ফন্ট সাইজ:
থিম:
বখাটে আদিত্য

১৩তম পর্ব

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রীয়ন্তি

#বখাটে_আদিত্য

#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী

পর্ব:১৩

তিথি আজ অনেক খুশি কেন খুশি সে নিজেও বুঝতে পারছে না তার মনে যে প্রেমের ফুল ফুটেছে। রুম থেকে নাচতে নাচতে চলে যায় আদিত্যের রুমে।

দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখছে আদিত্য কোথায় আছে কিন্তু রুমের ভেতর কেউ নেই। তিথি রুমের ভিতর ঢুকে পড়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে রুম টাকে দেখছে।

এর আগে কখনো সেভাবে রুমটাকে দেখা হয় নি। আদিত্য অনেকবছর বাড়িতে ছিলো না তখন রুমটা তালাবদ্ধ থাকতো।

তিথি সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে হঠাৎ তার চোখ পড়ে একটি দেওয়ালে দরজার মতো যেটা একদম মনে হবে যেখানে গুপ্তধন লুকিয়ে রেখেছে।

আজ পর্যন্ত একবার ও এই দরজা টি কেউ খুলে নি! তিথি মনে মনে ভাবছে

" কী এমন আছে এর ভিতরে আদিত্য ভাই কখনো কাউকে এই দরজার চাবি ধরতে দেন না সবসময় নিজের কাছে রাখে "

তিথি ধীরে ধীরে সেই দরজার কাছে গিয়ে হাত বুলাতে থাকে সে কী ভাবছে সে নিজেও না , আজ তার সাথে এটা কি হচ্ছে!

হঠাৎ করে তার

আদিত্যের শরীরের সুঘ্রাণ নেওয়ায় প্রবল ইচ্ছা জেগেছে তাই সে আদিত্যের একটা পারপেল রঙের শার্ট নিয়ে সেই শাট থেকে আসা Dunhill blue desire পারফিউম এর সুঘ্রাণ শুঁকতে থাকে চোখ বন্ধ করে।

কিছু মনে পড়তেই চোখ খুলে শার্ট রেখে দেয় এক দৌড় সেই দৌড় এসে থামে বাড়ির ছাদে। যেখানে আদিত্য প্রতিদিন এর মতো শরীরচর্চা করছে।

আদিত্যের ঘামঝরানো বডি দেখে তিথি একটা ঢোক গিলে তার হ্নদপিন্ডটা এমন জোরে জোরে লাফাচ্ছে যেন বের হয়ে আসবে। তিথি বুকটা চেপে ধরে তাকিয়ে গিলে খাচ্ছে আদিত্য কে।

আদিত্য তখন পানির বোতল থেকে পানি খাচ্ছে সেই দৃশ্য এক ধ্যানে দেখে চলেছে তিথি। আদিত্যের পানি খাওয়া জন্য তার কন্ঠনালি উঠানামা করছে এবং সেইখান দিয়ে অনবরত ঘাম বেয়ে বেয়ে পড়ছে।

তিথি যেন চোখ দিয়ে আজ আদিত্যকে গিলে খাবে এক অবস্থা চোখ সরাতে পারছে না যেন চোখে কেউ গ্লু লাগিয়ে দিয়েছে চোখে চোখে যেন সরতেই চাই না

তিথি মনে মনে বিরবির করে

" ছেলে তো নয় একটা আগুনেরি গোলা "

"উফফ"

তিথি নিজের মাথায় নিজে চাপড় মেরে নিজেই নিজেকে শাসাতে শাসাতে বিরবির করে বলতে থাকে -

" বেডি তিথি এমন ভাবে গিলে খাচ্ছিস না জানি আদিত্য ভাই এর তোর নজর লেগে যায়"

তিথি আজ বুঝতে পেরেছে কেন এমন হয়? কেন সে সবসময় তাকে খুঁজে বেড়ায় আঁখিতে । হ্যাঁ তিথি আদিত্য ভাইকে ভালোবাসে সত্যি খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছে আদিত্য ভাইকে।

খুশির আনন্দে তিথি স্নেহা কে খুঁজতে থাকে চারদিকে , খুঁজতে খুঁজতে একসময় পেয়ে যায় বাগানে । স্নেহা বাগানে ফুল গাছ রোপণ করছিলো তখন হঠাৎ করে তার হাত তিথি টান দিয়ে তাকে একপ্রকার জোর দিয়ে তুলে ফেলে দাঁড় করিয়ে দেয়।

তিথি কে এমন হাসিখুশি দেখে স্নেহা জিজ্ঞাসা করে

"কী রে আজ এতো খুশি খুশি লাগছে কেনো ? ব্যাপারটা কী? "

তিথি স্নেহার হাত ধরে টানতে টানতে তাকে নিয়ে পুকুর পাড়ের দিকে চলে যায় দৌড়াতে দৌড়াতে।

স্নেহা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল

- মেরি মা এইবার থাম! আর পারছি না ,কি হয়েছে তোর আজকে ?

তিথি স্নেহার হাত ছেড়ে দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে মুচকি মুচকি হেসে স্নেহার দিকে তাকিয়ে বলে

" স্নেহারে কাজ তো একটা হয়ে গেছে"

স্নেহা তিথির কথায় আগা মাথা না বুঝে জিজ্ঞাসা করে

" কীসের কাজ! তুই আমাকে বলবি একটু স্পষ্ট করে যে কী হয়েছে তোর "

তিথি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে স্নেহার হাত ধরে বলে

– আমি না....??

স্নেহাও তার সাথে বলে "হুম তুই না"...

তিথি একটা ঢোক গিলে বলে " আমি না আসলে "

স্নেহা একটু বিরক্ত হয়ে বলে

" বা*ল তুই না আসলে কী??? বলবি তো শুধু আমি না , আমি না করছিস। বললে ভালো করে বল এইভাবে নয়লে আমতা আমতা করে বলবিনা বা*ল এইগুলো একদমই ভালো লাগে না আমার।

তিথি স্নেহার দুইহাত আঁকড়ে ধরে বলতে থাকে

" আ.... আমি না আসলে আ.. আদিত্য ভাইকে ভালোবেসে ফেলেছিরে স্নেহা"

স্নেহার মুখটা দেখার মতো ছিলো সে অবাক হয়ে মুখ হা করে তাকিয়ে আছে তিথির দিকে।

" এই মেয়ে কী বলছে আদো সে কী জানে!"

তিথি স্নেহামুখটি চেপে দিয়ে বলতে থাকে

" মুখ বন্ধ কর মশা ডুকে যাবে" এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই"।

স্নেহা মুখটিকে স্বাভাবিক করে বলে

-তুই কী পাগল হয়েছিস এইসব কী বলিস?

তিথি দুই হাত মেলে চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে বলতে থাকে

" হ্যাঁ হ্যাঁ আমি পাগল হয়ে গেছি সত্যি আমি পাগল হয়ে গেছি তোর ভাইয়ের প্রেমে" দুই হাত দুই দিক মেলে তিথি চিৎকার করে বলতে থাকে

শুনছো গো আকাশ আমার মনে ব্যাকুলতা তুমি কী শুনছো আমার মনের কথা। আমি বখাটে মাস্তান আদিত্য ভাইকে ভালোবাসি। খুব খুব ভালোবাসি তুমি শুনতে পাচ্ছো

আমি আমার #বখাটে_আদিত্য কে ভালোবাসি, ভালোবাসি,ভালোবাসি।

এই মন থেকে মৃত্যু ছাড়া এই ভালোবাসা মুছবে না কোনদিন কখনো মুছতে দেবো।

তিথি আকাশের পানে তাকিয়ে আবার বলতে থাকে

" তুমি শুনছো আকাশ আমি আদিত্য ভাইকে ভালোবেসে ফেলেছি যে কিনা একটা বখাটে কিন্তু তাকে যে আমি খুব ভালোবেসে ফেলেছি গো এখন আমার কী হবে"

তিথি কিছুক্ষণ চুপ করে স্নেহাকে বলতে থাকে

" আচ্ছা আদিত্য ভাই কী আমাকে ভালোবাসবে! সারাক্ষণ ওনি আমায় খুব বকা ঝকা করেন ওনি কী আমায় ভালোবাসবে? "

স্নেহা মনে মনে হাসতে থাকে কিন্তু মুখে বলে

- আমি জানি না , এটা বল এতো ছেলে থাকতে তোর আমার ভাইয়ের দিকে চোখ গেলো কেনো ?

লজ্জায় লাল হয়ে তিথি মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে বলে

" জানি না"

হঠাৎ পায়ের নিচে কিছুর অস্তিত্ব বুঝতে পেরে তিথি নিচে তাকিয়ে দেখে লুসি চলে এসেছে। আদর করে কোলে তুলে নিয়ে লুসি কে বলতে থাকে

" লুসি এখন থেকে কিন্তু তুই আর আমি আদিত্য ভাইকে খুব খুব বেশি জ্বালাবো কিন্তু কেমন"

স্নেহা তিথির বাচ্চামো দেখে মনে মনে ভাবে

" কতটা ভালবাসিস আমার ভাইকে তুই কিন্তু আমার ভাইয়ের মতো কী আদো তাকে ভালোবাসতে পারবি! বুঝবি কী আমার ছন্নছাড়া ভাইটিকে"

–––

দেখতে দেখতে চলে আসে রেদোয়ান আর তাহামিনার এনগেজমেন্ট আগামীকাল তাদের দুজনের এনগেজমেন্ট কিন্তু কেউ এখনো কারো চেহারা দেখে নি সেই ছোটবেলা সময় খেলতো কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে দেখে নি।

রেদোয়ানের বিন্দু পরিমাণ এর ও ইচ্ছে নেই ওই কাইল্লা মেয়েটাকে দেখতে সে রাজি হয়েছে মানে বিয়েটা করবেন ব্যাস আর কিছু না।

খান মঞ্জিল এ একটা উৎসব লেগে গেলো আস্তে আস্তে বাড়ির সব মেহমানরা আসতে চলেছে। এনগেজমেন্টটা খান বাড়িতেই হবে তার তিনদিন পর বিয়ের আয়োজন শুরু।

খান বাড়ির বড় নাতির বিয়ে বলে কথা ধুমধাম করে হবে না তাই কী কখনো হয়।

সবাই সবার কাছে ব্যস্ত এইদিকে তিথি লুসি কে কোলে নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরছে হঠাৎ করে তার খুব ঝাল ঝাল কিছু খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু খাবে কী ভাবতে ভাবতে পেছন থেকে কেউ তার মাথায় গাট্টা মারে। তিথি ব্যাথা নাক মুখ কুঁচকে পিছনে ফিরে দেখে

তার মামাতো বোন ইভা দাঁড়িয়ে আছে। ওরা বোনের থেকেও বান্ধবী বেশি যেভাবে স্নেহা বোন কম বান্ধবী বেশি তেমন। তিথি ইভাকে দেখে চিৎকার দিয়ে বলে

– ইভা.......কখন আসলি ? এতদিন পরে তোর বোনের কথা মনে পড়লো।

ইভা বোনের অভিমান বুঝতে পেরে বলে

" ওরে আমার পাকনা বুড়ি আমার তোর কথা সবসময় মনে পড়ে রে

তখন আদিত্য সিঁড়ি বেয়ে মোবাইল এ কারো সাথে কথা বলতে বলতে নামে।

ইভা সেদিকে তাকিয়ে হা হয়ে বলে

" কিরে এ কখন এলো আমাকে তো বললি না "

তিথি কিছুটা নাক ফুলিয়ে বলতে থাকে

– খবরদার ইভা চোখ দিবি না ওইটা আমার।

ইভার চোখ গুলো রসগোল্লার মতো বড়ো বড়ো হয়ে গেছে যেন সে এই কথাটা হজম করতে পারছে না

– এ্যাঁ, তুই না আদিত্য ভাইকে চোখে দেখতে পারতিস না তাহলে তোর কখন হলো ? কবে , কখন বল আমাকে।

তিথি মুচকি হেসে হেসে বলে

– জানি না শুধু এটা জানি আমি আদিত্য ভাইকে ভালোবাসি খুব বেশি ।

ইভা মুখ বেঁকিয়ে বলে

" ঠিক আছে ঠিক আছে এতো ডং করতে হবে না তোর আদিত্য ভাই তোর কাছে রাখ আমার লাগবে না"

তিথি ইভাকে বলে " চল জাম ভর্তা খাবি"

ইভা তিথি কে বলে " কীভাবে? "

"দাড়া আমি আগে স্নেহা কে ডেকে নিয়ে আসি"।

তিথি দৌড় দিয়ে কো থেকে যেন স্নেহা কে খুঁজে নিয়ে আসে। স্নেহা বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে

" কী সমস্যা এইভাবে হাত ধরে টানিস কেনো ? "

– জাম পাড়তে চল

স্নেহা তিথির মাথায় গাট্টা মেরে বলে

– তোর কোন জামাই বাড়িতে গাছ লাগাই গেছে যে খাবি।

তিথি মাথা হাত দিয়ে ডলতে ডলতে বলে

" আরে বেডি পাশের বাড়ি কাউয়াদের বাড়িতে অনেক জাম গাছ চল ওইখান থেকে পেড়ে আনি এখানে আমাদের কোন কাজ নাই সব আম্মুরা করবে

ইভা হাসতে হাসতে জিজ্ঞাসা করে

" কাউয়া কে রে তিথি "

তিথি ও নাটকিয় ভঙ্গিমায় উত্তর দেয়

" আরে আমাদের পাশের বাড়ির মধ্যে একটা ছেলে থাকে ওর নাম কাউয়া সাদিম"

ইভা পেট চেপে ধরে হাসতে হাসতে বলে

– ওমা গো জীবনে এমন নাম প্রথমবার শুনলাম বলে হাসতে হাসতে থাকে।

––

কিছুক্ষণ পর স্নেহা, ইভা, তিথি ও কুদ্দুস মিলে যাই কাউয়া সাদিম এর বাড়িতে জাম পাড়তে। কুদ্দুস আসতে চায় নি কেননা বেচারি সবসময় সব জায়গায় ফেসে যাই তবুও তিথি কুদ্দুস কে জোর করে নিয়ে এসেছে। কাউয়া সাদিম এর বাড়িতে একটা বৃদ্ধা বুড়ি থাকে ওনি খুব রাগী তাই সবাই ভয় পাই।

পা টিপে টিপে তারা সবাই সাদিম এর বাগানে যাই সেখানে সব জাম গাছ। তিথি কুদ্দুস কে গাছে উঠতে বলে তারা নিচ থেকে সব কুঁড়ে নিবে। কুদ্দুস এর ইচ্ছা না থাকা সত্বেও সে লুঙ্গি গুজে গাছে উঠে পড়ে একটার পর একটা গাছ ঝাড়ি

দেওয়ার ফলে সব জাম নিচে পড়ে এবং সেগুলো তিথি, স্নেহা আর ইভা কুড়িয়ে নিচ্ছে হঠাৎ করে কুদ্দুস ভুলবশত একটা শুকনা ঢালে পা দিয়ে ফেলে যার ফলে ঢালটি কুদ্দুস এর ভার সহ্য করতে না পেরে মচ করে ভেঙ্গে যায় সাথে বেচারি কুদ্দুস ও গাছ থেকে চিৎপটাং😂 হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

ঢাল ভাঙ্গার শব্দে সাদিম এর দাদি বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকার করতে থাকে

– হলো হলো যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয় আজকে পাইছে রে

সাদিম এর দাদীর চিৎকার শুনে তিথি স্নেহা আর ইভা ভৌ দৌড় তাদের আর পাই কে !

সবশেষে ফেঁসে গেলো বেচারি কুদ্দুস ভাগ্যিস উপর থেকে পড়ে তার টাক মাথা ফেটে যাই নি সেই অনেক।

কোমড়ে ভীষণ ব্যাথা পেয়েছে সে তিথিদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে বলতে থাকে

" মীর জাফর এর বংশধর সব কয়টা কে দেখে নিবো"

– আগে নিজেকে কে বাঁচায় সেটা দেখে

কুদ্দুস হঠাৎ ভয় পেয়ে যাই এই আওয়াজ কো থেকে আসলো এখানে কোন ভুত নেই কুদ্দুস চারপাশে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে থাকে।

তখন সাদিম এর দাদী তার লাঠি দিয়ে কুদ্দুস এর মাথায় একটা জোরে বারি দেয়

কুদ্দুস দাদী কে দেখে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দাঁড়িয়ে পড়ে

–এখানে কী হ্যাঁ আমার বাগানে কী করছিস তুই?? তোদের না বলেছি এই বাগানে আসবি না

কুদ্দুস ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে আমতা আমতা করে বলে

– আ.....আ মি .... কি... ছু....

দাদী আরেকবার লাঠি দিয়ে মেরে বলে

" আমতা আমতা করছিস কেন ঠিক করে বল হারা*ম জাদা" হাঁপানি রোগ আছে নাকী ? একটা থাপ্পড় দিয়ে বয়রা বানিয়ে দিবো টাকলা

বেচারি কুদ্দুস এর অবস্থা বেহাল সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সেখানে মু*তে 😂দেয় তার লুঙ্গি ভিজে যাই।

দাদী নাক মুখ কুঁচকে ফেলে এবং বলতে থাকে

– ছিঃ ছিঃ কুদ্দুস এটি তুই কী করলি শেষে কিনা এতো বড়ো হয়ে প্রেসা*প করে দিলি ছিঃছিঃ

কুদ্দুস লজ্জায় কী বলবে ভেবে পায় না ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে যাই। দাদী অনবরত কুদ্দুস কে লাঠি দিয়ে পিঠাতে থাকে। লাঠির আঘাতে কুদ্দুস ইয়া হু ইয়া লু আহ ইয়া অজানা শব্দ করতে থাকে।

দাদী পেছন থেকে এইবার তার গাছের ঢাল এর এই অবস্থা দেখে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে

" টফিফিফিফিফি"

সঙ্গে সঙ্গে একটি কুকুর হাজির হয় । দাদী সেই কুকুরটিকে বলতে থাকে

” টফি তুই এই হতছাড়া টাকলা কে এমন ভাবে কামড়াবি যেন তার কুরকুরানি মিটে যায় গাছের উঠার "।

কুকুরটি মালিক এর আদেশ শুনে ঘেউ ঘেউ করে কুদ্দুস এর দিকে এগুতে থাকে। কুদ্দুস ভয়ে ভয়ে একটু একটু করে পেছনে পেছাতে। একসময় সে লুঙ্গি ধরে

দৌড় দেয় সঙ্গে সঙ্গে কুকুরটিও কুদ্দুস এর পেছন পেছন দৌড়াতে থাকে। কুদ্দুস দৌড়াচ্ছে সাথে সাথে কুকুরটি কুদ্দুস

দৌড়াতে দৌড়াতে একটা সময় থেমে যাই কিন্তু না পেছন থেকে তার লুঙ্গি ধরে কেউ টানছে তাই সে পেছনে ফিরে দেখে টফি দাঁড়িয়ে আছে। টফি কুদ্দুস এর লুঙ্গি কামড়াতে কামড়াতে প্রায় ছিঁড়ে ফেললো যখন ই কামড়াতে যাবে এইবার কুদ্দুস কে আর পায় কে লুঙ্গি ফেলে এক দৌড়ে কুকুরটির দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে গেলো। দৌড়াতে দৌড়াতে সে একটি গরুর গোয়াল ঘরে লুকিয়ে পড়লো।

অনেকক্ষন সেখানে চুপটি মেরে বসে রইলো না মনে হয় জঙ্গলি কুকুরটি চলে গেলো কিন্তু সে কীসের উপর হেলান দিয়ে বসে রয়লো জানে না।

হঠাৎ করে তার মুখে কিছু পড়ে যা থেকে খুব বিদঘুটে গন্ধ আসছে কুদ্দুস মুখ থেকে সেগুলি নিয়ে ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখে সে এতক্ষন গরুর উপর হেলান দিয়ে ছিলো।

ঘৃনায় তার ভিতর থেকে বমি আসছে তার সারা মুখে গরুর গোবর ।

কুদ্দুস ওয়াক ওয়াক করে থুতু ফেলতে থাকে তার ভীষণ কান্না করতে ইচ্ছে করছে ভীষণ কেন কেন তার সাথে প্রতিবার এমন হয়।

কান্না করতে করতে সে খান মঞ্জিল বাড়ির সদর দরজা সামনে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে আগে থেকেই তিথি, স্নেহা আর ইভা দাঁড়ানো ছিলো।

কুদ্দুস এর এই অবস্থা দেখে তাদের না চাইতেও খুব বেশি হাসি পাচ্ছে। কুদ্দুস আর না পেরে মাটিতে বসে পড়ে বাচ্চাদের মতো ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে থাকে।

চলবে ~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন