#দূরত্বের_প্রণয়_২
#স্বর্ণালী_ইসলাম
#এক্সট্রা_ভালোবাসা ফ্রম চিনি বাবা।
পর্বঃ৫২
ধপাস……
হঠাৎই ভেতর থেকে করে ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ । শব্দটা শুনে চমকে উঠে অন্তিহা। উঠে দাড়িয়ে আবার দরজায় কয়েকবার জোরে আঘাত করে।
“ভাইয়া! কী হলো? ভাইয়া!”
কোনো উত্তর নেই। একটু আগেও যে মানুষটা বুক ভরে গান গাইছিল, সে হঠাৎ নিশ্চুপ হয়ে গেল কেন?
ভয়ে অন্তিহার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। সে অবাক হচ্ছে বেশ এতক্ষণ ধরে সে চিৎকার করছে, দরজা পেটাচ্ছে, তবু অহীনের কোনো সাড়া নেই। বাড়ির অন্যরাও বা কোথায়? তারাও কেন কিছু বলছে না?
আর এক মুহূর্তও দেরি করল না সে। ড্রয়িংরুমে চলে যায়। চারদিকে থমথমে নীরবতা। শুধু আয়াশ নিজের রক্তমাখা হাতের দিকে নিস্পলক তাকিয়ে আছে। হাতজুড়ে শুকাতে থাকা রক্ত দেখে অন্তিহার বুক ধক করে উঠে।
সে ছুটে যেতেই আয়াশ কম্পিত গলায় বলল,
“হা... হাত... ধুব...”
এতক্ষণ ফাঁকা বাসায় তার বৃদ্ধা দাদি বোঝানোর চেষ্টা করলেও যেন সে কিছুই শুনতে পায়নি। কিন্তু অন্তিহাকে দেখেই তার ভেতরের ভাঙনটা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে হয়,
অন্তিহা একটাও প্রশ্ন করল না। দ্রুত তাকে ওয়াশবেসিনে নিয়ে গিয়ে হাত ধুতে সাহায্য করে। কিন্তু আয়াশ এমনভাবে হাত কচলাচ্ছে যেন চামড়া উঠে গেলেও রক্তের দাগ মুছে ফেলতে হবে। এটা জঘন্য খুব জঘন্য।
পেছন থেকে বৃদ্ধা দাদির কটূক্তি ভেসে এলেও সেদিকে কান দিল না অন্তিহা। তার মাথায় তখন একটাই চিন্তা ওপাশে কী হয়েছে?
সে আয়াশের হাত টেনে বলল,
“আয়াশ ভাইয়া, অহীন ভাইয়া কিছু একটা করেছে। দরজা খুলছে না। আগে চলুন।”
কিন্তু আয়াশ যেন কিছুই শুনছে না। একইভাবে হাত ধুয়েই চলেছে। যেন হাতের সঙ্গে লেগে থাকা রক্ত ছুঁয়ে যাওয়া চামড়া টুকু উপরে ফেলতে চায়।
অসহায় হয়ে অন্তিহা হঠাৎ তার গালে একটা জোরে চড় বসিয়ে দিল।
“দয়া করে আমার সঙ্গে চলুন।”
চড় খেয়ে যেন হুঁশ ফিরল আয়াশের। বিস্মিত চোখে কয়েক মুহূর্ত অন্তিহার দিকে তাকিয়ে রইল।
সে আর সময় নষ্ট না করে আয়াশের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল নিজের সঙ্গে।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আবারও কয়েকবার ধাক্কা দিল।
“ভাইয়া! দরজা খুলুন!”
নিস্তব্ধতা।
অন্তিহা এবার আয়াশের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বলল,
“ ভেঙে ফেলুন।”
আয়াশ হতভম্ব হয়ে নিজের দিকে আঙুল তুলল।
“আমি?”
অন্তিহা মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
আয়াশ জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। আশার রক্তবমির সেই দৃশ্যটা এখনও চোখের সামনে স্পষ্ট ভাসছে। যতই ভুলে থাকতে চাইছে, ততই তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তবে অন্তত এটুকু বুঝতে পেরেছে অহীনের কিছু একটা হয়েছে।
এক মুহূর্তও দেরি করল না সে আর। অন্তিহাকে আলতো করে সরিয়ে দিয়ে কাঁধের সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজায় সজোরে ধাক্কা দিল। পুরোনো কাঠের দরজাটা কঁকিয়ে উঠে। আরেকবার... তারপর আরও একবার। প্রতিটি ধাক্কায় দরজাটা কেঁপে উঠছে।
অবশেষে প্রচণ্ড শব্দ করে দরজাটা ভেঙে গেল। দরজার সঙ্গে ভারসাম্য হারিয়ে ধপাস করে মেঝেতে পড়ে গেল আয়াশ।
কিন্তু নিজের দিকে তাকানোর সময় নেই।
চোখ তুলে তাকাতেই তার বুক হিম হয় তার।
অহীন সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছে। নিথর শরীরটা দোল খাচ্ছে এপাশ-ওপাশ।
অন্তিহার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। আতঙ্কে চিৎকার করে উঠে সে,
“ভাইয়া...!”
আয়াশের ঠোট দিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বেরিয়ে এল,
“ইন্না লিল্লাহ... অহীন...!”
মুহূর্তেই বিছানার ওপর লাফিয়ে উঠে অহীনের দুই পা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল সে। অন্তিহাও এগিয়ে আসে। দুজনে মিলে কোনোমতে তাকে নিচে নামিয়ে আনে
মেঝেতে শুইয়ে দিয়েছে , অহীনের মুখটা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে। চোখ দুটো আধখোলা, ঠোঁট নীলচে হয়ে এসেছে। অর্ধজিব বেড়িয়ে এসেছে। আয়াশ কাঁপা হাতে তার গলার পাশে আঙুল রাখে।
নাড়ির স্পন্দন প্রায় অনুভবই করা যাচ্ছে না।
আর সময় নেই। এই মুহূর্তে হাসপাতালে নিলেও অহীনকে বাঁচানো যাবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ হচ্ছে। তবু হাল ছাড়ার সুযোগ নেই। আয়াশ আর অন্তিহা দুজনে মিলে কাঁধে ভর দিয়ে কোনোমতে রুম থেকে বের করে আনে তাকে।
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই হাট করে খোলা প্রধান দরজার সামনে কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। পরিস্থিতিটা যেন মুহূর্তেই তাদের দৃষ্টি কাড়ল।
মুখগুলো অচেনা। উপস্থিত কারওই তাদের চেনার কথা নয়। এমন অবস্থায় কারও পরিচয় জানার সময়ও নেই। দরজার কাছে পৌঁছাতেই সামনের লোকটার ইশারায় আরও দুজন এগিয়ে এসে পথ আটকে দাঁড়াল। মুহূর্তেই আয়াশের মাথার রক্ত চড়ে গেল। নিজের চেয়ে বয়সে বড় মানুষ জেনেও দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল,
“বাস্টার্ড! সাইড দিন!”
কেউ নড়ল না। বরং সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সবচেয়ে পরিপাটি লোকটা ধীরেসুস্থে কোমর থেকে পিস্তল বের করল। এতক্ষণ তার দৃষ্টি ছিল শুধু অন্তিহার ওপর। রমণীর শরীর কেঁপে উঠে। আয়াশ ভ্রু কুঁচকে লোকটার দিকে তাকাল।
লোকটা অহীনের নিস্তেজ শরীরের দিকে তাকিয়ে হিসহিস করে বলল,
“ও গড! এটা সাফওয়ানের ফ্রেন্ড না? অ্যান্ড... অন্তিহার ভাই, রাইট? কী হয়েছে ওর?”
সাফওয়ানের নাম শুনেই দুজনই খানিকটা ধাতস্থ হলো। এমন আতঙ্কের মুহূর্তে আর কে-ই বা আসতে পারে?
তারা সামনে এগোতেই অন্তিহা তাড়াহুড়ো করে বলল,
“পরে আসবেন। প্লিজ, সাইড দিন আঙ্কেল।”
লোকটা নড়ল না। বরং আরও এক পা এগিয়ে এসে পথটা পুরোপুরি আটকে দিল।
“উপস... ভালো সময়েই এসেছি। সুযোগ তো আল্লাহই করে দেন। বাড়িতে আর কেউ নেই?”
“সামনে থেকে সরুন।”
লোকগুলো নড়ল না। কয়েক সেকেন্ড কেটে গেল। তারা কোনোভাবেই বের হতে দিচ্ছে না।
অন্তিহা অধৈর্য হচ্ছে। অহীনের অবস্থা প্রতি সেকেন্ডে খারাপ হচ্ছে। সে সুগারের রোগী, অল্পতেই শরীর ভেঙে পড়ে। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। সে গর্জে উঠে রাগে,,
“সরুন! নয়তো পুলিশ ডাকব। এ কোন ধরনের গুণ্ডামি করছেন?”
লোকটা হেসে উঠে।
“ডাকো পুলিশ। ততক্ষণে তোমার ভাইয়ের প্রাণটা উড়ে যাবে... হুসসস...”
বলেই হাত দুটো পাখির ডানার মতো ঝাপটাল। এমন ভয়ংকর হুমকির মাঝেও লোকটার কণ্ঠে অদ্ভুত এক রসিকতা। স্বরটা অবিকল সাফওয়ানের মতো, অস্বাভাবিক মিষ্টি, যেন একেবারে নিরীহ মানুষ। দাঁতে দাঁত চেপে অন্তিহা জিজ্ঞেস করল,
“কী চান?”
লোকটা ঠোঁট কামড়ে হালকা হাসল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পকেটে হাত ঢুকিয়ে বলে,
“আমার ছেলেটা... ওর মা মারা যাওয়ার পর প্রায় বারো বছর এই দেশে আসেনি। আমিও ফ্রান্সে যাইনি। যেতেও পারব না। ফ্রান্সের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে আমার নাম আছে।”
আয়াশ বিরক্ত হয়ে গর্জে উঠে,
“পয়েন্টে আসুন। আপনার ছেলের সঙ্গে আপনার পেছন মারার কাহিনি শোনার সময় নেই আমাদের।”
রাগে তার শরীর কাঁপছে। এখন যদি হাতে গুলি থাকত, তর্কে না গিয়ে হয়তো গুলি চালিয়ে খুলি উড়াতো এক-এক টার । লোকটা চোয়াল শক্ত করে আয়াশের দিকে তাকায়।
অন্তিহা হাত তুলে আয়াশকে থামিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“প্লিজ, সরাসরি বলুন।”
লোকটা এবার নির্লিপ্ত গলায় বলল,
“ওকে কল দাও। নিজের মায়ের পর একমাত্র তোমার কথাই শোনে। তুমি ডাকলে এখনই চলে আসবে। আমি আমার ছেলেকে দেখতে চাই।”
লোকটার আদেশ শুনে অন্তিহা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। চোখে তখনও পানি টলমল করছে, কিন্তু মাথা নত করার ইচ্ছে নেই।
“সাফওয়ান আমাকে ওয়ার্নিং দিয়ে বলেছে, এমন কোনো পরিস্থিতি যেন আমি তৈরি না করি, যাতে ওকে দেশে ফিরতে হয়। আসলে কী জানেন? এ দেশে এলে সবার আগে সে আপনাকে মারবে। আর নিজের ছেলেকে তো আমার চেয়ে ভালোই চেনেন। ও সত্যিই আপনাকে মেরে ফেলবে।”
লোকটা কয়েক মুহূর্ত অন্তিহার দিকে তাকিয়ে থাকলো, ক্রন্দনরত মুখ ফোলা গাল গুলো লাল হয়ে আছে, স্কিন যেনো কাঁচের মতো, ছুঁয়ে দিলেই রক্তের স্রোত বয়ে যাবে, ঠিক তেমনই রগচটা মেয়ে, অল্পকথায় হুমকি দিতে জানে। তারপর গর্বভরা হাসি ফুটে ওনার মুখে।
“তাই বলি, আমার হিরো তোমার জন্য এত পাগল কেন! আমি যদি একটু কম বয়সী হতাম, আমিও বোধহয় পাগল হয়ে যেতাম। ইস... ক্রাস খেলাম, ডিয়ার।”
বলতে বলতেই সে অন্তিহার খুব কাছে চলে এসেছেন। অন্তিহা সঙ্গে সঙ্গে নাক-মুখ কুঁচকে এক পা পিছিয়ে গেল।
লোকটা আবার বলল,
“নাও, কল দাও। নাকি ভাইয়ের মরার অপেক্ষা করছ?”
অন্তিহা ধীরে মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়। নিজের ফোনটা খুঁজে পেল না। বিষয়টা লোকটার নজর এড়ায় না। তাই নিজের ফোন বের করে সাফওয়ানকে কল করে।মপ্রথম কয়েকবার সাফওয়ান একের পর এক কল কেটে দিচ্ছে হয়ত বাবা ঘৃণার মধ্য দিয়েও ছাড়তে পারে না বলেই ব্লক করে দেয় নি।
অন্তিহার দৃষ্টি তখন অহীনের নিথর শরীরের ওপর। চোখের পানি আর আটকাতে পারছে না সে। নিজের ফোন হলে এতক্ষণে লোকটা নিশ্চয়ই কল রিসিভ করত। পাগলের মতো হাজার কথায় বিরক্ত করতো। কেননা অন্তিহা নিজে কল দেয় না। খুশিতে আত্মহারা হয়ে যেতো।
পরপর কয়েকবার কল দেওয়ার পর অবশেষে ওপাশ থেকে রিসিভ হলো।
দুজনই প্রায় একসঙ্গে বলে উঠল,
“সাফওয়ান...”
“হোয়াট দ্যা—”
পুরুষালি গর্জনটা মাঝপথেই থেমে গেল। প্রেয়সীর কাতর কান্না মুহূর্তেই তার সব রাগ পিষে দিয়েছে। অন্তিহা আর নিজেকে থামাতে পারছে না কাঁদছে ফুঁপিয়ে । সাফওয়ান কাঁপছে তার কান্না শুনে। জীবনে এই প্রথম সে অন্তিহার কান্না শুনছে। তার সেই রাগী, গম্ভীর মেয়েটা আজ আর গম্ভীর নেই। তার সাফওয়ান ডাকটাতে নেই কোনো ধমক, নেই চেনা গম্ভীর রগচটা ভাব।।
অস্পষ্ট, কাঁপা গলায় সে জিজ্ঞেস করল,
“অন্তিহা... আপনি কাঁদছেন?”
রমণীর শক্ত হৃদয়টাও ভাঙে তার ডাকে। কাঁপা গলায় বলল,
“একটা ঝড়ের মতো এসে আমার জীবনটাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন আপনি। আমিই কেন, সাফওয়ান? সবাই নিজেদের স্বার্থে আমাকেই কেন টার্গেট করছেন?”
অন্তিহার প্রতিটি কান্না যেন সাফওয়ানের বুকের কোথাও ধারালো ছুরির মতো বিঁধছে। অন্য কোনো মেয়ের কান্না হয়তো স্বাভাবিকই মনে হতো তার কাছে। কিন্তু অন্তিহা... এই মেয়েটা তো কাঁদে না। সে শুধু রাগ করে, ধমক দেয়, কথায় কথয় ঝাড়ি দেয়। আজ সাফওয়ান প্রতিক্রিয়া দেখাতেও ভুলে গেছে। কী হয়েছে, কেন হয়েছে, কিছুই জানে না। তবে জানে তার ওই মিস গম্ভীরের কান্নার মূল কারন তার বাবা, কি পায় লোকটা তার কাছের মানুষ গুলোকে কাঁদিয়ে?
অন্তিহা তাকে আসতে বলতে চায় না। এখনও জানে না, সাফওয়ান দেশে এলে তার পরিণতি কী হবে। কিন্তু সাফওয়ানের বাবা চোখের ইশারায় তাকে অহীনের নিথর শরীরটার কথা মনে করিয়ে দিল।
অন্তিহা চোখ বন্ধ করে একবার দীর্ঘ শ্বাস নেয়। তারপর সাফওয়ান কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগের মতোই আদেশের স্বরে বলল,
“আমি বললেই তো বাংলাদেশ আসবেন বলেছিলেন... তাহলে এবার আসুন।”
সাফওয়ানের বুকের ভেতর যেন কেউ ভারি কিছু ছুড়ে মারছে। হঠাৎ ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তার বুক থেকে। কয়েক কদম পেছিয়ে গিয়ে ঢোক গিলে নেয়, এত বছর পর বাংলাদেশ আশার কথাটাই যেনো আতংক। তবুও কোনো প্রশ্ন করল না, শুধু শান্ত গলায় বলল,
“হুম... কালকেই চলে আসব। আপনি একদম কাঁদবেন না, কেমন? আপনার কণ্ঠে ধমক মানায়, কান্না নয়... হুম?”
সাফওয়ানের শেষ কথাটা অন্তিহা শুনল কি না, জানা নেই। সে কোনো উত্তর না দিয়ে কল কেটে দিয়েছে। তারপর সাফওয়ানের বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
“কালকেই চলে আসবে। এবার পথ ছাড়ুন।”
লোকটা সরে দাঁড়ায়, আয়াশ তাড়াহুড়ো করে সামনে এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঠিক তখনই অন্তিহার নরম, ফুলে থাকা হাতটা শক্ত করে চেপে ধরেছে একজোড়া পুরুষালি হাত। হ্যাঁ, সাফওয়ানের বাবাই তাকে থামিয়ে দিয়েছে।
ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলল,
“ওরা যাক। তুমি আমার সঙ্গে চলো। তোমার শ্বশুরবাড়িটা দেখতে চাও না?”
আয়াশের পা জোরা থামে। অন্তিহা রাগে ঘিনঘিনে চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে, দৃষ্টির আগুনেই মানুষটাকে ভস্ম করে দেবে। সে আয়াশের দিকে তাকিয়ে শান্ত দৃঢ় গলায় বলল,
“আপনি যান। জীবনের চব্বিশটা বছর মানুষ চিনেই কাটিয়েছি আমি। কোথায় বিপদ হতে পারে, সেটা বুঝি। আমার ভাইয়ার সঙ্গে দুদণ্ড বসে মন খুলে কথাও বলতে পারিনি কখনো। উনি সুস্থ হলে বলতে চাই। ওনাকে নিয়ে যান, আয়াশ... প্লিজ।”
শেষ শব্দটা উচ্চারণ করতে গিয়ে বুকের ভেতরটা যেন হু হু করে উঠছে তার। আয়াশ জানে না, এই কান্নার মধ্যে কেমন এক টান লুকিয়ে আছে। শুধু মনে হচ্ছে, মেয়েটার সঙ্গে সেও ভেঙে পড়বে।
আর এক মুহূর্ত দেরি করল না সে। অহীনকে নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।
সাফওয়ানের বাবা স্থির দৃষ্টিতে অন্তিহার দিকে তাকিয়ে আছে বাড়ির বাইরে বেরোতে বেরোতে খুব নিচু স্বরে বলল,
“শোনো মেয়ে, আমার সাফওয়ানের জন্য তোমার ভাগ্য বদলে যাবে। ওকে হাতছাড়া কোরো না। আর যদি করো... সাফওয়ানের বুলেট না-ও চলতে পারে, কিন্তু আমার বুলেট ঠিক তোমার হৃদয়ের সেই জায়গাটাতেই গিয়ে বিধবে, যেখানে ওই ছেলেটা থাকে।”
চলবে.....