ফন্ট সাইজ:
থিম:
বখাটে আদিত্য

১১তম পর্ব

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রীয়ন্তি

#বখাটে_আদিত্য

#প্রিয়ন্তীকা_প্রিয়ন্তী

পর্ব:১১

তিথির চোখে মুখে ভোরের আলো ফুটতেই

চোখ বন্ধ অবস্থায় কুঁচকে ফেলে তার হঠাৎ করে কিছু অনুভব করে, নরম তুলতুলে কিছু্। ধীরে ধীরে সে চোখের পাতা খুলে এবং নিজের বুকের কাছে যা দেখে এতেই তার পুরোপুরি ঘুম ভেঙ্গে যাই।

তাড়াতাড়ি করে উঠে চোখ গুলো ভালোভাবে কচলাতে থাকে, না সে তো এখনো দেখছে আবার চোখজোড়া ভালো করে কচলিয়ে আবার চোখ খুলে তাকায় ।

সে কী সত্যি সত্যি তার কাছে লুসি কে দেখছে নাকি এটা ঘুমের ঘোরের স্বপ্ন। তিথি নিজের বাম হাতের কব্জিতে জোরে একটা চিমটি কাটে, ব্যাথায় "উফফ" করে উঠে তাহলে এটা স্বপ্ন নয় সত্যি সত্যি লুসি তার সামনে।

নাহ এটা যদি স্বপ্ন হতো এতক্ষনে লুসি ভ্যানিশ হয়ে যেতো। তিথি ভাবতে থাকে কিভাবে লুসি আসবে তাহলে কী আদিত্য ভাই....??সে আর কিছু না ভেবে লুসিকে কোলে তুলে নিয়ে চুমু দিতে থাকে

–আমার বাচ্চা জানিস তোর জন্য কাল আমি কতো কেঁদেছি আর কখনো আমার থেকে দূরে যাবি না ঠিক আছে। ওই পঁচা আদিত্য ভাই এর ধারে কাছেও যাবি না নাহলে ওনি তোকে আবার জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসবে।

পেছন থেকে স্নেহা হামি দিতে দিতে বলল

– ম্যাডাম এর তাহলে এতক্ষনে মুখে হাসি ফুটেছে আমি তো ভেবেছি তুই যা কান্না করেছিলি এখানে না বন্যা হয়ে যাই ।

"চুপ কর হা*রামি" তোর ভাইয়ের আমার লুসির সাথে শএুতা কিসের জানি না। কিন্তু লুসিকে নিয়ে এসেছে কে ???

উমম আদিত্য ভাই তো আনবে না তাহলে কী মুগ্ধ ভাইয়া নিয়ে এসেছে লুসিকে?

স্নেহা হতাশার একটা জোরে নিঃশ্বাস ফেলে বলতে থাকে

– একটা গর্দভ তুই জীবনেও বুঝলি না আমার ভাইটাকে।

তিথি মুখ বেঁকিয়ে বলে

– উনাকে না বুঝার কি আছে ! সবসময় বুঝি বুঝি না করিস কেন??

স্নেহা গালে হাত ঠেকিয়ে মুখটা ভেটকিয়ে বলে

– বুঝলে কী আর এতো কষ্ট হতো আমার ভাই এর যাক গে চল নিচে।

তিথি আর স্নেহা ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে পড়ে নাস্তা করার জন্য কেননা কিছুক্ষণ পর তাদের বাস চলে আসবে। লুসি কেও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে তিথি হাঁটু গেড়ে বসে ওকে ফ্লোরে নামিয়ে দেয় ওমনি লুসি ফ্লোরে এদিক ওদিক ছুটতে থাকে। যখন তিথি উঠতে যাবে হঠাৎ করে কোন শক্ত কিছুর সাথে ধাক্কা খায় এবং তার চুল যেন কিসে আটকে যায় ??

তিথি মাথাটা একটু উপরে তুলে দেখে আদিত্য দাঁড়িয়ে আছে - পড়নে আজ কালো শার্ট, থিক প্যান্ট। আদিত্যর শার্টের বোতামে তিথির মাথায় চুল আটকে গিয়েছে তিথি চুল ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু এতে বিপরীতে চুল টান পড়ছে যার কারণে সে ব্যাথা পাচ্ছে।

আদিত্য কিছুটা বিরক্ত হয়ে সেও চুল গুলো ছাড়াতে যাই কিন্তু তিথির চুল এমন ভাবে আটকে আছে যে কোন ভাবেই ছাড়ানো যাচ্ছে না।

আদিত্য বিরক্তি ভঙ্গিতে স্নেহা কে একটা কেচি আনতে বলে। বাড়ির সবাই এই দৃশ্য দেখে হতবাক। যেনো এখানে কোন সিনেমার শুটিং চলছে যেখানে নায়ক আদিত্য আর নায়িকা তিথি। আর বাকি সবাই দর্শক।

তিথি জোরে চিৎকার করে উঠে

– নাহহহহহ । আমি আমার চুল কাটবো না এইগুলো আমার অনেক যত্নের চুল কিছুতেই কাটবো না। আর এমন মাথার উপরের চুল গুলো কাটলে দেখতে বাজে লাগবে।

আদিত্য আবার হাত চালাই না এইভাবে হবে না দেখা যাবে চুল টানাটানি করতে করতে কখন না বোতামটা খুলে এসে পড়ে। আদিত্য জোরে স্নেহা ডাকতে থাকে।

স্নেহা সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বলে আসছি ভাইয়া....

আদিত্যর হাতে কেচি দিয়ে বলে "এই নাও ভাইয়া" আদিত্য কেচিটা হাতে নিয়ে কিছুটা ঝুঁকে শার্টের বোতামে লাগানো চুল গুলো একটা ক্যাঁচ মেরে কেটে ফেলে। আর বাকি বোতামের সাথে লাগোয়া চুল গুলো নিয়ে ফেলে।

তিথি কাটা চুল গুলো স্পর্শ করে ঠোঁট ফুলাতে থাকে রাগে তার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। ধপাস করে ডাইনিং টেবিলে চেয়ার টেনে বসে পড়ে। প্লেটে ডিম পাউরুটি নিয়ে কাঁটা চামচ দিয়ে জোরে জোরে আওয়াজ করতে থাকে।

ডাইনিং টেবিলে বসারত সবাই তিথির নাকলাল হয়ে যাওয়া চেহারা দেখে একটা শুকনো ঢোক গিলে। তিথি সবসময় রাগ করে না কিন্তু যখন রেগে যাই তার নাক টকটকে লাল হয়ে যাই।

সুফিয়া খান তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতে থাকে

– রাগ করিস না মা খেয়ে নে জানিসই তো ও ওইরকম আর চুল না কাটলে যে ওর বোতাম চলে আসতো ও হয়তো জরুরি কোন কাজে যাচ্ছে।

কি... বললে তুমি সুফিয়া জরুরি কাজ?? তোমার ছেলের এমন কী জরুরি কাজ আছে শুনি! ইকবাল খান স্ত্রীকে ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন করলেন।

ও কী কোন কোম্পানিতে চাকরি করছে নাকি আমাদের কোম্পানির ব্যবস্থা কাজ নিজের কাঁধে নিয়েছে ?? কোনটা যে এতো তাড়াতাড়ি করে বাড়ি থেকে বের হতে হলো ওর ! তোমার ছেলের তো ওই একটাই কাজ সারাদিন সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে টইটই করে ঘুরে বেড়ানো আর মারামারি তো আছেই।

সুফিয়া খান স্বামীর দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন

– আহ্ কী বলছেন কী?? ছেলের নামে এমন কিছু বলতে বুক কাঁপছে না নাকী??

ইকবাল খান বিদ্রুপ হেসে বলে

– না কাঁপছে না আর হ্যাঁ ওইটা আমার ছেলে নয় ওইটা শুধু মাএ তোমার ছেলে।

তুর্য খান ভাইকে চুপ করে থাকতে বললেন

কিন্তু ইকবাল খান চুপ করে না থেকে আবার বলতে শুরু করলেন

– ওর মতো বিয়াদপ ছেলে আমি আর একটাও দেখি নাই।

সুফিয়া খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে

– ওহ্ তাহলে ওইটা আমার একার সন্তান আপনার না , বলে আঁচলে মুখ চেপে কাঁদতে কাঁদতে উপরে চলে গেলো।

ইকবাল খান কিছুক্ষণ থম মেরে বসে থেকে তিনিও চলে গেলেন উপরে।

তিথি আর স্নেহা তাদের কলেজ এর জন্য রওনা দেয় । ওরা দুজনেই বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করেই তিথির সু- জুতার ফিতার গিট খুলে যায়।তিথি বিরক্ত হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে ফিতার গিট মারতে থাকে কিছুদূর এ হঠাৎ করেই চোখ যায় যেখানে আদিত্য একটা টঙ্গের দোকানে চা খাচ্ছে তো আবার সিগারেট খাচ্ছে। তিথি ভেবে পায় না এই মানুষটা সিগারেট খায় কেমনে।

তিথি অপলক তাকিয়ে থাকে তার বখাটে আদিত্য ভাই এর দিকে

" কি সুন্দর লাগছে হালকা বাদামি ঠোঁট জোড়া ওই সিগারেট চেপে ধরে সিগারেট এর ধোঁয়া মুখে থেকে ফু দিয়ে বের করছে। ভাসা ভাসা ওই চোখগুলোর মধ্যেই হয়তো রয়েছে না বলা অনেক কথা।

"কিরে কী ভাবিস"?

দেরি হয়ে যাচ্ছে চল ।

স্নেহার ডাকে তিথির হুঁশ ফিরে সে উঠে দাড়িয়ে সামনে হাঁটতে থাকে তো আবার পিছনে ফিরে আদিত্যকে দেখছে। তিথির মন খারাপ হয়ে যাই কেননা আদিত্য হয়তো তাকে দেখেছিলো কিন্তু একবার এর জন্য তাকায় নি তার দিকে।

সকালেও একটা কথা বলে না তবে কী আদিত্য ভাই তিথির উপর রাগ করে আছে ??

তিথি বুক চেপে ধরে মনে মনে ভাবে

– কেন এখানে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আগে তো কখনো হয় নি। হঠাৎ আজ কেন হচ্ছে আদিত্য ভাই আমার সাথে কথা বলে নি তাই। কিন্তু আমি তো আদিত্য ভাইকে ঘৃণা ওনি খুব খারাপ খুব খারাপ।

তিথির চোখে অশ্রুরা ভির জমায় খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে কেন তার ?? বুকটাতে এতো কষ্ট কেন হচ্ছে আজ !

শেষ বারের মতো আবারো পিছনে ফিরে তাকায় এই আশায় যে আদিত্য ভাই একবার হলেও তাকে দেখবে কিন্তু না আদিত্য ভাই তিথির দিকে মোটেও ফিরে তাকায় নি।

–

আদিত্য সিগারেট এর শেষ ধোঁয়া বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে মুচকি মুচকি হাসে ।

সে জানে তার রেড চেরি তার দিকে এতক্ষণ তাকিয়ে ছিলো কিন্তু বোকাহরনী জানে না যে একদিন ও ওই মায়াবি মুখশ্রী না দেখলে এই বখাটে আদিত্যর দিন কাটে না নিজেকে কেমন

পাগল পাগল মনে হয় তার। এর ফাঁকে আদিত্যর বন্ধুরা সেই দোকানে চলে আসে। রুদ্র আদিত্যর পিঠে চাপড় মেরে বলে

– কিরে কি অবস্থা তোর বোকাহরনীর খবর কী?? বোকা মেয়েটাকে তোকে এখনো বুঝতে পেরেছে ??

আদিত্য চোখ লাল করে রুদ্রের দিকে তাকায় ওমনি রুদ্র চুপসে গিয়ে বলে

– ওহ্ সরি সরি ! ভাবি আমাদের ভাবি কেমন আছে??

আদিত্য রুদ্রের দিকে আঙ্গুল দিয়ে শাসিয়ে বলতে থাকে

– ফারদার ওকে বোকাহরনী বা অন্য কোন নামে ডাকবি না। এইটা নামটা ডাকার অধিকার শুধু আমার বুঝেছিল?

রুদ্র মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোঝায়। এইদিকে রাতুল জোরে জোরে হেসে বলতে থাকে

– আরে বা*ল ওই মেয়েটাকে যদি তুই কিছু বুঝতে না দিস ও বুঝবে কী করে?

আহ্ একটা কাজ ভালো হবে যদি তোর ফ্যামিলি রাজি না হয় তো আমি আছি। তিথিকে আমার ভীষণ ভালো লাগে ওই ফুলের মতো নিষ্পাপ মেয়েটাকে সারাদিন তুই ধমক আর থাপ্পড় মারিস। আমার কাছে আনলে যত্ন করে রেখে দিবো বলে হি হি করে হাসতে থাকে।

ঠাসসস...!!

তারপর সব নিস্তব্ধ সবাই চুপ করে আছে। আদিত্য রেগে বোম হয়ে রাতুল এর কলার চেপে ধরে বলতে থাকে

– ওর দিকে তুই আর চোখ তুলে তাকাবিনা হারা*মজাদা , ভুলেও তাকালে তোর ওই চোখ দুটি তুলে আমি মার্বেল গুটি খেলবো।

রাতুল ন্যাকা কান্নার ভান ধরে বলতে থাকে

– শা*লা হা*রামি বন্ধুকে মারতেও তোর হাত কাঁপে না। অভিশাপ দিলাম তোর বা*সর দেখবি বিয়ের ৫ বছর পরেও করতে পারবি না শা*লা।

আদিত্য বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে হঠাৎ করে তার চোখে পড়ে রাস্তায় কিছুদূর একটা ৮/৯ বছরের বাচ্চা ফুল বিক্রি করছে। উত্তপ্ত সূর্যের তাপে ছেলেটি ঘেমে একাকার। পায়ে কোন জুতা পড়া নেই যার কারণে রাস্তার গরম পা জোড়া উপরে নিচে করছে। একটা ব্যাক্তিও তার কাছ থেকে ফুল নিচ্ছে না।

আদিত্য উঠে দাঁড়িয়ে সেই ছেলেটির কাছে যায় এবং তাকে কোলে তুলে নিয়ে সেই টঙ্গের দোকানে নিয়ে এসে বসিয়ে দেয় ।

ছেলেটি ভীতো হয়ে জিজ্ঞাসা করে

– কি করছেন ভাইয়া আমাকে এখানে তুলে এনেছেন কেন???

আদিত্য একদৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করে

– তোর নাম কী বাচ্চা?

ছেলেটি জবাব দেয় – হাসান। আদিত্য এক বোতল পানি কিনে তাকে খেতে দেয়।

ছেলেটি পানি পেয়ে খুশি হয়ে যাই একনাগাড়ে সবটুকু পানি নিমিষেই খেয়ে ফেলে।

আদিত্য আবার জিজ্ঞাসা করে

– তোর বাবা-মা কোথায়?? তুই স্কুলে পড়িস না।

ছেলেটির মন কিছুটা খারাপ হয়ে যায় সে দুঃখভরা মন নিয়ে বলতে থাকে

– আমার বাবা মারা গেছে ছোটবেলায়। মা ক্যান্সার এর রোগী।

আমাদের টাকা না থাকায় আমি স্কুলে এ পড়তে পারি নাই আর মায়ের চিকিৎসা ও করতে পারি না।

ফুল বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে আমাদের দিন চলে যায়। আদিত্য চোখজোড়া বন্ধ করে ফেলে সে কিছু একটা ভেবে

– তোর সব ফুল আমাকে দে আমি কিনে নেবো। ছেলেটি মুহূর্তে খুশি হয়ে যাই। আদিত্য আবার বলে

– আমি যদি তোকে একটা কাজ দি তা কী তুই করবি??

ছেলেটি মাথা নাড়ায়। আদিত্য ছেলেটির কাছে এসে তার কপালে চুমু খেয়ে বলে

– তোকে আমি একটা দোকানের কাজে বসিয়ে দিবো আর তুই স্কুলেও পড়াশোনা করতে পারবি।

মায়ের জন্য একদমই চিন্তা করিস না আমি তোর মাকে একটা ভালো হসপিটালে ভর্তি করিয়ে দিবো ঠিক আছে।

ছেলেটি কি বলবে ভেবে পায় না সে খুশিতে আত্মহারা হয়ে কেঁদে উঠে। আদিত্য

ছেলেটির চোখের পানি মুছে দেয়। ইরফান এর উদ্দেশ্য বলে

– আমাদের ব্যবসার মধ্যে ওকে একটা কাজে ঢুকিয়ে দিবি ঠিক আছে আমি আব্বুকে বলে দিবো আর অর্জুন তুই ওর মায়ের চিকিৎসা জন্য

চিটাগাং হসপিটাল এ এডমিট করিয়ে দিবি যত টাকা লাগে লাগুক আমি জোগাড় করে দিবো।

হাসান এর দিকে তাকিয়ে স্নেহাভরা দৃষ্টিতে বলে

– তোকে আমি কালকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবো ঠিক আছে কালকে এখানে চলে আসবি। তারপর পকেট থেকে একহাজার টাকার দুইটা নোট নিয়ে হাসান এর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে

– যা আজকে ভালোমন্দ সব কিছু কিনে বাড়িতে নিয়ে যাবি। মনে রাখবি তোর কাছে কেউ না থাকলে তোর এই বড় ভাই আদিত্য সবসময় থাকবে।

হাসান জোরে কান্না করতে করতে আদিত্যকে জরিয়ে ধরে বলে

– তুমি খুব ভালো ভাইয়া খুব ভালো দেখবে সৃষ্টিকর্তা তোমার খুব ভালো করবে।

আদিত্য জোরে হেসে ফেলে সাথে সাথে বাকি সবার মুখে হাসি ফুটে উঠে।

চায়ের দোকানের মালিক ও হেসে মনে মনে ভাবে

– সবাই বলে এই ছেলে বখাটে, মাস্তান কিন্তু তার মন যে কতো বড়ো তা কেউ দেখে না। আদিত্য কে আমি সেই ছোটবেলা থেকে দেখছি হায় রে এই ছেলে যে হঠাৎ করে এমন বখাটে হয়ে গেলো কেন জানি না , উপরওয়ালা তোর ভালো করুক।

একজোড়া চোখ অপলক তাকিয়ে ছিলো আদিত্যর দিকে। আদিত্যর কাজে সে বারবার মুগ্ধ হয় এই জেনারেশন এ এমন মানুষো হয়। আদিত্যর সামনে আরমিণ চলে আসে। আদিত্য আরমিণকে দেখে বলতে থাকে

– ওহ্ তুমি ভালো আছো?? তোমাকে আর কেউ বিরক্ত করে না তো !

আরমিণ এমন মনোমুগ্ধকর আওয়াজ হয়তো এই প্রথমবার শুনেছে আহ্ কী মধুর শব্দ। আরমিণ মুচকি হেসে বলতে থাকে

– আপনি থাকতে আমাকে আর কেউ বিরক্ত করার সাহস পাবে না। আদিত্য আমি প্রতিবার মুগ্ধ হয় আপনার কাজে। এতো ভালো মানুষ ও কী হয় এখন! সত্যি আপনাকে যে দেখবে সে প্রেমে পড়তে বাধ্য।

আদিত্য উদাসীন ভরা মুখে আরমিণ এর উদ্দেশ্য বলে

– উঁহু আমি ভালো মানুষ না তুমি হয়তো জানো না আমাকে এখানে সবাই বখাটে, মাস্তান বলে। আমাদের দায়িত্ব যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের সেবা করা এতে ভালো মানুষ বা প্রেমে পড়ার কোন কারণ নেই। তা তুমি কোথায় যাচ্ছো ?

আরমিণ উত্তরে বলে

– চুয়েট কলেজ এ যাই আমি ওইখানে পড়ি। আচ্ছা তাহলে আজকের জন্য আসি হয়তো নিয়তির আমাদের বারবার দেখা করাবে। উত্তরে আদিত্য কিছু বলে না শুধু মাথা নাড়ায়।

–––

লেডি কিলার রোমিং পাক্কা প্লে বয় রোমিও হো গানের তালে তালে নাচতে নাচতে সিঁড়ি বেয়ে রেদোয়ান নিচে নামছিল ও তখন তুর্য খান ছেলেকে ডাক দেন। তুর্য বাবার ডাকে ভেজায় বিরক্ত হয়ে বাবার কাছে আসে। তুর্য খান ছেলেকে ইশারা করে সোফায় বসতে বলে। রেদোয়ান সোফায় বসে জিজ্ঞাসা করে

" কী হয়েছে"?

তুর্য খান ছেলের উদ্দেশ্য বলেন

– বয়স তো তোমার কম হলো না তাই আমরা তোমার বিয়ের কথা ভাবছি কিন্তু...

রেদোয়ান বিয়ের কথা শুনে একটু চমকে উঠলেও বলে " কিন্তু কী"??

তুর্য খান নিঃশ্বাস ছেড়ে বলতে থাকেন

" তোমাকে আমরা একটা কথা বলি নাই এতদিন তুমি তখন অনেক ছোট ছিলে আমার এক বন্ধুর মেয়ে সাথে আমরা তোমাদের বিয়ে দিয়েছিলাম"।

রেদোয়ান সোফা থেকে লাফ দিয়ে উঠে দাড়িয়ে চিৎকার করে বলে

– কী ???? আমি বিবাহিত। তোমরা এতো দিন আমাকে বলো নি কেন?? কে সে মেয়ে!

তুর্য খান ছেলেকে শান্ত হতে বলে

–তাহামিনা ওর সাথে তুমি ছোটবেলায় অনেক খেলাধুলা করেছো মনে করো। হয়তো বিয়ের দিনটা তোমার মনে নাই। দুঃখের কথা হচ্ছে তোমাদের বিয়ের কয়েকমাস পরে আমার বন্ধু আর তার স্ত্রীর দুর্ঘটনায় মারা যাই। তাহামিনা এখন তার চাচা চাচির সাথে থাকে।

তো আমি চাচ্ছিলাম খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের আবার বিয়ে দিয়ে আমার বউ মাকে ঘরে তুলতে।

রেদোয়ান এর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা

– আব্বু ওই কাইল্লা মুটকি আমার বউ। ওকে ছোটবেলায় দেখতে যা লাগতো জানি না এখন কেমন দেখতে?

জুঁই খান ছেলের দিকে তেড়ে এসে বলে

– এইসব কী ভাষা রেদোয়ান ওর গায়ের রং দিয়ে তুমি ওকে মানুষ পরিক্ষা করো। তাহামিনা মন থেকে অনেক ভালো একটা মেয়ে হ্যাঁ হয়তো ওর গায়ের রং একটু চাপা তাই বলে ও কালো নয় ।

রেদোয়ান বাবা - মার উদ্দেশ্য বলতে থাকে

– আমি এই বিয়ে মানি না আর না আমি কোন বিয়ে করবো। আমি তাহা মিনাকে কিছুতেই বউ হিসেবে মানবো না।

তুর্য খান গর্জে উঠে বলেন

– তা বললে হবে না তোমার বিয়ে করতে হবে মানেই হবে। আমি আগামী সপ্তাহে তোমাদের বিয়ের আয়োজন শুরু করবো। তাহামিনা তোমার বৈধ স্ত্রী তাকে তুমি কিছুতেই অস্বীকার করতে পারো না।

তুর্য খান জুঁই খানের উদ্দেশ্য বলতে থাকে

– বাড়িতে সবাইকে এই বিষয়ে জানিয়ে দাও আগামী সপ্তাহে থেকে বিয়ের আয়োজন শুরু করো।

রেদোয়ান রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে উঠে কিন্তু সে নিরুপায় সে কী করবে ভেবে পায় না।

————

প্রায় দুইদিন যাবৎ ধরে আদিত্য তিথিকে ইগনোর করে চলেছে। তিথি সাথে কথা তো দূর চোখ তুলেও তাকায় না পাশ কাটিয়ে চলে যাই। তিথি মনে মনে ভাবে

কেন আদিত্য ভাই তার সাথে এমন করছে ওই দিনের কথা গুলোর জন্য।

তিথির খুব কান্না পাচ্ছে খুব সে কাউকে বলে বোঝাতে পারছে না তার কেমন লাগছে। ধম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার অবস্থা তার । কেন হচ্ছে এমন বুকে তীব্র যন্ত্রনা, কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে ব্যাথায়। তিথি মুখ চেপে কান্না করতে থাকে বালিশে মুখ গুজে কেন তার সাথে এমন হচ্ছে। হঠাৎ সে খেয়াল করে লুসি নেই । চোখ মুছে লুসিকে চারিদিকে খুঁজতে থাকে।

লুসি আবারো আদিত্যর রুমে ঢুকে পড়ে । আদিত্য লুসিকে দেখে নাক সিঁটকায় এবং বলে

– এই বিয়াদপ বেডির বেয়াদব বিড়াল। এখানে কী যা তোর মালিকের কাছে। একদম কাছে ঘেষবি না যেমন মালিক তেমন তার ছানাপোনা।

তিথি লুসিকে খোঁজতে খোঁজতে আদিত্যর রুমে চলে আসে।

আদিত্য তিথির দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে তিথি কান্না করেছে তার চোখ মুখ লাল হয়ে ফুলে আছে। আদিত্যর হ্নদপিন্ড খুব ব্যাথা অনুভূত হতে থাকে। আদিত্য জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করে আবার খুলে ফেলে বলে

– "তোর বিয়াদপ বিড়ালকে নিয়ে যা এখান থেকে"।

টানা দুইদিন পর এই গম্ভীর আওয়াজ শুনতে পেয়েছে তিথি। তার খুব কান্না আসছে কিন্তু সে ঠোঁট চেপে ধরে কান্না আটকিয়ে রাখছে। তাও সে আদিত্য কে জবাব দেয়

– ওর নাম লুসি ওকে বিয়াদপ বিড়াল বলে ডাকবেন না একদম বলে দিলাম।

আদিত্য বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দরজা থেকে তিথিকে ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা লক করে দেয় এবং দরজায় তিথি কে চেপে ধরে বলে

– ডাকবো একশো বার কী করবি ??

তিথি চুপ করে রয়েছে তার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। আদিত্য তার এতো কাছে রয়েছে যে আদিত্যর

শরীর থেকে মন মাতানো সেই Dunhill Desire Blue পারফিউম এর সুবাস এতোটা মধুর যে তিথির ইচ্ছে করছে আদিত্যর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই সুবাসটা আরো কাছে থেকে অনুভব করতে।

আদিত্য তিথির আরো কাছে চলে আসে এখন শুধুমাএ কিছু দূরত্ব আরেকটু কাছে আসলে হয়তো আদিত্যর ঠোঁটের সাথে তিথির ঠোঁট স্পর্শ পাবে।

আদিত্য তিথির কোমড় পেঁচিয়ে আরো কাছে নিয়ে আসে। হঠাৎ আরো কাছে আশার কারণে আরেকটুর জন্য ঠোঁটে ঠোঁট মিলিত হয় নি। দুজনের গরম নিঃশ্বাস দুজনের মুখবয়ে পড়ছে। আদিত্য এইবার তিথির কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করে

– চোখ মুখ এমন লাল বানিয়েছিস কেন বল তো ?? কিসের জন্য কান্না করেছিলি!

তিথি একটু ভড়কে যায় সে এইবার মুচরামুচরি করতে থাকে । আদিত্য বিরক্ত হয় তিথির ঠোঁট আঙ্গুল চেপে ধরে বলে

–হুশ এইভাবে করছিস কেন?? বল কেন কান্না করেছিস।

তিথি সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যা বলে দেয়

–কই..আ...আমি কান্না করি নি তো।

আদিত্য তিথি দিকে নেশা ভরা চোখে বলে

– মিথ্যা বলিস! আমার সাথে মিথ্যা বলিস বলে জোরে ছেড়ে দেয় এবং সে আবার বিছানায় কর্নারে বসে পড়ে।

এই আদিত্যর তোকে পুরো পরার ক্ষমতা রাখে। আমার সাথে ফারদার আর কখনো মিথ্যা বলার চেষ্টা করবি না।

তিথির এইবার সাহস নিয়ে বলে ফেলে

– আদিত্য ভাই আমি দুঃখিত ওই দিনের কথার জন্য। আপনি কী এখনো আমার উপর রাগ করে আছেন??

আদিত্য ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করূ

– রাগ ! সিরিয়াসলি তুই কে হোস যে আমার, তোর সাথে রাগ করতে হবে।মাহাদি খান আদিত্য যার তার সাথে রাগ করে না ।

কথাটা ঠিক তিথির বুকে বেঁধে যায় সে ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে

– তাহলে এতদিন ইগনোর করছিলেন কেন ?? একটিবার ও কথা বলেন নি!

আদিত্য এইবার স্ট্রিক তিথিকে জবাব দেয়

" তুই আমার বা*লের কোন ক্ষ্যাতের মুলা যে তোর সাথে আমার প্রতিদিন কথা বলতে হবে আর আমি তো খারাপ তাই না। ঘৃণার যোগ্য ভীষণ খারাপ আমি।

আমি কারো সাথে কথা বললেই বা কী আর না বলেই বা কী !

শা*লার জিনদেগি কেউ আমাকে পছন্দ করে না । আদিত্য কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে

–"কদর আর কবর ম*রার পরেই পাওয়া যায়"😅

আমি এখন কদর পাবো না কিন্তু মরার পরে ঠিকিই আমাকে মানুষ কদর করবে।

আদিত্যর মুখে ম*রার কথা শুনে তিথি আর না পেরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে

– আদিত্য ভাই.....

— হুমমম

তিথি কিছুতেই তার কান্না থামাতে পারছে না সে আবার বলে উঠে

– সরি আমি কখনো আর এমন কথা বলবো না। আপনি আর মরার কথা বলিয়েন না বলে ফুপাতে থাকে।

আদিত্য তাকিয়ে রয়েছে কান্নারত মেয়েটার দিকে এই যে মেয়েটা কাঁদছে সে কি জানে তার কান্না কারো হৃদয় দোলপাল চলছে ।

কান্না করতে করতে যে চোখ মুখ লাল করে ফেলছে তাকে দেখতে একদম রেড চেরির মতো লাগছে। আদিত্য মন অজানা বায়না ধরছে মেয়েটাকে বুকের কাছে এনে পিষে ফেলতে ইচ্ছে করছে।

আদিত্য তিথিকে বলতে থাকে

– কেন কান্না করছিস আমি মরার কথা বলেছি বলে?

তিথি মাথা দোলায় অর্থাৎ "হ্যাঁ"

আদিত্য উদাসীন ভরা শ্বাস ফেলে তিথির কাছে এসে তার কোমড় আবারো আঁকড়ে ধরে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে

– কেন বুঝিস না আমায় তুই?? কবে বুঝবি??

তিথি আদিত্যর শার্টে নাকের পানি মুছে নাক টেনে টেনে বলতে থাকে

– সবসময় বলেন কেন কবে বুঝবি আমায়??

আদিত্য তিথির বাচ্চামো দেখে বলে

– যেদিন এই আদিত্যকে পুরোটা পড়তে পারবি সেদিন ঠিক আমায় বুঝে যাবি পাগলি!

তিথি নাকোচ করে বলে

– মোটেও না আমিতো আপনাকে বুঝি।

আদিত্য ঠোঁট কামড়ে মুচকি হেসে বলে

–তাইইই!

‍তিথি মাথা নাড়ে।

লুসি অনেক চেষ্টা করছে আদিত্যর কোলে উঠার জন্য কিন্তু কিছুতেই পারছে না। আদিত্য পায়ের কাছে এসে আদিত্যকে স্পর্শ করতে থাকে। আদিত্য তিথি কে ছেড়ে দেয়।

তিথি আদিত্যকে আদুরে গলায় বলতে থাকে

– লুসি কে একটু কোলে তুলে নেন না আদিত্য ভাই। ও আপনার কোলে উঠার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে।

আদিত্য লুসির দিকে তাকিয়ে নাক মুখ কুঁচকে ফেলে

– পারবো না নিয়ে যা তোর বিয়াদপ বিড়ালকে আমার কাছে একদম ঘেঁষতে বলবি না নাহলে। ওকে আর তোকে ওইদিন এর মতো জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসবো। নিয়ে যা এই বিয়াদপ বিড়ালটিকে আমার আশেপাশেও যেন না দেখি।

তিথি লুসি কে কোলে তুলে নিয়ে দরজার বাইরে গিয়ে আবার পেছনে ফিরে বলে

– ও আসবে একশোবার আপনার কাছে দেখি কে আটকায় বলে আদিত্যকে মুখ বেঁকিয়ে চলে যাই।

আদিত্য ওর যাওয়ার পানে অবাক হয়ে তাকিয়ে রয় " একদিনে এতো সাহস বেড়ে গেছে মেয়েটার" । একটু আদুরে গলায় কথা বললে দেখি মাথায় চড়ে বসবে।

মুচকি মুচকি হেসে শিশ বাজাতে বাজাতে বিছানায় ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়ে তার কাজ করতে থাকে।

–

রাত তখন বারোটা ~

মধুর মোবাইল কল আসে মধু তখন সব কাজ ও পড়ালেখা সেরে মাএই ঘুমাতে যাবে। এইসময় কে কল করবে মধু ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে অপরিচিত নাম্বার তাই কেটে দেয়।

কিন্তু সেই নাম্বারটি থেকে বারবার কল আসছে মধু একপ্রকার বিরক্ত হয়ে কল রিসিভ করে ।

"হ্যালো কে বলছেন"?

কিন্তু ওপাশ থেকে কোন উত্তর আসে না মধু আবার বলে

"কে বলছেন। বার বার কল দিয়ে কথা বলছেন না কেন"

এইবার ও ওপাশ থেকে কোন কথা আসে না। বিরক্ত হয়ে মধু কল কেটে দেয় কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার সেই একই নাম্বার থেকে কল আসে।

মধু এইবার ভীষণ রেগে গিয়ে কল ধরে বলে

– ওই কু*ত্তার বা*চ্চা কে তুই?? এইভাবে চুপ করে আছিস কেন!! মুখে কী কুলু এঁটে বসে আছিস!

তখন ওপাশ থেকে কেউ গান গাইতে শুরু করে

ওগো মধু , ওও মধু I love you, I love you

এঁকে তো কথা বলছে না আবার এই গান। মধু হয়তো বুঝে গেছে এইটা কে হতে পারে তাই সে রাগান্বিত কন্ঠে বলে

– হারাম*জাদা রাত বিরাতে কোন কু*ত্তায় তোরে লাড়া দিছে যে এইভাবে একটা মেয়েকে বিরক্ত করিস তোর বাঁশবাগানে আগুন লাগিয়ে দিবো হারাম*জাদা

বলে কল কেটে দেয় দিয়ে সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে রাগে তার মাথার ফেটে যাচ্ছে।

চলবে ~

( কি লিখছি জানি না হয়তো আপনাদের মন মতো লিখতে পারি নাই দেশের যা পরিস্থিতি মন মেজাজ কিছুই ভালো নাই সবাই আশির্বাদ/ দোয়া করবেন।

আদিত্যর কাজটা কেমন লাগলো জানাবেন।

আদিত্য আর তিথিকে কেমন লাগলো আপনাদের জানাবেন কিন্তু 🙃🤭)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন