ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণবীনা

২য় পর্ব

লেখক: লামিয়া ইসলাম স্বর্ণালী

গল্পঃ#প্রণবীনা

কলমেঃ #লামিয়া_ইসলাম_স্বর্ণালী

পর্ব সংখ্যাঃ২

চারপাশ অন্ধকার গ্রামের পরিবেশ তবুও আজ কেমন রমরমা লাগছে। চার পাশে আলো গান মানুষ এর হৈ-হুল্লোড়। এসব দেখে তেমন অভ্যাস্ত আমি নই। মাঝে মধ্যে ২-১ টা কাজিন এর বিয়ে হলে সেই ভাইয়া বা আম্মু আব্বুর সাথে যেতে হতো। সে এক কপাল ছিলো বটে আমার।মায়া দিতো সবাই তবে এত যে বন্দী করে রেখেছিলো।তবুও কখনো আফসোস হয়নি আমার। কিন্তু আজ এত স্বাধীনতা আমাকে উড়চণ্ডি করে তুলতে চাইছে। অর্ণব এর আম্মুর ডাকে বের হয়ে আসলাম আমরা। স্টেজের উপর কত গুলো ছেলেমেয়ে দাড়িয়ে আছে। টেবিলের ওপর ফুলের কত গুলো ঢালা। তাছু ওই দিকে যায় আমাকে শুধু ইশারায় ডাকছে। কাউকে চিনি না তাই ঠায় দাড়িয়ে আছি আমি।চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিলাম মন দিয়ে। না সেই অর্ণব বেড়াল টা নেই। হঠাৎ কারো ডাকে পাশ ফিরে তাকাই আমি রায়ান মামা কাছে এসে বলছেন,

"সৌরভী স্টেজে যাচ্ছো না কেনো ওখানে দেখো তত্ত্বের ঢালা নাও একটা।"

মামার দিকে কিছু সময় চেয়ে থেকে বললাম,

"সমস্যা নেই মামা আমার অভ্যাস নেই। দেখা যাবে এগুলো তুলতে গিয়ে আমি সহ পরবো।"

রায়ান মামা শুনলেন কই আমার কথা? আমার মামানিকে ডেকে দিয়ে আমাকে জোর পূর্বক স্টেজে উঠিয়ে দিলেন তিনি। ভিড় ছিলো খুব।গ্রাম অঞ্চলের বিয়ে মানুষ জন এর আনন্দ গুলো অন্য রকম। তাছু সবাইকে ঢেলে ঠুলে এসে আমার সাথে পেছনে দাঁড়ায়। মেয়েটা আমার কাজিন নয় সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড একা হতে দেয় না। আসে পাশে তাকিয়ে দেখে নিলাম এখন একটু ভালো লাগছে। কত মেয়ে স্টেজে। পড়নের আকাশি রঙের শাড়ির আঁচল টা পেছন দিয়ে দুলছে আমার। ছোট্ট ছোট্ট চুল গুলো পিঠ ঢেকে আছে। শীতে শরীর কাটাকাটা দিচ্ছে। এমন সময় পেছন থেকে হঠাৎ একটা পিঠে ধাক্কা অনুভব করি আমি। চোখ গুলো বিরক্তিতে কুঁচকে বন্ধ হয়ে আসে আমার।কারো শক্ত বুকের সাথে ধাক্কা টা খেলাম এটা কিন্তু বুঝতে সময় নিলাম না।পাশ ফিরে তকাতেই পরিচিত বিড়াল টার মুখ দেখলাম।কেমন ভেবলার মতো চেয়ে হাসছে। ইচ্ছে হলো ধমকে দিতে কিন্তু এটা অন্যের বাড়ি যে।

একটু সাইড দিলাম তাকে আমি। কানের কাছে হিস হিস করে সে গান গাইছে, যেটা অন্য কেউ শুনতে না পেলেও আমার কানে স্পষ্ট।

" O Madam Teri Chaal,

Tere Silky Silky Baal,

Ab Main Isse Zyada Kya Kahun,

Hoye..

Main Nashe Mein Talli Hogaya,

Oye Ki Kariye Ki Kariye,

যত দূরে সরে যাচ্ছি ততই লোকটা কাছে আসার পাঁয়তারা করে চলেছে। মনের অভ্যন্তরে কেমন কিঞ্চিৎ শব্দে ধুকধুক করছে। অপরিচিত কোনো পুরুষ এর শরীর এর সাথে যে স্পর্শ লাগছে আমার।

"বেয়াদব।"

বলে তাছুর হাত আমি শক্ত করে ধরে আমার পেছনে এনে দার করিয়ে দিলাম।ওই মূহুর্তে মনে হয়েছি একটা অসভ্য ও অভদ্র বখাটে ছেলে এটা।

চোখ টা ফিরিয়ে পেছনে একটু তাকাতেই দেখলাম অর্ণব নেই। কয়েক জন মিলে একটা ভারি ডালা তুলে দিলো আমার হাতে। স্টেজ থেকে নেমে সবাই রওনা হলাম অন্ধকার কাঁচা পথে। সব সময় এর মতো রায়ান মামা ও তার কয়েক জন বন্ধু পেছনে। ফোনের লাইট টা ধরে রেখেছেন আমার সামনে যেনো হাটতে সমস্যা না হয়।

শীতের রাতে ঠান্ডা বাতাস শাড়ীতে সব গুলো মেয়ে। কাউকে দেখলাম স্বামীর সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটছে তো কেউ অন্য জনের সাথে। চোখ বুলিয়ে চারপাশ দেখে দেখে হাঁটছি আমি। কাঁচা মাটির রাস্তার ও একটা মিষ্টি গন্ধ আছে। ঠান্ডা বাতাসের গন্ধটা নাকে লাগছে। ইচ্ছে হচ্ছে থেমে যাক এখানেই জীবন। অনেক টা রাস্তাই হেঁটে আসলাম আমরা। একটু পা থামে সবার উঁচু রাস্তার সামনে৷ পুকুরের চার পাশে উঁচু করে মাটি তোলা।উফ এতরাতে এমন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কি মানে? উপরে উঠে রায়ান মামা তাছুর দিকে হাত বাড়িয়ে বলে,

"তাছনু আসো আমার হাত ধরে।"

তাছু ওনার হাতটা ধরে উপরে উঠে যায়, আমার চোখ ওনার দিকে যেতেই একই সাথে দুটো হাত আমার চোখের সামনে এসে পরে। অন্ধকারে আবছা আলোতে আমি দুজন কেই দেখলাম।একজন যে সাহায্য করতে হাত বাড়িয়ে রেখেছে হাসি মুখে। আর অপরজন একটু গোমড়া মুখে। অর্ণব রায়ান মামা কে বললো শীতল স্বরে,

"রায়ান তোকে আম্মু ডাকে দৌড় দে বাকিদের আমি আনছি।"

রায়ান মামা আমার দিকে তাকালেন, চোখের ইশারায় আস্থা দিয়ে পেছন ঘুরে চলে যান।আমি তাকিয়ে ছিলাম অর্ণব এর মুখের দিকে।ছেলেটা সব সময় ঘেমেই থাকে? হালকা আলোতে কপালের ঘাম গুলো চিকচিক করছে। শীতের দিন এত ঘেমে থাকার কারন টা বুঝলাম না। সে হাত বাড়িয়ে রেখেছে আমার দিকে।এমন করেই দুজন এর কয়েক মূহুর্ত কেটে গেলো জানা নেই। তাছুর কথায় খেয়াল ফেরে আমাদের,

" আপনারা কি আই কন্টাক্ট পরে করবেন? খিতে পেয়েছে খুব।"

ওর কথায় দুজন ই হকচকিয়ে কেশে দিলাম আমরা। বাড়ানো হাতে ঢালা টা ধরিয়ে দিয়ে নিজেই একা একা শাড়ি ধরে উঠে গেলাম উপরে। যদিও আমার এগুলো করে অভ্যাস নেই তবুও লজ্জা হচ্ছিলো খুব। অর্ণব তাছুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললো,

"তাছনু তোমার কাজিন কোনো হুর পরি না যে আমরা তুলে নেবো।আগাও তুমি আমি একটু পরিচিত হবো ওনার সাথে।"

মেয়েটা বড্ড পাঁজি আমার কথা না শুনেই চলে গেলো কেমন। আমি অর্ণবের দিকে একটু চোখ উল্টে আড়চোখে তাকিয়ে হাত বাড়াই ঢালাটা নেয়ার জন্য। তবে পেলাম না ছো মেরে দূরে নিয়ে যায় সে ওটা আমার চোখের সামনে থেকে আড়াল করে। ঠোঁটে সামান্য হাসি তার।নিজের অজান্তেই কিঞ্চিৎ লজ্জা পেলাম আমি। ঢালাটা তার হাতে দিয়েই হাঁটতে থাকি সামনের দিকে পায়ের গতি বাড়িয়ে দিয়েছি। একটু সামনে আগাতেই অনুভব করি আমার শাড়ির আঁচল এর হালকা টান পরছে। বুকের ভেতম কেমন মোচড় দিলো।চোখ দু'টো বন্ধ করে বললাম,

"ছাড়ুন প্লিজ।"

ধীর পায়ে সে আমার কাছে আসে আঁচল ছেড়ে বলে,

"ভয় পাচ্ছেন কেনো? আমি মজা করি তবে বাজে ছেলে নই।আপনার সম্পর্কে জানতে চাই।একটু কথা বলা যায় কি?"

"বলুন।"

ফিক করে হেঁসে দেয় সে। দু'জন এর পায়ের তাল মিলে এক সাথে।শীত লজ্জা অস্থিরতায় কাঁপছে আমার শরীর। এই শীতের মধ্যেও বারবার গলায় খরা পরছে কোনো মরুভূমির মতো। শীতল ছিলো তার দৃষ্টি কিছুক্ষণ আগের লোকটা হাড়িয়ে গেলো কোনো এক অজানায়,নরম স্বরে প্রশ্ন করে আমাকে,

"নাম কি আপনার?"

"সৌরভী।"

একটু হাসার শব্দ পেলাম তার,আবার কন্ঠ আসলো কানে,

" সুর! এত রাতে শাড়ি শীতের মধ্যে কাঁপছেন, প্রয়োজন ছিলো না।"

"আমাকে সুর শুধু তাছু বলে।"

"ঠিক আছে তাছনুকে বলে দেবো এখন থেকে সৌরভী বলবে।"

অর্ণবের চোখে দিকে তাকালাম আমি,চোখে দুষ্টুমি,

"আপনি প্রেম করেন সুর? কাউকে পছন্দ বা ভালোবাসা?"

আমি একটু ইতস্তত বোধ করি,একটা ছেলে এমন প্রশ্ন করলে কে বা ঠিক থাকে? উত্তর টা তবুও সত্যি দিয়েছি,

" পরিবারের থেকে আদর পেলেও স্বাধীনতা পাই নি।আমার পরিবারের বাহিরে রায়ান মামা আর আপনার সাথেই এত কথা হলো। প্রেম করার সুযোগ হয় নি।আর ভালোবাসার মতো কাউকে পাইনি।"

"উমম,আপনাকে সুন্দর লাগছে খুব। মাথায় কাঠ গোলাপ টা আপনাকে মানিয়েছে।"

"আমার জন্য আনা হয়েছে মানাবে তাই তো স্বাভাবিক।"

"টেলেন্ট আছে আপনার।তাহলে নিশ্চয়ই এটাও বুঝেছেন আপনাকে রায়ান পছন্দ করে?"

"হুম তাছু বলেছিলো।"

"কি বললেন?"

"মামা তো মামাই।"

"আপন তো নয়।"

"ঠিক আপন নয়। কিন্তু আমি যখন ডেকেছি তখন তো আপন ভেবেই ডেকেছি। আমার কাছে সম্পর্ক ডাকা দিয়েই তৈরি হয়।যাকে আমি ডাকি মন থেকে ডাকি।সে মামা মামাই আর কিছু নয়, কখনো নয়।"

তার কথার প্রেক্ষিতে এটাই বলে চুপ হয়ে হাঁটছি আমি। পুকুর পারের শেষ প্রান্তে এসে ঢালু থেকে নামার সময়। আমরা থেমে যাই, আমি নামতে নিলে পিছু ডেকে সে আমাকে মায়ার সাথে বলে,

" সুর, আমি আপনার কি হই?আমাকে কি বলে ডাকবেন?"

শীতল একটা বাতাস বয়ে যায় পুরো শরীর এ। আমি তার কথায় তেমন গুরুত্ব দিলাম না। আস্তে করে বসে নামলাম। অর্ণব এর দিকে তাকতেই দেখতে পেলাম ওনার হাসি মুখটা। হয়ত কোনো সম্মোধন না পেয়ে খুশি হয়েছে। আমার পেছনে লাফিয়ে নামে সে।

" তারাতাড়ি আমাকেও ডাকার জন্য কিছু পাবেন আল্লাহর কাছে এত এত এত দোয়া করি।"

দুজন চুপ নির্জন রাতে নিস্তব্ধতা ছেয়ে গিয়েছে।সামনে বা পেছনে কেউ নেই।ঝিঁঝি পোকার ডাক গুলো কানে বাজছে। ভয় গুলো মনের ভেতর ঝেকে ধরে আছে। দেখলাম অর্ণব এর হাত গুলো কাঁপছে কেমন।

"শীত লাগছে আপনার?"

প্রশ্নটা করলাম আমি হাজারো দ্বিধা মনের মধ্যে রেখে। সে হেসে বললো,

"সারাদিন কাজে ব্যস্ত ছিলাম।আমি এক মাত্র ছেলে আমার এক মাত্র বড় বোনের বিয়ে। শীত লাগছে না ক্লান্ত ছিলাম। জানি না কেমন করে এক অচেনা থমকানো হাওয়া আমার ক্লান্তি মুছে দিলো।"

তাছু আর রায়ান মামা দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলো আমাদের জন্য। তাছুর কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে বললাম,

"মেয়ে তুই আমাকে ছেড়ে আসলি কেনো?"

রায়ান মামা নিজের ঠোঁট কামড়াচ্ছে দেখেও গুরুত্ব দিলাম না তেমন। অর্ণব আমাদের রেখেই চলে গেলো।ছেলেটা কেমন যেনো এত সময় কথা বলার পরেও কিছু বলে গেলো না। তাছুর হাত ধরে আগালাম।

এদিকটায় ছোট্ট করে স্টেজ করা হয়েছে।ছেলের বাড়ির লোকজন দাঁড়িয়ে আছে গেইটের সামনে। খেয়াল করলাম আমার দিকে কত গুলো ছেলে তাকিয়ে আছে। আস্তে আস্তে আগাচ্ছি সামনের দিলে ভির ঢেলে। তাছুর একটি হাত চেপে ধরে। হঠাৎ কেউ ফোম স্প্রে মারে ঠিক মুখে। চোখ কুঁচকে বন্ধ করে নিলাম আমি।একটি হাত মুখের উপর দিয়ে নিচু হয়ে আমার পুখ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচালো। তবে ফোম গুলো সামান্য সময় ই ছুঁয়ে যায় আমার মুখ ও চুল।

" এখানে এগুলো দিবেন না।সে অভস্ত্য নয়।"

রায়ান মামার কন্ঠে চোখ তুলে তাকাই আমি। উনি আমাকে পিছন দিয়ে স্টেজের কাছে নিয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে দেয়।আমাদের দেশে হলুদের ফাংশন গুলো দারুন। ঝাঁক ঝমক পরিবেশ বিয়ের দিনের চেয়ে এই দিনটা দিয়ে উত্তেজিত হয়ে থাকে সবাই। কিছু সময় পর রায়ান মামা হাতে খাবারের প্লেট এনে দেন আমাদের। প্রচন্ড খিদে ছিলো সময় ব্যায় করলাম না হাত ধুয়ে খাবারে হাত দিলাম।তবে একি? এতো মোরগ পোলাও আমি তো খাই না। পোলাও খেলে পরের দিন বিছানা থেকে উঠতে পারবো না পেটের ব্যাথায়। তাছু আমার বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলে,

"সুর খেয়ে নে।"

কি করার পেটে খিদে প্রচুর, কিন্তু না খেয়ে কি করে হবে। ফোস করে স্বাস নিয়ে আমি একটা লোকমা মুখে তুলে নিলাম। অতঃপর প্লেট টা পাসে রেখে দিলাম। রায়ান মামা প্রশ্নতুক চোখে তাকায় আমার দিকে আমি বললাম নরম স্বরে,

" মামা আমি পোলাও খেতে পারি না।আম্মুর সাথে বা ভাইয়াদের সাথে গেলে ভাতের ব্যবস্থা করে দেয়।"

রায়ান মামা চুপ করে নিজের খাবার টা শেষ করে উঠে যান সামনে থেকে। একে একে দেখলাম বর কে সবাই হলুদ দিয়ে দেয়। আমাদের ফেরার সময় হয়।যেহেতু আমি কাছের আত্মীয় না তাই হলুদ ও দেয়া লাগলো না। বরের বাসা থেকে চলে আসার সময় ভালো রাস্তা দিয়েই ফেরা হলো। তখন বুঝলাম না কেনো তখন পুকুর পারের অন্ধকার রাস্তা কেনো নেয়া হলো। তাছুর খালার বাসায় এসে আবার ও স্টেজের সামনে বসলাম আমরা।রাতে বেস নাচগান হলো। সময় তখন প্রায় রাত ১ টা। মামানি এসে খুব করে ধমকে আমাদের কে ঘুমাতে বলে গিয়েছে।বিপত্তি ঘটে তখন যখন এখানে কোনো কক্ষ খালি দেখলাম না। এবার যেতে হবে অর্ণব দের বাসায় যার জন্য অনেক দূরে হেটে আবার। বিরক্তিকর লাগছে পরিবেশটা।মামা আর মামানি আমাদের আবার ও পাঠিয়ে দিলেন। মামা সম্ভবত রাতে রান্নার কাজের দিকটা দেখবেন। আর মামানি ও। রায়ান মামা আমাদের নিয়ে আবার ও অর্ণব দের বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলেন।তাছুকে একটি পাশে সরিয়ে আমার পাশে হাঁটছেন। পকেট থেকে এক পেকেট বিস্কিট আমার হাতে দিলেন তিনি। সবাই খাচ্ছি আর নিস্তব্ধতা উপভোগ করছি।রায়ান মামা বললেন,

"সৌরভী আজ সৌরভ ছড়াচ্ছে। আমি মাতাল হয়ে পরে গেলে ধরার দায়িত্ব কার?"

" নেশা করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি কর রায়ান মামা।"

ওনার কথায় পাল্টা কিছু বলার আগেই আমার হয়ে কেউ বললো।পরিচিত স্বর শুনে পেছনে তাকাই আমরা।অর্ণব এগিয়ে এসে। আমার হাত থেকে বিস্কুটের প্যাকেট টা ছো মেরে নিয়ে নেয়।এক সাথে সব গুলো বিস্কিট মুখে দিয়ে পেকেট টা ফেলে দেয়। আর কথা বললো না সে। ২ টো বন্ধু আছে সাথে তাদের নিয়ে এগিয়ে চলে গেলো। ইতিমধ্যে চলে এসেছি আমরা অর্ণব দের বাড়ির সামনে। ওই দিকটা যেমন রমরমা এই দিক টা তেমন নিরব। অর্ণব বাসায় ঝুলানো লোহার তালাটা খুলে দেয়। বাসায় প্রবেশ করে তার মায়ের কক্ষে যাই আমরা।একটা মেয়ে দু'টো বাচ্চা ও একটা বৃদ্ধা মহিলা ঘুমিয়ে আছে। দেখেই হতাশ হলাম খুব। নিচে অল্প যায়গা দু'জন কে ওখানেই থাকতে হবে। রায়ান মামা দরজা থেকেই চলে গিয়েছেন।তাছু রুম থেকে বের হয়ে যায়। আমি ওর পেছনে।অর্ণবের দরজার সামনে গিয়ে শব্দ করতেই দরজা খুলে যায়। কোমরে একটা টাওয়াল গায়ে গেঞ্জি জরানো। তাছু বিনয়ী স্বরে বলে,

"ভাইয়া ওই রুমে নিচে থাকবো। নিচে পাতার জন্য কাথা বা বেড লাগবে!"

অর্ণবের দিকে একটু আড় চোখে তাকাই আমি,অর্ণব তাছুর সাথে কথা বলছে আমার দিকে তাকিয়ে। চোখ তুলে তাকাচ্ছি না।আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে থাকে এক সময় মনে হয় ভালোছেলে আবার মনে হয় বখাটে সে। তাছুকে বলে,

" আমরা ড্রয়িং রুমে থাকবো তোমরা দুজন আমার রুমে থাকো।"

কথাটা কক্ষের ভেতরে বন্ধুদের কানে যেতেই হো হো করে শব্দ করে আমাদের শুনিয়ে বলে,

" কে যেনো এতক্ষণ বলছিলো তার রুমে কারো থাকার অনুমতি নেই।সে পছন্দ করে না।"

দরজার কাছে শোফায় পরে থাকা কাপড় তুলে রুমের ভেতরে ছুড়ে মারে সে। হাসির শব্দ আসছে। আমাদের কে অপেক্ষা করতে বলে সে রুমে চলে যায়।

জনসমাবেশে গরম হলেও এখন বেশ ঠান্ডা লাগছে আমাদের। একটু থরথর করে কাঁপছি আমরা। শাড়ি দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে বললাম,

"কত সময় লাগে। আমার বাপ-ভাই এই জন্য কোথাও যেতে দেয় না। আবিদ ভাইয়া হলে এখানে আমাকে চারটা সোয়েটার পরিয়ে দিতো।"

"হুম তোর আবিদ ভাইয়া তো একটু বেশি করে,যেনো তুই ঘরের বউ।"

"এমন বলিস না তাছু ভাইয়া আমাকে স্নেহ করে। ছোট থেকে খেয়াল রেখে এসেছে।"

কথাটা শেষ করে তাছুর কথার অপেক্ষায় ছিলাম।তবে ভেতর থেকে দু'টো ছেলে বেড়িয়ে আসে। অর্ণব দরজা থেকে ডাক দিতেই আমরাও ভেতরে গেলাম।

এক মূহুর্তের জন্য বেশ অবাক হলাম আমরা দুজন।পরিপাটি করে বিছানা করে দিয়েছে। মশার জন্য মশারি টাঙানো। মুখে গম্ভীর্যের রেঁশ তার আমাদের বলল,

"লাল রঙের কম্বল টা তাছনু ব্যবহার করবে আর হলুদ টা সুর আপনি। প্লিজ কেউ কারোটা ব্যবহার করবেন না।"

তাছু জিগ্যেস করলো,

"কেনো? আমরা দু'জন একটাই ব্যবহার করতে পারবো ভাইয়া।"

অর্ণব উত্তর করে না,রিপিট করে নিজের কথা। কপালে ভাজ কয়েকটা পরে আছে কিছু নিয়ে বিরক্ত। হয়ত আমাদের জন্য এত কিছু করতে হচ্ছে এত রাতে তাই। অর্ণব একটা কাভার্ড এর দিকে ইশারা করে বলল আমাকে,

"সুর ওখানে হালকা শীতের কাপড় আছে। আপনি চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। আমি তো আর আপনার আবিদ ভাইয়া না যে চারটা সোয়েটার পরিয়ে দেখবো! আপনি বরং ওখান থেকে যত গুলো ইচ্ছে হয় এক সাথে পরে নিবেন।"

লজ্জা পেলাম কথাটায় খুব, মানে কথা গুলো শুনেছে অর্ণব। অর্ণবের মুখের কালচে ভাবটা কমেনি একটুও রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। পরনের শাড়িটা খুলে রুমের সাথেই বারান্দা ওখানে বাথরুম তাদের। গিয়ে মুখ হাত ধুয়ে আসলাম আমি। তাছু গিয়েছে ওয়াশরুমে। নিজেকে পরিপাটি করে নিয়েছি। ঠান্ডায় থরথর করে কাঁপছে আমার শরীর।দাঁতের সাথে দাত গুলো বারি খাচ্ছে। এমন সময় দরজায় নক করে কেউ। দরজা খুলে দেখি অর্ণব হাতে একটা খবারের প্লেট,

"সুর এটা খেয়ে নিন, অনেক রাত হয়েছে তাই ফ্রিজে যা ছিলো তাই দিলাম।"

খিদে পেটে প্রশ্ন করলাম না অর্ণবের চোখের দিকে তাকালাম।এখনো বিরক্তি ভাব। আমি প্লেট হাতে নিতেই বললো,

"ওখানে একটা কালো হুডি আছে আপনি চাইলে পরতে পারেন ঘুমানোর আগে খুলে রাখবেন।"

মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বললাম শুধু আমি।দরজা লাগিয়ে দিলাম আবার।সে বললো তো হুডিটা পড়তে কিন্তু কারো জিনিস ব্যবহার করাটা আমার ভালো লাগলো না। প্লেটের ঢাকনা খুলে দেখলাম ভাত আর সামান্য মাংস তরকারি। মুখে হাসি ফুটলো। খাবার খেয়ে নিলাম।তাছু দেখেও কিছু জিগ্যেস করলো না আমায় যেনো সে জানতো আমাকে খাবার এনে দেয়া হবে। হাত ধুয়ে শুয়ে পরতেই যাবো কানে একটা সুন্দর ও মিষ্টি স্বর ভেসে আসে।

ডুবে ডুবে ভালোবাসি

তুমি না বাসলেও আমি বাসি,

ডুবে ডুবে ভালোবাসি

তুমি না বাসলেও আমি বাসি।

অসম্ভব সুন্দর সুর টা। বিছানায় উঠে কম্বল টেনে গায়ে জরিয়ে নিলাম আমি, তাছুকে প্রশ্ন করলাম,

"তাছু উনি কম্বল আলাদা দিলো কেনো?"

ঘুমের ঘোরেই বললো,

" উনি কাউকে নিজের জিনিস দেয় না কখনো। জান প্রান এর বন্ধু হলেও দেয় না। আজকে নিজের রুমে থাকতে দিলো এতেই আমি সাত আসমানে সুর। এবার ঘুমা আমি জানি না কেনো কম্বল আলাদা করেছে। "

কথা বললাম না ভাবতে ভাবতে চোখ বুঝে নিলাম।সকালে অনুষ্ঠান আছে। বিকেলে বাসায় চলে যাবো। বেশ ভালোই লাগছে চলে যাবো ভেবে। কারন সবাইকে ছেড়ে কখনো থাকা হয় নি, মনটা টানছে খুব। হাতে ফোন ও নেই কি করে যে ফোন দেবো সেই উপায় টা-ও নেই। আমি চোখ বুঝলাম।বাহির থেকে গানের গলা টা সুন্দর ভেসে আসছে উফ দারুন ঘুম চলে আসার জন্য এটাই হয়ত দরকার ছিলো আমার।

চলবে....

বানান ভুল গুলো মার্জিত... করবেন...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন