায়,

“একটু এভাবে থাকি? অনেক দিন হলো তোর নিকট শান্তির খোঁজে আসি না।”

​আশা বাধা দিল না, কাজ তেমন নেই বললেই চলে। হাত দিয়ে অহীনের চুলগুলো গুলিয়ে দিচ্ছে। অহীন একদম চুপচাপ আবেশে আশাকে কাছ থেকে অনুভব করছে। দুজন নরনারীর মধ্যে কোনো কথা নেই তবুও যেন কত কথা। বক্ষঃস্থল থেকে মাথা কাত করে অহীন বলে,

“আশু আমার ভয় হয় তোকে হারানোর। কখনো আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা বলিস না, কেমন? ভুলগুলো আমরা এমন ভাবেই শুধরে নেব। তোর কখনো সরি বলতে হবে না আমি বলব। তবুও দূরত্বের প্রণয়ের আগুনে জ্বালাস না আমায়। কষ্ট হয় খুব।”

​আশা উত্তর কী দেবে? এতটা কাতর গলা অহীনের, বিয়ের পর সম্পূর্ণ পাল্টে গিয়েছে লোকটা। কোনো কিছু না বলেই আবার বুকে টেনে নিল তাকে। সময় যাচ্ছে নিজ গতিতে। কতটা সময় একই ভাবে একে অপরের মাঝে শান্তির নিঃশ্বাস নিল জানা নেই। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে হোঁশ ফেরে আশার। অহীনকে সরাতে ধাক্কা দে, খেয়াল করে দাঁড়িয়েই ঘুমিয়ে গিয়েছে অহীন। তাকে শক্ত করে ধরে, এই গরমে ঘুম আসল কেমন করে বুঝল না আশা।

জোরে ধাক্কা দিতেই হকচকিয়ে ধড়ফড় করে ওঠে অহীন। চোখ কচলে দূরে সরে যায়। আশা হেসে দিয়ে নেমে দাঁড়ায়। শরীরের কাপড় ঠিকঠাক করে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। এরই মধ্যে অহীন চলে গিয়েছে ওয়াশরুমে, আরামের ঘুমটা নষ্ট করে দিল। বউটার রাগ আর ভয়গুলো কোনোমতে কাটিয়ে আবার চলে যাওয়ার ধান্ধা করে নিল সে মনে মনে।

​শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘক্ষণ সময় নিয়ে নিজেকে স্থির করে নিল অহীন। বাহিরে কী হচ্ছে জানা নেই তবে এতটুকু জানে, আজ যেমন করেই হোক বউটার রাগ ভাঙাতেই হবে তারপর ব্যাক করতে হবে ফ্রান্সে। কাজটা তো এভাবে ফেলে চলে না, সৃজন রোজ খোঁজ করে তাদের কবে যাবে জানার জন্য।

​বাথরুম থেকে একটা তোয়ালে জড়িয়ে বের হয়ে আসে অহীন। রুমে এসে বিছানায় নিজের প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুই পেল, মায়ের স্বভাব সব কিছু সামনে রেখে দেওয়া। তৈরি হয়ে বের হয়ে চোখগুলো ব্যাকুল হয়ে খুঁজে চলেছে নিজ পেঁচিকে। কুহুর কক্ষ থেকে শব্দ আসছে। হাঁক ছাড়তেই বেরিয়ে আসে কুহু। বিরক্তি নিয়ে বলে,

“আশুকে সেই কখন বললাম তোমাকে ডেকে দিতে, এতক্ষণে রেডি হলে? ছেলে মানুষের এত সময় কেন লাগে?”

​তার কথায় থোড়াই কোনো পাত্তা অহীন দিল। উল্টো প্রশ্ন করে,

“আশু কোথায়?”

​“চলে গিয়েছে তোমার আব্বুর সঙ্গে। দুজনের এত তাড়া বাবা! চলো আমি তোমার সাথে যাব।”

​মনঃক্ষুণ্ণ হলো অহীনের। তাকে জানালো না একটিবার। এসব হচ্ছে কাজিন হওয়ার সাইড ইফেক্ট। কুহুকে নিয়ে বের হয় বাসা থেকে। বাইকে করে যাচ্ছে। কিছুটা দূরে অন্তিক আশার বাইকটাও ধরতে পারল তারা। তবে যাচ্ছে উল্টো দিকে। দুই জনের হাসির রেশ একদম অহীনের ভালো ঠেকল না। সে কুহুকে উদ্দেশ্য করে দেখায় সেদিকটায়,

“দেখো কত হাসি তাদের! তোমার সঙ্গে তো এত হাসতে দেখি না। তাই বলি যার যার স্বামী যে যে নিয়ে ঘুরতে হয়।”

​“এ আর নতুন কী? ওরা এক সঙ্গে হলে এর চেয়ে বেশি খিকখিক করে, তুমি তোমার মতো যাও তো।”

​ওমনি হঠাৎ বাইকের ব্রেক চাপে অহীন। কুহু হকচকিয়ে তার ওপর হেলে যায়, খুব জোর বেঁচেছে বেচারি। অহীনের পিঠে থাপ্পড় দিতে সময় নিল না।

“সমস্যা কী তোমার?”

​অহীন নিজের পৃষ্ঠদেশ ঘষে ঘষে বলে,

“সারাক্ষণ হাত চলে তোমার! তোমার মতো একদম আশা, এত হাত চালানোর স্বভাব দুজন পাল্টাও।”

​কুহু বলার আগেই অহীন আবার দেখায়, দূরে আশা ও অন্তিককে নামতে। দুজন বাইক থেকে নেমেছে। কুহু এতে বিরক্ত হয়ে বলল,

“তুমি আমাদের সাথে থাকো না তাই জান না। আশা এখন নিশ্চিত কিছু খাওয়ার জন্য নেমেছে। তোমার আব্বু আর চাচা এসব করে, দুই মেয়েকে নিয়ে।”

​ওমনি অহীন কুহুর মুখ চেপে ধরে সামনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। মুখ বন্ধ চোখ খোলা, ছোট ছোট চোখ কুহুর মুহূর্তে কোটর থেকে বের হওয়ার উপক্রম। দুটো মেয়ের সঙ্গে কথা বলছে ওরা।

​অন্তিকের ঠোঁটে হাসি, গালে হালকা চাপ দাড়ি সবে তো সেভ করেছে। চুলে জেল দিয়ে পরিপাটি হয়ে বাসা থেকে বের হয়েছে সে। আশার তাড়াহুড়ো ছিল কারো সঙ্গে দেখা করার, তাই তো পথে থামতে হলো তাদের। একটি ছোট আইসক্রিমের দোকানে দাঁড়াতেই পুরোনো বান্ধবীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল আশার। যদিও কলেজ লাইফে তেমন কথা হয়নি, মুখটা চেনা তাই কথা বলা। অন্তিক যেন উৎসুক হয়ে শুনছে তাঁদের কথা। আশা একটি মেয়ের হয়ে অন্তিককে বলল,

“ওর জন্য আইসক্রিম দাও।”

​একটি মেয়ে অন্তিকের দিকে তাকিয়ে ভারি লাজুক ভঙ্গিতে বলে,

“না না আশা, লাগবে না।”

​অতঃপর কানের কাছে গিয়ে একটু হিসহিস করে বলে,

“সুগার ড্যাডি? কেমনে পটালি? হ্যান্ডু আছে।”

​আশা সঙ্গে সঙ্গে জিব কাটে দাঁতে। বুড়ো মানুষ গুলোকে ইয়াং দেখাতে নেই, এই হলো প্রমাণ। তার শ্বশুরের বয়স দেখা যায় কিন্তু এখন ট্রেন্ডই সুগার ড্যাডির। সে থাপ্পড় দিয়ে বলে ওঠে,

“চুপ! না বুঝে কথা বলো না, আমার চাচা।”

​“ওওওওও।”

​মেয়েটি এগিয়ে আবার বলে,

“সিঙ্গেল?”

​আশা একবার অন্তিকের দিকে তাকায়, ভদ্রলোক মেয়েগুলোর জন্য আর আইসক্রিম নিচ্ছে। কতটা ভদ্রলোক আহা হাহারে! দুষ্টু হেসে উত্তর করে হতাশার গলায়,

“হ্যাঁ গো, সিঙ্গেল।”

​“মজা করছ?”

​আশা অবাক নেত্রে তাকায়; চোখে নাটকীয় মেকি কষ্ট ফোটায় এবং বলে নাটকীয় হতাশার স্বরে,

“না মজা কেন করব? উনি একটা মেয়েকে ভালোবাসতেন যখন ওনার আঠেরো বছর, আর মেয়েটা মাত্র জন্মেছিল। অটোতে যাওয়ার সময় রিকশায় দেখেই প্রেমে পড়েছিলেন। তখনই সিদ্ধান্ত নেন ওই তার মিস ডায়াপারকেই বিয়ে করবেন। কিন্তু ভাগ্য তাঁদের আর মেলায়নি আর চাচুও বিয়ে করলেন না। দাদু বলে তবুও রাজি হয় না।”

​বলতে বলতে নাক টেনে চোখে লেগে থাকা কুমিরের কান্নাটুকু মুছে নেয়। এগিয়ে গিয়ে মেয়েটির ঝুলন্ত ওড়নাটা টেনে ভালো করে চোখ মুছে নেয়। মেয়েটি সন্দিহান হয়ে হেসে বলে,

“মিস ডায়াপার? আমাদের বুদ্ধু বানাচ্ছ?”

​আশা দুই পা পিছিয়ে যায়। অন্তিকের দিকে ইশারা করে বলে,

“হাহ, ওনার মিইয়ে যাওয়া মুখটা দেখছ? তোমাদের জন্য আইসক্রিম নিচ্ছেন চকলেট ফ্লেভারের। এটা দিয়ে উনি তোমাদের দিকে হাসি মুখে তাকাবেন, কারণ ওনার মিস ডায়াপারেরও এটা দারুণ পছন্দের ছিল। কোনো মেয়ে যদি আইসক্রিম খেয়ে পছন্দ করে তার জন্মকুণ্ডলী সব বের করে খোঁজ করেন। এভাবেই এতগুলো বছর নিঃসঙ্গ হয়ে কাটালেন।”

​মেয়েটির হয়ত এত কিছুতে কিছুই যায় আসে না, একটু বয়স হলেও দেখতে এতটাই পারফেক্ট পুরুষ অন্তিক। সত্যিই তাদের দিকে হাসি মুখে আইসক্রিম এগিয়ে দিল। গালগুলো কত কিউট ভাবে দুই দিকে ফুলে উঠেছে, মনে হয় যেন একটা খরগোশ। দুই হাতে চেপে দিতে পারলে তৃপ্ত হতো আত্মা। হাত থেকে নেওয়ার সময় সামান্য স্পর্শ হতেই মেয়েটা থেমে যায়। এদিকে তাদের এহেম দৃশ্যে ঠোঁটে কামড় দিয়ে তাকিয়ে আছে কুহু, অহীন তো আছেই আগুনে ঘি দেওয়ার জন্য। সে মায়ের কানে বলে,

“দেখলে কেমন মেয়ে দেখায়? এই জন্য বলি যার যার স্বামী নিয়ে যে যে যাও।”

​“চুপ থাকো।”

​মেয়েটির ওষ্ঠ জুড়ে লেগে আছে সামান্য আইসক্রিম। অন্তিকের হয়ত মনে হলো বাচ্চা মেয়েটা অন্তিহার মতোই মিষ্টি। ইস কত দিন হলো মেয়েটাকে দেখে না! এখন থাকলে সেও চকলেট আইসক্রিম ডিমান্ড করত। পকেট থেকে টিস্যু বের করে মেয়েটির হাতে দিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“তোমার নাম কী?”

​আশা মুচকি হাসছে; বেচারা শ্বশুর মেয়ের স্মৃতি মনে নিয়ে খাওয়াচ্ছে, অথচ মেয়েটি তাকে অন্য চোখে দেখছে। সত্যিই কিউট মানুষটা। সে তো আর জানে না তার আদরের ছেলের বউ কী ঘোল পাকিয়েছে। অন্তিক মেয়েটিকে আর একটি আইসক্রিম দিয়ে বলে নরম গলায়,

“তোমাকে একদম আমার…”

​শেষ করার আগেই আশা বলে ওঠে,

“মিস ডায়াপারের মতো লাগে, তাই না?”

​অন্তিক ভ্রু কুঁচকে তাকায়। এটা কেমন নাম! বলার আগেই আশা বলে,

“আরে মনে আছে আমার, ওকে বলেছি আমাদের মিস ডায়াপারের কথা।”

​অন্তিক বিভ্রান্ত হয়। বয়স হয়েছে সামান্য স্মৃতিশক্তির সমস্যা হয়; কিঞ্চিৎ সময় নিয়ে মনে করে ছোটবেলা অন্তুর জন্য অনেক ডায়াপার প্রয়োজন হতো, তাই দুষ্টুমি করে আকাশ এটা ডাকত। সে ফিক করে হেসে দিয়ে বলে,

“হ্যাঁ হ্যাঁ, আমার কিউট ডায়াপারের মতোই লাগে।”

​মেয়েটি সুযোগে এগিয়ে গিয়ে নিজের ফোনটা দিয়ে বলে,

“ভাইয়া আপনার নাম্বারটা দিন। মিস ডায়াপারের মতো যেহেতু আমাকে মনে হয়, যখন তাকে মিস করবেন কল দেবেন কথা হবে।”

​অন্তিকের মায়া হলো বাচ্চা মেয়েটার প্রতি। নিজের পকেট থেকে ফোন বের করে নাম্বারটা সেভ করে নিল তার। মেয়েটি চলে যেতেই অহীন হতাশ হয়ে মায়ের কাঁধে মাথা রাখে আর বিরাট আফসোস এর সঙ্গে বলে,

“হায়রেএএএএ গেলোরেএএএএ গেলো! এই মেয়েটা এই বয়সে আমার মায়ের সংসারে আগুন লাগিয়ে দিল। চলো তুমি আব্বুর সঙ্গে যাও, আমি ওকে একটা শিক্ষা দিয়ে আসছি।”

​যেই বাইক থেকে নামতে যাবে অমনি কুহু অন্তিকের জন্য জমানো রাগটুকু অহীনের পিঠে ঝাড়ে,

“চুপ চল! যা ইচ্ছে করুক ওই বুইড়া খাটাস।”

​অহীন বেচারা মুশকিলে আছে। এসে থেকে মারছে এই মহিলাটা। আসলে কি অহীন তার সন্তান নাকি কুড়িয়ে আনল আল্লাহ মালুম। তারা চলে যেতেই খুব পরিচিত একটি মুখ দেখে আশা এক গাল হাসে। চোখগুলো জ্বলজ্বল করে ওঠে। প্রদীপ দ্রুত পায়ে ওর সামনে এক গাল হেসে বলে,

“কেমন আছিস দোস্ত?”

​আশা একটু মান করে বলে,

“আমার সাথে অন্তু থাকলে প্রথম দিনই বাড়িতে চলে আসতি তুই। এখন কেমন আছি জিজ্ঞেস করা হচ্ছে?”

​অন্তিকের সামনে এমন ভাবে বলাতে খানিকটা লজ্জা পেল বেচারা। মাথা নিচু করে হেসে অন্তিকের সঙ্গে কথা বলে। তবে বেশ তাড়ায় আছে ছেলেটা। অন্তিক বলল,

“বাড়িতে এত দূর আসলে।”

​“না আঙ্কেল, আমি এখানে কাজে এসেছি একটু। আপনারা আসছেন শুনে ভাবলাম দেখা করি। চলে যেতে হবে।”

​আশা হাসে,

“তোর ভিসা কতদূর?”

​প্রদীপ ওর দিকে নুইয়ে আসে। হিসহিস করে বলে,

“ব্রো তোর কাজিনকে বলে দিস আসছি দুই সপ্তাহ পর। আমার জন্য যাতে রান্না করে রাখে।”

​“তুই বলে দিস।”

​“কথা বলে না আমার সাথে তেমন। এক সপ্তাহ হলো কল রিসিভ করে না।”

​আশার মুখটা মলিন হলো। সে বলল,

“বইপোকা জানিস তো।”

​“তবুও ইদানিং একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে।”

​নীরব রইল খানিকটা সময় দু'জন। অন্তিক দোকানে বিল দিচ্ছে। সে আসতেই প্রদীপ হাসি দিয়ে বিদায় নেয় তাদের থেকে এবং যাওয়ার আগে নিজের ফ্লাইটের তারিখ বলে যায় এবং তাদেরকেও একই সাথে যাওয়ার জন্য বলে। আশা ও অন্তিক বাইকে করে নিজ গন্তব্যে রওনা হয় আবার। অন্তত বেচারা জানেই না বাড়িতে তার জন্য কালবৈশাখীর ঝড় অপেক্ষা করছে।

_____

​বাহিরে আবছা অন্ধকার ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৪টা। বাথটাবে নিরিবিলি শরীর ছেড়ে শুয়ে আছে আয়াশ। সেই যে পার্টি থেকে ফিরে বাথটাবে বসেছে, উঠেনি এক সেকেন্ডের জন্যও। পুরোটা বাথরুম টাইলস করা, একটা বেডরুমের চেয়ে কম বড় নয়। প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুই আছে ছোট ছোট ক্যাবিনেটগুলোতে। চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে তার পুতুলের মিষ্টি হাসি মাখা মুখটা। ছোটবেলা অহীনের সঙ্গে কত মারামারি করত সব ভাসছে।

ক্লান্তিগুলো পানির ভাপের সঙ্গে হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে। একে একে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত স্পষ্ট হচ্ছে। গাড়িতে বসে হাতে হাত রাখা—সে কখনো নিজ থেকে কারো শরীর স্পর্শ করেনি, আশার করেছিল। জড়িয়ে ধরা, আহ্লাদ করে পুতুলকে ডাকা, সব কেমন স্মৃতি হয়ে গিয়েছে। অহীন কোথাও নেই এই স্মৃতিগুলোর মাঝে। এত এত আশার স্মৃতিগুলোর মাঝে তার মস্তিষ্ক ক্যাচ করে কিছুক্ষণ আগের ঘটনা; একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ডান্স করা এবং সাফওয়ানের কোলে অন্তিহা এমন ভাবেই মিশে থাকা যে তাঁদের মধ্যে কিঞ্চিৎ দূরত্ব নেই। ওমনি রাগে চোখ মেলে ছিটকে ফেলে দেয় বডি ওয়াশ ও শ্যাম্পুর বোতলগুলো আর গর্জে ওঠে,

“ডিক সাকার সাফওয়ান।”

​বাথটাব থেকে ঝটকায় উঠে দাঁড়ায় সে। ফ্লোর ড্রায়ার অন করে সুন্দর করে ভাঁজ করা একটি টাওয়েল পেঁচিয়ে নেয় কোমরে। আর একটি টাওয়েল দিয়ে চুল শুকাতে শুকাতে বের হয়। ফোনটা হাতে তুলে কারো নাম্বার ডায়াল করে পাশেই স্পিকারে রাখে। স্বল্প সময় নিয়ে কলটা রিসিভ হয় এবং ঘুম-ঘুম গলায় অন্তিহা বলে,

“এত রাতে?”

​“পুতুলের সঙ্গে কথা বলিয়ে দাও।”

​“এখন?”

​“এখন।”

​অন্তিহা ফোঁস করে শ্বাস নেয়। ফোনের দিকে তাকায়, সকাল ৪:৩৩। ঘুমে তাকানো কঠিন, আর লোকটা কি তার সঙ্গে নাটক করছে? সে কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বলে,

“ওরা বাড়িতে নেই আয়াশ। আর কিছুদিন পর চলেই আসবে। এর জন্য এত রাতে কল করাটা আপনার কাছে ভালো মনে হয়?”

​“তুমি কথা বলাবে নাকি আমি অহীনকে কল দেব? আর অহীনকে কল দিলে নিশ্চয়ই তাঁদের মধ্যে সমস্যা কমবে না, উল্টো বেড়ে যাবে।”

​“যা ইচ্ছে করুন। আমাকে কিসের হুমকি দিচ্ছেন? সকাল সকাল মাল খেয়ে টাল হয়েছেন?”

​“What's that fucking language, Antu?”

​“বাংলাই বলেছি। আয়াশ প্লিজ ঘুমোতে দিন। আর আশা আর ভাইয়া ইনশাআল্লাহ তাড়াতাড়ি চলে আসবে।”

​কলটা খট করে কেটে দিয়ে অন্তিহা বালিশে মুখ গোঁজে। একেই এত রাত অবধি জেগে ছিল, তার ওপর এই বেঘোর ঘুমের বাগড়াটা—ইস কতই না বিরক্তিকর লাগছে!

​অন্তিহা কলটা কাটতেই রাগে কিড়মিড়িয়ে ওঠে আয়াশের পুরুষালী লোমকূপ। চোখ বুজে রাগ বর্জন করে নেয়। অতঃপর কাবার্ড থেকে ট্রাউজার নিয়ে পরে নেয়। তোয়ালেটা ছোট ঝুড়িতে রেখে কাবার্ড খুলে ছোট আয়রন মেশিন নামায়। বিছানায় পাতানো ফকফকে সাদা চাদরটা মন মতো সেট করে সমান ভাবে। ছোট করে হাই তুলে নেয়। ঘুম পাচ্ছে খুব। কতই না ভালো হতো সবার মতো স্বাভাবিক জীবন হলে! এসেই বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে যেত। দূর থেকে বিছানাটা ভালো ভাবে দেখে আয়াশ জুতোগুলো একটি পাশে রেখে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ে। সে তো শুয়েই পড়ল তবুও কত বাহানা এই মস্তিষ্কের! চোখ বুজতেই হালকা ঘুম আসে, তবুও ঘোলাটে সব স্মৃতি যাতে নেই তার পুতুল। জ্বলন তৈরি হচ্ছে মনগহীনে। সে চায় না কখনো এটা ভাবতে তার পুতুল ব্যতীত কারও প্রতি কিঞ্চিৎ সময়ের জন্য বুকের ভেতরে মুচড়ে উঠেছে।

_____

​নিজ বাড়িতে কতগুলো মাস পর পা রেখেছে আশা। সেই গন্ধ সেই মায়া সেই মিষ্টতা! মন তো চায় যেন আর কখনো না ফিরতে, কিন্তু... একটা ‘কিন্তু’ থেকেই যায় তার মনে। অন্তিকের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তারা। বাসায় প্রবেশ করে হয়ত স্থির হতে পারল না, কোথা থেকে এসে গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইয়ান। ওকে বুক পাঁজরে জড়িয়ে ধরে উঁচু করে হাওয়ায় তুলে নেয় এবং উৎসাহিত গলায় বলে,

“কেমন আছিস বনুউউউউ?”

​এলোমেলো ভাবে তাইয়ানের গায়ে থাপ্পড় দিয়ে দিয়ে আশা কোল থেকে নামে। ঝাঁজালো গলায় বলে,

“খচ্চর! এসেছি প্রায় মাস পেরোল এত দিনে জিজ্ঞেস করছিস আমি কেমন আছি? দেখাও করতে গেলি না আমার সঙ্গে একটিবার!”

​তাইয়ান ওকে দূরে সরিয়ে বেশ ভাব নিয়ে বলে,

“এখন থেকে তোদের সঙ্গেই থাকব, তাই ভাবলাম আম্মু-আব্বুকে বেশি বেশি সময় দিই।”

​আশা এগিয়ে যায় হাসি হাসি গলায় বলে,

“স্কলারশিপ পেয়েছিস?”

​“দেখতে হবে না আমি কে? তাইয়ান শিকদার।”

​কুহু গম্ভীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অন্তিকের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়ছে তার মাথা। অন্তিক গিয়ে তার পাশে দাঁড়াতেই গা ঝাড়া দিয়ে সরে আসে কুহু। ডাইনিং টেবিলে বসে তাঁদের দরজার সামনে দেখে দুষ্টুমি ভরে হাসছে আর আপেল চিবোচ্ছে অহীন। তার খেদমতে তো মেতে আছেই তাশা একেই তো আদরের ছেলে তাঁদের অহীন, ছোট থেকে এখন মেয়ের জামাই। আশার চোখ তার দিকে পড়তেই ঠোঁট কামড়ে হেসে চোখে নেশা ছড়িয়ে উড়ন্ত চুমু খায়, সঙ্গে সঙ্গে লজ্জায় চোখ ফেরায় আশা। ছেলেটা একটা জাওরা। কুহু গম্ভীর মুখে জিজ্ঞেস করে,

“আমাদের আগে বের হয়েছিলে, তাহলে এত লেট হওয়ার কারণ কী?”

​নির্দ্বিধায় উত্তর দেয় অন্তিক,

“প্রদীপের সঙ্গে দেখা করেছে আশু আর তুই তো জানিস, কিছু না খাওয়ালে রাগ করে মেয়েটা।”

​“ওওওওও, প্রদীপের সঙ্গে? বাহ্‌ বাহ্‌ বাহ্‌!”

​কথাটা বলে কুহু স্থির রইল না, সিঁড়ি দিয়ে হনহন করে উপরে উঠে গেল। হতবুদ্ধির মতো তাকিয়েই রইল বেচারা; স্বামী জানলই না কী অপরাধ সে করেছে তার স্ত্রীর কাছে সে? অহীনের দিকে তাকিয়ে কাঁধ ঝাঁকিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করতেই অহীন ডান হাতে আপেল মুখে দিয়ে বাম হাতে গলায় ক্রস চিহ্ন এঁকে তাকে ‘RIP’ দেখায়। এতে বিস্ময় ও আতংকের আভাস পেয়ে ঢোক গেলে অন্তিক, সবে রাগ ভাঙালো বউয়ের, আবার কী করল এই হারামির বাচ্চা! দাঁতে দাঁত পিশে অহীনকে চোখ রাঙিয়ে উপরের দিকে সেও পিছু নেয় নিজ পেঁচির, যদিও জানে লাভের লাভ কিছুই হওয়ার নয়।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন