#বখাটে_আদিত্য
#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী
পর্ব:০৪
থাইল্যান্ডে এর ব্যাংককের রাত তখন পূর্ণ বিকশিত। আলোর ঝলকানিতে ভেসে যাচ্ছে Route 66 Club RCA’র বুকজুড়ে ছড়ানো এই ক্লাব যেন সারা শহরের ঝড় তুলে দিয়েছে।
ডান্স ফ্লোরে ডিজের তালে নেচে চলেছে মেয়েরা, তাদের দেহে আলো ছায়ার খেলা, শরীরে মিউজিকের কম্পন। হঠাৎ এক যুবক ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসে বার কাউন্টারের দিকে। ফিট পোশাকে, চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, হাতে দামী ঘড়ি।
ওয়েটার কাছে এসে গম্ভীর গলায় বলে,
"Give me something hard"
ওয়েটার একটু চমকে উঠে, তবু পেশাদার ভঙ্গিতে একটি গ্লাস এগিয়ে দেয়।
গ্লাস হাতে নিয়ে সে মৃদু হাসে, একবার নাড়িয়ে নেয় এবং ঠোঁটে তুলে নেয় প্রথম চুমুক। চোখ বন্ধ করে আস্বাদন করে যেন প্রতিটি ফোঁটা তার জীবনের বোঝা ভাসিয়ে নিচ্ছে।
ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ায় এক সুন্দরী নারী,সিল্কি ড্রেসে, হিলের টুং টাং আওয়াজ, চোখে কল্পিত খেয়াল।
সে গ্লাস হাতে যুবকটির সামনে দাঁড়িয়ে শরীর বাঁকিয়ে বলে,
"What's your name, handsome?"
যুবকটা মুচকি হেসে তার দিকে এগিয়ে আসে, মাথা নিচু করে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,
"I'm Sadi Khan Reduen ...darling"
মেয়েটি হালকা হেসে চোখ টিপে রেদোয়ানকে ইশারা করে,
"Come with me…"
রেদোয়ান গ্লাসের শেষ চুমুক নিয়ে মুখ মুছে এক পা এক পা করে মেয়েটির পেছনে হাঁটতে থাকে।
---
রুমের দরজাটা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি রেদোয়ানকে টেনে নেয় ভেতরে। ঘরে নরম আলো, সাদা বিছানা, পারফিউমের গন্ধে ভরা বাতাস। মেয়েটি চট করে তাকে বিছানায় ফেলে দেয়।
সে ধীরে ধীরে উঠে আসে রেদোয়ানের বুকের উপর, তার চোখে চোখ রেখে সিডিউস করতে থাকে।
রেদোয়ান ধীরে ধীরে হাত তোলে, মেয়েটির কোমরে ছোঁয়া দেয়, কিন্তু ঠিক যখন মেয়েটি নিজের টপের ফিতা খুলতে যায়
রেদোয়ান হঠাৎ হাত তুলে বলে,
"Wait!"
মেয়েটি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, কিছু বলতে যাবে, এমন সময় ফোনের রিং।
রেদোয়ান ফোন তুলে দেখে তার মা কল দিচ্ছে।
মুহূর্তেই চোখ বদলে যায় তার। মেয়েটিকে আলতো করে দূরে সরিয়ে দেয়, বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় কোন কথা না বলে। সে ক্লাব থেকে বেরিয়ে গাড়ির পার্কিং এড়িয়ায় এসে মাকে কল ব্যাক করে। রেদোয়ান তখন ক্লাব ছেড়ে পার্কিং এরিয়ায় নিজের গাড়ির দিকে হাঁটছে।
"কেমন আছিস বাবা? তোকে তো খুঁজে পাই না রে, কোন খোঁজখবর নাই!"
রেদোয়ান গাড়ির দরজা খুলে বসে পড়ে, গাড়ির সিটে মাথা হেলিয়ে হাসে।
" উফফ মা... ভালো আছি তো, একটু অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।"
এইবার সে শুনতে পায় তার মায়ের চিরচেনা কমন ডায়লগ
" তোকে বলছি কতবার! দেশে চলে আয়। তোর বিয়ে করানোর সময় হয়ে গেছে বাবা! একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে দেয় তোকে।"
রেদোয়ান হেসে ওঠে,
" আহ্ মা! তোমার এই কথা শুনতে শুনতে আমার কান পচে গেছে ... কিন্তু শুনো একটা সুসংবাদ আছে!"
ফোনের অপর পাশে থাক রেদোয়ান এর মা একটু উত্তেজিত গলায় বলল,
" কী রে! কী সুসংবাদ?"
একটু চুপ করে রেদোয়ান জানায়,
" আমি এই সপ্তাহেই বাংলাদেশে ফিরছি, মা। তোমার সেই স্বপ্নটাও পূরণ করতে।”
ওপাশে কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর মা এক চিৎকারে বলে ওঠেন,
" সত্যি বলছিস রে! উপরওয়ালা আমার কথা শুনেছেন তাহলে তাড়াতাড়ি আয়। তোর ভাই আদিত্য দিনদিন বখাটে হয়ে যাচ্ছে আরো। তুই এসে একটু ওকে শাসন কর এইবার।"
রেদোয়ান জানালার দিকে তাকিয়ে হাসে,
" চিন্তা কোরো না মা, সব ঠিক হয়ে যাবে । রাখছি মা ভালো থেকো।"
ফোন কেটে গাড়ির ইঞ্জিন অন করে সে গভীর নিশ্বাস ফেলে। রাতের রাস্তায় ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় তার গাড়ি।
রেদোয়ান এতক্ষন যার সাথে কথা বলছিলো সে আর কেউ নয় মঞ্জিল বাড়ির বড় বউ জুঁই খান। সাদি খান রেদোয়ান -
মোঃ তুর্য খান ও জুঁই খান এর একমাত্র ছেলে ওরফে বাড়ির বড় ছেলে।
রেদোয়ান ব্যাংককের CP Group (Charoen Pokphand Group) এর মেনেজার এর উচ্চ পদে রয়েছে। রেদোয়ান দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম ও ডেসিং। এককথায় বলতে গেলে মেয়েরা তাকে দেখলেই ফিদা হয়ে যাই। কিন্তু রেদোয়ান সে তো প্লে বয় সারাক্ষণ মেয়েদের সাথে ফ্লাট করতে করতে সময় পার করে......
-
জুঁই খান বাড়ির সবাইকে ডাকতে ডাকতে বলে
"তোমরা সবাই কোথায়? নিচে এসে শোনো, একটা সুসংবাদ আছে!”
তিথি, স্নেহা আর ছোট্ট আবরার দৌড়ে বড় মা’র কাছে চলে আসে। এর পরপরই বাকিরাও নিচে নেমে আসে। সবাই কৌতূহলী চোখে জুঁই খানের দিকে তাকিয়ে থাকে।
জুঁই খান খুশিতে ঝলমল করে বলতে থাকেন,
"আমাদের রেদোয়ান এই সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসছে। আর আমাকে নিজে বলেছে, এবার সে আমার স্বপ্ন পূরণ করবেমানে ঘরে একটা নতুন বউ এনে দেবে!”
রেদোয়ান ভাই আসছে আর নতুন বউ আনবে,এই খবরে আবরার, স্নেহা আর তিথি আনন্দে লাফিয়ে উঠে।
ছোট্ট আবরার খুশিতে চেঁচিয়ে ওঠে,
" ইয়াহু! বড় ভাইয়া আসছে! কী মজা!”
সে ঘরের একপাশ থেকে আরেক পাশে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে।
তখন স্নেহা বড়মাকে জিজ্ঞাসা করে,
"বড় মা, রেদোয়ান ভাইয়া কি সত্যিই এবার বিয়ে করবে?”
জুঁই খান মাথা নেড়ে সম্মতি জানান।
এই খবরে স্নেহা আনন্দে আত্মহারা হয়ে তিথিকে জড়িয়ে ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলে,
“তিথি রে! আমাদের একটা ভাবি আসবে খুব তাড়াতাড়ি!”
তিথিও খুশিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। পাশ থেকে মুগ্ধ হেসে তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
"আরে থাম তো! এত খুশি হোস কেন? আগে ভাইয়া আসুক, তারপর না হয় দেখা যাবে ভাবির কথা।”
তখনই পিছন দিক থেকে এক গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসে,
"এত হইচই করার কী আছে এখানে? ভাবি আনবে ভালো কথা, কিন্তু তোমাদের দেখে মনে হচ্ছে যেন বলিউডের নায়িকা এসে পড়ছে।”
সবাই পেছনে ঘুরে দেখে, সোফায় আধশোয়া হয়ে বসে পায়ের ওপর পা তুলে আদিত্য কার রেসিং গেম খেলছে, হাতে গেমিং প্যাড।
সবাই আদিত্য কথায় থমথমে খেয়ে যায় ।
তিথি মুখ বাঁকিয়ে বিরবির করে বলে,
" ডং দেখো জনাবের! খবিশ লোক কোথাকার!”
আদিত্য গেম স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই বলে ওঠে,
"মুখ ভেঙে দেব একদম তোর , মুখটাকে এভাবে বাঁকাস না, তিথি!”
তিথি তো অবাক! এই লোকের চোখ কোথায় ! কপালে ও বুঝি একটা চোখ আছে নাকি? আমি মুখ বাঁকালাম, সেটা দেখল কীভাবে?
আদিত্য এবার উঠে দাঁড়ায়, সবার দিকে একবার তাকিয়ে ধীর পায়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
কিছুক্ষণ পর সে আবার নিচে নামে। এবার তার পরনে স্টাইলিশ বম্বার জ্যাকেট, থিক প্যান্ট, স্নিকার্স, হাতে গ্লাভস,একেবারে যেন কোনো রেসিং চ্যাম্পিয়ন!
তিথি আর স্নেহা তখন সোফায় বসে টিভি দেখছিল। আদিত্যকে দেখে তিথি একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে মনে মনে বলে,
আদিত্য ভাইয়া কী হট! আর কী ডেসিং
তারপর হঠাৎ নিজের গালে এক চাপড় মেরে সে নিজেই নিজেকে ধমকায়,
" ছি তিথি! তুই কী ভাবিস? আদিত্য ভাইয়া জানলে তোকে লবণ ছাড়াই কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে!”
তারপরও তিথি আবারও একবার আদিত্যর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,
" জনাবের আর কোনো কাজ নেই।সারাদিন শুধু মারামারি আর কার রেসিং! ছ্যাঁ! কী ছ্যাঁচড়া টাইপের লোক!”
এদিকে আদিত্য তার মায়ের কাছে এসে নরম কণ্ঠে বলে,
" আম্মু, আজ ফিরতে দেরি হবে। ঘুমিয়ে পড়ো, আমার জন্য অপেক্ষা করো না।”
আর কিছু না বলে সোজা গাড়ির চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে সে বেরিয়ে যায়।
তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আদিত্য মা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেন।একটা অদৃশ্য, চাপা বেদনা যেন মুখের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে।
আদিত্য সোজা চলে যায় "রেসিং এরিয়া"-তে।এই এলাকাটার অন্য নাম "ডার্ক বুলেট স্ট্রিপ", যেখানে এই জেলার সব বখাটে গ্যাং গোপনে তাদের রেসিং প্রতিযোগিতাগুলো আয়োজন করে। রাত যত গভীর হয়, এই এড়িয়া তত জেগে ওঠে ইঞ্জিনের গর্জন আর টায়ারের চিৎকারে।
তবে আদিত্যর এসব প্রতিযোগিতায় কোনো আগ্রহ নেই। তার কাছে রেসিং মানে প্রতিযোগিতা নয়, এটা এক ধরণের নেশা, একধরনের মুক্তি। স্টিয়ারিং ধরলেই যেন তার ভিতরের ঝড়টা শান্ত হয়ে যায়।
আজও তেমনি, গাড়ি থেকে নেমে সে চুপচাপ হেঁটে এড়িয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে কার গ্যারেজের পাশে দাঁড়াতেই তার মাথায় এক জোরালো চাপড়!
পেছনে ফিরে দেখে ওর ফাজিল বন্ধুরা!
ইরফান, অর্জুন, রুদ্র আর রাতুল চারজনের চোখে মুখে সেই চিরচেনা দুরন্ত হাসি। অর্জুন একজন হিন্দু পরিবার থেকে আসা, কিন্তু বন্ধুত্বে এই পাঁচজনের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই।
ওরা একে অপরের ছায়া। বিপদে-আপদে, লড়াইয়ে, হাসিতে-কান্নায় সবসময় একসাথে।
তখন ওদের সামনে এক ছেলে তাদের কাছে এগিয়ে আসে, মুখে বিদ্রুপ হাসি , চোখে চ্যালেঞ্জের আগুন। সে বলে,
“এইবার তোর সব দম্ভ চূর্ণ হবে আদিত্য! আজ তোকে গো-হারান হার দেখাব!”
ইরফান ঠোঁটে এক কোণ হাসি নিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে বলে,
" দেখা যাবে কে হারায় আর কে জেতে। এখন যা, গিয়ে গাড়ির ব্রেক ঠিক কর।”
পাশে দাঁড়িয়ে সবাই হো হো করে হেসে ওঠে।
এড়িয়া রোদ-ঝলমলে না হলেও, আলো কম নয়। উজ্জ্বল হেডলাইট আর আলো ঝলকানো লাইনগুলোয় দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক হেভি কার। লাইনআপে আছে মোট ১২টি গাড়ি। একেকটা যেন ক্ষুধার্ত বাঘ গর্জন করছে, ইঞ্জিন ঘুরছে এক টান টান উত্তেজনায়।
আদিত্যর গাড়ি কালো ম্যাট শেডের।মডিফায়েড Mustang GT। কাঁচ কালো, নিচে নীল এলইডি লাইট, আর সামনে একটা সাদা X মার্ক,ওদের গ্যাং ‘X-Shadows’ এর চিহ্ন।
প্রতিটি রেসার স্টিয়ারিং ধরেছে, দর্শকদের মধ্যে শ্বাস আটকে রাখা উত্তেজনায় ভরে উঠেছে।।
থ্রি...
টু...
ওয়ান...
BOOM!
গর্জে ওঠে সব গাড়ি একসাথে!
ধুলা উড়ে আকাশে, চারদিক ঝাঁকিয়ে তোলে ইঞ্জিনের শব্দ!
রেসের প্রথম মোড়েই এক গাড়ি পিছলে পড়ে, আরেকটা কাটিং এ গিয়ে থেমে যায়।
কিন্তু আদিত্য?
তার চোখ স্থির, গতি নিয়ন্ত্রণে, ব্রেকিং একদম নিখুঁত। মাঝেমধ্যেই পিছনে তাকিয়ে দেখে কে কোথায় আছে, মাথায় যেন রাডার বসানো।
একটা ধাক্কাধাক্কি মুহূর্তেও হ্যান্ড ব্রেকে চমৎকার ড্রিফট করে পাশের গাড়িকে পেছনে ফেলে দেয়। শেষ ল্যাপ। সবাই প্রায় সমানে সমান। চারটা গাড়ি একসাথে ঢুকে পড়ে শেষ টার্নে।
সবাই চিৎকার করছে, কেউ জিতবে এই মুহূর্তে!
আর ঠিক তখনই, আদিত্য তার গাড়ির নাইট্রো বুস্ট অন করে।
এক ঝড়ের মতো সে ছুটে যায় সামনে!
সবার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। চ্যাম্পিয়ন লাইন পার হয় আদিত্য!
চারদিক ফেটে পড়ে উল্লাসে!
বন্ধুরা এসে আদিত্যকে ঘিরে ফেলে।চিৎকার, করতালি, আর স্লোগানে পুরো স্ট্রিপ কাঁপতে থাকে।
তখনি ইরফান বলে
" বলো তো, কে চ্যাম্পিয়ন?”
রুদ্র চিৎকার করে উঠে বললো,
" আর কে আমাদের রেসার মাহাদি খান আদিত্য ।"
আদিত্য একটু মুচকি হাসে এবং তার চোখ খেলে হাজারো রহস্যর কাহিনী ।
আদিত্য প্রায় ক্লান্ত অবস্থায় বাড়ির ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খোলে ভিতরে প্রবেশ করে সোজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের রুমে যেতে গেলেই তার পা হঠাৎ করে থেকে যায় এবং সে নিজের রুমে না গিয়ে তিথি আর স্নেহার রুমের ভিতরে চলে যাই। আদিত্য তাদের বিছানার পাশে গিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তিথির দিকে।
জিরো বাল্ব এর আলোয় এবং জানালা থেকে আশা চাঁদের আলোয় তিথির মুখটা জোৎস্না রাতের মায়াবিনী ঘুমন্ত পরি লাগছে। আদিত্য তিথির পাশে বসে পড়ে এবং দেখতে থাকে এই পাগল মেয়েটিকে। তিথির গায়ে দেওয়া কাথা তার গা থেকে নেমে গেছে যার ফলে তার পড়ে থাকা টিশার্ট এর ভিতর কালো ইনার অংশ বিশেষ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
আদিত্য একটা ঢোক গিলে চোখ সরিয়ে নেয় এবং সে সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাড়াই নিজেকে সংযত করতে থাকে।
সে আবার পিছনে ফিরে আর সময় ব্যয় না করে কাথাটা তিথি গায়ে তুলে দিয়ে ফটাফট রুম থেকে বেরিয়ে যাই।
________________
খুব ভোরে তিথির ঘুম ভেঙ্গে যাই সে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে দেখে তার মা, মেজো মা আর ছোট মা সকালের নাস্তা তৈরি করছে। তিথি লাফাতে লাফাতে ডাইনিং টেবিল থেকে একটা আপেল নিয়ে তাতে কামড় বসিয়ে দেয় ।
সে সোফায় বসে আরামসে গোপাল ভাঁড় কাটুন দেখছে। তখন তিথি কে দেখে সুফিয়া খান তিথির উদ্দেশ্য বলে
" তিথি মা দেখে আয় তো আদিত্য ঘুম থেকে উঠেছে কিনা একটু ডেকে দে না মা।"
তিথির মুখের থেকে আপেল টা পড়ে গিয়ে মুখটা চুপসে যায় মেজো মার উদ্দেশ্য বলতে থাকে,
–" উঁহু আমি পারবো না মেজো মা। তোমার ছেলেকে দেখলেই আমার হাত পা কাপাকাপি শুরু করে। কখন না আবার থাপ্পড় বসিয়ে দেয় আমার তুলতুলে গালে।"
সুফিয়া খান আবার মিনতির সুরে বলে
– যা না মা একটু দেখ আমি কতো কাজে ব্যস্ত আছি।
কিন্তু তবুও তিথি নাকোজ করে দেয় ঠিক তখনই রান্না ঘর থেকে একটা খুন্তি হাতে নিয়ে বেলা খান অর্থাৎ তিথির মা ছুটে আসে এবং মেয়ের উদ্দেশ্য বলতে থাকে
– অলক্ষ্মী একটা সারাদিন পারবো না পারবো না করে যা এখুনি আদিত্য কে ডেকে দিয়ে আয় না হলে কিন্তু এই গরম খুন্তি দেখছিস ওইটা যাবে তোর গায়ে।
এইদিকে তিথি কে আর পায় কে সে সোজা দৌড়ে ছুটে পালায়।
আবরার, স্নেহা এই সিন দেখে হেসে হেসে মজা নিতে থাকে।
তিথি সেই ছুটা এসে থামায় আদিত্যর রুমের সামনে এসে , সে বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। অনেক সাহস করে দরজা ভিড়িয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। বিছানায় উপুড় হয়ে খালি গায়ে শুয়ে আছে তার বখাটে ভাই। সে অনেক সাহস সঞ্চার করে আদিত্যকে ডাকতে থাকে
– আদিত্য ভাই শুনছেন উঠুন, আপনাকে সেজো মা ডাকছে।
একটা মেয়েলি কন্ঠ বারবার পেয়ে আদিত্য হালকা চোখ তুলে তাকিয়ে দেখতে পায় তিথি কে। তিথি কে দেখে তার মুখ বিরক্ত ছাপ ফুটে উঠে সে পাশে থাকা একটা বালিশ নিয়ে তিথির দিকে ছুড়ে মারে।
– কী সমস্যা তোর ! এমন ষাঁড়ের মতো চিল্লাচিল্লি করছিস কেন?? যা এখান থেকে ঘুমের ১২ টা বাজাবি না
তিথি একটু রেগে বলে উঠে,
– আমি ষাঁড়ের মতো চিল্লাচিল্লি করছি না মেজো মা আমাকে ডাকতে বলছে আর আপনি আমার দিকে বালিশ ছুরলেন কেন??
আদিত্য হঠাৎ করে উঠে দাড়াই এবং সোজা তিথি কাঁধ ধরে তাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে ঘুমঘুম কন্ঠে বলতে থাকে
– মেরেছি তো ! কী করবি?
তিথি ছোটার জন্য মুছরা মুছরি করতে থাকে
– ছাড়ুন না ভাইয়া ব্যাথা পাচ্ছি তো।
আদিত্য এক মনে তাকিয়ে থাকে তিথির দিকে। তাদের দুজনে একে অপরের কাছে আসাতে দুজনের শ্বাস আটকে আসছে।
এইবার তিথি আদিত্য চোখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এই সেই বিড়ালের গোলাটে চোখ। যেখানে তাকিয়ে থাকলে তিথি হারিয়ে যাই অন্য জগৎ। কি আছে এই বিড়াল চোখে! অদ্ভুত এক টান অনুভুত হয় আজকাল।
আদিত্য ছেড়ে দেয় তিথি আদিত্য দিকে তাকিয়ে একটু নাক ফুলিয়ে বলতে থাকে
– আমি ইচ্ছে করে আসি নি এখানে মেজো মা ডাকতে বলছে।
সে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে যেতে বলতে থাকে
– উফফ কী এক যন্ত্রনা আমার জীবন উপকার করলেও বিপদ আর না করলে ও বিপদ ।
কথাটা তিথি কপালে চাপড় দিয়ে বলতে। থাকে
– তিথিরে তোর কী হবে ?? এইদিকে বাঘ তোকে চেপে ধরে আরেকদিকে মা খুন্তি নিয়ে তেড়ে আসে ! উমম ভাল লাগে না 😒
চলবে ~
( আমি ভাবছি এই গল্পটা কিছু দিন অফ রাখবো কেননা এটা হয়তো আমি ভালো করে গুছিয়ে লিখতে পারছি না আপনাদের হয়তো ভালো লাগছে না । দয়াকরে আপনাদের মতামত টা একটু জানাবেন প্লিজ আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে আমি লেখার চেষ্টা করবো 😁 এই জগাখিচুড়ী লেখা আরকি 🤧 পারলে একটু রেসপন্স করিয়েন।)