#দূরত্বের_প্রণয়_২
#স্বর্ণালী_ইসলাম
পর্বঃ৪৪
বিছানায় গুটিশুটি মেরে বসে আছে আশা, হেঁচকি তুলে তুলে কান্না করছে। শরীর কম্ফোর্টারে ঢাকা। সামনে দিয়ে অহীন গান গাইছে আর রেডি হচ্ছে,
“Kya jaane tu mere iraade
Le jaunga saansein chura ke"
ক্রন্দিত নারী শরীরে জড়িয়ে রাখা কম্ফোর্টারটা এক টানে খুলে ফেলে দিল। ঠোঁট কামড়ে বিছানার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। নগ্ন দেহ ঢাকার জন্য এক হাত আড়াআড়িভাবে শরীর আবজে অপর হাত বিছানার চাদর টান দিয়ে শরীর ঢেকে নাক টেনে কেঁদে উঠল আবার আশা। অহীনও কান্না শুনছে আর গুনগুন করে গান করছে। সম্পূর্ণ রেডি হয়ে আশার কাছে যায়।
“সোনা?”
আশা চোখ উল্টে অন্য দিকে তাকায়, অহীন ওর চিবুক ঘুরিয়ে নিজের দিকে ফেরায়, ঠোঁটে আদর এঁকে গভীর গলায় বলে,
“তোর আর প্লাস্টিকের তফাৎ বুঝতে পেরেছিস? ভুলে যাস কেন সোনাহহ? আমি সেডিস্ট আমি কান্না খুব পছন্দ করি কিন্তু ওই খেলনাগুলো কাঁদে না।”
পাশে থাকা বালিশ দিয়ে অহীনের মুখে সজোরে আঘাত করে গালি দিয়ে ওঠে আশা,
“জানোয়ার।”
নেশায় আরো ঘনিষ্ঠ হলো অহীন,
“এটা যখন রাতে বারবার বলছিলি ও মাই গুডনেস ইয়ার ইচ্ছে করছিল আমি তোর প্রাণ বের করে ফেলি..।”
অতিরিক্ত উত্তেজিত হতে হতে থামল সে। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে গম্ভীর হয়।
“তোর কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে সুস্থ আছিস। তবুও কাজ করতে হবে না আজ, অন্তুকে বলে যাব আমি। আমার সঙ্গে এখন থেকে নরমাল বিহেভ করবি আমি তোর বন্ধু নই হাসবেন্ড ওকে?”
অহীনের এসব কথা তার পছন্দ নয়। বন্ধু নয় হাসবেন্ড? অহীন রুম থেকে বের হয়ে গেল। নাক টেনে কান্না থামিয়ে বিছানা থেকে নামল। রুম থেকে বের হয়ে দেখে অহীন, অন্তিহা নাস্তা করছে। তার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
“আজকে লিভ নিয়ে নে অন্তু আশার শরীরটা ভালো না।”
মুখে স্যান্ডউইচ পুরে অস্পষ্ট স্বরে বলে অন্তিহা,
“জানি আজ অসুস্থ থাকবে। তাই আগেই লিভ নিয়েছি।”
তীক্ষ্ণ চোখে বোনের দিকে তাকায়, অন্তিহা ভাবলেশহীন খাচ্ছে। দরজার কাছে যেতেই খেয়াল হলো বাইকের চাবির কথা, বিরক্তির সঙ্গে ফোঁস করে শ্বাস নিয়ে আবারো ফিরে রুমের দিকে যায়। দরজা খুলতেই চোখ তার থমকে গিয়েছে যথাস্থানে। রাতে অহীনের নিজ হাতে ফেলে দেওয়া ওড়নাটা নিচ থেকে কুড়িয়ে গায়ে জড়াল সবে মাত্র আশা। পুরো রাত আশা নিজের বেয়াদবির শাস্তি পেয়েছে। এখন কোনো ছুতো নেই শাস্তির নাম করে ওই দেহে মেতে ওঠার। শুকনো ঢোক গেলে, আশা পেছনে তাকায়নি তখনো। ড্রেসিং টেবিল থেকে নিজের প্রয়োজনীয় কাপড় নিচ্ছে। অহীন ঠাস করে দরজা বন্ধ করতেই হকচকিয়ে নিজের গায়ের ওড়নাটা ঠিক করে তৎক্ষণাৎ পেছন ফিরে তাকায়। ভয়ার্ত মুখ অহীনকে দেখে স্বস্তি পেল। অভিমানে আঁটসাঁট রমণী মুখে অমাবস্যা নামিয়ে নিজের কাজে মন দিল তাকে কোনো প্রশ্নও করল না। আর না পাচ্ছে কিঞ্চিৎ লজ্জা। যে মনমরজি মতো দেখে তার সঙ্গে কিসের লজ্জা? বিয়ে হয়েছে তো কম সময় নয়। প্রায় বছর। অহীন পকেটে হাত দিয়ে নিজের ফোন বের করে। এগিয়ে যায় আশার কাছে এক হাতে পেঁচিয়ে রাখা ওড়নার নিচ দিয়ে হাত গলিয়ে দিল। ঘাড়ে নাক ঘষে হিসহিস করে জিজ্ঞেস করে,
“কোমর বা পেট ব্যথা সোনা?”
অভিমানী আশা ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিতে চায় তাকে,
“না তোমার হায়নার মতো কামড় আমার সয়ে গেছে সরো।”
“সরি সোনা, তোরও তো ভুল আছে তাই না? ওসব আমি অদেখা করলাম অ্যাম সরি সোনা।”
আশাকে আয়নার সঙ্গে চেপে ধরে সে, গায়ে পেঁচিয়ে থাকা ওড়নাটা গড়িয়ে নিচে পড়ে গেল। আশা কি বুঝতে পারেনি তার ভয়টাই অহীন হবে এই অবস্থায় দেখার পর। আশার বিরক্তির সঙ্গে কিঞ্চিৎ ভয় কাজ করছে। সে মোচড় দিয়ে মুখ খোলার আগেই তার মুখে নিজের আঙুল পুরে চুপ করিয়ে দিল। কানে ফোন রেখে বলতে থাকে,
“পাপি আমি আজ দুপুরে আসব, আশুর শরীরটা ভালো না একদম।”
ওপাশ থেকে আশার কথার প্রতিটায় মিথ্যার সংমিশ্রণে কতগুলো কথা বলল সে। অবশেষে কল কেটে দিয়ে আবারো আশাতে মন দেয়। আশার ঘাড়ে নিজের করা কামড়ের ক্ষতস্থানগুলোতে চুমু খাচ্ছে আর বিড়বিড় করছে,
“সরি সোনা, রাগাস কেন আমাকে? দুজনের ইচ্ছেতে লাভ মেক করলে খুবি ভালো হয়, ফোর্স করতে আমারও ভালো লাগে না। তুই কেন রাগাস আমায় সোনা?”
সে শুধুই বারবার আদুরে সোনাহ বলছে না। নিজের সব চাইছে পছন্দের স্থানগুলো ছুঁয়ে দিচ্ছে। কারণে আশা গুঙিয়ে উঠছে বারবার। অভিমান করে অভিযোগ করে অস্ফুটস্বরে,
“প্রতি সপ্তাহে বাড়ি থাকো তুমি কোথাও নাও না আমাকে। একটা সপ্তাহ একটু বাকিদের আনলাম গাল ফুলিয়ে ছিলে। শেষে ওই মেয়ের সঙ্গে রুমে গল্পও করছিলে জানতে চাওনি কেন এমন করলাম থাপ্পড় দিলে?”
তার কথায় ছেলেটার হাত থামে, আশার উদরে আঙুল স্লাইট করে নিল হাতটা।
“ওদের সামনে জেসিকে স্লাট বলে গালি দেওয়া আমার ক্যারেক্টারের ওপর আঙুল তোলা ঠিক ছিল?”
“তাই বলে ওদের সামনে থাপ্পড় দেবে?”
"ওদের সামনেই তুই বেয়াদবিটা করেছিলি। জেসি পাপির একমাত্র মেয়ে, আমার নিজের বোনের মতো। ও একটু অন্যরকম, তা আমি জানি কিন্তু তার জন্য তুই ওকে এভাবে গালি দিতে পারিস না। তুই আমার সঙ্গে বড় হয়েছিস, আমার কাছে তোর যেমন স্থান, জেসিকেও আমি ঠিক ততটাই বিশ্বাস করি। অন্তু আর জেসিকে তোকে এক ভেবেই চলতে হবে, ঠিক যেভাবে মাম্মাম আমাদের দুজনকে সমান ভালোবাসায় আগলে রেখেছে।”
আশা আর কিছু বলার আগেই পুনরায় হাত মুখে পুরে চুপ করাল তাকে অহীন। ঠোঁট গলিয়ে নিচে নামছে, চোখ আশার মুখের প্রতিক্রিয়া দেখছে। ছটফট করছে সে। সামান্য একটু ধরলেই মেয়েটা গলে যায় এতে বরং ভালোই হয় তার। জোর করতে হয় না। আশা বিড়বিড় করে বলে,
“তুমি শুধু এসব নিয়েই থাকো আমাকে পেলে। সময় তো দাও না।”
অহীন উঠে আসে। তাকে আরো একটু চেপে ধরে উরুতে হাত রাখে,
“এখন তো তোকেই সময় দিচ্ছি।”
“আমি বলছি বের হওয়ার কথা বাসা থেকে। কোথাও নিয়ে যাও না তুমি আমাকে। প্রতি সপ্তাহ নিজেও রুমে থাকো আমাকেও রাখো।"
ইতোমধ্যে সে শূন্যে ভাসছে, পেছন থেকে ধরে আছে অহীন তাকে। মসৃণ আয়নায় কোনো ধরার সুবিধা নেই। এই মানুষটা রাগ ভাঙায় না, শুধুই সরিতে কি হয়? তার মাঝে সিডিউস করে। অহীন তার কানের পাতায় নেশালো গলায় হিসহিস করে,
“দুপুর পর্যন্ত যদি আমাকে স্যাটিসফাই করতে পারিস তাহলে আজ পুরোটা দিন তোর।”
“উফমমমম।”
একটু আগে ক্ষতস্থানে চুমু খাচ্ছিল এখন সেই স্থানগুলোতেই তৈরি করছে নতুন ছোঁয়ার দাগ। আশা বারবার তার উন্মাদনায় ঘায়েল হচ্ছে। পুরো ঘর জুড়ে অদ্ভুতভাবে তাদের ভালোবাসার শব্দ ও গন্ধ গুঞ্জন করছে। অহীনের মনমতো সব হচ্ছে মধুর শব্দ যা আসছে তারই প্রেয়সীর কাছ থেকে।
--
আশার কক্ষের সামনে তখনই বসে থাকা ঠিক মনে হয়নি অন্তিহার। মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে তাইয়ান বলদাকে বলতে বাড়িতে না থেকে কোনো ক্রুজে থাকার কথা। তবে ছেলেটা ছোট এত কিছু বোঝে না। বোনের কাছে থাকলে ভালো থাকবে। জানালার কাছে বসে আছে একটি নভেলের বই খুলে। হঠাৎ জানালার সামনে সাফওয়ানের অবয়ব প্রকট হতেই হকচকিয়ে ওঠে, ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে সে। সাফওয়ান ক্ষীণ গলায় জিজ্ঞেস করে,
“আজকে লিভ নিয়েছেন?”
বিরক্ত হয়ে উত্তর করে,
“আজকে আশা সিক, বাসায় একা রেখে যেতে ইচ্ছে করছে না।”
“অহীন তো বাড়িতেই, চলুন ডেটে যাই।”
“না।”
সরাসরি অন্তিহার নাকচে ভ্রু কুঁচকে নিল সাফওয়ান, গাল বাঁকিয়ে মিনমিন করে,
“আমি তো বলছি না রুমে যেতে, বিকেলে একটু ঘুরব দু'জন, ফেরার সময় যদি আমাকে ভালো লাগে একটা লিপকিস আর নয়ত কালকে থেকে…।”
“আমার পেছনে আর আসবেন না।”
সাফওয়ান শেষ করার আগেই শর্ত রাখে অন্তিহা, সে গাল বাঁকিয়ে হাসল বলল,
“ওকে ডান। তাহলে আজকে দুপুর তিনটায় আমি নিতে আসব।”
দুপুর তিনটা বলে এখন প্রায় চারটা, সাফওয়ান সেই থেকে অপেক্ষা করছে অন্তিহার জন্য। আজকে গাড়ি আনেনি, বাইকে করে নেবে যাতে সুযোগ করে একটু দুষ্টুমি করা যায়। বাইকের সঙ্গে পায়চারি করছে সেই কখন থেকে। বেশ অনেকটা সময় পর দরজার দিকে তাকাতেই স্তব্ধ হলো তার চোখ, হাতে থাকা ফোনটা ঠাস করে নিচে পড়ে গিয়েছে। এই নিয়ে দুবার হলো অন্তিহাকে মডার্ন লুকে দেখছে। শাড়ি পরার মানেই খুঁজে পেল না সে। পুরো দেহ তো উন্মুক্তই হয়ে আছে। উদরের কেন্দ্রবিন্দু দেবে আছে, ফর্সা ত্বক হওয়াতে চোখ আটকে গিয়েছে সেখানটায়। টাইট ব্লাউজ খুবি কষ্টে চেপে রেখেছে তাকে। এই মেয়ে ডেটে যাবে নাকি তাকে খুন করবে? কাছে এসে চুটকি বাজাতেই হুঁশ ফেরে তার। খুকখুক করে কেশে পরনের হুডি খুলে অন্তিহার বুকের ওপর ছুঁড়ে মারল একটু ক্রুর গলায় বলে,
“মানছি আমাকে এসব দেখাতে ভালো লাগে আপনার, তাই বলে আমাকে দেখাতে গিয়ে পুরো দুনিয়াকে দেখাবেন?”
তার হুডি তারই মুখের ওপর ছুড়ে দিয়ে অন্তিহা বিরক্তি নিয়ে বলে,
“এসব ফ্যাশন স্টুপিড ব্লাডি।”
সাফওয়ান এগিয়ে যায় তার দিকে, হুডি দিয়ে চেপে ধরে অন্তিহাকে, একদম অসহ্য লাগছে, বিয়ে করা বউ হলে বোঝাত এই মেয়েকে।
“এভাবে যাওয়া যাবে না মিস প্লিজ সব সময়ের মতো কুর্তি পরে আসুন।”
ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল তাকে অন্তিহা,
“এভাবেই যাব, নয়ত যাচ্ছি না গুড বাই।”
“তাই বলে অর্ধনগ্ন শরীর দেখাবেন? লাগবে না যাওয়া যান।”
ভ্রু কুঁচকে নিল অন্তিহা অহংকারে শরীরের শিরায় শিরায় রক্ত দ্রুতগামী হচ্ছে। রক্তাভ চোখে তাকিয়ে ফিরতে নিল হাতের কব্জি ধরে থামায় সাফওয়ান বেচারা তাকে নিয়ে ঘুরতে চায়। এই মেয়েটা আজকাল অতিরিক্ত করে তার সঙ্গে যা একদম ভালো লাগছে না আজ। একটু ঘোরার কথা বলাতে এমন করছে আন্দাজ ঠিকই তার। থামল অন্তিহা। সাফওয়ান তাকে অবাক করে দিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে, কব্জি ধরে রেখেই ফোন বের করে, টান দিয়ে আরো কাছে এনে বিড়বিড় করে বলে,
“আপনার ধারণা নেই আমার কানেকশন সম্পর্কে।”
কাউকে কল দিয়ে কথা বলল সে কিছু। ফোন পকেটে রেখে দূরে গিয়ে অন্তিহাকে এবার আপাদমস্তক দেখে, ইচ্ছে ছিল নরমাল কাপলদের মতো স্বাভাবিক একটা ডেট করবে। সম্ভব হলো না এই মেয়েটার জন্য, তার কি সাধারণ জীবনযাপন করার অধিকার নেই? তবে অন্তিহার বাঁকানো কোমরের দিকে তীক্ষ্ণ লোভনীয় চোখে পরখ করে ঠোঁট কামড়ে বলে,
“You look so sexy baby. আজ বিয়ে করবেন? রাত জমে যাবে।”
বলতে বলতে তার গাড়িটি এসে থামল, খুবি অল্প সময়ে খানিকটা অবাক হলো অন্তিহা। তবে তার কথায় ভড়কাল,
“আপনার ইনটেনশন ঠিক নেই, যাব না। কে জানে রেপ..।”
তার কথা শেষ করার আগেই রাগী গলায় ধমকায় সাফওয়ান,
“থাপ্পড় দেব আপনাকে উল্টাপাল্টা কথা বললে, আমি ঠোঁটকাটা হতে পারি তবে অসম্মতিতে কাউকে ছুঁই না।”
গাড়ি থেকে একজন প্রৌঢ় লোক নেমেছে, সে খুশি মনে অন্তিহাকে টেনে নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ায়। লোকটার থেকে চাবি নিয়ে বসতেই যাবে অন্তিহা পেছনে উঠে বসল, জিভ দিয়ে গাল ঠেলে গম্ভীর গলায় শাসায় সাফওয়ান তাকে,
“আমাকে কি ড্রাইভার মনে করছেন? সামনে আসুন আমি পেছনে আসলে আমার ড্রাইভার গাড়ি কোর্টে নিয়ে যাবে সুইটি।”
অন্তিহা তীক্ষ্ণ নজরে তাকাতেই ছেলেটা একটু অস্বস্তিতে পড়ল, ‘চ’ করে বলে,,
“ইয়ার আপনাকে ইমপ্রেস করার সুযোগ না দিলে কীভাবে হবে? অন্তিহা আপনি আমাকে কথা দিয়েছেন, একটু নরমাল হতে দিন। আপনার সঙ্গে ফোর্স করার মতো মুড আমার নেই।”
অন্তিহা অগোচরে মুচকি হেসে সামনে এসে বসল, এতে ছেলেটার ঠোঁটে হাসি ফুটেছে, সে জানে না আদৌও কি মেয়েটা তাকে কখনো সুযোগ দেবে কি না। তবে সে একটা কথাই কেবল জানে অন্তিহাকে চাই, এক জীবনের জন্য চাই। যেকোনো মূল্যে। মূল্য যদি কারো প্রাণ হয় সে পিছু হটতে রাজি নয়। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আগায় সে।
বিশাল বড় শপিং কমপ্লেক্স এরিয়াতে এসে থামল সাফওয়ানের গাড়িটি। চারপাশ একদম নীরব, লোকসংখ্যা শূন্যের কোটায় বললেই ঠিক হবে। গাড়ি থেকে নেমে অন্তিহার পাশের দরজাটি খুলে দিল সে। উঁচু হিল পরে বেশ ধীর পায়ে নেমে আসে অন্তিহা। দীর্ঘ সময় একই ভাবে বসে থাকায় এলোমেলো হয়েছে শারী তার। দুই হাতে উচু করে ধরে নিলো। পরে যেতে নিলে গাড়িতে হাত দিয়ে নিজেই নিজেকে ধাতস্থ করে। সাফওয়ান এগিয়ে আসলো তার কাছে, নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয় ঢ়দি সামনের নারীটি হয় সবচেয়ে প্রিয়। এক হাটু মুড়ে বসে কুচিধরে কিঞ্চিৎ বিরক্তি নিয়ে বলে
“শাড়ী পড়তে পারেন না তাহলে কেনো আমাকে জ্বালানোর জন্য এসব করেন?”
“আপনি শাড়ী পড়াতেও পারেন?”
“খুলতেও পাড়ি গাড়িতে উঠুন?”
মলের ভেতরে প্রবেশ করতেই কনকনে ঠান্ডায় কাঁপল তার শরীর। একে তো পাতলা শাড়ি, তার ওপর শরীরের অনেকটাই উন্মুক্ত। ভেতরে এসি চলছে। সাফওয়ান তার এই হালত দেখে কিঞ্চিৎ হেসে বলল,
“মিস, আমার ইচ্ছে ছিল বাইরে ঘোরার। তবে আপনার এই অবস্থা আমাকে এর চেয়ে ভালো কোনো স্থানের সন্ধান মেলায়নি।”
অন্তিহা চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে। অদ্ভুত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে,
“পুরো কমপ্লেক্স ফাঁকা করে ফেলেছেন? টাকার গরম দেখাচ্ছেন?”
সাফওয়ান মুচকি হাসে তার কথায় অন্তিহার ঠিক পেছনে গিয়ে, তার কোমরের দিকে হাত বাড়িয়ে নিচু স্বরে হিসহিসিয়ে বলল,
“এখানে তো আপনার এই সেক্সি বডির গরম বেশি। এর কাছে টাকার গরম তো ফিকে, মিস!”
তার হাতে ‘ঠাস’ করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে ধমকে ওঠে অন্তিহা,
“হাত সংযত রাখুন, নয়তো পুড়ে যাবেন!”
সাফওয়ান মুখে একটা ‘চ’ সূচক শব্দ করে একপাশে সরে দাঁড়াল। তারপর ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“আপনিও হট, আর আমার টাকারও বেশ গরম আছে। দারুণ কম্বিনেশন! আমরা দুজন মিলে সব জ্বালিয়ে দেব।”
তার কথায় বাঁধ ভাঙল অন্তিহার রাগী রুক্ষ মেজাজের। ফিক করে হেসে দিল তৎক্ষণাৎ। এস্কেলেটর দিয়ে উপরে উঠছে অন্তিহা, সব কটা শপেই দুটো বা একটি মেয়ে। কাস্টমার নেই। তাকে নিয়ে ৩ তলায় ওঠে। বিশাল রেস্টুরেন্টের একটি কোনায় গিয়ে বসল দু'জন। ফুটপাতে প্রেয়সীর সঙ্গে মজা করার কপাল যার নেই সে এভাবেই থাকবে। আড়চোখে অন্তিহার দিকে তাকাল সে। কী নিরামিষ এই মেয়ে নভেল পড়েও কি একটু রোমান্টিক হওয়া যায় না?
এসি চলছে তবুও ঘামছে সাফওয়ান, খাবার অর্ডার করে চুপ করেই আছে অন্তিহা, সাফওয়ান একটু গম্ভীর হলো বলল,
“অন্তিহা জেদ শেষ হলে একটা ড্রেস নিয়ে নিবেন? আমরা বাইরে ঘুরব!”
“ওকে, আমি স্টেক খাব।”
ঠোঁট টিপে হাসে সাফওয়ান, এই মেয়ের কথার উত্তরে তার কেন যেন সোজা উত্তর দিতে ইচ্ছে করে না। অশালীন কথায় লেগে থাকে। সেই নিজস্ব স্বরেই পাল্টা বলে ওঠে,
“স্টেক কেন? আমার কাছেও স্টিক আছে! তবে প্রসেসিংয়ে সময় লাগবে ওটা আবার হারাম থেকে হালালে ট্রান্সফার করতে হয়।”
“আপনি কখনো স্বাভাবিক কথা বলতে পারেন না? অসভ্য।”
"আমি কি অস্বাভাবিক কথা বলি? সহজ ভাসা ব্যবহার করি।"
খাবার শেষ হলে প্ল্যানিং অনুযায়ী ড্রেস নিল অন্তিহার জন্য একটা, শালীন না হলেও খোলামেলা নয়। সেখান থেকে বের হয়ে এবার আর গাড়িটা দেখল না সে। বাইকে গিয়ে ওঠে, সাফওয়ান আজকের দিনটা চেয়ে নিয়েছে অন্তিহার থেকে। আর সে জানে অন্তিহা তার কথার খেলাপ করবে না। বাইক হঠাৎ টানতেই কাঁধে হাত পড়ল তার। হকচকিয়ে থাপ্পড় দিল অন্তিহা তার কাঁধে। শব্দ করে হাসে সাফওয়ান। অন্তিহাকে হাসতে দেখছে এতে হাসি আরো চওড়া হচ্ছে তার ওষ্ঠে।
চলবে?