চট্টগ্রাম শহরে ইদানীং নরকীয় ঘটনা বেড়ে চলেছে। ধর্ষন আর ধর্ষন উঁহু , এ শুধু ধর্ষণ নয়। এ যেন একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
একজন সাইকো কিলার নারীদের জোর করে অপহরণ করে, তাদের ধর্ষণ করে, তারপর নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছে।
" কে এই বিকৃত মনোভাবের খুনি?"
কেন নারীদের প্রতি এতটুকু ঘৃণা তার?
কী এমন ব্যক্তিগত প্রতিশোধ সে নিচ্ছে পুরো শহরের নারীদের উপর?
বিভাগীয় পুলিশ বাহিনী রাতদিন চেষ্টা চালাচ্ছে। টেলিভিশনের পর্দায় বারবার ভেসে আসছে খবরে,
"চট্টগ্রামে আবারও এক তরুণীকে নৃশংসভাবে হত্যা। সাইকো কিলার এখনও ধরা পড়েনি। শহরজুড়ে আতঙ্ক."
রিপন খান এই নিউজ দেখে আঁতকে উঠে কেননা তার বাড়ির দুইটা মেয়ে ও যে বাড়ির বাইরে ।
যদি এদের সাথে কিছু হয় তো সঙ্গে সঙ্গে তার মনে আতঙ্ক ভরে যাই। তার পাশে বসে ছিলো মেজো ভাইজান ইকবাল খান। ইকবাল খানের ও একই অবস্থা তিনিও দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন এমন ঘটনা শুনে।
হঠাৎ দরজা দিয়ে শিশ বাজাতে বাজাতে আদিত্য ঘরের ভিতরে ঢুকছে তখন ইকবাল খান আদিত্য কে ডেকে উঠে
" আদিত্য একটু এদিকে এসো "
আদিত্য বিরক্ত মার্কা মুখ নিয়ে বাপ- চাচাকে সামনে এগিয়ে যাই
" বলো আব্বু কী হয়েছে ? "
ইকবাল খান তখন বলেন
" তিথিদেরকে কলেজ থেকে নিয়ে আসো, কিছুক্ষণ পর হয়তো ওদের ছুটি হবে।"
মুহুর্তেই আদিত্যের মুখটা চুপসে যায় , এই কথা শুনে সে আলসেমি ভঙ্গিতে বলতে থাকে
– " ওরা কী কোন ছোট বাবু যে ওদের আনতে যেতে হবে। আমি পারবো না এসব ফালতু কাজ করতে । "
" আমার এখন অনেক ঘুম পেয়েছে আমি ঘুমাবো ( হামি তুলতে তুলতে বলে)।"
তখন হঠাৎ করে গর্জে উঠে ইকবাল খান
– " তোমার মতো বিয়াদপ ছেলে পৃথিবীতে মনে হয় আর একটাও নেই। বাবার আদেশ পালন করা উচিত। আর কি এতো রাজ্যের কাজ করে এসেছো যে এতো ঘুম পাচ্ছে? সারাদিন তো পারো বখাটে গিরি করতে।
ছি ছি পাড়ার লোকেরা সবাই মাস্তান বলে তখন কী তোমার একটু লজ্জা লাগে না। "
তিনি আফসোস এর সুরে বলতে থাকে
– " কেন যে তোমাকে উপরওয়ালা পাঠালো আমার ঘরে ?? এমন ছেলে যেন আর কারো ঘরে না'হোক।"
আদিত্য একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলতে থাকে
– " উপরওয়ালা কেন আনবে আমাকে এই বাড়িতে এনেছেন তো আপনি ? আপনার ইচ্ছা না থাকলে কী আমি আসতাম নাকী আব্বু?"
ইকবাল খান মুখে তখন একটু করে চা পান করছিলেন ছেলের এমন লাগাম ছাড়া কথায় বিষম খেয়ে কাশি উঠে গেলো বেচারির । পাশে রিপন খানের ও একি অবস্থা ভাতিজার কথা শুনে।
ইকবাল খান রক্তচক্ষু দৃষ্টিপাত করে ছেলের উদ্দেশ্য বলে
– " বেশরম ছেলে"
বাপ- চাচার সামনে কী কথা বলতে হয় ম্যানারস শিখো নি বুঝি? আর একটা কথাও না তুমি ওদের বাড়িতে নিয়ে আসবে আর হ্যাঁ গাড়ি নিয়ে যাও।
আদিত্য তখন আর বাবাকে না খেপিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে যাই।
___________
তিথি এবং স্নেহা ক্লাস শেষ করে কলেজের গেট পেরিয়ে রাস্তায় মধ্যে দাঁড়িয়ে একটা রিক্সা খুঁজতে থাকে।
আর ঠিক তখন পেছন থেকে কেউ একজন তিথির নাম ধরে ডাকতে থাকে।
তিথি ও স্নেহা পিছন ফিরে দেখে তাদের কলেজের সিনিয়র গালিব ভাই।
গালিব তিথি এবং স্নেহা কাছে পৌঁছে বলতে থাকে
– হাই , কেমন আছো তোমরা??
স্নেহা উত্তর দেয়_____
– ' আমরা ভালো আছি ভাইয়া আপনি কেমন আছেন? '
গালিব তিথির দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
– ' ভালো আর থাকলাম কই একজন রুপসী আমার মন প্রাণ নিয়ে চলে গেলো । তার যন্ত্রণায় কী ভালো থাকতে পারি ?? '
স্নেহা কিছু না বুঝে প্রশ্ন করে
– ' আপনি কী বলছেন ভাইয়া আমরা কিছু বুঝতে পারছি না। আপনার যা বলার প্লিজ একটু তাড়াতাড়ি বললে ভালো হয় আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে!'
গালিব তাদের উদ্দেশ্য বলে
–' উমম আসলে আমার না তিথির সাথে কথা আছে। আমি একটু ওর সাথে আলাদা ভাবে কথা বলতে চায়।'
তিথি তখন বলতে থাকে ' ভাইয়া আমি আপনার সাথে আলাদা ভাবে কথা বলতে পারবো না। যা বলার এখানে বলুন। '
গালিব কিছুক্ষণ মাথা চুলকিয়ে চুলকিয়ে ভেবে বলতে থাকে
– ' ইয়ে মানে একটু পার্সোনাল কথা তোমার সাথে।'
তখন পিছন থেকে কেউ একজন বলে
' ওহে বৎস পার্সোনাল হয়লে বাড়িতে চলো ওইখানে বলিও ওর সাথে কথা।' আদিত্য তার বখাটে স্টাইলে সিগারেট এর ধোঁয়া উড়াতে উড়াতে ওদের সামনে চলে আসে আকস্মিক ভাবে গালিব এর পিঠে চাপড় মেরে বলতে থাকে
– ' চলো আমাদের বাড়িতে তিথির রুমে সব কথা গিয়ে বলিও , যতই হোক তোমার পার্সোনাল কথা ওর সাথে তাই না?'
গালিব আদিত্য দেখা সালাম দিয়ে বলতে থাকে " তেমন কিছু নয় , ওই যে একটু কলেজের কিছু প্রজেক্ট এর ব্যাপারে কথা ছিলো এই আরকি ( ভয়ে ভয়ে সে বলে)"
আদিত্য সিগারেট ধোঁয়া বাতাসে উড়িয়ে গালিব এর মুখোমুখি চলে এসে
– " ওহ্ তাই বুঝি ! আমি তো জানতাম না প্রজেক্ট এর কাজ পার্সোনাল হয় যাক গে, যাও এখন তুমি একটু সাবধানে থেকো কখন কোন সময় না বিপদে পড়ে যাও ।"
গালিব মাথা নাড়িয়ে চলে যেতে নিলেই আবার পিছন থেকে ডাক পড়ে আদিত্যের,
আদিত্য গালিব এর শার্টের কলার ঠিক করে দিতে দিতে বলতে থাকে
– " নিষিদ্ধ জিনিস এর প্রতি তোমার বেশি আকর্ষন। এতো আকর্ষণ কিন্তু ভালো নয়" বলে আদিত্য তিথি আর স্নেহার দিকে এগুতে থাকে ।স্নেহা ভাইকে জিজ্ঞাসা করে
– "ভাইয়া তুমি এখানে কেনো?? "
আদিত্য বোনের দিকে তাকিয়ে ছোট স্বরে জবাব দেয় " আব্বু তোদের নিতে পাঠিয়েছে । বেশি কথা না বলে গাড়িতে ওঠে পড় "
এইবার আদিত্য তিথির দিকে কিছুক্ষণ গম্ভীরভাবে তাকিয়ে বলতে থাকে
–" তোকে কী ইনভিটেশন দিয়ে বলতে হবে গাড়িতে উঠার জন্য, তাড়াতাড়ি উঠ ।
তিথি আদিত্যর ধমক খেয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠে বসে তাড়াতাড়ি।"
স্নেহা আর তিথি পেছনের সিটে বসছে মাএই আদিত্য গাড়ির ডাইভিং সিটে উঠে পড়ে। আদিত্য হঠাৎ রিয়ার ভিউ মিরর এর দিকে তাকিয়ে তিথি কে দেখতে লাগলো তখন তিথি ও মিররের দিকে তাকায়।
কি মনে করে যেন আদিত্য মিররের দিক থেকে চোখ সরিয়ে ডাইভিং এ মনোযোগ দেয় ।
গাড়ির ভিতর যেন নীরব একটা যুদ্ধ চলছে। আদিত্য ড্রাইভিং সিটে বসে আছে আর পেছনে বসে আছে তিথি আর স্নেহা।
স্নেহা তো চুপচাপ জানালার পাশে বসে আছে, কিন্তু তিথি! সে এসির হাওয়ায় কেমন যেন অস্বস্তি অনুভব করতে থাকে। অদ্ভুত একটা অচেনা ঘোর তার মনে খেলে যায়।
তিথি ধীরে ধীরে গাড়ির কাচ নামিয়ে দেয়।
গরম বাতাসের বদলে শাই শাই করে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে পড়ে।
তিথি জানালার বাইরে মুখ বাড়িয়ে বাতাসে চুল ওড়াতে থাকে। সে প্রকৃতির রুক্ষ সৌন্দর্য, শহরের পথ, বিলবোর্ড, আর দ্রুত চলে যাওয়া গাড়িগুলোর দিকে একমনে তাকিয়ে থাকে।
চোখে-মুখে যেন একরকম শান্তি খেলা করছে।
হঠাৎ সামনের দিক থেকে আদিত্য বলল,
— "তিথি, কাচটা তোলে দে। রাস্তায় এইভাবে খোলা রাখা ঠিক না।"
তিথি মুখে বিরক্তি এনে বলল,
— "আপনার কাচের সঙ্গে আবার কী শত্রুতা? আপনি গাড়ি চালান না।"
— "বোকা মেয়ে! আমি যা বলছি, সেটা কর। এটা খোলা রাখবি না।"
তিথি এবার পুরো জেদে গিয়ে বলল,
— "আমি তো কিছুতেই তুলবো না! যা খুশি করুন।
আদিত্য চুপ করে গেল।
মনে মনে বলল, ‘বাপের আদেশেও মাথা নত করে না, আর আমি তো...’
সে গাড়ি চালাতে থাকে। হঠাৎ রাস্তায় পাশ দিয়ে কিছু বখাটে ছেলে দাঁড়িয়ে তিথির দিকে তাকিয়ে বিশ্রী ভাষায় টিটকারি দিতে শুরু করল।
— "ওই মাইয়া, জানালা খোলা রাখলে তো এমনিই দুনিয়া উড়ে যাবে!"
— "এই যে সোনা, কোথায় চললা গো? একটু হাসো না!"
— "বাহ! কি সুন্দর মাইয়া রে উফফ পরাণটাই জুড়ে গেলো !"
তিথি মুহূর্তেই গুটিয়ে গেল। এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতি সে কল্পনাও করেনি। স্নেহা তো পুরো দিশেহারা।
আর আদিত্য? সে আর এক সেকেন্ডও সহ্য করলো না। টাস করে ব্রেক কষে দাঁড় করিয়ে দিলো গাড়ি। হাতের মুঠোয় স্টিয়ারিং চেপে ধরে সে নিজের রাগ সামলাতে চেষ্টা করলো, কিন্তু পারলো না।
চোখে আগুন। ফুসফুসের ভেতর যেন আগ্নেয়গিরির লাভা ফুটছে।
আদিত্য গাড়ি থেকে নেমে পিছনের ডিকি খুলে এক ঝটকায় হকস্টিক বের করে আনলো।এতটুকু কথা না বলে সে তেড়ে গেলো ওই ছেলে গুলোর দিকে,শুরু হলো পেটানো। মাথায়, পিঠে, হাতে যেখানে পাচ্ছে, সেখানেই হকস্টিকের ঘা পড়ছে।
ছেলেগুলো চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু আদিত্য যেন উন্মাদ হয়ে গেছে।
— "মেয়েদের নিয়ে বাজে কথা বলোস? আজ শিক্ষা দিয়ে ছাড়ব তোদের!"
চারপাশে ভিড় জমে গেল,মানুষজন অবাক হয়ে দেখছে এই ছেলেটা কী ভয়ংকর রেগে গেছে! রাস্তায় রক্তের দাগ পড়ে যাচ্ছে। ছেলে গুলো একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্নেহা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
— "তিথিরে আজকে তুই শেষ"
তিথি তখন গাড়ির ভেতর বসে অজান্তেই নিজের হাত মুঠো করে ফেলেছে। অবশেষে গাড়িতে আর থাকতে না পেরে লাফিয়ে নেমে পড়ে আর সেখানে চলে যাই, কাচুমাচু হয়ে আদিত্যেকে বলতে থাকে
– " আদিত্য ভাইয়া ওনাদের ছেড়ে দিন।মরে যাবে তো। আপনি চলুন আমাদের সাথে।"
আদিত্য মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে গেল এবং
হাঁপাতে হাঁপাতে বলল ওই ছেলেগুলো উদ্দেশ্য
— "যদি আবার চোখ তুলে তাকাতে দেখি কারোর দিকে, তাহলে তোদের চোখটাই থাকবে না আর!"
স্নেহা ও গাড়ি থেকে নেমে পড়লো এবং তিথির পাশে দাঁড়িয়ে গেলো । আদিত্য গায়ের ধুলো ঝেড়ে ভিড় করে থাকা লোকজন উদ্দেশ্য চিৎকার করে বলতে শুরু করলো
–" এখানে কী কোন জলসার নাটক হচ্ছে? এভাবে দাড়িয়ে না থাকে নিজেদের কাজে যান।"
আদিত্যের চিৎকারে একে একে সবাই চলে গেলো নিজেদের কাজে। আদিত্য রেগে তিথির সামনে এসে কোন কথা বার্তা ছাড়াই টাস করে বাম গালে থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো। তারপর চুলের মুঠি ধরে তার চোয়াল চেপে ধরে বলতে থাকে
— "অবুঝ মেয়ে, আমি কাচ তুলতে বলেছিলাম না? কেন শুনিস নি আমার কথা? এতো জেদ কেন তোর নাকি ছেলেদের রুপের জোলস দেখাতে বুঝি খুব ভালো লাগে, তাই না?"
তিথি ছলছল চোখে আদিত্যর দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে গাড়িতে উঠে বসলো। স্নেহা ভাইয়ের উপর খুব রেগে বলতে লাগলো " ভাইয়া তুমি ওকে মারলে কেনো? এখানে ওর দোষ কোথায়?"
আদিত্য জোরে ধমক দিয়ে স্নেহা কেও গাড়িতে পাঠিয়ে দিলো। আদিত্য নিজের মাথা চেপে ধরে রাগে ফুঁসতে থাকে । পাশে পড়ে থাকা ইটের বড়ো টুকরো নিয়ে নিজের হাতে জোরে একটা চাপ দেয় যার ফলে গর গর করে চামড়া ফেটে রক্ত পড়তে থাকে।
গাড়িতে বসে তিথি নিরবে চোখের জল ফেলতে থাকে আর মনে মনে বলে
– " আদিত্য ভাই খুব খারাপ, খুব খুব খারাপ। বখাটে, মাস্তান কোথাকার। যখন তখন আমার গালে থাপ্পড় মেরে দেয় যেন নিজের বাপের কেনা সম্পদ এটা। বদ লোক কোথাকার।"
স্নেহা পাশে বসে তিথিকে শান্তনা দিতে থাকে। হঠাৎ জোরে কোন কিছুর শব্দে সামনের দিকে তাকায় তারা দেখে আদিত্য জোরে গাড়ির দরজা বন্ধ করে গাড়ি চালাচ্ছে।
হঠাৎ তিথি খেয়াল করে আদিত্যর হাত থেকে লাল জাতীয় পদার্থ বেয়ে পড়ছে ভালোভাবে লক্ষ্য করার পর বুঝতে পারলো এটা রক্ত।
তিথির হঠাৎ কেমন যেন বুকটা ছ্যাত করে উঠলো কিন্তু নিজের মনের পরোয়া না করে মনে মনে বলতে থাকে
– "পড়ুক রক্ত আমার কী?? ভালো হয়েছে হাত কেটেছে। ওই হাত সারাদিন তো পারে আমাকে থাপ্পর মারতে।"
_ _ _ _ _
"না মেঝো মা, আমি তেল দিবো না! প্লিজ, আমায় জোর কোরো না। এই তেলতেলে মাথা নিয়ে আমি কাল কলেজে কীভাবে যাবো? কিছুতেই তেল দিবো না আমি!"
তিথির কান্নাজড়ানো গলায় রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা। মেঝো চাচি কতক্ষণ ধরে তেল দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু এই রাজকুমারী তেল দিতে রাজি নয় কিছুতেই!
স্নেহা তখন সোফায় আরাম করে বসে পকোড়া খাচ্ছে আর টিভিতে মুভির ক্লাইম্যাক্স দেখছে। এমন সময় স্নেহার মায়ের আগমন তেলের শিশি হাতে! স্নেহার তো রীতিমতো মাথা খারাপ! ভয়ে পকোড়ার প্লেট ছিটকে নিচে পড়ে গেলো। সে লাফ দিয়ে সোফার উপর উঠে পড়ে বলল,
— "আম্মু, আমি এই তেল দিবো না! তেল দিলে পুরো মাথা চিটচিটে হয়ে যায়। কেমন যেন গ্রামের বুড়িদের মতো দেখায়!"
তারপর তিথিকে দেখিয়ে বলল, "আম্মু, তুমি তিথিকে দাও তেল। ওর চুল বড়, ওর দরকার তেল, আমার না।"
তিথি একদম গর্জে উঠল,
— "এই বিয়াদব! আমাকে কেন টানছিস? তুই দে না তেল!"
স্নেহা মুখ বাঁকিয়ে উত্তর দিল,
— "উঁহু, তেল তুই দিবি। আমি না! আম্মু, তুমি তেল দাও তিথিরে। ওর চুলে তেল প্রয়োজন, আমার চুল তো গোল্ডেন ফ্রাই!"
তিথির নাক ফুলে উঠলো,
— "নিজে দিবি না, আমাকে দিতে বলিস কেন? সাহস তো কম না!"
এইবার দুই বোনের মধ্যে শুরু হয়ে গেলো
আসল যুদ্ধ। চুল ধরে টানাটানি, ধাক্কাধাক্কি পুরো বাড়ি যেন কুস্তির মাঠ!
সুফিয়া খান তখন তাদের উদ্দেশ্য বলতে থাকে হয়েছে হয়েছে এইবার তোরা থাম রে বাবা। আমি কাউকে তেল দিয়ে দিবো না। এইভাবে ঝগড়া করিস না। থেমে যা আমার মা-মুনিরা।
- ' কি হচ্ছে এখানে!এটা কী কোন যাএাপালা বাড়ি নাকি টক-শো'
সদর দরজা দিয়ে আদিত্য ঢুকতে ঢুকতে কথাটি বলে।
তিথি আর স্নেহা এইবার থেমে যায়। তিথির তো রীতিমতো হাত-পা কাঁপছে ভয়ে।
আদিত্য তাদের সামনে এসে পড়ে দুইজনকে খুব ভালো ভাবে পরখ করে দাঁতে দাঁত চেপে বলতে থাকে
– " তোরা দেখছি বাড়ি টাকে নাট্য মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছিস ? "
" নাট্য মঞ্চ ওরা না তুমি বানিয়ে ফেলছো এই খান মঞ্জিল কে আদিত্য" – এই কথা বলতে বলতে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন ইকবাল খান।
চলবে ~
( জানি না কেমন লাগছে এই গল্পটা কাঁচা হাতের লেখা। )