ফন্ট সাইজ:
থিম:
বখাটে আদিত্য

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রীয়ন্তি

#বখাটে_আদিত্য

#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী

পর্ব:৬

বাপ রে এইটা কী ছেলে নাকি অন্যকিছু কাছে আসলেই আমার দমবন্ধ হয়ে যাই তারপর কিছুক্ষণ আগে সব ঘটনা মনে পড়তেই লজ্জায় কুঁকড়ে উঠে...........

তিথি রুমের দরজা হালকা চেপে দিয়ে একটু বিছানায় বসে পড়ে শান্তিতে ।পাশে পড়ে থাকা শপিং ব্যাগ গুলো চেক করতে থাকে সবগুলো চেক করার পর লাস্ট একটা প্যাকেট পড়ে ছিলো খুশিতে নাচতে নাচতে ওইটা যখন খুলে কাপড়টা সামনে ধরে

তখন তিথির মুখ হা হয়ে যাই কেননা এইটা তার নয়। সে পোশাকটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে থাকে - এটি আদিত্যর ছোট পেন্ট ভুলবশত প্যাকেটি অদলবদল হয়ে গেছে। প্যান্ট টাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে তিথি এক ঝটকায় সামনে ছুড়ে ফেলে দেয় ঠিক তখনই আদিত্য তার রুমের সামনে আসছিলো আর যেই না রুমে ডুকবে ওর মুখের উপরে কাপড়টি পড়ে।

তিথি আদিত্যকে দেখে নখ খুঁটতে খুঁটতে বিছানার উপর চড়ে বসে।

আদিত্য নিজের মুখ থেকে কাপড়টি সরিয়ে রোষানল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তিথির দিকে। তিথি ভয়ে ভয়ে বলতে থাকে

– আমি ইচ্ছে করে করি নি ভাইয়া হঠাৎ করে দেখি আপনার কাপড় আর তাই ভয়ে ছুড়ে দিয়েছি কিন্তু আমি কী জানতাম নাকী আপনি চলে আসবেন আর আপনার মুখে পড়বে।

আদিত্য ভিতরে ঢুকে প্যাকেটে এ কাপড়টি ভরে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে তিথি কে বলতে থাকে

– বজ্জাত বেডি এত কিছু থাকতে আমার আন্ডারওয়্যারই তোর কাছে আসতে হলো । ছ্যাঁ শালা জীবনে আর কি কি দেখতে হবে কে জানে

আদিত্য তিথির মুখের উপর তার বদল হয়ে যাওয়া প্যাকেটটি ছুড়ে মেরে রুম থেকে প্রস্থান করে....

– – –

খান বাড়ির পাশের একটি জায়গায় বিশাল বড়ো বাগান রয়েছে তাতে হরেক রকমের ফুল এর চাষ করে খান বাড়ির মালি বুলবুল চাচা। বুলবুল চাচার কোন বাড়ি ঘর নেই , তার স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি খান বাড়িতে থাকেন। বুলবুল চাচার স্ত্রী রুবাইদা , খান বাড়ির রান্না বান্না করে আর বাড়ির যাবতীয় কাজ রুবাইদা চাচি করে থাকেন। বাগানে অনেক রকমের ফলের গাছ ও রয়েছে।

বুলবুল চাচা নিজ হাতে বাগানের প্রতিদিন পরিচর্চা করে থাকে একদম নিজের বাগানের মতো যত্ম করে... তিনি খাঁটি চাঁদগাইয়া সাধু ভাষা বুঝতে পারলেও তেমন বলতে পারেন না কিন্তু তার স্ত্রী, সন্তান সবাই সাধু ভাষায় কথা বলতে পারেন।

তিথি আর স্নেহা পেয়ারা পাড়ার জন্য বুলবুল চাচাকে অনেকক্ষন ধরে ডাকছে

বুলবুল চাচা.... কই আপনি .....

তখন ই বুলবুল চাচা তাদের সামনে চলে আসে...

– কও মা কি লাই ডাইকু ( বলো মা কি জন্য ডাকছো)

স্নেহা তখন বুলবুল চাচাকে বলে

– চাচা বাগানে চাবি দিন আমরা পেয়ারা পাড়তে যাবো।

বুলবুল চাচা চোখ গুলোকে বড় বড় করে বলে

– তোয়ারা গাছত উডি বে দে না অবুক বাড়ির কর্তা কেউ জানিলি আরে মাডিত পুঁথি দিবো ( তোমরা গাছে উঠবে যে না অবুক বাড়ির কর্তা কেউ জানলে আমাকে মাটিতে পুঁতে দিবে)

স্নেহা বলে উঠে

– আরে না চাচা কিছু হবে না চাবি দিন

বুলবুল চাচার অমথ থাকা সত্বেও তিনি বাগানের চাবি দিয়ে দেন। তখন তাদের সাথে বুলবুল চাচার মেয়ে মধু ও চলে আসে সেও তাদের সাথে পেয়ারা পাড়তে যাবে।

তারা তিনজন রমনী কোমড় দুলিয়ে দুলিয়ে বাগানে প্রবেশ করে। তিথি অনেক ভালো গাছ চড়তে পারে তাই সে কোমড়ে ওড়না গুজে তাড়াতাড়ি করে গাছে উঠে গেলো । একের পর এক পেয়ারা ডাল থেকে ছিঁড়ে নিয়ে নিচে ছুড়ে ফেলছে ।

মধু আর স্নেহা মাটিতে পড়ে থাকা পেয়ারা গুলো কুঁড়িয়ে একটি ঝুড়িতে রাখছে।

তখন বাড়ির গেইট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে আদিত্যর ফাজিল বন্ধুরা ইরফান, অর্জুন, রাতুল আর রুদ্র । তারা বাগানে এদের দেখে তারাও ভিতরে ঢুকে যাই।

ইরফান মজা ছলে তিথির উদ্দেশ্য বলতে থাকে

– ওরে পেতনি বুড়ি দেখিস আবার গাছটা না ভেঙ্গে পড়ে বেচারি গাছকে কষ্ট দিস না তিথি নেমে পড়।

আদিত্য বাগানে এতো মানুষ গলার স্বর শুনে সেও বাগানে ঢুকে পড়ে। তিথিকে গাছে চড়তে দেখে আদিত্যর চোখ মুখ শক্ত হয়ে যাই।

– কিরে তুই এইখানে কেন?

তিথি আদিত্য কে দেখে তাড়াহুড়ো করে গাছ থেকে নামতে যায় কিন্তু বিপত্তি ঘটে সেখানে তাড়াহুড়ো নামতেই তার ওড়না টা পায়ের নিচে বেঁধে পা স্লিপ খাই আর তিথি ধপাস করে মাটিতে পড়ে যাই।

– আ------ম্মু

তিথি কোমড় ধরে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে থাকে

– ও মা গো মা আমার কোমড় মনে হয় ভেঙ্গে গেলো গো ..... ও মধু রে আমাকে ধর তোরা আমার কোমড় তো শেষ হয়ে গেলো।

আদিত্য পারছে না এই মেয়েটাকে কাপড় ভচকানোর মতো ভচকায়তে , কোন দরকার ছিলো গাছের উঠার এখন ব্যাথা পেলো তো।

মধু তাড়াতাড়ি করে তিথি ধরে উঠে বসায়

– আপামনি আপনি ঠিক আছেন??

তিথি নাটকিয় ভঙ্গিমায় বলে

– নারে মধু মনে হয় কোমড় টা ভেঙ্গে গেলো

– ডং করিস না বজ্জাত বেডি এইটুকু উঁচু থেকে পড়লে কারো কোমড় ভেঙ্গে যায় বাপের জন্মে ও শুনেছিস বিয়াদপ আদিত্যর সরাসরি উত্তর।

তিথি একটু ক্ষেপে গিয়ে বলতে থাকে

– বাপের জন্মে কেমনে শুনবো ?? তখন কী আমার বাপ আমাকে পয়দা করছিলো নাকী ! আইছে আমাকে জ্ঞান দিতে ....

আদিত্য চোখ লাল করে বলতে থাকে

– বেশি বার বেড়ে গেছিস তিথি লিমিট ক্রস করিস না।

মধু তাদের মধ্যে ঢুকে বলে উঠে

– ভাইজান আপনি আপামনিকে বকবে না আর ওনি খুব ব্যাথা পায় ছে মনে হয়।

পেছন থেকে ইরফান শিশ বাজাতে বাজাতে গাইতে থাকে

ও মধু ও মধু আই লাভ ইউ .. আই লাভ ইউ...

মধু ইরফান দিকে অগ্রসর হয়ে জিজ্ঞাসা করে

– সমস্যা কী আপনার?? আমাকে দেখলেই শুধু এই গান গাইতে থাকেন??

ইরফান দুষ্টমি করে আবার গাইতে থাকে

– মধু কয় কয় আরে বিষ খাওয়াইলা কন কারে নে ভালোবাসার দাম নদিলা ( মধু বলে বলে আমাকে বিষ খাইয়েছো কী কারণে ভালোবাসার দাম না দিলা)

মধুর এইবার ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে

– গলা তো নয় যেন মনে হচ্ছে কাক এ কা কা করছে...

এই ফাটা বাঁশ গলা নিয়ে আবার আমাকে জ্বালাতে আসছে মধু মুখ বাঁকিয়ে বলে।

সবাই মধুর কথায় হো হো করে হাসতে থাকে তবে ইরফান কিছুটা লজ্জায় পড়ে যাই .....

_ _

রাস্তায় একটি মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে আর হঠাৎ করে তার পিছন পিছন কিছু বাজে ছেলে মেয়েটির পিছু নেই । ছেলেগুলো তার পথ আটকে ফেলে সেই ছেলেগুলো মধ্যে থেকে একটা ছেলে মেয়েটির গলার ওড়না কেড়ে নেয় মেয়েটি ভয়ে কুঁকড়ে উঠে। মেয়েটি চেষ্টা করছে তার ওড়না টা নেওয়া জন্য কিন্তু ছেলেগুলো কিছুতেই তাকে তার ওড়না টা দিচ্ছে না......

মেয়েটির চারপাশে গোল গোল করে ছেলেগুলো ঘুরছে আর বাজে নজরে তাকে টিস করছে....

কিছুদূর দূরে একটি চায়ের দোকানে আদিত্য আর তার বন্ধুরা বসে আড্ডা দিচ্ছে আদিত্য হাতে Dunhill blue সিগারেট এর প্যাকেট সে একটা সিগারেট মুখে পুড়ে নেয় ...... মুখ থেকে ধোঁয়া বের করে আকাশে উদাসীন মনে তাকিয়ে আছে.. হঠাৎ করে তার চোখ পড়ে ওই মেয়ে আর ছেলেগুলোর দিকে.... একটু খেয়াল করতেই সব বুঝে যায় সঙ্গে সঙ্গে তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তোলে।

সে সিগারেট অংশটুকু পা দিয়ে পিষে ফেলে ওইদিকে এগোতে থাকে। বাকি বন্ধুরা আদিত্য কোথায় যাচ্ছে দেখতে গিয়ে ঘটনাটি বুঝে যায় তারাও আদিত্যর পিছু নেয়।

আদিত্য সেই ছেলে গুলোর সামনে এসে দাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করে

– মেয়েটাকে তোরা এভাবে আটকে রেখেছিস কেন?? ওকে যে দে ভালোয় ভালো .....

তখন সেই ছেলে গুলোর লিডার বলতে থাকে

– ছেড়ে না দিলে কী করবি???

আদিত্য নিজের রাগ কন্ট্রোল করে আবার বলল

– দেখ মেয়েটাকে ছেড়ে দে বলছি যদি নিজের ভালো চাস তো .......

তখন ওই ছেলেটি জোরে জোরে হাসতে হাসতে মেয়েটির একটা জামার হাতা ছিঁড়ে ফেলে .......

ছেলেটা আদিত্য ব্যঙ্গ করে বলতে থাকে

– তুই আমার একটা বাল ও ছিঁড়তে পারবি না...... নিজে তো ঘুরিস সারাদিন টইটই করে আজ পর্যন্ত কোন কাজ কাম করেছিস??? আসছে আমাকে থ্রেট দিতে..... আদিত্যকে ধাক্কা দিয়ে দেয় জোরে যার ফলে আদিত্য একটুও হলেও তার জায়গা থেকে নড়ে যাই। এইদিকে ইরফান, অর্জুন ,রুদ্র ,রাতুল ক্ষেপে গিয়ে তাদের উপর চওড়া হয় .....

আদিত্য নিজের গা থেকে ধুলো ঝাড়ার মতো করে হেসে হেসে বলতে থাকে

–জানিস তো আমি না মানুষকে একবার সুযোগ দি যদি সে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে তো তাহলে ভালো কিন্তু

আদিত্যর এইবার চোখ গুলো টকটকে লাল হয়ে উঠে তার চেহারা হয়ে উঠে হিংস্র বাঘের চাহনির মতো....

কিন্তু যদি সুযোগটা যদি যারা কাজে লাগায় না তাদের কপালে শনি ঘুরতে থাকে দেখবি কীভাবে ঘুরে ...... দেখবি .... বলে ছেলেটার নাক বরাবর একটা জোরে পাঞ্চ মেরে দেয় সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটি নাক থেকে অনবরত টকটকে তাজা লাল রক্ত বের হতে থাকে....... নাক চেপে ধরে ছেলেটি ব্যাথায় আর্তনাদ করতে থাকে.....

বাকি ছেলে গুলো তেড়ে আসে আদিত্যর দিকে, চোখেমুখে হিংস্রতা। কিন্তু আদিত্যর চেহারায় কোনো ভয় নেই, বরং ঠোঁটের কোণে এক টুকরো হেসে বলে উঠে—

" আয় দেখি তোদের শরীরে কতো শক্তি আজ দেখবো । আদিত্য হাত ফাঁকা, মন প্রশান্ত, কিন্তু চোখ জ্বলে উঠেছে আগুনে।

প্রথম ছেলেটি লাফিয়ে আসে আদিত্যর দিকে ঘুষি মারতে।

আদিত্য নীচু হয়ে যায় তারপর নিচ থেকে উপরে উঠে এসে হাতের তালুতে আঘাত মারে ।

একেবারে গলার নিচে trachea বরাবর। ছেলেটি শ্বাস বন্ধ হয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে পড়ে যায় মাটিতে।

দ্বিতীয় জন দৌড়ে এসে লাথি মারতে চায়, আদিত্য ডান হাতে তার পা ধরে মোছর দিয়ে ফেলে – পা মোচড় খেয়ে ছেলেটি মাটিতে গড়িয়ে যায়।

তৃতীয় জন পিছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরতে চায়, আদিত্য শরীর ঘুরিয়ে কনুই দিয়ে আঘাত মারে ঠিক ছেলেটার থুতনিতে – ছেলেটার মুখ ফেটে রক্ত ঝরে পড়ে। সাথে সাথে সে ছেলেটির কবজি ধরে কাঁধের উপরে তুলে আছাড় মারে – ছেলেটি ছিটকে পরে মাটিতে।

চতুর্থ ও পঞ্চম জন একসাথে এসে তার দুই পাশে ঘিরে ফেলে।

আদিত্য নিজের দুই হাত ঘুরিয়ে একের পর এক পেছনের দিকে ঘূর্ণন করে মুষ্টি মারা আঘাত করে – একেবারে দুই কানে। তারপর একটিকে Front Kick মারে পেটের মাঝ বরাবর – ছেলেটা ছিটকে যায় চায়ের দোকানের বেঞ্চে গিয়ে পড়ে।

আবার মাটিতে লুটিয়ে পড়া ছেলেটি উঠে দাঁড়িয়ে ঘুষি মারতে চায়লে আদিত্য এড়িয়ে মাথা দিয়ে এমন জোরে মারে যে মাথায় লাগে , ছেলেটা মাটিতে পড়ে যায় অজ্ঞান হয়ে যাই শেষ বেঁচে থাকা লিডার ছেলেটা ভয়ে পেছাতে থাকে।

তার চোখে আদিত্যকে এখন আর মানুষ মনে হচ্ছে না, যেন প্রশিক্ষিত কোনো ‘Combat Unit’।

আদিত্য ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে এবং ছেলেটির মেইন পয়েন্ট বরাবর লাথি মেরে দেয় ছেলেটা ব্যাথায় চেপে ধরে ..... আদিত্য আবার বলতে থাকে

নারীকে কাপড়ে ঢেকে রাখলেই যদি সমাজ নিরাপদ হতো, তবে বোরখার আড়ালেও ধর্ষণ হতো না।"

তোদের মতো কতগুলো কুলাঙ্গার এর জন্য আজ নারী জাতি স্বাধীন ভাবে চলতে পারে না তারা সবসময় ভয়ে ভয়ে চলাফেরা করে।

নারীর শরীর নয়, তার আত্মা সম্মান চায়। যারা নারীর ইজ্জত নিয়ে খেলে, তোরা পুরুষ নোস— কাপুরুষ তোরা..... বলে ছেলেটির পয়েন্ট বারবার আবার লাথি মেরে দেয় ....... তখন আদিত্য ফোন এ রিং পড়তে থাকে আদিত্য ফোন নিয়ে একপাশে চলে যাই ।

কিছুক্ষণ পর ফিরে ইরফান অর্জুন রুদ্র রাতুল দের উদ্দেশ্য বলতে থাকে

– এদের হসপিটাল ভর্তি করিয়ে আয়.... যা খরচ লাগে আমি দিবো ।

আদিত্যর চোখ যায় মেয়েটি দিকে সে ভয়ে ভয়ে কাঁপছে রীতিমতো.... মাটিতে পড়ে থাকা ওড়না খানা নিয়ে আদিত্য মেয়েটির দিকে এগিয়ে যায় এবং ভালোভাবে গায়ে জরিয়ে দেয় ....

মেয়েটি এইবার চোখ তুলে তাকায় আদিত্যর দিকে এবং কেন মানি মেয়েটি সেই বিড়াল চোখকে মনির মাঝে হারিয়ে যাই .... মেয়েটির চোখের পাতা নড়ছে না একপলক এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আদিত্যর দিকে। মেয়েটির তখনই হুঁশ ফিরে যখন আদিত্য মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতে থাকে

– ভয় নেই তোমার, এই আদিত্য আছে তোমার পাশে সবসময় আর কাউকে ভয় পাবে না ঠিক আছে। সবসময় নিজেকে স্ট্রং রাখবে দেখবে কেউ তোমাকে কিছু করতে পারবে না। আদিত্য রাতুল কে ডাক দিয়ে বললো মেয়েটিকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে রাতুল মেয়েটিকে নিয়ে চলে যায়.....

আদিত্য একটা জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের পকেটে হাত দেয় এবং পকেট থেকে তার মানিব্যাগ বের করে সেখানে একটি ছোট্ট ছবি রাখা আছে। আদিত্য সেই ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তার বুকের বাম পাশে নিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে.....

_ _

তখন ঠিক বিকাল ৪টা ৫৯ মিনিট।

চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে সেনাবাহিনীর গোপন ট্যাকটিকাল রুমে আলো কম, পরিবেশ ভারী। একটা বড় টেবিল ঘিরে বসে আছেন লেফটেন্যান্ট ফারহান, রিমা, মেজর তানভীর এবং র‍্যাব-এনএসআই’র দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। প্রত্যেকের চোখেই ক্লান্তি, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভয় আর প্রতিজ্ঞা।

রুমের দরজা ধীরে খুলে গেল।

চওড়া কাঁধ, তীক্ষ্ণ গোলাটে চোখ আর মুখে গম্ভীরতা নিয়ে প্রবেশ করলেন মেজর ভিরেক্স। তাঁর বুটের আওয়াজ যেন রুমের চারদিক কাঁপিয়ে দিল। চুপচাপ সবাই উঠে দাঁড়াল।

মেজর ভিরেক্স (ঠান্ডা গলায়):

— "শুরু করি।"

তিনি ডেস্কে রাখা ল্যাপটপটি চালু করলেন। সামনে বিশাল স্ক্রিনে ভেসে উঠতে লাগল কিছু নারকীয় ছবি।

ছবি ১:

পাহাড়তলীর ধানক্ষেত। ছিন্নভিন্ন শরীর। মাথার পিছনে কুড়ালের গভীর ক্ষত।

ছবি ২:

মিরসরাইয়ের বনাঞ্চল। কলেজছাত্রী—নিঃশব্দে হত্যা। মুখ চেনার উপায় নেই।

ছবি ৩:

সিডিএ এভিনিউর ছাদে পড়ে থাকা তৃতীয় মেয়েটি। মৃত্যু যেন সিনেমার থেকেও নিষ্ঠুর।

মেজর ভিরেক্স (দৃষ্টি শক্ত করে):

— এইটা শুধু খুন না। এইটা টর্চার—একটা মনস্তাত্ত্বিক খেলা। এই খুনি কুড়াল দিয়ে মেয়েদের হত্যা করে, যেন কোনো পুরনো পাপের শাস্তি দিচ্ছে। কিন্তু ওর কাছে মেয়েদের স্বাধীনতা-ই যেন অপরাধ।টেবিলের উপর ছুঁড়ে দিলেন একটি প্রিন্টেড টাইমলাইন

—তিনটি খুন, সময়, স্থান, ও ঘাতকের কৌশল।

লেফটেন্যান্ট রিমা:

— ভিরেক্স তিনজন ভিকটিম-ই ২০-২৫ বছর বয়সী। সবাই ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। একটা মিল—তারা সবাই সোশাল মিডিয়ায় 'Freedom of Women' নিয়ে পোস্ট করত।”

মেজর ভিরেক্স এক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলেন প্রজেকশনের দিকে। তাঁর চোখে যেন আগুন।

মেজর ভিরেক্স শান্ত দৃষ্টিতে বললেন

— “This is not just a psycho. This is a symbol-driven serial misogynist. মেয়েদের কণ্ঠ সে সহ্য করতে পারে না।

মেজর তানভীর বলে উঠে

— “স্যার, ফরেনসিক রিপোর্ট বলছে—ঘাড় ভাঙার আগেই কুড়ালের একটাই আঘাত, এক ঝটকায়। ভিকটিমদের কেউ চিৎকার করার সুযোগ পায়নি।”

মেজর ভিরেক্স — সে চায় ভয় ছড়াতে, যেন মেয়েরা রাতে রাস্তায় বেরোতে না পারে। তিনি ম্যাপে একটা জায়গায় লাল মার্ক করলেন। আগ্রাবাদ ওয়ারহাউজ এলাকা যা ধারনা করা যাচ্ছে পরিবর্তি টার্গেট এই এলাকায় করতে পারে।

তাই আমাদের আরো এলার্ট হতে হবে আর একটিও নিষ্পাপ ফুল যেন না ঝড়ে.... আমাদের নিজের আইডেনটিটি হাইট করে রাখতে হবে কাউকে আমাদের খোঁজ দেওয়া যাবে না মনে থাকবে...

সবাই জোরে বলে উঠে Yes sir...

__

সন্ধ্যায় আদিত্য বাড়িতে ফিরে তার ছোট মা'কে বলে উঠে, ছোট মা আমাকে এক কাপ চা করে উপরে পাঠিয়ে দাও আমার রুমে......

বেলা খান মাথা নেড়ে রান্না ঘরে চলে যাই.....তিনি আদিত্যর জন্য রং চা করে কাঁপে ঢালতে থাকে এরপর স্নেহা কে ডেকে উঠেন..

স্নেহা মা কি তুই এদিকে একটু আয় তো ....

স্নেহা তখন মুখে ফেসিয়াল ফেস মাস্ক পড়ে সোফায় শান্তিতে বসে আছে। ছোট মা ডাক শুনে সে বলতে থাকে

– ছোট মা আমি এখন যেতে পারবো না তিথি কে বলো যা কিছু করার .....

বেলা খান এইবার তিথিকে ঢেকে তিথি মন না থাকার সত্বেও সে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে যাই

– কী হয়েছে এইভাবে ডাকছো কেন??

ডাকছি কারন আছে আদিত্য চা চেয়েছে যা এই চা টা দিয়ে আয়

– আমি কী তার চাকরি সবসময় চা, খাবার নিয়ে যাবো... আমি পারবো না তুমি নিয়ে যাও।

- যা না মা আমাকে অনেক কাজ বাকি আছে এখনো সেগুলি করি নি একটু দিয়ে আসলে তোর পা খসে পড়বে না তিথির গাট্টা মেরে বলে....

তিথি মাথা চুলকিয়ে রাগে বলতে থাকে

– দাঁড়াও খাওয়াচ্ছি রং চা .... একেবারে জন্মের মতো করে । তিথি লবনের কৌটা থেকে দুই চামচ লবণ নিয়ে রং চায়ে দিয়ে মিশিয়ে নেয়।

একটা ভ্যবলা মার্কা হাসি দিয়ে আদিত্য রুমের দিকে চা টা নিয়ে যায় ....

– আসতে পারি ভাইয়া ... দরজায় টোকা দিয়ে বলে তিথি..

– আদিত্য সাথে সাথে উত্তর হুম।

তিথি ভিতরে ঢুকে আদিত্যর সামনে চায়ের ট্রে টি রেখে দেয় এবং বলে

– আদিত্য ভাইয়া আপনার চা খেয়ে নিন ঠান্ডা হয়ে যাবে।

আদিত্য একপলক তিথির দিকে তাকিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিতে থাকে কিন্তু এক চুমুক দিয়ে সেটা ফ্লোর ফেলে দেয় এবং আদিত্যর মুখটা কুঁচকে যাই।

সে উঠে দাড়িয়ে তিথি কান ধরে বলে

– তোর তো দেখছি খুব সাহস বেড়েছে বজ্জাত বেডি। চায়ে লবন মিশাস এতো সাহস পায়লি কই।

তিথি আদিত্য থেকে কান ছাড়ানোর জন্য বলছে

– ভাইয়া ছাড়ো না লাগছে তো খুব...

এই কথায় কী ছিলো কে জানে আদিত্য সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেয় কিন্তু পুরোপুরি ছেড়ে দেয় না সে তিথির হাত পেছনে মুড়ে ধরে কানে ফিসফিস করে বলতে থাকে

– বেশি বার বাড়িস না বজ্জাত বেডি। তোর মতো মেয়েদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হয় তা আদিত্য জানা আছে । তিথি ছুটার জন্য ছটফট করছে অনবরত কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না বরং আদিত্য আরো জোরে হাত মুছরে ধরছে।

– তুই আমার চা খারাপ করছিস এইজন্য তো তোকে শাস্তি পেতে হবে বজ্জাত কোথাকার।

তিথি ভয়ে ঢোক গিলে থাকে কেননা এই বখাটে আদিত্যর শাস্তি অনেক ভয়ঙ্কর।

তিথি নিজের শাসিয়ে নিজেকে নিজে বলতে থাকে

– কী দরকার ছিলো চায়ে লবন মেশানোর হলো তো মরে এইবার আদিত্য ভাই তোকে এইবার কী শাস্তি দেয় দেখ। তিথি ভয়ে ভয়ে উপরওয়ালা ডাকতে থাকে।

চলবে ~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন