#বখাটে_আদিত্য
#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী
পর্ব:৯
– ওই কই যাচ্ছিস তুই??
তিথি মুখটাকে পাউট করে বলে,
– আদিত্য ভাই ওই যে আগুল দেখিয়ে দিয়ে বলে হাওয়ায় মিঠাই খাবো ।
আদিত্য তেলে ফোড়ন পড়ার মতো তেড়ে উঠে
– কী... কিছুক্ষণ আগে না তোর দাঁতে ব্যাথা ছিলো তোকে ডাক্তার কি বলছে ??
তিথি মুখ ফুলিয়ে বলতে থাকে
– চকলেট খেতে মানা করছে মিঠাই না তো ।
– ওই এক জিনিস,সব মিঠা তো.... চল খেতে হবে না।
তিথি ওইখানে বসে পড়ে আদিত্যর পা আঁকড়ে ধরে বলতে থাকে
– ভাইয়া আমাকে হাওয়ায় মিঠাই নিয়ে দাও প্লিজ প্লিজ নয়লে আমি আপনার পা ছাড়বো না বলে দিলাম।
রাস্তার সব মানুষ ওদের দিকে তাকিয়ে আছে , আবার কেউ কেউ মুচকি মুচকি হেসে চলেছে। আদিত্য একপলক সবার দিকে তাকিয়ে এইবার তিথির দিকে তাকায় এবং দাঁতে দাঁত চেপে বলে
– উঠ বেয়াদব বেডি কি করছিস কী! তুই কী এখনো ছোট এইভাবে করচ্ছিস। ছাড় আমার পা নয়লে কানের নিচে চাপকে এমন দিবো না কয়েকদিন বেহুঁশ থাকবি উঠ।
তিথি তাও পা ছাড়ে না সে আরো আঁকড়ে ধরে বলে
– এতো দাঁতে পেশার দিয়েন না ভাইয়া দাঁত ভেঙে পড়ে যাবে তো। আমাকে এখনই কিনে দিন মানে দিন। আমি টাকা আনলে আপনাকে বলতাম নাকি। প্লিজ ভাইয়া কিনে দিন না।
আদিত্যর হঠাৎ রাগটা যেন পড়ে গেলো মুচকি হেসে দেখতে থাকে বাচ্চাদের মতো বায়না ধরা মেয়েটিকে। আদিত্য কেন যানি পেট ফেটে হাসি আসছে তিথির অবস্থা দেখে তাও হাসি চেপে রেখে বলে
– উঠ তুই আগে চল কিনে দিচ্ছি।
তিথি মুহূর্তে খুশি হয়ে উঠে পড়ে তার পড়নে জামাটায় বালি লেগে নোংরা হয়ে আছে । তিথি মুখটা চুপসে গিয়ে বলে ভাইয়া একটু বালি গুলো ছেড়ে দিন না।
আদিত্য হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে এবং তিথির জামাতের লেগে থাকা বালি গুলো ঝেড়ে দিচ্ছে রাস্তার মানুষ সবাই অবাক হয়ে দেখে চলেছে এদের কান্ড কেননা
এই এতো মানুষের ভিড়ে একটা ছেলে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে একটা মেয়ের ময়লা ঝেড়ে দিচ্ছে।
আদিত্য উঠে দাঁড়িয়ে বলে
– গাড়িতে গিয়ে বোস আমি নিয়ে আসছি। তিথি গাড়িতে উঠে বসে এবং আদিত্য সেই হাওয়ায় মিঠাই বিক্রেতার কাছে গিয়ে অনেক গুলো মিঠাই কিনে নিয়ে আসে । পেছনে সিটে বাকিগুলো রেখে তার থেকে একটা নিয়ে তিথিকে দিয়ে ডাইভিং সিটে বসে পড়ে।
তিথি এতো গুলো প্যাকেট দেখে বলে
– আদিত্য ভাই এতগুলো কার জন্য??
আদিত্য কোন জবাব দেয় না সে ডাইভিং এ মনোযোগ দেয় ।
তিথিও মুখ বাঁকিয়ে আর কিছু বলে না। সে তার হাওয়া মিঠাই খেতে থাকে কিন্তু বিপত্তি বাধে সে তার হাওয়া মিঠাই এর প্যাকেট এর গিট টা খুলে খেতে পারছে না অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে। তিথি মুখটা এইটুকু খানি করে আদিত্যর পানে চায়।
আদিত্য এইবার অনেক বেশি বিরক্ত হয় সে গাড়ি থামিয়ে দিয়ে ছো মেরে প্যাকেট টি নিয়ে সহজেই গিট টি খুলে দেয় । তিথি খুশি মনে মিঠাই খেতে থাকে।
খেতে খেতে তার মুখের কোনায় অনেকটা লেগে থাকে।
আদিত্য আড় চোখে চেয়ে একটা টিস্যু এগিয়ে দেয় মোছার জন্য।
তিথি টিস্যু দিয়ে সেটি পরিষ্কার করে নেয়।
তারা প্রায় অনেক পথ এগিয়ে চলে আসে সামনে দিকে হয়তো কোন একটা মেলা বসেছে তিথির চোখ হঠাৎ করেই একটা চুড়ির দোকানে আটকে পড়ে সে তাড়াতাড়ি করে আদিত্যকে ডাকতে থাকে
– আদিত্য ভাই গাড়িটি থামান ।
আদিত্য গাড়ির ব্রেক কষে আদিত্য ভ্রু কুঁচকে কী হয়েছে জানতে চায় ।
তিথি আবার একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে আগে বলুন আমাকে বকবেন না। আদিত্য মাথা নাড়ে না বুঝায় তবুও তিথি আবার বলে
–সত্যি তো বকবেন না!
আদিত্য এইবার সত্যি সত্যি অনেক বিরক্ত হয়ে জোরে ধমক দিয়ে বলে
– কী বলবি তাড়াতাড়ি বল নয়লে গাড়ি থেকে ফেলো বিয়াদপ বেডি।
তিথি কেঁপে উঠে এবং মাথা নিচু করে বলে
– আমার ওইগুলো চায় ...
– কী চাই??
তিথি চুড়ির দোকানের দিকে দেখিয়ে বলে
– আমার চুড়ি খুব পছন্দ আমার কাঁচের চুড়ি চায়। কিনে দিবে আদিত্য ভাই?
উফফ এমন আবদার এমন বায়না আদিত্য কেন পৃথিবীর সকল পুরুষ কিনে দিতে বাধ্য । এমন আদুরে কন্ঠে কেউ কখনো কিছু চাইলে তাকে কি ফেরাতে পারে। আদিত্য ও পারে নি। সে গাড়ি থেকে নেমে পড়লো এবং তিথি নামতে বললো।
তারা দুজনেই সেই দোকানের দিকে চলে গেলো। আদিত্য কিছুটা দূরে সরে গিয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের করে তা মুখে পুরে দিলো ।
সিগারেট মুখে নিয়ে বলতে লাগলো
–তাড়াতাড়ি যা নেওয়ার নিয়ে নে। আকাশ নিকোটিন এর ধোঁয়া উড়াচ্ছে আদিত্য।
তিথি কাঁচের চুড়ি গুলো থেকে বেঁচে বেঁচে লাল টুকটুকে রঙ্গের চুড়ি নিয়ে আদিত্য কে বলে সে এইটা নিবে।
আদিত্য মুখ থেকে ধোঁয়া ছাড়িয়ে বাকি সিগারেট টুকু পায়ে পিষে । পকেট থেকে একটা সুইংগাম মুখে দিয়ে চিবুতে চিবুতে দোকান দারকে বলে
– এখানে কতজোড়া কাঁচের চুড়ি আছে ??
দোকানদারটি জবাব দিলো
–প্রায় ৫০ জোড়ার মতো হবে সাহেব।
– ঠিক আছে সবগুলো দিয়ে দিন।
দোকানদারটি অবাক হয় পাশাপাশি তিথিও অবাক হয়ে বলে
– আদিত্য ভাই এতগুলো লাগবে না তো আমার একজোড়া হলেই চলবে। এতগুলো দিয়ে আমি কী করবো! আর আপনার কাছে কী এতগুলো টাকা আছে এখন??
আদিত্য রেগে গিয়ে বলে
– তোর টাকার চিন্তা করতে হবে না হতে পারি আমি কোন ইনকাম করি না কিন্তু এই আদিত্যর তোকে সামান্য ৫০ জোড়া চুড়ি কিনে দিতে পারবো না। ছ্যাঁ শালা এইদিন এখনো আমার আসেনি বজ্জাত বেডি বুঝলি ।
দোকানদারটি খুশি হয়ে বলে মেডাম আপনি একবার ছুড়ি গুলো পড়ে দেখেন যদি ছোট হয় । তিথি চুড়ি গুলো পড়তে থাকে কিন্তু সে কোনমতেই নিজের সুবিধা অনুযায়ী ঢোকাতে পারছে না।
আদিত্য তিথির এক হাত ধরে লাল টকটকে চুড়ি গুলো পড়িয়ে দিতে থাকে একের পর ।
আদিত্য এমন ভাবে চুড়ি গুলো পড়িয়ে দিচ্ছে যাতে করে তিথির কোন ব্যাথা না লাগে। নরম তুলতুলে ফর্সা হাতে এমন রক্ত জবার মতো চুড়ি গুলো খুব সুন্দর মানিয়েছে।
তিথি খিলখিল করে হেসে হেসে চুড়ি গুলো নাড়তে থাকে। আদিত্য মোহীত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এবং বিরবির করে বলতে থাকে
– রেড 🍒 চেরি
তিথি হয়তো কিছুটা শুনেছে আদিত্য কী বলেছে কিন্তু ভালো করে স্পষ্ট ভাবে শুনতে পায় নি তাই তিথি জিজ্ঞাসা করে আদিত্য কী বলেছে।
কিন্তু আদিত্য তাকে তাড়া দেখিয়ে গাড়িতে উঠতে বলে । প্রায় বেশ কিছুমিনিট পর পৌঁছে যায় খান বাড়িতে।
বেলা খান, সুফিয়া খান ও জুঁই খান সোফায় বসে ছিলো এতক্ষণ মেয়ের অপেক্ষায় । যেইমাএ ওরা ঢুকলো বেলা খান মেয়েকে বুকে আগলিয়ে বলতে লাগলো
– মা তোদের এতো দেরি হলো কেন?? এতক্ষণ লাগে আসতে তোদের। মুগ্ধ তো বলেছে তোরা নাকী সেই কখন বেরিয়েছিস তাহলে এতো দেরি হলো কেন।
আদিত্য ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলে
– ছোটমা তোমার মেয়ে যে চিজ মাইরি পুরো রাস্তা আমার মাথা খেয়ে এসেছে বলে সোফায় সব হাওয়ায় মিঠাই রেখে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে যাই।
তিথি আদিত্যকে মুখ বেঁকিয়ে দেয় ।
বেলা খান মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতে থাকে
– এখন ব্যাথা করছে মা আর এতো মিঠাই কেন কিনলি । তুই একদমই এতে হাত দিবি না একটাও খাবি না কিন্তু বলে দিলাম ।
–––
স্নেহা আর তিথি আজ অনেক দিন পর কলেজে যাচ্ছে তারা তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্য রওনা দেয়। আজকে তারা তাদের কলেজ এর বাসে করে যাবে । তারা প্রায় ৩০ মিনিট এর ভিতরে চুয়েট কলেজে পৌছে যায় ।
হঠাৎ পেছন থেকে তিথি মাথায় কেউ গাট্টা মারে তিথি পেছনে ফিরে দেখে আরমিণ দাঁড়িয়ে আছে।
আরমিণ হলো তিথি আর স্নেহার বেস্ট ফ্রেন্ড। মেয়েটার বাবা- মা কেউ বেঁচে নেয় সে তার চাচা চাচির সাথে থাকে। চাচা একজন দিনমজুর দিনে এনে দিনে খাই। আরমিণ নিজের টিউশনি টাকা ও বৃত্তি দিয়ে এই কলেজে নিজের মেধার জন্য পড়াশোনা করতে পারছে।
বায়োলজি ক্লাস শেষ হওয়ার পর তাদের তিনজন এর ই আর ক্লাস করতে মন চাচ্ছে না তাই তারা কলেজের মাঠে গোল হয়ে বসে পড়ে আড্ডা দিতে থাকে।
আরমিণ হঠাৎ সেই দিনের ভাবনায় পড়ে যায় । তিথি তাকে জিজ্ঞাসা করে
– কীরে এতো কী ভাবিস?
আরমিণ মুচকি হেসে বলতে থাকে জানিস তোদের একটা ঘটনা বলি না ই । টিউশন থেকে ফিরে আমি সেইদিন রাস্তায় যাচ্ছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে কিছু অসভ্য ছেলে আমার ওড়না কেড়ে নিয়ে আমার সাথে অসভ্যতামো করতে থাকে। ঠিক তখন হিরোর মতো এন্ট্রি নেয় একটা ছেলে মুখে তার সিগারেট ছিলো ।
উমম হয়তো পারপেল রঙ্গিন শার্ট পড়ে ছিলো । জানিস ওনি এসে না সেই ছেলে গুলোকে কি যে মাইর দিচ্ছিলো না। উফফ সেই আর যখন আমাকে মাটি থেকে উড়না তুলে গায়ে পড়িয়ে দিচ্ছিলো আমি তো ভাই ফিদা। ওনার দিকে আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। ওনার চোখগুলো বিড়ালের মনির মতো।
তিথি কে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে বলতে থাকে
তিথি রে আমি তো মনে হয় ওনার প্রেম পড়ে গেলাম। খেতে গেলে শুতে গেলে ওনার কথা বেশি বেশি মনে পড়ে। জানিস ছেলেটা না আচরণ একদম বখাটে টাইপ।
তিথির মুখটা খানিকটা চুপসে যায় সে মনে মনে ভাবতে থাকে আরমিণ
যে বর্ননা দিয়েছে তার সাথে তো আদিত্য ভাই এর মিল পাওয়া যাচ্ছে। তিথির বুকের ভেতর কেমন যেন মুছরে উঠে। তিথির কিছু ভালো লাগছে না সে উঠে দাড়িয়ে স্নেহা কে বলতে থাকে
– স্নেহা চল বাড়িতে যাবো
তারা দুজনেই বেরিয়ে পড়ে কলেজ থেকে হঠাৎ হাঁটতে হাঁটতে তিথির পায়ে কিছুর সাথে বেধে যায়। তিথি তাকিয়ে দেখে একটা ছোট পিচ্চি বিড়াল । তিথি স্নেহা ও দেখায় তার পায়ের নিচে পড়ে থাকা বিড়ালটির দিকে। হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে তিথি এবং বিড়ালটিকে কোলে তুলে নেয়। বিড়ালটির শরীরে অনেক জ্বর তাই জ্বরের ঘোরে ভীষণ কাঁপতে থাকে ।
তিথি ও স্নেহা এপাশ ওপাশ দেখতে থাকে যদি কেউ ফেলে গেছে কিনা কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না। তিথি তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে এই বিড়ালটিকে সে পোষবেই পোষবে। বাসে তারা উঠে পড়ে তিথি ভাবতে থাকে এই বিড়ালটির নাম কী দেওয়া যায়। ভাবতে ভাবতে সে হঠাৎ করেই বলে উঠে
– স্নেহারে পেয়ে গেছি নাম আমার বাচ্চাটার নাম হবে লুসি বলে খিলখিল করে হাসতে থাকে।
বাস ঠিক জায়গায় দাড়াতেই স্নেহা আর তিথি নেমে পড়ে।তারা বাড়িতে চলে যাই
–––
রাত তখন অনেক গভীর চারিদিকে শুনশান নীরবতা কুদ্দুস, বুলবুল চাচা আর রেদোয়ান আজ ঠিক করেছে ইকবাল খান কে একটা শায়েস্তা করবে তাই তারা একটা ভেউর ও ভোলতা ভর্তি ঝুড়ি নিয়ে আসে যাতে করে ইকবাল খানের রুমের ভিতর সবগুলো ভেউর ও ভোলতা দিতে পারে। ইকবাল খান কে যাতে কামড়ে কামড়ে শেষ করে ফেললেই তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
কুদ্দুস, রেদোয়ান আর বুলবুল চাচা সবাই বাগানের পেছনে দিকে ইকবাল খান এর রুমের পেছন দিক দিয়ে দাড়িয়ে আছে। কুদ্দুস গাছ বেয়ে উঠে পড়ে জানালা দিয়ে উঁকি মারতে থাকে দেখে রুমে শুধু ইকবাল খান খবরের কাগজ পড়ছে হয়তো।
কুদ্দুস একটা ডেভিল হাসি দিয়ে ভেউর ও ভোলতার ঝুড়িটা হালকা করে খুলতে ই যাবে তখন বেচারি কুদ্দুস এর পা পিছলে পড়ে যায় বুলবুল চাচা ও রেদোয়ান এর গায়ের উপরে। তাদের ভাগ্যে এতটা খারাপ যে ভেউর ও বোলতা পোকা গুলো ঝুড়ি ভেঙ্গে বেরিয়ে যাই এবং কুদ্দুস, রেদোয়ান ও বুলবুল চাচাকে ঘিরে ধরে আক্রমন করে ফেলে।
কুদ্দুস উঠে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে চিৎকার করতে থাকে তার শরীরের অনেক জায়গাই পোকা গুলো কামড়াতে থাকে। মুখে হাতে পায়ে না হলেও অনেক গুলো ভেউর ও ভোলতা কামড় দিয়েছে। কুদ্দুস লাফাতে লাফাতে কখনো এদিক তো কখনো ওদিক করে দৌড়াতে থাকে।
এইবার সব ভোলতা তার টাক মাথায় কামড় দিতে থাকে। কামড়ে ফলে তার টাক মাথায় ইয়া বড়ো বড়ো করে ফুলে যায়। এদিকে বুলবুল চাচা ও রেদোয়ান এর অবস্থা খারাপ তাদের ও পোকাগুলো কামড়িয়ে কামড়িয়ে চেহারা গুলোকে মানচিত্র বানিয়ে দিয়েছে।
কুদ্দুস এর পাছায় বোলতা গুলো কামড়াতে থাকে বেচারি কুদ্দুস লুঙ্গি খুলে ভৌ করে দৌড় দেয়। সাথে সাথে রেদোয়ান ও বুলবুল চাচা ও লুঙ্গি খুলে তারা ও দৌড়াতে থাকে।
দৌড়াতে দৌড়াতে তারা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।
তিনজনের এই অবস্থা দেখে সোফায় বসে থাকা তুর্য খান মুখ থেকে চা পড়ে যায় এবং তিনি জোরে জোরে কাশতে থাকে।
সুফিয়া খান তখন ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজাচ্ছেন এই তিনজনের ল্যাংটা অবস্থা দেখে ওনার হাত থেকে তরকারির বাটি পড়ে যাই।
তুর্য খান উঠে দাঁড়িয়ে তাদের কাছে চলে যায় এবং জিজ্ঞাসা করে
– কি রে তোদের এই অবস্থা হলো কেমনে তোদের লুঙ্গি কই?আর তোদের সবার মুখের অবস্থা বাংলাদেশ বর্ডার ভারতের মতো ফুলে ফুলে আছে কেন?? পুরো তো মানচিত্র করে ফেলেছিস তোরা নিজেদের।
তিথি, স্নেহা, ছোট্ট আবরার জোরে জোরে হাসতে থাকে। বাড়ির প্রত্যোকটা লোক মিট মিট করে হেসে চলেছে হাসবে নাই কেন। তাদের তিনজন মুখের অবস্থা পুরো লাল, বড়ো বড়ো করে ফুলে রয়েছে ।
আর সবচেয়ে বড়ো কথা পরনে শুধু গেঞ্জি আর আন্ডারওয়ার ছাড়া আর কিছুই নেই।
কুদ্দুস কে দেখে সবাই বেশি হাসছে কেননা তার মাথায় বড়ো বড়ো ডিমের মতো করে ফুলে রয়েছে।
কুদ্দুস, রেদোয়ান আর বুলবুল চাচা পারছে না লজ্জায় মাটি ফাঁক করে সেখানে চলে যেতে।
চলবে ~
( অগোছালো লেখা জানি না কতটুকু আপনাদের ভালো লাগছে?? )