#বখাটে_আদিত্য
#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী
পর্ব:১২
চট্টগ্রামের ভোরটা যেনো স্নিগ্ধতার রঙে রঙিন পাহাড়ের কোলে লাজুক কুয়াশা,
সমুদ্রের বুক থেকে ভেসে আসে লবণ মাখা হাওয়া। শঙ্খনদীর ধারে পাখিরা গায় নতুন দিনের গান, সূর্যের প্রথম আলো ছুঁয়ে দেয় সবুজের ঘুমন্ত চাদর। নতুন ভোর নতুন কিছুর আগমনে একটি নতুন প্রভাত।
——
ঘুঙ্গুর এর ঝনঝন শব্দে পুরো খান বাড়ির ছাদে মধুর কম্পন সৃষ্টি করেছে । এই শ,ব্দ যেন কোন মন মাতাতো ছন্দ, আর কিছুদিন পর তিথি আর স্নেহার কলেজে ফেস্টিভ্যাল রয়েছে তারা এই অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করবে জোড়ায় তাই একটু আজকে নৃত্যর মুদ্রা চর্চা করছে। দুজনেই খুব ভালো নৃত্য করতে পারে।
" তা তই তই তা "
" ধি তা ধিতা "
তারা দুজনেই মুদ্রার শেষ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো, কপাল বেয়ে শরীরে ঘাম ঝড়তে লাগে।
পেছন থেকে হাততালি দিতে দিতে মধু তাদের সামনে এসে বলতে থাকে
– বাহ্ আপা বাহ্ খুব সুন্দর আপনাদের নৃত্য দেখতেই চোখ জুড়িয়ে গেলো আপা।
স্নেহা শ্বাস টেনে বলে
" তোকে ও একদিন সময় করে শেখাবো"
তিথির দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে চল তিথি এইবার আমাদের মূল নাচটা তুলে ফেলি আর বেশিদিন নেই কিন্তু! মধুর দিকে ফিরে বলে
– মধু সাউন্ড বক্স এ গান ছেড়ে দে তো । মধু ও মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বোঝায়।
তারা দুজনেই নিজেদের পজিসনে মুদ্রা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে এইদিকে মধু গান ছেড়ে দেয় শুরু হতে থাকে গান সাথে সাথে স্নেহা ও তিথি গানে তালে তালে নৃত্য করতে থাকে....
———
মন মোর মেঘের সঙ্গী
উড়ে চলে দিগ-দিগন্তের পানে
নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণ-বর্ষণ-সঙ্গীতে
রিমিঝিম রিমিঝিম রিমিঝিম
———
এরা তো নাচে মত্ত কিন্তু তারা জানে না তাদের দিকে দুই জোড়া চোখ অপলক দৃষ্টিতে তাকায় আছে। তাদের একজনের চোখে রয়েছে অপরিসীম ভালোবাসা তো আরেকজন এর চোখে রয়েছে তার প্রেয়সীকে কাছে পাওয়ার ব্যাকুলতা। কিন্তু তাদের দুজনের পছন্দ একজন তা হলো তিথি।
ছাদের দরজার কাছে পিঠ ঠেকিয়ে মুগ্ধ গভীর দৃষ্টিতে তার ফারুর নাচ দেখছে। তার চোখ জুড়া হয়তো সার্থক প্রিয় নারীর প্রিয় নৃত্য দেখার সুভাগ্য হয়তো কারোর হয় না। অন্যদিকে নিজের রুমের বেলকনিতে থেকে দাঁড়িয়ে আদিত্য এক ধ্যানে রেড চেরির নাচ দেখছে।
প্রায় অনেক বছর পর তার এই দৃশ্য চোখে মিললো। আদিত্য প্রায় অনেক বছর বাড়িতে ছিলো না তাই সে তিথির নাচ ও অনেক বছর দেখা হয় নি। মেয়েটা ছোট বেলা থেকে নৃত্যতে মত্ত ছিলো ।
তিথি যখন কোমড় দুলিয়ে দুলিয়ে নৃত্য করে চলে আদিত্যর হ্নদপিন্ডটা টগবগ করে ছুটে।
মাঝে মাঝে আদিত্যর খুব হিংসা হয়
" কেন দরকার সবার সামনে কোমড় দুলিয়ে নাচ করার, এমন দৃশ্য শুধু দেখার ভাগ্য আদিত্য ছাড়া আর কারোর হতে দিবে না! । আদিত্য হিংসায় বেলকনির গ্ৰিলটা শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করে
– করাচ্ছি তোর কলেজের নাচ ! পা ভেঙ্গে রেখে দিবো বজ্জাত বেডি। আমি ছাড়া অন্য কারোর সামনে তোর নাচ দেখার ভাগ্য হবে নারে আমার বোকাহরণী বলে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।
আদিত্য হাসির মধ্যে তার ডিম্পল দেখা যায় এখন যদি তিথি এই ডিম্পল দেখতো মনে মনে হয়তো আদিত্যকে চোখ দিয়ে গিলে খেতো ভাগ্যিস সে দেখে নি!
–
তিথি আর স্নেহা দাঁড়িয়ে ভীষণ ভাবে হাঁপাতে থাকে এইখানে শেষ তাদের চর্চা এখন আর পারবে না। তিথি বোতল থেকে এক চুমুক এ সব পানি খেয়ে ফেলে। হঠাৎ তার চোখ যায় আদিত্যর রুমের
ব্যালকনিতে, তার আদিত্য ভাই সিগারেট মুখে পুড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তিথি আদিত্য দিকে ভারাক্রান্ত মনে তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে ভাবে
– কেন আপনার একটা চাহনি আমার হৃদয় পুড়ে দেয় ?
স্নেহা তিথিকে জোরে চিমটি কেটে বলে
– বেডি কই হারিয়ে গেছিস??
তিথি মাথা নেড়ে না বুঝায় । মধু তাদের উদ্দেশ্য বলতে থাকে
– আপামনি চলেন এইবার আমরা আমাদের চিটাগাং এর গানে নাচতে থাকি অনেক হলো বোরিং গান এইবার হবে ঝাকানাকা লে লে লে......বলে মধু লাফাতে থাকে।
তিথি সাউন্ড বক্স এ একটি গান প্লে করে দিয়ে আদিত্যর দিকে তাকায় যেন এই গানের মাঝে বোঝাতে চাই তার সুপ্ত মনের কথাকলি -----
—" ন জানি হন বদ্দর তাবিজ দিলা রে ছোঁয়ায় ঘুম পাতাইল্লা উডিয়েরে তোয়ারে তোয়ায়"_____ ( জানি না কোন বৈদ্দর তাবিজ দিয়েছো ছুঁয়ে, ঘুম থেকে উঠে তোমাকে খুঁজে বেড়ায়)
তিথি নাচতে নাচতে আরেকবার আদিত্য দিকে তাকিয়ে গানের তালে মুখ নাড়তে নাড়তে বলতে থাকে
—"তুই মাঝে–মাঝে ওইন জ্বালায় দি লুকায় কাহায় গো "—( তুমি মাঝে মাঝে মনের আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে লুকিয়ে কোথায় থাকো)
—" এবয় অসর প্রেমের জ্বালা কনা কেনে সয় তুয়ই কনা কেনে সই, তুই কনা কেনে সয়"— ( এই অসয্য প্রেমের জ্বালা বলো না কেমনে সই, তুমি বলো না কেমনে সই, বলো না কেমনে সই)
–
মুগ্ধ এইবার জোরে জোরে হাসতে হাসতে ওদের দিকে সামনে এসে বলতে থাকে
– বাহ্ বাহ্ তোরা তো দেখছি একদম আমাদের চিটাগাং এর খাঁটি গান নিয়ে নাচছিস ভালো। এইভাবে এগিয়ে যাবি তোরা।
এইবার মুগ্ধ তিথির দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
– ফারু তুই খুব ভালো করে চর্চা কর তোর এই মুগ্ধ সবসময় তোর পাশে থাকবে ,সবসময় তোকে সবদিক থেকে রক্ষা করবে রে কথাটা বলে মুগ্ধ তিথির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বিরবির করে
"আর হয়তো একটা বছর তোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে ফারু তারপর শুধু মাএ তুই আমার। ছোট বেলা থেকেই তোকে আগলে রেখেছি আমার ফারু।
তোকে যে নিজের থেকে ও বেশি ভালোবাসি "আমার অমানিশা রাতের পূর্ণিমা তুই"!
তিথি খুশি মনে মুগ্ধের কথায় মাথা নাড়ায়। মুগ্ধ একটা অবাক কান্ড করে ফেলে সে একটু নিচু হয়ে তিথির গাল টেনে দিতে থাকে আদুরে ভাবে। তিথি মুগ্ধের এই কান্ডে ভীষণ অবাক হয়....!!
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা আদিত্য এই দৃশ্য দেখে জেলাসিতে জানালার গ্ৰিল এমনভাবে চেপে ধরছে যেন রেলিং ভেঙ্গে এখুনি পড়ে যাবে। আদিত্য চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে সে নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে পারছে না বলে সেখান থেকে সরে যায়। তিথি আরেকবার ফিরে তাকায় বেলকনিতে কিন্তু এইবার সে হতাশ হয় কারণ তখন সেখানে আদিত্য ছিলো না ।
———
খান মঞ্জিল এ আজকে অনেক মেহমান এসেছে বিয়ের রেদোয়ান এর বিয়ের পাকা কথা বলতে। তাহা মিনার বাবা- মা ছোট বেলায় মারা যাওয়ার কারণে তার কাকা - কাকি তাকে বড়ো করে তুলছে। কিন্তু তাহামিনার কাকি তাহামিনাকে একদম পছন্দ করে না যত তাড়াতাড়ি তাহামিনাকে বিদায় করতে পারবে তার তত শান্তি।
সোফায় বসে রয়েছে তাহামিনার কাকা কাকি আরো কিছু আত্মীয় স্বজন। আজ রেদোয়ান আর তাহামিনার বিয়ের ফাইনাল তারিখ ঠিক করবে। কিন্তু যার বিয়ে সে কোথায়?? ওই যে বলে না
– যার বিয়ে তার কোন হুশ নেই
পাড়া প্রতিবেশী চোখে ঘুম নেই।
রেদোয়ান তার রুমে বসে বসে একটা মেয়ের সাথে কল এ ফ্লাট করছে এবং সেক্সু*য়াল কথা বার্তা বলছে তখন পেছন থেকে তার মা জোরে ছেলেকে চিৎকার দিয়ে উঠে
-" রেদোয়ান"
রোদোয়ান বিরক্ত হয়ে চোখ মুখ কুঁচকে বিছানায় মোবাইলটি রেখে মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলে
" কী হয়েছে আম্মু এইভাবে চিল্লাচিল্লি করছো কেনো?"
জুঁই খান ছেলের ভাবছাড়া স্বভাব দেখে রেগে গিয়ে বলে
– " নিচে তোর বিয়ের কথা চলছে কিন্তু তুই এখানে কী করছিস! নিচে চলে তোর আব্বু ডাকছে তোকে"।
রেদোয়ান পিছন ফিরে সরাসরি বলে ফেলে
" আমি ওই কাইল্লা কে বিয়ে করবো না বলে দাও ওনাকে"
– ছিঃ রেদোয়ান কাইল্লা কাকে বলিস ! আর কালো হয়েছে এটা কী ওর দোষ সৃষ্টিকর্তা যাকে যেভাবে পৃথিবীতে পাঠান তাই বলে এটা ওর দোষ। মনে রাখিস ও কিন্তু তোর বিয়ে করা বউ!
রেদোয়ান আবার মায়ের দিকে ফিরে বলে
" বউ! কে বউ তখন কী আমি বউ বলতে কিছু বুঝতাম আম্মু! এটা তো ধরতে গেলে একটা ক্রাইম। রীতিমতো তোমরা আমাদের সাথে অন্যায় করেছো ।
আমি বিয়ে করতে পারবো না বলে দাও। আমি এতোটাও ভালো ছেলে নয় ওই মেয়েটাকে একটা ভালো ছেলের হাতে তুলে দিতে বলো।
জুঁই খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের একটা হাত তার মাথায় দিয়ে বলতে থাকে
– "বাবারে তোকে আমার কসম তুই এই বিয়েটা করবি" তুই জানিস না ওই মেয়েটা এতিম ওর কেউ নেই! ছোটবেলা থেকেই ও লাঞ্ছিত হয়ে বড়ো হয়েছে আর ও আমার ঘরের বউ হয়ে কী করে আর এইসব দেখি বল তো। বাবা - মারা কখনো ছেলের খারাপ চাই না ও তোর জন্য একদমই পারফেক্ট। একদম দেখবি তুই নিজেই এসে আমাকে বলবি
" তুই ওকে পেয়ে অনেক ভাগ্যবান হয়েছিস" দেখে নিস একদিন তুই এই কথা আমাকে বলবি।
রেদোয়ান মায়ের মাথা থেকে হাত নামিয়ে নিয়ে একটা শ্বাস টেনে বলতে থাকে
– ঠিক আছে আমি বিয়ে করবো কিন্তু এটা বলতে পারবো না তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারবো কিনা!। তোমাদের যা করার করো আমার আর কোন মানা নেই বলে রুম থেকে বেরিয়ে যাই।
সোফায় বসারতো তুর্য খান, ইকবাল খান ও রিপন খান বিয়ের পাকাপাকি করে ফেলে আগামী সপ্তাহে শুক্রবার বিয়ের তারিখ রাখা হয় এবং ঠিক দুইদিন পর রেদোয়ান আর তাহামিনার এনগেজমেন্ট তারিখ ঠিক করা হয়।
সবাই মিষ্টি মুখ করে এক অপরের সাথে আলিঙ্গন করে।
স্নেহা, তিথি,মধু, কুদ্দুস আর ছোট্ট আবরার খুশিতে নাচতে থাকে। বাড়িতে এতদিন পর একটা বিয়ে নামতে চলেছে।মুগ্ধ সেদিকে তাকিয়ে থেকে মুচকি মুচকি হাসছে থাকে যা সুফিয়া খান এর চোখ এড়ায় না। তিনি মনে মনে কিছু ভেবে তিথির দিকে তাকিয়ে মনটা খারাপ করে জোরে একটা নিঃশ্বাস ছাড়ে।
-
রেদোয়ান ছাদের কনারে দাঁড়িয়ে সিগারেট এর ধোঁয়া উড়াচ্ছে উদাস মনে। পেছন থেকে কারো হাতের ছোঁয়া পেয়ে ঘুরে পেছনে তাকিয়ে দেখে আদিত্য পকেটে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে ।
রেদোয়ান আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
" কিছু বলবি?"
আদিত্য ভাইয়ের পাশে এসে দাঁড়াই সেও আকাশে পানে তাকিয়ে বলে
– " ভাইয়া ভুলে যাও কালোস্মৃতি নতুন করে গড়ে তোলো ভবিষ্যতে খানি। আর কতদিন এইভাবে মেয়েদের নিয়ে মজা ফুর্তি করবে এটা যে অন্যায়।
রেদোয়ান কিছুটা হেসে আদিত্য দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে
– কী করে ভুলবো ওই কুত্তা*র বাচ্চাকে যে আমার জীবনের সব রঙ উড়িয়ে নিয়ে গেছে। সে আমার প্রথম ভালোবাসা ছিলো কেমন বাজেভাবেই না ঠকালো আমাকে নিজের শরীরের কুর*কুরানি মেটাতে।
তাই এখন আর কাউকে ভালোবাসতে ইচ্ছা বা শক্তি কিছুই ভালো লাগে না।
আদিত্য ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে বলতে থাকে ,
"তুমি বিয়ে টা করে ফেলো ভাইয়া বাকি সবাইকে কষ্ট দিও না আর এটা তোমার কর্তব্য ও তোমার বিয়ে করা বউ। তুমি কিছুতেই পিছু পা হতে পারবে না।
মুগ্ধ কিছুটা হেসে মাথা নাড়িয়ে বলে
– ওইদিকের খবর কী সফল হতে পেরেছিস কী??
আদিত্য পকেটে হাত গুজে ডেবিল মার্কা হাসি দিয়ে বলে
– শিকারি জালে পা দিতে বাধ্য হবে ভাইয়া ও যে আমার অনেক দিনের শিকার ছিলো ভাইয়া।
রেদোয়ান আদিত্য কাঁধে হাত রেখে বলে
" আর কতোদিন লুকিয়ে রাখবি তোর কিছু হলে ভেবে দেখেছিস সবার অবস্থা কেমন হবে! আর তো তিথির কথাটাও তো তোর ভাবতে হবে!
আদিত্য রেদোয়ানের হাতে হাত রেখে বলে,
" সময় হোক ভাইয়া ঠিক সময় আসলে সবাই ঠিক জানতে পারবে আর রইলো তিথির কথা । আদিত্য কিছুটা থেকে বিদ্রুপ হাসি হেসে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বলে " ওকে আমি ছাড়াও দেখার জন্য অনেকেই রয়েছে তাই না"
রেদোয়ান বুঝতে পারে তার ছোট্ট ভাইয়ের কথা আদিত্যর পিঠে চাপড় মারতে মারতে ভরসায় দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। আদিত্য আকাশের পানে তাকিয়ে উদাসীন মনে বলতে থাকে
– সবাই বুঝে আমায় শুধু তুই ছাড়া
এই চোখে কী তুই দেখিস না হাজারো না বলা কথা, আর কতো বড়ো হলে বুঝবি তুই আমায়! যেদিন আমি থাকবো না ওইদিন!!
——
সন্ধ্যার আকাশ নিস্তব্ধ, নির্জন একটি রাত চারিদিকে ঘনো অন্ধকার নেমে আসছে ধরণীতে দেখে মনে হয় চারিদিকে অম্যবসায় ডেকে রেখেছে চাঁদকে।
ইকবাল খান টিভিতে নিউজ দেখছে এখন প্রায় একটাই নিউজ চলছে চট্টগ্রাম এর মেয়েদের নিখোঁজ ও নিমম ভাবে খু*ন। যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কেসের অধীন মেজর ভিরেক্স। হ্যাঁ মেজর ভিরেক্স যার নাম শুনলে পুরো চট্টগ্রাম এর ক্রিমিনালরা ক্ষেপে উঠে।
তিনি একজন সাহসী সৈনিক। আজ পর্যন্ত একটা মিশনেও তিনি হার মানেনি। ইকবাল খান একটা হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে বলতে থাকে
" কোন ভাগ্যবান এর ছেলে তুমি আমি জানি না কিন্তু তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে , অসহায় নারীদের তুমি ঠিক বাঁচাতে পারবে। তুমি আমাদের গর্ব মেজর ভিরেক্স-
ঠিক তখনই সিড়ি বেয়ে বম্বে জ্যাকেট পরিহিত আদিত্য নামছে তাকে দেখে ইকবাল খান জিজ্ঞাসা করে
"কোথায় যাচ্ছো তুমি? "
আদিত্য বাবার দিকে তাকিয়ে বলে
– আজকে অনেক বড় একটা রেস আছে ওইখানে যাচ্ছি।
ইকবাল খান হতাশাগ্ৰাস্ত হয়ে বলে
" পারো তো শুধু ওইটাই " ছেলের দিকে আবার তাকিয়ে বলে" সাবধানে গাড়ি চালাবে"
আদিত্য কিছুটা মুচকি হেসে মাথা নাড়ায়।
পেছন থেকে ছুটতে আশা তিথি আর স্নেহা শুনে ফেলে। তিথির অনেক শখ কার রেসিং দেখা সে কখনো এইসব দেখে নি। আজ খুব ইচ্ছে করছে আদিত্যর ভাইয়ের কার রেসিং দেখা কিন্তু ও জানে হাজারবার বললেও আদিত্য ভাই তাকে সাথে করে নেবে না।
তিথি স্নেহা কে বলতে থাকে
" আমার নাম ইচ্ছে করছে কার রেসিং দেখার কিন্তু ভাইয়া তো নেবে না
স্নেহা তিথির কথায় সাঁই জানিয়ে বলে
" হ্যাঁ রে আমারো ইচ্ছা কিন্তু আমরা এখন কী ভাবে যাবো ?? "
তিথি নখ কামড়ে কিছুক্ষণ ভাবতে থাকে হঠাৎ তার মাথায় একজন এর নাম আসলো
" স্নেহা মুগ্ধ ভাই, আমরা যদি ওনাকে বলি তাহলে হয়তো আমাদের নিয়ে যাবে ওইখানে।
স্নেহা তিথির কথায় খুশি হয়ে বলে
হ্যাঁ একমাত্র মুগ্ধ ভাইয়া আমাদের নিয়ে যেতে পারবে । দাঁড়া একটা কাজ করি ভাইয়াকে একটা কল দিয়ে আসতে বলি।
-
কিছুক্ষণ পর মুগ্ধ তাদের বাড়িতে এসে পড়ে।বেলা খান কে জিজ্ঞাসা করে
– ছোট মামী স্নেহা তিথি কোথায়? ওরা আমায় জরুরি তলব দিলো কেন আসার জন্য?
বেলা খান কাজ করতে করতে বলে
" উপরে আছে হয়তো গিয়ে দেখ আবার কী অকাজ করে বসে আছে"!
মুগ্ধ তিথি আর স্নেহার রুমে ঢুকে পড়ে। মুগ্ধ কে দেখে তিথি আর স্নেহা তাকে সবকিছু খুলে বলে। মুগ্ধ কিছুক্ষণ চুপ থেকে তাদের উদ্দেশ্য বলে
– ঠিক আছে নিয়ে যাব কিন্তু মামা-মামীদের কী বলবি? এতো রাতে তারা কী যেতে দিবে।
স্নেহা তখন বলে উঠে
– ভাইয়া এটা আপনার চিন্তা করার দরকার নাই।আমরা সামলিয়ে নিতে পারবো মা- বাবাদের।
" হুম বুঝলাম তাহলে রেডি হয়ে নে ৮ টা দিকে বেরিয়ে পড়বো"
তিথি আর স্নেহা খুশিতে নাচতে নাচতে রেডি হতে থাকে ।
রাত ঠিক ৭:৪০ ~
চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার তিথি আর স্নেহা তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পার্কিং এড়িয়ায়। মুগ্ধ গাড়ি বের করে তাদের উঠতে বলে। মুগ্ধ তিথিকে ইশারায় সামনে এসে বসতে বলে কিন্তু তিথি কিছুই বুঝে না। মুগ্ধ বিরক্ত হয়ে একেবারে বলে ফেলে
" তিথি তুই সামনে এসে বোস"
তিথি মুগ্ধের কথায় নাকোচ করে দিয়ে বলে
" না ভাইয়া আমি স্নেহার পাশেই বসবো "
মুগ্ধের আর কি করার সে হতাশার শ্বাস
ফেলে গাড়ি চালাতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তারা রেসিং এড়িয়ায় পৌঁছে যায়। চারদিকে দর্শকের ভিড়। চারিদিকে শুধু হইচই আর মনমাতানো গান এ চারিদিক আলোকিত হয়ে পড়েছে। তিথি, স্নেহা ও মুগ্ধ দর্শকের সাড়িতে এক লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তিথি পা উঁচু করে তার আদিত্য ভাইকে খুঁজে চলেছে কিন্তু তার দেখা পাচ্ছে না।
এইদিকে আদিত্যর কাছে ইরফান, রুদ্র, অর্জুন আর রাতুল এসে তাকে উৎসাহ দিচ্ছে। আদিত্য মুচকি হেসে পকেট থেকে তার ওয়ালেট বের করে তার প্রিয় নারীর ছবি দেখে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।
অর্জুন আদিত্যর দিকে ব্যঙ্গ করে বলে
" ও হো কী ভালুপাসা কী ভালুপাসা" !
সবার সোনা ময়না টিয়া আছে কিন্তু আমার একটা কাউয়া পর্যন্ত নাই
অর্জুনের কথায় সবাই ফিক করে হেসে উঠে। রাস্তার চারদিকে বড় বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে রেসারদের তৈরি হতে। আদিত্য তার পছন্দের গাড়ি নিয়ে রেসিং এড়িয়ায় চলে যাই।
এইদিকে তিথি এতক্ষনে তার আদিত্য ভাইকে নজরে এলো। স্নেহা আর তিথি খুশিতে সেদিকে তাকিয়ে আছে আর তিথির দিকে বিমোহিত হয়ে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ। রেস শুরু করার জন্য সবাইকে তৈরি হতে বলে সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুত হয় পর্দায় দেখানো হয় সব রেসার এর পজিসন। একটি মেয়ে একটা লাল পতাকা নিয়ে এসে বলতে থাকে
3....
2.....
1...
and Go....
বলার সাথে সাথে একটি একটি গাড়ি স্পীড বাড়িয়ে দৃষ্টির সীমানায় চলে যেতে থাকে। এইবার পর্দায় তাদের গাড়ির রেস দেখানো হয়। এক জনের সাথে এক জনের খুব ভয়াবহ টক্কর হতে থাকে।
কিন্তু হঠাৎ করে একজন রেসার রুলস ভেঙ্গে আদিত্যর গাড়িটিকে এমন ভাবে ধাক্কা দেয় আদিত্য কিছু বুঝে উঠার আগেই সে ব্যালেন্স হারিয়ে একটা লোহার দন্ডের সাথে তার গাড়ির ধাক্কা লাগে জোরে।
হঠাৎ করে সবার জোরে জোরে চিল্লাচিল্লি বন্ধ হয়ে যাই কিছুক্ষণ এর জন্য সবাই হতবাক।
তিথি জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে আদিত্য ভাই বলে। স্নেহাও ভাইয়ের জন্য এইবার চিন্তা করতে থাকে।
আদিত্যর মাথায় ভীষণ আঘাত পেয়েছে তাই সে কিছুক্ষণ মাথা চেপে ধরে অপেক্ষা করে তারপর একটা ডেভিল হাসি দিয়ে আবার গাড়ি চালাতে থাকে।
এইদিকে তিথি ছটফট করতে থাকে তার চোখ দিয়ে আপনা আপনিই জল বেয়ে পড়ে। তিথি স্নেহার হাত জোরে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে বলে
" স্নেহা আদিত্য ভাই ব্যাথা পেয়েছে ওই ছেলেগুলো ওনার গাড়িকে এভাবে ধাক্কা দিচ্ছে কেন? যদি কিছু অঘটন ঘটে যাই তবে"
এইদিকে আদিত্য আবার সেই ছেলেগুলো বরাবর চলে আসে। দুইদিক থেকে দুইটা গাড়ি আদিত্যর গাড়িটিকে ভীষণ ভাবে আঘাত করে। এতে করে আদিত্যর গাড়ির স্পিড কমে যাচ্ছে ও পিছনে পড়ে যাচ্ছে।
আদিত্য তবুও হার মানে না হাই স্পিড করে গাড়ি আরো জোরে চালাতে থাকে।
এইবার আরেকটি গাড়ি পেছন থেকে আদিত্যর গাড়িটিকে ধাক্কা দিতে থাকে আর পাশে দুইটা গাড়ি ও । এখন আদিত্য খুব বাজেভাবে ভেসে যাই। সবার হইচই বন্ধ হয়ে যাই তাদের আইডল আদিত্যর এমন অবস্থা দেখে।
আদিত্য খুব জোরে জোরে হেসে বলে
" তোরা কী ভেবেছিলি এই আদিত্যকে এইভাবে ঠেকাবি "
আদিত্য গাড়ির স্পিড আরো বাড়িয়ে দিয়ে যেই না একটা জোরে টান দিলো ওমনি ওই তিনটি গাড়ি একে অপরের সাথে ধাক্কা লেগে বিধ্বস্ত হয়ে যাই। আদিত্য লাল ফিতার দিকে একটানে বিয়ারিং ঘুরিয়ে লাল ফিতা পার করে ফেলে।
সবাই জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠে। আদিত্য জেতার আনন্দে সবাই উল্লাস করতে থাকে।
তিথির চোখ দিয়ে এখনো পানি পড়ছে। এইদিকে স্নেহা জোরে জোরে চিৎকার করে লাফাতে থাকে তার ভাই জিতে গেলো।
হঠাৎ করে এতো দর্শক এর ভিড়ে কারো ধাক্কার লাগার ফলে তিথি সেই স্থান থেকে রোডের কর্নারে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সে চিৎকার দিয়ে আদিত্য ভাইকে ডেকে উঠে।
আদিত্যর হঠাৎ করে পা থেকে যায় তার হ্নদপিন্ডটা জোরে জোরে লাফাচ্ছে থাকে বুকে খুব ব্যাথা অনুভূত হয়। সে পেছনে ফিরে দেখে তিথি রোডের কর্নারে পড়ে আছে কিন্তু সামনে থেকে একটি গাড়ি তার দিকে ধেয়ে আসছে।এইদিকে মুগ্ধ আর স্নেহা ভিড়ের মধ্যে তিথি কে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না।
আদিত্য জোরে জোরে দৌড়াতে থাকে, তিথি পায়ে ব্যাথা পাওয়ার কারণে দাঁড়াতে পারছে না ও জানেই না পিছনে তার দিকে একটি গাড়ি আসছে। গাড়িটা ঠিক তিথির গায়ে লাগতেই যাবে ওমনি আদিত্য তিথিকে বুকে টেনে অন্য পাশে ঘুরে দাঁড়িয়ে যাই- আদিত্য সেই গাড়ির চালকের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে
" মাদা*র বোড চোখ নাই অন্ধের মতো গাড়ি চালাস কেনো ??
তিথি ভয়ে আদিত্যকে আঁকড়ে ধরে আছে। আদিত্য জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে। কিছুসময় পর আদিত্য তিথিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে রাগে দিলো একটা থাপ্পড় জোরে। তিথি কিছু বলতে যাবে তখনই আরেকটা জোরে থাপ্পর মেরে দিলো।
এই থাপ্পড়টা এতোটাই জোড়ে ছিলো যে তিথির ঠোঁট থেকে চামড়া ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। স্নেহা তিথি কে আগলে নেয় বুকে।
আদিত্য রাগান্বিত হয়ে তাদের উদ্দেশ্য বলতে থাকে
" তোদের কে এখানে আনলো ?বল ! সাহস তো কম না তোরা এতো রাতে এখানে কী করে এলি।
আদিত্য স্নেহা থেকে তিথি কে বুক থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তার গালে আরো একটা থাপ্পড় মেরে দিলো। তিথি জোরে এইবার কান্না করতে লাগে। আদিত্য তিথির বাহু চেপে ধরে বলে
" মারি না, বকি না বলে সাহস এতো বেড়ে গেছে যে তোরা এখানে এতো রাতে চলে এলি। আজ আমি না থাকলে কি হতো বল! তিথি কে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে বলতে থাকে "বল তোর কী হতো আজ"।
তিথি নিশ্চুপ সে কিছু বলছে না তার শুধু মাএ ধ্যান আদিত্য কপালে। তার আদিত্য ভাইয়ের কপাল থেকে রক্ত পড়ছে অনবরত হয়তো খুব বেশি ব্যাথা পেয়েছে।
আদিত্য তিথির নিশ্চুপ থাকা আরো দ্বিগুন রাগ বাড়িতে দিচ্ছে তাই সে জোরে চিৎকার করে উঠে- এতে তিথি ভয়ে কাঁপতে থাকে তার পুরো শরীর। তার ঠোঁট থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ।
মুগ্ধ আদিত্য থেকে তিথি কে কেড়ে নিয়ে বলে
" ওদের আমি নিয়ে এসেছি আর তোর সাহস কী করে হলো ওকে থাপ্পড় মারার। তুই ওর এমন কেউ হোস না যে এমন অধিকার ফলাবি। ওর জীবন ওর সবকিছু ও যেখানে ইচ্ছে যেতে পারে সেখানে তোর
এইভাবে রেগে যাওয়া আমার কাছে টাইমলস ছাড়া কিছুই নয় বলে তিথি আর স্নেহা কে নিয়ে চলে যেতে থাকে। স্নেহা তিথিকে আগলে নিয়েছে তিথি পেছন ফিরে আদিত্য কে দেখতে থাকে।
আদিত্য হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তাদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। আদিত্যর কাছে তার বন্ধুরা এসে তাকে শান্ত হতে বলে।
————
গভীর রাত আদিত্য বাড়ির ভিতর ঢুকে সর্বপ্রথম চেক করে তিথি আর স্নেহা রুমে। আজকেও রুমে লক দেয় নি তাই সে আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে রুমে ঢুকে। আদিত্য তিথির দিকে তাকিয়ে থাকে হঠাৎ করে তিথি চোখের পাতা নাড়াতে নাড়াতে চোখ খুলে ফেলে। আদিত্য কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যাই চলে যেতে চাইলে তিথি আদিত্যর হাত ধরে ফেলে
"আদিত্য ভাই"
আদিত্য পিছনে ফিরে আবার একি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে বলে
" ঘুমোস নি?"
তিথি না বলে বিছানা থেকে উঠে বসে আদিত্য কে জিজ্ঞাসা করে
–আপনি কী খুব বেশি রেগে আছেন আমার উপর?
আদিত্য ছোট্ট করে জবাব দেয় " না "
তিথি আদিত্য হাত আঁকড়ে ধরে বলে
" আপনি আর কার রেসিং করিয়েন না প্লিজ!
আদিত্য তিথিকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে
– কেনো ?
– আজকে দেখছেন না আপনি ব্যাথা পেয়েছেন কীভাবে আপনি ওই ভয়ানক রেসিং করিয়েন না আদিত্য ভাই মুখ ফুলিয়ে তিথি বলে।
তিথি আদিত্য মাথার কেটে যাওয়া স্থানে হাত বুলিয়ে বলে
– বেশি ব্যাথা পেয়েছেন বুঝি?
– না!!
হঠাৎ করে তার চোখে যায় আদিত্যর বাম হাতের যেখানে সদ্য ব্যান্ডিস করানো তিথি মনে করার চেষ্টা করে কই না তো আদিত্য ভাইয়ের হাতে তো কিছু হয় নি তাহলে আঘাত পেলো কি করে।
সে জিজ্ঞাসা করে " আদিত্য ভাই আপনার হাতে কী হয়েছে?"
আদিত্য নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে পকেট থেকে কিছু বের করে তিথি কে দেয়। তিথি প্যাকেটটি খুলে দেখে দুই জোড়া চুরি যেটা দেখতে একদম টকটকে লাল আর একটা গলার লকেট যেখানে লাভ শেপ আছে সেইখানের ভিতর ও টকটকে লাল।
তিথি আদিত্যকে জিজ্ঞাসা করে
" ভাইয়া এই রংটা এমন কেনো যেনো মনে হচ্ছে রক্ত দিয়ে বানানো এইগুলো!
আদিত্য তিথির কেটে যাওয়া ঠোঁটে আঙ্গুল বুলিয়ে বলতে থাকে
– হু এইগুলো আমার হাতের রক্ত দিয়ে বানানো রক্তচুরি।
তিথির মুখ হা হয়ে যাই সে অবাক হয়ে বলতে থাকে
– কী? রক্তচুরি তাও এতো রক্ত দিয়ে আপনি কী পাগল এটা বানিয়েছেন কেন??
আদিত্য এইবার পকেটে হাত গুজে বলে
" তোকে আঘাত করার শাস্তি দিয়েছি নিজেকে তাই ওই রক্ত দিয়ে তোকে তোর পছন্দ লাল রক্তচুরি বানিয়ে দিলাম।
তিথির হাত থেকে লকেট টি নিয়ে তাকে দাঁড়াতে বলে ।
তিথি দাঁড়িয়ে যাই আদিত্য তিথির পিঠের চুল সরিয়ে তাকে লকেটটি পড়িয়ে দেয়। তিথির চুলের সূঘ্রানে আদিত্যর নেশা ধরে যায়। এইদিকে তিথি অবস্থা ও বেহাল গুটিয়ে যায়। সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে কেননা তার পিঠে আদিত্যর গরম নিঃশ্বাস পড়ছে যা তিথিকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিথি আকস্মিক সামনে ঘুরে আদিত্যকে জিজ্ঞাসা করে
– এখানে কতোটুকু রক্ত লেগেছে ?
– কিছুটা পরিমাণ।
তিথি অবাক হয়ে বলে " কেনো করছেন এমন সামান্য একটু আমার ঠোঁট কেটেছে বলে ?"
আদিত্য তিথির চোখে চোখ রেখে গম্ভীর গলায় বলে,
– জানি না!
চলবে ~
( বানান ভুল হলে জানাবেন পর্ব টা কেমন লাগলো একটা গঠনমূলক মন্তব্য আশা করি আর ভালো রেসপন্স ও আপনাদের কাছ থেকে আশা করছি নিশ্চয় আমি নিরাশ হবো না)