ফন্ট সাইজ:
থিম:
বখাটে আদিত্য

৩য় পর্ব

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রীয়ন্তি

_প্রিয়ন্তী

পর্ব: ০৩

" নাট্য মঞ্চ ওরা না তুমি বানিয়ে ফেলছো এই খান মঞ্জিল কে আদিত্য " – এই কথা বলতে বলতে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন ইকবাল খান।

আদিত্য ধীর গতিতে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো। মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, ঠোঁটে হালকা একটুকরো তাচ্ছিল্যের হাসি।

ইকবাল খান আদিত্যের সামনে এসে দাঁড়ালো, চোখ দুটো রাগে জ্বলছে।

" আজ আবার কোন অঘটন ঘটিয়ে এসেছো তুমি? তোমার কী একটুও লজ্জা নেই? আবার কাদের মেরে এসে খান পরিবারের নাম ডুবালে? "

আদিত্য নিস্পৃহভাবে উত্তর দিলো, যেন ব্যাপারটা তুচ্ছ,

" এসব নিয়ে আমি কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।"

বাপের সামনে এমন ঔদ্ধত্য দেখে ইকবাল খান আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন ,

" বাধ্য, অবশ্যই তুমি বাধ্য! খান পরিবারের নামের সঙ্গে খেলছো তুমি! এই নাম আমরা জীবন দিয়ে বানিয়েছি। তুমি রাস্তায় রাস্তায় মাস্তানি করে সেটা ধ্বংস করছো!"

ঠিক তখনই শোনা গেলো বাইরে হট্টগোলের শব্দ। অনেক মানুষের কোলাহল ভেসে আসছে।

' ইকবাল খানকে ডাকুন! ডাকুন ওনাকে! শুনুক ওনার ছেলের কীর্তিকলাপ!'

ইকবাল খান দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন, আদিত্য নিঃশব্দে তার পেছনে হাঁটল। বাইরে বেরিয়ে দেখে লোক জমে গেছে, সবাই উত্তেজিত হয়ে রয়েছে।

কারও মুখে রাগ, কারও মুখে ভয়। এতো লোকের সমাগম দেখে ইকবাল খান গলা উঁচু করে বললেন,

" কি হয়েছে? সবাই এখানে কেন জড়ো হয়েছো?"

তখনি একজন মাঝবয়সী লোক ভিড় ঠেলে সামনে এল। তার চোখ জ্বলছে রাগে। সে ইকবাল খানকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে উঠলো,

" কেন হবে না? আপনার গুণধর ছেলের কীর্তি শুনেননি? আজ সে আবার রাস্তার মাঝখানে আমাদের ছেলেকে মেরে আহত বানিয়েছে ? এর কী বিচার হবে না!"

তখন রুষ্ট চোখে ইকবাল খান আদিত্যের দিকে তাকিয়ে আবার সেই লোকগুলো কে বলতে থাকে,

" আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আমার ছেলের এই কার্যকলাপ এর জন্য। তাই আমি তাদের চিকিৎসার সহযোগিতা করবো, দয়া করে আপনারা এখন যান।

কিন্তু সেই ভিড় থেকে আরো একটি লোক এগিয়ে এসে চট্টগ্রাম এর আঞ্চলিক ভাষায় বলতে থাকে,

" ইবে কেন পুয়া জন্ম দিয়ু দে তুই, সারাদিন খালি মাস্তান গিরি গরে, জন্মের আগে মারি ফেলাই ন ফারো , এইরকম পুয়া থাহো নো তুন নো থাহন বোত বালা!"

( এটা কেমন ছেলে জন্ম দিয়েছো তুমি, সারাদিন শুধু মাস্তান গিরি করে, জন্মের আগে মেয়ে ফেলতে পারো নাই, এইরকম ছেলে থাকার থেকে না থাকা ভালো)

এইবার আদিত্য একটু রেগে যাই কেননা তাকে কেউ কিছু বললে সে সহ্য করে নেয় কিন্তু তার বাবাকে কেউ কিছু বললে তার সহ্য হয় না সে তেড়ে এসে সেই লোকটির কাছে গিয়ে বলতে থাকে

" খবরদার আমার আব্বু কে আপনি আর একটা কথাও শুনাবেন না! আপনারা কী জানেন ওই ছেলেগুলো কি করেছে!

এখানে নালিশ নিয়ে না এসে আগে তাদের ভালোভাবে পারিবারিক শিক্ষা দিন।

ফারদার এখানে আর কেউ কোনদিন আসলে বা আমার আব্বু কে কথা শুনালে আপনাদের একটা কেও আমি আস্ত রাখবো না বলে দিলাম।"

আদিত্য ফের বলতে থাকে,

" এই মাহাদি খান আদিত্য কারো ধার ধারে না আর সে কখনো কোন অন্যায় কেও প্রশ্রয় দেয় না।"

সবাই কিছুটা ভয় পেয়ে যাই, এইটা বুঝতে পেরে আদিত্য তাদের আরেকটু ভয় দেখিয়ে বললো

" আমি ৩ গুনবো এর পরেও যদি এখানে আমি কাউকে দেখি তো আজকে একটা কেও আস্ত রাখবো না "

১..... সবাই কিছুটা ভয় পেয়ে পিছুপা হয়ে যাই কারণ তারা জানে আদিত্য যা বলে তা করে দেখাই।

২..... আস্তে আস্তে করে সবাই সরে যেতে থাকে।

৩..... আদিত্য যেই না তেড়ে আসবে ওমনি সবাই লুঙ্গি ধরে ভৌ দৌড়, এমন ভাবে সবাই পালাচ্ছে যেন তাদের জান হাতে নিয়ে ফিরছে।

এতক্ষণ ধরে এই সব স্নেহা আর তিথি দেখছিলো তারা কুটিকুটি হয়ে পেট চেপে ধরে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে থাকে।

আদিত্য তাদের চোখ দিয়ে শাসানোর সুরে ধমক দিয়ে উঠে,

"তোরা এখানে কী করছিস উপরে যা ।"

বেচারি তিথি আর স্নেহা হাসি থামিয়ে নিয়ে উপরে চলে যাই। এর পর পর ই আদিত্য কিছুটা ভাব নিয়ে পকেটে হাত গুজে সিটি বাজাতে বাজাতে সেও উপরে নিজের রুমের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

ছেলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে ইকবাল খান মনে মনে বিরবির করে উঠলো ,

" বিয়াদপ ছেলে একটা "

কথাটি বলে হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে তার স্ত্রীর দিকে তাকান। সুফিয়া খান স্বামীর কাঁধে হাত রাখলো

" ওগো আমার ছেলেটা তো আগে এমন ছিলো না! ও কেন এমন হয়ে গেলো?? আমার সেই আগের আদিত্য কোথায় ? কেন এমন করছে ?"

ইকবাল খান স্ত্রীকে ভরসা দিয়ে বুকে আগলিয়ে নিয়ে বলে

" আমি আমার ছেলেকে জানি ও কোনো কারণ ছাড়া কিছু করে না। সব কিছু

উপরওয়ালার উপর ছেড়ে দাও।"

" কিন্তু ওর যে একটা ভবিষ্যত আছে। এইভাবে আর কতদিন! ও কী এইভাবে চলবে সারাজীবন! আমার ছেলেটা কী আগের মতো স্বাভাবিক হবে না? কেনো বখাটে মাস্তান দের মতো চলাফেরা করছে। আমি যে আর নিতে পারছি না।" বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

______________

কোডনেম: মেজর ভিরেক্স

পদবি: মেজর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (স্পেশাল ফোর্স কমান্ডো)

বয়স: ২৮ বছর

জন্ম সাল : ১৯৯৫-১০-১৩

শারীরিক বর্ণনা:

উচ্চতা: ৬ ফুট ২ ইঞ্চি

গড়ন: শক্তপোক্ত, প্রশিক্ষিত, যুদ্ধময়ী

চোখ: তীক্ষ্ণ ধূসর ( বিড়ালের চোখের মনির মতো)

চুল: কালো, ছোট সাইজের কাটা

ব্যক্তিত্ব: কোল্ড, ক্যালকুলেটেড, এবং দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ

দক্ষতা : গোপন মিশনে নিখুঁত ও দক্ষ।ছদ্মবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা কয়েক বছরেরও বেশি।

অস্ত্র ব্যবহারে অনবদ্য দক্ষতা

বিশেষ করে রাতের অভিযান ও স্নাইপার টার্গেটিং-এ পারদর্শী।কমান্ড ও লিডারশিপে দুর্দান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে পারদর্শী।

---

একটি নিঃশব্দ কক্ষে কয়েকজন লোক বসে আছে। টেবিলের উপর ছড়ানো রয়েছে বিভিন্ন গোপন খবর ,কিছু ছবি, আর মিশনের মানচিত্র।

হঠাৎ একজন কালো সুট পরা অফিসার নীরবতা ভেঙে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়,

"স্যার, উনি কি এই মিশনে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন? আপনি কি নিশ্চিত উনি পারবেন?"

প্রধান চেয়ারে বসে থাকা ব্যক্তিটি সামান্য মুচকি হাসলেন। তাঁর চোখে ঝিলিক দিচ্ছিল এক অদ্ভুত বিশ্বাস, এক অটল নির্ভরতা।

" সে হলো আস্ত এক অগ্নিকাণ্ড, যাকে কেউ থামাতে পারে না। বরং তার অগ্নিসংযোগে ভস্ম হয়ে যায় যারা তার সামনে দাঁড়ায়।

সে গোপনীয়তার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর, অনুশাসনের প্রতি অসম্ভব নিয়মিত। কিন্তু দলের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা তাকে বন্ধুদের জন্য এক নির্ভরযোগ্য রক্ষাকবচ বলা হয়।

শত্রুর সামনে সে একনিষ্ঠ যোদ্ধা। সংকটের মুহূর্তে তার সৃজনশীল চিন্তা আর দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাক লাগিয়ে দেয়।

একাধারে সে মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক যুদ্ধের দক্ষ খেলোয়াড়। এমন মানুষ হাতেগোনা আছে, যারা তার মতো নিখুঁত হতে পারে।"

এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে একটু থেমে তিনি গলা খাঁকারি দিয়ে আবারো বললেন

"মেজর ভিরেক্স আমাদের গর্ব। তার নাম শুনলে দেশ-বিদেশের অপরাধজগতের সবচেয়ে কুখ্যাত ব্যক্তিরাও ভয়ে কাঁপে।"

সবাই নিঃশব্দে তার কথা শুনছিল। প্রধান চেয়ারে বসা লোকটি এবার টেবিলের উপর হাত রাখলেন এবং গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,

"শুনো সবাই, আমাদের যত দ্রুত সম্ভব এই মিশন শেষ করতে হবে।কে এই খুনি? যাকে গত ছয়-সাত বছর ধরে কেউ ধরতে পারছে না? এইবার আমাদের তাকে ধরতেই হবে।

এবং আমি জানি,এটা পারবে শুধু একজনই। সে আর কেউ নয় আমাদের মেজর ভিরেক্স!"

লোকটি চারপাশের সবার দিকে দৃঢ় দৃষ্টিতে তাকালেন,

" তোমরা কাজ শুরু করে দাও। আশা করি খুব দ্রুত ভালো খবর পাবো।"

____________

তিথি চুপি চুপি করে আদিত্যর রুমের দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং ঠিক দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। যাবে কি যাবে না চিন্তায় আছে তখন কোন কিছু না ভেবেই দরজাটা হালকা চাপ দিতেই খুলে যাই এবং সে ভিতরে ঢুকে দেখে রুমে কোথাও আদিত্য নেই। তার হঠাৎ করে মনে পড়লো হয়তো বেলকনিতে আছে তাই সে সোজা বেলকনিতে চলে যাই এবং গিয়ে ঠিকি তার বখাটে আদিত্য ভাইকে পেয়ে যাই। যে এখন বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিকোটিন এর ধোঁয়া উড়াচ্ছে।

পিছনে থেকে আসা sunslik শ্যাম্পুর কড়া সুগন্ধিতে আদিত্য জোরে একটা নিঃশ্বাস নেয় । সে পিছনে ফিরে দেখে তিথি দাঁড়িয়ে আছে । সে আবার ওই দূরে আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেট এর ধোঁয়া উড়িয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ নিরবতা পর অবশেষে আদিত্য গম্ভীর ডিপ ভয়েজে বলতে থাকে,

" এতো রাতে এখানে কী চাই তোর ?"

" সরি।"

" কী জন্য? "

" সকালের বিষয়টা নিয়ে ভাইয়া আমি সত্যি অনেক দুঃখিত। আমি আর এমন করবো না " বলে মাথা নিচু করে ফেলে।

আদিত্য এইবার সিগারেট শেষ অংশ টুকু ফেলে দিয়ে পিছনে ঘুরে তাকায় তিথির দিকে। কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে যেন হাজার জন্মের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে সে, কিন্তু হঠাৎ কিছু মনে পড়াই তার মুখের আদল বদলে ফেলে বলতে থাকে।

" ঠিক আছে। এইবার যা রুম থেকে। আর কখনো এইভাবে রাতে হুটহাট রুমে আসবি না মনে থাকবে?"

তিথি কী বলবে ভেবে পায় না শুধু মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝায়। হঠাৎ তার চোখ পড়ে আদিত্যর হাতের উপর। সকালে জখম এখনো তাজা রয়েছে। রক্ত শুকিয়ে গেছে কিন্তু ক্ষত তাজা রয়েছে। তিথি আকস্মিক আদিত্যের হাত টেনে ধরে বলতে থাকে,

" ভাইয়া! আপনি এখনো বেন্ডিস করেন নি কেন? ইনফেকশন হয়ে যাবে তো! "

আদিত্য ঝাড়া মেরে হাত সরিয়ে নিয়ে কিছুটা রাগী গলায় বলল,

" তোকে এখান থেকে যেতে বলেছি না! আমাকে নিয়ে এতো না ভাবলেও চলবে তোর। "

কিন্তু তিথি এক পা ও নড়ে না সে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে।এইবার আদিত্য আর কিছু না বলে তিথির হাত ধরে বাইরে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এবং তার মুখের সামনেই দরজা লাগিয়ে দিলো।

তিথি কিছুটা কষ্ট পেয়েছে আদিত্যর এমন ব্যবহারে। তাই সে মন খারাপ করে নিজের রুমের দিকে অগ্রসর হয় ।

________________

নতুন দিন নতুন কিছুর সূচনা ~

ছোট্ট আবরার দৌড়ে দৌড়ে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে মুগ্ধ ভাইয়া এসেছে আপি। মুগ্ধ ভাইয়া এসেছে বলে দৌড়া দৌড়ি করতে থাকে।

মুগ্ধ মুসাফির ( ফুফির ছেলে) সে প্রয়াই খান মঞ্জিল এ আসে। মুগ্ধ একজন হার্ট সার্জন ডাক্তার , আদিত্য আর মুগ্ধ বলতে গেলে সমবয়সী।

আবরার ঠিক তিথি আর স্নেহার রুমের সামনে এসে দাড়িয়ে দৌড়ে রুমে ঢুকে পড়ে এবং দেখে তার বড় আপি রা পড়ে পড়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । আবরার এক লাফে বিছানায় উঠে পড়ে তিথির চুল ধরে টানতে থাকে।

হঠাৎ মাথায় ব্যাথা যন্ত্রণায় তিথির ঘুম কিছুটা হালকা হয়ে যাই সে আবরার কে স্নেহা ভেবে একটা লাথি দিয়ে বিছানা থেকে ফেলে দেয় ।

স্নেহা ফ্লোরে কোমড় চেপে ধরে বসে আছে এবং তিথির গালাগালি করতে থাকে

– হতছাড়ি কুত্তি , কী করলি এটা ! ওমা আমার কোমড় গেলো রে। আমি বোধহয় আর হাঁটতে পারবো না। কোমড় বাকিয়ে বাকিয়ে হয়তো আর নাচতে পারবো না রে।

কি ব্যাথা! ওমা গো !

তিথির দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে

– কী করলি তুই আমার কোমড়টা ভেংগে দিলি এখন কীভাবে আমি কোমড় ঝাঁকিয়ে জামাইকে দেখাবো বলতো!

তিথি স্নেহার বকবকানিতে বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ে এবং দেখে পাশে থাকা আবরার জোরে জোরে দাঁত কেলিয়ে হাসতে থাকে।

তিথি রাগে বলতে থাকে

– কি হয়েছে আবরার তোর ? এমন ষাঁড়ের মতো চিল্লাচিল্লি করছিস কেন? বাড়িতে কী ডাকাত পড়েছে।

আপনি ডাকাত না মুগ্ধ ভাইয়া এসেছে। তোমাদের খুঁজছে চলো তোমরা। জানো আমাদের জন্য অনেক চকলেট আনছে ভাইয়া।

তিথি আর স্নেহা ইয়াহু করে চিৎকার দেয়

– ইয়ে মুগ্ধ ভাইয়া এসেছে। তিথি চল তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে যাই।

ওরা দুজনেই নিচে নেমে আসে তখন সবাই সকলে বসে টেবিলে নাস্তা করতে ছে। স্নেহা আর তিথি নিজের জায়গায় গিয়ে বসে পড়ে। হঠাৎ করে ই তিথির পাশে চেয়ার টেনে মুগ্ধ বসে।

আর ঠিক তখনই সিড়ি দিয়ে পারপেল কালার এর শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়ে আদিত্য নিচে নামছিল ও। পারপেল রং আদিত্যর পছন্দের সে সবসময় পারপেল কালার এর শার্ট পড়ে থাকে।

মুগ্ধ তিথিকে অনেক গুলো চকলেট দিয়ে বলতে থাকে – কীরে কী খবর তোর ?

তিথি তখন দাঁত পাটি কেলিয়ে বলতে থাকে – ভাইয়া আমি অনেক ভালো তুমি আসছো না আরো অনেক খুশি হয়ে গেছি।

মুগ্ধ তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে এবং খাবার এ মনোযোগ দেয়।

হঠাৎ করে ই তিথির কাশি উঠে যায় তখন ই মুগ্ধ চেয়ার থেকে উদগ্রীব হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে তিথিকে পানি খেতে দেয় এবং পিঠে চাপড় দিতে থাকে

– ঠিক আছিস! এখন ভালো লাগছে তো ?

তিথি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে বলতে থাকে – ভাইয়া আমি ঠিক আছি তুমি বসো নাস্তা করো।

হঠাৎ সবাই খেয়াল করে তিথির পাশে খালি চেয়ারে চেয়ারটা টেনে কেউ বসছে।

টেবিলে থাকে প্রত্যোক এর মুখ হা হয়ে যাই কেননা আজ অনেক বছর পর আদিত্য একসাথে সবার সাথে নাস্তা করবে?? আদিত্য সবার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে

– হা বন্ধ করো সবাই নাহলে বাড়ির মশা সব তোমাদের মুখে ঢুকে যাবে বেচারি গুলো কোন অপরাধ না করেও তোমাদের পেটে চলে যাবে।

সুফিয়া খান ছেলে আজ প্রথম বসাতে কিছু অবাক হয় তাও নিজেকে সামলিয়ে বলতে থাকে – বাবা তুই কী খাবি?

বল আমি ৫ মিনিট এর মধ্যে বানিয়ে আনছি

– না লাগবে না সবাই যা খাচ্ছে তাই দেও । এরপর আদিত্য তিথির দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তার পাশে বসে থাকা মুগ্ধ দিকে চোখ পড়তেই মুচকি হেসে বলে উঠে

– কেমন আছিস? অনেকদিন পর !

মুগ্ধ হেসে জবাব দেয় – ভালো আছি ।

আদিত্য এইবার মুখটাকে ঘোমরা করে উত্তর দেয় – হু তা তো দেখতে পাচ্ছি।

তিথি সম্পূর্ণ খাবার না খেয়ে উঠতে চাইলে তার মা তাকে বকতে শুরু করে দেয়

– তিথি সম্পূর্ণ খাবার টি শেষ কর

কিন্তু তিথি একটা কথাও শুনে না সে খাবার ছেড়ে উঠতে গেলেই একটি গম্ভীর কথায় থেমে যাই

– একচুল পরিমাণ ও নড়বি না তুই। সম্পূর্ণ খাবারটা খেয়েই উঠবি না হলে কিন্তু আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না । আমার পুরো পেল্ট ফাঁকা চাই। সো ফটাফট করে সবটুকু নাস্তা সেরে ফেল টিস্যু দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বলে উঠে।

কথার ফোড়ন কেটে মুগ্ধ তখন বলে আরে আদিত্য এমন করছিস কেন মেয়েটার সাথে খেতে না চাইলে খাবে না এতে জোরাজোরি করার কি আছে।

তিথি তুই আর খেতে না চাইলে খাবি না যা উঠে পড়। তিথি মুচকি হেসে উঠে পড়ে এবং আদিত্য কে মুখ বাঁকিয়ে ভৌ দৌড় দেয়। তখন তিথির মা মুগ্ধ কে বলে

– মেয়েটাকে বেশি আশকারা দিস না মুগ্ধ। ও এমন হলে শশুরবাড়ি চালাবে কেমনে?

মুগ্ধ ছোট মামিকে বলে

– চিন্তা করো না মামি। আমাদের তিথি সবকিছু সামলাতে পারবে এবং সে মনে মনে ভাবে – আমার ফারু কে তো সব সামলাতে হবে যে! ছোটবেলা থেকেই বড়ো করেছি আমাকে সামলানোর জন্য। সে মুচকি হেসে বলতে থাকে

– আমার পিচ্চি ফারু তুই কখন বুঝবি আমাকে??

এইদিকে আদিত্য রাগে দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে আছে সে কাউকে কিছু না বলে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে যাই সদর দরজা দিয়ে।

চলবে ~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন