#বখাটে_আদিত্য
#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী
পর্ব:৭
(📌পূর্বে এই গল্পটির নাম ছিল ‘আমার বখাটে আদিত্য ভাই’। বর্তমানে নামটি সংক্ষিপ্ত করে রাখা হয়েছে ‘বখাটে আদিত্য’। নামের পরিবর্তন হলেও গল্পের মূল সত্তা, কাহিনির প্রবাহ ও চরিত্রসমূহ সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত। অতএব পাঠক'বৃন্দকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ রইলো।)
—
—
" তুই আমার চা খারাপ করেছিস এইজন্য তো তোকে শাস্তি পেতে হবে বজ্জাত কোথাকার।"
তিথি ভয়ে ঢোক গিলে থাকে কেননা এই বখাটে আদিত্যর শাস্তি অনেক ভয়ঙ্কর।
তিথি নিজের শাসিয়ে নিজেকে নিজে বলতে থাকে
– কী দরকার ছিলো চায়ে লবন মেশানোর, হলো তো মরে এইবার আদিত্য ভাই তোকে কী শাস্তি দেয় দেখ। তিথি ভয়ে ভয়ে উপরওয়ালাকে ডাকতে থাকে।
আদিত্য তিথির ভয় পাওয়া মুখটা দেখে মুচকি হাসতে থেকে বললো-
তো এইবার শাস্তি পাওয়ার জন্য প্রস্তুত তো??
তিথি মুখটা চুপসে গেছে সে আদিত্য শার্টের একদিকের কোনো আঁকড়ে ধরে ভয়ে ভয়ে বলতে থাকে
– ভাইয়া প্লিজ আজকের মতো ছেড়ে দাও আর কখনো এমন হবে না।
আদিত্য মাথা নাড়িয়ে না বোঝায় এবং আঁকড়ে ধরা শার্টের কোনা তিথি থেকে ছাড়িয়ে একটু দূরে সরে বলল
– উঁহু, আজ তোকে শাস্তি পেতেই হবে। তুই ৫০ বার কানে ধরে উঠবোস করবি , এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবি ৫০ মিনিট।
নে শুরু কর নাহলে কিন্তু শাস্তি আরো কঠোর থেকে কঠোর ও দিগুন হবে।
তিথি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো ৫০ বার কানে ধরা আর ৫০ মিনিট ১ পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা।
– ভাইয়া আর এমন করবো না তো । আজকের জন্য ছেড়ে দাও না।
আদিত্য বিছানায় ল্যাপটপ নিয়ে বসতে বসতেই বলতে লাগলো
– তাড়াতাড়ি শুরু কর নয়লে শাস্তি ডাবল। আমি তিন পর্যন্ত গুনবো কিন্তু
১....
২..... শুরু কর
৩......
বলার সাথে সাথে তিথি কান ধরে উঠবোস করতে থাকে। প্রায় ১৫ বার এর দিকে কানধরে উঠবোস করতে করতে তার পা থেমে যাচ্ছে...... কিন্তু তাও আদিত্য একটুও দয়া হলো না সে নিজের কাজ করে যাচ্ছে।
৪৮......৪৯........এই ৫০....... বলে তিথি ফ্লোরে বসে পড়ে হাঁপাতে থাকে।
আদিত্য এইবার ল্যাপটপ থেকে চোখ তিথির দিকে করে বলল
– Good এইবার পরিবর্তি টা শুরু কর
তিথির কান্না আসছে ভীষণ তাও সেও ঠোঁট কামড়ে কান্না চেপে ধরে রেখেছে..
সে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে অনেকক্ষন ধরে ।
উপরে তুলা পা বার বার পড়ে যাচ্ছে কিছুতেই উপরে তুলে রাখতে পারছে। আরো কিছুক্ষণ এইভাবে কানে ধরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিথির পায়ে এইবার ব্যাথা শুরু হতে লাগলো। অনেক চেষ্টার করার পরও সে কান্না চেপে ধরে রাখতে পারলো না অবশেষে ফ্লোরে ধপাস করে পড়ে গিয়ে পা দুটো ছড়িয়ে জোরে জোরে শব্দ করে কান্না করতে থাকে।
এইদিকে নিচে সবাই তিথির কান্নার আওয়াজ পেয়ে সবাই ছোটাছুটি করে আদিত্যর রুমে চলে আসলো।
আদিত্যর কোন হেলদোল নেই তিথির কান্নার করার ফলে সে দিব্যি কাজ করে চলেছে। কিন্তু তার রুমে এতো মানুষ ভিড় দেখে মুখটা বিরক্তিতে ভরে যায়।
মধু দৌড়ে এসে তিথি কে ধরে উঠায়
– কি হয়েছে আপামনি এইভাবে কান্না করছেন কেন??
তিথির মুখের কোন কথা নেই সে এইবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে। সবাই তাকে এতো জিজ্ঞাসা করছে কী হয়েছে তাও সে কিচ্ছু বলছে না ।
ইকবাল খান ছেলের দিকে তাকিয়ে তাকে ডাকতে লাগলো আদিত্যর ইচ্ছা না থাকা সত্বেও সে উঠে গিয়ে বাবার কাছে যায় ।
ইকবাল খান এইবার তিথির দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
– তিথি মা আদিত্য তোকে কিছু করেছে ভয় নেই আমাকে বল।
তিথি ফোলা ফোলা চোখ নিয়ে এইবার আদিত্যর দিকে তাকায় আদিত্য ও তখন তাকিয়ে ছিলো এই মেয়ের দিকে। সামান্য একটা বিষয় নিয়ে কেমন বাচ্চাদের মতো কেঁদে চলেছে।
তিথি এইবার মুখ খুলে বলে
– আদিত্য ভাই এর চায়ে লবন মিশিয়েছিলাম দুষ্টুমি করে তাই আদিত্য ভাই আমাকে শাস্তিশরুপ ৫০ বার কানে ধরে উঠবোস ও ৫০ মিনিট এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বলছে।
ইকবাল খান চোখ মুখ শক্ত করে ছেলের দিকে ক্ষুব্ধ চোখে তাকিয়ে না আর কিছু না ভেবে ছেলের গালে জোরে কষিয়ে থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো..
থাপ্পর টা এতটাই জোরে ছিলো যে সেই আওয়াজে তিথির পুরো শরীর কেঁপে উঠলো
– বাদ্দাইমা তো আগে হয়েছো হয়েছো এখন দেখি বিয়াদপ ও হয়ে গেছো । ও ছোট না বুঝে করে ফেলেছে তাই বলে তুমি ওকে এমন শাস্তি দিবে তাও ৫০ বার ৫০ মিনিট।
আমার কপালেই কেন এই বাদ্দাইমা লেখা ছিলো উপরওয়ালা জানে ।
আদিত্য কিছু বলে না সে নিশ্চুপ ভাবে বাবার সব কথা শুনে যাচ্ছে কিন্তু রাগান্বিত চোখ দিয়ে তিথির দিকে তাকিয়ে আছে।
তিথি সেই রাগান্বিত চোখ দেখে ভয়ে শিউরে উঠে মেজো মার বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলে......
এইদিকে এইসব কান্ড দেখে স্নেহা জোরে জোরে পেট চেপে হাসতে থাকে।
আদিত্য তার ছোট বোনের মাথায় গাট্টা মেরে ফিসফিস করে বলে
– হেসে নে হেসে নে যত খুশি হেসে নে পরে মনে রাখিস তোর ও কিন্তু এমন শাস্তির পালা আসতে পারে।
ততক্ষনাৎ স্নেহার ঠোঁটে আঙ্গুল চেপে ধরে হাঁসি বন্ধ করে দেই।
– - - - -
তিথি আর স্নেহা ফোন স্ক্রল করছে সোফায় আয়েশি ভঙ্গিতে শুয়ে শুয়ে হঠাৎ তিথির মোবাইল এ একটি পোস্ট সামনে আসছে যেখানে একটি ছবিতে চিকেন রোস্ট+ পোলাও এর ছবি। এত সুস্বাদু খাবার দেখে তিথির মুখে পানি চলে আসে । সে প্রাইজ দেখতে গিয়ে লাফিয়ে উঠে মাএ ১০০ টাকা এক প্লেট।
সে লাফিয়ে চিৎকার করে স্নেহা দেখাতে থাকে। স্নেহা ও লোভে খুশি হয়ে বলতে থাকে
– তিথি তাড়াতাড়ি ইনবক্স করে অর্ডার করার জন্য লিখে পাঠাই
—এটা কী পার্সেল করে হোম ডেলিভারি দেন??
কিছুক্ষণ পর ওপার থেকে মেসেজ আসলো — সরি ম্যাম আমাদের হোম ডেলিভারি রাইডার না থাকায় সম্ভব নয় ।
তিথি আর স্নেহার মুখ চুপসে গিয়ে আবার তিথি মেসেজ দিতে থাকে
– প্লিজ অন্য ভাবে মেনেজ করা যায় না দেখেন না একটু কোনভাবেই পারা যায় কিনা।
আবার টুং করে ওপার থেকে মেসেজ আসলো— ওকে কয়টা লাগবে পার্সেল??
তিথি আর স্নেহা খুশি হয়ে যায়
– তিনটা পার্সেল করে ডেলিভারি দেন।
আবার সেই পেজ থেকে মেসেজ আসে
– ওকে ম্যাম । আপনার টোটাল হয়েছে ১০০+১০০+১০০=৩০০+ ৮০ টাকা ডেলিভারি চার্জ
তিথি এইবার একটু রেগে গিয়ে মনে মনে বলল – ওমা ৮০ টাকা ডেলিভারি চার্জ এরা কী আমাদের বোকা পেয়েছে । সে আবার মেসেজ লিখে পাঠাই
– ডেলিভারি চার্জ ও লাগবে!
ততক্ষনাৎ সেই পেজটি থেকে রিপ্লাই আসে
—না লাগবে না সরাসরি রেস্টুরেন্টের ছাদের থেকে পার্সেল গুলো ডিল ছুড়ে দিচ্ছি ক্যাঁচ করে ধরে নিন ফায়ুল মহিলা কো থেকে যে আসে এইসব । এইগুলো বলে ব্লক করে দেয় সেই পেজটি তিথি কে।
এইদিকে তিথি আর স্নেহা কিছুক্ষণ থম মেরে বসে আছে তারা কিছু বুঝে উঠতে পারলো না। কিন্তু হঠাৎ তিথি রেগে গিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে স্নেহকে বলতে লাগলো
– এই পেজটাই ভালো না দেখলি কেমনে আমাদের ফায়ুল আর ব্লক করে দিলো ...ধূর ভালো লাগে না....
____________
প্রায় ৫ বছর পর দেশে ফিরছে খান মঞ্জিল বাড়ির বড় ছেলে রেদোয়ান। এইদিকে খান মঞ্জিল এ উৎসব লাগার মতো অবস্থা। সবাই অধীর আগ্রহ অপেক্ষা করছে রেদোয়ান এর জন্য। তিথি আর স্নেহা বায়না ধরেছে এয়ার পোর্টে যাওয়ার জন্য কিন্তু বাড়ির কর্তারা তা মানা করতে ছে। একপ্রকার স্নেহা আর তিথির সাথে বাড়ির বড়দের সাথে ঝগড়া লেগে গেছে।
তখন আদিত্য উপস্থিত হয় আদিত্য আসার সাথে সাথে স্নেহা আর তিথি মুখ বন্ধ হয়ে যায় তারা একদম নিশ্চুপ নিষ্পাপ বাচ্চার মতো চুপ হয়ে আছে। তিথি ভালোভাবে লক্ষ্য করছে আদিত্যকে পরনে সেই পারপেল রং এর চেক শাট এর থিক প্যান্ট, চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করা । শরীর থেকে এক অদ্ভুত পারফিউম এর সুঘ্রাণ আসছে Dunhill Desire Blue পারফিউম এর সুঘ্রাণ যা মন মাতালো এক সুগন্ধি ।
আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ওই বিড়ালের মনির মতো চোখ দুটি। সবচেয়ে মধুর গম্ভীর ডিপ ভয়েস। একপ্রকার তিথি আদিত্য কে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। আদিত্য সবার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করে কি হচ্ছে এখানে। তখন বেলা খান বলতে থাকে
– কী আর হবে ওই ডঙ্গি গুলো এয়ার পোর্টে যেতে চাচ্ছে আরকি ।
আমরা যেতে মানা করছি কেননা দেশের অবস্থা ভালো না। কিন্তু এই বিয়াদপ গুলো শুনলে তো।
আদিত্য এইবার তার হাতের ঘড়ি লাগাতে লাগাতে খাপছাড়া হয়ে বলে দু'জনে উদ্দেশ্য
– যেতে হবে না তোদের কাউকে। যেটা বলছি সেটাই মেনে চল।
কথার মাঝে ফোড়ন কেটে তিথি বলে
– আদিত্য ভাই আমরা গেলে কী সমস্যা যাবো আর আসবো এইতো নিয়ে চলেন না।
আদিত্য ফট করে তিথির দিকে লাল চোখ তাকায় এবং চোখে রাঙিয়ে দেয় । যার ফলে তিথির হাওয়া ফুশ সে ভয়ে আর কিছুই বলতে পারে না। আদিত্য তিথির কাছে এসে বলল
– আমি যখন না বলেছি তো না মাইন্ড ইট....
তিথিও আর তর্ক না করে শুধু মাথা দোলায়।
_ _
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব কিছু ফর্মালিটি পূরন করে রেদোয়ান দেশের মাটিতে পা রেখেছে। সে তাকে রিসিভ করতে আসা মাহাদি কে খুঁজে চলেছে। হঠাৎ করে একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খায় ধাক্কাটা অনেক জোরে লাগার ফলে তার সামলাতে না পেরে....
মেয়েটি রোদোয়ান এর উপর পড়ে যায় । মেয়েটি একটু ভারি হওয়ায় রেদোয়ান এর ধম ফুরিয়ে আসছে । রেদোয়ান এর শ্বাস আটকে বলে
– এই মোটি সর আমার শরীর থেকে দূর হ...
মেয়েটি একটু সময় উঠে দাঁড়িয়ে টাশ করে কোন কথা না বলে রেদোয়ান এর গায়ে স্বজরো থাপ্পড় বসিয়ে দেয় আর রেদোয়ান ও কম কিসে সে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা থাপ্পড় বসিয়ে দেয় মেয়েটির গালে।
মেয়েটি ক্ষেপে গিয়ে রেদোয়ান এর শার্টের কলার আঁকড়ে ধরে বলতে থাকে
–আগে জানতাম চোখ মানুষের নাকের দুপাশে থাকে এখন দেখি চোখ মানুষের পকেটে থাকে
তখন রেদোয়ান ও মেয়েটির চুলের মুঠি আঁকড়ে ধরে বলে
– মোটি রে মোটি প্রথমে তো হাতির মতো শরীর নিয়ে আমার গায়ের উপর পড়লি আর তারউপর বড় বড় কথা।
দুজনে দুজনে কাউকে ছাড়ছে না শেয়ানে শেয়ানে টক্কর চলছে। হঠাৎ মেয়েটির মোবাইল এর ফোন আসায় মেয়েটি ছেড়ে দেয়। রেদোয়ান ও নিজের কলার ধুলো ঝাড়ার মতো ঝাড়ছে এবং গালি দিয়ে মেয়েটির গুষ্টি উদ্ধার করছে......
পিছন থেকে আদিত্যর গলা শুনে পেছনে তাকায় আদিত্য দাঁড়িয়ে আছে।
রেদোয়ান ছোট ভাইকে একটা জোরে টাইট হাগ করে। এরপর তারা বাড়ির গাড়িতে উঠে রওনা দেয় খান মঞ্জিল এর উদ্দেশ্য।
প্রায় কয়েক ঘন্টা জার্নি পর ওরা খান বাড়িতে পৌঁছায়।যেই না বাড়ির চৌকাঠ এ পা রাখবে রেদোয়ান তখন কোথা থেকে যেন জুঁই খান অথাৎ রেদোয়ান এর মা দৌড়ে এসে ছেলেকে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠে।
– বাবারে তুই এতো কীভাবে থাকি আমাদের ছেড়ে বলে জোরে জোরে কান্না করতে থাকে ।
রেদোয়ান মা কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মায়ের মুখ খানা হাতে তুলে নিয়ে বলতে থাকে
– এখন এইভাবে কান্না করছো কেন আম্মু? এই যে দেখো তোমার ছেলে চলে এসেছে তো ! এখন তোমার ছেলে তোমার বুক থেকে আর যাবে না । কিন্তু কান্না বন্ধ করো নয়লে আবার চলে যাবো।
জুঁই খান চোখের জ্বল মুছে ছেলেকে হাসি মুখে ভিতরে ঢুকায় ।
রেদোয়ান একে একে তার মেঝো কাকি, ছোট কাকি আর বাকি সবার সাথে মিট করতে থাকে। স্নেহা দৌড়ে এসে রেদোয়ান কে জরিয়ে ধরে বলল
– ভাইয়া কতদিন পর তোমার মুখটা ভালো করে দেখলাম। এইবার কিন্তু একটা ভাবী চায়ই চায়।
রেদোয়ান বোনকে আদর করে বলতে থাকে
– অবশ্যই। রেদোয়ান এইবার তিথির মুখের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
– কীরে তুই আসবি না আমার কাছে আয় । তখন তিথি ও দৌড়ে ভাইয়া বুকে আশ্রয় নেয় । তিথি মন খারাপ করে বলে
– ভাইয়া জানো তোমায় কতো মিস করেছি। এইবার আর যেও না কেমন।
রেদোয়ান জোরে হেসে হেসে বলে
– আরে পাগলীরা আর যাবো না এখন একেবারে তোদের বিয়ে দিয়ে যাবো বলে একপলক আদিত্য দিক তাকিয়ে মুচকি হাসে।
রেদোয়ান এরপর তার লাগেজ থেকে এক এক করে সবকিছু খুলে সবাইকে দিতে থাকে। রেদোয়ান বুলবুল চাচা ও তার ফ্যামিলি জন্য অনেক জিনিস পএ নিয়ে আসে। বুলবুল চাচা ,মধুরা সবাই অনেক খুশি হয় এতো এতো নতুন জিনিস পেয়ে।
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর যে যার রুমে যেতে থাকে।
রেদোয়ান এর রুমে এতদিন তালা ছিলো কেননা এই রুমে এতদিন কেউ থাকতো না তাই রুমটা পরিষ্কার ছিলো তাও জুঁই খান মধুকে দিয়ে আরো ভালোভাবে পরিষ্কার করেছে।
রেদোয়ান রুমে ঢুকে আগে একটু ওয়াশ রুমে গিয়ে ছোট কাজটা সেরে আসে তার এতখন অনেক জোরে পেয়েছিলো কিন্তু বাপ চাচার সাথে আড্ডা দিচ্ছে তো মাঝপথে উঠে আসা বিয়াদপির লক্ষণ দেখায় তাই সে অনেক কষ্টে চেপে রেখেছে। ছোট কাজটা সেরে রেদোয়ান এর অনেক শান্তি লাগছে সে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে বিছানায় সুইয়ে পড়ে......
কিন্তু তার ঘুম আসছে না তখন রাত বেশি হয়ে নি এই পুনো সাড়ে এগারোটা । রেদোয়ান এর হঠাৎ মদ এর পিপাসা পায় কেননা ব্যাংকক থাকতে সে এইসব প্রায় খেতো।
ও হঠাৎ করে উঠে যায় এবং আগ পিছ না ভেবে বুলবুল চাচার রুমের দিকে চলে যায় কেননা বুলবুল চাচা অনেক সময় মদ খেয়ে থাকেন।
রেদোয়ান ফিস ফিস করে বুলবুল চাচাকে ডাকতে থাকে। বুলবুল চাচা চোর ভেবে চেঁচাতে থাকে রেদোয়ান বুলবুল চাচার মুখ চেপে ধরে ফিস ফিস করে কানে বলতে থাকে
– আরে আমি রেদোয়ান চোর নয় ।
এইবার বুলবুল চাচা শান্ত হয়ে যাই। সে জিজ্ঞাসা করে এতো রাতে এইখানে কী??
রেদোয়ান তাকে মদের ব্যবস্থা করতে বলে। বুলবুল সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয় এখন তার কাছে কোন মদ নেয়। রেদোয়ান ছাড়ার পাএ নয় তাই সে অনেক রিকোয়েস্ট করে কোন মতে মদ জোগাড় করেছে
সে অবশ্য ইংরেজি টা খাই কিন্তু এখানে এটা পাওয়া যাবে না তাই বাংলা টা খাবে।
তারা যখন চুপি চুপি ছাদে যাবে পেছন থেকে বুলবুল চাচার ছেলে কুদ্দুস তাদের বলে সেও নাকি খেতে চায়। প্রথমতে তো তারা দুজনে কেউ রাজি ছিলো না কিন্তু পরে রাজি হয়ে তারা দুজন ছাদে যেতে থাকে। বুলবুল আর কুদ্দুস ছাদে চলে যায়। রেদোয়ান আসে আদিত্যর রুমে তখন আদিত্য কারো সাথে কথায় ব্যস্ত ছিলো। আদিত্য ফোন রাখতেই রেদোয়ান আদিত্য কে টেনে নিয়ে ছাদে চলে যায়।
সেখানে গিয়ে আদিত্য অবাক হয়ে যাই কেননা একটি কাপড় বিছানো সেখানে দুই বোতল মদ , চানাচুর, লবন, লেবু রাখা।
আদিত্য রেদোয়ান কে জিজ্ঞাসা করে এইসব কখন হলো। রেদোয়ান তাকে সব বলে কিন্তু আদিত্য কখনো মদ খায় নি তাই সে খেতে চায় না ।
আদিত্য চলে যেতে নিলেই রেদোয়ান তাকে জোর করে বসিয়ে দেয় । একের পর এক খেতে থাকে রেদোয়ান সাথে বুলবুল চাচা, কুদ্দুস ও খেতে একের পর এক গ্লাস। কিন্তু আদিত্য থম মেরে বসে আছে হঠাৎ করে তাকে জোর করে রেদোয়ান খাইয়ে দেয়। আদিত্য হঠাৎ কাশতে থাকে আবার জোর করে তাকে এইবার সবাই মিলে আরেক প্যাক খাইয়ে দেয় । এইভাবে তাকে চার প্যাক খাইয়ে দেয় সবাই।
ওরা চারজনই নেশা চড়ে গেছে। তারা হঠাৎ জোরে জোরে হাসতে থাকে।
কুদ্দুস হঠাৎ করে একটা সাউন্ড বক্স এনে তাতে গান বাজতে থাকে।
এইদিকে সবাই গভীর ঘুমে কিন্তু হঠাৎ এতো আওয়াজে সবার ঘুম ভেঙ্গে যাই তারা সবাই আওয়াজকে অনুসরণ করে ছাদের দিকে চলে যায়। ছাদে গিয়ে যা দেখে তাদের প্রত্যেকের মুখ হা হয়ে যাই।
তারা সবাই দেখে বুলবুল চাচা, কুদ্দুস, রেদোয়ান মাথায় বোতল নিয়ে নাচতে থাকে। কিন্তু আদিত্য সেই এক জায়গায় বসে আছে হয়তো তার একটু হলেও সেন্স আছে।
ইকবাল খান রেগে গিয়ে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করে
– এতো রাতে এখানে কি হচ্ছে টা কী এটা কী কোন নাইট ক্লাব??
তখন কুদ্দুস দুলতে দুলতে বলতে থাকে
– এটা বাংলা মালের আড্ডা ঘর ।
আসেন আমাদের সাথে জয়েন হোন। তখন রেদোয়ান সাউন্ড বক্স এ একটি গান প্লে করে দেয় ।
~
বাংলা মাল ছেড়ে হাতে শরবত নিয়াছি
বৈরাগ হইয়া কপালে তিলক লাগাইছি
বল...... হরি......
বাংলা মাল ছেড়ে হাতে শরবত নিয়াছি
বৈরাগ হইয়া কপালে তিলক লাগাইছি
মায়ার পিছন ছাইড়া দিয়া মনটু হইয়াছি
পাপের জন্য গঙ্গাজ্বলে ডুব দিয়াছি
সবকিছু ছাইড়া আমি সাধু হইয়াছি......
প্রেমে আগুন লাগাইছি
ও প্রেমের বিদায় জানাইছি
প্রেমের গুষ্টি মেরেছি
ও প্রেমে আগুন লাগাইছি
ও প্রেমের বিদায় জানাইছি
ও প্রেমের গুষ্টি মেরেছি
ও প্রেমে আগুন লাগাইছি
ও প্রেমের বিদায় জানাইছি
~
কুদ্দুস, বুলবুল চাচা তাদের লুঙ্গি নিয়ে উপর নিচ করতে করতে নাচতে থাকে। পাশে রোদোয়ান মাতালের মতো নাচতে থাকে।
ইকবাল আর সহ্য করতে না পেরে রেদোয়ান এর কাছে গিয়ে তাকে ঝাকাতে ঝাকাতে ঝাকাতে বলতে থাকে
– রেদোয়ান হুশে আসো কী করছো তোমরা ?
কিন্তু রেদোয়ান কোন হুশ জ্ঞান নেই সে একটা কাজ করে ফেলে ইকবাল খান সাথে নিয়ে নাচতে থাকে সাথে সাথে সাউন্ড বক্স এ প্লে হতে থাকে
– –
ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স
ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স
নাচ না জানলে উঠুন বাঁকা যে বলে বলুক রে
তাল বেতালে হেলেদুলে কোমরটা দুলুক রে
লে চান্স লে,লে চান্স লে,লে চান্স চান্স চান্স
লে পাগলু ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স
মাস্তি পাবি ওরে পাগলু নাচনা রে ফুল মুডে
নিচ্ছে সবাই চেটেপুটে তুই কেন খাবি খুঁটে
হে মাস্তি পাবি ওরে পাগলু নাচনা রে ফুল মুডে
নিচ্ছে সবাই চেটেপুটে তুই কেন খাবি খুঁটে
লে চান্স লে,লে চান্স লে,লে চান্স চান্স চান্স
লে পাগলু ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স ডান্স
–
গানের তালে তালে রেদোয়ান ইকবাল খান কে নাচাছে কতখন হাত উপড়ে করে তো কতোখন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। আবার কতখন তো ইকবাল খান এর লুঙ্গি ধরে নাচাতে। মেয়েদের মতো করে একটা পাশে
হাত টান দিয়ে আগলে নিয়ে নাচাচ্ছে ।
এদের কান্ড দেখে বাকি সবাই পেট চেপে ধরে হাসছে...
তখন হঠাৎ করে কুদ্দুস মদের বোতল মাথায় নিয়ে আরেকটি গান চালাতে থাকে।
চলবে ~
(কেমন লাগলো ডান্স 😁 )