#বখাটে_আদিত্য
#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী
পর্ব:৮
গানের তালে তালে রেদোয়ান ইকবাল খান কে নাচাছে কতখন হাত উপড়ে করে তো কতোখন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। আবার কতখন তো ইকবাল খান এর লুঙ্গি ধরে নাচাচ্ছেন।মেয়েদের মতো করে একটা পাশে হাত টান দিয়ে আগলে নিয়ে নাচাচ্ছে ।
এদের কান্ড দেখে বাকি সবাই পেট চেপে ধরে হাসছে...
তখন হঠাৎ করে কুদ্দুস মদের বোতল মাথায় নিয়ে আরেকটি গান চালাতে থাকে।
সে মাথার উপর মদের বোতল ধরে লুঙ্গি টাকে আরেকটু হাঁটুর উপর তুলে গান প্লে করলো -- বালা.....
সে বাংলা গানে মাতালের মতো নেচে চলেছে ওকে একদম দেখতে লাগছে বাংলার ডিপজল এর মতো। মাথায় উপরে মদের বোতলটি চেপে ধরে কোমড় বাঁকিয়ে বাকিয়ে নেচে চলেছে। কতখন হাত দিয়ে দিয়ে বালার মতো করে ফিসফিস এমন করে হাতের ইশারায় দেখাচ্ছে......
Bala Bala...
Bala Bala... Shaitan Ka Saala
Bala Bala... Raawan ne hai paala
Sab kahe mujhe
Shaitan ka saala
Bala Bala Bala Bala
Looto looto looto looto
Japta hoon maala
Bala Bala Bala Bala
বালা গানে কোমড় টাকে অনেকখন হেলে দুলে ইকবাল খান এর দিকে এগিয়ে এসে ভ্যাটকানির মতো একটা হাসি ইকবাল খান এর মাথায় তবলা বাজাতে বাজাতে বলে
– ওরে টাকলা রে টাকলা.... তোর বাপ টাকলা.... তোর চৌদ্দ গুষ্টি টাকলা.....
ফিসফিস..... মে হু সায়তান কা শালা....
বালা....বালা..... টাকলা রে টাকলা....
ফিসফিস
ইকবাল খান রেগে কুদ্দুস এর মাথা দুই হাতে চেপে ধরে দুইহাত দিয়েই দুই দিক থেকে দিলো দুইটা জোড়ে থাপ্পড়।
সেই থাপ্পড় এ কুদ্দুস দুই গাল ধরে মাতলামো করতে করতে একপাশে দাঁড়িয়ে যায়.....
সবাই ভাবছে এদের কাহিনী এখানেই শেষ ওমা পরে সবাই দেখে পিছনে রেদোয়ান, বুলবুল চাচা মাতালদের মতো ডুলতে ডুলতে গান গাইতে থাকে
——
এখানে ওখানে দামি মদের দোকানে
বাংলা মদের জুড়ি নেই
ওও নেশাতে ঝাঁঝেতে বাজেটে কাজেতে
ইংলিশ যে হার মানবেই...
নাচ দুঃখ ভুলে, নাচ লুঙ্গি তুলে
মদ খা তুই মদ খা তুই বাংলা স্টাইলে
মাতাল মাতাল মাল খেয়ে
মাতাল মাতাল সিন...
এক ঢোকে তে চলে যাবো
চট্টগ্রাম থেকে চীন....
এইভাবে নাচতে নাচতে নাচতে রেদোয়ান আর বুলবুল চাচা লুঙ্গি তুলে নাচছে ।
এতক্ষণ এ ইকবাল খান এর মুখে হাঁসি ফুটলো বেচারি আর হাসি চেপে ধরে রাখতে পারলো না পেট ফেটে হেসে ফেললো। সঙ্গে সঙ্গে কুদ্দুস ও আবার ওদের সাথে জয়েন হয়ে আবার গাইতে লাগলো লুঙ্গি তুলে
——
কি জাদু বাংলা মালে খাই নাচি তালে তালে
রাত যতো বেড়ে চলে
মন বোঝে মদের মানে
দে একটু ঢেলে শান্তি পাই মনে
মদ খা তুই মদ খা তুই বাংলা স্টাইলে
মাতাল মাতাল মাল খেয়ে
মাতাল মাতাল সিন
এক ঢোকে তে চলে যাবো
চট্টগ্রাম থেকে চীন....
——
রেদোয়ান, বুলবুল চাচা, কুদ্দুস নাচতে নাচতে অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছে এতক্ষণে। কিন্তু কুদ্দুস একটা মহা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে সে ইকবাল খান এর কাছে গিয়ে ওনার তবলা বাজাতে বাজাতে বলতে থাকে
– ওরে টাকলা তুরে আমি ভরে দিবো মশলা। তুই একটা ধাঁধা কিন্তু তোর মাথা রয়েছে গোবরের গাদা। এইভাবে মাথায় চাপড় মারতে মারছে ইকবাল খান এর মাথায়।
পেছন থেকে আদিত্য ডুলতে ডুলতে কুদ্দুসকে আটকায় এইদিকে বুলবুল চাচা রেদোয়ান জোরে জোরে হেসে চলেছে। তারা ইকবাল খান কে বেঙ্গলি যাচ্ছে।
ইকবাল খান এর রাগ খান এর রাগ এখন সপ্তম আকাশে ওনি নিজের পায়ে জুতা নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বুলবুল চাচা, রেদোয়ান, কুদ্দুস এর পিছনে ছুটে চলেছে। সঙ্গে সঙ্গে তারা তিনজন ছাদ থেকে দৌড় লাগায়। তারা ছুটতে ও তাদের পিছনে জুতা নিয়ে দৌড়াচ্ছে ইকবাল খান
– হাতছাড়া ডিপজল এর বাচ্চা এইবার আয় না নাচ বাংলা গানে আয় না কই যাচ্ছিস তোরা। একপ্রকার বাড়ির ভিতরে তুলকালাম কাণ্ড লেগে গেলো। কুদ্দুস ইকবাল খানকে ক্ষেপিয়ে বলতে থাকে
– ওই বুইড়া টাকলা আয় আমাকে ধর দেখি। ধর ধর বলে কতখন এই পাশ তো কতখন ওপাশ করতে থাকে। ইকবাল খান ও চোর ধরার মতো এদিক ওদিকে করতে থাকে।
রেদোয়ান বিলকি দেখিয়ে দেখিয়ে নাচ থাকে আর এইদিকে বুলবুল চাচা লুঙ্গি তুলে ইকবাল খান এর সাথে মশকরা করছে ....
——
আদিত্য হঠাৎ করে ডুলতে ডুলতে তিথি কে টেনে নিয়ে যায় তিথির রুমে
তিথিকে রুমে এনে দরজা লক করে দেয় এবং তাকে দরজার সাথে চেপে ধরে।
আদিত্য গরম নিঃশ্বাস তিথি পুরো মুখে পড়ছে। কিন্তু কেমন যেন একটা গন্ধ।
তিথি নাক মুখ কুঁচকে জিজ্ঞাসা করে
– ভাইয়া আপনিও মদ খেয়েছেন? ছি
আদিত্য তিথির মুখটা চেপে ধরে বলে
– আমি খেতে চায় নি ওই রেদোয়ান ভাইয়া জোর করে খাওয়াই দিছে রে ....
আদিত্য জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেয় এবং বলে
–তিথি.....??
তিথি ও সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়
– হুমম
আবার আদিত্য বলতে থাকে
– আচ্ছা তিথি আমি যদি না থাকি তখন তুই কী করবি?? আমাকে মিস করবি না।
তিথি আদিত্যর দিকে অশ্রুভরা নয়নে তাকিয়ে বলে
–কেনো ভাইয়া আপনি কই যাবেন।
তিথির কেন জানি বুকটা কেমন একটা ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে তার চোখ গুলো চাচ্ছে অশ্রু গড়াতে কিন্তু তিথি তা হতে দিচ্ছে না।
আদিত্য তাকিয়ে আছে একদৃষ্টিতে তিথির দিকে কিন্তু সে কিছু না বলে দরজা খুলে বেরিয়ে যায়.... তিথি মুখ ফুলিয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে।
—————————
রেদোয়ান, বুলবুল চাচা, কুদ্দুস আর আদিত্য – ইকবাল খান, তুর্য খান,আর রিপন খান এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে। তুর্য খান হঠাৎ করে জোরে চিৎকার করে বলে উঠে
– তোদের মধ্যে কে এখানে মদ নিয়ে এসেছিস।
তারা চারজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু আদিত্য তার স্টাইলের ভঙ্গিমায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু কারো মুখে কোন কথা নাই।
আবার তুর্য খান একি প্রশ্ন করে কিন্তু এইবার ও কেউ মুখ খুলছে না।
– তোরা কী বলবি নাকি অন্য কিছু এপ্লাই করবো??
তখন বুলবুল চাচা মুখ খুলে বলেন
– রেদোয়ান আরে কয়য়ি দে মদ আনিবার লাই (রেদোয়ান আমাকে বলছে মদ আনার জন্য)
ততক্ষনাৎ রেদোয়ান মাথা ডানপাশে নাড়িয়ে না বোঝায় কিন্তু তুর্য খান ছেলের সামনে গিয়ে টাশ টাশ লাগিয়ে দেয়।
– তোদের প্রত্যোককে শাস্তি পেতে হবে বলে ইকবাল খান একটা ট্রিমার নিয়ে আসে এবং মুচকি মুচকি হাসতে থাকে ।
বেচারি কুদ্দুস টেনে নিয়ে আসে তার সামনে। কুদ্দুস ভয়ে ভয়ে একটা ডোগ গিলে ফেলে।
ইকবাল খান ট্রিমারটি আর দেরি না করে কুদ্দুস এর মাথায় চালিয়ে দেয় এবং তার সুন্দর সুন্দর চুল গুলো কেটে ফেলে দেয়। পুরো মাথা টাক করে ইকবাল খান বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে বলেন
– নে এইবার তুই বালা হয়ে গেছিস। কাল তো খুব বালা করছিস । আমাকে কতই না টাকলা টাকলা বললি এবার তুই টাকলা হয়ে গেলি।
এই আবরার শাউন্ট বক্স টা নিয়ে আয় তো বাবা। আবরার এক দৌড়ে উপর যাই আর এক দৌড়ে নিচে নেমে আসে শাউন্ট বক্স নিয়ে। ইকবাল খান বালা গান চালিয়ে দেয় এবং কুদ্দুস এর মাথায় তবলা বাজাতে বাজাতে হাত পা নারতে থাকে। কুদ্দুস এর চারদিকে ঘুরে ঘুরে তাকে বেলখি দিতে থাকে।
কুদ্দুস আর না পেরে মাটিতে বসে জোরে জোরে হাত ছুড়ে কাঁদতে থাকে
– এ্যাঁ এ্যাঁ আমার চুল,,, আমি তো টাকলা হতে চাই নি এ্যাঁ এ্যাঁ।
এইবার ইকবাল খান রেদোয়ান, বুলবুল চাচা আর আদিত্যর দিকে এগিয়ে এসে বলে
– এইবার তোদের পালা । তোরা আজ আমরা যতখন পর্যন্ত বলবো না ততক্ষন পর্যন্ত ওই পুকুরে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকবি।
আদিত্য তার বাবার দিকে তাকিয়ে আছে বিরক্তভরা মুখে সে বলে
– আব্বু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এইটা একটা স্বাভাবিক বিষয়।
ইকবাল খান তার জুতা খুলে আদিত্যর দিকে ছুড়ে মেরে বলে
– ওরে বাদ্দাইমারে বাদ্দাইমা এটা স্বাভাবিক বিষয় তাই না। বেচারি সবার মুখটা চুপসে যায়। তারা চলে যাই পুকুর পাড়ে এক কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
এইদিকে কুদ্দুস এখনো কান্না করে চলেছে। ইকবাল খান মুচকি হেসে আবার তার মাথায় তবলা বাজিয়ে বলতে থাকে
– কেমন লাগে এখন একবার ভাব তো গতকাল আমার কেমন লেগেছে।
আমার মাথায় চুল থাকা সত্বেও তুই আমায় টাকলা বলেছিস । ফিসফিস বলে হাত নাড়িয়ে তিনি উপরে চলে যান।
স্নেহা আর তিথি হাসতে হাসতে কুদ্দুস কে বেঙ্গিয়ে যাই–ফিসফিস
——————
রেদোয়ান একটি ক্লাবে এর সামনে দাঁড়িয়ে একটি মেয়ের সাথে ফাল্ট করে চলেছে
– হেই বেইবি ইউ আর সো লুকিং গুড হট এন্ড সেক্সি। মেয়েটি লজ্জা পেয়ে যায় তার কথায় ।
হঠাৎ সামনে সেইদিন এর সেই কালো এবং মোটা মেয়েটি হেঁটে যায় এবং তাকে দেখে এই মেয়েটি নাকমুখ কুঁচকে বলে
– বেইবি দেখো মেয়েটি কী কালো এবং মোটা। রেদোয়ান সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে তাকায় এবং হেসে বলতে থাকে
– মোটিভেজ।
হঠাৎ করে মেয়েটির পা থেমে যায় এবং সে হাঁটতে হাঁটতে রেদোয়ান এর সামনে এসে দাড়িয়ে বলতে থাকে
– কাকে তুই মোটিভেজ বললি হারামজাদা
রেদোয়ান ও সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে বলে
– এখানে কী আর কেউ আছে যে বলবো অবশ্যই তোকে বলেছি কাইল্লা। মেয়েটি তার মাথা দিয়ে জোরে একটা বারি দেয় রেদোয়ান এর মাথায়।
রেদোয়ান কিছুটা পিছনে চলে যায় কিন্তু সেও থামার পাএ নয় সেও তাকে ফাইড ব্যাক হিসেবে জোরে থাপ্পর দিয়ে বসে।
মেয়েটি এইবার জোরে কামড় বসিয়ে দেয় রেদোয়ান এর হাতে
– উপস এই হারামজাদি কী করলি এটা। কালা, মোটার সাথে সাথে দেখি কুত্তা ও । কীভাবে কামড়ে দিলো কুত্তা কোথাকার।
মেয়েটি মুচকি হেসে হেসে বলতে থাকে
– তোদের মতো ছেলেদের শুধু কামড়ানো না ছিঁড়ে খুঁড়ে খেয়া ফেলা উচিত বারো বাতারি।
———
মেজর ভিরেক্স আমাদের মিশন এর আপডেট কতো টুকু ওই কিলার কিন্তু দিন দিন তার বিস্তার অনেক খানি এগিয়ে গেছে।
মেজর ভিরেক্স চেয়ারে বসে এক পা তুলে হামি দিতে দিতে বলে সে খুব তাড়াতাড়ি ধরা পড়বেই জাস্ট কিছু সময়ের অপেক্ষা মাএ ওকে তো আমাদের জালে পা দিতেই হবে। সব লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর কর্নেল সবাই রুম ত্যাগ করে।
মেজর ভিরেক্স চেয়ারে মাথা খেলিয়ে দিয়ে কিছু ভাবতে থাকে তখন মেজর তানভীর এসে জিজ্ঞাসা করে
– স্যার কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি??
মেজর ভিরেক্স চোখ তুলে তাকিয়ে মাথা নাড়ায়। মেজর তানভীর অনেক সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞাসা করে ফেলে
– আপনার ওয়ালেটে যেই মেয়েটির ছবি আছে সেটা কী আমাদের ম্যাডাম??
মেজর ভিরেক্স মুচকি হেসে বলতে থাকে
– আমার রেড চেরি , আমার মনোহরদী, আমার প্রানভোমরা ।
মেজর তানভীর হেসে বলে
– কখন থেকে এইসব সে কী জানে আপনি তাকে এতো ভালোবাসেন??
ভিরেক্স এইবার উঠে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে
– উঁহু আমার ভীতু নারী এখনো জানে না।
মেজর তানভীর আবার বলে উঠে কীভাবে প্রেমে পড়লেন??
আদিত্য আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
– খুব ছোটবেলায় তার বয়স ছিলো মাএ ১০ বছর তখন আমি ১৮ বছরের তাগরা যুবক ছিলাম। একদিন সে একটা লাল রঙের গ্রাউন পড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো তখন আমার হ্নদপিন্ডটা এমন ভাবে লাফাছিলো যে বের হয়ে আসতে চাচ্ছিলো। আমার রেড চেরি তখন তাকে দেখতে ঠিক রেড চেরির মতো লাগছিলো মনে হয়েছিলো গিয়ে তাকে খেয়ে ফেলি।
মুচকি মুচকি হেসে বলল আমার রেড চেরি।
তানভীর অবাক হয়ে বলতে থাকে
– ১১ বছরের বাচ্চা এটাও কী সম্ভব??
ভিরেক্স তানভীর এর পিঠে চাপড় দিতে দিতে বলে সব সম্ভব বুঝলে।
———
ও মা আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আম্মু খুব ব্যাথা করছে তিথি দাঁতের ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে কান্না করে চলেছে।
এইদিকে বেলা খান কী করবে ভেবে পায় না রাত তো প্রায় ৮ টা হতে চললো । বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ নেই কীভাবে মেয়েকে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাবে।
তিথি মাটিতে বসে পা ছোড়াছুড়ি করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকে
– আম্মু আমি আর সহ্য করতে পারছি না আম্মু খুব ব্যাথা করছে খুব বেশি।
সুফিয়া খান মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতে থাকে আমি আদিত্য কে কল দিয়েছি ও আসছে বলছে আরেকটু অপেক্ষা কর না মা । এইতো দেখবি এখন তোর আদিত্য ভাই চলে আসবে। বলতে দেরি কিন্তু আদিত্যর আসতে দেরি হয় না।
আদিত্য তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে দেখে মনে হচ্ছে খুব ছোটাছুটি করে এসেছে সে। সারা গায়ে ঘাম চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। কপাল থেকে টপাটপ ঘাম বেয়ে চলেছে।সে একটা বড় নিঃশ্বাস নিয়ে মাটিতে কাতরাতে থাকা তিথির দিকে এগিয়ে যায় এবং তার মাকে জিজ্ঞাসা করে
– ছোট মা কী হয়েছে ওর এইভাবে ডাকলে কেন??
বেলা খান ব্যাথিত কন্ঠে বলে উঠে
– বাবারে ও চকলেট খাচ্ছিলো কিন্তু হঠাৎ করেই ওর দাঁতে শিরশির অনুভূতি ও ব্যাথা হতে থাকে। ব্যাথায় পুরো মুখ লাল হয়ে আছে। আর মনে হয় একটু শুলাচ্ছে দাঁতটা তাই এমন করছে।
আদিত্য জোরে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলতে থাকে
– তোকে না বলেছি বেশি চকলেট খাবি না এখন দেখলি তার ফল। এখন কেন কান্না করছিস ব্যাথায় মর এইবার।
রান্না ঘর থেকে জুঁই খান গরম একটা প্যাক এনে তিথির মুখে লাগাতে লাগাতে বলে
– হ্যাঁ রে আদিত্য মেয়ে টাকে আর কষ্ট দিস না তাড়াতাড়ি মুগ্ধ কে ফোন করে হসপিটাল কোন ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে যা তাড়াতাড়ি কর।
আদিত্য উঠে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ কে কল ওপাশ থেকে মুগ্ধ ছটফট করতে থাকে তিথির পরিস্থিতি শুনে তাকে তাড়াতাড়ি হসপিটাল নিয়ে আসতে বলে।
মুগ্ধ তিথির দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
– উঠ চল ডাক্তার এর কাছে যাবো উঠ।
পাশ থেকে স্নেহা বলে উঠে
– ভাইয়া আমি ও যাই তোমাদের সাথে তুমি একা পারবে না।
আদিত্য তার বোনের দিকে তাকিয়ে বলে
– না তোর যেতে হবে আমি পারবো ওকে সামলাতে এত বছর সামলিয়েছি যখন এখন ও পারবো । আম্মু তোমরা থাকো আমি ওকে ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে আসবো তাড়াতাড়ি।
তারপর আদিত্য আর তিথি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। গাড়ি চলতে শুরু করে হসপিটাল এর উদ্দেশ্য। তিথি মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে আদিত্যর গাড়ির স্ট্রিয়ারিং খুব শক্ত করে চেপে ধরেছে।
তিথি খুব কষ্ট হচ্ছে সে চাচ্ছে আদিত্য ভাই এর সামনে না কাঁদতে কিছু কিছুতেই এই কান্না থামাতে পারছে না । আদিত্য এইবার জোরে থমক দিয়ে উঠে
– চুপ করবি একটু তোর কান্নার আওয়াজ এ তো আমি গাড়ি চালাতে পারছি না। কে বলেছে চকলেট খেতে দাড়া আমি আরো এনে দিবো চকলেট তুই এখানে বসে বসে খা কেমন।
তিথি আদিত্যর ধমকে কেঁপে উঠে সে এইবার নিশ্চুপ হয়ে ফুপাচ্ছে। প্রায় ঠিক ১০ মিনিট পর তারা নোয়াপাড়া কসমিক হসপিটাল এ পৌঁছে যায়। সাথে সাথে হসপিটাল এর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মুগ্ধ কে দেখতে পায়। মুগ্ধ তাদের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করে
– ফারু বেশি কষ্ট হচ্ছে?? আরেকটু ধৈর্য্য ধর এখুনি চলে যাবে ব্যাথা। আদিত্য দিকে তাকিয়ে ভিতরে ঢুকতে বলে।
আদিত্য একটা সিগারেট ধরিয়ে বলতে থাকে
– তোরা যা আমি আসছি ।
আদিত্য সিগারেট এর ধোঁয়া উড়িয়ে আকাশ এর দিকে তাকিয়ে আছে এবং হাজারো অভিযোগ হয়তো ধোঁয়ার কুণ্ডলির মতো আকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তিথি কে মুগ্ধ তার বন্ধু ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে যায় এবং তার দাঁতের সব সমস্যা বলে দেয়।
ডাক্তার যখন তিথিকে চেক করতে যায় তিথি বাঁধা দেয় কেননা তার চোখ কেবিনের বাইরে কখন তার আদিত্য ভাই আসবে সে মুগ্ধ কে জিজ্ঞাসা করে
– ভাইয়া আদিত্য ভাই কোথায় গেছে ওনি কখন আসবে আমার ভীষণ ভয় করছে।
মুগ্ধ তিথি কে সাহস জুগিয়ে বলে
– আরে আমার পিচ্চি ফারু ভয় নেই আমি আছি তো আদিত্য মনে হয় একটু ব্যস্ত এইতো চলে আসবে।
তবুও তিথি কথা শুনছে না তার আদিত্য ভাইকে প্রয়োজন। মুগ্ধ একপ্রকার বাধ্য হয়ে আদিত্য কে কল দিয়ে বলে
– কীরে তুই এখনো ভিতরে আসছিস না কেন তিথি তোকে ছাড়া কিছু করতে দিচ্ছে না।
ওপাশ থেকে শুধু শোনা গেলো আসছি আমি।
কিছুক্ষণ পর আদিত্য কেবিন এ ঢুকে পড়ে। তিথির পাশে বসে পড়ে তাকে জিজ্ঞাসা করে
– উমম কী সমস্যা?? ওনাকে কিছু করতে দিচ্ছিস না কেনো??
তিথি মুখ ফুলিয়ে উত্তর দেয়
– ভয় করছে ভাইয়া আমার আপনি থাকলে আমার ভয় করে না
আদিত্য ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর দেয়
– কেন ভয় করবে মুগ্ধ আছে না আমাকে কেন লাগবে তোর।
তিথি মাথা নাড়িয়ে বলে
– উঁহু লাগবে আমার তোমাকে।
আদিত্য হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে ডাক্তার কে তিথির দাঁত চেক করতে বলে।
মুগ্ধ হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে দাঁতে দাঁত চেপে তার রাগ নিয়ন্ত্রণ করছে সে।
ডাক্তার যখন তিথির দাঁতের ভীষণ চেক করব তখন তিথি ভয়ে আদিত্যর শার্ট আঁকড়ে ধরে, আদিত্য সাথে সাথে সেই হাত তার হাতের মুঠোয় ভরে দেয় নেয় এবং তাকে ভরসা দিতে থাকে।
তিথি অতিরিক্ত চকলেট খাওয়ার ফলে দাঁতে সমস্যা হয়েছে । ডাক্তার তাকে চকলেট খেতে বারণ সাথে কিছু ঔষধ পএ ও লিখে দিয়েছে প্রেসক্রিপশন এ।
মুগ্ধ তাদের হসপিটাল এর বাইরে পর্যন্ত ছেড়ে দিয়ে আসে এবং তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে থাকে
– ফারুক একদম চকলেট খাবি না ঠিক আছে আর কোন সমস্যা হলে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে জানাবি আমি তোকে পৌঁছে দিয়ে আসতে পারতাম কিন্তু আমি নাইট শিফট তাই তুই আদিত্য সাথে চলে যা কেমন। তিথি বাচ্চাদের মতো মাথা নাড়ায়।
আদিত্য আর তিথি গাড়িতে উঠে বেরিয়ে পড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে কিন্তু হঠাৎ করে ই মনে পড়ে আদিত্যর ওষুধ তো কেনা হয় নি। তাই সে একটা ওষুধের দোকান গাড়ি দাঁড় করিয়ে ওষুধ কিনতে যায়।
তখন হঠাৎ সেই রাস্তা দিয়ে এক লোক হাওয়ায় মিঠাই বিক্রি করছে হওয়ায় মিঠাই দেখে তিথির জিভ দিয়ে পানি চলে আসছে সে ফটাফট গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে যাই। আদিত্য তখন হেঁটে আসছে এবং বলতে থাকে
– ওই কই যাচ্ছিস তুই??
তিথি মুখটাকে পাউট করে বলে
– আদিত্য ভাই ওই যে আগুল দেখিয়ে দিয়ে বলে হাওয়ায় মিঠাই খাবো ।
আদিত্য তেলে ফোড়ন পড়ার মতো তেতে উঠে
– কী... কিছুক্ষণ আগে না তোর দাঁতে ব্যথা ছিলো তোকে ডাক্তার কি বলছে ??
তিথি মুখ ফুলিয়ে বলতে থাকে
– চকলেট খেতে মানা করছে মিঠাই না তো ।
– ওই এক জিনিস,সব মিঠা তো চল খেতে হবে না।
তিথি ওইখানে বসে পড়ে আদিত্যর পা আঁকড়ে ধরে।
চলবে ~
( বেচারি কুদ্দুস টাকলা হয়ে গেলো 🤣🤣গল্পটা মনে হয় আপনাদের বোরিং লাগছে তাই না 😒 আপনারা কেউ তেমন রেসপন্স করেন না এইজন্য হয়তো)