ফন্ট সাইজ:
থিম:
বখাটে আদিত্য

৫ম পর্ব

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রীয়ন্তি

#বখাটে_আদিত্য

#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী

পর্ব:৫

[🚫কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত]

[🚫 পর্বটি আপনারা চাইলে স্ক্রিপ করতে পারেন, কেননা পর্বের কিছু অংশে আপত্তিকর সিন দেওয়া হবে যেমন: জোর*জবর*দস্তি, ধ*র্ষ*ন, হ*ত্যা, ভায়ো*লেন্স যারা দুর্বল মনের অধিকারী তারা দয়া করে পড়বেন না❌]

____

প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন। আমার বাড়িতে অসুস্থ মা রয়েছে আমি ছাড়া মায়ের আর কেউ নেয় প্লিজ ছেড়ে দিন আমাকে দয়া করুন। মেয়েটি কান্নাজড়িত অবস্থা সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে বলতে থাকে।

আমার এতো বড় ক্ষ*তি করবেন না ....

মেয়েটি সামনে থাকা লোকটির পা ধরে বলতে থাকে – আমার ই*জ্জ*ত টুকু আমাকে ফিরিয়ে দিন , আমার ই*জ্জ*ত হ*র*ণ করবেন না।

তখন লোকটি হাঁটু গেড়ে বসে মেয়েটির চোয়াল আঁকড়ে ধরে বলতে থাকে

– সোনা এটা সম্ভব নয় কারণ তুই একটা মেয়ে আর মেয়েরা হলো আমার কাছে নিজের চা*হি*দা মে*টা*নোর মেশিন। তোরা শুধু পুরুষদের চা*হি*দা মে*টা*তে জানিস । আর আমার কাছে মেয়ে মানেই ব্যা*শা। তোদের ওই ন*গ্ন দে*হ আমার নে*শা তাইলে কি করে ছেড়ে দিবো বল। মেয়েটি ভয়ে কুঁকড়ে যায়।

সে আকুতি মিনতি করে আহাজারি করতে থাকে কিন্তু লোকটি এক পা নড়লো না সে মেয়েটির বু*কে*র ও*ড়না এক টান মেরে কেড়ে নেয় এবং তার ব*ক্ষ*ভা*জ এর দিকে লো*ভা*তুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

হঠাৎ করে একটা হাত দিয়ে জো*রে চে*পে ধরে মেয়েটির ব*ক্ষ*ভাজ, মেয়েটি ব্যাথায় কিছুটা কুঁকড়ে যাই।

লোকটি ধীরে ধীরে আরো মেয়েটি কাছে এসে তার উ*ন্মু*ক্ত বুকে জি*ভ দিয়ে চে*টে দেয় । ঘৃনায়, লজ্জায় মেয়েটি লোকটি দূরে ঠেলে দেয় এবং লোকটির মুখে থুতু ছুড়ে দিয়ে বলে

– তোদের মতো জা*নোয়া*ররা এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছে কেন একমাত্র উপরওয়ালা জানে । তোদের তো চরম থেকে চরম শাস্তি পাওয়া উচিত। তোরা জানিস শুধু মেয়ে ভো*গ্য ব*স্তু মনে করিস।

লোকটি নিজের মুখে লেপ্টে থাকা থুথু মুছে নিয়ে ডেভিল একটা হাসি দিয়ে এগিয়ে যায় এবং ফট করে মেয়েটি চুল মু*ঠি আঁকড়ে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে

– হ্যাঁ তোরা ভো*গ্য ব*স্তু ছাড়া আর কিছু নস। চল এইবার আমাকে শা*ন্ত করবি ট্রাস্ট মি তোকে আমি স্ব*র্গ সুখে ভাসিয়ে দেবো ।লোকটি এইবার জোরে জোরে পাগলের মতো হাসতে থাকে এবং আবার মেয়েটির উদ্দেশ্য বলতে থাকে

– এই এই দেখ না কিছুক্ষণ পর তুই নিজেই আমায় বলবি তোকে আরো চরম সুখ দেওয়ার জন্য।

মেয়েটি ঘৃ*নায় গা ঘিন ঘিন করে উঠে

– তোর যদি এতোই সুখ পাওয়ার ইচ্ছা যা না তোর *মা আর *বোন থেকে সু*খ কুঁড়ে নে।দেখবি ওরা তোকে চ*র*ম সু*খে ভ*রে দেবে

লোকটি হঠাৎ মেয়েটি গালে জোরে চড় বসিয়ে দেয় এবং মেয়েটির দিকে ঝাঁ*পি*য়ে পড়ে

– তোর তে*জ আমি কমাবো বলে মেয়েটিকে জোর জ*ব*রদ*স্তি করতে থাকে

মেয়েটি লোকটাকে ঠেলে দিয়ে উঠে দাড়িয়ে দৌড়ে হাঁটা শুরু করে কিন্তু বেশিদূর যেতে পারে না সেই দা*নবি*য় লোকটি মেয়েটাকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার সাথে জোর জ*ব*রদ*স্তি করতে থাকে ।

মেয়েটির হাত পা বেঁধে তাকে ধ*র্ষ*ন করতে থাকে। সেই অন্ধকার ছন্ন রুমটিতে শুধু মেয়েটির আ*র্ত*না*দ শুনা যায়। লোকটি মেয়েটিকে পরপর অনেক বার

ধ*র্ষ*ণ করে ক্ষ্যান্ত হয়। মেয়েটি আর সহ্য করতে না পেরে নে*তিয়ে পড়ে কান্না করতে থাকে।

লোকটি পাগলের মতো হাসতে থাকে। হাসতে হাসতে মেয়েটির কাছে এসে বলতে থাকে

– কীরে তোর তে*জ কয় গেলো এখন এইবার দেখ আমি কী করি

এপাশ ওপাশ করে লোকটি যেন কিছু খুঁজে চলেছে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেয়ে মুখের কোন হাসি ফুটে উঠল এবং ধীরে ধীরে মেয়েটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মেয়েটির সামনে দাঁড়িয়ে ঘাড় এপাশ ওপাশ করতে করতে বসে পড়ে। মেয়েটির একটা হাত নিয়ে মাটিতে জোরে চেপে ধরে এবং একটি কু*ড়া*ল দিয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই পর পর পাঁচটি হাতের আ*ঙ্গুল কে*টে ফেলে। মেয়েটির জোরে চি*ৎকা*র দিয়ে উঠে সে গ*লা কা*টা মুরগির মতো ছট*ফট করতে থাকে।

লোকটা মেয়েটির ছটফটানি দেখে বিশ্বজয়ের হাসি দেয় এবং আরেকটি হাতে ও একই কাজটি করে। ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমটিতে এইবার র*ক্তে বন্যা বয়ে পাশাপাশি কান্নাজড়িত আ*র্ত*না*দ শুনা যায়।

মেয়েটি জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে সে অসহায়ত্ব হয়ে বলে

– আমাকে মে*রো না আমার মা অসুস্থ শয্যাশায়ী,তার কেউ নেয় আমি ছাড়া আমাকে না পেলে মা পাগল হয়ে যাবে দয়া করো একটু আমাকে মে*রো না।

মেয়েটি জোরে একটি লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে আবার বলতে থাকে

– আমি কাউকে বলবো না তোমায় কথা আমাকে যেতে দাও ।

লোকটি তখন কু*ড়া*ল টি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে থাকে

– উঁহুু এটা আমি করতে পারবো না বলে কু*ড়া*ল টি দিয়ে মেয়েটির মাথায় একটি কূ*প মেরে দেয় মেয়েটি বুক*ফাটা চিৎ*কার করে দেয়। লোকটি এইবার উন্মা*দ এর মতো মেয়েটির পে*টে কু*ড়া*ল দিয়ে কূ*প মারতে থাকে অন*বরত ।

মেয়েটি চিৎ*কারে আও*য়াজ অন্ধকার ঘরটি দেওয়ালে দেওয়ালে আর্ত*নাদ ভেসে উঠে।

লোকটির চোখে মুখে র*ক্ত

ফোঁ*টা ভেসে উঠে সে মেয়েটির র*ক্ত নিয়ে সারা মুখে প্রলে*প দিতে থাকে।

র*ক্ত? এটা শুধু -শরী*রের র*ক্ত তরল না... এটা আমার আরামের চা, আমার ঘুমের ওষুধ। যত বেশি র*ক্ত দেখি, তত বেশি শান্তি পাই।"

"আমি খু*ন করি না মেরে ফেলার জন্য… আমি খু*ন করি র*ক্ত দেখার জন্য। গরম, টা*ট*কা র*ক্ত—আঙুল বেয়ে যখন নামে, সেটা শিল্প!"

মেয়েটি এখন প্রায় মৃত্যু*শায়ি শরীরে এক ফোঁটা ও শক্তি নাই তবুও সে অনেক কষ্ট করে বলে

– আমাকে বাঁচতে দাও আমার মায়ের জন্য আমাকে বাঁচতে হবে আমি মরতে চায় না। আমাকে বাঁচতে দাও। চোখের কোণ বেয়ে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

–আমার যে অনেক স্বপ্ন ছিলো পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হবো আর ভালো ডাক্তার দেখে মায়ের চিকিৎসা করাবো।

কেন আমাকে বাঁচতে দিলেন না কি ক্ষতি করেছি আপনার? জোরে লম্বা টানে নিঃশ্বাস নিতে থাকে

– হে উপরওয়ালা আমি তোমার কাছে আর্জি জানাই এই কুলা*ঙ্গার, না*স্তি*ক, জানো*য়ারকে তুমি চরম থেকে চরম শাস্তি দিও সে আমাকে বাঁচতে দিলো না। আমার মাকে দেখো রেখে উপরওয়ালা বলে জোরে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে......

পৃথিবীর থেকে বিদা*য় নেয়..... মেয়েটির চোখের কোণ বেয়ে শেষ অশ্রু টুকু গড়িয়ে পড়তে থাকে।

লোকটি কু*ড়া*ল টি দিয়ে আবার অ*নব*রত কূ*প দিতে দিতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তার তৃ*প্তি না মিঠে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে কু*ড়া*ল*টি ফেলে দিয়ে উন্মা*দ এর মতো হাসতে থাকে

– বাঁ*চ*তে দিবো না আমি কাউকে, সবাইকে শেষ করে দিবো।

~

মানুষ যেমন ভাত খায়, ওরা তেমনি ছু*রি চালায়। বু*ক চি*রে র*ক্তে ভেজা হৃ*দ*য় বের করে যখন দেখে, তখন তাদের মনে শান্তি নামে। ওরা জানে না মায়া, জানে শুধু একটাই জিনিস — "র*ক্ত মানে জীবন, র*ক্ত মানে খেলনা।"

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

CP Group অফ ব্যাংকক

– May I caming sir??

– Yes....

হাঁটু পর্যন্ত একটা টপ পড়া দেখতে বেশ সুন্দর মর্ডান, স্টাইলিশ, ঠোঁটে গাড়ো লিপস্টিক ঘাড় পর্যন্ত সোনালি চুল মেয়েটি কোমড় দুলিয়ে রোদোয়ান এর কাছে যেতে থাকে

–স্যার এই ফাইলটিতে আপনার একটা স্বাক্ষর লাগবে....

তখন রেদোয়ান মেয়েটির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল

– শুধুই কী স্বাক্ষর নাকী আরো অন্য কিছু লাগবে মিস...

তখন মেয়েটিও মুচকি হেসে রেদোয়ান ঠিক পাশে দাঁড়াই এবং তার কোলে বসে পড়ে.....

– হ্যাঁ লাগবে তো তা কী আপনি দিতে পারবেন?

– কেন নয় কী চাই বলো ? রেদোয়ান এর সঙ্গে সঙ্গে উত্তর

– চাই তো অনেক কিছু কিন্তু এখন না

রেদোয়ান মেয়েটির সাথে ফ্লাট করতে থাকে। মেয়েটির সারা শরীরে হাত বুলাতে থাকে........

– You are so hot baby ..... I can't control my self......

মেয়েটি তখন রেদোয়ান সাথে রেসপন্স করতে থাকে

তখন ই হঠাৎ রেদোয়ান মেয়েটিকে দূরে ঠেলে দিয়ে বলে

– ওকে ফাইল দাও সাইন করে দি.....

মেয়েটি কিছু টা রেগে বলতে থাকে

– সমস্যা কী ?? মুড নিয়ে এসে এইভাবে ঠেলে দেওয়ার মানে কী????

রেদোয়ান ডেক্স থেকে একটি কলম নিয়ে কলমটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে হাসতে হাসতে মেয়েটির চুলের মুঠি ধরে বলে

– তৃপ্তি মিটে গেছে তাই ছুড়ে ফেলেছি। তোদের সাথে একটু কী ফ্লাট করছি ওমনি মাথায় চড়ে বসলি তোরা মেয়ে মানুষই এমন.... ছ্যাঁ

_________

সিঁড়ি বেয়ে একটা পারপেল রং এর চেকশাট আর ট্রাউজার পড়িহিত আদিত্য সিগারেট এর ধোঁয়া উড়িয়ে নিচে নামতে থাকে

তখনই স্নেহা জিজ্ঞাসা করে

– ভাইয়া কোথায় যাচ্ছো এই বিকাল বেলায়?

আদিত্য বোনের মাথায় গাট্টা মেরে বলে

– শপিং মলে যাবো ......

স্নেহা চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখা যায় ।

আদিত্যর একটা হাত আঁকড়ে ধরে বলতে থাকে

– ভাইয়া আমি ও যাবো প্লিজ আমার অনেক কিছু কেনার বাকি আছে...

– সর বেডি সামনে থেকে আমি পারবো না তোর মতো আপদ কে নিয়ে শপিং করতে সর সামনে থেকে।

স্নেহা আহ্লাদি সুরে বলতে থাকে

– ভাইয়ারে এমন করো কেন?? নিয়ে চলো না প্লিজ প্লিজ প্লিজ তিথির ও কিছু কেনাকাটা বাকি ছিলো আর আমাদের আব্বু একা একা বের হতে দেয় না।

আমার লক্ষী ভাই সোনা ভাই চলো না আমাদের নিয়ে।

তখন পেছন থেকে মুগ্ধ বলে উঠে

– চল স্নেহা আমি নিয়ে যাই তোদের। আদিত্য এইসব পছন্দ নয়... ওকে জোর করিস না.....

ফারু...... ফারু......

– তিথি তখন লাফাতে লাফাতে এসে একটা হাসি দিয়ে বলে হ্যাঁ ভাইয়া বলো

মুগ্ধ ও কিছুটা সিন্ধ হাসি দিয়ে বলল

– চল তোদের শপিং মলে নিয়ে যাই আমার আজ নাইট শিপ আছে তাই এখন কাজের কোন চিন্তা নেই।

– সত্যি ভাইয়া নিয়ে যাবে ইয়াহু বলে চিৎকার করে উঠল

-

আদিত্য শূন্য দৃষ্টিতে তিথির দিকে তাকিয়ে থাকে তখন ই স্নেহা বলে উঠে

– হুম কিন্তু আদিত্য ভাইয়া তুমি ও চলো না আমাদের সাথে প্লিজ কখনো তোমার সাথে ঘুরা হয় না আমাদের তোমার সাথে নিয়ে চলো না......

তিথি এইবার আদিত্যর দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু হঠাৎ করে যেন তার কিছু হতে লাগলো ওই চোখের মনিতে সে যতবার ই তাকায় ততবার ই জলস্রোত ভেসে উঠে। ততবার সে হারিয়ে যাই অন্য কোন জগতে।

– ঠিক আছে চল এইটুকু বলে সে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যায়.....

ফারু যা রেডি হয়ে নে অপেক্ষা করছি আমরা .......

_______

অনেকক্ষন সময় হয়ে যাবার পর ও তিথি আর স্নেহার দেখা মিললো না.....

আদিত্যর বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে বিরবির করতে থাকে

– শপিং করতে যাচ্ছে নাকি এরা পুরো শপিং মল টি পুরো তুলে নিয়ে আসতে যাচ্ছে। আজাইরা পাবলিক এরা..... ধ্যাত...

ঠিক তার কিছু মিনিট পর তিথি আর স্নেহার দেখা মিললো ওদের দেখার সাথে সাথে আদিত্য ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মতো তাদের উপর চিল্লাচিল্লি করে নিজের গাড়ি নিয়ে আগে আগে চলে যেতে থাকে....

কিন্তু

এইদিকে মুগ্ধ চেহারায় কোন রাগ, বিরক্ত ছাপ মুখে পড়ে নি। সে হেসে হেসে ওদের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে

– চল তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে তো.....

আধাঘণ্টা পর তারা চট্টগ্রামের বিখ্যাত একটা শপিং মলের সামনে গাড়ি পার্কিং এড়িয়া গাড়ি পার্ক করে দাঁড়ায় । তখন আদিত্য ও তাদের সাথে গাড়ি থেকে নামে।

কিন্তু বিপত্তি বাধে তিথিকে নিয়ে মেয়েটা চঞ্চল প্রকৃতির হলেও সে একটু ভীতু টাইপের শপিং মলটা যাওয়ার পথে বড়ো রোড ক্রস করতে হয় । তিথি বরাবরই ভীতু এই সব ব্যাপারে সে রাস্তা পার হতে পারে না একা একা।

তারা সবাই যখন রাস্তা পার হওয়ার জন্য সামনে এগোয় তিথির হাত-পা কাঁপতে থাকে এত বড় বড় গাড়ি গুলোর ভিড়ে সে কেমনে রাস্তা পার হবে? লজ্জায় কাউকে বলতে ও পারছে না। তখন সামনে থেকে স্নেহা মুগ্ধের হাতটা ধরে তারা রাস্তা পাড় হয়ে চলে যাই।

তাদের পিছুপিছু যখন আদিত্য পকেটে হাত গুজে রাস্তা পার হওয়ার জন্য সামনে এগোয় হঠাৎ তার পা থেকে যায় কিছু একটা ভেবে সে পেছনে ফিরে দেখে

তিথি ভয়ে হয়ে হাত পা কাঁপছে। আদিত্য বিরক্ত লাগে " এই মেয়ে এতো বড় হয়েছে এখনো রাস্তা পার হতে পারে না অসহ্য।

আদিত্য তিথির সামনে এসে তার একটা হাত আঁকড়ে ধরে সামনে এগোতে থাকে।

তিথি অপলক তার বখাটে আদিত্য ভাই এর দিকে তাকিয়ে থাকে। যখন রাস্তার মধ্যে চলে আসে তখন ভয়ে আদিত্য শার্ট দুমড়ে মুচড়ে আঁকড়ে ধরে ।

তিথির এক হাত আঁকড়ে ধরে সামনে রাস্তা পার হতে থাকে তখন ই হঠাৎ একটা রিক্সা তিথির সাথে ধাক্কা লেগে যেতো কিন্তু তার আগেই আদিত্য তিথি কে আগলে নিয়ে সেই লোকটির দিকে চোখ রাঙিয়ে দেয় .... বেচারি রিক্সা চালক আদিত্য ওই ভয়ঙ্কর চোখ রাঙানিতে চুপসে যাই এবং তিথির উদ্দেশ্য বলে

– মা আমি দেখতে পাই নি আমাকে মাফ করে দাও। তিথি কিছুই বলে না শুধু মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়।

তারা দুজনেও রাস্তা টা পার হয়ে যাই ওপারে মুগ্ধ আর স্নেহা দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের সামনে এসে আদিত্য তিথির হাত ছেড়ে দেয়। তারা সোজা লিফট এ উঠে পড়ে কিন্তু লিফট এর মধ্যে প্রায় কয়েকজন পুরুষ এর ভিড় লিফটের এর ভিতর তিথির গায়ে বাকি পুরুষের ছোঁয়া যাতে না লাগে তাই তিথির কাঁধে হাত দিয়ে আগলে নেয়। এইদিকে স্নেহা কেও মুগ্ধ একপাশে আগলে নেয় ।

লিফট যথাস্থানে থেমে গেলে এক এক করে সবাই লিফট থেকে বেরিয়ে যাই।

তারা চারজন প্রথম এ মেয়েদের স্টল এ চলে যাই স্নেহা ঘুরে ঘুরে অনেক কিছু কিনে ফেলে কিন্তু তিথি সে কিছুই চয়েস করতে পারছে না অবশেষে কয়েকটি থ্রি-পিস , টিশার্ট আর টপস নিয়ে নিলো।

আদিত্য এর ফাঁকে তার প্রয়োজনীয় কিছু জামা-কাপড় কিনে নিয়ে এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে Dunhill blue সিগারেট এর প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট মুখে পুড়ে নেয় ।

মুগ্ধ স্নেহা আর তিথি সাথে তাদের ড্রেস সিলেক্ট করতে সাহায্য করে। তাদের তিনজন এরি ই শপিং শেষ তিথি যখন বিল কাউন্টারে বিল দিতে যায় তখন একজন এমপ্লয় এসে বলতে থাকে পেমেন্ট নাকি অলরেডি পেইড হয়ে গেছে। স্নেহা তখন জিজ্ঞাসা করে কে টাকা পরিশোধ করেছে তখন ওই এমপ্লয়টি কোনায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়া আদিত্যর দিকে একটা আগুল তাকে করে তাকে দেখিয়ে দেয়।

সবাই একটু অবাক হয় কেননা আদিত্যর কোন রোজগার নেই সবসময় তার আব্বু থেকে টাকা নেয় । সে এতো টাকা পেলো কো থেকে..... সবাই আর কিছু না বলে সামনে দিকে হাঁটতে থাকে স্নেহা, মুগ্ধ, আদিত্য হাঁটতে থাকে কিন্তু হঠাৎ করে তিথি একটা বৃদ্ধ মহিলার সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায় পাশাপাশি বৃদ্ধ মহিলাটি ও পড়ে যায় । তিথি তৎক্ষণাৎ উঠে বৃদ্ধ মহিলাটিকে দাঁড়াতে সাহায্য করে

বৃদ্ধ মহিলাটি তিথির কাছে ক্ষমা চায় উত্তরে তিথি বলতে থাকে

– না না ক্ষমা চাচ্ছেন কেন? ভুল তো আমারো আছে । আপনি কী বেশী ব্যাথা পেয়েছেন।

বৃদ্ধ মহিলাটি তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতে থাকে

– আজকাল কার যুগে তোমার মতো মেয়ে পাওয়া বড় দায় আমি তোমার ভবিষ্যৎ বলে দিলাম মা তোমার জীবনে দেখো এমন কেউ আসবে যে তোমাকে নিজের জীবনের থেকে ও ভালোবাসবে তোমাকে আগলে রাখবে। দোয়া করি তোমাকে সুখি হও তুমি

–আপনিও ভালো থাকবেন দিদা.....

বৃদ্ধ মহিলাটি চলে যাই তার পথের দিকে যখন ই তিথি সামনে দিকে এগুতে যাবে, মুগ্ধ, আদিত্য, স্নেহা কাউকে তার নজরে পড়ে না। সে এপাশ ওপাশ সব জায়গায় তাদের খুঁজতে থাকে।

তিথি কখনো একা বাড়ির বাইরে বেরোয় না কাউকে না কাউকে তার সাথে আসতে হয় তাই এইজন্য এখন ভয় পাচ্ছে কাউকে দেখতে না পেয়ে। তিথি সোজা মল থেকে চারদিকে তাদের খুঁজতে থাকে..

স্নেহা, আদিত্য, মুগ্ধ মলের বাইরে এসে পার্কিং এড়িয়ায় চলে আসে তখন স্নেহা বলে উঠে

_ কিরে তিথি তুই একদম চুপচাপ কেন??

ওপাশ থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে স্নেহা পিছু ফিরে কাউকে দেখতে পায় না।

স্নেহা তখন তিথি বলে ডাকতে থাকে যার ফলে আদিত্য, মুগ্ধ পিছনে ফিরে তিথি কে দেখতে না পেয়ে মুগ্ধ উদগ্রীব হয়ে উঠে

– কীরে তিথি কোথায়??

– আমি জানি না ভাইয়া ও তো আমাদের সাথে আসছিলো কিন্তু হঠাৎ করে কোথায় উধাও হয়ে গেলো।

মুগ্ধ কিছুটা রেগে বলতে থাকে

– তোর সাথে আসছিলো মানে টা কী একসাথে নিয়ে আসবি না নাকী??

মুগ্ধ চলে যাই তিথি কে শপিং মলে খুঁজতে এইদিকে আদিত্য কোন ভাবান্তর নেয় সে নির্বিকার চিত্তে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে।

স্নেহা হাতের নখ কুটতে কুটতে রাস্তার এপাশ ওপাশ করতে থাকে।

ধরনীর তখন প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে কিছুক্ষণ পর মুগ্ধ ফিরে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে থাকে

– তিথি কে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না রে

মেয়েটা কোথায় গেলো বল তো!

এইবার কিছুটা আলসে ভেঙ্গে আদিত্য মুগ্ধের উদ্দেশ্য বলতে থাকে

– তোরা গাড়িতে গিয়ে বস আমি আর একবার দেখে আসি ওকে।

আদিত্য সামনে এগোতে এগোতে আরেকটি সিগারেট এর প্যাকেট থেকে সিগারেট নিয়ে সামনে এগোতে থাকে

তিথি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে সে পুরো শপিং মল চক্কর দিয়ে কাউকে কোথাও খুঁজে পেলো না। ভয়ের কারণে রীতিমতো তার প্যানিক এ্যটাক হয়ে গেছে। সে ভয়ে রীতিমতো কাঁপছে থাকে। তবু ও হাল ছেড়ে না দিয়ে আবার খুজ করতে থাকে সবার।

এইদিকে আদিত্য সব জায়গায় খোঁজা শেষ তবুও তিথি কে সে পেলো না রাগে তার মাথার রগ গুলো টগবগ করতে থাকে

এইদিকে তিথির প্যানিক এটাক রীতিমতো ভয়ের কারণ বেড়ে চলছে সে হঠাৎ কাউকে দেখতে পায় ।

পিছন থেকে তিথি সেই ব্যাক্তি টাকে চিনে ফেলে আদিত্য দাঁড়িয়ে খোঁজাখুঁজি করছে চারিদিকে। তিথি আদিত্য ভাইয়া বলে জোরে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে আসে তার কাছে। আদিত্য পিছনে ফিরে কিছু বুঝে উঠার আগেই তিথি হাউমাউ করে কেঁদে আদিত্যর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

~

ঠিক তখনই হঠাৎ করে সময় থমকে যায় ..... আদিত্যর হ্নদপিন্ড চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

তিথি যখন আদিত্য কে আরো জোরে জরিয়ে ধরে আদিত্য হ্নদপিন্ড এবার জোরে জোরে লাফাতে থাকে যেন এখনই তা বেরিয়ে আসবে। তার একটা হাত তিথি পিঠে আর একটা হাত বুকের বাঁ পাশে চলে যাই এবং সেখানে চেপে ধরে.....

তিথি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলে

– আমাকে ফেলে কোথায় চলে গেছিলেন আপনি?? জানেন আমার না খুব ভয় করছিলো মনে হয়েছিলো আমি আর ফিরতেই পারবো না কোথাও হারিয়ে যাবো।

তিথি এইবার আদিত্য বুক থেকে মাথা তুলে তার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে

– দেখুন আমার হাত পা কীভাবে কাঁপছে

আদিত্য মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এই ভিতু মেয়েটির দিকে

ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিথি রীতিমতো প্যানিক এটাক আবার ফিরে এসেছে। সে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে......

আদিত্য হঠাৎ করে তাকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিয়ে গাড়ির দিকে এগোতে থাকে.....

তিথি কে গাড়ির সিটে বসিয়ে দিয়ে তাকে পানি খেতে দেয় এবং মোবাইল হাতে নিয়ে মুগ্ধ কে কল করে জানায় তিথিকে পেয়েছে সে......

তিথি এইবার একটু শান্ত হয় তাও তার কাপাকাপি বন্ধ হয় না রীতিমতো আদিত্য বিরক্ত এই মেয়ের উপর এতো কাপাকাপির কী আছে এতে???

আদিত্য আর সহ্য করতে পা পেরে তিথিকে এক ঝটকায় কোলে বসিয়ে দেয়....

– নে এইবার আরো জোরে কাঁপা - কাপি করতে থাক। একদম বাইরে ছুড়ে ফেলে দিবো বজ্জাতি বেডি....

আর একদমই কাঁপা কাপি করবি না বলে দিলাম।

তিথি কাঁপা কাপি বন্ধ তো হয়েছে কিন্তু এইবার গাল দুটো টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে তাদের দুজনের পজিশন দেখে। তিথি রীতিমতো আদিত্য কোলে মুছরা মুছরি করতে থাকে। আদিত্য ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে

– এইভাবে নড়ছিস কেন??

তিথি আদিত্য কোলে থেকে উঠে দাঁড়াতে গেলে আদিত্য আবার জোর করে বসিয়ে বলতে থাকে

– বজ্জাত বেডি এইভাবে, দাড়াই না

তারপর আর কিছু না বলে তাকে আবার সুন্দর করে তার সিটে বসিয়ে দেয় এবং সিট বেল্ট লাগিয়ে দেয়।

তিথি লজ্জায় এক পাশে মুখ লুকিয়ে ফেলে

কোনা চোখে একপলক তিথি কে দেখে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাতে থাকে এবং একটা সুন্দর গান প্লে করে দেয় যাতে তিথি একটু

রিফ্রেশ ফিল করে ........

ভালোবেসে এইবার আয় কাছে তুই

সব ভুলে একবার আয় তোকে ছুঁই

ভালোবেসে দু'জনে ডুবেছি অতল

আয় তবে এইবার ভালোবাসি চল

কে আছে বল তোরি মতো এমন কে বুঝে বল বুঝে আমার এ'মন........

গানটা চলার সাথে সাথে তিথি কিছুটা লজ্জা পায় এবং জানালা বাইরে মুখ করে দেয় রিফ্রেশ বাতাস অনুভব করতে থাকে। বাতাসে কারণ তার চুল গুলো উড়তে থাকে। আদিত্য একপলক সেদিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার চোখ সামনে দিকে নিয়ে আসে........

গাড়িটি খান মঞ্জিল এর গেট পেরিয়ে পার্কিং এ গাড়িটি দাঁড় করায় । সিট বেল্ট খুলে দিয়ে সে নেমে পড়ে ও ওপাশে গিয়ে দরজা টা খুলে দেয় । একটা হাত বাড়িয়ে দেয় তিথির উদ্দেশ্য

– তাড়াতাড়ি নাম বেডি....

তিথি আদিত্যর হাতটা আঁকড়ে ধরে নেমে পড়ে। তিথি সোজা ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ল এবং ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করতেই মুগ্ধ দৌড়ে এসে তাকে তার গালে হাত দিয়ে জিজ্ঞাসা করে

– ফারু তুই ঠিক আছিস? কোথায় গিয়েছিলি?? জানিস তোর জন্য আমার কী যে ভয় হচ্ছিলো কেননা আমাদের অঞ্চলে এখন যা পরিস্থিতি বেড়ে চলেছে।

তিথি মুগ্ধ কে আশ্বাস দেয় সে ঠিক আছে তারপর কাউকে আর কিছু না বলে উপর চলে যায়। পেছন পেছন আদিত্য ও দুই হাতে তার আর তিথির শপিং ব্যাগ গুলো নিয়ে আসছিলো....

কিন্তু হঠাৎ করে যেন সে রেগে গেলো রেগে গিয়ে শপিং ব্যাগ গুলো দুমড়ে মুচড়ে ফেলছে..... তার চোখে দিয়ে অগ্নি দাবানল বের হচ্ছিলো তাও সে কাউকে কিছু বুঝে উঠতে না দিয়ে সিটি বাজাতে বাজাতে উপরে চলে যায়.....

উপরে গিয়ে আগে তিথির রুমের দিকে অগ্রসর হয় .... তিথি তখন মাএ ফ্রেশ হয়ে আসছিলো ওয়াশ রুম থেকে তাই আর বুকে ওড়না দেয় নি। কিন্তু কে জানতো আদিত্য হঠাৎ করে এসে পড়বে .....

আদিত্যর পা থেকে যায় এইদিকে তিথি আদিত্য কে দেখে উল্টো ঘুরে দাঁড়ায়....

আদিত্য একটা ঢোক গিলে দৃষ্টি সরিয়ে তিথির দিকে শপিং ব্যাগ গুলো ছুড়ে দিয়ে বড় বড় পাপ ফেলে রুমের বাইরে চলে যায়......

তিথির লজ্জায় নিঃশ্বাস আটকে আসছিলো এতক্ষন সে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং বিরবির করতে থাকে

– বাপ রে এইটা কী ছেলে নাকি অন্যকিছু কাছে আসলেই আমার দমবন্ধ হয়ে যাই তারপর কিছুক্ষণ আগে সব ঘটনা মনে পড়তেই লজ্জায় কুঁকড়ে উঠে...........

চলবে ~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন